অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - চন্দ্রগুপ্ত

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "চন্দ্রগুপ্ত" নাটকের সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
বিজ্ঞাপন

নাটক: চন্দ্রগুপ্ত

নাট্যকার: দ্বিজেন্দ্রলাল রায়


নাট্যকার সম্পর্কে আলোচনা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩ – ১৯১৩): ডি. এল. রায় নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন ప్రముఖ বাঙালি কবি, নাট্যকার এবং সংগীতস্রষ্টা। তাঁর লেখা নাটকগুলি মূলত ঐতিহাসিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে রচিত। 'চন্দ্রগুপ্ত' তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক নাটক। এছাড়াও 'সাজাহান', 'নূরজাহান', 'মেবার পতন' তাঁর বিখ্যাত নাটক। দেশাত্মবোধক এবং হাসির গান রচনার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর বিখ্যাত গানগুলির মধ্যে "ধনধান্য পুষ্পভরা" অন্যতম।

Dwijendralal Ray

নাটকের সারসংক্ষেপ

"চন্দ্রগুপ্ত" নাটকটি নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক। পাঠ্যাংশটি নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে।

স্থান: সিন্ধু নদের তীরে গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের শিবির।

সময়: সন্ধ্যাবেলা।

গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার ও তাঁর সেনাপতি সেলুকস ভারতের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় গ্রিক বীর অ্যান্টিগোনস এক যুবককে বন্দি করে নিয়ে আসেন। যুবকটি শিবিরের পাশে একা একা তরবারি চালানো অভ্যাস করছিলেন। অ্যান্টিগোনস তাঁকে গুপ্তচর ভেবে বন্দি করেন।

সেকেন্দারের প্রশ্নের উত্তরে যুবকটি নির্ভীকভাবে জানান যে তাঁর নাম চন্দ্রগুপ্ত, তিনি মগধের রাজপুত্র এবং তাঁর বাবা মহাপদ্ম নন্দ তাঁকে নির্বাসিত করেছেন। তিনি প্রতিশোধ নিতে এবং নিজের রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে চান। তাঁর বীরত্ব, স্পষ্ট কথা এবং আত্মবিশ্বাসে সেকেন্দার মুগ্ধ হন। চন্দ্রগুপ্তের দেশপ্রেম এবং সাহস দেখে সেকেন্দার তাঁকে বন্দি না করে মুক্ত করে দেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে চন্দ্রগুপ্ত একদিন দিগ্বিজয়ী হবেন। নাটকের এই অংশে চন্দ্রগুপ্তের তেজস্বী চরিত্র এবং সেকেন্দারের মহানুভবতা ফুটে উঠেছে।

অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর (হাতে কলমে)

শব্দার্থ: শিবির – সেনানিবাস/ছাউনি। প্রাবৃটে – বর্ষাকালে। জলদমন্দ্র – মেঘের গম্ভীর আওয়াজ। মত্ত মাতঙ্গ – উন্মত্ত হাতি। মহাশঙ্খ – বড়ো আকারের শাঁখ। শরট – বাণ/তীর। বৈমাত্র – বিমাতার সন্তান।

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :

১.১ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কৃষিশিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন — (বিলেতে / ফ্রান্সে / জার্মানিতে)।
উত্তর: বিলেতে

১.২ তাঁর রচিত দুটি নাটকের নাম লেখো।
উত্তর: 'সাজাহান' ও 'নূরজাহান' (এছাড়াও 'মেবার পতন', 'প্রতাপসিংহ' ইত্যাদি)।

২. নীচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লেখো:

২.১ নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল ও সময় নির্দেশ করো।
উত্তর: নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল হলো সিন্ধু নদের তীরে গ্রিক শিবির এবং সময় হলো সন্ধ্যা।

২.২ নাট্যাংশে উল্লিখিত 'হেলেন' চরিত্রের পরিচয় দাও।
উত্তর: হেলেন ছিলেন গ্রিক সেনাপতি সেলুকসের কন্যা।

২.৩ 'রাজার প্রতি রাজার আচরণ।' — উদ্ধৃতাংশের বক্তা কে?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার।

২.৪ 'জগতে একটা কীর্তি রেখে যেতে চাই' — বক্তা কীভাবে এই কীর্তি রেখে যেতে চান?
উত্তর: বক্তা সেলুকস দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ করে নতুন গ্রিক সৈন্যদল তৈরি করে জগতে কীর্তি রেখে যেতে চান।

২.৫ 'সম্রাট, আমায় বধ না করে বন্দি করতে পারবেন না।' — বক্তাকে 'বন্দি' করার প্রসঙ্গ এসেছে কেন?
উত্তর: বক্তা চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরে গুপ্তচরের মতো প্রবেশ করেছিলেন, তাই তাঁকে বন্দি করার প্রসঙ্গ এসেছে।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

৩.১ 'কী বিচিত্র এই দেশ!' — বক্তার চোখে এই দেশের বৈচিত্র্য কীভাবে ধরা পড়েছে?
উত্তর: বক্তা সেকেন্দারের চোখে भारतवर्षের প্রকৃতি একদিকে যেমন শান্ত, সুন্দর ও মনোহর, তেমনই অন্যদিকে রুদ্র ও ভয়ঙ্কর। এখানকার আকাশে একদিকে যেমন স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না থাকে, তেমনই ঘন মেঘের গর্জনও শোনা যায়। এই বৈপরীত্য দেখেই তিনি দেশকে 'বিচিত্র' বলেছেন।

৩.২ 'ভাবলাম — এ একটা জাতি বটে!' — বক্তা কে? তাঁর এমন ভাবনার কারণ কী?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন গ্রিক সেনাপতি সেলুকস। তিনি পুরুকে বন্দি করার পর তাঁর সাহসিকতা ও নির্ভীক আচরণ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। একজন পরাজিত রাজার এমন বীরত্বপূর্ণ মনোভাব দেখেই সেলুকসের মনে হয়েছিল যে, ভারতীয়রা সত্যিই এক মহান জাতি।

৩.৩ 'এ দিগ্বিজয় অসমপূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট?' — এ প্রশ্নের উত্তরে সম্রাট কী জানালেন?
উত্তর: এই প্রশ্নের উত্তরে সম্রাট সেকেন্দার জানান যে, দিগ্বিজয় সম্পূর্ণ করতে হলে তাঁকে আরও নতুন গ্রিক সৈন্যদল তৈরি করতে হবে। কারণ ম্যাসিডন থেকে তাঁর যে বিশাল সেনাবাহিনী এসেছিল, তার অধিকাংশই সিন্ধুনদের তীরে যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে।

৩.৪ 'ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই।' — বক্তা কে? কোন সত্য সে উচ্চারণ করেছে?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশের বক্তা হলেন চন্দ্রগুপ্ত। তিনি সেলুকসের প্রশ্নের উত্তরে নির্ভীকভাবে সত্যি কথাটি বলেছিলেন। তিনি জানান যে তিনি একজন মগধের রাজপুত্র, তাঁর বাবা তাঁকে নির্বাসিত করেছেন এবং তিনি প্রতিশোধ নিতে চান। এই সত্য কথাগুলো বলার সময়ই তিনি ওই উক্তিটি করেন।

৩.৫ 'আমার ইচ্ছা হলো যে দেখে আসি...' — বক্তার মনে কোন ইচ্ছে জেগে উঠেছিল? তার পরিণতিই বা কী হয়েছিল?
উত্তর: বক্তা অ্যান্টিগোনসের মনে গ্রিক শিবিরের পাশে নির্জন জায়গায় কে তরবারি অভ্যাস করছে, তা দেখার ইচ্ছা জেগেছিল। এর পরিণতিতে তিনি চন্দ্রগুপ্তকে গুপ্তচর সন্দেহে বন্দি করে সম্রাট সেকেন্দারের সামনে নিয়ে এসেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

৪. নীচের উদ্ধৃত অংশগুলির প্রসঙ্গ ও তাৎপর্য আলোচনা করো :

৪.১ 'এ শৌর্য পরাজিত করে আনন্দ আছে।'
প্রসঙ্গ: গ্রিক সেনাপতি সেলুকস সম্রাট পুরুকে পরাজিত করার বীরত্বের কথা বললে, সম্রাট সেকেন্দার এই মন্তব্যটি করেন।
তাৎপর্য: সেকেন্দার বলতে চেয়েছেন যে, পুরুর মতো বীর এবং শক্তিশালী যোদ্ধাকে পরাজিত করার মধ্যে এক বিশেষ আনন্দ ও গৌরব আছে। কাপুরুষকে পরাজিত করে কোনো আনন্দ পাওয়া যায় না, কিন্তু বীরের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সত্যিই সম্মানের। এর মাধ্যমে সেকেন্দারের বীরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

৪.২ 'সম্রাট মহানুভব।'
প্রসঙ্গ: সম্রাট সেকেন্দার যখন সেলুকসকে জানান যে তিনি দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে যাবেন, কারণ তাঁর সেনাবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তখন সেলুকস এই কথাটি বলেন।
তাৎপর্য: সেলুকস বুঝতে পেরেছিলেন যে, সেকেন্দার শুধু একজন বীর নন, তিনি একজন মহানুভব সম্রাটও। তিনি নিজের সৈন্যদের জীবনকে মূল্য দেন এবং অকারণ রক্তপাত চান না। এই উপলব্ধি থেকেই সেলুকস সম্রাটকে 'মহানুভব' বলেছেন।

৪.৩ 'বাধা পেলাম প্রথম — সেই শতদ্রুতীরে।'
প্রসঙ্গ: সম্রাট সেকেন্দার তাঁর বিশ্বজয়ের পথে কোথায় প্রথম বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা বলতে গিয়ে এই উক্তিটি করেছেন।
তাৎপর্য: সেকেন্দার প্রায় সমগ্র বিশ্ব জয় করে ফেলেছিলেন, কিন্তু ভারতে এসে শতদ্রু নদীর তীরে তিনি প্রথম প্রবল বাধার সম্মুখীন হন। এখানকার বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ তাঁর বিশ্বজয়ের স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছিল। এই উক্তির মাধ্যমে ভারতের বীরত্বের প্রতি তাঁর সম্মান প্রকাশ পেয়েছে।

৪.৪ 'আমি তারই প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছি।'
প্রসঙ্গ: চন্দ্রগুপ্তকে যখন সেকেন্দার তাঁর পরিচয় এবং উদ্দেশ্য জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি এই কথাটি বলেন।
তাৎপর্য: চন্দ্রগুপ্ত জানান যে, তাঁর বাবা মগধরাজ মহাপদ্ম নন্দ অন্যায়ভাবে তাঁকে সিংহাসন থেকে বঞ্চিত করে নির্বাসিত করেছেন। এই উক্তির মাধ্যমে চন্দ্রগুপ্তের দৃঢ় সংকল্প, সাহস এবং আত্মসম্মানবোধ ফুটে উঠেছে। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর।

৪.৫ 'যাও বীর! মুক্ত তুমি।'
প্রসঙ্গ: চন্দ্রগুপ্তের নির্ভীক উত্তর এবং তেজস্বী মনোভাব দেখে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট সেকেন্দার তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সময় এই কথাটি বলেন।
তাৎপর্য: সেকেন্দার চন্দ্রগুপ্তের মধ্যে একজন ভবিষ্যৎ বিজয়ীর ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি বীরত্বের কদর করতে জানতেন। তাই একজন বন্দির পরিবর্তে একজন বীরকে সম্মান জানিয়ে তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন। এটি সেকেন্দারের মহানুভবতা ও দূরদৃষ্টির পরিচয় দেয়।

৫. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো :

৫.১ নাট্যাংশটি অবলম্বনে ঐতিহাসিক নাটকের পরিসরে সৃজিত নাট্যকারের সংলাপের পরিচয় দাও।
উত্তর: 'চন্দ্রগুপ্ত' নাট্যাংশে নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং চরিত্র অনুযায়ী সংলাপ রচনা করেছেন। সেকেন্দারের সংলাপে যেমন সম্রাটের গাম্ভীর্য, মহানুভবতা ও দূরদৃষ্টি ফুটে উঠেছে ("যাও বীর! মুক্ত তুমি।"), তেমনই চন্দ্রগুপ্তের সংলাপে প্রকাশ পেয়েছে তারুণ্যের তেজ, নির্ভীকতা এবং দেশপ্রেম ("ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই।")। সেলুকসের সংলাপে সম্রাটের প্রতি আনুগত্য এবং অ্যান্টিগোনসের সংলাপে সৈনিকসুলভ কর্তব্যনিষ্ঠা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিটি সংলাপই নাটকের গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তুলতে সাহায্য করেছে।

৫.২ নাট্যাংশে 'সেকেন্দার' ও 'সেলুকস'-এর পরিচয় দাও। সেকেন্দারের সংলাপে ভারত-প্রকৃতির বৈচিত্র্যপূর্ণ রূপ কীভাবে ধরা দিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: নাট্যাংশে সেকেন্দার হলেন গ্রিক সম্রাট এবং সেলুকস তাঁর প্রধান সেনাপতি।
সেকেন্দারের সংলাপে ভারত-প্রকৃতির দ্বৈত রূপ ফুটে উঠেছে। একদিকে তিনি সিন্ধু নদের শান্ত, স্নিগ্ধ, জ্যোৎস্না-ধোয়া রূপের প্রশংসা করেছেন, যা তাঁর মনকে মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে, বর্ষাকালের মেঘের গুরুগম্ভীর ডাক, ঝড়ের তাণ্ডব এবং উত্তাল সমুদ্রের মতো নদীর ভয়ঙ্কর রূপের কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর চোখে, ভারতের প্রকৃতি একই সঙ্গে শান্ত-মধুর এবং রুদ্র-ভীষণ। এই বৈপরীত্যই ভারতকে 'বিচিত্র' করে তুলেছে।

৫.৩ 'চমৎকৃত হলাম।' — কার কথায় বক্তা চমৎকৃত হয়েছিলেন? তাঁর চমৎকৃত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের কথায় সেনাপতি সেলুকস চমৎকৃত হয়েছিলেন।
সেলুকস যখন সম্রাট পুরুকে পরাজিত করার বীরত্বের কথা বলছিলেন, তখন সেকেন্দার বলেন যে, "রাজার প্রতি রাজার আচরণ" করা উচিত। একজন পরাজিত রাজার প্রতি সেকেন্দারের এমন সম্মানজনক এবং মহানুভব মনোভাব দেখেই সেলুকস চমৎকৃত হয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন, সেকেন্দার শুধু বিজয়ী নন, একজন মহান সম্রাটও বটে।

৫.৪ 'সম্রাট মহানুভব।' — বক্তা কে? সম্রাটের 'মহানুভবতা'-র কীরূপ পরিচয় নাট্যাংশে পাওয়া যায়?
উত্তর: এই উক্তির বক্তা হলেন সেনাপতি সেলুকস।
নাট্যাংশে সম্রাটের মহানুভবতার একাধিক পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমত, তিনি পরাজিত শত্রু পুরুর প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, নিজের বিশাল সেনাবাহিনী ধ্বংস হওয়ার পর তিনি দিগ্বিজয়ের লোভ ত্যাগ করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর সৈন্যদের প্রতি মমত্ববোধের পরিচয় দেয়। সবশেষে, বন্দি চন্দ্রগুপ্তের সাহস ও বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাঁকে শুধু মুক্তিই দেননি, বরং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। এই ঘটনাগুলিই সম্রাটের মহানুভবতার প্রমাণ দেয়।

৫.৫ ইতিহাসে নানান অদলবদল কীভাবে নাট্যকেলিবস্তুতে বিধৃত রয়েছে তা ঘটনাধারা বিশ্লেষণ করে আলোচনা করো।
উত্তর: নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ঐতিহাসিক চরিত্র এবং ঘটনাকে ভিত্তি করে নাটক রচনা করলেও, তাতে নিজের মতো করে নাটকীয়তা যোগ করেছেন। ইতিহাসে সেকেন্দার ও চন্দ্রগুপ্তের সাক্ষাতের কথা থাকলেও, নাটকের মতো এত বিস্তারিত এবং আকর্ষণীয় সংলাপ বা ঘটনা হয়তো ঘটেনি। নাট্যকার সেলুকসের কন্যা হেলেনের উপস্থিতি, অ্যান্টিগোনসের সঙ্গে চন্দ্রগুপ্তের দ্বন্দ্ব এবং সেকেন্দারের ভবিষ্যদ্বাণী—এইসব ঘটনাকে নাট্যকার নিজের কল্পনার রঙে রাঙিয়ে তুলেছেন, যাতে নাটকটি দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এভাবেই ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে নাট্যরস মিশিয়ে তিনি একটি সার্থক নাটক তৈরি করেছেন।

৫.৬ 'গুপ্তচর।' — কাকে 'গুপ্তচর' আখ্যা দেওয়া হয়েছে? সে কি প্রকৃতই গুপ্তচর?
উত্তর: মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্তকে 'গুপ্তচর' আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
না, চন্দ্রগুপ্ত প্রকৃত অর্থে গুপ্তচর ছিলেন না। গুপ্তচররা গোপনে শত্রুপক্ষের খবর সংগ্রহ করে। কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত গ্রিক শিবিরের পাশে একাকী তরবারি অভ্যাস করছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নিজের রণকৌশল ঝালিয়ে নেওয়া, গ্রিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা নয়। অ্যান্টিগোনস তাঁকে ভুল বুঝে গুপ্তচর ভেবেছিলেন।

৫.৭ 'সেকেন্দার একবার সেলুকসের প্রতি চাহিলেন...' — তাঁর এই ক্ষণেক দৃষ্টিপাতের কারণ কী?
উত্তর: চন্দ্রগুপ্ত যখন নির্ভীকভাবে বলেন যে, "ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই", তখন তাঁর সততা, সাহস এবং আত্মবিশ্বাস দেখে সেকেন্দার মুগ্ধ হন। তিনি সেলুকসের দিকে চেয়ে যেন এটাই বোঝাতে চাইলেন যে, এই যুবক সাধারণ কেউ নন। সেলুকস যে পুরুর বীরত্ব দেখে ভারতীয়দের সম্পর্কে উঁচু ধারণা করেছিলেন, চন্দ্রগুপ্তের আচরণে সেই ধারণারই প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়ে সেকেন্দার অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে সেলুকসের দিকে তাকিয়েছিলেন।

৫.৮ চন্দ্রগুপ্ত সেলুকসের কীরূপ বীরত্বের পরিচয় নাট্যাংশে মেলে?
উত্তর: নাট্যাংশে চন্দ্রগুপ্তের অসামান্য বীরত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথমত, তিনি একাই গ্রিক শিবিরের কাছে তরবারি চালনার মতো দুঃসাহসিক কাজ করছিলেন। দ্বিতীয়ত, অ্যান্টিগোনসের মতো গ্রিক বীর যখন তাঁকে আক্রমণ করেন, তিনি সাহসের সঙ্গে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন। সবশেষে, সম্রাট সেকেন্দারের সামনে দাঁড়িয়েও তিনি বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে নির্ভীকভাবে নিজের পরিচয় ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন। এই ঘটনাগুলিই তাঁর বীরত্বের প্রমাণ দেয়।

৫.৯ 'তা এই পত্রে লিখে নিয়েছিলাম।' — কার উক্তি? সে কী লিখে নিয়েছিল? তার এই লিখে নেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: এই উক্তিটি চন্দ্রগুপ্তের।
সে গ্রিক সৈন্য চালনার কৌশল, তাদের যুদ্ধ-প্রণালী এবং সামরিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে যা কিছু শিখেছিল, তা একটি পত্রে লিখে নিয়েছিল।
তার উদ্দেশ্য ছিল, এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সে তার নিজের রাজ্য মগধ পুনরুদ্ধার করবে এবং ভারতকে বিদেশি শক্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।

৫.১০ অ্যান্টিগোনস নাটকের এই দৃশ্যে সেলুকসকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলেছে। তোমার কি সেলুকসকে সত্যিই 'বিশ্বাসঘাতক' বলে মনে হয়? যুক্তিসহ আলোচনা করো।
উত্তর: না, আমার সেলুকসকে সত্যিই 'বিশ্বাসঘাতক' বলে মনে হয় না।
অ্যান্টিগোনস যখন চন্দ্রগুপ্তকে আক্রমণ করে, তখন সেলুকস নিজের তরবারি দিয়ে সেই আক্রমণ আটকান। অ্যান্টিগোনস এটাকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেছিলেন কারণ সেলুকস একজন গ্রিকের বিরুদ্ধে অপরকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু সেলুকস আসলে সম্রাটের আদেশ পালন করছিলেন। সম্রাট চন্দ্রগুপ্তকে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন, তাই তাঁকে রক্ষা করা সেলুকসের কর্তব্য ছিল। তিনি সম্রাটের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেননি।

৫.১১ 'নিরস্ত্র হও।' — কে এই নির্দেশ দিয়েছেন? কোন পরিস্থিতিতে তিনি এমন নির্দেশ দানে বাধ্য হলেন?
উত্তর: এই নির্দেশটি সম্রাট সেকেন্দার দিয়েছিলেন।
অ্যান্টিগোনস যখন সেলুকসকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলে তাঁর দিকে তরবারি নিয়ে এগিয়ে যান, তখন সম্রাট সেকেন্দার এই নির্দেশ দেন। দুই গ্রিক সেনাপতির মধ্যে আত্মঘাতী লড়াই থামানোর জন্যই তিনি কঠোরভাবে এই নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

৫.১২ 'অ্যান্টিগোনস লজ্জায় শির অবনত করিলেন।' — তাঁর এমন লজ্জিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: অ্যান্টিগোনসের লজ্জিত হওয়ার কারণ হলো, তিনি সম্রাটের আদেশ অমান্য করে সেলুকসকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন এবং সেলুকসের ওপর 'বিশ্বাসঘাতক' হওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন। সম্রাট যখন তাঁকে নিরস্ত্র হতে বলেন এবং আসল ঘটনা ব্যাখ্যা করেন, তখন অ্যান্টিগোনস নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং লজ্জায় মাথা নত করেন।

৫.১৩ নাট্যাংশ অবলম্বনে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের পরিচয় দাও।
উত্তর: নাট্যাংশে গ্রিক সম্রাট সেকেন্দারের চরিত্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি কেবল একজন বিশ্বজয়ী বীরই নন, তিনি একজন মহানুভব ও দূরদর্শী শাসক। তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে জানেন, পরাজিত শত্রুর বীরত্বকে সম্মান করেন (পুরুর প্রতি সম্মান) এবং নিজের সৈন্যদের জীবনকে মূল্য দেন। চন্দ্রগুপ্তের মতো একজন প্রায়-অপরিচিত যুবকের সাহস ও সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে মুক্তি দেওয়া এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা তাঁর মহান হৃদয়ের পরিচয় দেয়। তিনি বীরত্বের কদর করতে জানতেন এবং সঠিক বিচারক ছিলেন।

৫.১৪ চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেকেন্দারের কীরূপ মনোভাবের পরিচয় নাট্যাংশে ফুটে উঠেছে, তা উভয়ের সংলাপের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: চন্দ্রগুপ্তের প্রতি সেকেন্দারের মনোভাব প্রথমে ছিল একজন বন্দির প্রতি সম্রাটের স্বাভাবিক কৌতূহল। কিন্তু চন্দ্রগুপ্তের নির্ভীক ও স্পষ্ট উত্তরে ("আমি পুরুকে বন্দি করতে আসিনি। আমি দিগ্বিজয়ে এসেছি।") তিনি মুগ্ধ হন। চন্দ্রগুপ্তের দেশপ্রেম, আত্মসম্মান এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখে সেকেন্দারের মনোভাব বদলে যায়। তিনি চন্দ্রগুপ্তকে আর সাধারণ বন্দি হিসেবে দেখেন না, বরং তাঁর মধ্যে একজন ভবিষ্যৎ বীর ও সম্রাটের সম্ভাবনা দেখতে পান। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁকে "যাও বীর! মুক্ত তুমি" বলে সম্মান জানান। চন্দ্রগুপ্তের সাহসিকতা সেকেন্দারের মনে শ্রদ্ধা জাগিয়ে তুলেছিল।

৬. নীচের বাক্যগুলি থেকে সন্ধিবদ্ধ পদ খুঁজে নিয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ করো :

৬.১ আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখি।
উত্তর: নির্বাক = निः + বাক

৬.২ বিশাল নদ-নদী ফেনিল উচ্ছ্বাসে বেগে ছুটছে।
উত্তর: উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস

৬.৩ সে নির্ভীক নিষ্কম্পস্বরে উত্তর দিলো, 'রাজার প্রতি রাজার আচরণ।'
উত্তর: নির্ভীক = निः + ভীক; নিষ্কম্প = निः + কম্প

৬.৪ আমি এসেছি দিগ্বিজয়ে।
উত্তর: দিগ্বিজয় = দিক্ + বিজয়

৬.৫ তুমি ধৃতরাষ্ট্র উদ্ধার করবে।
উত্তর: ধৃতরাষ্ট্র = ধৃত + রাষ্ট্র

৭. ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো :

সেনাপতি: সেনার পতি – সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।

নদনদী: নদ ও নদী – দ্বন্দ্ব সমাস।

স্নেহচ্ছায়া: স্নেহের ছায়া – সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।

অসম্পূর্ণ: নয় সম্পূর্ণ – নঞ তৎপুরুষ সমাস।

বিজয়বার্তা: বিজয়ের বার্তা – সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস।

অগ্রভেদী: অগ্র ভেদ করে যে – উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

৮. ক্রিয়ার কাল নির্দেশ করো :

৮.১ হেলেন সেলুকসের হস্ত ধরিয়া তাঁহার পার্শ্বে দণ্ডায়মানা।
উত্তর: সাধারণ বর্তমান কাল।

৮.২ এই মরুভূমি স্নেহচ্ছায়ার মতো তপ্ত বালুরাশি নিয়ে খেলা করছে।
উত্তর: ঘটমান বর্তমান কাল।

৮.৩ চমৎকৃত হলাম।
উত্তর: সাধারণ অতীত কাল।

৮.৪ আমার শিবিরে তুমি গুপ্তচর হয়ে প্রবেশ করেছ।
উত্তর: পুরাঘটিত বর্তমান কাল।

৮.৫ নির্ভয়ে তুমি তোমার রাজ্যে ফিরে যাও।
উত্তর: অনুজ্ঞা ভাব (বর্তমান কাল)।

৯. নিম্নরেখাঙ্কিত শব্দগুলির কারক-বিভক্তি নির্দেশ করো :

৯.১ কী বিচিত্র এই দেশ!
উত্তর: কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.২ আমি বিস্মিত আতঙ্কে চেয়ে থাকি।
উত্তর: করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

৯.৩ মত্ত মাতঙ্গ জলদমন্দ্রস্বরে মন্থর গতিতে চলেছে।
উত্তর: করণ কারকে 'তে' বিভক্তি।

৯.৪ বাধা পেলাম প্রথম-সেই শতদ্রুতীরে
উত্তর: অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

৯.৫ আমি যা শিখেছি তা এই পত্রে লিখে নিয়েছিলাম।
উত্তর: করণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

১০. নীচের শব্দগুলির দল বিশ্লেষণ করো :

শিরস্ত্রাণে (শি-রস-ত্রা-ণে): শি (মুক্ত), রস (রুদ্ধ), ত্রা (মুক্ত), ণে (মুক্ত)।

নিষ্কম্পস্বরে (নিশ-কম-পস্-স-রে):निश् (রুদ্ধ), কম (রুদ্ধ), পস্ (রুদ্ধ), স (মুক্ত), রে (মুক্ত)।

বিজয়বাহিনী (বি-জয়-বা-হি-নী): বি (মুক্ত), জয় (রুদ্ধ), বা (মুক্ত), হি (মুক্ত), নী (মুক্ত)।

চন্দ্রগুপ্ত (চন-দ্র-গুপ-তো): চন (রুদ্ধ), দ্র (মুক্ত), গ্রুপ (রুদ্ধ), তো (মুক্ত)।

আর্যকুলরবি (আর-জো-কুল-রো-বি): আর (রুদ্ধ), জো (মুক্ত), কুল (রুদ্ধ), রো (মুক্ত), বি (মুক্ত)।

১১. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো :

১১.১ নদতটে শিবির-সম্মুখে সেকেন্দার ও সেলুকস অস্তগামী সূর্যের দিকে চাহিয়া ছিলেন। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: যখন সেকেন্দার ও সেলুকস নদতটে শিবির-সম্মুখে ছিলেন, তখন তাঁরা অস্তগামী সূর্যের দিকে চাহিয়া ছিলেন।

১১.২ 'আমার কাছে কি রূপ আচরণ প্রত্যাশা করো?' (পরোক্ষ উক্তিতে)
উত্তর: তিনি তাঁর কাছে কীরূপ আচরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে তা জিজ্ঞাসা করলেন।

১১.৩ জগতে একটা কীর্তি রেখে যেতে চাই। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: জগতে কীর্তি না রেখে আমি যেতে চাই না।

১১.৪ আমি যা শিখেছি তা এই পত্রে লিখে নিয়েছিলাম। (সরল বাক্যে)
উত্তর: আমার শেখা বিষয়টি আমি এই পত্রে লিখে নিয়েছিলাম।

১১.৫ তোমার অপরাধ তত নয়। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর: তোমার অপরাধ অল্প।

১১.৬ এক গৃহহীন নিরাশ্রয় হিন্দু রাজপুত্র তার হিসেবে তাঁর কাছে উপস্থিত, তাতেই তিনি এস্ত। (নির্দেশক বাক্যের বিশেষ্যারূপ ব্যবহার করে বাক্যটি লেখো।)
উত্তর: এক গৃহহীন নিরাশ্রয় হিন্দু রাজপুত্রের উপস্থিতিই তাঁকে এস্ত করার জন্য যথেষ্ট।

১১.৭ 'কী বিচিত্র এই দেশ!' (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর: এই দেশ অত্যন্ত বিচিত্র।

১১.৮ 'সত্য সম্রাট'। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: সম্রাট মিথ্যাবাদী নন।

১১.৯ এ দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন কেন সম্রাট? (পরোক্ষ উক্তিতে)
উত্তর: সম্রাটকে জিজ্ঞাসা করা হলো কেন তিনি দিগ্বিজয় অসম্পূর্ণ রেখে যাচ্ছেন।

১১.১০ 'ভারতবাসী মিথ্যা কথা বলতে এখনও শিখে নাই'। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর: ভারতবাসী এখনও সত্য কথা বলে।

১১.১১ আমি এরূপ বুঝি নাই। (হ্যাঁ-সূচক বাক্যে)
উত্তর: এটা আমার বোঝার অতীত।

১১.১২ 'সেকেন্দার সাহা এত কাপুরুষ, তাহা ভাবি নাই।' (নির্দেশাঙ্কিত শব্দের বিশেষ্যের রূপ ব্যবহার করো)
উত্তর: সেকেন্দার সাহার এত কাপুরুষতা আমি ভাবি নাই।

১১.১৩ সম্রাট আমায় বধ না করে বন্দি করতে পারবেন না। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: সম্রাট আমায় বধ করবেন অথবা বন্দি করবেন, কিন্তু তার কোনোটাই সহজ নয়। (বিকল্প: সম্রাট আমায় বধ করতে পারেন, কিন্তু বন্দি করতে পারবেন না।)

১১.১৪ আমি পরীক্ষা করছিলাম মাত্র। (জটিল বাক্যে)
উত্তর: আমি যা করছিলাম, তা কেবল পরীক্ষা মাত্র।

১১.১৫ 'নির্ভয়ে তুমি তোমার রাজ্যে ফিরে যাও'। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: তোমার রাজ্যে ফিরে যেতে ভয় পেয়ো না।

বিজ্ঞাপন