পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - শরৎ তোমার

WBBSE-র 'পাতাবাহার' বইয়ের "শরৎ তোমার" গানটির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

গান: শরৎ তোমার

কবির নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)


কবি সম্পর্কে আলোচনা

Rabindranath Tagore

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভা। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর রচিত 'জনগণমন' ও 'আমার সোনার বাংলা' যথাক্রমে ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এই গানটি তাঁর 'প্রকৃতি' পর্যায়ের অন্তর্গত এবং 'গীতবিতান' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।


সম্পূর্ণ গান

শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি। ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।। শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে বনের-পথে-लुটিয়ে-পড়া অঞ্চলে আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।। মানিক-গাঁথা ওই-যে তোমার কঙ্কণে ঝিলিক লাগায় তোমার শ্যামল অঙ্গনে। কুঞ্জছায়া গুঞ্জরণের সংগীতে ওঠায় জাগিয়ে একি নাচের ভভিতে, শিউলি বনের বুক যে ওঠে আন্দোলি।।

বিশদ ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শরৎ তোমার' গানটি শরৎ ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্য ও আগমনীর এক অনবদ্য চিত্রকল্প।

প্রথম স্তবক: কবি শরৎকে এক দেবীর রূপে কল্পনা করেছেন, যিনি তাঁর অরুণ আলোর অঞ্জলি অর্থাৎ ভোরের নরম সূর্যের আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁর মোহন অঙ্গুলি ছাপিয়ে সেই আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। শরতের শিশিরভেজা চুলের রাশি যেন বনের পথে পথে লুটিয়ে পড়েছে, যা দেখে ভোরের প্রকৃতি চঞ্চল হয়ে উঠেছে।

দ্বিতীয় স্তবক: এখানে কবি শরতের আরও সূক্ষ্ম সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। শরতের হাতে পরা মানিক-গাঁথা কঙ্কণ বা চুড়ির ঝিলিক যেন তার শ্যামল অঙ্গনে অর্থাৎ সবুজ প্রকৃতিতে এক অপূর্ব আভা সৃষ্টি করছে। গাছের ছায়ায় মৌমাছির গুঞ্জন এবং প্রকৃতির নাচের ভঙ্গিমা সবকিছুকে জাগিয়ে তুলছে। বিশেষ করে, শিউলি ফুলের বন এই আনন্দে আন্দোলিত বা উল্লসিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই গানটি শরতের স্নিগ্ধ, শান্ত ও নির্মল রূপকে তুলে ধরে। কাশফুল, শিউলি, শিশিরভেজা সকাল এবং নরম রোদ—এইসব মিলিয়ে শরৎ যে এক মোহনীয় পরিবেশ তৈরি করে, কবি সেই অনুভূতিকেই তাঁর গানের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।