Chapter 8: মাটি দূষণ
সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 28 MCQ | 16 SAQ | 5 Broad Questions
শিল্প দূষণ ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি চেরনোবিল ফুকুশিমা আবর্জনা মাটি সংরক্ষণ কীটনাশক পুনর্ব্যবহার
⚠️
ভোপাল ট্র্যাজেডি
১৯৮৪ | MIC গ্যাস | ২৫,০০০+ মৃত্যু
☢️
চেরনোবিল
১৯৮৬ | পারমাণবিক | ইউক্রেন
🗑️
মাটি দূষণ
রাসায়নিক, প্লাস্টিক, আবর্জনা
🌱
মাটি সংরক্ষণ
জৈব সার, বৃক্ষরোপণ, জনসচেতনতা
মাটি দূষণের কারণ ও উৎস - একনজরে
| উৎস | দূষণকারী | প্রভাব |
| কৃষি | রাসায়নিক সার, কীটনাশক | অণুজীব ধ্বংস, মাটি অনুর্বর |
| শিল্প | রাসায়নিক বর্জ্য, ভারী ধাতু | মাটির গুণমান নষ্ট, ক্যানসার |
| গৃহস্থালি | প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য, আবর্জনা | মাটি দূষণ, রোগজীবাণু বিস্তার |
| তাপবিদ্যুৎ | ফ্লাই অ্যাশ | কৃষিজমি দূষণ |
| পারমাণবিক | তেজস্ক্রিয় পদার্থ | দীর্ঘমেয়াদি দূষণ |
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)
28 টি
1. মাটি দূষণের প্রধান কারণ কী?
ক) ক) শুধু বৃষ্টিপাত
খ) খ) কলকারখানার বর্জ্য, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, প্লাস্টিক
গ) গ) শুধু নদীর স্রোত
ঘ) ঘ) গাছপালা
ব্যাখ্যা: মাটি দূষণের প্রধান কারণ: কলকারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ — এসবের কারণে মাটির উর্বরতা বা গুণগত মান নষ্ট হয় এবং মাটি দূষিত হয়।
2. ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি কী কারণে ঘটে?
ক) ক) বন্যা
খ) খ) ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে বিষাক্ত MIC গ্যাস নির্গমন
গ) গ) ভূমিকম্প
ঘ) ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা: ১৯৮৪ সালের ২-৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভারতের ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেড (UCIL) কারখানা থেকে অত্যন্ত বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানেট (MIC) গ্যাস বাতাসে মেশে। এই ভয়াবহ গ্যাস দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ মারা যায় এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ পঙ্গু বা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা।
3. ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনা কোথায় ঘটে?
ক) ক) জাপান
খ) খ) ইউক্রেন (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন)
গ) গ) ভারত
ঘ) ঘ) আমেরিকা
ব্যাখ্যা: ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল ইউক্রেনের (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চুল্লি বিস্ফোরিত হয়ে প্রচুর তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের অঞ্চলের মাটি, জল, বাতাসে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়ায়।
4. ২০১১ সালের ফুকুশিমা দাইচি দুর্ঘটনা কোথায় ঘটে?
ক) ক) রাশিয়া
খ) খ) জাপান
গ) গ) চীন
ঘ) ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা: ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। চুল্লি গলে গিয়ে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নির্গত হয় — আশপাশের অঞ্চলের মাটি, জল ও বাতাসে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়ায় এবং বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
5. তেজস্ক্রিয় দূষণ কী?
ক) ক) শব্দ দূষণ
খ) খ) পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় পদার্থের দূষণ
গ) গ) জল দূষণ
ঘ) ঘ) বায়ু দূষণ
ব্যাখ্যা: তেজস্ক্রিয় দূষণ (Radioactive Pollution): পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বা দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ (যেমন ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, সিজিয়াম-১৩৭, আয়োডিন-১৩১) মাটি, জল ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ক্যানসার, জন্মগত ত্রুটি ও প্রাণহানি ঘটে। উদাহরণ — চেরনোবিল (১৯৮৬), ফুকুশিমা (২০১১)।
6. মাটির উর্বরতা নষ্ট করার জন্য দায়ী কী?
ক) ক) জৈব সার
খ) খ) রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার
গ) গ) গোবর সার
ঘ) ঘ) কম্পোস্ট
ব্যাখ্যা: রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, সুপার ফসফেট) ও কীটনাশকের (DDT, এন্ডোসালফান) অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির প্রাকৃতিক গুণগত মান নষ্ট করে। মাটিতে উপকারী অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, কেঁচো) মারা যায় এবং মাটি ধীরে ধীরে অনুর্বর হয়ে যায় — ফসল উৎপাদন কমে যায়।
7. মাটির গুরুত্ব কী?
ক) ক) শুধু ঘর তৈরিতে
খ) খ) মাটি জীবনের ধারক — খাদ্য, বাসস্থান, কৃষির ভিত্তি
গ) গ) শুধু রাস্তা তৈরিতে
ঘ) ঘ) শুধু ইট তৈরিতে
ব্যাখ্যা: মাটি প্রকৃতির সবচেয়ে বড় দান। পৃথিবীর তিনভাগের একভাগ স্থলভাগ এবং এই স্থলভাগের উপরের স্তরে রয়েছে মাটি। মানুষসহ সমস্ত উদ্ভিদ-প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংস্থান এবং জীবনধারণ সবই মাটির উপরে নির্ভরশীল। হাজার হাজার বছর ধরে শিলা ক্ষয় হয়ে মাটি তৈরি হয়েছে।
8. জনসংখ্যা বৃদ্ধি কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
ক) ক) শুধু খাদ্যের চাহিদা বাড়ায়
খ) খ) আবর্জনা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অতিরিক্ত কৃষি চাপ
গ) গ) কোনো প্রভাব নেই
ঘ) ঘ) শুধু গাছপালা কমায়
ব্যাখ্যা: প্রবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে: (১) অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঘটে — কৃষিজমি কমে, (২) গৃহস্থালির আবর্জনা, প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য বাড়ে, (৩) খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার হয়, (৪) যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বাড়ে — সবই মাটি দূষণ ঘটায়।
9. প্লাস্টিক দূষণ কীভাবে মাটি দূষিত করে?
ক) ক) জলে গলে যায়
খ) খ) প্লাস্টিক পঁচে না, শত শত বছর মাটিতে থেকে যায় ও বিষাক্ত রাসায়নিক ছাড়ে
গ) গ) বাতাসে উড়ে যায়
ঘ) ঘ) গাছে পরিণত হয়
ব্যাখ্যা: প্লাস্টিক একটি অ-জীবাণুবিয়োজ্য (Non-biodegradable) পদার্থ — এটি সহজে পঁচে না এবং শত শত বছর ধরে মাটিতে অক্ষত অবস্থায় থেকে যায়। প্লাস্টিক থেকে BPA, থ্যালেট ইত্যাদি বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়ে মাটি দূষিত করে এবং ভূগর্ভস্থ জলকেও দূষিত করতে পারে।
10. মাটি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপায় কী?
ক) ক) বেশি সার ব্যবহার
খ) খ) জৈব সার ব্যবহার, গাছপালা লাগানো, বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলা
গ) গ) প্লাস্টিক ব্যবহার বাড়ানো
ঘ) ঘ) বেশি করে মাটি কাটা
ব্যাখ্যা: মাটি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপায়: (১) রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার (কম্পোস্ট, গোবর) ব্যবহার, (২) গাছপালা লাগানো (বৃক্ষরোপণ) — গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে, (৩) আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা, (৪) প্লাস্টিকের বদলে কাগজ বা পাটের থলে ব্যবহার।
11. ইটভাটার ইট তৈরির জন্য কী ক্ষতি হয়?
ক) ক) কোনো ক্ষতি হয় না
খ) খ) অতিরিক্ত মাটি কাটায় মাটি ক্ষয় ও কৃষিজমি নষ্ট
গ) গ) জল দূষণ
ঘ) ঘ) বায়ু দূষণ
ব্যাখ্যা: ইটভাটায় ইট তৈরি করতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হয় — এটি মাটি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। প্রতিবছর ভারতের হাজার হাজার হেক্টর উর্বর কৃষিজমি ইটভাটার জন্য ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন কমে এবং মাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়।
12. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই কীভাবে দূষণ ঘটায়?
ক) ক) শুধু বাতাসে
খ) খ) কয়লার ছাই (Fly Ash) মাটিতে মিশে মাটি দূষিত করে ও জমির উর্বরতা কমায়
গ) গ) শুধু জলে
ঘ) ঘ) কোনো দূষণ হয় না
ব্যাখ্যা: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর ফলে প্রচুর ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) উৎপন্ন হয়। এই ছাই নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা না হলে বাতাসে উড়ে আশপাশের কৃষিজমিতে জমা হয় এবং মাটি দূষিত করে। ছাইয়ে থাকা ভারী ধাতু (আর্সেনিক, পারদ, সিসা) মাটির উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করে।
13. ময়লা বা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলার ফলে কী সমস্যা হয়?
ক) ক) কোনো সমস্যা হয় না
খ) খ) মাটি দূষণ, দুর্গন্ধ, রোগজীবাণু ছড়ানো, পরিবেশ নোংরা
গ) গ) শুধু জল দূষণ
ঘ) ঘ) শুধু বাতাস দূষণ
ব্যাখ্যা: যত্রতত্র ময়লা বা আবর্জনা ফেলার ফলে: (১) মাটি দূষিত হয়, (২) জৈব আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ও রোগজীবাণু (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস) বৃদ্ধি পায়, (৩) মাছি-মশা বাড়ে → ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ছড়ায়, (৪) আবর্জনা বৃষ্টির জলে ধুয়ে নদী-পুকুরের জল দূষিত করে।
14. নগরায়ণ কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
ক) ক) কোনো প্রভাব নেই
খ) খ) কৃষিজমি কমে যাওয়া, নির্মাণ বর্জ্য, সিমেন্ট-বালির স্তূপ
গ) গ) শুধু বৃষ্টি কমায়
ঘ) ঘ) গাছ বাড়ায়
ব্যাখ্যা: নগরায়ণের প্রভাবে: (১) খোলা জমি, খেলার মাঠ, কৃষিজমি দখল করে ফ্ল্যাট-বাড়ি তৈরি হয়, (২) নির্মাণ বর্জ্য (সিমেন্ট, বালি, পাথর, ইটের টুকরো) জমা হয়, (৩) শহরের কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) অপরিকল্পিতভাবে জমা হয় — এসবই মাটি দূষণের কারণ।
15. মাটিতে কীটনাশকের প্রভাব কী?
ক) ক) মাটির উর্বরতা বাড়ে
খ) খ) উপকারী অণুজীব মারা যায়, মাটি অনুর্বর হয়, ফসলে বিষ জমে
গ) গ) কোনো প্রভাব নেই
ঘ) ঘ) পানি শোধন হয়
ব্যাখ্যা: কীটনাশকের (Pesticide) অতিরিক্ত ব্যবহার: (১) মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, কেঁচো ও অন্যান্য অণুজীব মারা যায়, (২) মাটির জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় → মাটি ধীরে ধীরে অনুর্বর হয়, (৩) কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ (Residue) ফসলে জমা হয় এবং খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ নানা রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
16. মাটি দূষণ রোধে 'করা উচিত নয়' কোনটি?
ক) ক) গাছপালা লাগানো
খ) খ) যেখানে সেখানে জঞ্জাল বা আবর্জনা ফেলা
গ) গ) জৈব সার ব্যবহার
ঘ) ঘ) প্লাস্টিকের বদলে কাগজের থলে ব্যবহার
ব্যাখ্যা: মাটি দূষণ রোধে 'করা উচিত নয়': (১) যেখানে সেখানে জঞ্জাল বা আবর্জনা ফেলা, (২) গাছপালা কাটা বা ক্ষতি করা, (৩) কৃষিজমিতে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, (৪) শৌচাগার ছাড়া যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ করা। এগুলো মাটি দূষণের অন্যতম কারণ।
17. মাটি দূষণ রোধে 'করা উচিত' কোনটি?
ক) ক) গৃহস্থালির বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলা
খ) খ) প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলা
গ) গ) গাছপালা কাটা
ঘ) ঘ) বেশি কীটনাশক ব্যবহার
ব্যাখ্যা: মাটি দূষণ রোধে 'করা উচিত': (১) গৃহস্থালির বর্জ্য বা আবর্জনা সঠিক জায়গায় ফেলা, (২) পলিথিনের বদলে কাগজ বা পাটের থলে ব্যবহার, (৩) বাড়ির উঠোন, বাগান, রাস্তার ধারে বেশি করে গাছপালা লাগানো, (৪) কৃষিজমিতে জৈব সার বেশি পরিমাণে ব্যবহার, (৫) মানুষকে সচেতন করা।
18. মাটি সৃষ্টি হতে কত সময় লাগে?
ক) ক) ১-২ বছর
খ) খ) হাজার হাজার বছর
গ) গ) ১ সপ্তাহ
ঘ) ঘ) ১ মাস
ব্যাখ্যা: হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি (সূর্যের তাপ, বৃষ্টি, বাতাস, নদী, হিমবাহ) দ্বারা শিলা ক্ষয় হয়ে মাটি তৈরি হয়েছে। মাত্র ১ সেমি মাটি তৈরি হতে প্রায় ১০০-৪০০ বছর সময় লাগে। তাই মাটিকে 'অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ' বলা হয় — একবার নষ্ট হলে তা সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না।
19. পৃথিবীর কত শতাংশ স্থলভাগে মাটি আছে?
ক) ক) ১০০%
খ) খ) প্রায় ৩৩% (তিন ভাগের এক ভাগ)
গ) গ) ৫০%
ঘ) ঘ) ১০%
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর তিন ভাগের এক ভাগ (প্রায় ৩৩%) স্থলভাগ। আর এই স্থলভাগের উপরিভাগের স্তরেই মাটি রয়েছে — যা সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের জীবনধারণের মূল ভিত্তি। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ জলভাগ (মহাসাগর ও সাগর)।
20. কৃষিতে অতিরিক্ত সারের পরিবর্তে কী ব্যবহার করা উচিত?
ক) ক) আরও বেশি সার
খ) খ) জৈব সার (কম্পোস্ট, গোবর সার)
গ) গ) প্লাস্টিক
ঘ) ঘ) কীটনাশক
ব্যাখ্যা: কৃষিজমিতে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির উর্বরতা নষ্ট করে ও পরিবেশ দূষিত করে। এর পরিবর্তে জৈব সার (কম্পোস্ট, গোবর সার, ভার্মি কম্পোস্ট — কেঁচো সার) ব্যবহার করা উচিত। জৈব সার মাটির গঠন উন্নত করে, জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটিতে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বাড়ায়।
21. ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে কোন গ্যাস নির্গত হয়েছিল?
ক) ক) অক্সিজেন
খ) খ) মিথাইল আইসোসায়ানেট (MIC)
গ) গ) নাইট্রোজেন
ঘ) ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা: ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডিতে ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানা থেকে মিথাইল আইসোসায়ানেট (Methyl Isocyanate বা MIC) নামক অত্যন্ত বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুস, চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং মৃত্যু ঘটায়।
22. মাটির অণুজীব কী কাজ করে?
ক) ক) শুধু মাটি নষ্ট করে
খ) খ) জৈব পদার্থ পচিয়ে মাটিকে উর্বর করে ও নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ করে
গ) গ) গাছ কাটে
ঘ) ঘ) পাথর ভাঙে
ব্যাখ্যা: মাটির অণুজীব (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কেঁচো) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়: (১) মৃত উদ্ভিদ-প্রাণীর দেহ পচিয়ে জৈব পদার্থ (হিউমাস) তৈরি করে → মাটি উর্বর হয়, (২) কিছু ব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে (নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ), (৩) কেঁচো মাটি নরম ও আলগা করে — বাতাস ও জল চলাচল সহজ হয়।
23. জৈব সার বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) কারখানায় তৈরি রাসায়নিক সার
খ) খ) গোবর, কম্পোস্ট, কেঁচো সার, সবুজ সার — প্রাকৃতিক উপাদান
গ) গ) প্লাস্টিক সার
ঘ) ঘ) তরল রাসায়নিক
ব্যাখ্যা: জৈব সার (Organic Fertilizer) হল প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি সার — যেমন গোবর সার, কম্পোস্ট (পচা আবর্জনা), ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার), সবুজ সার (ঢেঁচা, শণ গাছ মাটিতে মিশিয়ে), হাড়ের গুঁড়ো, মাছের গুঁড়ো। জৈব সার মাটির গঠন ও জল ধারণ ক্ষমতা উন্নত করে এবং পরিবেশবান্ধব।
24. নির্মাণ বর্জ্য (Construction Waste) কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায়?
ক) ক) কোনো সমস্যা নেই
খ) খ) সিমেন্ট, বালি, ইটের টুকরো, পাথর জমে মাটির গুণমান নষ্ট
গ) গ) শুধু জল দূষণ
ঘ) ঘ) বাতাস পরিষ্কার করে
ব্যাখ্যা: শহর বা গ্রামে ফ্ল্যাট-বাড়ি নির্মাণের সময় যে নির্মাণ বর্জ্য (Construction & Demolition Waste) — সিমেন্ট, বালি, পাথর, ইটের টুকরো, রড, কাঠ — জমা হয়, তা যদি সঠিকভাবে নিষ্কাশন না করা হয় তবে তা জমিতে ছড়িয়ে মাটির গুণগত মান নষ্ট করে। কৃষিজমি ও খোলা জায়গা এভাবে ধ্বংস হয়।
25. মাটি দূষণের কারণে কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে?
ক) ক) কোনো সমস্যা হয় না
খ) খ) ত্বকের রোগ, শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার, জন্মগত ত্রুটি
গ) গ) শুধু জ্বর
ঘ) ঘ) শুধু সর্দি-কাশি
ব্যাখ্যা: মাটি দূষণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব: (১) দূষিত মাটির সংস্পর্শে ত্বকের রোগ (ডার্মাটাইটিস, ছত্রাক সংক্রমণ), (২) তেজস্ক্রিয় দূষণ থেকে ক্যানসার ও জন্মগত ত্রুটি, (৩) বিষাক্ত রাসায়নিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে যকৃত ও বৃক্কের সমস্যা, (৪) আবর্জনা থেকে ছড়ানো রোগজীবাণু থেকে ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি।
26. পৃথিবীর মোট স্থলভাগের কত শতাংশে ৯০% মানুষ বাস করে?
ক) ক) ৫০%
খ) খ) ১০%
গ) গ) ৯০%
ঘ) ঘ) ১০০%
ব্যাখ্যা: পৃথিবীর মোট স্থলভাগের মাত্র ১০ শতাংশে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৯০% মানুষ বাস করে। এই প্রবল জনসংখ্যার চাপ মাটির অতিরিক্ত ও অনিয়মিত ব্যবহার, মাটির ক্ষয় এবং দূষণের প্রধান কারণ।
27. মাটি দূষণ রোধে প্লাস্টিকের বিকল্প কী?
ক) ক) আরও প্লাস্টিক
খ) খ) কাগজ, পাট, কাপড়ের থলে
গ) গ) লোহার থলে
ঘ) ঘ) সিমেন্টের থলে
ব্যাখ্যা: প্লাস্টিক পঁচে না এবং শত শত বছর মাটিতে থেকে যায়। মাটি দূষণ রোধে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার করা উচিত — যেমন কাগজের থলে, পাটের থলে (Jute Bag), কাপড়ের থলে। ভারত পাট উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় — পাট শিল্পকে উৎসাহ দিলে পরিবেশও রক্ষা পাবে।
28. মাটির উর্বরতা বলতে কী বোঝায়?
ক) ক) মাটির রং
খ) খ) মাটির ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা
গ) গ) মাটির ওজন
ঘ) ঘ) মাটির উচ্চতা
ব্যাখ্যা: মাটির উর্বরতা (Soil Fertility): উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম) সরবরাহ করার জন্য মাটির সক্ষমতাকে উর্বরতা বলে। উর্বর মাটিতে ভালো ফসল হয় — যেমন গাঙ্গেয় সমভূমির পলিমাটি। দূষণ, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও ক্ষয়ের কারণে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)
16 টি
1. মাটি দূষণ কাকে বলে? এর প্রধান কারণ কী কী?
মাটি দূষণ (Soil Pollution): কলকারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ, গৃহস্থালির আবর্জনা, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বা গুণগত মান নষ্ট হলে তাকে মাটি দূষণ বলে। প্রধান কারণ: (১) কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য, (২) কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, (৩) গৃহস্থালির আবর্জনা ও প্লাস্টিক, (৪) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ, (৫) ইটভাটায় অতিরিক্ত মাটি কাটা ও বর্জ্য।
2. ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি (Bhopal Gas Tragedy) সম্পর্কে কী জানো?
ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি: ১৯৮৪ সালের ২-৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেড (UCIL) নামক কীটনাশক কারখানা থেকে অত্যন্ত বিষাক্ত মিথাইল আইসোসায়ানেট (MIC) গ্যাস নির্গত হয়। রাতে বাতাসে মিশে এই গ্যাস আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলাফল: তাৎক্ষণিকভাবে ৩,০০০-এর বেশি মানুষ মারা যান এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আরও ১৫,০০০-২৫,০০০ মানুষ মারা যান। লক্ষ লক্ষ মানুষ অন্ধত্ব, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক সমস্যা ও ক্যানসারের শিকার হন। এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা।
3. চেরনোবিল দুর্ঘটনা (Chernobyl Disaster) কী? এর প্রভাব কী?
চেরনোবিল দুর্ঘটনা: ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান ইউক্রেন) চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ নম্বর চুল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে চুল্লির ছাদ উড়ে যায় এবং প্রচুর তেজস্ক্রিয় পদার্থ (আয়োডিন-১৩১, সিজিয়াম-১৩৭, স্ট্রনশিয়াম-৯০) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাব: (১) ৩১ জন তাৎক্ষণিক মৃত্যু, (২) হাজার হাজার মানুষ তেজস্ক্রিয়তা-জনিত ক্যানসারে আক্রান্ত, (৩) ৩০ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকা 'Exclusion Zone' ঘোষণা করে জনশূন্য করা হয়, (৪) ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মাটি, জল ও ফসল তেজস্ক্রিয় দূষিত হয়।
4. ফুকুশিমা দাইচি দুর্ঘটনা (Fukushima Disaster) কী?
ফুকুশিমা দাইচি দুর্ঘটনা: ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে ৯.০ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির (সুনামির উচ্চতা ১৪ মিটার) ফলে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। তিনটি চুল্লি গলে যায় (মেল্টডাউন) এবং প্রচুর তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাস ও সমুদ্রের জলে নির্গত হয়। ফলাফল: (১) ২০ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকা খালি করা হয়, (২) প্রশান্ত মহাসাগরে তেজস্ক্রিয় জল নির্গত হয় → সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল দূষিত, (৩) আশপাশের কৃষিজমি ও মাটি দীর্ঘমেয়াদে তেজস্ক্রিয় দূষিত হয়।
5. মাটি কেন জীবনের ধারক?
মাটি হল জীবনের ধারক, কারণ: (১) উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম) মাটি থেকেই আসে — মাটি ছাড়া কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন অসম্ভব, (২) মানুষসহ সমস্ত প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাটি থেকে উৎপন্ন খাদ্যের উপর নির্ভরশীল, (৩) মাটি অসংখ্য অণুজীবের (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, কেঁচো) আবাসস্থল যা পুষ্টি চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, (৪) মাটি পানি পরিশোধন করে ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর রিচার্জ করে, (৫) নির্মাণ, রাস্তাঘাট — মানুষের সমস্ত অবকাঠামো তৈরির ভিত্তি মাটি।
6. জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণ কীভাবে মাটি দূষণের কারণ?
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণ মাটি দূষণের কারণ: (১) ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে কৃষিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, (২) অপরিকল্পিত নগরায়ণে কৃষিজমি ও খোলা জায়গা দখল করে আবাসন তৈরি হয়, (৩) শহরে কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হয়, (৪) নির্মাণ বর্জ্য — সিমেন্ট, বালি, পাথর মাটিতে মিশে, (৫) জনসংখ্যার চাপে গৃহস্থালির আবর্জনা, প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার প্রবণতা বাড়ে — সবই মাটি দূষিত করে।
7. মাটি দূষণ রোধে আমাদের কী কী করা উচিত ও কী করা উচিত নয়?
মাটি দূষণ রোধে করণীয়: (১) গৃহস্থালির বর্জ্য বা আবর্জনা সঠিক জায়গায় ফেলা, (২) পলিথিনের বদলে কাগজ বা পাটের থলে ব্যবহার, (৩) বাড়ির উঠোন-বাগান-রাস্তার ধারে বেশি করে গাছপালা লাগানো, (৪) কৃষিজমিতে জৈব সারের বেশি ব্যবহার, (৫) মানুষকে সচেতন করা। যা করা উচিত নয়: (১) যেখানে সেখানে জঞ্জাল বা আবর্জনা ফেলা, (২) গাছপালা কাটা বা ক্ষতি করা, (৩) বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, (৪) শৌচাগার ছাড়া যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ করা।
8. তেজস্ক্রিয় দূষণ কী? এর উৎস ও প্রভাব কী?
তেজস্ক্রিয় দূষণ (Radioactive Pollution): পারমাণবিক কেন্দ্রের দুর্ঘটনা, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থের (ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম, সিজিয়াম-১৩৭) অব্যবস্থাপনার ফলে বায়ু, জল ও মাটিতে তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে পড়াকে তেজস্ক্রিয় দূষণ বলে। উৎস: (১) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (চেরনোবিল, ফুকুশিমা), (২) পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা, (৩) তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ভুল সংরক্ষণ। প্রভাব: (১) ক্যানসার (বিশেষত থাইরয়েড ক্যানসার, লিউকেমিয়া), (২) জন্মগত ত্রুটি ও জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন), (৩) দীর্ঘমেয়াদে জমি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়।
9. ইটভাটা কীভাবে মাটি দূষণ ও মাটি ক্ষয় ঘটায়?
ইটভাটার প্রভাব: ইটভাটায় ইট তৈরি করতে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর পলিমাটি কেটে নেওয়া হয়। প্রতিটি ইটের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ উর্বর মাটি প্রয়োজন। ফলে: (১) হাজার হাজার হেক্টর উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস হয়, (২) মাটি কাটার ফলে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয় ও ভূমিক্ষয় বাড়ে, (৩) ইট পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়া ও ছাই আশপাশের মাটি দূষিত করে, (৪) ফসলি জমি কমে গিয়ে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়। বিকল্প: ফ্লাই অ্যাশ ইট, সিমেন্ট ব্লক বা কংক্রিট ইট ব্যবহার।
10. রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কীভাবে মাটি দূষিত করে?
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রভাব: (১) রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, DAP) অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক pH নষ্ট হয় — মাটি অম্লীয় বা ক্ষারীয় হয়ে যায়, (২) মাটিতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া (রাইজোবিয়াম, অ্যাজোটোব্যাক্টর) ও কেঁচো মারা যায়, (৩) কীটনাশকের (DDT, এন্ডোসালফান) অবশিষ্টাংশ (Residue) মাটিতে জমা হয় → ফসলে মেশে → খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে জমা হয় (Bio-magnification), (৪) দীর্ঘমেয়াদে মাটি সম্পূর্ণ অনুর্বর হয়ে যায় — ফসল ফলানো কঠিন হয়। প্রতিকার: জৈব সার, জৈব কীটনাশক (নিম তেল), সমন্বিত কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ (IPM)।
11. প্লাস্টিক বর্জ্য মাটির জন্য কেন ক্ষতিকর?
প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব: (১) প্লাস্টিক অ-জীবাণুবিয়োজ্য (Non-biodegradable) — অর্থাৎ শত শত বছর মাটিতে পড়ে থাকে, পঁচে না, (২) প্লাস্টিক থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক (BPA, থ্যালেট, ডাইঅক্সিন) নির্গত হয়ে মাটি দূষিত করে, (৩) ভূগর্ভস্থ জল ও ফসলে এই বিষ প্রবেশ করে, (৪) প্লাস্টিকের টুকরো মাটি-জল আটকে রাখে → জল নিকাশি ব্যাহত হয়, (৫) গবাদি পশু প্লাস্টিক খেয়ে মারা যায়। প্রতিকার: প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পাটের থলে বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং।
12. তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ মাটির কী ক্ষতি করে?
ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) ক্ষতি: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর পর যে সূক্ষ্ম ছাই উৎপন্ন হয়, তা বাতাসে উড়ে বহুদূরে ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষিজমিতে জমা হয়। এই ছাইতে আর্সেনিক, পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম ইত্যাদি ভারী ধাতু থাকে। প্রভাব: (১) মাটির উর্বরতা কমে যায়, (২) ছাই মাটির ছিদ্র বন্ধ করে দেয় → জল ও বাতাস চলাচল কমে, (৩) ফসলে ভারী ধাতু জমা হয় → স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, (৪) ছাই নদী বা পুকুরে গিয়ে জল দূষণও ঘটায়। ইতিবাচক ব্যবহার: ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে ইট, সিমেন্ট ও রাস্তা তৈরি করা যায়।
13. মাটি সংরক্ষণের উপায়গুলি কী কী?
মাটি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপায়: (১) বৃক্ষরোপণ (Afforestation) — গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে ও মাটি ক্ষয় রোধ করে, (২) পরিমিত মাত্রায় জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার, (৩) প্লাস্টিক ও রাসায়নিক বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলা, (৪) ইটভাটায় ফ্লাই অ্যাশ ইট ব্যবহার করে কৃষিজমির মাটি রক্ষা, (৫) নগরায়ণ ও নির্মাণ কাজে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, (৬) জনসচেতনতা বৃদ্ধি — পরিচ্ছন্নতা অভিযান, (৭) পুনর্ব্যবহার (Recycle) ও পুনর্নবীকরণ (Reuse) নীতি গ্রহণ।
14. কেনো অণুজীবকে 'কৃষকের বন্ধু' বলা হয়?
কেঁচো ও মাটির অণুজীবকে (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) 'কৃষকের বন্ধু' বলা হয় কারণ: (১) কেঁচো মাটিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করে মাটি আলগা ও ছিদ্রযুক্ত করে — জল ও বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে, (২) কেঁচো মৃত উদ্ভিদের পাতা ও জৈব বর্জ্য খেয়ে মলত্যাগ করে যা 'ভার্মি কম্পোস্ট' নামক উৎকৃষ্ট জৈব সার, (৩) রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া (ডাল জাতীয় গাছের মূলে) বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে → মাটিতে বিনামূল্যে নাইট্রোজেন সার যোগ হয়, (৪) ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া মৃত জীব পচিয়ে হিউমাস তৈরি করে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক এই উপকারী বন্ধুদের মেরে ফেলে।
15. ভোপাল, চেরনোবিল ও ফুকুশিমা — এই তিনটি দুর্ঘটনার শিক্ষা কী?
এই তিনটি ভয়াবহ শিল্প ও পারমাণবিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা: (১) শিল্প কারখানায় কঠোর নিরাপত্তা বিধি ও নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য, (২) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে, (৩) দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, (৪) পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বাধ্যতামূলক করতে হবে, (৫) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ভোপালে এখনও জমি ও জল দূষিত — দায়ী কোম্পানিকে পরিষ্কার ও ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিতে হবে।
16. গৃহস্থালির আবর্জনা কীভাবে মাটি দূষণ ঘটায় ও এর প্রতিকার কী?
গৃহস্থালির আবর্জনার প্রভাব: প্রতিদিনের রান্নাঘরের বর্জ্য (পচা খাবার, সবজির খোসা), প্লাস্টিক প্যাকেট, কাগজ, কাঁচ, ধাতব টুকরো, ই-বর্জ্য (ব্যাটারি, পুরনো মোবাইল), শৌচাগারের অপরিশোধিত বর্জ্য — এসব যত্রতত্র ফেললে মাটি দূষিত হয়। জৈব বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ, রোগজীবাণু ও মাছি-মশা বাড়ায়। প্রতিকার: (১) ভেজা বর্জ্য (জৈব) ও শুকনো বর্জ্য (প্লাস্টিক, ধাতু) আলাদা করা, (২) ভেজা বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি, (৩) শুকনো বর্জ্য রিসাইক্লিং-এ পাঠানো, (৪) প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো, (৫) বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা ভাগাড় ব্যবহার করা।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)
5 টি
1. মাটি দূষণ কাকে বলে? মাটি দূষণের প্রধান কারণ ও উৎসগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। মানুষ কীভাবে মাটি দূষণের জন্য দায়ী?
মাটি দূষণ (Soil Pollution)
কলকারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ, গৃহস্থালির আবর্জনা, প্লাস্টিক, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বা গুণগত মান নষ্ট হলে তাকে মাটি দূষণ বলে।
মাটি দূষণের প্রধান কারণ ও উৎস:
| উৎস | দূষণকারী পদার্থ | প্রভাব |
| কৃষি কার্যকলাপ | রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, DAP), কীটনাশক (DDT) | মাটির অণুজীব ধ্বংস, মাটি অনুর্বর, ফসলে বিষ |
| শিল্প কারখানা | রাসায়নিক বর্জ্য, ভারী ধাতু (পারদ, সিসা) | মাটির গুণমান নষ্ট, ক্যানসার |
| গৃহস্থালির আবর্জনা | প্লাস্টিক, পচা খাবার, ই-বর্জ্য, ডিটারজেন্ট | মাটি দূষণ, রোগজীবাণু বিস্তার |
| তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র | ফ্লাই অ্যাশ (কয়লার ছাই) | ভারী ধাতু জমা, কৃষিজমি দূষণ |
| ইটভাটা | উর্বর মাটি কাটা, ধোঁয়া ও ছাই | কৃষিজমি ধ্বংস, মাটি ক্ষয় |
| পারমাণবিক কেন্দ্র | তেজস্ক্রিয় পদার্থ (সিজিয়াম-১৩৭) | দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় দূষণ |
মানুষ কীভাবে দায়ী?
জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভোগবাদী জীবনযাত্রা, প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, বর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশন না করা, কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার — সবই মানুষের কার্যকলাপের ফল। পৃথিবীর মাত্র ১০% স্থলভাগে ৯০% মানুষ বাস করে — এই চাপ মাটি দূষণের মূল কারণ।
2. ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি, চেরনোবিল ও ফুকুশিমা দুর্যোগ — এই তিনটি ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করো। এদের থেকে শিক্ষা ও সতর্কতা কী কী?
তিনটি ভয়াবহ পরিবেশগত দুর্যোগ:
১. ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি (১৯৮৪):
- স্থান: ভোপাল, মধ্যপ্রদেশ, ভারত
- কারণ: ইউনিয়ন কার্বাইড (UCIL) কারখানা থেকে MIC গ্যাস নির্গমন
- ক্ষয়ক্ষতি: ২৫,০০০+ মৃত্যু, ৫ লক্ষ+ মানুষ পঙ্গু/অসুস্থ
- বর্তমান অবস্থা: এখনও ভূগর্ভস্থ জল ও মাটি দূষিত
২. চেরনোবিল দুর্যোগ (১৯৮৬):
- স্থান: চেরনোবিল, ইউক্রেন (তৎকালীন USSR)
- কারণ: পারমাণবিক চুল্লি বিস্ফোরণ
- ক্ষয়ক্ষতি: ৩০ কিমি এলাকা জনশূন্য, ইউরোপজুড়ে তেজস্ক্রিয়তা
৩. ফুকুশিমা দুর্যোগ (২০১১):
- স্থান: ফুকুশিমা, জাপান
- কারণ: ভূমিকম্প (৯.০) ও সুনামি → পারমাণবিক চুল্লি মেল্টডাউন
- ক্ষয়ক্ষতি: ২০ কিমি এলাকা খালি, সমুদ্রে তেজস্ক্রিয় জল
শিক্ষা:
- কঠোর নিরাপত্তা বিধি ও নিয়মিত নিরীক্ষা অপরিহার্য
- প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন অনুচিত
- দুর্ঘটনা পরবর্তী দ্রুত সাড়া ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা
- পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) বাধ্যতামূলক
3. মাটি সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো? মাটি সংরক্ষণ কেন জরুরি? মাটি সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি ও আমাদের দৈনন্দিন করণীয় কী কী?
মাটি সংরক্ষণ (Soil Conservation)
মাটির উর্বরতা ও গুণগত মান বজায় রেখে ক্ষয় ও দূষণ থেকে রক্ষা করার প্রক্রিয়াকে মাটি সংরক্ষণ বলে।
কেন জরুরি?
- হাজার হাজার বছর লাগে মাটি তৈরি হতে — এটি অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ
- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে উর্বর মাটি অপরিহার্য
- মাটি দূষণ ও ক্ষয়ের হার ভয়াবহভাবে বাড়ছে
- মাটি ছাড়া কৃষি, বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য অসম্ভব
সংরক্ষণের পদ্ধতি:
- কৃষি পদ্ধতি: জৈব সার ব্যবহার, ফসল পর্যায় (Crop Rotation), ধাপ চাষ
- বৃক্ষরোপণ: গাছের শিকড় মাটি আটকে রাখে, বাতাস ও জলে মাটি ধুয়ে যায় না
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আবর্জনা সঠিক জায়গায় ফেলা, প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাট/কাগজ
- শিল্প নিয়ন্ত্রণ: কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধন, ফ্লাই অ্যাশের সঠিক ব্যবহার
- জনসচেতনতা: পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্কুলে মাটি সংরক্ষণের শিক্ষা
আমাদের করণীয়:
- প্লাস্টিকের থলের পরিবর্তে কাপড়/পাটের থলে ব্যবহার
- বাড়ির আবর্জনা ভেজা-শুকনো আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা
- বাগানে ও রাস্তার ধারে গাছ লাগানো
- জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া
4. মাটির অণুজীবদের গুরুত্ব কী? রাসায়নিক সার ও কীটনাশক কীভাবে এই অণুজীবদের ধ্বংস করে? এর ফলাফল কী?
মাটির অণুজীবদের গুরুত্ব:
মাটিতে কোটি কোটি বন্ধু অণুজীব বাস করে যারা মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা বজায় রাখে:
- কেঁচো (Earthworm): 'কৃষকের বন্ধু' — মাটি আলগা করে, জৈব বর্জ্য খেয়ে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করে, মাটির জল নিকাশি ও বায়ু চলাচল উন্নত করে।
- রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া: ডাল জাতীয় গাছের মূলে বসবাস করে এবং বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে আবদ্ধ করে — বিনামূল্যে নাইট্রোজেন সার দেয়।
- অ্যাজোটোব্যাক্টর ও নাইট্রোসোমোনাস: মাটিতে মুক্তভাবে থেকে নাইট্রোজেন স্থিরীকরণ ও অ্যামোনিয়া তৈরি করে।
- ছত্রাক (Fungi) ও অ্যাক্টিনোমাইসিটিস: মৃত জৈব পদার্থ পচিয়ে হিউমাস তৈরি করে।
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রভাব:
- রাসায়নিক সার (ইউরিয়া, DAP) মাটির প্রাকৃতিক pH পরিবর্তন করে — অম্লীয় পরিবেশে অণুজীব মারা যায়
- কীটনাশক (DDT, কার্বোফিউরান) সরাসরি কেঁচো ও মাটির পোকামাকড় মেরে ফেলে
- ছত্রাকনাশক (Fungicide) উপকারী ছত্রাক ধ্বংস করে
- রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ (Residue) দীর্ঘদিন মাটিতে থেকে যায়
ফলাফল:
অণুজীব ধ্বংসের ফলে মাটিতে জৈব পদার্থের পচন ও পুষ্টি চক্র ব্যাহত হয় → মাটি ধীরে ধীরে অনুর্বর ও 'মৃত' হয়ে যায় → ফসল উৎপাদন কমে → কৃষক আরও বেশি সার দেয় → এক বিষচক্র (Vicious Cycle) তৈরি হয়।
5. আগামী প্রজন্মের জন্য মাটি রক্ষা করতে হলে আমাদের কী কী পরিবর্তন আনা জরুরি? ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে তুমি কী করতে পারো?
আগামী প্রজন্মের জন্য মাটি রক্ষা:
মাটি একটি অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ — ১ সেমি মাটি তৈরি হতে ১০০-৪০০ বছর লাগে। তাই আগামী প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।
যে পরিবর্তন জরুরি:
- টেকসই কৃষি: জৈব চাষ (Organic Farming), ফসল পর্যায়, মালচিং
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: 'Reduce, Reuse, Recycle' নীতি গ্রহণ, প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ
- নগর পরিকল্পনা: কৃষিজমি রক্ষা, সবুজ বলয় (Green Belt) তৈরি
- শিল্প নিয়ন্ত্রণ: ETP বাধ্যতামূলক, ফ্লাই অ্যাশের পুনর্ব্যবহার
- আইন কঠোরকরণ: মাটি দূষণকারীদের কঠোর শাস্তি
ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে তুমি কী করতে পারো:
- সচেতনতা প্রচার: স্কুলে পোস্টার, নাটক, প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মাটি বাঁচানোর বার্তা পৌঁছানো
- বৃক্ষরোপণ: স্কুল চত্বরে, পাড়ায়, খোলা জায়গায় গাছ লাগানো
- পরিচ্ছন্নতা অভিযান: পাড়ার আবর্জনা পরিষ্কার, ডাস্টবিন স্থাপনে উদ্যোগ
- প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা: 'প্লাস্টিক ফ্রি জোন' তৈরি করতে উৎসাহ দেওয়া
- সমীক্ষা ও প্রতিবেদন: এলাকার মাটি দূষণের কারণ, উৎস ও সমাধান নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে প্রশাসনকে জানানো
- বাড়িতে কম্পোস্ট: রান্নাঘরের জৈব বর্জ্য থেকে বাড়িতেই কম্পোস্ট তৈরির উদ্যোগ
মনে রাখতে হবে — 'মাটি বাঁচলে, জীবন বাঁচবে'
মনে রেখো!
মাটি দূষণের উৎস: কৃষি, শিল্প, গৃহস্থালি, তাপবিদ্যুৎ, পারমাণবিক দূর্ঘটনা |
ভোপাল (১৯৮৪): MIC গ্যাস → ২৫,০০০+ মৃত্যু |
চেরনোবিল (১৯৮৬): পারমাণবিক বিস্ফোরণ → ইউক্রেন |
ফুকুশিমা (২০১১): সুনামি → মেল্টডাউন → জাপান |
করণীয়: জৈব সার, পাটের থলে, আবর্জনা সঠিক স্থানে, বৃক্ষরোপণ |
মাটি: অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ | ১ সেমি মাটি = ১০০-৪০০ বছর