আবহমান সমাধান

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (সাহিত্য সঞ্চয়ন - চতুর্থ পাঠ)

WBBSE Class 9 সাহিত্য সঞ্চয়ন
Shilpi Mondal
Shilpi Mondal

কবিতার সারসংক্ষেপ

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর 'আবহমান' একটি স্মৃতিচারণমূলক কবিতা, যেখানে গ্রাম-বাংলার শাশ্বত ও চিরকালীন রূপটি ফুটে উঠেছে। কবি পাঠককে গ্রামের সেই পুরোনো উঠোনে, লাউমাচার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলছেন। সেখানে সন্ধ্যার বাতাসে এখনও একটি ছোট্ট ফুল দুলছে, যা গ্রামীণ জীবনের অব্যাহত প্রবাহের প্রতীক।

কবিতায় সেই মানুষটির কথা বলা হয়েছে যে অনেক বছর আগে এই গ্রামে এসেছিল, ঘর বেঁধেছিল, কিন্তু পরে হারিয়ে গেছে (শহরে চলে গেছে)। কিন্তু সে আবার ফিরে আসে, কারণ এই মাটি ও হাওয়ার প্রতি তার ভালোবাসা ফুরোয় না। গ্রামের সেই নটেগাছটি বুড়িয়ে গেলেও মুড়োয় না, অর্থাৎ গ্রামের স্মৃতি ও আকর্ষণ চিরকালীন।

শহরের যান্ত্রিকতা ও ক্লান্তির মাঝেও সেই মানুষটি (বা প্রতিটি প্রবাসী বাঙালি) গ্রামের ঘাসের গন্ধ গায়ে মাখে, তারার আলোয় স্বপ্ন দেখে। তার দুঃখ বা যন্ত্রণা পুরোনো হয় না, বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি হারায় না। সূর্য ওঠা, ছায়া নামা বা নদীর হাওয়ার মতো প্রকৃতির নিয়মেই গ্রামের জীবন চলতে থাকে। সবশেষে, সেই ফুলটি—যা গ্রাম-বাংলার প্রাণের প্রতীক—সন্ধ্যার বাতাসে অবিরত দুলতেই থাকে।

শব্দার্থ ও টীকা

  • আবহমান: যা আগে ছিল এবং এখনও চলছে, চিরকালীন।
  • লাউমাচা: লাউ গাছের জন্য তৈরি বাঁশের মাচা।
  • নিবিড়: গভীর, গাঢ়।
  • অনুরাগ: ভালোবাসা, স্নেহ।
  • নটেগাছ: এক প্রকার শাক গাছ (এখানে গ্রামীণ গল্পের বা স্মৃতির প্রতীক)।
  • মুড়য় না: শেষ হয় না বা নষ্ট হয় না।
  • একগুঁয়ে: জেদি।
  • দুরন্ত: যা সহজে শান্ত হয় না, প্রবল।
  • পিপাসা: তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা (এখানে ঘরে ফেরার টান)।
  • কুন্দফুল: সাদা রঙের এক প্রকার ছোট ফুল।
  • সান্ধ্য: সন্ধ্যাবেলার।
  • বাসি: টাটকা নয় এমন, পুরোনো।
  • নিশি: রাত্রি।

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর (MCQ)

১. 'আবহমান' কবিতাটির কবি কে?
  • জীবনানন্দ দাশ
  • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
  • শঙ্খ ঘোষ
  • শক্তি চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: খ) নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
২. কবি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?
  • নদীর তীরে
  • শহরের রাস্তায়
  • ওই উঠানে
  • পাহাড়ের চূড়ায়
উত্তর: গ) ওই উঠানে
৩. উঠোনে কীসের মাচা আছে?
  • কুমড়ো মাচা
  • লাউমাচা
  • শিম মাচা
  • পুঁই মাচা
উত্তর: খ) লাউমাচা
৪. লাউমাচার পাশে কী দুলছে?
  • একটি লাউ
  • একটি পাখি
  • ছোট্ট একটা ফুল
  • একটি পাতা
উত্তর: গ) ছোট্ট একটা ফুল
৫. ফুলটি কখন দুলছে?
  • ভোরের বাতাসে
  • দুপুরের রোদে
  • সন্ধ্যার বাতাসে
  • রাতের আঁধারে
উত্তর: গ) সন্ধ্যার বাতাসে
৬. মানুষটি এখানে কী বেঁধেছিল?M.N.C.I 2025
  • গান
  • ঘর
  • স্বপ্ন
  • মাচা
উত্তর: খ) ঘর
৭. মানুষটি হারিয়ে গিয়েও কী করে?
  • ভুলে যায়
  • কাঁদে
  • আবার ফিরে আসে
  • গান গায়
উত্তর: গ) আবার ফিরে আসে
৮. নটেগাছটা কী হয়?
  • মরে যায়
  • মুড়িয়ে যায়
  • বুড়িয়ে ওঠে
  • শুকিয়ে যায়
উত্তর: গ) বুড়িয়ে ওঠে
৯. নটেগাছটা বুড়িয়ে উঠলেও কী হয় না?
  • বাড়ে না
  • মুড়য় না
  • ঝরে না
  • ফুরয় না
উত্তর: খ) মুড়য় না
১০. মানুষটিকে কবি কী বলেছেন?
  • একগুঁয়ে
  • পাগল
  • ভবঘুরে
  • পথিক
উত্তর: ক) একগুঁয়ে
১১. মানুষটির কী ফুরয় না?
  • টাকা
  • সময়
  • দুরন্ত পিপাসা
  • ঘুম
উত্তর: গ) দুরন্ত পিপাসা
১২. সারাটা দিন সে আপন মনে কী মাখে?
  • ধুলো
  • ঘাসের গন্ধ
  • কাদা
  • রোদ্দুর
উত্তর: খ) ঘাসের গন্ধ
১৩. সারাটা রাত সে কী করে?B.N.V 2024
  • ঘুমোয়
  • কাঁদে
  • তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে
  • গল্প করে
উত্তর: গ) তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে
১৪. কী বাসি হয় না?
  • ফুল
  • খাবার
  • দুঃখ
  • স্বপ্ন
উত্তর: গ) দুঃখ
১৫. বাগান থেকে কী হারায় না?Model Q 2025
  • পাখির গান
  • কুন্দফুলের হাসি
  • সবুজ পাতা
  • শিশুদের কলরব
উত্তর: খ) কুন্দফুলের হাসি
১৬. ছায়া নামলে আবার কে ছুটে আসে?
  • সান্ধ্য নদীর হাওয়া
  • বৃষ্টি
  • অন্ধকার
  • স্মৃতি
উত্তর: ক) সান্ধ্য নদীর হাওয়া
১৭. 'আবহমান' শব্দের অর্থ কী?
  • বর্তমান
  • ভবিষ্যৎ
  • ক্ষণস্থায়ী
  • চিরকালীন বা প্রবহমান
উত্তর: ঘ) চিরকালীন বা প্রবহমান
১৮. "ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না"— কী ফুরোনোর কথা বলা হয়েছে?
  • টাকা-পয়সা
  • গ্রামের প্রতি টান বা আকর্ষণ
  • জীবনের আয়ু
  • বাগানের ফুল
উত্তর: খ) গ্রামের প্রতি টান বা আকর্ষণ
১৯. "নেভে না তার যন্ত্রণা যে"— কার যন্ত্রণার কথা বলা হয়েছে?
  • কবির
  • গ্রামের মানুষের
  • প্রবাসী বাঙালির (যে ঘর ছেড়েছে)
  • ফুলের
উত্তর: গ) প্রবাসী বাঙালির (যে ঘর ছেড়েছে)
২০. কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?B.H.S 2024
  • উলঙ্গ রাজা
  • অন্ধকার বারান্দা
  • কলকাতার যিশু
  • সময় বড় কম
উত্তর: খ) অন্ধকার বারান্দা

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)

১. 'আবহমান' কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

'আবহমান' কবিতাটি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর 'অন্ধকার বারান্দা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. কবি পাঠককে কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন?

কবি পাঠককে গ্রামের সেই পরিচিত উঠোনে, লাউমাচাটার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলেছেন।

৩. লাউমাচার পাশে কী দুলছে?

লাউমাচার পাশে সন্ধ্যার বাতাসে ছোট্ট একটা ফুল দুলছে।

৪. "কে এইখানে এসেছিল অনেক বছর আগে"— সে এসে কী করেছিল?

সে অনেক বছর আগে এখানে এসে "নিবিড় অনুরাগে" ঘর বেঁধেছিল।

৫. হারিয়ে গিয়েও সে আবার ফিরে আসে কেন?

কারণ সে এই গ্রামের মাটিকে এবং হাওয়াকে ভালোবাসে, তাই হারিয়ে গিয়েও ফিরে আসে।

৬. "নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না"— এর তাৎপর্য কী?

এর তাৎপর্য হলো, গ্রামের স্মৃতি বা গল্প পুরনো (বুড়িয়ে) হতে পারে, কিন্তু তা কখনও শেষ (মুড়য়) হয় না; তা চিরকালীন।

৭. মানুষটিকে 'একগুঁয়ে' বলা হয়েছে কেন?

কারণ গ্রামের প্রতি তার টান বা ফিরে আসার "দুরন্ত পিপাসা" কখনও ফুরোয় না, সে বারবার ফিরে আসতেই চায়।

৮. সারাটা দিন সে আপন মনে কী করে?M.N.C.I 2025

সারাটা দিন সে আপন মনে "ঘাসের গন্ধ" গায়ে মাখে।

৯. "সারাটা রাত তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে"— কে স্বপ্ন এঁকে রাখে?

সেই প্রবাসী মানুষটি বা তার শাশ্বত সত্তা সারাটা রাত তারায়-তারায় স্বপ্ন এঁকে রাখে।

১০. "নেভে না তার যন্ত্রণা যে"— কিসের যন্ত্রণা?

গ্রাম বা জন্মভূমি ছেড়ে দূরে থাকার বিচ্ছেদ-বেদনা বা যন্ত্রণার কথা এখানে বলা হয়েছে।

১১. "দুঃখ হয় না বাসি"— কথাটির অর্থ কী?

কথাটির অর্থ হলো, জন্মভূমির প্রতি টান বা বিচ্ছেদের দুঃখ কখনও পুরোনো বা মলিন হয় না, তা সবসময় টাটকা থাকে।

১২. বাগান থেকে কী হারায় না?

বাগান থেকে "কুন্দফুলের হাসি" বা সৌন্দর্য কখনও হারায় না।

১৩. সূর্য ওঠা এবং ছায়া নামার সাথে সাথে কী ঘটে?

সূর্য ওঠা এবং ছায়া নামার চিরাচরিত নিয়মের মতোই "সান্ধ্য নদীর হাওয়া" আবার ছুটে আসে।

১৪. "এখনও সেই ফুল দুলছে"— কোন ফুলের কথা বলা হয়েছে?

লাউমাচার পাশে সন্ধ্যার বাতাসে যে ছোট্ট ফুলটি দুলছিল, সেই ফুলটির কথাই বলা হয়েছে।

১৫. 'নিবিড় অনুরাগ' বলতে কী বোঝো?

'নিবিড় অনুরাগ' বলতে গভীর ভালোবাসা বা মমত্ববোধকে বোঝায়।

১৬. 'দুরন্ত পিপাসা' কিসের প্রতীক?B.N.V 2024

'দুরন্ত পিপাসা' জন্মভিটে বা শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

১৭. কবিতায় কোন ফুলের উল্লেখ আছে?

কবিতায় 'কুন্দফুল' এবং লাউমাচার 'ছোট্ট একটা ফুল'-এর উল্লেখ আছে।

১৮. "ফুরয় না তার কিছুই ফুরয় না"— কী ফুরোনোর কথা বলা হয়েছে?

গ্রামের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, স্মৃতি এবং ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা ফুরোনোর কথা বলা হয়েছে (যা আসলে ফুরোয় না)।

১৯. কবিতাটির নাম 'আবহমান' রাখা হয়েছে কেন?

কারণ কবিতাটিতে গ্রাম-বাংলার জীবনপ্রবাহ এবং মানুষের সাথে তার সম্পর্কের চিরকালীন বা প্রবহমান রূপটি তুলে ধরা হয়েছে।

২০. কবিতায় কোন সময়ের বাতাসের কথা বলা হয়েছে?

কবিতায় 'সন্ধ্যার বাতাস'-এর কথা বলা হয়েছে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. 'আবহমান' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।W.B.M 2024

'আবহমান' শব্দটির অর্থ হলো যা অনন্তকাল ধরে বয়ে চলেছে বা চিরকালীন। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এই কবিতাটিতে গ্রাম-বাংলার এক চিরন্তন ছবি ফুটে উঠেছে।

কবিতায় দেখা যায়, মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়, কিন্তু তার মন পড়ে থাকে গ্রামের সেই পুরোনো উঠোন আর লাউমাচার পাশে। গ্রামের প্রতি এই টান বা "দুরন্ত পিপাসা" কোনোদিন ফুরোয় না। নটেগাছ বুড়িয়ে গেলেও মুড়োয় না, অর্থাৎ গ্রামের স্মৃতি ফিকে হয়ে গেলেও মুছে যায় না।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ গ্রাম ছেড়েছে, আবার ফিরে এসেছে। এই আসা-যাওয়া, এই ভালোবাসা, এই স্মৃতিচারণ—সবই আবহমান কাল ধরে চলছে। লাউমাচার পাশে যে ছোট্ট ফুলটি দুলছে, তা এই শাশ্বত জীবনপ্রবাহেরই প্রতীক। গ্রাম্য জীবনের এই অবিচ্ছিন্ন ধারা এবং মানুষের সাথে তার চিরকালীন সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে বলেই কবিতাটির নাম 'আবহমান' অত্যন্ত সার্থক ও যথার্থ।

২. "নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না"— পঙক্তিটির রূপক অর্থ বা তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

বাঙালি লোককথায় গল্পের শেষে বলা হয়— "আমার কথাটি ফুরোল, নটেগাছটি মুড়োল।" অর্থাৎ নটেগাছ মুড়িয়ে যাওয়া মানে গল্পের সমাপ্তি। কিন্তু 'আবহমান' কবিতায় কবি বলেছেন, নটেগাছটি বুড়িয়ে ওঠে, অর্থাৎ বয়সের ভারে জীর্ণ হয়, কিন্তু মুড়োয় না বা শেষ হয় না।

তাৎপর্য: এখানে 'নটেগাছ' হলো গ্রাম-বাংলার স্মৃতি এবং শিকড়ের টান। মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গিয়ে আধুনিক বা 'বুড়ো' (অভিজ্ঞ) হতে পারে, সময়ের সাথে সাথে গ্রামের স্মৃতি কিছুটা ঝাপসা (বুড়িয়ে যাওয়া) হতে পারে, কিন্তু গ্রামের প্রতি তার ভালোবাসা বা নাড়ির টান কখনোই নিঃশেষ বা সমাপ্ত (মুড়োল) হয় না।

সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে গ্রাম্য জীবন হয়তো জৌলুস হারিয়েছে, কিন্তু তার অস্তিত্ব বা আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। প্রবাসী বাঙালির মনে গ্রামের স্মৃতি চিরজাগরূক থাকে। এই চিরকালীন ও অফুরান সম্পর্কের কথাই এই পঙক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

৩. "ফুরয় না তার যাওয়া এবং ফুরয় না তার আসা"— কার, কোথায় আসা-যাওয়ার কথা বলা হয়েছে? কেন এই আসা-যাওয়া ফুরোয় না?Model Q 2025

কার ও কোথায়: এখানে সেই মানুষের কথা বলা হয়েছে যে একসময় "নিবিড় অনুরাগে" গ্রামে ঘর বেঁধেছিল কিন্তু পরে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। তার গ্রাম থেকে শহরে যাওয়া এবং আবার শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসার (শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে) কথাই বলা হয়েছে।

কেন ফুরোয় না: এই আসা-যাওয়া ফুরোয় না, কারণ মানুষের শিকড় রয়েছে গ্রামে। জীবিকার তাগিদে মানুষ শহরে পাড়ি দেয় ঠিকই, কিন্তু তার আত্মা পড়ে থাকে গ্রামের "ঘাসের গন্ধে", "লাউমাচার পাশে" বা "কুন্দফুলের হাসিতে"। শহরের ক্লান্তি ও যন্ত্রণার মাঝে সে বারবার শান্তি খুঁজতে গ্রামের কাছে ফিরে আসে।

তাছাড়া, এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া। এক প্রজন্ম যায়, পরের প্রজন্ম আসে। কেউ গ্রাম ছাড়ে, আবার কেউ নতুন করে গ্রামের প্রেমে পড়ে। মানুষের এই "দুরন্ত পিপাসা" বা ঘরে ফেরার টান শাশ্বত, তাই এই আসা-যাওয়ার পালাও আবহমান কাল ধরে চলতেই থাকে।

৪. 'আবহমান' কবিতায় গ্রাম-বাংলার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

'আবহমান' কবিতায় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গ্রাম-বাংলার এক স্নিগ্ধ, শান্ত ও মায়াময় ছবি এঁকেছেন। এটি কোনো বিশেষ গ্রাম নয়, বরং শাশ্বত বাংলার প্রতিচ্ছবি।

কবিতায় আমরা দেখি গ্রামের একটি পরিচিত উঠোন, যার কোণে রয়েছে একটি লাউমাচা। সেই মাচার পাশে সন্ধ্যার বাতাসে দুলছে একটি ছোট্ট ফুল। বাতাসে ভাসছে ঘাসের গন্ধ। আকাশে তারার মেলা। বাগানে ফুটে আছে সাদা কুন্দফুল, যেন হাসছে।

এখানে সূর্য ওঠা, ছায়া নামা এবং নদী থেকে ভেসে আসা সন্ধ্যার বাতাস—সবই এক অমোঘ নিয়মে চলে। এই গ্রামের প্রকৃতিতে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আকর্ষণ আছে, যা মানুষকে বেঁধে রাখে। এটি এমন এক জায়গা যেখানে মানুষ "নিবিড় অনুরাগে" ঘর বাঁধে এবং যাকে "হারিয়ে গিয়েও আবার ফিরে আসে"। কবি গ্রামকে শুধু ভূখণ্ড হিসেবে নয়, বাঙালির আবেগ ও স্মৃতির আধার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

৫. "হারায় না তার বাগান থেকে কুন্দফুলের হাসি"— উক্তিটির মর্মার্থ বুঝিয়ে দাও।

'কুন্দফুল' হলো একধরনের ছোট সাদা ফুল, যা পবিত্রতা ও স্নিগ্ধতার প্রতীক। আর 'হাসি' হলো আনন্দ ও সজীবতার প্রতীক।

মর্মার্থ: মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে বা সময় অতিবাহিত হলেও গ্রামের প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্য হারায় না। গ্রামের বাগানে কুন্দফুল ফোটে, যা দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন হাসছে।

অন্যদিকে, প্রবাসী মানুষের মনের মণিকোঠায় গ্রামের স্মৃতি সব সময় সজীব থাকে। জীবনের শত দুঃখ, যন্ত্রণা বা ক্লান্তির ("নেভে না তার যন্ত্রণা") মাঝেও গ্রামের সেই আনন্দের স্মৃতি ("কুন্দফুলের হাসি") মলিন হয় না। গ্রামের সেই সরল, সুন্দর দিনগুলো তার মনে আশার আলো হয়ে জ্বলে থাকে। অর্থাৎ, গ্রামের সৌন্দর্য এবং মানুষের মনে গ্রামের স্মৃতি—উভয়ই অবিনশ্বর ও চিরকালীন।