ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা সমাধান - চিঠি
WBBSE-র 'সাহিত্যমেলা' বইয়ের "চিঠি" কবিতার সম্পূর্ণ সমাধান।
Advertisement
কবিতা: চিঠি
কবি: জসীমউদ্দীন
কবি সম্পর্কে আলোচনা
জসীমউদ্দীন (১৯০৪ – ১৯৭৬): জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 'পল্লীকবি' হিসেবে পরিচিত এই কবির কবিতায় গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ছবি সহজ-সরল ভাষায় ফুটে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হলো 'নকশী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'রাখালী', 'বালুচর', 'ধানখেত' ইত্যাদি। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মানিক ডি.লিট. উপাধি পান।
চিঠি পেলাম লাল মোরগের ভোর-জাগানো সুর-ভরা
পাখার গায়ে শিশু ঊষার রঙিন হাসি রঙিন করা।
চিঠি পেলাম চখাচখির বালুচরের ঝিকিমিকি,
ঢেউ-এ ঢেউ-এ বর্ষা সেথা লিখে গেছে কত কী কী!
লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে,
জল-ধারার কল কল ভাসিয়ে আসার উজান স্রোতে।
চিঠি পেলাম কিচিমিচির বাবুঁই পাখির বাসার থেকে,
ধানের পাতায় তাদের পাতায় বুনট-করা নকশা এঁকে।
চিঠি পেলাম ভোঁমরার বর্ষাকালের ফসল-ক্ষেতে,
সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে।
আকাশ জুড়ে মেঘের কাঁদন গুরু গুরু দেয়ার ডাকে,
উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা চাইছে কাকে।
ইহার সাথে পেলাম আজি খোকা ভাই-এর একটি চিঠি,
শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিষ্টি।
দূর আকাশের সুনীল পাতায় পাখিরা সব ঝাঁকে ঝাঁকে
কত রকম ছড়ায় গড়ায়, মেঘের পাড়ায় গড়ায় কাকে।
সেই সে পাড়া হরফ-করা খোকা ভাই-এর রঙিন হাতে
খুশির নুপুর ঝুমুর-ঝামুর বাজছে আমার নিরালাতে।
কবিতার সারসংক্ষেপ
'চিঠি' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান এবং প্রিয়জনের কাছ থেকে পাওয়া বার্তার কথা বলেছেন। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান যেন কবির কাছে এক একটি চিঠি। লাল মোরগের ভোর জাগানো ডাক, চখাচখির বালুচর, গাঙশালিকের সর্দার হওয়া, বাবুই পাখির বোনা বাসা, বর্ষার ফসলের ক্ষেত, মেঘের গর্জন—এই সবকিছুই কবির কাছে প্রকৃতির পাঠানো চিঠি। এই সমস্ত প্রাকৃতিক বার্তার সঙ্গে কবি পেয়েছেন তাঁর প্রিয় খোকা ভাই-এর একটি চিঠি, যা শীতের সকালের মিষ্টি রোদের মতো স্নিগ্ধ ও আনন্দদায়ক। সেই চিঠির অক্ষরগুলি কবির মনে খুশির নুপুর বাজিয়ে তুলেছে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:
১.১ কবি জসীমউদ্দীনকে বাংলা কাব্য জগতে কোন অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে?
উত্তর: কবি জসীমউদ্দীনকে বাংলা কাব্য জগতে 'পল্লীকবি' অভিধায় অভিহিত করা হয়েছে।
১.২ তাঁর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা দুটি কবিতার বইয়ের নাম হলো 'নকশী কাঁথার মাঠ' এবং 'সোজন বাদিয়ার ঘাট'
শব্দার্থ: চখাচখি — স্ত্রী ও পুরুষ চক্রবাক একত্রে, হাঁস জাতীয় পরিযায়ী পাখিবিশেষ। গাঙ — নদী। স্রোতে — স্রোতে (এই কবিতায়)। ভোঁমরা — স্ত্রী ও পুরুষ জলচর পাখি একত্রে। দেয়া — মেঘ। নিরালা — নির্জন। ঊষা — ভোর।
২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :
২.১ কবি কার কার থেকে চিঠি পেয়েছেন?
উত্তর: কবি লাল মোরগ, চখাচখি, গাঙশালিক, বাবুই পাখি, ভোঁমরা এবং তাঁর খোকা ভাই-এর কাছ থেকে চিঠি পেয়েছেন।
২.২ লাল মোরগের পাঠানো চিঠিটি কেমন?
উত্তর: লাল মোরগের পাঠানো চিঠিটি তার ভোর জাগানো সুরে ভরা এবং তার পাখার রঙ ভোরের শিশুর রঙিন হাসির মতো।
২.৩ চখাচখি কেমন চিঠি পাঠিয়েছে?
উত্তর: চখাচখি বালুচরের ঝিকিমিকি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে বর্ষার ঢেউ অনেক কথা লিখে গেছে।
২.৪ গাঙশালিক তার চিঠিতে কী বলেছে?
উত্তর: গাঙশালিক তার চিঠিতে বলেছে যে সে গাঙের পাড়ের মোড়ল বা সর্দার হতে চায়।
২.৫ বাবুই পাখির বাসার থেকে আসা চিঠিটি কেমন?
উত্তর: বাবুই পাখির বাসার থেকে আসা চিঠিটি কিচিমিচির শব্দে ভরা এবং ধানের পাতায় বোনা সুন্দর নকশার মতো।
২.৬ ভোমরার পাঠানো চিঠিটির বর্ণনা দাও।
উত্তর: ভোমরার পাঠানো চিঠিটি এসেছে বর্ষাকালের ফসল-ক্ষেত থেকে, যেখানে সবুজ পাতার আসর জলের ধারায় মেতে নাচছে।
২.৭ কার চিঠি পাওয়ায় কবির মনে হয়েছে নিখিল বিশ্ব তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে?
উত্তর: খোকা ভাই-এর চিঠি পাওয়ায় কবির মনে হয়েছে নিখিল বিশ্ব তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে।
২.৮ এই কবিতায় কোন ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে?
উত্তর: এই কবিতায় বর্ষা এবং শীত ঋতুর প্রসঙ্গ রয়েছে।
২.৯ কবিতায় অন্য ঋতুর পটভূমি সত্ত্বেও খোকাভাই-এর চিঠির লেখনখানি 'শীতের ভোরের রোদের মতো' মিষ্টি মনে হওয়ার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: শীতের সকালের রোদ যেমন স্নিগ্ধ, আরামদায়ক ও মধুর হয়, ঠিক তেমনই প্রিয় খোকাভাই-এর চিঠির লেখনীও কবির কাছে অত্যন্ত মিষ্টি ও আনন্দদায়ক মনে হয়েছে।
২.১০ 'খুশির নুপুর ঝুমুর-ঝামুর বাজছে আমার নিরালাতে'— পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রিয় খোকাভাই-এর চিঠি পেয়ে কবির নির্জন মন খুশির আনন্দে ভরে উঠেছে। সেই আনন্দ তাঁর মনে নুপুরের ঝুমুর ঝুমুর শব্দের মতো মিষ্টি মধুর ধ্বনি তৈরি করছে।
৩. কবিতা থেকে এমন তিনটি শব্দ খুঁজে বের করো যা কোনো ধ্বনির অনুকরণে তৈরি। একটি উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন: কল কল।
- ঝিকিমিকি
- কিচিমিচির
- গুরু গুরু
- ঝুমুর-ঝামুর
৪. শব্দঝুড়ি থেকে ঠিক শব্দ নিয়ে শূন্যস্থানে বসাও :
গঙ্গা > গাঙ
রঙিন > রঙিন
স্রোত > সোঁত
বৃংহণ > কাঁদন
৫. 'ঢেউ-এ ঢেউ-এ' এখানে 'ঢেউ-এ' শব্দটি পরপর দু'বার ব্যবহার হওয়ায় অর্থ দাঁড়িয়েছে, 'প্রত্যেক ঢেউ-এ'। অর্থাৎ একই শব্দ পরপর দু'বার ব্যবহারে বহু বচনের ভাব তৈরি হয়েছে। এই কবিতাটি থেকে আরও তিনটি অংশ উদ্ধৃত করো যেখানে এমন ঘটেছে।
- কত কী কী
- গুরু গুরু
- ঝাঁকে ঝাঁকে
৬. 'গাঙের পাড়ের মোড়ল' — শব্দবন্ধটিতে পরপর দু'বার '-এর' সম্বন্ধ বিভক্তি এসেছে। কবিতা থেকে এমন আরও শব্দবন্ধ খুঁজে বের করো যেখানে পরপর দু'বার 'র' বা '-এর' বিভক্তি প্রয়োগে সম্বন্ধ পদ তৈরি হয়েছে।
- লাল মোরগের ভোর-জাগানো সুর
- বাবুই পাখির বাসার থেকে
- শীতের ভোরের রোদের মতো
- মেঘের পাড়ায় গড়ায় কাকে
- খোকা ভাই-এর রঙিন হাতে
৭. 'কর্তা-কর্ম-ক্রিয়া' — পদক্রম অনুসারে নীচের বাক্যগুলিকে আবার লেখো :
৭.১ লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে।
উত্তর: গাঙশালিক গাঙের পাড়ের মোড়ল হতে লিখে গেছে।
৭.২ ইহার সাথে পেলাম আজি খোকা ভাই-এর একটি চিঠি।
উত্তর: আজি ইহার সাথে আমি খোকা ভাই-এর একটি চিঠি পেলাম।
৭.৩ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে।
উত্তর: সবুজ পাতার আসরগুলি জল-ধারায় মেতে নাচছে।
৭.৪ উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন বা চাইছে কাকে।
উত্তর: উদাস বাতাস আছড়ে বলে কে যেন কাকে চাইছে।
৭.৫ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিষ্টি।
উত্তর: লেখনখানি শীতের ভোরের রোদের মতো মিষ্টি লাগছে।
৮. নীচের বাক্যগুলির ভেঙে দুটি বাক্যে পরিণত করো :
৮.১ চিঠি পেলাম লাল মোরগের ভোর-জাগানোর সুরভরা।
উত্তর: আমি একটি চিঠি পেলাম। সেটি লাল মোরগের ভোর-জাগানো সুরে ভরা।
৮.২ সবুজ পাতার আসরগুলি নাচছে জল-ধারায় মেতে।
উত্তর: সবুজ পাতার আসরগুলি রয়েছে। সেগুলি জল-ধারায় মেতে নাচছে।
৮.৩ শীতের ভোরের রোদের মতো লেখনখানি লাগছে মিষ্টি।
উত্তর: লেখনখানি মিষ্টি লাগছে। তা শীতের ভোরের রোদের মতো।
৮.৪ আকাশ জুড়ে মেঘের কাঁদন গুরু গুরু দেয়ার ডাকে।
উত্তর: আকাশ জুড়ে মেঘ কাঁদছে। সেই কাঁদন গুরু গুরু দেয়ার মতো ডাকছে।
৮.৫ লিখে গেছে গাঙশালিকে গাঙের পাড়ের মোড়ল হ'তে।
উত্তর: গাঙশালিক লিখে গেছে। সে গাঙের পাড়ের মোড়ল হতে চায়।
৯. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :
৯.১ কবি প্রকৃতির কোন-কোন প্রতিনিধির কাছ থেকে কেমন সমস্ত চিঠি পেয়েছিলেন, বিশদে লেখো।
উত্তর: কবি প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিনিধির কাছ থেকে চিঠি পেয়েছেন। লাল মোরগের কাছ থেকে পেয়েছেন ভোরের বার্তা। চখাচখির থেকে পেয়েছেন বালুচরের ঝিকিমিকি খবর। গাঙশালিকের কাছ থেকে পেয়েছেন তার সর্দার হওয়ার ইচ্ছার কথা। বাবুই পাখির কাছ থেকে পেয়েছেন তার সুন্দর বোনা বাসার কারুকার্যের চিঠি। আর ভোমরার কাছ থেকে পেয়েছেন বর্ষার সবুজ ফসলের ক্ষেতের আনন্দের চিঠি।
৯.২ খোকা ভাই-এর চিঠির প্রসঙ্গে কবি যে সমস্ত উপমা ও তুলনাবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন তাদের ব্যবহারের সার্থকতা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: খোকা ভাই-এর চিঠির প্রসঙ্গে কবি সেটিকে 'শীতের ভোরের রোদের মতো' মিষ্টি বলেছেন। এই উপমাটি অত্যন্ত সার্থক কারণ শীতের রোদ যেমন আরামদায়ক ও মন ভালো করে দেয়, প্রিয়জনের চিঠিও ঠিক তেমনই আনন্দদায়ক। আবার, চিঠির অক্ষরগুলিকে তিনি 'খুশির নুপুর'-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন যা তাঁর মনের ভেতরের উচ্ছ্বাসকে প্রকাশ করে। এই উপমা ও তুলনাগুলি কবির গভীর অনুভূতিকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
৯.৩ তোমার প্রিয় বন্ধুকে তোমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের ঘটনাটি জানিয়ে একটি চিঠি লেখো।
উত্তর: (এই প্রশ্নটির উত্তর ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মতো করে লিখবে।)
Advertisement
ষষ্ঠ শ্রেণীর গণিত সমাধান
ষষ্ঠ শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
ষষ্ঠ শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
ষষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
ষষ্ঠ শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
ষষ্ঠ শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
ষষ্ঠ শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test