অধ্যায় ৪: সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা (Class 10 History Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় 'সংঘবদ্ধতার গোড়ার কথা: বৈশিষ্ট্য ও বিশ্লেষণ'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
ঔপনিবেশিক ভারতের প্রথম 'রাজপ্রতিনিধি' (Viceroy) ছিলেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভার কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
'বঙ্গদর্শন' প্রথম প্রকাশিত হয় Madhyamik 2025 (Sample)
-
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 'উন্নততর ভারতশাসন আইন' পাশ করেছিল Madhyamik 2024
-
ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হল Madhyamik 2024 & 2017
-
নবগোপাল মিত্র ছিলেন হিন্দুমেলার Madhyamik 2024
-
মহাবিদ্রোহকে (১৮৫৭) যে ব্রিটিশ লেখক 'সিপাহি বিদ্রোহ' আখ্যা দিয়েছেন Madhyamik 2023
-
চৈত্রমেলা, 'হিন্দুমেলা' রূপে পরিচিত হয় Madhyamik 2023
-
ভারতসভার প্রথম সভাপতি ছিলেন Madhyamik 2023 & 2018
-
'রাষ্ট্রগুরু' নামে পরিচিত ছিলেন Madhyamik 2022
-
মহাবিদ্রোহকে (১৮৫৭) 'কৃষক বিদ্রোহ' আখ্যা দিয়েছেন Madhyamik 2022
-
আনন্দ মোহন বসু ছিলেন ভারত সভার Madhyamik 2022
-
'বন্দেমাতরম' সঙ্গীতটি রচনা করেন Madhyamik 2022
-
মহারানির ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) প্রধান উদ্দেশ্য ছিল Madhyamik 2020
-
ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির সভাপতি ছিলেন Madhyamik 2020
-
হিন্দুমেলার সম্পাদক ছিলেন Madhyamik 2020
-
"বন্দেমাতরম্” সঙ্গীতটি রচিত হয় Madhyamik 2019
-
'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটি রচনা করেন Madhyamik 2019
-
গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন Madhyamik 2019
-
১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলেছেন Madhyamik 2018
-
ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অবসান ঘটে Madhyamik 2018
-
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলেছিলেন Madhyamik 2017
-
'ভারতমাতা' চিত্রটি আঁকেন Madhyamik 2017
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
ড. অনিল শীল আঠারো শতককে 'সভাসমিতির যুগ' বলে অভিহিত করেছেন। Madhyamik 2023
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: উনিশ শতককে)।
-
ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির অন্যতম সম্পাদক ছিলেন প্রসন্ন কুমার ঠাকুর। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
ভারত সভা ইলবার্ট বিলের বিরোধিতা করেছিল। Madhyamik 2018
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: ভারত সভা ইলবার্ট বিলকে সমর্থন করেছিল)।
-
মহাবিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ডালহৌসি। Madhyamik 2017
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: লর্ড ক্যানিং)।
-
'গোরা' উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইউরোপীয় সমাজকে সমর্থন করেছিলেন। Madhyamik 2017
উত্তর: অ (তিনি ঔপনিবেশিক শাসনের সমালোচক ছিলেন)।
শূন্যস্থান পূরণ / স্তম্ভ মেলাও
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.১) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় Madhyamik 2019
উত্তর: (৪) বঙ্গদর্শন
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.২) নবগোপাল মিত্র Madhyamik 2019
উত্তর: (৩) হিন্দু মেলা
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৩) রাজা রাধাকান্ত দেব Madhyamik 2020
উত্তর: (১) ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৪) স্বামী বিবেকানন্দ Madhyamik 2020
উত্তর: (২) বর্তমান ভারত
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৩) দ্বারকানাথ ঠাকুর Madhyamik 2022
উত্তর: (১) জমিদার সভা (ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি)
-
'ক' স্তম্ভ: (২.২.১) রেভাঃ কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: (২) ভারতসভা
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৩) নবগোপাল মিত্র Madhyamik 2017
উত্তর: (৪) হিন্দু মেলা
-
'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটির লেখক ছিলেন ________। Madhyamik 2025 (Sample), 2023, 2017 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ
-
'ভারতসভা' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ________ খ্রিঃ। Madhyamik 2025 (Sample), 2019 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: ১৮৭৬
-
ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন ________। Madhyamik 2024 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: লর্ড ক্যানিং
-
'গোরা' উপন্যাসটি রচনা করেন ________। Madhyamik 2024 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন ________। Madhyamik 2022 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: লর্ড ক্যানিং
-
মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭ খ্রিঃ) সময়ে ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন ________। Madhyamik 2020 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: লর্ড ক্যানিং
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? Madhyamik 2025 (Sample) & 2020
উত্তর: 'জমিদার সভা' বা ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি (১৮৩৮) প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধাগুলি সুরক্ষিত রাখা।
-
সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণীয় কেন? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি 'রাষ্ট্রগুরু' নামে পরিচিত) ছিলেন ভারত সভার (১৮৭৬) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, অস্ত্র আইন, নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন ইত্যাদির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় স্তরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।
-
'বর্তমান ভারত' গ্রন্থটি কীভাবে জাতীয়তাবাদ উন্মেষে সাহায্য করেছিল? Madhyamik 2024
উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দের লেখা 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থে তিনি 'ভারতমাতা'-ই একমাত্র উপাস্য দেবী বলে ঘোষণা করেন এবং শূদ্র জাগরণের মাধ্যমে দেশের সকল শ্রেণির মানুষকে দেশপ্রেম ও স্বাদেশিকতার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেন।
-
মহারানির ঘোষনাপত্রের (১৮৫৮) প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল? Madhyamik 2023
উত্তর: মহাবিদ্রোহের ক্ষোভ প্রশমিত করে ভারতীয়দের আনুগত্য অর্জন করা এবং ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকে (মুকুটের শাসন) সুদৃঢ় করাই ছিল এর প্রকৃত উদ্দেশ্য।
-
জমিদারসভা ও ভারতসভার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। Madhyamik 2023 & 2019
১. উদ্দেশ্য: জমিদারসভা (১৮৩৮) ছিল মূলত জমিদারদের স্বার্থরক্ষার প্রতিষ্ঠান, কিন্তু ভারতসভা (১৮৭৬) ছিল শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও আপামর ভারতবাসীর রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার প্রতিষ্ঠান।
২. পরিধি: জমিদারসভার পরিধি ছিল মূলত বাংলার জমিদারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভারতসভার পরিধি ছিল সর্বভারতীয়।
-
শিক্ষিত বাঙালি সমাজের একটি অংশ কেন মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) বিরোধিতা করেছিল? Madhyamik 2022
উত্তর: শিক্ষিত বাঙালি সমাজের এই অংশ মনে করত যে, ভারতে ব্রিটিশ শাসন হলো 'ঈশ্বরের আশীর্বাদ' (Divine Providence) এবং এই বিদ্রোহ সফল হলে ভারতে পুনরায় মধ্যযুগীয় অন্ধকার নেমে আসবে ও তাদের প্রগতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।
-
নবগোপাল মিত্র কে ছিলেন? Madhyamik 2022
উত্তর: নবগোপাল মিত্র ছিলেন উনিশ শতকের বাংলার জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রবক্তা এবং 'হিন্দু মেলা'র (১৮৬৭) প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।
-
উনিশ শতকের বাংলায় জাতীয়তাবাদের বিকাশে বঙ্কিমচন্দ্রের কীরূপ ভূমিকা ছিল? Madhyamik 2022
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা (১৮৭২) এবং 'আনন্দমঠ' (১৮৮২) উপন্যাসের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের ভাবধারা প্রচার করেন। তাঁর 'বন্দেমাতরম' সঙ্গীতটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়।
-
উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে 'আনন্দ মঠ' উপন্যাসটির কীরূপ অবদান ছিল? Madhyamik 2020
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' (১৮৮২) উপন্যাসটি সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিকায় লেখা। এই উপন্যাসের 'বন্দেমাতরম' সঙ্গীতটি এবং 'দেশই মা'-এই ধারণাটি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ও বিপ্লবীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
-
উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে 'ভারতমাতা' চিত্রটির কিরূপ ভূমিকা ছিল? Madhyamik 2019
উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা 'ভারতমাতা' (১৯০৫) চিত্রটি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অঙ্কিত। এই চতুর্ভুজা দেবীমূর্তিটি (শিক্ষা, দীক্ষা, অন্ন, বস্ত্র সহ) ছিল স্বদেশি ভাবধারার প্রতীক এবং এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে এক মাতৃরূপে কল্পনা করতে ও দেশপ্রেমের ভাবধারা জাগ্রত করতে সাহায্য করেছিল।
-
'আনন্দ মঠ' কে রচনা করেন? Madhyamik 2019 (বহিরাগত)
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
-
'ভারতমাতা' চিত্রটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিকায় অঙ্কিত? Madhyamik 2018
উত্তর: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের (১৯০৫) পটভূমিকায়।
-
“মহারানীর ঘোষণাপত্র”র (১৮৫৮) মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? Madhyamik 2018
উত্তর: মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) পর ভারতীয়দের ক্ষোভ প্রশমিত করা, কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো এবং ভারতীয়দের আনুগত্য অর্জন করে ভারতে ব্রিটিশ মুকুটের (Crown) শাসন সুদৃঢ় করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
-
ব্যঙ্গচিত্র কেন আঁকা হয়? Madhyamik 2018 & 2022
উত্তর: সমাজের বা রাষ্ট্রের কোনো অসঙ্গতি, দুর্নীতি বা বিশেষ ঘটনাকে হাস্যরস বা শ্লেষের মাধ্যমে তুলে ধরে জনমতকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ব্যঙ্গচিত্র (Cartoon) আঁকা হয়। যেমন - গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ঔপনিবেশিক সমাজের সমালোচনা করে ব্যঙ্গচিত্র আঁকেন।
-
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে 'সভা সমিতির যুগ' বলা হয় কেন? Madhyamik 2017
উত্তর: কারণ উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে (বিশেষত ১৮৫৭ সালের পর) ভারতের, বিশেষত বাংলার, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিজেদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দাবিদাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একাধিক সভা-সমিতি (যেমন - হিন্দু মেলা, ভারত সভা) গড়ে তোলে।
-
'আনন্দমঠ' উপন্যাস কীভাবে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে উদ্দীপ্ত করেছিল? Madhyamik 2017
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের 'বন্দেমাতরম' সঙ্গীতটি পরবর্তীকালে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়। উপন্যাসের 'দেশমাতৃকা'র ধারণা এবং সন্তানদলের দেশপ্রেমের আদর্শ বিপ্লবীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
'সভা-সমিতির যুগ' বলতে কী বোঝায়? উনিশ শতকের বাংলায় রাজনৈতিক চেতনার বিকাশে হিন্দুমেলার কীরূপ অবদান ছিল? Madhyamik 2024
সভা-সমিতির যুগ: উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে (বিশেষত ১৮৫৭ সালের পর) ভারতে, বিশেষত বাংলায়, পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিজেদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দাবিদাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একাধিক সভা-সমিতি গড়ে তোলে। যেমন - জমিদার সভা (১৮৩৮), হিন্দু মেলা (১৮৬৭), পুনা সার্বজনিক সভা (১৮৭০), ভারত সভা (১৮৭৬) ইত্যাদি। ঐতিহাসিক ডঃ অনিল শীল এই সময়কালকে (১৮৫৭-১৮৮৫) 'সভা সমিতির যুগ' (Age of Associations) বলে অভিহিত করেছেন।
হিন্দুমেলার অবদান:
- ১. স্বদেশি ভাবধারা প্রচার: নবগোপাল মিত্র প্রতিষ্ঠিত 'হিন্দু মেলা'র (প্রথমে 'চৈত্র মেলা') প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সঙ্গীত ও দেশীয় পণ্যের প্রতি মানুষের অনুরাগ বৃদ্ধি করা।
- ২. আত্মনির্ভরশীলতা: এই মেলা ভারতীয়দের আত্মনির্ভরশীল হতে এবং বিদেশি পণ্যের বদলে দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে, যা স্বদেশি আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।
- ৩. জাতীয়তাবাদী চেতনা: হিন্দু মেলা দেশীয় শরীরচর্চা, ব্যায়াম প্রদর্শন, এবং দেশাত্মবোধক কবিতা ও সঙ্গীতের মাধ্যমে বাঙালি যুবকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার সঞ্চার করে। এটিই ছিল প্রথম প্রতিষ্ঠান যা 'ন্যাশনাল' বা 'জাতীয়' শব্দটি জনপ্রিয় করে তোলে।
-
মহাবিদ্রোহ (১৮৫৭) কে কী 'সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ' বলা যেতে পারে? Madhyamik 2024 & 2018
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কিছু ঐতিহাসিক, যেমন - রজনীপাম দত্ত, একে 'সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ' বলে অভিহিত করেছেন।
পক্ষে যুক্তি (সামন্ততান্ত্রিক বলার কারণ):
- ১. নেতৃত্ব: এই বিদ্রোহের প্রধান নেতারা, যেমন - নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, কুনওয়ার সিং, অযোধ্যার বেগম হজরত মহল, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ, সকলেই ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত সামন্ত প্রভু বা রাজা। তারা নিজেদের হারানো ক্ষমতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্যই বিদ্রোহে যোগ দেন।
- ২. স্বত্ববিলোপ নীতির প্রভাব: লর্ড ডালহৌসির 'স্বত্ববিলোপ নীতি'-র ফলে বহু রাজা ও জমিদার তাদের রাজ্য ও সম্পত্তি হারান। এই বিক্ষুব্ধ জমিদার ও সামন্তরাই ছিলেন বিদ্রোহের মূল চালিকাশক্তি।
- ৩. মধ্যবিত্তের অনুপস্থিতি: বাংলার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যারা ছিল প্রগতিশীল, তারা এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেনি, কারণ তারা মনে করত এটি ভারতের প্রগতিকে পিছিয়ে দেবে এবং সামন্ততন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।
বিপক্ষে যুক্তি (শুধুমাত্র সামন্ততান্ত্রিক নয়):
- ১. সিপাহি ও জনগণের অংশগ্রহণ: এই বিদ্রোহ শুধু সামন্তরাই করেননি, এর সূচনা হয়েছিল সিপাহিদের হাতে এবং পরবর্তীকালে উত্তর ও মধ্য ভারতের লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক, কারিগর ও সাধারণ মানুষ এই বিদ্রোহে যোগ দেয়।
- ২. সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী চরিত্র: এটি শুধুমাত্র হারানো অধিকার ফেরানোর লড়াই ছিল না, এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক প্রতিরোধ।
উপসংহার: তাই, যদিও এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব সামন্ত শ্রেণির হাতে ছিল, তবুও এর গণচরিত্র ও ব্রিটিশ-বিরোধী ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। একে 'সামন্ত শ্রেণির নেতৃত্বে পরিচালিত সিপাহি ও জনগণের অভ্যুত্থান' বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
-
উনিশ শতকের জাতীয়তাবাদের বিকাশে 'ভারতমাতা' চিত্রটির অবদান কী ছিল? Madhyamik 2024
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের (১৯০৫) প্রেক্ষাপটে শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা 'ভারতমাতা' চিত্রটি জাতীয়তাবাদের বিকাশে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে:
- ১. দেশপ্রেমের দৃশ্যরূপ: এর আগে 'দেশ' বা 'মাতৃভূমি' একটি ভৌগোলিক ধারণা মাত্র ছিল। অবনীন্দ্রনাথ প্রথম এই বিমূর্ত ধারণাটিকে একটি চাক্ষুষ, মানবিক রূপ (গৈরিক বস্ত্র পরিহিতা, চতুর্ভুজা দেবীমূর্তি) দেন। এটি সাধারণ মানুষের পক্ষে দেশকে 'মা' হিসাবে কল্পনা করা সহজ করে তোলে।
- ২. স্বদেশি ভাবনার প্রতীক: 'ভারতমাতা'র চার হাতে থাকা ধানের শীষ (অন্ন), সাদা বস্ত্র (বস্ত্র), পুঁথি (শিক্ষা) ও জপমালা (দীক্ষা) ছিল তৎকালীন স্বদেশি ভাবধারার (আত্মশক্তি ও আত্মনির্ভরশীলতা) প্রতীক।
- ৩. ঐক্যের প্রতীক: এই চিত্রটি ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে ভারতের সকল মানুষকে এক 'মা'-এর সন্তান হিসাবে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ভগিনী নিবেদিতা এই ছবিটিকে "জাতীয়তাবাদের প্রতীক" বলে অভিহিত করেন।
-
জাতীয়তাবাদ প্রসারে হিন্দুমেলার ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2022
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলায় জাতীয়তাবাদের প্রসারে 'হিন্দু মেলা' (১৮৬৭) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। নবগোপাল মিত্র, গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজনারায়ণ বসুর উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১. আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বদেশিয়ানা: হিন্দুমেলার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে ভারতীয়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরশীলতা জাগিয়ে তোলা।
- ২. দেশীয় শিল্পের উৎসাহদান: মেলায় দেশীয় শিল্প, দেশীয় বস্ত্র এবং দেশীয় কারিগরদের তৈরি জিনিসপত্র প্রদর্শন ও পুরস্কৃত করা হতো। এটি 'স্বদেশি' ভাবনার ভিত্তি স্থাপন করে।
- ৩. জাতীয় চেতনার প্রসার: মেলায় দেশীয় খেলাধুলা, কুস্তি, শরীরচর্চা প্রদর্শন করা হতো। দেশাত্মবোধক কবিতা পাঠ (যেমন - 'গাও ভারতের জয়') ও জাতীয়তাবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করা হতো, যা যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত করত।
- ৪. 'জাতীয়' ভাবনার প্রসার: এই মেলার মাধ্যমেই 'ন্যাশনাল' বা 'জাতীয়' শব্দটি (যেমন - ন্যাশনাল স্কুল, ন্যাশনাল জিমনেসিয়াম) জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
-
'গোরা' উপন্যাসটিতে রবীন্দ্রনাথের যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পরিচয় পাওয়া যায় তা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2022
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' (১৯১০) উপন্যাসটি হল সমকালীন ভারতের জাতীয়তাবাদী ভাবধারার এক মহাকাব্যিক প্রতিচ্ছবি।
- ১. সংকীর্ণ হিন্দু জাতীয়তাবাদের সমালোচনা: উপন্যাসের প্রধান চরিত্র 'গোরা' প্রথমে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিল। সে মনে করত, শুধুমাত্র আচার-বিচার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির মাধ্যমেই ভারতের মুক্তি সম্ভব। রবীন্দ্রনাথ এই সংকীর্ণ ভাবধারাকে সমালোচনা করেছেন।
- ২. সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদ: উপন্যাসের শেষে গোরা যখন তার জন্মপরিচয় (সে আইরিশ দম্পতির সন্তান) জানতে পারে, তখন তার সমস্ত ধর্মীয় গোঁড়ামি ভেঙে যায়। সে উপলব্ধি করে, ভারতের আসল পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির মধ্যে নয়, বরং সকলের অংশগ্রহণে ও মিলনে।
- ৩. প্রকৃত ভারত আবিষ্কার: রবীন্দ্রনাথ 'গোরা'-র মাধ্যমে এই বার্তা দেন যে, প্রকৃত ভারত হলো হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, ব্রাহ্ম - সকলের দেশ। তাই উগ্র সাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং এক মানবিক, উদার ও সমন্বয়বাদী জাতীয়তাবাদই (Constructive Nationalism) ভারতের মুক্তির প্রকৃত পথ।
-
মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের মনোভাব কীরূপ ছিল? Madhyamik 2020 & 2017
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি তৎকালীন বাংলার শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের মনোভাব ছিল মূলত উদাসীনতা, অনাস্থা এবং ক্ষেত্রবিশেষে সরাসরি বিরোধিতার।
- ১. ব্রিটিশ শাসনের প্রতি আনুগত্য: ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ শিক্ষিত বাঙালিরা মনে করতেন যে, ভারতে ব্রিটিশ শাসন 'ঈশ্বরের আশীর্বাদ'। তাঁরা ব্রিটিশদের প্রবর্তিত পাশ্চাত্য শিক্ষা, সমাজ সংস্কার (সতীদাহ রদ, বিধবা বিবাহ) এবং আধুনিক ভাবধারার ফলে উপকৃত হয়েছিলেন।
- ২. প্রগতির পথে বাধা: তাঁরা মনে করতেন, এই বিদ্রোহ সফল হলে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটবে এবং ভারতে পুনরায় মুঘল বা সামন্ততান্ত্রিক শাসন ফিরে আসবে, যা ভারতের আধুনিকীকরণের পথ রুদ্ধ করবে।
- ৩. সিপাহিদের প্রতি অনাস্থা: তাঁরা বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সিপাহিদের 'অত্যাচারী', 'লুণ্ঠনকারী' ও 'অশিক্ষিত' বলে মনে করতেন। 'সংবাদ প্রভাকর', 'হিন্দু পেট্রিয়ট' (প্রাথমিক পর্যায়ে) প্রভৃতি পত্রিকা বিদ্রোহের বিরোধিতা করে।
এই কারণে শিক্ষিত বাঙালি শ্রেণি এই বিদ্রোহকে 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' হিসাবে দেখতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং তারা সক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ সরকারকে সমর্থন জানিয়েছিল বা নিরপেক্ষ থেকেছিল।
-
ভারত সভার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2020
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দমোহন বসু প্রমুখের উদ্যোগে 'ভারত সভা' (Indian Association) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে সুরেন্দ্রনাথের ভূমিকা ছিল সর্বাধিক।
- ১. প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য: সুরেন্দ্রনাথের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং আপামর জনসাধারণকে একত্রিত করে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা।
- ২. সর্বভারতীয় আন্দোলন: সুরেন্দ্রনাথই প্রথম ভারত সভার মাধ্যমে সর্বভারতীয় স্তরে আন্দোলন সংগঠিত করেন। তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার বয়স কমানোর (২১ থেকে ১৯) প্রতিবাদে ভারতজুড়ে জনমত গঠন করেন এবং সর্বভারতীয় আবেদনপত্র পাঠান।
- ৩. বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন: তাঁর নেতৃত্বে ভারত সভা 'অস্ত্র আইন' (Arms Act) এবং 'দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইন' (Vernacular Press Act)-এর মতো বৈষম্যমূলক আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
- ৪. জাতীয় কংগ্রেসের পথপ্রস্তুত: সুরেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে ভারত সভার এই সর্বভারতীয় আন্দোলনই ১৮৮৫ সালে 'ভারতের জাতীয় কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করেছিল। এই কারণে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'রাষ্ট্রগুরু' বলা হয়।
-
হিন্দু মেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল? Madhyamik 2019
১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র, গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাজনারায়ণ বসুর উদ্যোগে 'হিন্দু মেলা' (বা 'চৈত্র মেলা') প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি ছিল:
- ১. আত্মনির্ভরশীলতা: বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব থেকে বাঙালি সমাজকে মুক্ত করে দেশীয় ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ তৈরি করা এবং ভারতীয়দের আত্মনির্ভরশীল হতে শেখানো।
- ২. স্বদেশি শিল্পের প্রচার: ভারতীয়দের দ্বারা উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য, দেশীয় বস্ত্র এবং কুটির শিল্পজাত দ্রব্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা।
- ৩. জাতীয় চেতনার প্রসার: দেশীয় খেলাধুলা, ব্যায়াম, কুস্তি প্রদর্শন এবং দেশাত্মবোধক কবিতা ও সঙ্গীতের মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে দেশপ্রেম, ঐক্য ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত করা।
- ৪. জাতীয় শিক্ষাকে গুরুত্বদান: পাশ্চাত্য শিক্ষার পরিবর্তে দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করা।
-
'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন? Madhyamik 2019
১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'কে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়, কারণ:
- ১. উদ্দেশ্যগত ভিন্নতা: এর আগে ভারতে যে সমস্ত সভা-সমিতি (যেমন - আত্মীয় সভা, অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন) ছিল, সেগুলি প্রধানত সামাজিক বা ধর্মীয় সংস্কার বা জ্ঞানচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
- ২. রাজনৈতিক দাবিদাওয়া: 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-ই ছিল প্রথম প্রতিষ্ঠান যা ধর্ম বা সমাজ সংস্কারের বদলে সরাসরি সরকারি কাজকর্ম, প্রশাসন ও আইনকানুন নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল।
- ৩. নিষ্কর জমির ওপর কর: এই সভা প্রথম ব্রিটিশ সরকারের 'নিষ্কর জমির ওপর কর' (Revenue-free land) বসানোর নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ জানায়, যা ছিল একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
এইভাবে, ভারতীয়দের স্বার্থে সরকারি নীতির সমালোচনা ও প্রতিবাদের সূচনা করার জন্যই যোগেশচন্দ্র বাগল একে 'প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান' বলে অভিহিত করেছেন।
-
সংক্ষেপে মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) চরিত্র বিশ্লেষণ কর। Madhyamik 2017
১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের চরিত্র বা প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে:
- ১. সিপাহি বিদ্রোহ: চার্লস রেইকস, ম্যালেসন প্রমুখ ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবী (যেমন - দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ আহমেদ খান) একে নিছক 'সিপাহি বিদ্রোহ' বলেছেন। তাঁদের মতে, কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ ছাড়া সাধারণ মানুষ এতে যোগ দেয়নি।
- ২. সামন্ততান্ত্রিক বিদ্রোহ: রজনীপাম দত্তের মতে, এটি ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত সামন্ত রাজাদের (যেমন - নানা সাহেব, লক্ষ্মীবাঈ) নেতৃত্বে এক 'সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া'।
- ৩. জাতীয় বিদ্রোহ: বেঞ্জামিন ডিজরেলি, কার্ল মার্কস এবং পরবর্তীকালে শশীভূষণ চৌধুরীর মতো ঐতিহাসিকরা একে 'জাতীয় বিদ্রোহ' বলেছেন, কারণ এটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহি, কৃষক, কারিগর ও সাধারণ মানুষের এক ব্যাপক অভ্যুত্থান ছিল।
- ৪. ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ: বিনায়ক দামোদর সাভারকর (ভি. ডি. সাভারকর) তাঁর 'দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স' গ্রন্থে এই বিদ্রোহকে 'ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' বলে অভিহিত করেছেন।
উপসংহার: ঐতিহাসিক সুরেন্দ্রনাথ সেন এই বিদ্রোহকে 'সিপাহি বিদ্রোহ হিসাবে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তা জাতীয় বিদ্রোহের রূপ নেয়' বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা অনেকাংশে গ্রহণযোগ্য।