অধ্যায় ৫: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের ভারতীয় উপমহাদেশ
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক নাগাদ ভারতীয় উপমহাদেশে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। লোহার ব্যবহার, কৃষির উন্নতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে ছোট ছোট 'জনপদ'গুলি বড় বড় রাজ্যে পরিণত হয়, যেগুলিকে 'মহাজনপদ' বলা হয়। এই অধ্যায়ে আমরা সেই সময়ের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং নতুন ধর্মীয় ভাবনার উত্থান সম্পর্কে জানব।
- জনপদ থেকে মহাজনপদ: 'জন' বা গোষ্ঠীর বসতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে জনপদ বলা হত। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে এই জনপদগুলির মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ ও ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। এর ফলে কয়েকটি শক্তিশালী জনপদ অন্যগুলিকে দখল করে বড় রাজ্যে পরিণত হয়। এই বড় রাজ্যগুলিই 'মহাজনপদ' নামে পরিচিত।
- ষোড়শ মহাজনপদ: বৌদ্ধ ও জৈন সাহিত্য থেকে মোট ষোলটি মহাজনপদের কথা জানা যায়। এগুলির বেশিরভাগই গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। এদের মধ্যে ছিল অবন্তী, বৎস, কোশল ও মগধ। পারস্পরিক যুদ্ধের পর শেষ পর্যন্ত মগধই সবচেয়ে শক্তিশালী মহাজনপদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- শাসনব্যবস্থা: মহাজনপদগুলির শাসনব্যবস্থা দুই ধরনের ছিল—(ক) রাজতান্ত্রিক: যেখানে বংশানুক্রমিকভাবে রাজা শাসন করতেন (যেমন—মগধ), এবং (খ) গণরাজ্য: যেখানে জনগণ বা কয়েকটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মিলে শাসন চালাতেন (যেমন—বজ্জি, মল্ল)।
- নব্যধর্ম আন্দোলন: এই সময়ে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যধর্মের জটিল যাগযজ্ঞ, পশুবলি এবং কঠোর জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে এক নতুন ধর্মীয় জাগরণ দেখা দেয়। কৃষিকাজ ও ব্যবসার প্রসারের ফলে সমাজে নতুন শ্রেণির উদ্ভব হয়, যারা এই পুরোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করে। এই প্রতিবাদী আন্দোলন থেকেই জৈনধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের মতো 'নব্যধর্ম'-এর উত্থান ঘটে।
- জৈনধর্ম: জৈনধর্মের প্রধান প্রচারকদের 'তীর্থঙ্কর' বলা হয়। মোট চব্বিশজন তীর্থঙ্করের মধ্যে শেষ দুজন ছিলেন পার্শ্বনাথ ও বর্ধমান মহাবীর। মহাবীর 'পঞ্চমহাব্রত' (অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, অপরিগ্রহ ও ব্রহ্মচর্য) পালনের উপর জোর দেন।
- বৌদ্ধধর্ম: গৌতম বুদ্ধ এই ধর্মের প্রবর্তক। তিনি মানুষের জীবনের দুঃখের কারণ অনুসন্ধান করেন এবং তা থেকে মুক্তির জন্য 'চতুরার্যসত্য' ও 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ'-এর পথ দেখান। তিনি জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা করেন এবং সহজ-সরল জীবনযাপনের কথা বলেন।
গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল
| সময়কাল (আনুমানিক) | ঘটনা |
|---|---|
| খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক | ষোড়শ মহাজনপদের উত্থান এবং নব্যধর্ম আন্দোলন। |
| খ্রি.পূ. ৫৪০-৪৬৮ অব্দ | বর্ধমান মহাবীরের জীবনকাল। |
| খ্রি.পূ. ৫৬৬-৪৮৬ অব্দ | গৌতম বুদ্ধের জীবনকাল। |
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
এই বিভাগে অধ্যায়ের বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
'জনপদ' কথাটির অর্থ কী?
(ক) জনগণ (খ) জনগণের বসতি (গ) রাজার বাড়ি (ঘ) দেবতার স্থান
উত্তর: (খ) জনগণের বসতি
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে কয়টি মহাজনপদের কথা জানা যায়?
(ক) দশটি (খ) বারোটি (গ) ষোলটি (ঘ) আঠারোটি
উত্তর: (গ) ষোলটি
দক্ষিণ ভারতের একমাত্র মহাজনপদ কোনটি ছিল?
(ক) মগধ (খ) অবন্তী (গ) অস্মক (ঘ) গান্ধার
উত্তর: (গ) অস্মক
শেষ পর্যন্ত কোন মহাজনপদ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে?
(ক) কোশল (খ) বৎস (গ) অবন্তী (ঘ) মগধ
উত্তর: (ঘ) মগধ
বজ্জি মহাজনপদের রাজধানী কোথায় ছিল?
(ক) রাজগৃহ (খ) পাটলিপুত্র (গ) বৈশালী (ঘ) শ্রাবস্তী
উত্তর: (গ) বৈশালী
জৈন ধর্মের প্রধান প্রচারকদের কী বলা হত?
(ক) গুরু (খ) ঋষি (গ) তীর্থঙ্কর (ঘ) আচার্য
উত্তর: (গ) তীর্থঙ্কর
জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থঙ্কর কে ছিলেন?
(ক) ঋষভনাথ (খ) বর্ধমান মহাবীর (গ) পার্শ্বনাথ (ঘ) গোসাল
উত্তর: (গ) পার্শ্বনাথ
'পঞ্চমহাব্রত'-এর মধ্যে ব্রহ্মচর্য নীতি কে যোগ করেন?
(ক) পার্শ্বনাথ (খ) বর্ধমান মহাবীর (গ) ভদ্রবাহু (ঘ) স্থূলভদ্র
উত্তর: (খ) বর্ধমান মহাবীর
জৈনদের শ্বেতবস্ত্র পরিধানকারী গোষ্ঠীকে কী বলা হয়?
(ক) দিগম্বর (খ) শ্বেতাম্বর (গ) হীনยาน (ঘ) মহাযান
উত্তর: (খ) শ্বেতাম্বর
গৌতম বুদ্ধ কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) লিচ্ছবি (খ) হর্যঙ্ক (গ) শাক্য (ঘ) মৌর্য
উত্তর: (গ) শাক্য
বুদ্ধ কোথায় প্রথম তাঁর ধর্ম প্রচার করেন?
(ক) গয়া (খ) সারনাথ (গ) কুশীনগর (ঘ) রাজগৃহ
উত্তর: (খ) সারনাথ
বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?
(ক) অঙ্গ (খ) বেদ (গ) ত্রিপিটক (ঘ) উপনিষদ
উত্তর: (গ) ত্রিপিটক
প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি কার আমলে হয়েছিল?
(ক) কালাশোক (খ) অশোক (গ) কনিষ্ক (ঘ) অজাতশত্রু
উত্তর: (ঘ) অজাতশত্রু
কোন বৌদ্ধ সংগীতিতে বৌদ্ধধর্ম হীনযান ও মহাযান—এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়?
(ক) প্রথম (খ) দ্বিতীয় (গ) তৃতীয় (ঘ) চতুর্থ
উত্তর: (ঘ) চতুর্থ
জাতকের গল্পগুলি কোন ভাষায় লেখা?
(ক) সংস্কৃত (খ) প্রাকৃত (গ) পালি (ঘ) বাংলা
উত্তর: (গ) পালি
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
জনপদ ও মহাজনপদের মধ্যে পার্থক্য কী?
জনপদ ছিল ছোট ছোট রাজ্য, যা মূলত একটি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠত। অন্যদিকে, যুদ্ধ ও ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে কয়েকটি জনপদ মিলে যখন একটি বড় ও শক্তিশালী রাজ্য তৈরি হত, তাকে মহাজনপদ বলা হত। অর্থাৎ, মহাজনপদ আয়তন ও ক্ষমতায় জনপদের চেয়ে বড় ছিল।
মগধের উত্থানের দুটি কারণ লেখো।
মগধের উত্থানের দুটি প্রধান কারণ হলো: (১) গঙ্গা নদী ও তার উপনদী দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল সুরক্ষিত এবং কৃষিজমি ছিল উর্বর; এবং (২) মগধের বন থেকে প্রাপ্ত হাতি এবং খনি থেকে প্রাপ্ত লোহা তাদের সামরিক শক্তিকে বৃদ্ধি করেছিল।
গণরাজ্য কাকে বলে? দুটি গণরাজ্যের নাম লেখো।
যেসব মহাজনপদে কোনো একজন রাজা শাসন করতেন না, বরং জনগণ বা কয়েকটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মিলে আলোচনা করে শাসন চালাতেন, তাদের গণরাজ্য বলা হত। দুটি গণরাজ্য হলো বজ্জি ও মল্ল।
নব্যধর্ম আন্দোলন কেন গড়ে উঠেছিল?
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বৈদিক ব্রাহ্মণ্যধর্মের জটিল যাগযজ্ঞ, ব্যয়বহুল পশুবলি এবং কঠোর জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজে একটি প্রতিবাদী মনোভাব তৈরি হয়। কৃষিকাজ ও বাণিজ্যের প্রসারের ফলে সমাজে যে নতুন শ্রেণির উদ্ভব হয়, তারা এই পুরোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করে সহজ-সরল নতুন ধর্মের খোঁজ শুরু করে। এভাবেই নব্যধর্ম আন্দোলন গড়ে ওঠে।
চতুর্যাম ব্রত কী?
জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ চারটি মূলনীতি পালনের কথা বলেন: (১) কোনো প্রাণী হত্যা না করা (অহিংসা), (২) মিথ্যা কথা না বলা (সত্য), (৩) অন্যের জিনিস চুরি না করা (অস্তেয়), এবং (৪) নিজের জন্য কোনো সম্পত্তি না করা (অপরিগ্রহ)। এই চারটি নীতিকে একসঙ্গে 'চতুর্যাম ব্রত' বলা হয়।
বৌদ্ধধর্মের চতুরার্যসত্য কী?
গৌতম বুদ্ধ মানুষের জীবনের দুঃখের কারণ ও তা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে যে চারটি মূল উপদেশ দেন, সেগুলি 'চতুরার্যসত্য' নামে পরিচিত। সেগুলি হলো: (১) সংসারে দুঃখ আছে, (২) দুঃখের কারণ আছে, (৩) দুঃখ দূর করা সম্ভব, এবং (৪) দুঃখ দূর করার পথ আছে (অষ্টাঙ্গিক মার্গ)।
বৌদ্ধধর্মের অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী?
দুঃখ দূর করার জন্য গৌতম বুদ্ধ যে আটটি পথের কথা বলেছেন, তাকে একসঙ্গে 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' বলা হয়। এই পথগুলি হলো সৎ বাক্য, সৎ কার্য, সৎ জীবন, সৎ চেষ্টা, সৎ সংকল্প, সৎ दृष्टी, সৎ স্মৃতি ও সৎ সমাধি।
ত্রিপিটক কী?
ত্রিপিটক হলো বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। 'পিটক' কথার অর্থ ঝুড়ি। সুত্তপিটক, বিনয়পিটক ও অভিধম্মপিটক—এই তিনটি সংকলনকে একসঙ্গে ত্রিপিটক বলা হয়। এটি পালি ভাষায় লেখা।
বৌদ্ধধর্মের ত্রিরত্ন কী কী?
বৌদ্ধধর্মের তিনটি মূল ভিত্তি হলো বুদ্ধ, ধর্ম (বুদ্ধের উপদেশ) এবং সংঘ (বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সংগঠন)। এই তিনটিকে একসঙ্গে 'ত্রিরত্ন' বলা হয়।
হীনยาน ও মহাযান কারা?
সম্রাট কনিষ্কের সময়ে চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতিতে বৌদ্ধধর্ম দুটি প্রধান ভাগে ভাগ হয়ে যায়। যারা বুদ্ধের পুরোনো ও সরল নীতিগুলি মেনে চলতেন, তারা 'হীনযান' নামে পরিচিত হন। আর যারা বুদ্ধের মূর্তি পূজা শুরু করেন এবং বোধিসত্ত্বের ধারণায় বিশ্বাসী ছিলেন, তারা 'মহাযান' নামে পরিচিত হন।
পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নোত্তর (পৃষ্ঠা নং ৭৭)
১। সঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
১.১) মহাজনপদগুলি গড়ে উঠেছিল খ্রি: পূ: ষষ্ঠ শতকে।
১.২) গৌতম বুদ্ধ জন্মেছিলেন শাক্য বংশে।
১.৩) পার্শ্বনাথ ছিলেন জৈন তীর্থংকর।
১.৪) আর্যসত্য বৌদ্ধ ধর্মের অংশ।
২। 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো:
| ক-স্তম্ভ | খ-স্তম্ভ |
|---|---|
| মগধের রাজধানী | রাজগৃহ |
| মহাকাশ্যপ | প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি |
| দ্বাদশ অঙ্গ | জৈন ধর্ম |
| হীনযান-মহাযান | বৌদ্ধ ধর্ম |
৩। নিজের ভাষায় ভেবে লেখো (তিন/চার লাইন):
৩.১) মগধ ও বৃজি (বজ্জি) মহাজনপদদুটির মধ্যে কী কী পার্থক্য তোমার চোখে পড়ে?
মগধ ও বজ্জি মহাজনপদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য ছিল তাদের শাসনব্যবস্থায়। মগধ ছিল একটি রাজতান্ত্রিক রাজ্য, যেখানে একজন শক্তিশালী রাজা বংশানুক্রমে শাসন করতেন। অন্যদিকে, বজ্জি ছিল একটি গণরাজ্য, যেখানে কোনো একজন রাজা ছিলেন না; কয়েকটি গোষ্ঠী মিলে আলোচনার মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করত।
৩.২) কী কী কারণে মগধ শেষ পর্যন্ত বাকি মহাজনপদগুলির থেকে শক্তিশালী হলো? সেই কারণগুলির মধ্যে কোনটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তোমার মনে হয়?
মগধের শক্তিশালী হওয়ার পিছনে উর্বর কৃষিজমি, বনজ সম্পদ (হাতি ও কাঠ), খনিজ সম্পদ (লোহা ও তামা) এবং নদীপথে বাণিজ্যের সুবিধা ছিল। আমার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে লোহা। লোহার প্রাচুর্যের কারণে তারা উন্নত অস্ত্র তৈরি করে সামরিক দিক থেকে অন্য মহাজনপদগুলির চেয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছিল।
৩.৩) সমাজের কোন কোন অংশের মানুষ নব্যধর্ম আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন? কেন করেছিলেন?
সমাজের মূলত কৃষক, ব্যবসায়ী এবং ক্ষত্রিয়রা নব্যধর্ম আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। কৃষকরা যাগযজ্ঞে পশুবলির বিরোধী ছিলেন কারণ তাতে তাদের চাষের ক্ষতি হত। ব্যবসায়ীরা সুদ নেওয়া বা সমুদ্রযাত্রাকে ব্রাহ্মণ্যধর্মে পাপ মনে করায় অসন্তুষ্ট ছিলেন। আর ক্ষত্রিয়রা সমাজে ব্রাহ্মণদের সমান ক্ষমতা ও মর্যাদা দাবি করার জন্য এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন।
৩.৪) জৈন ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্মে কী কী মিল ও অমিল তোমার চোখে পড়ে?
মিল: উভয় ধর্মই ব্রাহ্মণ্য ধর্মের যাগযজ্ঞ, পশুবলি ও জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা করেছিল। উভয় ধর্মের প্রচারকই ক্ষত্রিয় ছিলেন এবং তাঁরা সাধারণ মানুষের ভাষায় ধর্ম প্রচার করতেন।
অমিল: জৈনধর্ম কঠোর তপস্যা ও কৃচ্ছ্রসাধনের উপর জোর দিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে পালন করা কঠিন ছিল। অন্যদিকে, বৌদ্ধধর্ম 'মজঝিম পতিপদা' বা মধ্যপন্থার কথা বলে, যা ছিল অনেক বেশি সহজ ও বাস্তবসম্মত।