পরিবেশ ও উৎপাদন (কৃষি ও মৎস্য)
অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)
'পরিবেশ ও উৎপাদন' অধ্যায়ে মূলত পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে চাষবাসের বিবর্তন—প্রাচীনকালে মানুষের টানা লাঙল থেকে শুরু করে গবাদি পশুর ব্যবহার এবং আধুনিক যন্ত্র (পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার) পর্যন্ত যাত্রাপথটি তুলে ধরা হয়েছে। 'সবুজ বিপ্লব'-এর ফলে কীভাবে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে তার কুফলগুলি (জমির উর্বরতা হ্রাস, উপকারী পোকাদের মৃত্যু) কীভাবে সামনে এল, তা আলোচিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের (পার্বত্য, মালভূমি, গাঙ্গেয় সমভূমি, উপকূলীয়) কৃষিবৈচিত্র্য, যেমন—চা, ধান, আলু, পাট, ফল, ফুল চাষের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের মৎস্য সম্পদ, বিভিন্ন ধরনের মাছ, ভেড়িতে মাছ চাষ এবং লুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)
পাওয়ার টিলার
এটি একটি ডিজেল চালিত ছোট যন্ত্র যা দিয়ে দ্রুত জমি চাষ করা বা মাটি আলগা করা হয়।
হারভেস্টার
এটি একটি আধুনিক কৃষিযন্ত্র যা দিয়ে একই সঙ্গে ধান বা গম কাটা, ঝাড়া এবং বস্তাবন্দী করার কাজ করা হয়।
সবুজ বিপ্লব
১৯৬০-এর দশকে ভারতে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও জলসেচের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে গম ও ধানের উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। এই ঘটনা 'সবুজ বিপ্লব' নামে পরিচিত।
জৈব সার
গোবর, গাছের পাতা, আনাজের খোসা ইত্যাদি প্রাকৃতিক জিনিস পচিয়ে যে সার তৈরি হয়, তাকে জৈব সার বলে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং কোনো ক্ষতি করে না।
ধাপ চাষ
পাহাড়ের ঢালু গায়ে সিঁড়ির মতো ধাপ কেটে জমি তৈরি করে চাষ করার পদ্ধতিকে ধাপ চাষ বলে। এটি মাটির ক্ষয় রোধ করে।
ভেড়ি
উপকূলবর্তী নোনা জল বা মিষ্টি জলের বড় জলাশয় যেখানে বাঁধ দিয়ে জল আটকে রেখে বাণিজ্যিকভাবে মাছ, বিশেষ করে চিংড়ি চাষ করা হয়।
লুপ্তপ্রায় মাছ
যেসব মাছ আগে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত কিন্তু বর্তমানে পরিবেশের পরিবর্তন, দূষণ বা অতিরিক্ত ধরার কারণে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে, তাদের লুপ্তপ্রায় মাছ বলে। যেমন—সরপুঁটি, ন্যাদোশ, খলসে।
ডিভিসি (DVC)
এর পুরো নাম 'দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন'। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে দামোদর নদের উপর এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রশ্নোত্তর (MCQ)
১. জমি চাষ করার আধুনিক যন্ত্রটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: B. পাওয়ার টিলার
বিশ্লেষণ: পাওয়ার টিলার একটি শক্তিশালী যন্ত্র যা দিয়ে দ্রুত জমি চাষ করা হয়। হারভেস্টার ফসল কাটার যন্ত্র।
২. ধান কাটা, ঝাড়া ও জড়ো করার আধুনিক যন্ত্রের নাম কী?
সঠিক উত্তর: C. হারভেস্টার
বিশ্লেষণ: 'হারভেস্টিং' মানে ফসল তোলা। হারভেস্টার যন্ত্রটি দিয়ে একই সঙ্গে ধান কাটা, খড় থেকে ধান আলাদা করা ও জড়ো করার কাজ করা হয়।
৩. প্রথম দিকে চাষের কাজ কাদের বুদ্ধিতে শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
সঠিক উত্তর: B. মেয়েদের
বিশ্লেষণ: পুরুষরা যখন শিকারে যেত, মেয়েরা ঘর সামলানোর পাশাপাশি ফলমূল সংগ্রহ করত এবং তারাই প্রথম বীজ থেকে গাছ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করে চাষাবাদ শুরু করে।
৪. প্রাচীনকালে লাঙল টানার জন্য পশুর আগে কাদের ব্যবহার করা হতো?
সঠিক উত্তর: D. মানুষকে
বিশ্লেষণ: পশুদের পোষ মানানোর আগে মানুষ নিজেই কাঠের লাঙল টানত।
৫. আগেকার দিনে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে কী ব্যবহার করা হতো?
সঠিক উত্তর: C. নিমপাতা
বিশ্লেষণ: নিমপাতার তেতো স্বাদ ও বিশেষ গুণের জন্য এটি প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে পোকা তাড়াতে ব্যবহৃত হতো।
৬. ভারতে সবুজ বিপ্লব কোন দশকে শুরু হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: B. ১৯৬০-এর দশকে
বিশ্লেষণ: ১৯৬৬ সালের আশেপাশে ভারতে খাদ্য সংকট মেটাতে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে সবুজ বিপ্লবের সূচনা হয়।
৭. সবুজ বিপ্লবের একটি কুফল কী?
সঠিক উত্তর: B. জমির উর্বরতা কমে যাওয়া
বিশ্লেষণ: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
৮. রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করলে কাদের ক্ষতি হয়?
সঠিক উত্তর: C. বন্ধু-পোকা ও অর্থকরী পোকাদের
বিশ্লেষণ: রাসায়নিক কীটনাশক ক্ষতিকর পোকার সাথে সাথে মৌমাছি, প্রজাপতি, রেশমপোকার মতো উপকারী এবং অর্থকরী পোকাদেরও মেরে ফেলে।
৯. মাটির নীচের জল কমে যাওয়ার একটি কারণ কী?
সঠিক উত্তর: B. ডিপটিউবওয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার
বিশ্লেষণ: সবুজ বিপ্লবের সময় বোরো ধান চাষের জন্য ডিপটিউবওয়েল দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়ায় জলের স্তর নীচে নেমে গেছে।
১০. আউস ধান সাধারণত কোন জমিতে চাষ করা হয়?
সঠিক উত্তর: C. একটু উঁচু জমিতে
বিশ্লেষণ: আউস ধান চাষে আমন ধানের চেয়ে কম জল লাগে, তাই এটি তুলনামূলকভাবে উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
১১. ধান রাখার জন্য তৈরি মাটির বা খড়ের ঘরকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: A. গোলা
বিশ্লেষণ: ধান বা অন্যান্য শস্য সংরক্ষণ করার জন্য তৈরি ঐতিহ্যবাহী গোলাকার বা চৌকো ঘরকে 'গোলা' বলে।
১২. পাহাড়ি অঞ্চলে সিঁড়ির মতো জমি তৈরি করে চাষ করাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. ধাপ চাষ
বিশ্লেষণ: পাহাড়ের ঢালু জমিতে মাটির ক্ষয় রোধ করে চাষ করার জন্য এই ধাপ চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
১৩. দার্জিলিং-এর প্রধান ফসল কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. চা
বিশ্লেষণ: দার্জিলিং তার স্বাদ ও গন্ধের জন্য বিশ্ববিখ্যাত চায়ের জন্য পরিচিত। এটিই ওখানকার প্রধান অর্থকরী ফসল।
১৪. স্কোয়াশ ফলটি খেতে অনেকটা কিসের মতো?
সঠিক উত্তর: A. পেঁপের মতো
বিশ্লেষণ: স্কোয়াশ পাহাড়ি অঞ্চলে চাষ হওয়া একটি সবজি যার গাছ লতানো এবং ফল খেতে পেঁপের মতো।
১৫. তরাই অঞ্চলের দুটি বিখ্যাত ফল কী কী?
সঠিক উত্তর: B. আনারস ও কলা
বিশ্লেষণ: উত্তরবঙ্গের তরাই অঞ্চল, বিশেষ করে শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকা আনারস ও কলা চাষের জন্য খুব বিখ্যাত।
১৬. রেশম কীট পালনের জন্য কোন গাছের চাষ করা হয়?
সঠিক উত্তর: C. তুঁত
বিশ্লেষণ: রেশম মথের লার্ভা বা গুটিপোকা শুধুমাত্র তুঁত গাছের পাতা খায়। তাই রেশম চাষের জন্য তুঁত গাছের চাষ অপরিহার্য। মালদা ও মুর্শিদাবাদে এর চাষ বেশি হয়।
১৭. দামোদর নদের দুই পাশে শীতকালে কোন চাষ বেশি হয়?
সঠিক উত্তর: C. আলু
বিশ্লেষণ: হুগলি ও বর্ধমান জেলার দামোদরের পার্শ্ববর্তী উর্বর জমিতে শীতকালে প্রচুর পরিমাণে আলু চাষ হয়।
১৮. DVC-এর পুরো নাম কী?
সঠিক উত্তর: B. দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন
বিশ্লেষণ: DVC বা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন একটি বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা।
১৯. মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া কী চাষের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: C. আমবাগান
বিশ্লেষণ: এই জেলাগুলি, বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদ, উন্নত মানের আম উৎপাদনের জন্য সমগ্র ভারতে বিখ্যাত।
২০. পশ্চিমের কাঁকুরে লালমাটির অঞ্চলে কোন ধরনের ফসল ভালো হয়?
সঠিক উত্তর: C. ডাল, ভুট্টা ও বাদام
বিশ্লেষণ: এই অঞ্চলে জল কম লাগে এমন ফসল, যেমন—মটর, অড়হর, ভুট্টা, বাদাম ইত্যাদির চাষ ভালো হয়।
২১. দিঘার কাছাকাছি অঞ্চলে কোন ফলের চাষ খুব বেশি হয়?
সঠিক উত্তর: C. কাজুবাদাম
বিশ্লেষণ: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী বেলেমাটি কাজুবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
২২. বারুইপুর কোন ফলের জন্য বিখ্যাত?
সঠিক উত্তর: B. পেয়ারা
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর তার সুস্বাদু পেয়ারার জন্য রাজ্যজুড়ে বিখ্যাত।
২৩. ভেড়িতে মূলত কোন মাছের চাষ হয়?
সঠিক উত্তর: B. পারসে, ট্যাংরা, ভেটকি, চিংড়ি
বিশ্লেষণ: উপকূলীয় নোনা জলের ভেড়িগুলিতে মূলত পারসে, ট্যাংরা, ভেটকি এবং বাগদা ও গলদা চিংড়ির মতো লাভজনক মাছের চাষ হয়।
২৪. কোনটি সামুদ্রিক মাছ?
সঠিক উত্তর: C. সার্ডিন
বিশ্লেষণ: সার্ডিন, ইলিশ, লোটে, ভোলা ইত্যাদি মাছ সমুদ্রে পাওয়া যায়। রুই, কই, কাতলা মিষ্টি জলের মাছ।
২৫. ধানখেতে আগে কোন মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত?
সঠিক উত্তর: C. মৌরলা, পুঁটি, কই, শিঙি
বিশ্লেষণ: রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের আগে বর্ষাকালে ধানখেতের জলে এই ধরনের ছোট দেশি মাছ প্রচুর পরিমাণে জন্মাত।
২৬. কোন মাছ লেজে ভর দিয়ে লাফাতে পারে?
সঠিক উত্তর: D. চ্যাং
বিশ্লেষণ: চ্যাং মাছের লেজ খুব শক্তিশালী হয়, যার সাহায্যে এটি অল্প দূরত্ব লাফিয়ে যেতে পারে।
২৭. একটি লুপ্তপ্রায় মাছের উদাহরণ হল—
সঠিক উত্তর: C. সরপুঁটি
বিশ্লেষণ: জলদূষণ এবং অন্যান্য কারণে সরপুঁটি, ন্যাদোশ, খলসে ইত্যাদি দেশি মাছের সংখ্যা খুব কমে গেছে এবং এরা এখন লুপ্তপ্রায়।
২৮. মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত বাঁশের তৈরি বাক্সের মতো যন্ত্রকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: D. ঘুনি
বিশ্লেষণ: ঘুনি হল বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের ফাঁদ যা জলের স্রোতে পেতে রাখা হয়। মাছ এতে ঢুকতে পারে কিন্তু বেরোতে পারে না।
২৯. লুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণের জন্য কী করা উচিত?
সঠিক উত্তর: B. ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধ করা উচিত
বিশ্লেষণ: ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা মাছ না ধরলে তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারবে এবং লুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা বাড়তে পারে।
৩০. জলের পরিবেশ ঠিক রাখতে গেলে কী করা দরকার?
সঠিক উত্তর: C. সব ধরনের মাছকে বাঁচানো
বিশ্লেষণ: জলের বাস্তুতন্ত্র বা খাদ্যশৃঙ্খল ঠিক রাখতে গেলে ছোট-বড় সব ধরনের মাছকেই বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন।
৩১. 'জিওল মাছ' কাদের বলা হয়?
সঠিক উত্তর: B. যারা কম জলেও অনেকক্ষণ বেঁচে থাকে
বিশ্লেষণ: কই, মাগুর, শিঙি, শোল ইত্যাদি মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকায় এরা জল ছাড়াও অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, তাই এদের জিওল মাছ বলে।
৩২. উচ্চ ফলনশীল ধানের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. গাছ ছোটো এবং ফলন বেশি
বিশ্লেষণ: সবুজ বিপ্লবের সময় আনা উচ্চ ফলনশীল ধানের গাছগুলি বেঁটে প্রকৃতির হয়, কম সময়ে পাকে এবং বিঘা প্রতি ফলন অনেক বেশি হয়।
৩৩. পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হলেও জল দাঁড়ায় না কেন?
সঠিক উত্তর: C. জমির ঢাল খুব বেশি
বিশ্লেষণ: পাহাড়ের ঢালু জমির কারণে বৃষ্টির জল দ্রুত গড়িয়ে নীচের দিকে নেমে যায়, তাই জল দাঁড়াতে পারে না।
৩৪. শহরের কাছাকাছি অঞ্চলে কীসের চাষ বেশি হয়?
সঠিক উত্তর: C. ফুল ও সবজি
বিশ্লেষণ: শহরে ফুল ও সবজির চাহিদা বেশি এবং এগুলি পচনশীল হওয়ায় দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শহরের কাছাকাছি অঞ্চলে এর চাষ বেশি হয়।
৩৫. সরষে কোন ঋতুর ফসল?
সঠিক উত্তর: C. শীত
বিশ্লেষণ: সরষে একটি রবি ফসল, যা সাধারণত শীতকালে আলু খেতের পাশে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়।
৩৬. আমন ধান কোন ঋতুতে চাষ করা হয়?
সঠিক উত্তর: B. বর্ষা
বিশ্লেষণ: আমন ধান বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল, তাই এটি বর্ষাকালে রোপণ করা হয় এবং হেমন্তকালে কাটা হয়।
৩৭. টেকসই কৃষি ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
সঠিক উত্তর: B. পরিবেশের ক্ষতি না করে দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন বজায় রাখা
বিশ্লেষণ: টেকসই কৃষি হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে জৈব সার ব্যবহার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে ভবিষ্যতের জন্য উৎপাদন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়।
৩৮. 'সাথি ফসল' কী?
সঠিক উত্তর: C. প্রধান ফসলের সাথে একই জমিতে চাষ করা অন্য ফসল
বিশ্লেষণ: জমির সঠিক ব্যবহার এবং অতিরিক্ত আয়ের জন্য অনেক সময় প্রধান ফসলের (যেমন আলু) পাশে পাশে অন্য ফসল (যেমন সরষে) চাষ করা হয়। একে সাথি ফসল বলে।
৩৯. ইলিশ মাছ সাধারণত কোথায় পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর: B. সমুদ্রে ও বড় নদীতে
বিশ্লেষণ: ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ, তবে ডিম পাড়ার জন্য এটি বড় নদী যেমন গঙ্গা, পদ্মা, রূপনারায়ণে প্রবেশ করে।
৪০. 'বোরো' ধান কোন সময়ে চাষ হয়?
সঠিক উত্তর: C. শীতকালে লাগিয়ে গ্রীষ্মকালে কাটা হয়
বিশ্লেষণ: বোরো ধান মূলত জলসেচের উপর নির্ভরশীল এবং এটি শীতের শেষে রোপণ করে গ্রীষ্মের শুরুতে কাটা হয়। সবুজ বিপ্লবের সময় এর চাষ খুব বেড়েছিল।
৪১. মাছ ধরার জন্য ছিপে কী ব্যবহার করা হয়?
সঠিক উত্তর: B. বড়শি ও টোপ
বিশ্লেষণ: ছিপের সুতোর ডগায় বড়শি লাগানো থাকে এবং তাতে কেঁচো, আটার গুলি ইত্যাদির টোপ দিয়ে মাছ ধরা হয়।
৪২. কোনটি অর্থকরী পোকা?
সঠিক উত্তর: C. রেশমপোকা
বিশ্লেষণ: রেশমপোকার গুটি থেকে মূল্যবান রেশম সুতো পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা হয়। তাই এটি একটি অর্থকরী পোকা।
৪৩. ডিভিসি পরিকল্পনার একটি প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
বিশ্লেষণ: দামোদর নদের বিধ্বংসী বন্যা আটকানোর জন্যই মূলত জলাধার বা ড্যাম তৈরি করে ডিভিসি পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
৪৪. ফসল ঝাড়ার জন্য ব্যবহৃত চেরা বাঁশের তৈরি যন্ত্রকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. ধান-ঝাড়ন
বিশ্লেষণ: আগেকার দিনে ধানসমেত খড়কে এই বাঁশের তৈরি ঝাড়নের উপর পিটিয়ে ধান ও খড় আলাদা করা হতো।
৪৫. কোন মাছের চাষ এখন প্রায় দেখাই যায় না?
সঠিক উত্তর: C. ন্যাদোশ
বিশ্লেষণ: ন্যাদোশ, খরশুলা ইত্যাদি অনেক দেশি মাছ এখন লুপ্তপ্রায় এবং এদের সংখ্যা এতটাই কমে গেছে যে প্রায় পাওয়াই যায় না।
৪৬. উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহারের জন্য কোনটি অপরিহার্য?
সঠিক উত্তর: C. প্রচুর জলসেচ ও রাসায়নিক সার
বিশ্লেষণ: উচ্চ ফলনশীল বীজগুলির ভালো ফলনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং রাসায়নিক সারের মাধ্যমে পুষ্টির জোগান দেওয়া আবশ্যক।
৪৭. কোন অঞ্চলে গরমকালেও শীতের সবজি চাষ করা সম্ভব?
সঠিক উত্তর: C. দার্জিলিং-এর পার্বত্য অঞ্চল
বিশ্লেষণ: পার্বত্য অঞ্চলে সারা বছর আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায়, আমাদের এখানে যখন গরমকাল, তখনও সেখানে ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়।
৪৮. 'ডোঙা' কী কাজে ব্যবহৃত হতো?
সঠিক উত্তর: C. জমিতে জলসেচ করতে
বিশ্লেষণ: ডোঙা হল তালগাছের কাণ্ড দিয়ে তৈরি এক ধরনের সেচযন্ত্র, যা দিয়ে নিচু জায়গা থেকে জল তুলে উঁচু জমিতে দেওয়া হতো।
৪৯. লুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণের একটি উপায় কী হতে পারে?
সঠিক উত্তর: B. পঞ্চায়েত থেকে কিছু পুকুরে দেশি মাছ চাষ করা
বিশ্লেষণ: সরকারি বা পঞ্চায়েতের উদ্যোগে কিছু জলাশয় নির্দিষ্ট করে সেখানে লুপ্তপ্রায় দেশি মাছের চাষ ও সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
৫০. আগেকার দিনে ধানখেত মাছে ভরে যেত কেন?
সঠিক উত্তর: B. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছিল না বলে
বিশ্লেষণ: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়া না থাকায় বর্ষার সময় ধানখেতের জলে মাছেরা নিরাপদে বংশবৃদ্ধি করতে পারত।
৫১. 'বড়ো ফাঁদির জাল' ব্যবহার করলে কোন মাছ রক্ষা পেতে পারে?
সঠিক উত্তর: B. ছোট পুঁটি, মৌরলা
বিশ্লেষণ: জালের ফাঁদি বা খোপ বড় হলে ছোট আকারের মাছগুলি সেই ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে, ফলে তারা ধরা পড়ে না এবং বংশবিস্তারের সুযোগ পায়।
৫২. মাছের খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়তে পারে কেন?
সঠিক উত্তর: B. কোনো বিশেষ প্রজাতির মাছ লুপ্ত হয়ে গেলে
বিশ্লেষণ: জলের বাস্তুতন্ত্রে ছোট মাছকে বড় মাছ খায়। কোনো এক প্রজাতির মাছ, বিশেষ করে ছোট মাছ লুপ্ত হয়ে গেলে তাদের উপর নির্ভরশীল অন্য মাছেরা খাবার পায় না, ফলে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলটাই ভেঙে পড়ে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: চাষের কাজে ব্যবহৃত দুটি আধুনিক যন্ত্রের নাম লেখো।
উত্তর: চাষের কাজে ব্যবহৃত দুটি আধুনিক যন্ত্র হল পাওয়ার টিলার (জমি চাষের জন্য) এবং হারভেস্টার (ফসল কাটার জন্য)।
প্রশ্ন ২: সবুজ বিপ্লব বলতে কী বোঝো?
উত্তর: ১৯৬০-এর দশকে উচ্চ ফলনশীল বীজ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও জলসেচের সাহায্যে ভারতে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, যা সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৩: রাসায়নিক সারের দুটি কুফল লেখো।
উত্তর: (ক) জমির উর্বরতা শক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। (খ) জমির বন্ধু-পোকা এবং কেঁচো মারা যায়।
প্রশ্ন ৪: ধাপ চাষ কোথায় দেখা যায়? এর সুবিধা কী?
উত্তর: ধাপ চাষ পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়। এর সুবিধা হল এটি পাহাড়ের ঢালু জমিতে মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টির জল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৫: তরাই অঞ্চলের প্রধান দুটি ফলের নাম লেখো।
উত্তর: তরাই অঞ্চলের প্রধান দুটি ফল হল আনারস এবং কলা।
প্রশ্ন ৬: DVC কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: দামোদর নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলসেচের ব্যবস্থা করা এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য DVC বা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন তৈরি করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ৭: দুটি লুপ্তপ্রায় দেশি মাছের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি লুপ্তপ্রায় দেশি মাছ হল সরপুঁটি এবং ন্যাদোশ।
প্রশ্ন ৮: ভেড়ি কী?
উত্তর: ভেড়ি হল বড় জলাশয় যেখানে বাঁধ দিয়ে জল আটকে রেখে বাণিজ্যিকভাবে মাছ, বিশেষ করে চিংড়ি, পারসে, ভেটকি ইত্যাদি চাষ করা হয়।
প্রশ্ন ৯: তুঁত গাছের চাষ কেন করা হয়?
উত্তর: রেশম মথের গুটিপোকা তুঁত পাতা খায়, তাই রেশম সুতো উৎপাদনের জন্য তুঁত গাছের চাষ করা হয়।
প্রশ্ন ১০: আউস ও আমন ধানের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: আউস ধান চাষে কম জল লাগে এবং এটি উঁচু জমিতে হয়, অন্যদিকে আমন ধান চাষে বেশি জল লাগে এবং এটি নীচু জমিতে হয়।
প্রশ্ন ১১: দুটি জৈব সারের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি জৈব সার হল গোবর সার এবং কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট)।
প্রশ্ন ১২: মাছ ধরার দুটি পুরনো পদ্ধতির নাম লেখো।
উত্তর: মাছ ধরার দুটি পুরনো পদ্ধতি হল ছিপ দিয়ে মাছ ধরা এবং ঘুনি পেতে মাছ ধরা।
প্রশ্ন ১৩: দার্জিলিং-এর চায়ের স্বাদ-গন্ধ ভালো হয় কেন?
উত্তর: দার্জিলিং-এর ঠাণ্ডা আবহাওয়া, উচ্চতা এবং বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য এখানকার চায়ের স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয় হয়।
প্রশ্ন ১৪: উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে নুনের ভাগ বেশি কেন?
উত্তর: সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এবং জোয়ারের জল ঢোকার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে নুনের ভাগ বেশি থাকে।
প্রশ্ন ১৫: দুটি অর্থকরী পোকার নাম লেখো।
উত্তর: দুটি অর্থকরী পোকা হল মৌমাছি (মধু ও মোমের জন্য) এবং রেশমপোকা (রেশম সুতোর জন্য)।
প্রশ্ন ১৬: ধানখেতে মাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: ধানখেতে মাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হল চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার।
প্রশ্ন ১৭: 'জিওল মাছ' কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে সব মাছের অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্র থাকায় তারা জল ছাড়াও অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, তাদের জিওল মাছ বলে। যেমন: কই, মাগুর।
প্রশ্ন ১৮: চাষের কাজে পশুর ব্যবহার কীভাবে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: মানুষ যখন দেখল যে গোরু, মহিষের মতো প্রাণীদের পোষ মানানো সম্ভব এবং তাদের দিয়ে লাঙল টানার মতো কঠিন কাজ করানো যায়, তখন থেকেই চাষে পশুর ব্যবহার শুরু হয়।
প্রশ্ন ১৯: মালভূমি অঞ্চলে কী কী ফলের চাষ ভালো হয়?
উত্তর: মালভূমি অঞ্চলে আতা, মুসাম্বি লেবু, আম, বেলের মতো ফল ভালো হয়।
প্রশ্ন ২০: লুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে পঞ্চায়েত কী ভূমিকা নিতে পারে?
উত্তর: পঞ্চায়েত এলাকার এক বা একাধিক পুকুর নির্দিষ্ট করে সেখানে লুপ্তপ্রায় দেশি মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে এবং মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: চাষবাসের পদ্ধতির বিবর্তন কীভাবে ঘটেছে? সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: চাষবাসের পদ্ধতির বিবর্তন একটি দীর্ঘ সময়ের প্রক্রিয়া।
(ক) আদিম পর্যায়: প্রথমে মেয়েরা বীজ থেকে চারা জন্মাতে দেখে চাষের ধারণা লাভ করে। তখন কোনো যন্ত্র ছাড়াই শুধু মাটি খুঁড়ে বীজ পোঁতা হতো।
(খ) লাঙলের ব্যবহার: এরপর মানুষ কাঠের লাঙল তৈরি করে। প্রথমে মানুষ নিজেই সেই লাঙল টানত। পরে গোরু, মহিষের মতো পশুদের পোষ মানিয়ে লাঙল টানার কাজে লাগানো শুরু হয়, যা চাষে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।
(গ) আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার: বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে চাষে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে জমি চাষের জন্য পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর এবং ফসল কাটা ও ঝাড়ার জন্য হারভেস্টারের মতো আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে কম সময়ে অনেক বেশি জমিতে চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: "সবুজ বিপ্লব" ভারতের খাদ্য সংকট দূর করলেও এর কিছু খারাপ প্রভাবও রয়েছে।— আলোচনা করো।
উত্তর: সবুজ বিপ্লব নিঃসন্দেহে ভারতের খাদ্য উৎপাদনে একটি বিরাট সাফল্য এনেছিল, কিন্তু এর কিছু নেতিবাচক বা খারাপ প্রভাবও ছিল।
ভালো প্রভাব (সুফল):
(ক) উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহারের ফলে ধান ও গমের উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায়, যা দেশের খাদ্য সংকট মেটাতে সাহায্য করে।
(খ) বছরে একাধিকবার ফসল ফলানো সম্ভব হয়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে।
খারাপ প্রভাব (কুফল):
(ক) জমির উর্বরতা হ্রাস: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা এবং উপকারী অণুজীব নষ্ট হয়ে যায়।
(খ) জল সংকট: উচ্চ ফলনশীল চাষে প্রচুর জল লাগে, তাই ডিপটিউবওয়েল দিয়ে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল তুলে নেওয়ায় অনেক জায়গায় জলের স্তর নীচে নেমে গেছে।
(গ) পরিবেশ দূষণ: রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহারে জমির বন্ধু-পোকা, কেঁচো, মৌমাছি ইত্যাদি মারা যায় এবং জল ও মাটি দূষিত হয়।
(ঘ) দেশি বীজের বিলুপ্তি: উচ্চ ফলনশীল বীজের দাপটে অনেক পুরনো ও স্থানীয় প্রজাতির ধানের বীজ হারিয়ে গেছে।
প্রশ্ন ৩: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিজ উৎপাদনের বৈচিত্র্যের কারণ কী? উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষিজ উৎপাদনের বৈচিত্র্যের প্রধান কারণ হল সেইসব অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, মাটি, জলবায়ু এবং বৃষ্টিপাতের تفاوت।
(ক) উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল: এখানকার জলবায়ু ঠান্ডা, ভূমি ঢালু এবং মাটি নুড়িযুক্ত। তাই এখানে ধাপ কেটে চা, কমলালেবু, স্কোয়াশ এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার সবজি চাষ হয়।
(খ) পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল: এখানকার মাটি লাল ও কাঁকুরে এবং জলধারণ ক্ষমতা কম। তাই এখানে কম জলে চাষ হয় এমন ফসল যেমন ডাল, ভুট্টা, বাদাম ইত্যাদি চাষ করা হয়।
(গ) গাঙ্গেয় সমভূমি ও রাঢ় অঞ্চল: এই অঞ্চলের মাটি উর্বর পলি দ্বারা গঠিত এবং সমতল। তাই এই অঞ্চল ধান, পাট, আলু, গম এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষের জন্য আদর্শ।
(ঘ) উপকূলীয় নোনা মাটির অঞ্চল: এখানকার মাটিতে নুনের ভাগ বেশি থাকায় লবণ সহনশীল ধান, তরমুজ, পান এবং কাজুবাদামের চাষ ভালো হয়।
প্রশ্ন ৪: লুপ্তপ্রায় দেশি মাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী কী? এদের বাঁচানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?
উত্তর: লুপ্তপ্রায় দেশি মাছ হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণগুলি হল:
(ক) রাসায়নিক দূষণ: চাষের জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে পুকুর ও নদীতে মিশে মাছের বাসস্থান নষ্ট করছে ও তাদের মেরে ফেলছে।
(খ) জলাশয় ভরাট: জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক পুকুর, খাল, বিল ভরাট করে ফেলায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষেত্র কমে যাচ্ছে।
(গ) অতিরিক্ত মাছ ধরা: ছোট ফাঁদির জাল ব্যবহার করে ডিমওয়ালা মাছ ও ছোট পোনা মাছ ধরে ফেলার ফলে তাদের বংশবৃদ্ধি বাধা পাচ্ছে।
(ঘ) বিদেশি মাছের চাষ: বাণিজ্যিক লাভের জন্য পুকুরে তেলাপিয়া, সিলভার কার্পের মতো বিদেশি মাছ চাষ করায় দেশি মাছেরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
সংরক্ষণের পদক্ষেপ:
(ক) চাষে জৈব সার ও প্রাকৃতিক কীটনাশকের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
(খ) ছোট ফাঁদির জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে এবং ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে।
(গ) সরকারি উদ্যোগে কিছু জলাশয়ে 'অভয়ারণ্য' তৈরি করে দেশি মাছের সংরক্ষণ ও প্রজননের ব্যবস্থা করতে হবে।
(ঘ) এই বিষয়ে মাছ চাষি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
প্রশ্ন ৫: জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মধ্যে পার্থক্য লেখো। চাষের জন্য কোনটি বেশি উপকারী এবং কেন?
উত্তর: জৈব সার ও রাসায়নিক সারের মধ্যে পার্থক্য:
| বিষয় | জৈব সার | রাসায়নিক সার |
|---|---|---|
| উপাদান | গোবর, পাতা, সবজির খোসা ইত্যাদি প্রাকৃতিক জিনিস পচিয়ে তৈরি হয়। | কারখানায় বিভিন্ন রাসায়নিক पदार्थ দিয়ে তৈরি হয়। |
| মাটির উপর প্রভাব | মাটির উর্বরতা ও জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায়। মাটির গঠন ভালো করে। | দ্রুত ফলন বাড়ালেও দীর্ঘ ব্যবহারে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে দেয়। |
| পরিবেশের উপর প্রভাব | পরিবেশ-বান্ধব, কোনো ক্ষতি করে না। | মাটি ও জল দূষিত করে এবং উপকারী জীবাণু ও প্রাণীদের ক্ষতি করে। |
| খরচ | উৎপাদন খরচ কম, বাড়িতেই বানানো যায়। | এটি বাজার থেকে কিনতে হয় এবং দাম বেশি। |
চাষের জন্য দীর্ঘমেয়াদে জৈব সার বেশি উপকারী। কারণ, রাসায়নিক সার সাময়িকভাবে ফলন বাড়ালেও ধীরে ধীরে মাটিকে বিষাক্ত ও অনুর্বর করে তোলে। অন্যদিকে, জৈব সার মাটির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে, পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না এবং এর মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলও স্বাস্থ্যকর হয়। তাই টেকসই কৃষির জন্য জৈব সারই শ্রেষ্ঠ।
প্রশ্ন ৬: 'ভেড়ি'-তে মাছ চাষের পদ্ধতি এবং এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: পদ্ধতি: পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, বড় বড় জলাশয় বা নিচু জমিতে বাঁধ দিয়ে ভেড়ি তৈরি করা হয়। এই ভেড়িগুলিতে নদীর নোনা জল ঢুকিয়ে বা মিষ্টি জল আটকে রেখে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হয়। নদী থেকে চিংড়ির পোনা (মীন) সংগ্রহ করে এই ভেড়িগুলিতে ছাড়া হয়। তাদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় এবং বড় হলে জাল দিয়ে ধরে বাজারে বিক্রি করা হয়।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
(ক) কর্মসংস্থান: ভেড়িতে মাছ চাষের মাধ্যমে এই অঞ্চলের বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়। মীন সংগ্রহ, মাছের পরিচর্যা, মাছ ধরা ও বিক্রি করার কাজে অনেকে যুক্ত থাকেন।
(খ) রপ্তানি: ভেড়িতে উৎপাদিত বাগদা ও গলদা চিংড়ির বিদেশে বিরাট চাহিদা রয়েছে। এগুলি রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
(গ) স্থানীয় চাহিদা পূরণ: ভেড়িতে উৎপাদিত পারসে, ট্যাংরা, ভেটকির মতো মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটায় এবং মানুষের প্রোটিনের জোগান দেয়।
সুতরাং, ভেড়িতে মাছ চাষ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।