অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - বনভোজনের ব্যাপার

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "বনভোজনের ব্যাপার" গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

গল্প: বনভোজনের ব্যাপার

লেখক: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়


লেখক সম্পর্কে আলোচনা

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৯১৮ – ১৯৭০): নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক ও সাহিত্যিক। তাঁর আসল নাম ছিল তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি মূলত ছোটগল্পকার এবং ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিত। শিশু ও কিশোরদের জন্য তাঁর অমর সৃষ্টি 'টেনিদা' চরিত্রটি পাঠকমহলে আজও সমান জনপ্রিয়। তাঁর লেখা للكبارদের জন্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে 'উপনিবেশ', 'সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী', 'লালমাটি' ইত্যাদি অন্যতম। তাঁর গল্পে হাস্যরস এবং জীবনবোধের এক সুন্দর মিশ্রণ দেখা যায়।

Narayan Gangopadhyay

গল্পের সারমর্ম

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা "বনভোজনের ব্যাপার" একটি অত্যন্ত হাস্যরসের গল্প। এখানে টেনিদা এবং তার তিন সঙ্গী প্যালা, হাবুল ও ক্যাবলার একটি বনভোজন বা পিকনিকের পরিকল্পনা এবং তার হাস্যকর পরিণতির কথা বলা হয়েছে।

গল্পের শুরুতে চার বন্ধু মিলে বনভোজনের জন্য খাবারের তালিকা তৈরি করতে বসে। প্রথমে পোলাও, কোর্মা, কাবাবের মতো দামি খাবারের কথা হলেও, তাদের মোট চাঁদা দশ টাকা ছয় আনা হওয়ায় সেই তালিকা ছোট করে খিচুড়ি, আলুভাজা, পোনা মাছের কালিয়া, আমের আচার ও মিষ্টিতে এসে দাঁড়ায়। প্যালাকে রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা আনতে গিয়ে সে হাঁসের কামড় খায় এবং শেষে সাধারণ ডিম কিনে আনে।

যাত্রা পথে ট্রেনে টেনিদা একাই প্রায় সব লেডিকেনি খেয়ে ফেলে। তারপর কাদামাখা রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে। হাবুল আছাড় খেয়ে ডিমের পুঁটলি নষ্ট করে, প্যালা আমের আচারের শিশি ভাঙে এবং সবশেষে টেনিদা নিজেই পড়ে গিয়ে রসগোল্লার হাঁড়ি কাদায় ফেলে দেয়।

অনেক কষ্টে তারা যখন পিকনিকের জায়গায় পৌঁছায়, তখন রান্নার দায়িত্ব নিয়ে শুরু হয় আর এক বিপত্তি। প্যালা কাঁচা তেলে মাছ ভাজতে গিয়ে মাছের কালিয়াকে হালুয়ায় পরিণত করে। এরপর টেনিদা নিজেই খিচুড়ি রাঁধতে বসে এবং বাকিদের কাঠ আনতে পাঠায়। কিন্তু সে নারকেল গাছে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে একদল বাঁদর এসে চাল, ডাল, আলু সব নিয়ে পালিয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত তাদের বনভোজন превращается ফলভোজনে। বাগানের গাছে থাকা জলপাই পেড়ে খেয়েই তাদের পিকনিক শেষ হয়। লেখকের অসাধারণ লেখনীতে সাধারণ একটি ঘটনা অত্যন্ত মজাদার ও হাস্যকর হয়ে উঠেছে।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)

১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

১.১ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের কোন বিখ্যাত চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত 'টেনিদা' চরিত্রের সৃষ্টিকর্তা।

১.২ তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম হলো 'উপনিবেশ' এবং 'শিলালিপি'।

শব্দার্থ: গেরো – দুর্ভাগ্য। খলিফা – ওস্তাদ। দ্রাক্ষাফল – আঙুর ফল। খাট্টা - টক।

২. নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও :

২.১ বনভোজনের উদ্যোগ কাদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল?
উত্তর: বনভোজনের উদ্যোগ টেনিদা, প্যালা, হাবুল সেন এবং ক্যাবলার মধ্যে দেখা গিয়েছিল।

২.২ বনভোজনের জায়গা কোথায় ঠিক হয়েছিল?
উত্তর: বনভোজনের জায়গা ক্যাবলার মামার বাড়ির বাগানবাড়িতে ঠিক হয়েছিল, যা বাগুইআটি ছাড়িয়ে আরও চারটি স্টেশন পরে অবস্থিত।

২.৩ বনভোজনের জায়গায় কীভাবে যাওয়া যাবে?
উত্তর: বনভোজনের জায়গায় মার্টিনের রেলগাড়িতে করে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। স্টেশন থেকে নেমে বাকি পথটা হেঁটে যেতে হবে।

২.৪ রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব কে নিয়েছিল?
উত্তর: রাজহাঁসের ডিম আনার দায়িত্ব প্যালা নিয়েছিল।

২.৫ বনভোজনের বেশিরভাগ সামগ্রী কারা সাবাড় করেছিল?
উত্তর: বনভোজনের বেশিরভাগ সামগ্রী টেনিদা (লেডিকেনি) এবং একদল বাঁদর (চাল, ডাল, আলু) সাবাড় করেছিল।

২.৬ কোন খাবারের কারণে বনভোজন ফলভোজনে পরিণত হলো?
উত্তর: বাগানের গাছের টক-মিষ্টি জলপাই খাওয়ার কারণে তাদের বনভোজন ফলভোজনে পরিণত হলো।

৩. নীচের শব্দগুলির সন্ধিবিচ্ছেদ করো : মোগলাই, রান্না, বৃষ্টি, পরীক্ষা, আবিষ্কার

  • মোগলাই = মোগল + আই
  • রান্না = রাঁধ্ + না
  • বৃষ্টি = বৃষ্ + তি
  • পরীক্ষা = পরি + ঈক্ষা
  • আবিষ্কার = আবিঃ + কার

৪. নীচের শব্দগুলির ধ্বনিতাত্ত্বিক বিচার করো: বিচ্ছিরি, প্ল্যান-ট্যান, লিস্টি, ভদ্দর, ইস্টুপিড

  • বিচ্ছিরি: 'বিশ্ৰী' শব্দ থেকে এসেছে। এখানে শ্রুতিধ্বনির আগমন ও সমীভবন ঘটেছে। (বিশ্ৰী > বিচ্ছিরি)
  • প্ল্যান-ট্যান: এটি একটি দ্বিরুক্ত শব্দ বা শব্দদ্বৈত। মূল শব্দ 'প্ল্যান'-এর সঙ্গে অনুকার শব্দ 'ট্যান' যুক্ত হয়েছে।
  • লিস্টি: ইংরেজি 'List' শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি পরিবর্তিত বিদেশি শব্দ, যেখানে শেষে 'ই' ধ্বনি যুক্ত হয়েছে।
  • ভদ্দর: 'ভদ্র' শব্দ থেকে এসেছে। এখানে 'র' লোপ পেয়েছে এবং স্বরভক্তি ঘটেছে। (ভদ্র > ভদ্দর)
  • ইস্টুপিড: ইংরেজি 'Stupid' শব্দ থেকে এসেছে। শব্দের আদিতে স্বরাগম (Prosthesis) হয়েছে, অর্থাৎ 'স' এর আগে 'ই' ধ্বনি এসেছে।

৫. নীচের বাক্যগুলি প্রত্যেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত। বৈশিষ্ট্যগুলি খুঁজে নিয়ে লেখো:

৫.১ আর সে গাট্টা, ঠাট্টার জিনিস নয়- জুতসই লাগলে স্রেফ গালপাট্টা উড়ে যাবে।
বৈশিষ্ট্য: এটি একটি হাস্যরসাত্মক ও ভয় দেখানোর বাক্য। এখানে কথ্য ভাষার প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

৫.২ দ্রাক্ষাফল অতিশয় খাট্টা।
বৈশিষ্ট্য: এটি একটি প্রবাদ বাক্য, যা ঈশপের গল্প থেকে নেওয়া। এখানে ক্যাবলা পরোক্ষভাবে টেনিদার ওপর কটাক্ষ করেছে।

৫.৩ আহা-হা চৈইত্যা যাইত্যাছ কেন?
বৈশিষ্ট্য: এটি ঢাকাই বা পূর্ববঙ্গের উপভাষা। হাবুল সেন এই ভাষায় কথা বলেছে।

৫.৪ এক চড়ে গালের বোম্বা উড়িয়ে দেবো।
বৈশিষ্ট্য: এটি টেনিদার বলা একটি হুমকি সূচক বাক্য, যা তার দাদাগিরি ও হাস্যকর চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে। 'বোম্বা' একটি কথ্য শব্দ।

৬. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো: বনভোজন, দলপতি, বেরসিক, দ্রাক্ষাফল, রেলগাড়ি

  • বনভোজন: বনে ভোজন – তৎপুরুষ সমাস (অধিকরণ)।
  • দলপতি: দলের পতি – সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।
  • বেরসিক: নেই রসিক যিনি – নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস।
  • দ্রাক্ষাফল: দ্রাক্ষা নামক ফল – মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
  • রেলগাড়ি: রেলে চালিত গাড়ি – মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

৭. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো:

৭.১ লাফিয়ে উঠে টেনিদা বাগানের দিকে ছুটল। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যেই টেনিদা লাফিয়ে উঠল, সেই বাগানের দিকে ছুটল।

৭.২ চোখের পলকে বানরগুলো গাছের মাথায়। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যেই চোখের পলক পড়ল, অমনি বানরগুলো গাছের মাথায় উঠল।

৭.৩ দুপুরবেলায় আসিস। বাবা-মেজদা অফিসে যাওয়ার পরে। (একটি সরল বাক্যে)
উত্তর: বাবা-মেজদা অফিসে যাওয়ার পরে দুপুরবেলায় আসিস।

৭.৪ ইচ্ছে হয় নিজে বের করে নাও। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যদি ইচ্ছে হয়, তবে নিজে বের করে নাও।

৭.৫ টেনিদা আর বলতে দিলে না। গাঁক গাঁক করে চেঁচিয়ে উঠল। (একটি সরল বাক্যে)
উত্তর: টেনিদা আর বলতে না দিয়ে গাঁক গাঁক করে চেঁচিয়ে উঠল।

বিজ্ঞাপন

১০. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ উত্তর দাও :

১০.১ বনভোজনের প্রথম তালিকায় কী কী খাদ্যের উল্লেখ ছিল? তা বাতিল হলো কেন?
উত্তর: বনভোজনের প্রথম তালিকায় বিরিয়ানি পোলাও, কোর্মা, কোপ্তা, কাবাব এবং মাছের চপ-এর মতো দামি মোগলাই খাবারের উল্লেখ ছিল। কিন্তু চারজনের মোট চাঁদা মাত্র দশ টাকা ছয় আনা হওয়ায় এবং এই খাবারগুলি রান্না করার জন্য বাবুর্চি, চাকর ও মোটর লরির প্রয়োজন হওয়ায় এই তালিকা বাতিল করা হয়েছিল।

১০.২ বনভোজনের দ্বিতীয় তালিকায় কী কী খাদ্যের উল্লেখ ছিল এবং কে কী কাজের দায়িত্ব নিয়েছিল?
উত্তর: বনভোজনের দ্বিতীয় তালিকায় ছিল - খিচুড়ি, আলুভাজা, পোনা মাছের কালিয়া, আমের আচার, রসগোল্লা ও লেডিকেনি। দায়িত্ব বন্টন:

  • প্যালা: রাজহাঁসের ডিম আনা এবং পোনা মাছের কালিয়া রান্না করা।
  • ক্যাবলা: আলু ভাজা।
  • হাবুল: দিদিমার ঘর থেকে আমের আচার আনা।
  • মিষ্টি (রসগোল্লা, লেডিকেনি) ধারে ম্যানেজ করার কথা ছিল।

১০.৩ প্যালার রাজহাঁসের ডিম আনার ঘটনাটির বর্ণনা দাও।
উত্তর: প্যালা রাজহাঁসের ডিম আনার জন্য প্রতিবেশী ভন্টার কাছে যায়। ভন্টা তাকে দুপুরবেলা এসে হাঁসের বাক্স থেকে নিজের হাতে ডিম বের করে নিতে বলে। প্যালা যখন ডিম বের করার জন্য বাক্সে হাত ঢোকায়, তখন একটি রাজহাঁস তার হাতে ভয়ানক কামড় দেয়। যন্ত্রণায় চিৎকার করে সে সেখান থেকে পালিয়ে আসে। শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের পয়সা দিয়ে মাদ্রাজি ডিম কিনে আনতে হয়।

১০.৪ ট্রেন থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে তাদের কী কী বিপদ ঘটেছিল?
উত্তর: ট্রেন থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে তাদের অনেক বিপদ ঘটেছিল। রাস্তাটা কাঁচা এবং আগের রাতের বৃষ্টিতে পিচ্ছিল ছিল। প্রথমে হাবুল আছাড় খেয়ে ডিমগুলো নষ্ট করে। তারপর প্যালা পড়ে গিয়ে আমের আচারের শিশি ভেঙে ফেলে। সবশেষে টেনিদা নিজেই আছাড় খেয়ে রসগোল্লার হাঁড়ি কাদায় ফেলে দেয়। ফলে তাদের খাবারের বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়।

১০.৫ 'মাছের কালিয়ার তিনটি বেজে গেল'- মাছের কালিয়া সম্পর্কে এ রকম বলার কারণ কী?
উত্তর: মাছের কালিয়া রান্নার দায়িত্ব ছিল প্যালার। সে রান্নার নিয়ম না জানায়, কড়াইয়ের তেল গরম হওয়ার আগেই কাঁচা তেলে মাছ ছেড়ে দেয়। এর ফলে কড়াইতে ফেনা হয়ে সব মাছ একসঙ্গে তালগোল পাকিয়ে যায় এবং মাছের কালিয়া না হয়ে সেটা মাছের হালুয়ার মতো দেখতে হয়। একারণেই ক্যাবলা মজা করে বলেছিল 'মাছের কালিয়ার তিনটি বেজে গেল', অর্থাৎ মাছের কালিয়া রান্নাটা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেল।

১১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

১১.১ এই গল্পটির নাম 'বনভোজন' না হয়ে 'বনভোজনের ব্যাপার' হলো কেন?
উত্তর: এই গল্পে টেনিদা ও তার সঙ্গীরা বনভোজন বা পিকনিক করার পরিকল্পনা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সেই ভোজন সফল হয় না। বরং, বনভোজনকে কেন্দ্র করে একের পর এক হাস্যকর ও মজার ঘটনা ঘটতে থাকে। খাবারের তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে ডিম আনতে গিয়ে হাঁসের কামড় খাওয়া, রাস্তায় আছাড় খেয়ে খাবার নষ্ট হওয়া, ভুলভাল রান্না করা এবং শেষে বাঁদরের আক্রমণে সব খাবার হারানো – এই সমস্ত ঘটনাই মূল 'ভোজন'-এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লেখক এখানে ভোজনের চেয়ে ভোজনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া মজার 'ব্যাপার' বা ঘটনাগুলোকেই প্রধান করে তুলেছেন। তাই গল্পটির নাম 'বনভোজন' না হয়ে 'বনভোজনের ব্যাপার' হওয়াটা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।

১১.২ এই গল্পে ক'টি চরিত্রের সঙ্গে তোমার দেখা হলো? প্রত্যেকটি চরিত্র নিয়ে আলোচনা করো।
উত্তর: এই গল্পে আমরা মোট চারটি প্রধান চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হই। চরিত্রগুলি হলো:

  • টেনিদা: সে এই দলের নেতা বা দলপতি। সে খেতে খুব ভালোবাসে, একটু ভীতু প্রকৃতির হলেও দলের ওপর নিজের দাদাগিরি বজায় রাখে। তার চরিত্রটি হাস্যরসের প্রধান উৎস। সে একাই সব লেডিকেনি খেয়ে ফেলে এবং শেষে তার ঘুমের জন্যই বাঁদররা সব খাবার নিয়ে যায়।
  • প্যালা: সে এই গল্পের কথক। সে কিছুটা ভীতু এবং টেনিদার গাঁট্টা খাওয়ার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকে। রাজহাঁসের ডিম আনতে গিয়ে তার সাহসের অভাব এবং বোকামির পরিচয় পাওয়া যায়।
  • হাবুল সেন: সে ঢাকার ছেলে এবং তার কথায় পূর্ববঙ্গের টান রয়েছে। সে মাঝে মাঝে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তার আছাড় খাওয়ার ফলেই ডিমগুলো নষ্ট হয়।
  • ক্যাবলা: সে দলের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান এবং বাস্তববাদী। সে-ই প্রথম খরচের কথা ভেবে খাবারের তালিকা ছোট করার প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন ঘটনায় সে মজা করে মন্তব্য করে, যা গল্পে হাস্যরস তৈরি করে।

১১.৩ এ গল্পটিতে হাস্যরস সৃষ্টির জন্য ভাষার দিক থেকে লেখক নানারকম কৌশল অবলম্বন করেছেন। কী কী কৌশল তুমি খেয়াল করেছ লেখো।
উত্তর: গল্পটিতে হাস্যরস তৈরির জন্য লেখক বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছেন:

  1. কথ্য ভাষার ব্যবহার: লেখক 'গাঁট্টা', 'গালপাট্টা', 'বোম্বা উড়িয়ে দেবো' - এই ধরনের মজাদার কথ্য শব্দ ব্যবহার করে হাস্যরস সৃষ্টি করেছেন।
  2. উপভাষার প্রয়োগ: হাবুল সেনের মুখে ঢাকাই উপভাষার ব্যবহার (যেমন: "চৈইত্যা যাইত্যাছ কেন?") গল্পে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং পাঠকদের হাসিয়েছে।
  3. অতিরঞ্জন: সামান্য ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হয়েছে, যেমন রাজহাঁসের কামড়কে 'রাজকীয় কামড়' বলা।
  4. বিপরীত পরিস্থিতি: বনভোজনের সব আয়োজন করেও শেষে কিছুই খেতে না পারা এবং বাঁদরের পিঠ চুলকানিকে ক্যাবলার কাজ বলে ভুল করা—এই ধরনের বিপরীতধর্মী ও অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলি চরম হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
  5. মজার তুলনা: নষ্ট হয়ে যাওয়া রসগোল্লাকে 'নেবুর আচার' এবং মাছের কালিয়াকে 'মাছের হালুয়া'-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা খুবই মজাদার।

১১.৪ শীতকালে পিকনিক নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো/ গল্প লেখো।
উত্তর:

[তোমার ঠিকানা]
[তারিখ]

প্রিয় [বন্ধুর নাম],

আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে আমাদের এবারের শীতের পিকনিকের দারুণ অভিজ্ঞতার কথা বলার জন্য এই চিঠিটা লিখছি।

গত রবিবার আমরা সবাই মিলে ব্যারাকপুরের কাছে মঙ্গল পান্ডে উদ্যানে পিকনিকে গিয়েছিলাম। জায়গাটা কী সুন্দর! চারিদিকে সবুজ গাছপালা আর গঙ্গার ধার, সব মিলিয়ে মনটা একেবারে ভালো হয়ে গেল। আমরা সকাল সকাল পৌঁছেই প্রথমে একটু ক্রিকেট খেলে নিলাম। তারপর আমাদের রান্নার আয়োজন শুরু হলো। মেন্যুতে ছিল গরম গরম খিচুড়ি, বেগুন ভাজা, আলুর দম আর সবশেষে চাটনি। মা-কাকিমারা রান্না করছিলেন আর তার যা অপূর্ব গন্ধ আসছিল, তাতে খিদেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল।

দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর আমরা সবাই মিলে 'অন্তাক্ষরী' খেললাম। সে এক দারুণ মজা হয়েছিল! বিকেলে গঙ্গায় সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে গরম গরম চা খাওয়ার অনুভূতিটা ভোলার নয়। সারাদিন খুব আনন্দ করে शामবেলা আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।

এই পিকনিকটা আমার সারাজীবন মনে থাকবে। তুই থাকলে আরও মজা হতো। পরেরবার কিন্তু তোকে আসতেই হবে।

তোর বাবা-মাকে আমার প্রণাম জানাস। ভালো থাকিস।

ইতি,
তোর বন্ধু,
[তোমার নাম]

১১.৫ টেনিদা-র মতো আরো কয়েকটি 'দাদা'চরিত্র বাংলা সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়। এরকম তিনটি চরিত্র নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে টেনিদা-র মতো আরও কয়েকটি জনপ্রিয় 'দাদা' চরিত্র রয়েছে। নিচে এমন তিনটি চরিত্র নিয়ে আলোচনা করা হলো:

  • ঘনাদা: প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্টি এই চরিত্রটি মেসের আড্ডায় বসে নিজের বিশ্ব ভ্রমণের অবিশ্বাস্য গল্প শোনাতেন। তাঁর গল্পগুলো কাল্পনিক হলেও, তার মধ্যে বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোলের নানা তথ্য থাকত। ঘনাদা ছিলেন আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু এবং সকলের 'দাদা'।
  • ফেলুদা: সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলুদা একজন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর। সে তার ভাই তোপসে এবং লেখক জটায়ুর সঙ্গে বিভিন্ন রহস্যের সমাধান করে। ফেলুদা সাহস, সততা এবং জ্ঞানের প্রতীক। সে শুধু একজন গোয়েন্দা নয়, তোপসের কাছে একজন আদর্শ 'দাদা'।
  • ঋজুদা: বুদ্ধদেব গুহর সৃষ্ট এই চরিত্রটি একজন প্রকৃতিপ্রেমী এবং শিকারি। সে তার সঙ্গী রুদ্রকে নিয়ে জঙ্গলে দুঃসাহসিক অভিযানে যায়। ঋজুদা-র চরিত্রের মাধ্যমে আমরা অরণ্যের প্রকৃতি ও পশুপাখিদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি। সে একজন অভিজ্ঞ এবং সাহসী 'দাদা' চরিত্র।

বিজ্ঞাপন