গল্পের সারসংক্ষেপ
লিও তলস্তয় রচিত 'ইলিয়াস' গল্পটি মণীন্দ্র দত্ত অনুবাদ করেছেন। উফা প্রদেশের বাস্কির ইলিয়াস ৩৫ বছর কঠোর পরিশ্রম করে সামান্য অবস্থা থেকে এক বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়। তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ এবং বারোশো ভেড়া ছিল। তার অতিথি-সেবার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু বার্ধক্যে তার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। এক ছেলে মারামারিতে মারা যায়, অন্য ছেলেটি ঝগড়াটে বউয়ের পাল্লায় পড়ে আলাদা হয়ে যায়। এরপর ভেড়ার পালে মড়ক, দুর্ভিক্ষ এবং কিরবিজদের লুঠেরা হানায় ইলিয়াস সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।
বৃদ্ধ বয়সে ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি তাদের একদা অতিথি, প্রতিবেশী মহম্মদ শার বাড়িতে মজুরের কাজ নেয়। একদিন মহম্মদ শার বাড়িতে অতিথিরা এলে, তারা ইলিয়াসের অতীত ও বর্তমান অবস্থার কথা শুনে কৌতূহলী হন। অতিথিরা ইলিয়াস ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন যে, তাদের এখন কষ্ট হয় কিনা। উত্তরে ইলিয়াসের স্ত্রী জানান যে, পঞ্চাশ বছর ধরে ধনী অবস্থায় তারা কেবল দুশ্চিন্তা ও পাপ ছাড়া আর কিছুই পাননি; প্রকৃত সুখের সন্ধান তারা এই প্রথম পেয়েছেন। কারণ এখন তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার ও একে অপরের সাথে কথা বলার অফুরন্ত সময় আছে। এই শান্তিই হলো প্রকৃত সুখ। ইলিয়াসের কথাতেও এই সত্যটিই প্রতিধ্বনিত হয়, যা শুনে মোল্লা বলেন যে, এই কথাই পবিত্র গ্রন্থে লেখা আছে।
শব্দার্থ ও টীকা
- উফা প্রদেশ: রাশিয়ার অন্তর্গত একটি প্রদেশ।
- বাস্কির: রাশিয়ার উফা অঞ্চলে বসবাসকারী তুর্কি জাতির মানুষ।
- ঘোটকী: মেয়ে ঘোড়া বা মাদী ঘোড়া।
- কুমিস: ঘোটকীর দুধ থেকে তৈরি এক বিশেষ ধরনের পানীয়।
- বোলবোলাও: খ্যাতি, প্রতিপত্তি, রমরমা।
- মড়ক: মহামারি, বিশেষত পশুপাখির মহামারি।
- দুর্ভিক্ষ: আকালের সময়, যখন খাদ্যাভাব দেখা দেয়।
- কিরবিজ: মধ্য এশিয়ায় বসবাসকারী এক যাযাবর তুর্কি জাতি।
- সর্বহারা: যার সবকিছু চলে গেছে।
- অতিথি-বৎসলতা: অতিথিদের সেবা করার উদার মানসিকতা।
- মোল্লা: মুসলিম পন্ডিত বা ধর্মগুরু।
- কুশন: ছোটো গদি বা তাকিয়া।
- তল্লাট: অঞ্চল বা এলাকা।
- সবিস্ময়ে: বিস্ময়ের বা অবাক হওয়ার সাথে।
- অর্ধ-শতাব্দী: পঞ্চাশ বছর।
- তামাশা: ঠাট্টা বা মজা।
- নেকড়ে: এক ধরনের বন্য মাংসাশী প্রাণী।
- ভেড়ি: মেয়ে ভেড়া।
- কল্যাণ: মঙ্গল।
সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর (MCQ)
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (SAQ)
ইলিয়াস রাশিয়ার উফা প্রদেশের বাসিন্দা ছিল।
বাবার মৃত্যুর পর ইলিয়াসের সাতটা ঘোটকী, দুটো গোরু আর কুড়িটা ভেড়া ছিল।
ইলিয়াস ও তার স্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করত। তারা সকলের আগে ঘুম থেকে উঠত এবং সকলের পরে ঘুমোতে যেত। এইভাবেই তারা সম্পত্তি বাড়িয়েছিল।
প্রতিবেশীরা বলত: "ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ; কোনো কিছুরই অভাব নেই; ওর তো মরবারই দরকার নেই।"
ইলিয়াসের দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।
ইলিয়াসের বড়ো ছেলে এক মারামারিতে পড়ে মারা গিয়েছিল।
ইলিয়াসের ছোটো ছেলে এক ঝগড়াটে বউ বিয়ে করার পর বাপের আদেশ অমান্য করতে শুরু করেছিল, তাই ইলিয়াস তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
ইলিয়াসের সম্পত্তি কমে যাওয়ার দুটি কারণ হলো— (১) ভেড়ার পালে মড়ক লাগা এবং (২) কিরবিজরা তার সেরা ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে যাওয়া।
সর্বহারা হওয়ার পর বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের প্রতিবেশী মহম্মদ শা আশ্রয় দিয়েছিল।
মহম্মদ শা ইলিয়াসকে গ্রীষ্মে তরমুজের ক্ষেতে কাজ এবং শীতে গোরু-ঘোড়াকে খাওয়ানোর কাজ দিয়েছিল।
ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি মহম্মদ শার বাড়িতে ঘোটকীগুলোকে দোহন করত এবং কুমিস তৈরি করত।
মহম্মদ শার বাড়িতে আসা একজন অতিথি ইলিয়াসের ধনী থেকে সর্বহারা হওয়ার কাহিনী শুনে এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
ইলিয়াস অতিথিদের তার স্ত্রী শাম-শেমাগির কাছে সুখ-দুঃখের প্রকৃত সত্যতা জানতে বলল।
শাম-শেমাগির মতে, যখন তারা সর্বস্ব হারিয়ে মহম্মদ শার বাড়িতে ভাড়াটে মজুরের মতো কাজ করছে, তখনই তারা সত্যিকারের সুখ পেয়েছে।
ধনী থাকাকালীন ইলিয়াস দম্পতির একে অপরের সাথে কথা বলার, অন্তরের কথা ভাববার বা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবার সময় ছিল না।
ধনী অবস্থায় ইলিয়াসের দুটি দুশ্চিন্তা ছিল— (১) নেকড়ে বা চোর গোরু-ঘোড়ার ক্ষতি করতে পারে, এবং (২) ভেড়ি হয়তো ছানাগুলোকে চেপে মেরে ফেলল।
ভাড়াটে মজুররা ফাঁকি দিচ্ছে কিনা, সেই স্বার্থে তাদের উপর কড়া নজর রাখাকে শাম-শেমাগি 'পাপ' বলেছেন।
সেই সত্যটি হলো— জাগতিক সম্পত্তিতে প্রকৃত সুখ নেই; প্রকৃত সুখ আছে দুশ্চিন্তাহীন, শান্ত ও ধর্মময় জীবনে।
মোল্লা বলেছিলেন যে, ইলিয়াসের কথাগুলি খুবই জ্ঞানের কথা, যা সত্য এবং পবিত্র গ্রন্থেও লেখা আছে।
ইলিয়াস গল্পটি বাংলায় তর্জমা করেছেন মণীন্দ্র দত্ত।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
লিও তলস্তয়ের 'ইলিয়াস' গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র ইলিয়াস কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সম্পদশালী হয়ে উঠেছিল। বাবার মৃত্যুর পর সে সামান্য সম্পত্তি (সাতটি ঘোটকী, দুটি গোরু ও কুড়িটি ভেড়া) নিয়ে জীবন শুরু করে। কিন্তু ৩৫ বছর ধরে তার ও তার স্ত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমে সে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়। তার দুশো ঘোড়া, দেড়শো গোরু-মোষ এবং বারোশো ভেড়া হয়।
কিন্তু তার এই সমৃদ্ধি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তার পতনের কারণগুলি হলো:
- পারিবারিক ভাঙন: ইলিয়াসের ছেলেরা বড়োলোক হয়ে আয়েশি হয়ে ওঠে। বড়ো ছেলে এক মারামারিতে মারা যায়। ছোটো ছেলে ঝগড়াটে বউ বিয়ে করে বাপের অবাধ্য হলে, ইলিয়াস তাকে সম্পত্তি ভাগ করে তাড়িয়ে দেয়, ফলে সম্পত্তিতে টান পড়ে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ইলিয়াসের ভেড়ার পালে মড়ক লেগে অনেক ভেড়া মারা যায়। পরের বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ায় খড়ের অভাবে শীতকালে অনেক গোরু-মোষ না খেয়ে মারা যায়।
- বাহ্যিক শত্রু: 'কিরবিজ' নামে এক যাযাবর দস্যু দল তার সবচেয়ে ভালো ঘোড়াগুলি চুরি করে নিয়ে যায়।
এইভাবে একের পর এক বিপর্যয়ে তার অবস্থা পড়তে থাকে। সত্তর বছর বয়সে ইলিয়াস বাধ্য হয়ে তার পশমের কোট, কম্বল, তাঁবু এবং সবশেষে গৃহপালিত পশুগুলোকেও বিক্রি করে দিয়ে সম্পূর্ণ সর্বহারা হয়ে পড়ে।
এই উক্তিটির বক্তা হলেন ইলিয়াসের স্ত্রী শাম-শেমাগি।
ইলিয়াস ও তার স্ত্রী যখন ধনী ছিল, তখন তাদের সুখ ছিল না কারণ তাদের মনে কোনো শান্তি ছিল না। এর কারণগুলি হলো:
অবিরাম দুশ্চিন্তা: শাম-শেমাগির মতে, ধনী অবস্থায় তাদের এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি ছিল না।
- অতিথিদের নিয়ে দুশ্চিন্তা: অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন ও উপহার নিয়ে ভাবতে হতো, যাতে লোকে নিন্দা না করে।
- সম্পত্তি রক্ষার দুশ্চিন্তা: নেকড়ে বাঘে বাছুর বা ঘোড়ার বাচ্চা নিয়ে গেল কিনা, বা চোর এসে ঘোড়া চুরি করল কিনা—এই ভয়ে তাদের রাতে ঘুম হতো না। ভেড়ি ছানাগুলোকে চেপে মেরে ফেলল কিনা, সেই দুশ্চিন্তাও থাকত।
- পরিচালনার দুশ্চিন্তা: মজুরদের উপর কড়া নজর রাখতে হতো, যা তাদের কাছে 'পাপ' বলে মনে হতো। শীতের জন্য যথেষ্ট খড় মজুত আছে কিনা, তা নিয়েও ভাবতে হতো।
পাপ ও অশান্তি: শাম-শেমাগি মনে করতেন, মজুরদের স্বার্থপরতার উপর নজরদারি করা যেমন পাপ, তেমনই সামান্য বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া করাও পাপ। এইভাবে এক দুশ্চিন্তা থেকে আরেক দুশ্চিন্তায়, এক পাপ থেকে আরেক পাপে তাদের দিন কাটত।
বিপরীতে, সর্বহারা হয়ে যখন তারা মহম্মদ শার বাড়িতে কাজ করে, তখন তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তাদের একমাত্র কাজ প্রভুর সেবা করা। তাদের খাবার, আশ্রয় বা শীতবস্ত্র নিয়ে ভাবতে হয় না। এখন তারা একে অপরের সাথে শান্তিতে কথা বলতে পারে এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার অফুরন্ত সময় পায়। এই দুশ্চিন্তাহীন জীবনকেই শাম-শেমাগি 'সত্যিকারের সুখ' বলে অভিহিত করেছেন।
মহম্মদ শার বাড়িতে আসা একজন অতিথি ইলিয়াসের পরিচয় পেয়ে এই মন্তব্যটি করেছিলেন।
মন্তব্যের কারণ: মহম্মদ শা অতিথিদের জানান যে, দরজার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বৃদ্ধ মজুরটি হলো একসময়ের এই তল্লাটের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলিয়াস। অতিথিরা ইলিয়াসের নামডাক আগে শুনেছিলেন। সেইরকম একজন বিপুল ধনী ও সম্মানিত ব্যক্তি আজ সর্বহারা হয়ে অন্যের বাড়িতে মজুরের মতো কাজ করছে শুনে, অতিথি বিস্মিত হয়ে ভাগ্যের এই পরিবর্তনকে 'চাকার মতো' ঘোরার সাথে তুলনা করেছেন।
সার্থকতা: 'ইলিয়াস' গল্পে এই মন্তব্যটি অত্যন্ত সার্থক। ভাগ্যের চাকা সত্যিই ঘুরেছিল।
- চাকার ঊর্ধ্বগতি: ইলিয়াস তার জীবনের প্রথম ৩৫ বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে চরম ধনসম্পদের শিখরে আরোহণ করেছিল। এটি ছিল ভাগ্যের চাকার ঊর্ধ্বগতি।
- চাকার নিম্নগতি: পরবর্তীকালে, ছেলেদের অবাধ্যতা, মড়ক, দুর্ভিক্ষ এবং দস্যুদের হানায় সে আবার চরম দারিদ্র্যের অন্ধকারে নেমে আসে। এটি ভাগ্যের চাকার নিম্নগতি।
গল্পের শেষে এই ভাগ্যের পরিবর্তনই ইলিয়াসকে এক নতুন সত্যের সন্ধান দেয়। সে বুঝতে পারে যে, সম্পদ ও খ্যাতি হলো অস্থায়ী, কিন্তু জীবনের প্রকৃত সুখ হলো দুশ্চিন্তাহীন শান্তি। সুতরাং, ভাগ্যের এই চক্রাকার আবর্তনই গল্পের মূল ভাবনাকে প্রকাশ করতে সাহায্য করেছে।
'ইলিয়াস' গল্পে মহম্মদ শা একটি পার্শ্বচরিত্র হলেও, গল্পের মূলভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব অপরিসীম।
মহম্মদ শার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য:
- সহৃদয় ও পরোপকারী: মহম্মদ শা নিজে খুব ধনী না হলেও তার মন ছিল সম্পদে পূর্ণ। সে ইলিয়াসের অতীত অতিথি-বৎসলতার কথা মনে রেখেছিল। যখন ইলিয়াস সর্বহারা হয়ে পড়ে, তখন মহম্মদ শাই একমাত্র ব্যক্তি যে করুণা অনুভব করে এবং বৃদ্ধ দম্পতিকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়।
- সদ্বিবেচক: সে ইলিয়াসদের শুধু আশ্রয় দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ দিয়ে আত্মসম্মানের সাথে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। সে ইলিয়াসকে তরমুজের ক্ষেতে ও পশুপালনে এবং শাম-শেমাগিকে কুমিস তৈরির কাজে নিযুক্ত করে।
- মর্যাদাশীল: ইলিয়াস ও তার স্ত্রী তার বাড়িতে মজুরের মতো থাকলেও, মহম্মদ শা তাদের সম্মান করতেন। তিনি জানতেন যে এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা একসময় মনিব ছিল, তাই তারা সব কাজ ভালোভাবে করতে পারে। তিনি অতিথিদের সামনেও ইলিয়াসকে 'বাবাই' (Baba) বলে সম্বোধন করে ডেকে আনেন এবং কুমিস পান করতে দেন।
গল্পে তার গুরুত্ব: মহম্মদ শা না থাকলে ইলিয়াস ও তার স্ত্রীর শেষ জীবনে কী হতো, তা বলা কঠিন। তার বাড়িতে আশ্রয় পেয়েই ইলিয়াস দম্পতি সেই 'সত্যিকারের সুখ'-এর সন্ধান পায়। মহম্মদ শার বাড়িতে অতিথিদের আগমন এবং তার সূত্রেই ইলিয়াসের সাথে অতিথিদের কথোপকথন—এই ঘটনাই গল্পের মূল সত্যটিকে (সম্পত্তিতে সুখ নেই, শান্তিতেই সুখ) উদ্ঘাটন করেছে। তাই মহম্মদ শা চরিত্রটি গল্পের প্রধান বাঁকটি রচনায় সাহায্য করেছে।
লিও তলস্তয়ের 'ইলিয়াস' গল্পে উল্লিখিত 'সত্য'টি হলো— জাগতিক ধনসম্পদ, খ্যাতি বা প্রতিপত্তি মানুষকে প্রকৃত সুখ বা শান্তি দিতে পারে না। প্রকৃত সুখ নিহিত আছে দুশ্চিন্তাহীন, সরল, এবং ঈশ্বরচিন্তায় মগ্ন এক জীবনে।
সত্য উন্মোচনের প্রক্রিয়া:
ইলিয়াস ও তার স্ত্রী শাম-শেমাগি পঞ্চাশ বছর ধরে এই সত্যটি খুঁজেছেন।
ধনী জীবনের অভিজ্ঞতা: যখন তারা ধনী ছিলেন, তখন প্রতিবেশীরা তাদের 'ভাগ্যবান' বলত। কিন্তু ইলিয়াস দম্পতি তখন এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে ছিলেন না। তাদের জীবন ছিল অবিরাম দুশ্চিন্তায় ভরা—অতিথিদের আপ্যায়নের দুশ্চিন্তা, মজুরদের ওপর নজরদারির পাপ, নেকড়ে বা চোরের হাতে সম্পত্তি হারানোর ভয়, এবং একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদ। তাদের অন্তরের কথা ভাবার বা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার সময়ও ছিল না।
দরিদ্র জীবনের অভিজ্ঞতা: ভাগ্যের ফেরে যখন তারা সর্বহারা হয়ে মহম্মদ শার বাড়িতে মজুরের কাজ নিলেন, তখন তাদের বাহ্যিক কষ্ট হলেও মানসিক শান্তি এলো। এখন তাদের কোনো সম্পত্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। প্রভুর সেবা করে তারা খাবার ও আশ্রয় পান। তাদের জীবনে এখন অফুরন্ত সময়—একে অপরের সাথে সুখ-শান্তির কথা বলার এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার।
এইভাবেই, জীবনের সমস্ত সম্পদ হারিয়ে, একেবারে শূন্য অবস্থায় পৌঁছে ইলিয়াস দম্পতি জীবনের সেই পরম 'সত্য'কে উন্মোচিত হতে দেখেন। তারা বুঝতে পারেন, সম্পত্তি হারানোর জন্য দুঃখ করাটা ছিল তাদের 'অবুঝ' মনের পরিচয়। ঈশ্বর তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে আসলে তাদের প্রকৃত কল্যাণের পথই দেখিয়েছেন।