অধ্যায় ৮: উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব (Class 10 History Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ইতিহাস বইয়ের অষ্টম অধ্যায় 'উত্তর-ঔপনিবেশিক ভারত: বিশ শতকের দ্বিতীয় পর্ব'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস করে Madhyamik 2025 (Sample)
-
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের (১৯৫৩) সভাপতি ছিলেন Madhyamik 2025 (Sample)
-
স্বাধীন ভারতের প্রথম গান্ধীবাদী শহীদ ছিলেন Madhyamik 2024
-
গোয়া ভারতভুক্ত হয় Madhyamik 2024 & 2018
-
ভাষাভিত্তিক পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যটি গঠিত হয়েছিল Madhyamik 2023 & 2018
-
পুরুলিয়া জেলাটি পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয় Madhyamik 2023
-
স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের সবচেয়ে বড় দেশীয় রাজ্য ছিল Madhyamik 2020
-
পুনর্গঠিত কেরল রাজ্যটি অবস্থিত ছিল Madhyamik 2020
-
যে দেশীয় রাজ্যটি গণভোটের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয় Madhyamik 2019
-
ভাষাভিত্তিক গুজরাট রাজ্যটি গঠিত হয় Madhyamik 2019
-
ভারতের 'লৌহমানব' বলা হয় Madhyamik 2017
-
'এ ট্রেন টু পাকিস্তান' লিখেছেন Madhyamik 2017
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে জুনাগড় রাজ্যটি ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: শু (গণভোটের মাধ্যমে ১৯৪৮-এর ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিলেও সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি ১৯৪৯-এ হয়)।
স্তম্ভ মেলাও
-
'ক' স্তম্ভ: (২.৩.৪) হেমু কালানি Madhyamik 2023
উত্তর: (১) সিন্ধুপ্রদেশ (ভারত ছাড়ো আন্দোলনের শহীদ)
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
শেখ আবদুল্লা কে ছিলেন? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: শেখ আবদুল্লা ছিলেন কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল 'ন্যাশনাল কনফারেন্স'-এর নেতা এবং স্বাধীন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী (পরে মুখ্যমন্ত্রী)।
-
'দার কমিশন' (১৯৪৮) কেন গঠিত হয়েছিল? Madhyamik 2025 (Sample) & 2019
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি উঠলে, গণপরিষদের সভাপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ ১৯৪৮ সালে এস. কে. দার-এর নেতৃত্বে 'ভাষাভিত্তিক প্রদেশ কমিশন' বা 'দার কমিশন' গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন করা যুক্তিসঙ্গত হবে কিনা তা খতিয়ে দেখা।
-
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে 'ভারতের লৌহমানব' কেন বলা হয়? Madhyamik 2024 & 2020
উত্তর: ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল অসামান্য দৃঢ়তা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা ও প্রয়োজনে সামরিক শক্তির ('লৌহ-রক্ত' নীতি) প্রয়োগ করে প্রায় ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে অখণ্ড ভারত গঠন করেন, তাই তাঁকে 'ভারতের লৌহমানব' বা 'ভারতের বিসমার্ক' বলা হয়।
-
উদ্বাস্তু সমস্যা বলতে কী বোঝায়? Madhyamik 2024
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের ফলে নবগঠিত পাকিস্তান (বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাঞ্জাব) থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ ধর্মীয় অত্যাচার ও দাঙ্গার কারণে ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হন। এই আশ্রয়হীন, কর্মহীন মানুষদের আশ্রয়, খাদ্য ও পুনর্বাসনের যে তীব্র সংকট স্বাধীন ভারত সরকারের মুখে পড়ে, তাই 'উদ্বাস্তু সমস্যা' নামে পরিচিত।
-
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ভারতের দেশীয় রাজ্যগুলির স্বাধীনতার দাবিকে অগ্রাহ্য করেছিলেন কেন? Madhyamik 2023
উত্তর: কারণ সর্দার প্যাটেল বিশ্বাস করতেন যে, দেশীয় রাজ্যগুলিকে স্বাধীনতার অধিকার দিলে ভারতের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। স্বাধীন রাজ্যগুলি ভারতের মধ্যে 'বলকানাইজেশন' (Balkanization) বা বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি করবে, যা ভারতের ঐক্যকে দুর্বল করে দেবে।
-
রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩) কেন গঠিত হয়েছিল? Madhyamik 2023, 2020 & 2018
উত্তর: স্বাধীন ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। পত্তি শ্রীরামালুর অনশনে মৃত্যুর পর তেলেগু ভাষাভাষীদের জন্য 'অন্ধ্রপ্রদেশ' (১৯৫৩) গঠিত হলে, সারা দেশে এই দাবি প্রবল হয়। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৫৩ সালে ফজল আলির সভাপতিত্বে 'রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন' গঠন করে।
-
হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় ________ খ্রিষ্টাব্দে। Madhyamik 2020 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: ১৯৪৯ (১৯৪৮ সালের 'অপারেশন পোলো'র মাধ্যমে দখল হলেও সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তি ১৯৪৯-এ)।
-
পত্তি শ্রীরামালু কে ছিলেন? Madhyamik 2019
উত্তর: পত্তি শ্রীরামালু ছিলেন একজন গান্ধীবাদী নেতা, যিনি মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির তেলেগু ভাষাভাষী মানুষদের জন্য 'অন্ধ্রপ্রদেশ' নামে একটি পৃথক রাজ্যের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন এবং ৫৮ দিন অনশনের পর ১৯৫২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুই পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠনের পথ প্রশস্ত করে।
-
কী পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন? Madhyamik 2018
উত্তর: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট পাঠান হানাদার বাহিনী কাশ্মীর আক্রমণ করলে, কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং (যিনি প্রথমে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন) নিরুপায় হয়ে ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চান। ভারত তখন সামরিক সাহায্যের শর্ত হিসাবে হরি সিং-কে 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ (Instrument of Accession) স্বাক্ষর করতে বলে। এই পরিস্থিতিতেই তিনি ১৯৪৭ সালের ২৬শে অক্টোবর স্বাক্ষর করেন।
-
হরি সিং ছিলেন ________ এর রাজা। Madhyamik 2017 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: কাশ্মীরের
-
দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি দলিল বলতে কী বোঝায়? Madhyamik 2017 & 2019 (বহিরাগত)
উত্তর: ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুসারে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার অধিকার দেওয়া হয়। সর্দার প্যাটেলের উদ্যোগে যে আইনি দলিলের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলি প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়ে ভারত ইউনিয়নে যোগদান করে, তাকেই 'ভারতভুক্তি দলিল' (Instrument of Accession) বলে।
-
১৯৫০ সালে কেন নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল? Madhyamik 2017 & 2020 (বহিরাগত)
উত্তর: দেশভাগের (১৯৪৭) পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে আগত উদ্বাস্তুদের উপর তীব্র অত্যাচার শুরু হলে ভারতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের (ভারত ও পাকিস্তান) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি খান এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন (এটি 'দিল্লি চুক্তি' নামেও পরিচিত)।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির বিষয়ে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। Madhyamik 2025 (Sample)
স্বাধীনতার সময় (১৯৪৭) ভারতে প্রায় ৫৬২টি (মতান্তরে ৫৬৫) দেশীয় রাজ্য ছিল, যাদের ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান অথবা স্বাধীন থাকার বিকল্প দেওয়া হয়েছিল। এই রাজ্যগুলিকে ভারতভুক্ত করে অখণ্ড ভারত গঠনের কৃতিত্ব মূলত ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের। তাঁর ভূমিকা ছিল নিম্নরূপ:
- ১. ভারতভুক্তি দলিল (Instrument of Accession): প্যাটেল এবং তাঁর সচিব ভি. পি. মেনন কূটনৈতিকভাবে বেশিরভাগ রাজ্যকে (যেমন - বিকানের, বরোদা) 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করান। এই দলিলে রাজ্যগুলি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব ভারতকে অর্পণ করে।
- ২. 'লৌহ-রক্ত' নীতি: যে রাজ্যগুলি সহজে যোগ দিতে চায়নি, তাদের ক্ষেত্রে প্যাটেল 'সাম, দাম, দণ্ড, ভেদ' নীতি প্রয়োগ করেন।
- ৩. জুনাগড়: জুনাগড়ের মুসলিম নবাব পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে, প্যাটেল ভারতীয় সৈন্য পাঠান এবং গণভোটের (Plebiscite) আয়োজন করেন। গণভোটে ৯৯% মানুষ ভারতে যোগদানের পক্ষে মত দিলে জুনাগড় ভারতভুক্ত হয় (১৯৪৯)।
- ৪. হায়দ্রাবাদ: হায়দ্রাবাদের নিজাম স্বাধীন থাকতে চাইলে এবং রাজাকার বাহিনীর অত্যাচার শুরু করলে, প্যাটেল 'অপারেশন পোলো' (Operation Polo) নামে সামরিক অভিযান (১৯৪৮) চালান। নিজাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
- ৫. কাশ্মীর: মহারাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চাইলেও, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট হানাদার বাহিনী আক্রমণ করলে তিনি প্যাটেলের শর্ত মেনে 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করেন (২৬ অক্টোবর, ১৯৪৭)।
এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই প্যাটেলকে 'ভারতের লৌহমানব' বা 'ভারতের বিসমার্ক' বলা হয়।
-
ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কারণ কী? Madhyamik 2025 (Sample)
স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই ভারতে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি তীব্র হতে থাকে। এর প্রধান কারণগুলি হল:
- ১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ব্রিটিশরা ভারতকে প্রশাসনিক সুবিধামতো 'প্রেসিডেন্সি' ও 'প্রদেশ'-এ ভাগ করেছিল, যা ছিল কৃত্রিম এবং ভাষা ও সংস্কৃতির পরিপন্থী। কংগ্রেস দল ১৯২০ সালের নাগপুর অধিবেশন থেকেই ভাষার ভিত্তিতে প্রদেশ গঠনের নীতিকে সমর্থন জানিয়েছিল।
- ২. সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়: ভাষা হলো একটি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, সাহিত্য ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। একই ভাষাভাষী মানুষরা নিজেদের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য একটি পৃথক রাজ্য চান।
- ৩. প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত সুবিধা: একটি রাজ্যে একই ভাষার প্রচলন থাকলে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানো, শিক্ষা প্রদান করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হয়।
- ৪. আঞ্চলিক বঞ্চনার অবসান: বহুভাষাভাষী রাজ্যে নির্দিষ্ট ভাষার মানুষরা প্রায়ই সংখ্যাগুরুদের দ্বারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শোষিত বা বঞ্চিত হতেন। (যেমন - মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে তেলেগু ভাষাভাষীদের অভিযোগ)। পৃথক রাজ্য এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হতো।
-
স্বাধীনতালাভের পর ভারতীয় রাজ্যগুলোকে ভাষার ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য কী কী প্রচেষ্টা হয়েছিল? Madhyamik 2023 & 2017
স্বাধীনতা লাভের পর ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি তীব্র হলে ভারত সরকার নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করে:
- ১. দার কমিশন (১৯৪৮): গণপরিষদ ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে এস. কে. দার-এর নেতৃত্বে 'দার কমিশন' নিয়োগ করে। এই কমিশন ভাষার বদলে প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের সুপারিশ করলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
- ২. জে.ভি.পি. কমিটি (১৯৪৮): দার কমিশনের রিপোর্টের প্রতিবাদে কংগ্রেস জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল ও পট্টভি সীতারামাইয়াকে নিয়ে 'জে.ভি.পি. কমিটি' গঠন করে। এই কমিটিও ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবিকে মুলতবি রাখার পক্ষে মত দেয়।
- ৩. অন্ধ্রপ্রদেশ গঠন (১৯৫৩): জে.ভি.পি. কমিটির রিপোর্টে তেলেগু ভাষাভাষীরা ক্ষুব্ধ হন। গান্ধীবাদী নেতা পত্তি শ্রীরামালু পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে অনশন করে মৃত্যুবরণ করলে (১৯৫২), সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৫৩ সালে মাদ্রাজ ভেঙে 'অন্ধ্রপ্রদেশ' গঠন করে।
- ৪. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯৫৩): অন্ধ্রপ্রদেশ গঠনের পর সারা দেশে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যের দাবি প্রবল হলে, সরকার ফজল আলির সভাপতিত্বে (অন্য দুই সদস্য কে. এম. পানিক্কর ও হৃদয়নাথ কুঞ্জরু) 'রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন' নিয়োগ করে।
- ৫. রাজ্য পুনর্গঠন আইন (১৯৫৬): এই কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে 'রাজ্য পুনর্গঠন আইন' পাস হয়। এর মাধ্যমে ভারতে ভাষার ভিত্তিতে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হয়। (যেমন - পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, কর্ণাটক ইত্যাদি)।
-
কীভাবে কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয়? Madhyamik 2023 & 2019
স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির সময় কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে যে জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়, তার কারণগুলি নিম্নরূপ:
- ১. ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বৈপরীত্য: কাশ্মীর ছিল একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য, কিন্তু তার শাসক ছিলেন হিন্দু মহারাজা হরি সিং। আবার, রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দল 'ন্যাশনাল কনফারেন্স'-এর নেতা শেখ আবদুল্লা ছিলেন মুসলিম, কিন্তু তিনি পাকিস্তানে যোগদানের বিরোধী ছিলেন।
- ২. হরি সিং-এর সিদ্ধান্তহীনতা: ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মীরকে পেতে চায়। কিন্তু মহারাজা হরি সিং ভারত বা পাকিস্তান কোনোটিতেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
- ৩. পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীর বিদ্রোহ: এইসময় কাশ্মীরের পুঞ্চ অঞ্চলে পাকিস্তানপন্থী মুসলিমরা হরি সিং-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে 'আজাদ কাশ্মীর' গঠন করে।
- ৪. পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণ: ১৯৪৭ সালের ২২শে অক্টোবর পাকিস্তান সরকার পাঠান উপজাতিদের ('হানাদার') কাশ্মীরে প্রেরণ করে। এই বাহিনী শ্রীনগরের খুব কাছে পৌঁছে ব্যাপক লুণ্ঠন ও অত্যাচার শুরু করে।
- ৫. ভারতভুক্তি দলিলে স্বাক্ষর: পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়ে মহারাজা হরি সিং ভারতের কাছে সামরিক সাহায্য চান। ভারত তখন (সর্দার প্যাটেলের নির্দেশে) সামরিক সাহায্যের শর্ত হিসাবে হরি সিং-কে 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করতে বলে। ১৯৪৭ সালের ২৬শে অক্টোবর হরি সিং স্বাক্ষর করলে কাশ্মীর আইনত ভারতের অংশ হয় এবং ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে।
কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই পাকিস্তান কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ (যা 'আজাদ কাশ্মীর' বা 'পাক-অধিকৃত কাশ্মীর' নামে পরিচিত) দখল করে নেয়, যা আজও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ।
-
জুনাগড় রাজ্যটি কী ভাবে ভারতভুক্ত হয়? Madhyamik 2020
গুজরাটের উপকূলে অবস্থিত জুনাগড় রাজ্যটির ভারতভুক্তি ছিল একটি জটিল প্রক্রিয়া:
- ১. শাসকের সিদ্ধান্ত: জুনাগড়ের ৮২% প্রজা ছিলেন হিন্দু, কিন্তু তার নবাব (মহবত খান) ছিলেন মুসলিম। ১৯৪৭ সালে তিনি ভৌগোলিক অবস্থান ও জনমতকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন।
- ২. ভারতের প্রতিবাদ ও গণভোট: ভারত সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়, কারণ জুনাগড়ের সাথে পাকিস্তানের কোনো ভৌগোলিক সংযোগ ছিল না। রাজ্যের হিন্দু প্রজারাও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে 'আর্জি হুকুমত' (Arzi Hukumat) বা অস্থায়ী সরকার গঠন করে।
- ৩. নবাবের পলায়ন: প্রজাবিদ্রোহ এবং ভারতীয় সেনার চাপে নবাব মহবত খান পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
- ৪. গণভোট ও অন্তর্ভুক্তি: এরপর সর্দার প্যাটেলের নির্দেশে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জুনাগড়ে গণভোট (Plebiscite) অনুষ্ঠিত হয়। এই গণভোটে প্রায় ৯৯% মানুষ ভারতে যোগদানের পক্ষে রায় দেন। এর ভিত্তিতে জুনাগড় আইনত ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় (১৯৪৯)।
-
উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করে? Madhyamik 2020
দেশভাগের (১৯৪৭) ফলে সৃষ্ট তীব্র উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে ভারত সরকার (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবে) একাধিক স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণ করে:
- ১. প্রাথমিক সাহায্য ও শিবির: প্রথম পর্যায়ে সরকার উদ্বাস্তুদের জন্য অস্থায়ী 'উদ্বাস্তু শিবির' (Refugee Camps) স্থাপন করে। সেখানে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো আপৎকালীন ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়।
- ২. পুনর্বাসন ও কলোনি স্থাপন: পরবর্তীকালে, এই বিশাল জনসংখ্যাকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য সরকার পরিত্যক্ত জমি, খালি সেনা ব্যারাক ইত্যাদিতে থাকার ব্যবস্থা করে। পশ্চিমবঙ্গে যাদবপুর, বাঘা যতীন, বেলঘরিয়া এবং পাঞ্জাবে ফরিদাবাদ, জলন্ধর প্রভৃতি অঞ্চলে অসংখ্য 'উদ্বাস্তু কলোনি' বা 'টাউনশিপ' গড়ে তোলা হয়।
- ৩. অর্থনৈতিক সহায়তা: উদ্বাস্তুদের স্বনির্ভর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণ, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সাহায্য এবং কারিগরী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
- ৪. নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি (১৯৫০): পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের স্রোত না থামায়, প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি খানের সঙ্গে 'দিল্লি চুক্তি' (নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি) স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তিতে দুই দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়, যদিও এটি বিশেষ সফল হয়নি।
-
ভারত সরকার, কীভাবে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে সংযুক্ত করার প্রশ্নটি সমাধান করেছিল? Madhyamik 2019
স্বাধীনতার সময় (১৯৪৭) প্রায় ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারত বা পাকিস্তানে যোগদান অথবা স্বাধীন থাকার বিকল্প দেওয়া হয়েছিল। ভারত সরকার মূলত সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে 'সাম, দাম, দণ্ড, ভেদ' নীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করে:
- ১. ভারতভুক্তি দলিল (সাম ও ভেদ নীতি): সর্দার প্যাটেল ও সচিব ভি. পি. মেনন কূটনৈতিকভাবে বেশিরভাগ রাজ্যের শাসকদের 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ (Instrument of Accession) স্বাক্ষর করান। এই দলিলে রাজ্যগুলি প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব ভারতকে অর্পণ করে এবং বিনিময়ে তাঁরা 'রাজন্য ভাতা' (Privy Purse) ও তাঁদের উপাধি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পান।
- ২. জুনাগড় (দাম নীতি/গণভোট): নবাব পাকিস্তানে যোগ দিতে চাইলে, ভারত গণভোটের আয়োজন করে (১৯৪৮)। প্রজারা ভারতে যোগদানের পক্ষে রায় দিলে এটি ভারতভুক্ত হয়।
- ৩. হায়দ্রাবাদ (দণ্ড নীতি/সামরিক পদক্ষেপ): নিজাম স্বাধীন থাকতে চাইলে, ভারত 'অপারেশন পোলো' (১৯৪৮) নামে সামরিক অভিযান চালায় এবং নিজাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
- ৪. কাশ্মীর (বিশেষ পরিস্থিতি): মহারাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চাইলেও, পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণের মুখে তিনি 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ (১৯৪৭) স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
এইভাবে সর্দার প্যাটেলের দৃঢ় নেতৃত্বে প্রায় সমস্ত দেশীয় রাজ্যকে ভারত ইউনিয়নে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়।
-
সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ: দেশ বিভাগ (১৯৪৭) জনিত উদ্বাস্তু সমস্যা। Madhyamik 2018
১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের ফলে যে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়, তাই 'উদ্বাস্তু সমস্যা' নামে পরিচিত।
- ১. দেশত্যাগ: দেশভাগের পর নবগঠিত পাকিস্তান (পশ্চিম পাঞ্জাব ও পূর্ব বাংলা) থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ এবং ভারত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়ে ও নিরাপত্তার অভাবে তাঁদের ভিটেমাটি, সহায়-সম্পত্তি ফেলে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম 'Migration'।
- ২. মানবিক সংকট: লক্ষ লক্ষ আশ্রয়হীন, কর্মহীন, সর্বস্বান্ত মানুষের স্রোত (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবে) এক অবর্ণনীয় মানবিক সংকট তৈরি করে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ পথেই মারা যান।
- ৩. পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ: স্বাধীন ভারত সরকারের কাছে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়া ছিল এক বিরাট অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। সরকার 'উদ্বাস্তু শিবির', 'কলোনি' স্থাপন এবং আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলার চেষ্টা করে। এই সমস্যা দুই দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
-
হায়দ্রাবাদ রাজ্যটি কীভাবে ভারতভুক্ত হয়েছিল? Madhyamik 2018
স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে হায়দ্রাবাদ ছিল বৃহত্তম ও অন্যতম ধনী। এর ভারতভুক্তি প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:
- ১. নিজামের স্বাধীন থাকার ইচ্ছা: হায়দ্রাবাদের শাসক ছিলেন মুসলিম (নিজাম), কিন্তু প্রজাদের ৮০% ছিলেন হিন্দু। নিজাম উসমান আলি খান ভারত বা পাকিস্তান কোনোটিতেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে থাকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
- ২. রাজাকার বাহিনীর অত্যাচার: নিজাম তাঁর সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করতে 'রাজাকার' নামে এক উগ্র সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র বাহিনী গঠন করেন। এই বাহিনী রাজ্যের হিন্দু প্রজাদের উপর এবং ভারতপন্থী মুসলিমদের উপর ব্যাপক অত্যাচার, লুণ্ঠন ও হত্যা শুরু করে।
- ৩. 'অপারেশন পোলো' (১৯৪৮): হায়দ্রাবাদের এই পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল কঠোর পদক্ষেপ নেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী 'অপারেশন পোলো' নামে হায়দ্রাবাদে প্রবেশ করে।
- ৪. আত্মসমর্পণ: মাত্র পাঁচ দিনের যুদ্ধে (১১৮ ঘণ্টা) নিজামের বাহিনী সম্পূর্ণ পরাজিত হয় এবং নিজাম আত্মসমর্পণ করেন। হায়দ্রাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় (১৯৪৯)।