অষ্টম শ্রেণীর বাংলা সমাধান - জেলখানার চিঠি

WBBSE-র 'সাহিত্য মেলা' বইয়ের "জেলখানার চিঠি" প্রবন্ধটির সম্পূর্ণ সমাধান।

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

প্রবন্ধ: জেলখানার চিঠি

লেখকের নাম: সুভাষচন্দ্র বসু (১৮৯৭-?)


লেখক পরিচিতি

Subhas Chandra Bose

সুভাষচন্দ্র বসু, নেতাজি নামে পরিচিত, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা। প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ভারত-বিদ্বেষী অধ্যাপক ওটেনকে প্রহারের অভিযোগে তিনি বিতাড়িত হন। তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশকে রাজনৈতিক গুরু মানতেন। ১৯৪১ সালে গৃহ অন্তরীণ অবস্থা থেকে পালিয়ে তিনি বিদেশে যান এবং রাসবিহারী বসুর থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 'তরুণের স্বপ্ন' তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ

মান্দালয় জেল থেকে বন্ধু দিলীপ রায়কে লেখা এই চিঠিতে সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর কারাজীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি জেলের কষ্টকর ও অমানবিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে কারা-সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, অপরাধীদের মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত হিসেবে দেখে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত এবং শাস্তির বদলে সংশোধনের উপর জোর দেওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, কারাজীবনের অভিজ্ঞতা শিল্প-সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে পারে, যেমনটা কাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে হয়েছে। বন্দিদশার নির্জনতা তাঁকে জীবনের গভীর সমস্যাগুলি নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সমস্ত দুঃখকষ্টের পিছনে এক মহত্তর উদ্দেশ্য থাকে। শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি হতাশ নন, বরং আশাবাদী যে এই দুঃখ-যন্ত্রণাই উন্নততর কর্মের অনুপ্রেরণা দেবে।

শব্দার্থ

আধ্যাত্মিক: অধ্যাত্ম বা আত্মা সম্বন্ধীয়। স্থৈর্য: স্থিরতা। আত্মম্ভরিতা: অহংকার। অবমাননা: অপমান, অনাদর। বাহ্য: বাহির। লীন: মিলিত, লুপ্ত।


অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর

১. লেখক পরিচিতি

১.১ সুভাষচন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন কেন?
উত্তর: ভারত-বিদ্বেষী ইংরেজ অধ্যাপক ওটেনকে প্রহার করার অভিযোগে সুভাষচন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন।

১.২ রাসবিহারী বসুর কাছ থেকে তিনি কোন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: রাসবিহারী বসুর কাছ থেকে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

২. অনধিক তিনটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও:

২.১ তোমার পাঠ্য পত্রখানি কে, কোথা থেকে, কাকে লিখেছিলেন?
উত্তর: পাঠ্য পত্রখানি সুভাষচন্দ্র বসু মান্দালয় জেল থেকে তাঁর বন্ধু দিলীপ রায়কে লিখেছিলেন।

২.২ কোন ব্যাপারটিকে পত্রলেখক আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলেছেন?
উত্তর: অকারণে বা অজ্ঞাত কারণে বহু মানুষের জেলে বন্দি থাকার ব্যাপারটিকে পত্রলেখক আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখার কথা বলেছেন।

২.৩ বন্দিদশায় মানুষের মনে শক্তি সঞ্চারিত হয় কীভাবে?
উত্তর: বন্দিদশায় দার্শনিক ভাব এবং নিজের অন্তরে ভেবে দেখার মতো বিষয় খুঁজে পেলে মানুষের মনে শক্তি সঞ্চারিত হয়।

২.৪ মান্দালয় জেল কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: মান্দালয় জেল অধুনা মায়ানমারে (পূর্বতন বার্মা) অবস্থিত।

২.৫ ভারতীয় জেল বিষয়ে একটি পুস্তক সুভাষচন্দ্রের লেখা হয়ে ওঠেনি কেন?
উত্তর: যথেষ্ট উদ্যম, শক্তি এবং উপযুক্ত সামর্থ্যের অভাবে ভারতীয় জেল বিষয়ে সুভাষচন্দ্রের একটি পুস্তক লেখা হয়ে ওঠেনি।

২.৬ সুভাষচন্দ্র কেন দিলীপ রায়র প্রেরিত বইগুলি ফেরত পাঠাতে পারেননি?
উত্তর: দিলীপ রায়ের পাঠানো বইগুলির অনেক পাঠক জুটেছিল, তাই সুভাষচন্দ্র বইগুলি ফেরত পাঠাতে পারেননি।

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর কয়েকটি বাক্যে লেখো:

৩.১ নেতাজি ভবিষ্যতের কোন্ কর্তব্যের কথা এই চিঠিতে বলেছেন? কেন এই কর্তব্য স্থির করেছেন? কারা-শাসন প্রণালী বিষয়ে কাদের পরিবর্তে কাদের প্রণালীকে তিনি অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন?
উত্তর: নেতাজি ভবিষ্যতে কারা-সংস্কারকে তাঁর একটি কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেলে বাস করার পর তিনি অনুভব করেছেন যে, জেলের পরিবেশ কয়েদিদের নৈতিক উন্নতির বদলে অবনতি ঘটায়। তাই তিনি এই কর্তব্য স্থির করেছেন।
তিনি ব্রিটিশ প্রণালীর পরিবর্তে আমেরিকার ইউনাইটেড স্টেটসের মতো উন্নত দেশগুলির কারা-শাসন প্রণালীকে অনুসরণযোগ্য বলে মনে করেছেন।

৩.২ 'সেজন্য খুবই খুশি হয়েছি।' বক্তা কে? তিনি কীজন্য খুশি হয়েছেন?
উত্তর: বক্তা হলেন সুভাষচন্দ্র বসু।
তাঁর বন্ধু দিলীপ রায়ের পাঠানো চিঠিটিকে সেন্সরের কড়াকড়ির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি, অর্থাৎ চিঠিটি সরাসরি তাঁর হাতে এসে পৌঁছেছিল, তাই তিনি খুশি হয়েছেন।

৩.৩ 'আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন।' কে, কাকে এ কথা বলেছেন? কীসের উত্তর দেবার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর বন্ধু দিলীপ রায়কে এ কথা বলেছেন।
দিলীপ রায়ের চিঠি সুভাষচন্দ্রের হৃদয়কে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল যে, তার উত্তর দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন মনে হয়েছিল।

৩.৪ 'পরের বেদনা সেই বুঝে শুধু যেজন ভুক্তভোগী।'- উদ্ধৃতির সমার্থক বাক্য পত্রটি থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো। সেই বাক্যটি থেকে লেখকের কোন মানসিকতার পরিচয় পাও?
উত্তর: সমার্থক বাক্যটি হলো: "আমার মনে হয় না, আমি যদি স্বয়ং কারাবাস না করতাম তাহলে একজন কারাবাসী বা অপরাধীকে ঠিক সহানুভূতির চোখে দেখতে পারতাম।"
এই বাক্য থেকে লেখকের গভীর সংবেদনশীলতা এবং সহানুভূতির মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি মনে করেন, নিজে কষ্ট ভোগ না করলে অন্যের কষ্ট বোঝা যায় না।

৩.৫ 'আমার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে, অনেকখানি লাভবান হতে পারব।' — কোন প্রসঙ্গে বক্তার এই উক্তি? জেলজীবনে তিনি আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে কীভাবে লাভবান হবার কথা বলেছেন?
উত্তর: জেলজীবনের নির্জনতায় জীবনের চরম সমস্যাগুলি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গে বক্তা এই উক্তি করেছেন।
তিনি বলেছেন যে, কারাবাসের নির্জনতায় তাঁর অনেক ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনের জটিল প্রশ্নের সমাধান হচ্ছে এবং অনেক অস্পষ্ট ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই আত্ম-উপলব্ধির মাধ্যমেই তিনি আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে লাভবান হওয়ার কথা বলেছেন।

৩.৬ 'Martyrdom' শব্দটির অর্থ কী? এই শব্দটি উল্লেখ করে বক্তা কী বক্তব্য রেখেছেন?
উত্তর: 'Martyrdom' শব্দটির অর্থ হলো শহিদত্ব বা মহৎ উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ।
দিলীপ রায় সুভাষচন্দ্রের কারাবাসকে 'Martyrdom' বলে অভিহিত করায়, বিনয়ী সুভাষচন্দ্র বলেছেন যে, নিজেকে শহিদ মনে করার মতো স্পর্ধা তাঁর নেই। তাঁর কাছে এটি বড়োজোর একটি আদর্শ হতে পারে।

৩.৭ 'যখন আমাদিগকে জোর করে বন্দি করে রাখা হয় তখনই তাদের মূল্য বুঝতে পারা যায়?' - কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? 'তাদের মূল্য' বিষয়ে লেখকের বক্তব্য আলোচনা করো।
উত্তর: জেলখানায় পিকনিক, সংগীতচর্চা, খেলাধূলা, সাহিত্যচর্চার মতো সাধারণ আনন্দের বিষয়গুলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে।
লেখকের মতে, এই সাধারণ বিষয়গুলিই আমাদের জীবনকে সরস ও সমৃদ্ধ করে তোলে। জেলখানায় এই সব থেকে বঞ্চিত হয়েই তিনি এগুলির প্রকৃত মূল্য বুঝতে পেরেছেন।

৩.৮ 'মানুষের পারিপার্শ্বিক অবস্থা কী কঠোর ও নিরানন্দময়।'- যে ঘটনায় লেখকের মনে এই উপলব্ধি ঘটে তার পরিচয় দাও।
উত্তর: জেলের মধ্যে বন্দিদের উপর উপর মহল থেকে আসা সূক্ষ্ম অত্যাচার ও অপমানের আঘাতের ঘটনায় লেখকের এই উপলব্ধি ঘটে। এই আঘাতগুলি বন্দিদের স্বপ্নাবিষ্ট আত্মাকে জাগিয়ে দিয়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কঠোরতা ও নিরানন্দময়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।

৩.৯ এই চিঠিতে কারাবন্দি অবস্থাতেও দুঃখকাতর, হতাশাগ্রস্ত নয়, বরং আত্মাবিশ্বাসী ও আশাবাদী নেতাজির পরিচয়ই ফুটে উঠেছে। — পত্রটি অবলম্বনে নিজের ভাষায় মন্তব্যটির যাথার্থ্য পরিস্ফুট করো।
উত্তর: এই চিঠিতে নেতাজির আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী রূপটি স্পষ্ট। তিনি কারাবাসের কষ্টকে আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন যে, এর পিছনে মহত্তর উদ্দেশ্য আছে। তিনি দুঃখ-কষ্টকে উন্নততর কর্ম ও উচ্চতর সফলতার অনুপ্রেরণা হিসেবেই দেখেছেন। তাঁর এই গভীর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতের জন্য কারা-সংস্কারের মতো গঠনমূলক চিন্তা তাঁর আশাবাদী মানসিকতারই পরিচায়ক।

৩.১০ কারাগারে বসে নেতাজির যে ভাবনা, যে অনুভব, তার অনেকখানি কেন অকথিত রাখতে হবে?
উত্তর: চিঠিটি সেন্সরের হাত দিয়ে যাবে, তাই নেতাজি চাননি যে তাঁর অন্তরের গভীরতম অনুভূতিগুলি দিনের উন্মুক্ত আলোতে প্রকাশ হয়ে পড়ুক। এই কারণেই তাঁর অনেক ভাবনা ও অনুভবকে অকথিত রাখতে হবে।

৪. নীচের বাক্যগুলির তথ্যগত অশুদ্ধি সংশোধন করো:

৪.১ নেতাজি মনে করতেন না যে, আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্টের অন্তরে একটা মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করছে।
শুদ্ধ: নেতাজি মনে করতেন যে, আমাদের সমস্ত দুঃখকষ্টের অন্তরে একটা মহত্তর উদ্দেশ্য কাজ করছে।

৪.২ কারাগারে বন্দি অবস্থায় নেতাজি সুভাষ গীতার আলোচনা লিখেছিলেন।
শুদ্ধ: কারাগারে বন্দি অবস্থায় লোকমান্য তিলক গীতার আলোচনা লিখেছিলেন।

৪.৩ জেল জীবনের কষ্ট মানসিক অপেক্ষা দৈহিক বলে নেতাজি মনে করতেন।
শুদ্ধ: জেল জীবনের কষ্ট দৈহিক অপেক্ষা মানসিক বলে নেতাজি মনে করতেন।

৫. নীচের বাক্যগুলি থেকে সমাসবদ্ধ পদ বেছে নিয়ে ব্যাসবাক্য সহ সমাসের নাম লেখো:

৫.১ তোমার চিঠি হৃদয়তন্ত্রীকে কোমলভাবে স্পর্শ করেছে।
উত্তর: হৃদয়তন্ত্রী = হৃদয় রূপ তন্ত্রী - রূপক কর্মধারয় সমাস।

৫.২ সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে জেলে আছি।
উত্তর: অজ্ঞাত = ন জ্ঞাত - নঞ তৎপুরুষ সমাস।

৫.৩ তখন আমার নিঃসংশয় ধারণা জন্মে।
উত্তর: নিঃসংশয় = নয় সংশয় যার - নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস।

৫.৪ নূতন দণ্ডবিধির জন্যে পথ ছেড়ে দিতে হবে।
উত্তর: দণ্ডবিধি = দণ্ড বিষয়ক বিধি - মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

৫.৫ লোকমান্য তিলক কারাবাস-কালে গীতার আলোচনা লেখেন।
উত্তর: কারাবাস = کارায় বাস - সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস। লোকমান্য = লোকের দ্বারা মান্য - তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।

৬. শব্দগুলির ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো:

পাঠক: √পাঠ্ + অক

দর্শন: √দৃশ্ + অন

দৈহিক: দেহ + ইক

আধ্যাত্মিক: অধ্যাত্ম + ইক

ভণ্ডামি: ভণ্ড + আমি

সমৃদ্ধ: সম্ + √ঋধ্ + ত

মহত্ত্ব: মহৎ + ত্ব

অভিজ্ঞতা: অভিজ্ঞ + তা

৭. নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো:

৭.১ আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সুকঠিন। (না-সূচক বাক্যে)
উত্তর: আমার পক্ষে এর উত্তর দেওয়া সহজ নয়।

৭.২ সেই জন্যই সাধারণের কাছে মুখ দেখাতে সে লজ্জা পায় (প্রশ্নবোধক বাক্যে)।
উত্তর: সেই জন্যই কি সে সাধারণের কাছে মুখ দেখাতে লজ্জা পায়?

৭.৩ লজ্জায় তারা বাড়িতে কোন সংবাদ দেয়নি। (যৌগিক বাক্যে)
উত্তর: তারা লজ্জা পেয়েছে এবং তাই বাড়িতে কোনো সংবাদ দেয়নি।

৭.৪ কতকগুলি অভাব আছে যা মানুষ ভিতর থেকে পূর্ণ করে তুলতে পারে। (সরল বাক্যে)
উত্তর: মানুষ ভিতর থেকে পূর্ণ করার মতো কতকগুলি অভাব অনুভব করে।

৭.৫ বিনা দুঃখ কষ্টে যা লাভ করা যায় তার কোন মূল্য আছে? (নির্দেশক বাক্যে)
উত্তর: বিনা দুঃখ কষ্টে যা লাভ করা যায় তার কোনো মূল্য নেই।

৮. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো:

৮.১ 'শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, সংশোধনই হওয়া উচিত জেলের প্রকৃত উদ্দেশ্য।'- তুমি কি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর: হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। শাস্তি মানুষকে সাময়িকভাবে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারে, কিন্তু তার মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। অপরাধীকে যদি মানসিক रोगी হিসেবে দেখে তার সংশোধনের চেষ্টা করা হয়, তবেই সে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারে। সহানুভূতি ও সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের নতুন জীবন দেওয়া সম্ভব, যা সমাজের জন্যও মঙ্গলজনক।

৮.২ 'আমাদের দেশের আর্টিস্ট বা সাহিত্যিকগণের যদি কিছু কিছু কারাজীবনের অভিজ্ঞতা থাকত তাহলে আমাদের শিল্প ও সাহিত্য অনেকাংশে সমৃদ্ধ হতো।' এ প্রসঙ্গে কারাজীবন যাপনকরা কয়েকজন সাহিত্যিকের নাম এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থের নাম উল্লেখ করো।
উত্তর: এই প্রসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যাঁর 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' বা 'ভাঙার গান' কাব্যে কারাজীবনের ছাপ স্পষ্ট। এছাড়াও জওহরলাল নেহেরু জেলে বসেই লিখেছেন 'ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া'। মহাত্মা গান্ধীর 'হিন্দ স্বরাজ'ও তাঁর কারাজীবনের ফসল।

৮.৩ পত্রটি পড়ে কারাজীবন বিষয়ে তোমার যে ধারণা ও অনুভূতি জন্মেছে তা জানিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখো।
উত্তর:
প্রিয় [বন্ধুর নাম],
আশা করি ভালো আছিস। সম্প্রতি আমাদের পাঠ্যবইয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর লেখা 'জেলখানার চিঠি' পড়লাম। চিঠিটা পড়ার পর থেকে মনটা কেমন যেন হয়ে আছে। কারাজীবন সম্পর্কে আমার ধারণাটাই বদলে গেছে।
আমরা জেলখানা বলতে শুধু শাস্তি আর কষ্টের কথাই ভাবি। কিন্তু নেতাজি দেখিয়েছেন, এর বাইরেও একটা জগৎ আছে। তিনি জেলের অমানবিক পরিবেশ, কয়েদিদের প্রতি সহানুভূতিহীন আচরণ এবং কারা-সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি হতাশ হননি। বরং এই নির্জনতাকে তিনি আত্ম-বিশ্লেষণ ও জীবনকে নতুনভাবে চেনার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, দুঃখ-কষ্টই মানুষকে মহত্তর কাজের জন্য প্রস্তুত করে।
চিঠিটা পড়ে বুঝলাম, জেলজীবন শুধু শারীরিক নয়, মানসিক কষ্টের। কিন্তু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক সেই কষ্টকেও কীভাবে শক্তির উৎসে পরিণত করতে পারেন, নেতাজি তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তোর সঙ্গে দেখা হলে এ নিয়ে আরও কথা হবে।
ইতি,
তোর বন্ধু
[তোমার নাম]

৮.৪ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সম্পর্কে আরো জেনে 'সুভাষচন্দ্রের স্বদেশপ্রেম' বিষয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করো।
উত্তর:
সুভাষচন্দ্রের স্বদেশপ্রেম
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে সকল বীরের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর জীবন ছিল দেশপ্রেমের এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখা।
বিলেতে আই.সি.এস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও তিনি ইংরেজদের গোলামি করবেন না বলে সেই লোভনীয় চাকরি প্রত্যাখ্যান করেন। এটিই ছিল তাঁর দেশপ্রেমের প্রথম বলিষ্ঠ প্রকাশ। দেশে ফিরে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর কাছে স্বাধীনতা মানে ছিল পূর্ণ স্বরাজ, কোনো আপস নয়।
যখন তিনি দেখলেন যে অহিংস পথে স্বাধীনতা লাভ করা সম্ভব নয়, তখন তিনি এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেন। ব্রিটিশের চোখে ধুলো দিয়ে গৃহত্যাগ করে তিনি পাড়ি দেন বিদেশে। সেখানে গঠন করেন 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' এবং ডাক দেন 'দিল্লি চলো'। তাঁর বিখ্যাত উক্তি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" আজও ভারতবাসীর শিরায় শিরায় দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে তোলে।
সুভাষচন্দ্রের জীবন संघर्ष ও আত্মত্যাগের এক মহাকাব্য। দেশের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর স্বদেশপ্রেম, সাহস ও দূরদৃষ্টি তাঁকে ভারতবাসীর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।