পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - ঝড়

WBBSE-র 'পাতাবাহার' বইয়ের "ঝড়" কবিতার সম্পূর্ণ সমাধান।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

কবিতা: ঝড়

কবির নাম: মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪-১৯৯০)


কবি সম্পর্কে আলোচনা

Maitreyi Devi

রবীন্দ্রজীবনের কথাকার, আলোচনা লেখিকা ও সমাজসেবিকা ছিলেন। তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘উদিতা’। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’, ‘স্বর্গের কাছাকাছি’, ‘ন হন্যতে’ ইত্যাদি। ১৯৭৭ সালে তিনি পদ্মশ্রী উপাধি পান।


কবিতার সংক্ষেপ আলোচনা

‘ঝড়’ কবিতায় কবি এক শিশুর দৃষ্টি দিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। একটি শিশু দুপুরে মাঠের ধারে খেলতে খেলতে হঠাৎ এলোমেলো বাতাসে আসা ঝড়ের মুখে পড়ে। আকাশ কালো হয়ে আসে, চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যায়। বকুলতলা, চাঁপার বন, নদীর জল—সব কালো হয়ে যায়। এই ভয়ঙ্কর রূপে শিশুটির মন কেমন করে ওঠে। তার মনে হয়, যেন কোনো দুষ্টু ছেলে কালির দোয়াত উল্টে ফেলে আকাশটাকে কালো করে দিয়েছে। ভয়ে সে তার মায়ের আঁচলের নিচে আশ্রয় নেয়।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:

১.১ পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয় – (গ্রীষ্ম/ বর্ষা/ শরৎ/ শীত)।
উত্তর: গ্রীষ্ম

১.২ দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে – (সকাল/ দুপুর/ বিকেল/ রাত)।
উত্তর: বিকেল

১.৩ যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে – (কালো/ লাল/ নীল/ সাদা)।
উত্তর: কালো

১.৪ গ্রীষ্মে একটি ফুল হল – (গাঁদা/गंधরাজ/চাঁপা/পদ্ম)।
উত্তর: চাঁপা

২. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:


মাঝি
নৌকো
ঝড়
সমুদ্র
সাগর
নদী
ভীষণ
অসহায়
এলোমেলো
প্রবল হাওয়া

৩. ‘চেয়ে’ ও ‘ভরা’ শব্দদুটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে বাক্য রচনা করো:

চেয়ে (তাকিয়ে): সে আমার দিকে চেয়ে রইল।

চেয়ে (আবদার করে): ছেলেটি তার বাবার কাছে একটি খেলনা চেয়ে নিল।

ভরা (পূর্ণ): নদীর জল বন্যায় ভরা

ভরা (ক্রিয়াপদ): মাটির কলসিটা জল দিয়ে ভরা হচ্ছে।

৪. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো:

বিশেষ্য: বাতাস, চাঁপার বন, কালো জল, কালির দোয়াত, কোমল ঠোঁট।

বিশেষণ: এলোমেলো।

৫. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও:

৫.১ কোথা থেকে বাতাস এল

৫.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি (আসা)

৫.৩ আমি তোমার মেঘের উপর চালি

৫.৪ পালিয়ে গেল অনেক দূরে।

৫.৫ চেয়ে দেখি আকাশখানা একেবারে কালো

৬. কোনটি বেমানান, তার নীচে দাগ দাও:

৬.১ হাটবার, মাঠের ধার, দুপুরবেলা, ঝড়, কালি। - কালি

৬.২ কালো আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন, কালো জল, হাটবার। - হাটবার

৬.৩ ছেলে, কালির দোয়াত, মেঘ, যেমন করে কালি, মাঠের ধার। - মাঠের ধার

৬.৪ আকাশ, বিদ্যুৎ, ঝড়, সাত সমুদ্র, কালির দোয়াত। - কালির দোয়াত

৬.৫ বাতাস, মাঝি, ঝড়, জল, ঘর। - ঘর

৭. ‘অন্ধকার’ শব্দটির মতো ‘অন্ধ’ এর প্রয়োগ আছে, এমন পাঁচটি শব্দ তৈরি করো:

অন্ধবিশ্বাস, অন্ধকূপ, অন্ধগলির, অন্ধস্নেহ, জন্মান্ধ।

৮. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো:

লো এ মে লো → এলোমেলো

লা বে দু পু র → দুপুরবেলা

তা ড়ি তা ড়া → তাড়াতাড়ি

কা এক বা রে → একবারে

লা ত কু ব → বকুলতলা

৯. শূন্যস্থান পূরণ করো:

৯.১ আকাশখানা একেবারে কালো।

৯.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি

৯.৩ আমার যেন লাগল ভারী ভালো

৯.৪ হাসল কোমল ঠোঁট মেলে।

৯.৫ কালির দোয়াত কেমন করে হঠাৎ দিল ফেলে।

১০. বাক্য রচনা করো:

হাট: গ্রামের লোকেরা প্রতি রবিবার হাটে জিনিসপত্র কেনাবেচা করতে যায়।

ভালো: ছেলেটি খুব ভালো অঙ্ক কষে।

সময়: অসময়ে ঝড় আসায় সবাই ভয় পেয়ে গেল।

পাড়ি: মাঝি নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে চলে গেল।

ভীষণ: কাল রাতে ভীষণ ঝড় হয়েছিল।

১১. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:

এলোমেলো: গোছানো

তাড়াতাড়ি: ধীরে ধীরে

কোমল: কঠিন

ফেলে: তোলে

দূরে: কাছে

১২. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে একটি গল্প তৈরি করো:

একদিন দুপুরে আমি বিরাট মাঠে একা একা ঘুড়ি ওড়াচ্ছিলাম। আকাশটা ছিল পরিষ্কার নীল। হঠাৎ করে কোত্থেকে যেন কালো মেঘ এসে আকাশ ছেয়ে ফেলল। দেখতে দেখতে এলোমেলো বাতাস বইতে শুরু করল আর চারদিক অন্ধকারে ঢেকে গেল। আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ঘুড়ি গুটিয়ে বাড়ির দিকে ছুটলাম। এমন সময় ঝমঝম করে বৃষ্টি নামল। পথে একটা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে দেখি, সেখানে আরও অনেকেই ঝড় থেকে বাঁচতে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টি থামলে সবাই মিলে ভিজে পথ পেরিয়ে বাড়ি ফিরলাম।

১৩. ‘কোমল’ ও ‘কমল’ শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য বাক্যে রচনা করে বুঝিয়ে দাও:

কোমল (নরম): শিশুটির গাল দুটি খুব কোমল

কমল (পদ্মফুল): পুকুরে অনেক কমল ফুটেছে।

১৪. কোনটি কোন শ্রেণির বাক্য লেখো:

১৪.১ ওই এল ঝড়। - বিবৃতিমূলক বাক্য

১৪.২ ঝড় করে মা কয়? - প্রশ্নবোধক বাক্য

১৪.৩ কেমন জানি করল আমার মন! - বিস্ময়সূচক বাক্য

১৪.৪ চেয়ে দেখি - আকাশখানা একেবারে কালো। - বিবৃতিমূলক বাক্য

১৪.৫ পালিয়ে গেল অনেক দূরে — সাত সাগরের পারে। - বিবৃতিমূলক বাক্য

১৫. কবি পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১৫.১ মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বইয়ের নাম হল ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’ এবং ‘ন হন্যতে’।

১৫.২ তিনি কত সালে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধি পান?
উত্তর: তিনি ১৯৭৭ সালে ‘পদ্মশ্রী’ উপাধি পান।

১৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১৬.১ কবিতা শিশু দল ছুটে চলে যেতে দেখেছিল কেন?
উত্তর: হঠাৎ করে ঝড় আসায় এবং চারদিক অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায়, ভয়ে কবিতার শিশু দলটিকে ছুটে চলে যেতে দেখেছিল।

১৬.২ দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল কেন?
উত্তর: কালবৈশাখী ঝড়ের কালো মেঘে সূর্য ঢেকে যাওয়ায় দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল।

১৬.৩ ‘পালিয়ে গেল অনেক দূরে’ — কে পালিয়ে গেল? পালিয়ে সে কোথায় গেল?
উত্তর: ঝড় পালিয়ে গেল। কবি কল্পনা করেছেন যে, ঝড় সাত সাগরের পারে পালিয়ে গেছে।

১৬.৪ ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে কীসের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে?
উত্তর: ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে ভয়ের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে। চারপাশের প্রকৃতি কালো হয়ে যাওয়ায় তার মনও কেমন যেন করে উঠেছিল।

১৬.৫ ‘ঝড়’-এর বর্ণনা দিতে ‘মেঘ করে আসা’ আর ‘বিদ্যুৎ চমকানো’র কথা কবিতায় কোন কোন পঙক্তিতে ফুটে উঠেছে?
উত্তর: কবিতাটিতে সরাসরি বিদ্যুৎ চমকানোর কথা বলা না হলেও, "অন্ধকারে সমস্ত দিক কেমন দিল ঢেকে" এবং "চেয়ে দেখি—আকাশখানা একেবারে কালো" ইত্যাদি পঙক্তিতে মেঘ করে আসার চিত্র ফুটে উঠেছে।

১৬.৬ ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে প্রবল ঢেউ আর বাতাসে নৌকাডুবি হতে পারে এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকে।

১৬.৭ সাত সাগরের পারে seascape নিয়ে তোমার দেখা কোনো ছবি বা সিনেমা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবে।)

১৬.৮ একটি ছুটির দিনে তোমার ঝড় দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বন্ধুকে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে চিঠি লিখবে।)

১৬.৯ ঝড়ের প্রকৃতির একটি ছবি আঁকো।
উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের কল্পনা অনুযায়ী ছবি আঁকবে।)