পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে (Pahariya Borshar Sure) Class 5 Bengali Question Answer

Complete textbook solutions, summary, word meanings, and folklore analysis for WBBSE Class 5 Bengali (পাতাবাহার) chapter 'পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে'.

Shilpi Mondal
Shilpi Mondal
Uploaded: 15 January 2026 Last Update: 18 April 2026

গদ্যাংশের পরিচিতি ও সারমর্ম

সারসংক্ষেপ: 'পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে' গদ্যাংশটিতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তরাই অঞ্চলের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের (যেমন- মেচ, রাভা, গারো, লেপচা, টোটো) জীবনযাত্রা ও লোকসংস্কৃতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে একটি প্রচলিত রাভা গানের বাংলা তর্জমার মাধ্যমে বর্ষায় নতুন জলে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দ বর্ণনা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, লেপচাদের মধ্যে প্রচলিত একটি মজার লোককথার উল্লেখ আছে। পৃথিবীতে একবার খুব খরা হলে ব্যাঙ কীভাবে বৃষ্টি আনার জন্য ভগবানের প্রাসাদে যাত্রা করেছিল, এবং পথিমধ্যে মৌমাছি, মোরগ ও বাঘকে সঙ্গে নিয়ে ভগবানের রক্ষীদের নাকাল করে পৃথিবীতে বৃষ্টি ফিরিয়ে এনেছিল, তারই আকর্ষণীয় গল্প এখানে বলা হয়েছে।

শব্দার্থ (Word Meanings)

শব্দঅর্থ
খরাঅনাবৃষ্টি / দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়া
প্রাসাদবড়ো বাড়ি / রাজবাড়ি
সাক্ষাৎদেখা
দানাশস্যের কণা
গাফিলতিউদাসীনতা / কাজে অবহেলা
তিরস্কারবকা / ধমক দেওয়া
উল্লসিতখুব খুশি / আনন্দিত
ফৈআসা (রাভা ভাষায়)
লৗগীসঙ্গী বা সহপাঠী
না রীঁতিয়ামাছ ধরতে যাওয়া

হাতে কলমে - প্রশ্ন ও উত্তর (Textbook Exercises)

১. নিজের ভাষায় লেখো:

১.১ পশ্চিমবঙ্গের যে-কোনো একটি পাহাড়ের নাম লেখো।
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের একটি বিখ্যাত পাহাড়ের নাম হলো টাইগার হিল (দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত)। (এছাড়া সুশুনিয়া পাহাড় বা অযোধ্যা পাহাড়ও লেখা যায়)।

১.২ পাহাড়ের কথা বললেই কোন ছবি তোমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে?
উত্তর: পাহাড়ের কথা বললেই আমার চোখের সামনে উঁচু উঁচু পাথুরে শৃঙ্গ, তার গায়ে থাকা ঘন সবুজ জঙ্গল, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা এবং মেঘের লুকোচুরি খেলার ছবি ভেসে ওঠে।

১.৩ বর্ষায় মাছ ধরা নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতার কথা কিংবা মাছ ধরা নিয়ে তোমার পড়া একটি গল্প বা ছড়া লেখো।
উত্তর: বর্ষাকালে আমাদের গ্রামের পুকুরে যখন জল ভরে যায়, তখন আমি আর দাদারা মিলে জাল দিয়ে মাছ ধরি। বৃষ্টিতে ভিজে কাদা মেখে মাছ ধরার সেই আনন্দ আমার খুব ভালো লাগে।
মাছ ধরা নিয়ে আমার পড়া একটি ছড়া হলো— "খোকন খোকন ডাক পাড়ি / খোকন মোদের কার বাড়ি / আয় রে খোকন ঘরে আয় / দুধ মাখা ভাত কাকে খায়।"

১.৪ বর্ষায় প্রকৃতির রূপ কেমন হয়? তোমার পাঠ্যবইতে বর্ষা নিয়ে আর কোন কোন লেখা রয়েছে?
উত্তর: বর্ষাকালে প্রকৃতি স্নান করে ওঠে। চারিদিকের গাছপালা সতেজ ও সবুজ হয়ে যায়, নদী-পুকুর জলে ভরে ওঠে এবং মাটি থেকে সোঁদা গন্ধ বের হয়।
আমাদের পাঠ্যবইতে বর্ষা নিয়ে 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) এবং 'পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে' লেখাগুলি রয়েছে।

২. বাক্য মেলাও ("ক" স্তম্ভের সঙ্গে "খ" স্তম্ভ)

খ (উত্তর)
চল মাছ ধরি গিয়েনতুন বছরের নতুন জলে
মাছরাঙা বার বারছোঁ মেরেও পায়নি মাছ
কুরয়া পাখিউড়ে উড়ে কাঁদছে
বক্যেরাউড়ছে সার বেঁধে
ছাপিয়ে গিয়েছেনদীর কূল

৩. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে গানটি থেকে গল্প তৈরি করো:

উত্তর: নতুন বছরের নতুন জলে আনন্দ করে [মাছ ধরতে যাওয়া হচ্ছে]। বর্ষার এই সুন্দর প্রকৃতিতে [নদীর কূল ছাপিয়ে গিয়েছে]। মাঠ ঘাট, কত পাখি, যেমন [কুরয়া পাখি আর বক]। তারা কেউ [মাছ পায়নি, এমনকি মাছরাঙাও ছোঁ মেরে মাছ পায়নি]। একদিকে মাছ না পাওয়া গেলে [অন্যদিকে গিয়ে খুঁজতে হবে বা চলতে হবে]

৪. কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে তুমি খুব হৈচৈ আনন্দ করেছ আর মজা পেয়েছ। কী কী করলে সেই দিন তা দিনলিপির আকারে খাতায় লেখো।

উত্তর: (একটি দিনলিপির উদাহরণ)
তারিখ: ১৫ই বৈশাখ, রবিবার
আজ আমাদের পাড়ায় রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসব ছিল। সকাল থেকে আমি আর আমার বন্ধুরা খুব আনন্দ করেছি। সকালে আমরা সবাই নতুন জামা পরে প্রভাতফেরিতে যোগ দিয়েছিলাম। দুপুরে পাড়ার মাঠে প্যান্ডেলে বসে সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেছি। বিকেলে আমি মঞ্চে উঠে একটি রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছি এবং সবাই খুব হাততালি দিয়েছে। রাতে নাটক দেখার পর আমরা হৈচৈ করতে করতে বাড়ি ফিরেছি। দিনটা আমার খুব আনন্দে কেটেছে।

৫. মূল লেখাটা অন্য ভাষায়, কিন্তু নিজের ভাষায় তুমি পড়েছ আর দারুণ লেগেছে এমন দুটি লেখার নাম করো:

উত্তর: এমন দুটি লেখা হলো— 'ঈশপের গল্প' (মূল গ্রিক ভাষা থেকে অনূদিত) এবং 'আরব্য রজনী' বা আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের গল্প (মূল আরবি ভাষা থেকে অনূদিত)।

৬. একটি বৃষ্টির দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো।

উত্তর:
প্রিয় বন্ধু রাহুল,
আশা করি তুই ভালো আছিস। আজ তোকে একটা বৃষ্টির দিনের মজার অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছি। গত পরশু আমাদের এখানে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। স্কুল থেকে ফেরার পথে আমি আর আমার দাদা ছাতা না খুলে বৃষ্টিতে খুব ভিজেছিলাম। রাস্তায় জল জমে গিয়েছিল, আর আমরা কাগজের নৌকো বানিয়ে সেই জলে ভাসিয়েছি। বাড়ি ফেরার পর মা আমাদের বকার বদলে গরম গরম খিচুড়ি আর ডিমভাজা খেতে দিয়েছিল। বৃষ্টির দিনের এই আনন্দটা আমি কিছুতেই ভুলতে পারব না। তুই ভালো থাকিস, দেখা হলে অনেক গল্প হবে।
ইতি,
তোর প্রিয় বন্ধু, সুমিত।

৭. এমন একটি ছবি আঁকো, যার মধ্যে কবিতার এই জিনিসগুলো থাকবে: নদীর কূল, জল থৈথৈ মাঠ, বকের সারি, মাছরাঙা, ছেলেমেয়ের দল।

উত্তর: (ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিজের কল্পনায় খাতায় একটি গ্রাম্য বর্ষার ছবি আঁকবে, যেখানে একটি নদী, জলে ভরা মাঠ, আকাশে বকের সারি, গাছে বসা মাছরাঙা এবং ছেলেমেয়েরা মাছ ধরছে বা খেলছে এমন দৃশ্য থাকবে।)

৮. কথায় বলে মাছে-ভাতে বাঙালি। সেই বাঙালির পরিচয় গানটিতে কীভাবে ফুটে উঠেছে?

উত্তর: বাঙালির প্রধান খাদ্য হলো মাছ আর ভাত, তাই তাদের মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয়। রাভা সম্প্রদায়ের এই গানটিতে দেখা যায়, বর্ষার নতুন জলে নদী-নালা ভরে উঠলে মানুষ আনন্দে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়ে। চারপাশের প্রকৃতি, নদীর কূল ছাপিয়ে যাওয়া বা পাখিদের ওড়াউড়ি— সবকিছু ভুলে তারা শুধু মাছ খোঁজার দিকেই নজর দিয়েছে। মাছ না পেলে তারা নিরাশ না হয়ে অন্যদিকে মাছ খুঁজতে যায়। মাছের প্রতি বাঙালির এই টান ও ভালোবাসাই গানটিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

৯. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও (পাঠ্যবইয়ের ৮.১ থেকে ৮.৭ নম্বর প্রশ্ন):

৯.১ বৃষ্টি কীভাবে প্রকৃতিকে বাঁচায়?
উত্তর: বৃষ্টির জল পেয়ে শুকনো ও রুক্ষ মাটিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। গাছপালা সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে, পুকুর ও নদী জলে ভরে যায় এবং চাষবাস ভালো হয়। এভাবেই বৃষ্টি প্রকৃতিকে খরা ও মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়।

৯.২ 'খরা' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার ফলে চারপাশের নদী, পুকুর ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া এবং গাছপালা ও ফসলের মারা যাওয়ার মতো ভয়ংকর প্রাকৃতিক অবস্থাকে 'খরা' বা অনাবৃষ্টি বলা হয়।

৯.৩ অনাবৃষ্টির ফলে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উত্তর: লেপচাদের লোককথা অনুযায়ী, অনাবৃষ্টির ফলে পৃথিবীতে চরম খরা দেখা দিয়েছিল। জলের অভাবে মানুষ, পশুপাখি এবং গাছপালা সব ধ্বংস হতে বসেছিল।

৯.৪ ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ কী দেখল?
উত্তর: ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাঙ দেখল যে, পৃথিবীতে যখন সবাই খরায় মরছে, তখন সেখানে সবাই নানান ভোজ ও আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত। ভগবান, তাঁর মন্ত্রী ও স্ত্রীদের মধ্যে মহানন্দ চলছে।

৯.৫ প্রাসাদের দৃশ্য দেখে ব্যাঙ রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন?
উত্তর: ব্যাঙ দেখল যে পৃথিবীতে জলের অভাবে সমস্ত জীবজন্তু ও মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ যার পৃথিবী রক্ষার কথা, সেই ভগবান ও তাঁর সঙ্গীরা প্রাসাদে আনন্দে ভোজ খাচ্ছে ও ফুর্তি করছে। ভগবানের এই চরম অবহেলা ও উদাসীনতার দৃশ্য দেখেই ব্যাঙ রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল।

৯.৬ ভগবান ও তাঁর রক্ষীরা মৌমাছি, বাঘ, মোরগের হাতে কীভাবে নাকাল হলো?
উত্তর: ব্যাঙের ডাকে উত্তেজিত হয়ে মৌমাছিরা ভগবানের রক্ষীদের মুখে হুল ফোটাতে শুরু করল। বাঘ গর্জ্জন করে রক্ষীদের খেয়ে নেওয়ার ভয় দেখাল, এবং মোরগ তার ডানা ঝাপটিয়ে ভয়ংকর শব্দ করে তাদের নাকাল করে তুলল।

৯.৭ শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে 'বৃষ্টি' নিয়ে প্রচলিত দুটি ছড়া ও দুটি গল্প সংগ্রহ করো।
উত্তর:
দুটি ছড়া:
১) "আয় বৃষ্টি ঝেঁপে / ধান দেব মেপে / লেবুর পাতা করমচা / যা বৃষ্টি ধরে যা।"
২) "বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান / শিব ঠাকুরের বিয়ে হবে তিন কন্যে দান।"
দুটি গল্প:
১) ব্যাং ও বৃষ্টির গল্প (লেপচা লোককথা)।
২) চাতক পাখি ও মেঘের গল্প।

পাহাড়িয়া বর্ষার সুরে (Class 5 Bengali) - প্রশ্নোত্তর ও জিজ্ঞাস্য

পৃথিবীতে প্রচণ্ড খরা বা অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে মানুষ ও জীবজন্তুরা মারা যাচ্ছিল। ভগবান কেন তাঁর সৃষ্টির প্রতি এত অবহেলা করছেন, সেই কৈফিয়ত চাইতে এবং পৃথিবীতে বৃষ্টি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করতেই ব্যাঙ ভগবানের প্রাসাদে গিয়েছিল।

বৃষ্টি আনার জন্য ভগবানের প্রাসাদে যাওয়ার পথে ব্যাঙের সাথে যোগ দিয়েছিল একটি মৌমাছি, একটি মোরগ এবং একটি ক্ষুধার্ত বাঘ

তরাই অঞ্চলের রাভা সম্প্রদায়ের গানটিতে বর্ষার নতুন জলে নদী ছাপিয়ে গেলে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।