সপ্তম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - ভারততীর্থ
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "ভারততীর্থ" কবিতার সম্পূর্ণ সমাধান।
Advertisement
কবিতা: ভারততীর্থ
কবির নাম: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)
কবি সম্পর্কে আলোচনা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা। 'ভারততীর্থ' কবিতাটি তাঁর 'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবিতার সারমর্ম
'ভারততীর্থ' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতবর্ষকে এক মহামিলনের সাগর হিসেবে দেখেছেন। তিনি তাঁর চিত্তকে এই পবিত্র তীর্থে জাগ্রত হতে আহ্বান করেছেন। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন জাতি—আর্য, অনার্য, দ্রাবিড়, চিন, শক, হুন, পাঠান, মোগল—এসে এই ভারতে মিলিত হয়েছে। কবি বলেছেন, এই মিলনই ভারতের আসল পরিচয়। তিনি সমস্ত বিভেদ ভুলে, ঘৃণা ত্যাগ করে সকল ভারতবাসীকে—হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, ব্রাহ্মণ, পতিত—একসাথে মিলিত হয়ে ভারতমাতার অভিষেক সম্পন্ন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কবির চোখে, এই মহামিলনের মাধ্যমেই ভারত এক বিশাল প্রাণে জেগে উঠবে।
শব্দার্থ
ভূধর: পর্বত। ভেদি: ভেদ করে। শোণিত: রক্ত। হেরো: দেখো। বিরাজ: থাকা। ওংকার ধ্বনি: সকল মন্ত্রের আদি ধ্বনি। অভিষেক: সিংহাসনে বসবার প্রথম দিনের যে অনুষ্ঠান। কলরব: চিৎকার। আনত শিরে: মাথা নিচু করে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর
১. কবিতায় ভারতভূমিকে 'পুণ্যতীর্থ' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: তীর্থস্থানে মানুষ পুণ্য অর্জনের জন্য যায়। কবি ভারতবর্ষকে 'পুণ্যতীর্থ' বলেছেন কারণ এখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন জাতির মহামিলন ঘটেছে। এই মিলনক্ষেত্র এতটাই পবিত্র যে তা তীর্থের সমান, তাই কবি একে 'পুণ্যতীর্থ' বলেছেন।
২. 'মহামানবের সাগরতীরে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সাগর যেমন সমস্ত নদীকে নিজের বুকে ধারণ করে, তেমনই ভারতবর্ষ বিভিন্ন সময়ে আগত নানা জাতিকে নিজের মধ্যে স্থান দিয়েছে। আর্য, অনার্য, শক, হুন, পাঠান, মোগল সহ বিভিন্ন জাতি এখানে এসে এক দেহে লীন হয়েছে। তাই কবি ভারতকে 'মহামানবের সাগরতীর' বলেছেন।
৩. ভারতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে, কবিতা থেকে এমন একটি পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করো।
উত্তর: "ধ্যানগম্ভীর এই যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর,"—এই পঙ্ক্তিটিতে ভারতের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধরা পড়েছে।
৪. ভারতবর্ষকে পদানত করতে কোন কোন বিদেশি শক্তি অতীতে এদেশে এসেছিল? তাদের পরিণতি কী ঘটল?
উত্তর: ভারতবর্ষকে পদানত করতে শক, হুন, পাঠান, মোগল ইত্যাদি বিদেশি শক্তি অতীতে এদেশে এসেছিল। তারা সকলেই ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে এক দেহে লীন হয়ে গেছে, কেউ ফিরে যায়নি।
৫. 'পশ্চিমে আজি খুলিয়াছে দ্বার'— উদ্ধৃতাংশে কোন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে? এমন পরিস্থিতিতে কবির অন্বিষ্ট কী?
উত্তর: এই উদ্ধৃতাংশে ইংরেজদের আগমনের কথা বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কবি চান যে, ভারতীয়রা পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির ভালো দিকগুলো গ্রহণ করবে এবং নিজেদের সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ উপহারও তাদের দেবে। এই আদান-প্রদানের মাধ্যমেই এক মহামিলন সম্ভব হবে।
৬. 'আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে তার বিচিত্র সুর।'— কোন সুরের কথা বলা হয়েছে? তাকে 'বিচিত্র' বলার কারণ কী? কেনই বা সে সুর কবির রক্তে ধ্বনিত হয়?
উত্তর: ভারতে আগত বিভিন্ন জাতির (শক, হুন, পাঠান, মোগল) সংস্কৃতির সুরের কথা বলা হয়েছে। নানা জাতির সংস্কৃতির মিশ্রণের ফলে এই সুর 'বিচিত্র'। কবি নিজেকে সমগ্র ভারতের অংশ বলে মনে করেন, তাই এই মিশ্র সংস্কৃতির সুর তাঁর রক্তেও ধ্বনিত হয়।
৭. 'হে রুদ্রবীণা, বাজো, বাজো, বাজো...'—'রুদ্রবীণা' কী? কবি তার বেজে ওঠার প্রত্যাশী কেন?
উত্তর: 'রুদ্রবীণা' হলো ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক। কবি চান এই রুদ্রবীণার সুর বেজে উঠুক যাতে সমাজের সমস্ত ঘৃণা, ভেদাভেদ এবং সংকীর্ণতা দূর হয়ে যায় এবং এক নতুন মিলন ও ঐক্যের সৃষ্টি হয়।
৮. 'আছে সে ভাগ্যে লিখা'- ভাগ্যে কী লেখা আছে? সে লিখন পাঠ করে কবি তাঁর মনে কোন শপথ গ্রহণ করলেন?
উত্তর: ভারতের ভাগ্যে দুঃখের রক্তশিখা সহ্য করার কথা লেখা আছে। এই লিখন পাঠ করে কবি তাঁর মনকে এই দুঃখ বহন করার এবং সমস্ত লজ্জা, ভয়, অপমানকে জয় করে ঐক্যের ডাকে সাড়া দেওয়ার শপথ নিতে বলেছেন।
৯. 'পোহায় রজনী'-অন্ধকার রাত শেষে যে নতুন আশার আলোকোজ্জ্বল দিন আসবে তার চিত্রটি কীভাবে 'ভারততীর্থ' কবিতায় রূপায়িত হয়েছে?
উত্তর: 'ভারততীর্থ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, দুঃখ, অপমান ও বিভেদের অন্ধকার রাত শেষ হতে চলেছে। সমস্ত ভারতবাসী যখন একত্রিত হয়ে ভারতমাতার অভিষেক সম্পন্ন করবে, তখনই এক বিশাল প্রাণের জন্ম হবে এবং নতুন আশার আলোকোজ্জ্বল দিনের সূচনা হবে।
১০. 'মার অভিষেকে এসো এসো ত্বরা'— কবি কাদের ব্যাকুল আহ্বান জানিয়েছেন? কোন মায়ের কথা এখানে বলা হয়েছে? এ কোন অভিষেক? সে অভিষেক কীভাবে সম্পন্ন ও সার্থক হবে?
উত্তর: কবি আর্য, অনার্য, হিন্দু, মুসলমান, ইংরাজ, খ্রিস্টান, ব্রাহ্মণ, পতিত—সকল ভারতবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। এখানে ভারতমাতার কথা বলা হয়েছে। এটি ভারতমাতার অভিষেক। সকলের স্পর্শে পবিত্র করা তীর্থজল দিয়ে মঙ্গলঘট পূর্ণ করে ভারতমাতার অভিষেক সম্পন্ন ও সার্থক হবে।
১১. টীকা লেখো:
ওংকারধ্বনি: ওম বা ওঁকার হলো সকল মন্ত্রের আদি ধ্বনি। হিন্দু ধর্মানুসারে এটি সৃষ্টির প্রতীক। কবিতায় এটি ভারতের ঐক্য ও সাধনার মূল মন্ত্রকে বুঝিয়েছে।
শক: মধ্য এশিয়ার এক প্রাচীন যাযাবর জাতি যারা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে ভারতে প্রবেশ করে।
হুন: মধ্য এশিয়ার অপর এক দুর্ধর্ষ যাযাবর জাতি যারা পঞ্চম শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময় ভারত আক্রমণ করে।
মোগল: মধ্য এশিয়ার মঙ্গল জাতি থেকে উদ্ভূত, যারা বাবরের নেতৃত্বে ষোড়শ শতকে ভারতে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করে।
দ্রাবিড়: ভারতের এক আদিম জনগোষ্ঠী, যারা মূলত দক্ষিণ ভারতে বাস করে।
ইংরাজ: ইউরোপের ইংল্যান্ডের অধিবাসী, যারা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারতে এসে প্রায় ২০০ বছর শাসন করে।
১২. ভারতবর্ষের অতীত ইতিহাসের কথা কবিতায় কীভাবে বিধৃত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, ভারতের ইতিহাস হলো এক মহামিলনের ইতিহাস। আর্য, অনার্য থেকে শুরু করে শক, হুন, পাঠান, মোগল—বিভিন্ন বিদেশি শক্তি বিভিন্ন সময়ে ভারতে এসেছে। তারা যুদ্ধ করেছে, রাজ্য জয় করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ ফিরে যায়নি। সকলেই ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে এক বিরাট মানব সাগর তৈরি করেছে, যা ভারতের অতীত ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
১৩. কবির দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ ভারতের যে স্বপ্নিল ছবি ধরা পড়েছে, তার পরিচয় দাও।
উত্তর: কবির দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ ভারত হবে এক মহামিলনের তীর্থক্ষেত্র। এখানে কোনো জাতিভেদ, ধর্মভেদ বা অপমান থাকবে না। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, ব্রাহ্মণ, পতিত—সকলে একসাথে হাত ধরে ভারতমাতার পায়ে অঞ্জলি দেবে। এই ঐক্যের মাধ্যমেই ভারত এক নতুন ও বিশাল প্রাণ লাভ করবে।
১৪. বাক্যে প্রয়োগ করো:
উদার: তাঁর উদার মন সকলকে মুগ্ধ করে।
ধৃত: পুলিশ চোরটিকে ধৃত করেছে।
পবিত্র: গঙ্গার জল পবিত্র বলে মনে করা হয়।
লীন: মেঘেরা আকাশে লীন হয়ে গেল।
মন্ত্র: গুরুজি শিষ্যকে নতুন মন্ত্র দিলেন।
অনল: হোমের অনল জ্বলে উঠেছে।
বিপুল: তিনি বিপুল সম্পত্তির অধিকারী।
বিচিত্র: ভারতবর্ষ বিচিত্র সংস্কৃতির দেশ।
সাধনা: সাধনার মাধ্যমে সাফল্য লাভ করা যায়।
জয়গান: সকলে মিলে দেশের জয়গান গাইল।
১৫. প্রতিশব্দ লেখো:
সাগর: সমুদ্র, সিন্ধু। ধরিত্রী: পৃথিবী, বসুধা। ভূধর: পর্বত, পাহাড়। হিয়া: হৃদয়, মন। রজনী: রাত্রি, রাত। নীর: জল, বারি।
১৬. 'যজ্ঞশালা' র অনুরূপ 'শালা' পদযুক্ত আরো পাঁচটি শব্দ লেখো।
উত্তর: পাঠশালা, গোশালা, নাট্যশালা, ধর্মশালা, কর্মশালা।
১৭. নীচের পঙ্ক্তিগুলি গদ্য বাক্যে লেখো:
১৭.১ তারা দুর্বার স্রোতে কোথা থেকে এসে সমুদ্রে হারিয়ে গেল।
১৭.২ উদার ছন্দে ও পরমানন্দে তাঁকে বন্দনা করি।
১৭.৩ হৃদয়তন্ত্রে রণরণ শব্দে বেজে উঠেছিল।
১৭.৪ এখানে নিত্য পবিত্র ধরিত্রীকে দেখো।
১৭.৫ এখানে নতশিরে সকলকে মিলিত হতে হবে।
১৮. বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে ও বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে পরিবর্তিত করো:
চিত্ত (বিশেষ্য) -> চৈত্তিক (বিশেষণ)। পুণ্য (বিশেষণ) -> পুণ্য (বিশেষ্য)। পবিত্র (বিশেষণ) -> পবিত্রতা (বিশেষ্য)। এক (বিশেষণ) -> একতা (বিশেষ্য)। দ্বার (বিশেষ্য) -> দ্বারী (বিশেষণ)। বিচিত্র (বিশেষণ) -> বৈচিত্র্য (বিশেষ্য)। তপস্যা (বিশেষ্য) -> তপস্বী (বিশেষণ)। দুঃখ (বিশেষ্য) -> দুঃখিত (বিশেষণ)। জয় (বিশেষ্য) -> জয়ী (বিশেষণ)। জন্ম (বিশেষ্য) -> জাত (বিশেষণ)। শুচি (বিশেষণ) -> শুচিতা (বিশেষ্য)। লাজ (বিশেষ্য) -> লাজুক (বিশেষণ)।
১৯. সন্ধি বিচ্ছেদ করো:
পরমানন্দ: পরম + আনন্দ। দুর্বার: দুঃ + বার। ওংকার: ওম + কার। হোমানল: হোম + অনল। দুঃসহ: দুঃ + সহ।
২০. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো:
পুণ্য: পাপ। ধীর: চঞ্চল। ধৃত: মুক্ত। আহ্বান: বিসর্জন। দুর্বার: নির্বার। বিচিত্র: একরূপ। বহু: এক। অপমান: সম্মান। বিপুল: স্বল্প। ত্বরা: ধীরতা।
Advertisement
সপ্তম শ্রেণীর গণিত সমাধান
সপ্তম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
সপ্তম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
সপ্তম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
সপ্তম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
সপ্তম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test