অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - দাঁড়াও
WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "দাঁড়াও" কবিতাটির সম্পূর্ণ সমাধান।
Advertisement
কবিতা: দাঁড়াও
কবির নাম: শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩-১৯৯৫)
কবি পরিচিতি
শক্তি চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি। তাঁর জন্ম দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে। তিনি 'কবিতা' পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর লেখার মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা, গভীর আবেগ ও নিঃসঙ্গতাবোধ ফুটে ওঠে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'হে প্রেম হে নৈঃশব্দ্য', 'ধর্মেও আছো জিরাফেও আছো', 'যেতে পারি কিন্তু কেন যাব' ইত্যাদি। 'কুয়োতলা' তাঁর লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হন।
কবিতার সারসংক্ষেপ
'দাঁড়াও' কবিতায় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় আধুনিক সমাজের স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষের বিবেককে জাগ্রত করার জন্য এক মানবিক আবেদন জানিয়েছেন। তিনি দেখেছেন, বর্তমান সময়ে মানুষ বড় বেশি একা, অসহায় এবং বিপন্ন বোধ করছে। মানুষই মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, একে অপরের জন্য 'ফাঁদ' পাতছে। এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে কবি সমাজের সংবেদনশীল মানুষদের অনুরোধ করছেন সেই সব পীড়িত, একাকী মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে। কবি বলেছেন, কেবল মানুষ হিসেবে নয়, পাখির মতো অসহায় ও নিরীহ প্রাণীর পাশেও দাঁড়াতে হবে। দুঃস্থ ও একাকী মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালে, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিলেই মনুষ্যত্বের আসল প্রকাশ ঘটবে। এই 'দাঁড়ানো' শুধু শারীরিক উপস্থিতি নয়, বরং মানসিক ও भावनात्मक সমর্থন দেওয়া। কবি মনে করেন, এই মানবিক মূল্যবোধই পারে সমাজকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর
১. শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য লেখো:
১.১ শক্তি চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: শক্তি চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহড়ু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
১.২ তাঁর লেখা একটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: তাঁর লেখা একটি উপন্যাসের নাম হলো 'কুয়োতলা'।
২. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
২.১ 'মাঝে' শব্দ ব্যবহার করা হয় কখন? তোমার যুক্তির পক্ষে দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: 'মাঝে' শব্দটি সাধারণত কোনো স্থান, কাল বা অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: (ক) রাস্তার মাঝে গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে (স্থান)। (খ) পড়ার মাঝে কথা বলো না (কাল)।
২.২ কবি পাখির মতো পাশে দাঁড়াতে বলছেন কেন?
উত্তর: পাখিরা নিরীহ, দুর্বল ও অসহায় প্রাণী। তাদের যেমন আশ্রয় ও ভালোবাসা প্রয়োজন, তেমনই সমাজের অসহায়, দুর্বল মানুষদেরও স্নেহ ও সহানুভূতির প্রয়োজন। তাই কবি পাখির মতো দুর্বল ও অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন।
২.৩ 'মানুষই ফাঁদ পাতছে'— কবি এ কথা কেন বলেছেন? 'মানুষ' শব্দের সঙ্গে 'ই' ধ্বনি যোগ করলেন কেন? —তোমার কী মনে হয়?
উত্তর: কবি এই কথা বলেছেন কারণ মানুষই অন্য মানুষের ক্ষতির কারণ হচ্ছে। মানুষ নিজের লোভ, হিংসা ও স্বার্থপরতার কারণে একে অপরের জন্য বিপদ বা 'ফাঁদ' তৈরি করছে। 'মানুষ' শব্দের সঙ্গে 'ই' প্রত্যয় যোগ করে কবি এই নিষ্ঠুর সত্যটির উপর জোর দিয়েছেন, অর্থাৎ অন্য কোনো প্রাণী নয়, মানুষই এই ধ্বংসাত্মক কাজটি করছে।
২.৪ 'তোমার মতো মনে পড়ছে' —এই পঙক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
উত্তর: এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রত্যেক সংবেদনশীল মানুষের মনেই অপরের দুঃখ কষ্ট দেখে সমবেদনা জাগে। একজন দুঃখী মানুষকে দেখলে আমাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সময়ে নিজের বা পরিচিত কারও দুঃখের কথা মনে পড়ে যায়।
২.৫ 'এসে দাঁড়াও ভেসে দাঁড়াও এবং ভালোবেসে দাঁড়াও'— এই পঙক্তিটির বিশেষত্ব কোথায়? এই ধরনের দুটি বাক্য তুমি তৈরি করো।
উত্তর: এই পঙক্তিতে 'দাঁড়াও' ক্রিয়াপদটি তিনবার তিন রকম অনুভূতি (আবেদন, আশ্রয় ও ভালোবাসা) নিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে, যা পঙক্তিটিকে এক গভীর আবেদনময় মাত্রা দিয়েছে। এই ধরনের দুটি বাক্য হলো: (ক) কাছে এসো, পাশে বসো এবং মন দিয়ে শোনো। (খ) কাজ করো, মন দিয়ে করো এবং সফল হয়ে দেখাও।
৩. 'মানুষ বড়ো কাঁদছে'—কী কারণে কবি এই কথা বলেছেন?
আধুনিক জীবনের জটিলতায়, ব্যস্ততায় ও আত্মকেন্দ্রিকতায় মানুষ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা ভীষণভাবে নিঃসঙ্গ ও অসহায় বোধ করছে। এই একাকীত্ব, পারস্পরিক সহানুভূতির অভাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক কষ্টের কারণেই 'মানুষ বড়ো কাঁদছে' বলে কবি মনে করেছেন।
৪. 'মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও'—এই পঙক্তিটিকে তিনবার ব্যবহার করার কারণ কী হতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
এই পঙক্তিটিকে তিনবার ব্যবহার করে কবি মানুষের একাকীত্বের গভীরতা এবং তার পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষভাবে জোর দিতে চেয়েছেন। বারবার এই আহ্বান জানানোর মাধ্যমে তিনি সমাজের সংবেদনশীল মানুষদের বিবেককে নাড়া দিতে চেয়েছেন এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি আন্তরিক ও জরুরি আবেদন তৈরি করেছেন।
৫. কবিতাটির নাম 'দাঁড়াও' কতটা সার্থক? কবিতাটির নাম 'মানুষ বড়ো কাঁদছে' হতে পারত কি—তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
কবিতাটির 'দাঁড়াও' নামটি সম্পূর্ণ সার্থক। কারণ কবিতাটির মূল ভাব ও আবেদনই হলো অসহায়, একাকী মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো। 'দাঁড়াও' শব্দটি এখানে শুধু শারীরিক উপস্থিতি নয়, বরং মানসিক অবলম্বন ও ভরসা হয়ে ওঠার প্রতীক। 'মানুষ বড়ো কাঁদছে' নামটি কবিতার সমস্যাটিকে তুলে ধরে, কিন্তু 'দাঁড়াও' নামটি সেই সমস্যার সমাধানের পথ দেখায়, যা আরও বেশি ব্যঞ্জনাময় ও ইতিবাচক। তাই 'দাঁড়াও' নামটিই বেশি উপযুক্ত।
৬. কবি কাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করছেন বলে তোমার মনে হয়?
কবি সমাজের সেই সমস্ত বিবেকবান ও সংবেদনশীল মানুষদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুরোধ করছেন, যাদের মনে অপরের জন্য দয়া, মায়া ও ভালোবাসা আছে। যারা অন্যের দুঃখকে নিজের দুঃখ বলে মনে করতে পারে এবং অসহায়কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, কবি তাদেরকেই আহ্বান জানিয়েছেন।
৭. কবিতাটি চলিত ভাষায় লেখা, শুধু একটি শব্দ সাধু ভাষার। শব্দটি খুঁজে বার করো এবং শব্দটিকে এভাবে ব্যবহার করেছেন কেন কবি?
কবিতাটিতে ব্যবহৃত সাধু ভাষার শব্দটি হলো 'তাহার'। কবিতাটি চলিত ভাষায় লেখা হলেও কবি 'তাহার' শব্দটি ব্যবহার করেছেন একটি বিশেষ আবেগ ও গাম্ভীর্য আনার জন্য। চলিত ভাষার সহজ সরল প্রকাশভঙ্গির মধ্যে একটি সাধু শব্দের ব্যবহার পঙক্তিটিকে একটি চিরায়ত ও আন্তরিক আবেদন দিয়েছে।
৮. প্রথম স্তবকের তিনটি পঙক্তির প্রত্যেকটির দলসংখ্যা কত?
প্রথম স্তবকের তিনটি পঙক্তির প্রত্যেকটির দলসংখ্যা ১৬। যেমন:
মা-নুষ-ব-ড়ো-কাঁদ-ছে, তু-মি-মা-নুষ-হ-য়ে-পা-শে-দাঁ-ড়াও (২+২+২+২+২+২+২+২ = ১৬)
৯. বিশেষ্য থেকে ক্রিয়াপদে পরিণত করো:
ফাঁদ (বিশেষ্য) -> ফাঁদা (ক্রিয়া)
কাঁদ (বিশেষ্য) -> কাঁদা (ক্রিয়া)
Advertisement
অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইংরাজি সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর পরিবেশ ও বিজ্ঞান সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ইতিহাস সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল সমাধান
অষ্টম শ্রেণীর সিলেবাস ডাউনলোড করুন
অষ্টম শ্রেণীর সমস্ত বই ডাউনলোড করুন
প্রশ্ন বিচিত্রা সমাধান
Free Mock Test