পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - মধু আনতে বাঘের মুখে

WBBSE-র 'পাতাবাহার' বইয়ের "মধু আনতে বাঘের মুখে" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

গল্প: মধু আনতে বাঘের মুখে

লেখকের নাম: শিবশঙ্কর মিত্র (১৯০৯-১৯৯২)


লেখক সম্পর্কে আলোচনা

Shibshankar Mitra

শিবশঙ্কর মিত্র বাংলাদেশের খুলনা জেলার বেলফুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখার একটি বিশেষ বিষয় ছিল সুন্দরবন, যেখানে তিনি অনেক সময় কাটিয়েছেন। 'সুন্দরবন' বইটির জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ শিশুসাহিত্যের পুরস্কার পান। সুন্দরবন নিয়ে তাঁর লেখা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হল 'সুন্দরবনের আর্জন সর্দার', 'বনবিবি', 'বিচিত্র এই সুন্দরবন', এবং 'রয়েল বেঙ্গলের আত্মকথা' ইত্যাদি।


গল্পের সংক্ষেপ আলোচনা

এই গল্পটি সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মধু সংগ্রহের এক রোমাঞ্চকর অভিযান নিয়ে লেখা। ধনাই, আরজান এবং কফিল—এই তিনজন বন্ধু জীবন বাজি রেখে মধু সংগ্রহ করতে যায়। সুন্দরবনের বিপদসংকুল পরিবেশে বাঘের ভয়কে উপেক্ষা করে তারা কীভাবে চাক কাটে, সেই বিবরণ গল্পে রয়েছে। একদিন মধু খোঁজার সময় তারা একটি বাঘের মুখোমুখি হয়। ধনাইয়ের সাহস ও বুদ্ধির জোরে তারা সে যাত্রা প্রাণে বেঁচে ফেরে। গল্পটি সুন্দরবনের মৌয়ালদের কঠিন জীবনযাত্রা এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের লড়াইয়ের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. জেনে নিয়ে করো:

১.১ সুন্দরবনের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, তা কোন দুটি জেলায়, মানচিত্র থেকে খুঁজে বের করো।
উত্তর: সুন্দরবনের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, তা মূলত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত।

১.২ সুন্দরবন অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে যে যে নদী বয়ে গেছে, তাদের নামগুলি লেখো।
উত্তর: সুন্দরবন অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে মাতলা, রায়মঙ্গল, গোসাবা, বিদ্যাধরী, ইছামতী ইত্যাদি নদী বয়ে গেছে।

১.৩ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চলটি কোন সমুদ্র-উপকূলে অবস্থিত তা মানচিত্র থেকে খুঁজে বের করো।
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অঞ্চলটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত।

১.৪ মানচিত্রে বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে লেখো।
উত্তর: (এটি ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের সাহায্যে করবে।)

২. গল্প থেকে তথ্য নিয়ে বাক্যগুলি পূর্ণ করো:

মধু কাটতে গিয়েছিল ধনাই, আরজান আর কফিল। মধু কাটতে তিনজন লোকের দরকার হয়।

ধনাইকে বাঘে আক্রমণ করেছিল, কিন্তু সে নিজেই বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

‘শিষে’র ভিতর মধু। কলস ভর্তি মধুর উপর বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ল। সারা মুখে মধু ছিঁটকে পড়ল।

৩. এদের মধ্যে যে যা কাজটা করত:

ধনাই: চাক কাটে, বাঘের সঙ্গে লড়াই করে।

আরজান: মশাল জ্বালে, ধোঁয়া তৈরি করে।

কফিল: চট বা বস্তা পেতে ধরে, যাতে মধু মাটিতে না পড়ে।

৪. শব্দার্থ লেখো:

এক-গা: সবসময় তৈরি। নাস্তা: জলখাবার। চট: পাটের সুতো থেকে তৈরি মোটা কাপড়। ধামা: শস্য রাখা বা মাপার জন্য তৈরি বেতের ঝুড়ি। গোঁয়ার: জেদি। স্তুতি: আনন্দ। ডিঙি: ছোট হালকা নৌকা। পন্থা: উপায়। একত্রে: একসঙ্গে। গুলো: শ্বাসমূল। তীক্ষ্ণ: খুব ধারালো। সাঁকো: সেতু। হতভম্ব: বুদ্ধি গুলিয়ে গেছে এমন। দুর্গম: ভয়ংকর।

৫. অর্থ লেখো:

ধামা: শস্য রাখার পাত্র। গোঁয়ার্তুমি: গোঁয়ারের মতো আচরণ। চট: মোটা কাপড়। হাজির: উপস্থিত। বিরবিরিয়ে: অস্পষ্টভাবে কথা বলা।

৬. বাক্য রচনা করো:

নাস্তা: সকালে আমরা রুটি দিয়ে নাস্তা করি।

মৌচাক: গাছের ডালে একটি বড় মৌচাক দেখেছি।

डर: বাঘের ভয়ে ছেলেটির মনে डर জন্মেছে।

স্তুতি: ভগবানের স্তুতি করে সবাই পুজো করে।

কলস: মেয়েরা নদী থেকে কলস ভরে জল আনছে।

৭. কোনটি কোন ধরনের শব্দ তা শব্দঝুড়ি থেকে বেছে নিয়ে লেখো:

বিশেষ্য: এক, চট, আর, ফুল, পথ, বিশ্বাস, গোঁয়ার, বোঝাই, গভীর, সকাল, ভাঙা, তবু, ওদের, চড়া, কিন্তু, ওর, মজার, সরল, সে, ওদের, চড়া, কিন্তু, ওর, বেজায়, শীর্ণ, নিয়েছে।

বিশেষণ: গভীর, সকাল, ভাঙা, মজার, সরল, বেজায়, শীর্ণ।

সর্বনাম: আর, তবু, ওদের, ওর, সে, নিয়েছে।

অব্যয়: এক, চট, ফুল, পথ, কিন্তু।

ক্রিয়া: বোঝাই, চড়া, নিয়েছে।

৮. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:

কাঁচা: পাকা

ভর্তি: খালি

তীক্ষ্ণ: ভোঁতা

দীর্ঘ: হ্রস্ব

বোঝাই: খালি

৯. সমার্থক শব্দ লেখো:

মৌমাছি: মধুকর

বাঘ: ব্যাঘ্র

ফুল: পুষ্প

বন: জঙ্গল

মাটি: মৃত্তিকা

১০. নীচের ঝুড়িতে বেশ কিছু বন্যপ্রাণীর নাম দেওয়া রয়েছে। আমাদের সুন্দরবনে এদের মধ্যে কার কার দেখা মেলে:

সুন্দরবনে দেখা মেলে: কুমির, গণ্ডার, বাঘ, হরিণ, কচ্ছপ, বুনোমহিষ, হায়না, শজারু, শুয়োর, বাঁদর, সাপ, গোসাপ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

১১. ‘ক’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:


মধু
জলখাবার
নাস্তা
মোটা
কাস্তে
ছোট নৌকা
ডিঙি
কাটারি
শিষে
সেতু
সাঁকো
ছোট সরু খাদ

১২. গল্পের ঘটনাগুলি ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো:

৪. ডিঙি করে অনেক দূর বনের ভিতর গিয়ে তিনজনে ডাঙায় উঠেছে।

৩. পেটপুরে নাস্তা খেয়ে বনে মধু কাটার জন্য তৈরি হল।

১. মনের আনন্দে একটানা একটার পর একটা মধুর চাক কেটে চলেছে।

৫. কয়েকটা মৌমাছি ওদের দিকে তাড়া করল।

২. আরজান এক থাবা কাদা তুলে গোল করে পাকিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে মারল চাক লক্ষ্য করে।

১৩. লেখক পরিচিতি থেকে প্রশ্ন:

১৩.১ শিবশঙ্কর মিত্রের লেখালেখির বিষয় কোনটি?
উত্তর: শিবশঙ্কর মিত্রের লেখালেখির বিশেষ বিষয় ছিল 'সুন্দরবন'।

১৩.২ কোন বইয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার পান?
উত্তর: 'সুন্দরবন' বইটির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার পান।

১৩.৩ সুন্দরবনকে নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনকে নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বই হল 'বনবিবি' এবং 'বিচিত্র এই সুন্দরবন'।

১৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১৪.১ বসন্তকালে সুন্দরবনের দৃশ্যটি কেমন তা নিজের ভাষায় পাঁচটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: বসন্তকালে সুন্দরবনের প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায় ও ফুল ফোটে। মৌমাছিরা গুনগুন করে উড়ে বেড়ায়। বনের বাতাস ফুলের গন্ধে ভরে থাকে। নানারকম পাখির ডাকে বন মুখরিত থাকে।

১৪.২ যদি তুমি কখনও সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাও, তবে কাকে কাকে সঙ্গে নেবে? জিনিসপত্রই বা কী কী নিয়ে যাবে?
উত্তর: আমি যদি সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাই, তবে আমার সঙ্গে দুজন অভিজ্ঞ মৌয়ালকে নেব। জিনিসপত্র হিসেবে নেব একটি ডিঙি নৌকা, ধারালো কাস্তে, মশাল, শুকনো পাতার বান্ডিল, একটি মোটা লাঠি এবং মধু রাখার জন্য বড় কলস।

১৪.৩ ‘বাংলার বাঘ’ নামে কে পরিচিত?
উত্তর: স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ‘বাংলার বাঘ’ নামে পরিচিত।

১৪.৪ ‘বাঘাযতীন’ নামে কে পরিচিত?
উত্তর: যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ‘বাঘাযতীন’ নামে পরিচিত।

১৪.৫ ‘সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ’ — এই বিষয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উত্তর: সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গভীর জঙ্গলে হিংস্র জন্তুর ভয় থাকে। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণের ভয় সবসময় থাকে। মৌমাছির কামড় খাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। এছাড়া, সুন্দরবনের নদীনালা কুমিরে ভরা। रास्ता হারিয়ে ফেলার ভয়ও থাকে।

১৪.৬ ধনাই কীসের মন্ত্র জানে?
উত্তর: ধনাই মৌমাছি তাড়ানোর মন্ত্র জানে।

১৪.৭ গরান গাছের ফুল দেখতে কেমন?
উত্তর: গরান গাছের ফুলগুলি ছোট ছোট এবং সাদা রঙের হয়।

১৪.৮ ডিঙি করে মধু সংগ্রহ করতে কে কে গিয়েছিল?
উত্তর: ডিঙি করে মধু সংগ্রহ করতে ধনাই, আরজান ও কফিল গিয়েছিল।

১৪.৯ টীকা লেখো — ‘টাক্’, ‘শিষে’।
উত্তর: টাক্: সুন্দরবনের খাড়ির ধারে উঁচু এবং ত্রিভুজাকার জমির মাথাকে 'টাক্' বলে। শিষে: সুন্দরবনের জঙ্গলে লবণাক্ত মাটিতে তৈরি হওয়া ছোট ছোট সরু খাদকে 'শিষে' বলা হয়।

১৪.১০ মধুর চাক খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি কী?
উত্তর: মৌমাছিরা কোন ফুলে বসে মধু সংগ্রহ করে, তা লক্ষ্য করে তাদের অনুসরণ করে মধুর চাক খুঁজে পাওয়া হয়।

১৪.১১ কফিল ও আরজানকে পেছনে ফিরে তাকাবার সময় ধনাই কী দেখেছিল?
উত্তর: কফিল ও আরজানকে পেছনে ফিরে তাকাবার সময় ধনাই দেখেছিল একটি বাঘ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

১৪.১২ বাঘটা শিষের ভিতর পড়ে গেল কীভাবে?
উত্তর: ধনাইয়ের মাথার মধুর কলস লক্ষ্য করে বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাঘটি শিষের ভিতরের নরম কাদায় পড়ে যায়।

১৪.১৩ ধনাই কীভাবে বাঘের হাত থেকে বেঁচে গেল?
উত্তর: ধনাই তার হাতের লম্বা লাঠি দিয়ে বাঘের মাথায় আঘাত করে এবং বাঘ ঝাঁপ দিলে সে সরে যায়, ফলে বাঘটি শিষের মধ্যে পড়ে যায়। এভাবেই ধনাই বেঁচে যায়।