পরিবেশ ও সম্পদ

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)

'পরিবেশ ও সম্পদ' অধ্যায়ে আমাদের চারপাশের প্রকৃতিতে থাকা বিভিন্ন সম্পদ এবং মানুষের বুদ্ধি ও শ্রম দিয়ে তৈরি সম্পদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন—কোথাও উর্বর মাটি, কোথাও পাথর, কোথাও কয়লা বা জঙ্গল—কীভাবে সেখানকার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও, মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি ও স্বাস্থ্যকে কীভাবে একটি বড় সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত জ্ঞান (যেমন—গাছপালার ঔষধি গুণ, কারুশিল্প) কীভাবে সমাজের কাজে লাগে, তা আলোচিত হয়েছে। সবশেষে, দেশের মনীষী, বিজ্ঞানী, সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করা হয়েছে এবং তাঁদের অবদানকে আমাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে সম্মান জানানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)

প্রাকৃতিক সম্পদ

প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া সম্পদ যা মানুষের কাজে লাগে, যেমন—মাটি, জল, বায়ু, খনিজ পদার্থ (কয়লা, পাথর), অরণ্য ইত্যাদি।

মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ

প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষ তার বুদ্ধি, জ্ঞান ও শ্রম দিয়ে যে নতুন সম্পদ তৈরি করে, তাকে মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ বলে। যেমন—ইট, বাড়ি, বাসনপত্র, বিদ্যুৎ ইত্যাদি।

পারিবারিক বা ঐতিহ্যগত জ্ঞান

যে জ্ঞান কোনো বইতে লেখা থাকে না, কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বাহিত হয়। যেমন—গাছগাছড়ার ঔষধি গুণ, বিশেষ কোনো রান্না বা কারুশিল্পের কৌশল।

মনীষী

যাঁরা তাঁদের জ্ঞান, কর্ম ও চিন্তা দিয়ে সমাজ ও দেশের উন্নতি করেছেন এবং মানুষকে নতুন পথ দেখিয়েছেন, তাঁদের মনীষী বলা হয়। যেমন—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

সাধারণতন্ত্র দিবস

১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের নিজস্ব সংবিধান চালু হয় এবং দেশ একটি সাধারণতন্ত্র রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করা হয়।

স্বাধীনতা দিবস

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।

প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. লালমাটি অঞ্চলের একটি প্রধান সমস্যা কী?




সঠিক উত্তর: B. জল না দাঁড়ানো

বিশ্লেষণ: লালমাটির জলধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় জল সহজে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, ফলে ধান চাষের অসুবিধা হয়।

২. কার্শিয়াং-এর জমি খুব ঢালু হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কীসের বাগান দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: C. চা

বিশ্লেষণ: পাহাড়ি ঢালু জমিতে চা চাষ ভালো হয়, কারণ চা গাছের গোড়ায় জল জমা ক্ষতিকর। তাই কার্শিয়াং-এ সবুজ চা-বাগান দেখা যায়।

৩. ইট পোড়ানো এবং বিদ্যুৎ তৈরিতে কোন প্রাকৃতিক সম্পদটি প্রয়োজন হয়?




সঠিক উত্তর: C. কয়লা

বিশ্লেষণ: কয়লা একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম জ্বালানি যা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

৪. মানুষের সবচেয়ে বড়ো দুটি সম্পদ কী?




সঠিক উত্তর: B. স্বাস্থ্য ও বুদ্ধি

বিশ্লেষণ: ভালো স্বাস্থ্য মানুষকে পরিশ্রম করতে সাহায্য করে এবং বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে মানুষ নতুন সম্পদ তৈরি করতে পারে। তাই এ দুটিই শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

৫. আদিম মানুষ প্রথমে কীসে রান্না করত?




সঠিক উত্তর: C. জ্বলন্ত কাঠের আগুনে ঝলসে

বিশ্লেষণ: আগুন আবিষ্কারের পর মানুষ প্রথমে পাত্র ছাড়াই সরাসরি আগুনে মাংস ঝলসে খেত। মাটির পাত্রের ব্যবহার অনেক পরে শুরু হয়।

৬. পারিবারিক সম্পদ হিসেবে কোন জ্ঞানটি এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে যায়?




সঠিক উত্তর: B. গাছপালার ঔষধি গুণ

বিশ্লেষণ: গাছগাছড়া থেকে ওষুধ তৈরির জ্ঞান প্রায়শই পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে বাহিত হয়।

৭. নকশিকাটা কাঁথা তৈরি কী ধরনের সম্পদ?




সঠিক উত্তর: C. ব্যক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতার সম্পদ

বিশ্লেষণ: নকশিকাটা কাঁথা তৈরির দক্ষতা একটি বিশেষ শিল্পকলা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় এবং এটি একটি সাংস্কৃতিক সম্পদ।

৮. সতীদাহ প্রথার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. রাজা রামমোহন রায়

বিশ্লেষণ: রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক যিনি সতীদাহ প্রথার মতো সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং এটি বন্ধ করতে সহায়তা করেন।

৯. মেয়েদের পড়াশোনার জন্য কে বিশেষভাবে চেষ্টা করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: A. বেগম রোকেয়া ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিশ্লেষণ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং বেগম রোকেয়া উভয়েই নারীশিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

১০. প্লেগরোগীদের সেবা কে করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. ভগিনী নিবেদিতা

বিশ্লেষণ: স্বামী বিবেকানন্দের শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতা কলকাতায় প্লেগ মহামারীর সময় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা করেছিলেন।

১১. আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কী আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত?




সঠিক উত্তর: B. গাছের প্রাণ আছে প্রমাণ করা

বিশ্লেষণ: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেস্কোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ ও অনুভূতি আছে।

১২. আজাদ হিন্দ ফৌজ কে গঠন করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

বিশ্লেষণ: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' নামে এক সেনাবাহিনী গঠন করেন।

১৩. 'মাস্টারদা' নামে কে পরিচিত ছিলেন?




সঠিক উত্তর: B. সূর্য সেন

বিশ্লেষণ: সূর্য সেন পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নেতা ছিলেন। তিনি তাঁর অনুগামীদের কাছে 'মাস্টারদা' নামে পরিচিত ছিলেন।

১৪. 'গান্ধিবুড়ি' নামে কে পরিচিত ছিলেন?




সঠিক উত্তর: D. মাতঙ্গিনী হাজরা

বিশ্লেষণ: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবং গান্ধিজির অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী হওয়ায় মানুষ তাঁকে ভালোবেসে ও শ্রদ্ধা করে 'গান্ধিবুড়ি' বলত।

১৫. ভারতের সংবিধান কে রচনা করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর

বিশ্লেষণ: ডঃ বি. আর. আম্বেদকর ছিলেন ভারতের সংবিধানের খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান এবং সংবিধান রচনায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রধান।

১৬. শিক্ষক দিবস কার জন্মদিনে পালন করা হয়?




সঠিক উত্তর: B. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ

বিশ্লেষণ: ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণ একজন মহান শিক্ষক ও দার্শনিক এবং ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি ও দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তাঁর জন্মদিন (৫ই সেপ্টেম্বর) শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৭. শিশু দিবস কার জন্মদিনে পালন করা হয়?




সঠিক উত্তর: C. জওহরলাল নেহরু

বিশ্লেষণ: স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তাই তাঁর জন্মদিন (১৪ই নভেম্বর) ভারতে শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৮. সাধারণতন্ত্র দিবস কবে পালন করা হয়?




সঠিক উত্তর: B. ২৬শে জানুয়ারি

বিশ্লেষণ: ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। তাই এই দিনটি সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়।

১৯. বাঁশের কেল্লা কে বানিয়েছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. তিতুমির

বিশ্লেষণ: তিতুমির ইংরেজ এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নারকেলবেড়িয়াতে একটি বিখ্যাত বাঁশের কেল্লা তৈরি করেছিলেন।

২০. বনভূমিতে বসবাসের অধিকার রক্ষার জন্য কে লড়াই করেছিলেন?




সঠিক উত্তর: B. বীরসা মুণ্ডা

বিশ্লেষণ: বীরসা মুণ্ডা আদিবাসী মুণ্ডা সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে বন ও জমির অধিকার রক্ষার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন।

২১. স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী কে ছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. মৌলানা আবুল কালাম আজাদ

বিশ্লেষণ: মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী।

২২. 'সাধারণতন্ত্র' কথার অর্থ কী?




সঠিক উত্তর: B. সাধারণ মানুষই দেশ চালাবে

বিশ্লেষণ: সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে দেশের প্রধান বংশানুক্রমিক হন না, বরং তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন।

২৩. কোন মনীষী বিধবা বিবাহ প্রচলন করেন?




সঠিক উত্তর: B. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বিশ্লেষণ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন মহান সমাজ সংস্কারক যিনি বিধবা বিবাহের পক্ষে আইন পাশ করানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

২৪. "বইতে মুখ ডুবিয়ে বসে থেকো না। ফুটবল খেলো"—কে বলেছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. স্বামী বিবেকানন্দ

বিশ্লেষণ: স্বামী বিবেকানন্দ যুব সমাজকে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর ও মনকে সুস্থ ও শক্তিশালী করার কথা বলতেন।

২৫. ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করা একজন নারী বিপ্লবী হলেন—




সঠিক উত্তর: C. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

বিশ্লেষণ: প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন এবং চট্টগ্রামের ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

২৬. অরণ্য সপ্তাহ পালনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?




সঠিক উত্তর: B. নতুন গাছ লাগানো ও অরণ্য রক্ষা

বিশ্লেষণ: অরণ্য সপ্তাহ পালনের মূল লক্ষ্য হল বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অরণ্য ধ্বংস রোধ করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।

২৭. কোন বাঙালি বিজ্ঞানী 'বেঙ্গল কেমিক্যাল' প্রতিষ্ঠা করেন?




সঠিক উত্তর: D. প্রফুল্লচন্দ্র রায়

বিশ্লেষণ: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত রসায়নবিদ এবং তিনিই ভারতে প্রথম রাসায়নিক শিল্প 'বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস' প্রতিষ্ঠা করেন।

২৮. সিধো ও কানহু কোন বিদ্রোহের নেতা ছিলেন?




সঠিক উত্তর: B. সাঁওতাল বিদ্রোহ

বিশ্লেষণ: সিধো মুর্মু ও কানহু মুর্মু ছিলেন ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের প্রধান নেতা, যা ইংরেজ ও জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল।

২৯. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে পালিত হয়?




সঠিক উত্তর: A. ৫ই জুন

বিশ্লেষণ: পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়।

৩০. 'বাঘা যতীন' নামে কে পরিচিত?




সঠিক উত্তর: C. যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়

বিশ্লেষণ: বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় খালি হাতে একটি বাঘকে মেরে ফেলার জন্য 'বাঘা যতীন' নামে খ্যাতি লাভ করেন।

৩১. মাটির পাত্রকে শক্ত করার জন্য কী করা হতো?




সঠিক উত্তর: C. আগুনে পোড়ানো হতো

বিশ্লেষণ: কাঁচা মাটির পাত্রকে টেকসই ও শক্ত করার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই তা আগুনে পুড়িয়ে নেওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে।

৩২. মানুষের বুদ্ধি কীভাবে সময়ের সাথে বিকশিত হয়েছে?




সঠিক উত্তর: C. একজনের থেকে অন্যজন শিখে এবং তাকে আরও উন্নত করে

বিশ্লেষণ: মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়। একজন কিছু আবিষ্কার করলে, পরবর্তী প্রজন্ম তা শিখে এবং নিজের বুদ্ধি দিয়ে তাকে আরও উন্নত করে। এভাবেই সভ্যতার অগ্রগতি হয়।

৩৩. 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও

বিশ্লেষণ: হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদের মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদে উদ্বুদ্ধ করেন, যা 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলন নামে পরিচিত।

৩৪. দিঘায় কোন প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে মূর্তি গড়া হয়?




সঠিক উত্তর: D. ঝিনুক

বিশ্লেষণ: সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় সমুদ্র থেকে পাওয়া ঝিনুক দিয়ে নানা ধরনের সুন্দর মূর্তি ও ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করা হয়।

৩৫. আঞ্চলিক ঐতিহ্য রক্ষা করা উচিত কেন?




সঠিক উত্তর: B. কারণ সেগুলি আমাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অংশ

বিশ্লেষণ: টেরাকোটার কাজ, মাদুর শিল্প বা সরপুরিয়ার মতো আঞ্চলিক ঐতিহ্যগুলি আমাদের এলাকার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচিতিকে বহন করে। তাই এগুলিকে হারিয়ে যেতে না দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

৩৬. বন ও পাহাড় আমাদের কীভাবে সাহায্য করে?




সঠিক উত্তর: A. অক্সিজেন দেয় ও বৃষ্টি হতে সাহায্য করে

বিশ্লেষণ: বন আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন দেয় এবং বন ও পাহাড় রাজ্যে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে, যা থেকে আমরা চাষের জল পাই।

৩৭. ভারতের স্বাধীনতা দিবস কবে পালিত হয়?




সঠিক উত্তর: B. ১৫ই আগস্ট

বিশ্লেষণ: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

৩৮. ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে কোন বিপ্লবীর নাম যুক্ত?




সঠিক উত্তর: B. প্রফুল্ল চাকি

বিশ্লেষণ: ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি একসঙ্গে অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।

৩৯. "এক অঞ্চলের উন্নতিতে অন্য অঞ্চলকে এগিয়ে আসতে হবে" – এর অর্থ কী?




সঠিক উত্তর: B. সব অঞ্চলের সম্পদ ভাগ করে নিতে হবে

বিশ্লেষণ: দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ (যেমন - সমতলের ফসল এবং মালভূমির খনিজ) সকলের প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত।

৪০. বিনয়-বাদল-দীনেশ কোথায় আক্রমণ চালিয়েছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. রাইটার্স বিল্ডিং

বিশ্লেষণ: তিন বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত এবং দীনেশ গুপ্ত কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং (বর্তমানে বি.বা.দী. বাগ) আক্রমণ করে অত্যাচারী কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যা করেন।

৪১. কোন মনীষীর আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত?




সঠিক উত্তর: B. স্বামী বিবেকানন্দ

বিশ্লেষণ: স্বামী বিবেকানন্দের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত।

৪২. আমাদের জাতীয় সঙ্গীত 'জনগণমন' কে রচনা করেন?




সঠিক উত্তর: B. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্লেষণ: ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'জনগণমন অধিনায়ক জয় হে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচনা করেন।

৪৩. 'বন্দেমাতরম' সঙ্গীতটি কার লেখা?




সঠিক উত্তর: C. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

বিশ্লেষণ: ভারতের জাতীয় স্তোত্র 'বন্দেমাতরম' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

৪৪. মুখোশ পরে নাচ করা হয় কোন অনুষ্ঠানে?




সঠিক উত্তর: B. ছৌনাচ

বিশ্লেষণ: পুরুলিয়ার ছৌনাচ একটি বিখ্যাত লোকনৃত্য যেখানে শিল্পীরা বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রের মুখোশ পরে নাচ করেন।

৪৫. একটি আঞ্চলিক ঐতিহ্য হল—




সঠিক উত্তর: C. সুন্দর মাদুর বোনা

বিশ্লেষণ: মাদুর বোনা, বিশেষ করে মেদিনীপুরের মাদুরকাঠি দিয়ে তৈরি মাদুর, একটি বিখ্যাত আঞ্চলিক হস্তশিল্প ও ঐতিহ্য।

৪৬. উৎসব পালন করা প্রয়োজন কেন?




সঠিক উত্তর: B. সবার সাথে মেলামেশা হয় এবং সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে

বিশ্লেষণ: উৎসবের মাধ্যমে মানুষ একত্রিত হয়, ভাবের আদান-প্রদান করে এবং নাচ, গান, অভিনয়ের মতো সাংস্কৃতিক কাজকর্মের চর্চা ও বিকাশ হয়।

৪৭. ভগৎ সিং কোন বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন

বিশ্লেষণ: ভগৎ সিং ছিলেন হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্রধান নেতা এবং তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেন।

৪৮. একজন মানুষের বুদ্ধি দিয়ে তৈরি সম্পদ হল—




সঠিক উত্তর: B. গ্যাসের উনুন

বিশ্লেষণ: কয়লা, জল, সূর্যের আলো প্রাকৃতিক সম্পদ। কিন্তু গ্যাসের উনুন মানুষ তার বুদ্ধি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে, তাই এটি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ।

৪৯. দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া প্রথম সারির বিপ্লবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন—




সঠিক উত্তর: B. ক্ষুদিরাম বসু

বিশ্লেষণ: মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতার জন্য ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান তাঁকে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বিপ্লবীদের একজনে পরিণত করেছে।

৫০. কল্পনা দত্ত কোন বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন

বিশ্লেষণ: কল্পনা দত্ত ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের একজন সক্রিয় সদস্য এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

৫১. কোন অঞ্চলে ধান চাষ ভালো হয়?




সঠিক উত্তর: B. যেখানে জমির ঢাল খুব কম ও জল দাঁড়ায়

বিশ্লেষণ: ধান চাষের জন্য জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকা প্রয়োজন। তাই কম ঢালযুক্ত সমতল জমিতে ধান চাষ সবচেয়ে ভালো হয়।

৫২. একজন মনীষী হলেন তিনি, যিনি...




সঠিক উত্তর: B. নিজের জ্ঞান ও কাজ দিয়ে দেশের ভালো করেন

বিশ্লেষণ: মনীষীরা তাঁদের লেখা, চিন্তা এবং কাজের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের মঙ্গলের জন্য পথ দেখান, তাই তাঁরা আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

প্রশ্ন ১: সম্পদ কাকে বলে?

উত্তর: প্রকৃতিতে থাকা বা মানুষের দ্বারা তৈরি যে সমস্ত জিনিস আমাদের কোনো না কোনো প্রয়োজনে বা কাজে লাগে, তাদের সম্পদ বলে।

প্রশ্ন ২: দুটি প্রাকৃতিক ও দুটি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদের উদাহরণ দাও।

উত্তর: দুটি প্রাকৃতিক সম্পদ হল—কয়লা ও কাঠ। দুটি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ হল—ইট ও বিদ্যুৎ।

প্রশ্ন ৩: স্বাস্থ্য ও বুদ্ধিকে কেন সম্পদ বলা হয়?

উত্তর: ভালো স্বাস্থ্য আমাদের পরিশ্রম করার ক্ষমতা দেয় এবং বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন জিনিস তৈরি করতে ও সমস্যার সমাধান করতে পারি, তাই এ দুটিকে সম্পদ বলা হয়।

প্রশ্ন ৪: আগেকার দিনের মানুষ কীভাবে রান্নার পাত্র তৈরি করত?

উত্তর: আগেকার দিনের মানুষ প্রথমে কাদা মাটি দিয়ে হাঁড়ি বা কড়ার মতো পাত্র তৈরি করত এবং পরে সেটিকে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত ও টেকসই করে নিত।

প্রশ্ন ৫: ঐতিহ্যগত জ্ঞান বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে জ্ঞান সাধারণত বইপত্রে লেখা থাকে না, কিন্তু পরিবারের মধ্যে বা স্থানীয়ভাবে গুরু-শিষ্য পরম্পরায় এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বাহিত হয়, তাকে ঐতিহ্যগত জ্ঞান বলে। যেমন—ঝুড়ি বানানো বা ভেষজ চিকিৎসা।

প্রশ্ন ৬: দুজন সমাজ সংস্কারকের নাম লেখো।

উত্তর: দুজন সমাজ সংস্কারক হলেন রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

প্রশ্ন ৭: নারীশিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়ার অবদান কী ছিল?

উত্তর: বেগম রোকেয়া মেয়েদের পড়াশোনা শেখানোর জন্য এবং সমাজের কুসংস্কার দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁদের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

প্রশ্ন ৮: আমরা মনীষীদের স্মরণ করি কেন?

উত্তর: মনীষীরা তাঁদের কাজ ও চিন্তাভাবনা দিয়ে আমাদের সমাজ ও দেশকে উন্নত করেছেন, তাই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের কাজ থেকে শিক্ষা নিতে আমরা তাঁদের স্মরণ করি।

প্রশ্ন ৯: নেতাজি ও গান্ধিজির মধ্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের পথের মূল পার্থক্য কী ছিল?

উত্তর: গান্ধিজি অহিংসা ও सत्याগ্রহের মাধ্যমে ইংরেজদের বিরোধিতা করেছিলেন, অন্যদিকে নেতাজি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অর্থাৎ সেনাবাহিনী গঠন করে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১০: ভারতের সংবিধানের প্রধান রূপকার কে?

উত্তর: ভারতের সংবিধানের প্রধান রূপকার ছিলেন ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর।

প্রশ্ন ১১: স্বাধীনতা দিবস ও সাধারণতন্ত্র দিবসের মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তাই এই দিনটি স্বাধীনতা দিবস। আর ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি স্বাধীন ভারতের নিজস্ব সংবিধান চালু হয়, তাই এই দিনটি সাধারণতন্ত্র দিবস।

প্রশ্ন ১২: তিতুমিরের লড়াইয়ের গুরুত্ব কী?

উত্তর: তিতুমির বাঁশের কেল্লা বানিয়ে সাধারণ মানুষদের নিয়ে ইংরেজ ও জমিদারদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে অনেক মানুষকে স্বাধীনতার জন্য লড়তে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

প্রশ্ন ১৩: দুটি আঞ্চলিক ঐতিহ্যের নাম লেখো।

উত্তর: দুটি আঞ্চলিক ঐতিহ্য হল বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার কাজ এবং দিঘার ঝিনুকের মূর্তি।

প্রশ্ন ১৪: বীরসা মুণ্ডা কাদের বিরুদ্ধে এবং কেন লড়াই করেছিলেন?

উত্তর: বীরসা মুণ্ডা আদিবাসী মানুষদের নিয়ে তাঁদের বনভূমি ও জমির অধিকার রক্ষার জন্য ইংরেজ এবং তাদের সহযোগী জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৫: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের একটি বড় অবদান উল্লেখ করো।

উত্তর: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন একজন মহান বিজ্ঞানী এবং ভারতে প্রথম রাসায়নিক শিল্প 'বেঙ্গল কেমিক্যাল' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রশ্ন ১৬: আমরা পরিবেশ দিবস পালন করি কেন?

উত্তর: পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এবং পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য আমরা পরিবেশ দিবস পালন করি।

প্রশ্ন ১৭: ডিরোজিও কীভাবে ছাত্রদের প্রভাবিত করেছিলেন?

উত্তর: ডিরোজিও তাঁর ছাত্রদের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করতে, যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে এবং মুক্তভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ১৮: মাতঙ্গিনী হাজরাকে 'গান্ধিবুড়ি' বলা হত কেন?

উত্তর: তিনি মহাত্মা গান্ধির অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন এবং বৃদ্ধ বয়সেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাই মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করে 'গান্ধিবুড়ি' বলত।

প্রশ্ন ১৯: স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর: স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওহরলাল নেহরু।

প্রশ্ন ২০: সব অঞ্চলের সম্পদ ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন কেন?

উত্তর: দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য সব অঞ্চলের সম্পদ ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ কোনো একটি অঞ্চল সব সম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে সবার মিলিত উন্নতি সম্ভব হয়।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: প্রাকৃতিক সম্পদ ও মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: প্রাকৃতিক সম্পদ ও মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল:

বিষয়প্রাকৃতিক সম্পদমনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ
উৎসএগুলি প্রকৃতি থেকে সরাসরি পাওয়া যায়।এগুলি মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে তৈরি করে।
উদাহরণমাটি, জল, কয়লা, পাথর, বনভূমি, সূর্যের আলো ইত্যাদি।ইট, সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, চেয়ার, টেবিল, কম্পিউটার ইত্যাদি।
নির্ভরশীলতামনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ তৈরির জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভর করতে হয়।এগুলি মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

উদাহরণস্বরূপ, মাটি একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এই মাটি এবং জল ব্যবহার করে মানুষ তার বুদ্ধি দিয়ে ইট তৈরি করে, যা একটি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ। আবার সেই ইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করে, যা আরেকটি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ।

প্রশ্ন ২: জ্ঞান ও দক্ষতাকে কেন সম্পদ বলা হয়? এই ধরনের সম্পদ হারিয়ে গেলে সমাজের কী ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: জ্ঞান ও দক্ষতাকে সম্পদ বলা হয় কারণ এগুলি ব্যবহার করে মানুষ নতুন জিনিস তৈরি করতে পারে, সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং নিজের ও সমাজের উন্নতি করতে পারে। যেমন, একজন কুমোরের মাটির পাত্র বানানোর দক্ষতা বা একজন চিকিৎসকের রোগ সারানোর জ্ঞান—এ সবই মূল্যবান সম্পদ।

এই ধরনের সম্পদ, বিশেষ করে ঐতিহ্যগত জ্ঞান (যেমন ভেষজ চিকিৎসা, বিশেষ ধরনের হস্তশিল্প) যদি হারিয়ে যায়, তাহলে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
(ক) সাংস্কৃতিক ক্ষতি: নকশিকাথা বা পটচিত্রের মতো শিল্পকলা হারিয়ে গেলে আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নষ্ট হয়ে যাবে।
(খ) জ্ঞানের বিলুপ্তি: বহু মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদের ঔষধি গুণের জ্ঞান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেরও ক্ষতি।
(গ) অর্থনৈতিক ক্ষতি: অনেক মানুষ এই সব ঐতিহ্যগত পেশার উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। সেই জ্ঞান হারিয়ে গেলে তাদের জীবিকাও সংকটে পড়বে।

প্রশ্ন ৩: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারমূলক দুটি কাজের বর্ণনা দাও।

উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর এক যুগান্তকারী সমাজ সংস্কারক। তাঁর দুটি প্রধান কাজ হল:
(ক) বিধবা বিবাহ প্রচলন: সেই সময়ে হিন্দু সমাজে বিধবাদের বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল এবং তাদের অত্যন্ত কঠোর জীবনযাপন করতে হতো। বিদ্যাসাগর শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশ সরকার বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ করে, যা ছিল নারীমুক্তির পথে এক বিশাল পদক্ষেপ।
(খ) নারীশিক্ষার প্রসার: বিদ্যাসাগর উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজের উন্নতি করতে হলে নারীদের শিক্ষিত করা অপরিহার্য। তিনি নিজের উদ্যোগে এবং সরকারি সহায়তায় বাংলার বিভিন্ন জেলায় ৩৫টিরও বেশি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এর ফলে মেয়েরা প্রথমবার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়।

প্রশ্ন ৪: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা ছিল অনন্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করতেন যে শুধুমাত্র অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়, এর জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের প্রয়োজন।
(ক) আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি জার্মানি ও জাপানের সহায়তায় সিঙ্গাপুরে 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' নামে এক বিশাল সেনাবাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনীর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ করে ব্রিটিশদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা।
(খ) বিখ্যাত স্লোগান: তিনি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" এবং "দিল্লি চলো" ধ্বনি তুলে ভারতবাসীকে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেন।
(গ) আজাদ হিন্দ সরকার: তিনি সিঙ্গাপুরে অস্থায়ী 'আজাদ হিন্দ সরকার' প্রতিষ্ঠা করেন।
যদিও তাঁর প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি, কিন্তু তাঁর বীরত্ব, ত্যাগ ও আপোসহীন সংগ্রাম ভারতের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছিল।

প্রশ্ন ৫: আমরা কেন বিভিন্ন দিবস (যেমন—পরিবেশ দিবস, শিক্ষক দিবস) পালন করি? এর গুরুত্ব কী?

উত্তর: আমরা বিভিন্ন বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং সেই দিনগুলির তাৎপর্য সবার কাছে তুলে ধরতে দিবস পালন করি। এর গুরুত্ব অপরিসীম:
(ক) সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবেশ দিবসের মতো দিনগুলি পালনের মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষা করার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হই। অরণ্য সপ্তাহে গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করি।
(খ) শ্রদ্ধা জ্ঞাপন: শিক্ষক দিবসে আমরা ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণাণকে স্মরণ করার পাশাপাশি আমাদের জীবনে শিক্ষকদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানাই। শিশু দিবসে জওহরলাল নেহরুর শিশুদের প্রতি ভালোবাসাকে স্মরণ করা হয়।
(গ) আদর্শকে মনে রাখা: স্বাধীনতা দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলি পালনের মাধ্যমে আমরা দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া বীরদের স্মরণ করি এবং দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হই।
এই দিবসগুলি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৬: "মানুষের বুদ্ধি যোগ হয়ে হয়ে আজকের সভ্যতা তৈরি হয়েছে।" — উক্তিটি রান্নার বিবর্তনের উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর: এই উক্তিটির অর্থ হল, কোনো একটি আবিষ্কার বা উদ্ভাবন একজন মানুষের হাত ধরে শুরু হলেও, সময়ের সাথে সাথে বহু মানুষের বুদ্ধি ও প্রচেষ্টা যুক্ত হয়ে তা উন্নততর হয়েছে। রান্নার বিবর্তনের দিকে তাকালে এটি পরিষ্কার বোঝা যায়।
প্রথম পর্যায়: মানুষ আগুন আবিষ্কার করার পর প্রথমে পাত্র ছাড়াই সরাসরি আগুনে মাংস ঝলসে খেত।
দ্বিতীয় পর্যায়: এরপর কোনো একজন বুদ্ধি করে নরম মাটি দিয়ে পাত্রের মতো কিছু একটা তৈরি করে। সে দেখে যে খাবার সংরক্ষণ ও রান্নায় সুবিধা হচ্ছে।
তৃতীয় পর্যায়: অন্য একজন সেই কাঁচা মাটির পাত্রকে আগুনে পুড়িয়ে শক্ত ও টেকসই করার কৌশল আবিষ্কার করে। এরপর শুরু হয় পোড়ামাটির হাঁড়ি, কড়া ইত্যাদির ব্যবহার।
চতুর্থ পর্যায়: বহু বছর পর মানুষ ধাতু আবিষ্কার করে এবং ধাতু গলিয়ে পাত্র তৈরি করতে শেখে। আসে তামা, কাঁসা, লোহার বাসন।
আধুনিক পর্যায়: পরবর্তীকালে বহু মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধি ও প্রযুক্তির বিকাশের ফলে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, প্রেসার কুকার, গ্যাসের উনুন এবং আজকের মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ইন্ডাকশন কুকারের মতো উন্নত সরঞ্জাম তৈরি হয়েছে।
এইভাবে, একজনের সামান্য ভাবনা থেকে শুরু হয়ে হাজার হাজার বছর ধরে অগণিত মানুষের বুদ্ধি যুক্ত হয়ে রান্নার মতো একটি সাধারণ কাজ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রশ্ন ৭: তিতুমির ও বীরসা মুণ্ডার লড়াইয়ের মধ্যে কী কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়?

উত্তর: তিতুমির এবং বীরসা মুণ্ডা ভিন্ন সময়ে এবং ভিন্ন অঞ্চলে লড়াই করলেও তাঁদের সংগ্রামের মধ্যে বেশ কিছু মিল ছিল:
(ক) প্রতিপক্ষ: উভয়েরই প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল ব্রিটিশ ইংরেজ শাসক এবং তাদের সহযোগী দেশীয় জমিদার ও মহাজনেরা।
(খ) কারণ: তাঁরা উভয়েই সাধারণ গরিব মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও আদিবাসীদের উপর শোষণ, অত্যাচার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তিতুমির জমিদারদের অতিরিক্ত কর আদায়ের বিরুদ্ধে এবং বীরসা মুণ্ডা আদিবাসীদের জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করেন।
(গ) নেতৃত্ব: দুজনেই ছিলেন carismatic নেতা, যাঁরা সাধারণ মানুষদের সংগঠিত করে একটি বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
(ঘ) অসম লড়াই: তাঁরা উভয়েই তির-ধনুক, তলোয়ারের মতো সাধারণ অস্ত্র নিয়ে ব্রিটিশদের আধুনিক কামান ও বন্দুকের বিরুদ্ধে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।
তাঁদের দুজনের লড়াই আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও, তা পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।

প্রশ্ন ৮: 'মনীষী' বলতে কী বোঝায়? পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন মনীষীর নাম ও তাঁদের একটি করে প্রধান অবদান উল্লেখ করো।

উত্তর: 'মনীষী' বলতে সেইসব মহান ব্যক্তিদের বোঝায়, যাঁরা তাঁদের असाधारण জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি এবং কাজের মাধ্যমে সমাজ, দেশ ও মানবজাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন মনীষী ও তাঁদের অবদান:
(ক) রাজা রামমোহন রায়: তিনি সতীদাহ প্রথার মতো жестокое সামাজিক প্রথা বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেন।
(খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি বিধবা বিবাহ আইনসিদ্ধ করেন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে বহু বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেন এবং শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
(ঘ) স্বামী বিবেকানন্দ: তিনি বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতির মহত্ত্ব তুলে ধরেন এবং দেশের যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাস ও সেবার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেন।
(ঙ) নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: তিনি 'আজাদ হিন্দ ফৌজ' গঠন করে ভারতের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করেন।

প্রশ্ন ৯: তোমার এলাকায় পাওয়া যায় এমন প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সেই সম্পদ ব্যবহার করে তৈরি হওয়া মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদগুলির একটি তালিকা তৈরি করো।

উত্তর: (এই উত্তরটি ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের এলাকা অনুযায়ী লিখবে। একটি নমুনা উত্তর নিচে দেওয়া হল।)

আমাদের এলাকাটি গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
প্রাকৃতিক সম্পদ:
১. উর্বর পলিমাটি
২. নদীর জল
৩. বাঁশ ও গাছপালা
৪. পুকুরের মাছ
৫. সূর্যের আলো

এইসব প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে তৈরি মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ:
১. পলিমাটি থেকে: ধান, পাট, আলু, বিভিন্ন শাকসবজি এবং মাটির হাঁড়ি, কলসি ও ইট।
২. নদীর জল থেকে: সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ এবং পানীয় জল।
৩. বাঁশ ও গাছপালা থেকে: ঘরের আসবাবপত্র (চেয়ার, টেবিল), ঝুড়ি, ঘরের ছাউনি এবং জ্বালানি কাঠ।
৪. পুকুরের মাছ থেকে: এটি একটি প্রধান খাদ্য সম্পদে পরিণত হয়েছে এবং বাজারে বিক্রি করে অর্থনৈতিক সম্পদ তৈরি হয়।
৫. সূর্যের আলো থেকে: অনেকে সোলার প্যানেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা একটি আধুনিক মনুষ্যসৃষ্ট সম্পদ।

প্রশ্ন ১০: ভারতের জাতীয় দিবসগুলির (স্বাধীনতা দিবস ও সাধারণতন্ত্র দিবস) তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ভারতের দুটি প্রধান জাতীয় দিবস হল স্বাধীনতা দিবস এবং সাধারণতন্ত্র দিবস। উভয়েরই তাৎপর্য অপরিসীম।
স্বাধীনতা দিবস (১৫ই আগস্ট): প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিপ্লবী এবং লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বীরত্বের প্রতীক। এই দিনে আমরা তাঁদের স্মরণ করি এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিই। এই দিনটি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আনন্দ এবং এক নতুন ভবিষ্যতের সূচনার প্রতীক।

সাধারণতন্ত্র দিবস (২৬শে জানুয়ারি): স্বাধীনতা লাভের পর ভারতের নিজস্ব একটি শাসনব্যবস্থা ও আইনকানুন প্রয়োজন ছিল। ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে ভারতের সংবিধান রচিত হয় এবং ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি তা কার্যকর হয়। এই দিন ভারত একটি 'সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটি আমাদের দেশের আইন, ন্যায় ও সমস্ত নাগরিকের সমান অধিকারের প্রতীক। এই দিনে দিল্লির রাজপথে বিশাল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যা ভারতের সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।