Chapter 9: এশিয়া মহাদেশ (Asia Continent)

এশিয়ার ভৌগোলিক পরিচয়, পর্বতশ্রেণি, মালভূমি, সমভূমি, নদীসমূহ, জলবায়ু অঞ্চল, তৈগা, টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল, তৈল বলয় | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 28 April 2026 Last Update: 28 April 2026
Class 7 Geography Chapter 9 এশিয়া মহাদেশ

Chapter 9: এশিয়া মহাদেশ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 26 MCQ | 14 SAQ | 5 Broad Questions

হিমালয় ইয়াংসি কিয়াং তৈগা টোকিও-ইয়োকোহামা তৈল বলয় সভ্যতা সাইবেরিয়া
🏔️

সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন

এভারেস্ট ৮,৮৪৮ মি | মৃত সাগর -৪৩০ মি

🏛️

সভ্যতার জন্মস্থল

সিন্ধু | মেসোপটেমিয়া | চীন

🌲

জলবায়ু বৈচিত্র্য

নিরক্ষীয় → তৈগা → তুন্দ্রা

🏭

শিল্প ও তেল

কেইহিন শিল্পাঞ্চল | পারস্য তৈল বলয়

এশিয়ার নদী - একনজরে

নদীউৎসদৈর্ঘ্য (কিমি)মোহনা
ইয়াংসি কিয়াংকুনলুন পর্বত৫,৫৩০চীন সাগর
ওবআলতাই পর্বত৩,৬৫০উত্তর মহাসাগর
ইয়েনিসিসায়ান পর্বত৫,৫৪০উত্তর মহাসাগর
লেনাবৈকাল পর্বত৪,২৭০লাপ্তেভ সাগর

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

26 টি
1. পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ কোনটি?
ক) ক) আফ্রিকা
খ) খ) ইউরোপ
গ) গ) এশিয়া
ঘ) ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা: এশিয়া পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ — পৃথিবীর প্রায় ৬০% মানুষ এশিয়ায় বাস করে। এটি স্থলভাগের তিন ভাগের এক ভাগ জুড়ে রয়েছে। এত বিশাল যে পশ্চিমে যখন সূর্যোদয় হয়, পূর্বপ্রান্তে তখন সূর্যাস্ত হয়। ৪৮টি দেশ নিয়ে গঠিত এই মহাদেশ।
2. এশিয়াকে 'চরম বৈচিত্র্যের মহাদেশ' (Continent of Extremes) বলা হয় কেন?
ক) ক) শুধু বড় বলে
খ) খ) সর্বোচ্চ পর্বত, বৃহত্তম সমভূমি, সর্বনিম্ন স্থান, নানা জলবায়ুর সমাহার
গ) গ) শুধু জনসংখ্যা বেশি বলে
ঘ) ঘ) দ্বীপ বেশি থাকায়
ব্যাখ্যা: এশিয়ায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (মাউন্ট এভারেস্ট — ৮,৮৪৮ মি), পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান (মৃত সাগর — -৪৩০ মি), বৃহত্তম সমভূমি (সাইবেরীয় সমভূমি), সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি, বিরাট মালভূমি, উর্বর নদী উপত্যকা — এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে যা অন্য কোনো মহাদেশে নেই। তাই এশিয়াকে 'Continent of Extremes' বলা হয়।
3. এশিয়া ও ইউরোপকে একত্রে কী বলা হয়?
ক) ক) আফ্রো-ইউরেশিয়া
খ) খ) ইউরেশিয়া
গ) গ) প্যানজিয়া
ঘ) ঘ) লরেশিয়া
ব্যাখ্যা: এশিয়া ও ইউরোপ — দুটি মহাদেশ মিলে 'ইউরেশিয়া' (Eurasia) নামক অর্থ-স্থলভাগের অংশ। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সীমারেখা রয়েছে ইউরাল পর্বত এবং ইউরাল নদী। আর এশিয়া ও আফ্রিকাকে আলাদা করেছে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল।
4. এশিয়াকে 'সভ্যতার জন্মস্থল' বলা হয় কেন?
ক) ক) আধুনিক শহর বেশি আছে বলে
খ) খ) সিন্ধু, মেসোপটেমিয়া, চীন সভ্যতার উৎপত্তি এশিয়ায়
গ) গ) শুধু প্রযুক্তি উন্নত বলে
ঘ) ঘ) দ্বীপপুঞ্জ বেশি থাকায়
ব্যাখ্যা: আজ থেকে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০-৫০০০ বছর আগে এশিয়ার বড় বড় নদীগুলির উর্বর উপত্যকায় অনেক নদীমাতৃক সভ্যতার জন্ম হয়েছিল — সিন্ধু সভ্যতা (ভারত-পাকিস্তান), মেসোপটেমিয়া (ইরাক), চীন সভ্যতা (হোয়াংহো নদী উপত্যকা)। তাই এশিয়াকে 'সভ্যতার জন্মস্থল' (Cradle of Civilization) বলা হয়।
5. এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সীমারেখা কী?
ক) ক) হিমালয়
খ) খ) ইউরাল পর্বত ও ইউরাল নদী
গ) গ) আল্পস
ঘ) ঘ) রকি পর্বত
ব্যাখ্যা: এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে সীমারেখা হিসেবে ইউরাল পর্বত (Ural Mountain) এবং ইউরাল নদী (Ural River) কাজ করে। উভয়ই রাশিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। অন্যদিকে এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সীমা লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল।
6. হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝে কোন মালভূমি অবস্থিত?
ক) ক) পামীর মালভূমি
খ) খ) তিব্বত মালভূমি
গ) গ) আনাতোলিয়া মালভূমি
ঘ) ঘ) মঙ্গোলিয়া মালভূমি
ব্যাখ্যা: হিমালয় ও কুনলুন পর্বতের মাঝখানে অবস্থিত তিব্বত মালভূমি — এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি (গড় উচ্চতা ৩,৬৫৫ মি)। তিব্বতের উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে মঙ্গোলিয়া মালভূমি। পন্টিক ও টরাস পর্বতশ্রেণির মধ্যে রয়েছে আনাতোলিয়া মালভূমি (তুরস্ক)।
7. পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি কোনটি?
ক) ক) গাঙ্গেয় সমভূমি
খ) খ) সাইবেরীয় সমভূমি (উত্তর এশিয়া)
গ) গ) প্রেইরি সমভূমি
ঘ) ঘ) আমাজন সমভূমি
ব্যাখ্যা: এশিয়ার উত্তরে অবস্থিত সাইবেরীয় সমভূমি (Siberian Plain) পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি। এই সমভূমির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর প্রবাহ দেখে বোঝা যায় অঞ্চলটি দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঢালু। এটি অত্যন্ত শীতল ও জনবিরল।
8. এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ক) ক) গঙ্গা
খ) খ) সিন্ধু
গ) গ) ইয়াংসি কিয়াং
ঘ) ঘ) ওব নদী
ব্যাখ্যা: ইয়াংসি কিয়াং (Yangtze Kiang) এশিয়া মহাদেশের দীর্ঘতম নদী — দৈর্ঘ্য ৫,৫৩০ কিমি। এটি কুনলুন পর্বতের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে পূর্ব দিকে বয়ে চীন সাগরে পতিত হয়েছে। এটি পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম নদী।
9. ওব, ইয়েনিসি ও লেনা নদী কোন মহাসাগরে পতিত হয়েছে?
ক) ক) প্রশান্ত মহাসাগর
খ) খ) উত্তর মহাসাগর (সুমেরু মহাসাগর)
গ) গ) ভারত মহাসাগর
ঘ) ঘ) আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা: উত্তর এশিয়ার তিনটি প্রধান নদী — ওব (আলতাই পর্বত, ৩,৬৫০ কিমি), ইয়েনিসি (সায়ান পর্বত, ৫,৫৪০ কিমি) ও লেনা (বৈকাল পর্বত, ৪,২৭০ কিমি) — উত্তর দিকে বয়ে উত্তর মহাসাগরে (সুমেরু মহাসাগর) পতিত হয়েছে। বছরের ৮-৯ মাস বরফে ঢাকা থাকে।
10. সাইবেরিয়ার নদীগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) সারা বছর জাহাজ চলে
খ) খ) বছরের ৮-৯ মাস বরফে ঢাকা থাকে, বন্যা সৃষ্টি করে
গ) গ) খুব ছোট
ঘ) ঘ) শুধু গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়
ব্যাখ্যা: ওব, ইয়েনিসি, লেনা ইত্যাদি নদীর মোহনা উচ্চ অক্ষাংশের হিমমণ্ডলে অবস্থিত — তাই বছরের ৮ থেকে ৯ মাস বরফে ঢাকা থাকে। শরৎ ও বসন্তকালে পার্বত্য অঞ্চলে বরফ গললে নদীতে জল বাড়ে, কিন্তু মোহনার বরফ বাধা পেয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়। নদীগুলো যাতায়াতের অনুপযোগী ও নদী উপত্যকা জনবিরল।
11. নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) শীতল ও শুষ্ক
খ) খ) সারাবছর উষ্ণ, প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টি, বৃষ্টিপাত ২০০-২৫০ সেমি
গ) গ) হিমবাহ
ঘ) ঘ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা: নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলে (১০° উ-১০° দ): সূর্যের লম্বরশ্মি সারাবছর পড়ায় উষ্ণতা বেশি (গড় ২৫°-৩০°C), প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টি হয়, বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০-২৫০ সেমি। ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুরে এই জলবায়ু দেখা যায়। এখানে ঘন চিরহরিৎ বন — মেহগনি, রবার, সেগুন পাওয়া যায়।
12. তৈগা বনভূমি কী?
ক) ক) ক্রান্তীয় বন
খ) খ) সরলবর্গীয় (কনিফার) বন — পাইন, ফার, স্প্রুস
গ) গ) পর্ণমোচী বন
ঘ) ঘ) ম্যানগ্রোভ বন
ব্যাখ্যা: তৈগা (Taiga) বনভূমি হল সরলবর্গীয় (Coniferous) বন — গাছগুলো শঙ্কু আকৃতির ও পাতা ছুঁচালো (পাইন, ফার, স্প্রুস, লার্চ, বার্চ, সিডার, উইলো)। রাশিয়ার সাইবেরীয় জলবায়ু অঞ্চলে তৈগা দেখা যায়। রাশিয়ার এই সরলবর্গীয় তৈগা বনভূমি পৃথিবীর বৃহত্তম সরলবর্গীয় বনভূমি।
13. তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চলের উদ্ভিদ কী?
ক) ক) ঘন জঙ্গল
খ) খ) মস, লাইকেন, শৈবাল
গ) গ) তালগাছ
ঘ) ঘ) বাঁশবন
ব্যাখ্যা: তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল অত্যন্ত শীতল — সারাবছর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে থাকে। এখানে বড় গাছ জন্মাতে পারে না। শুধু মস (Moss), লাইকেন (Lichen), শৈবাল (Algae) ইত্যাদি জন্মায়। সুমেরু বৃত্তের কাছে রাশিয়ার উত্তর প্রান্তে ও সাখালিন দ্বীপপুঞ্জে তুন্দ্রা জলবায়ু দেখা যায়।
14. টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
ক) ক) চীনে
খ) খ) জাপানের হনসু দ্বীপের কান্টো সমভূমিতে
গ) গ) ভারতে
ঘ) ঘ) রাশিয়ায়
ব্যাখ্যা: টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসুর পূর্বদিকে অবস্থিত কান্টো সমভূমিতে গড়ে উঠেছে। এটি জাপানের সর্বপ্রধান শিল্প এলাকা — কেইহিন শিল্পাঞ্চল নামেও পরিচিত। টোকিও (রাজধানী) ও ইয়োকোহামা (প্রধান বন্দর) এর প্রধান শহর।
15. জাপানের বৃহত্তম বন্দর কোনটি?
ক) ক) টোকিও
খ) খ) ইয়োকোহামা
গ) গ) ওসাকা
ঘ) ঘ) নাগোয়া
ব্যাখ্যা: জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ইয়োকোহামা (টোকিও থেকে ৩০ কিমি দূরে) জাপানের সবচেয়ে বড় বন্দর। টোকিও বন্দরের কাছে উপসাগরের গভীরতা কম থাকায় বড় বড় জাহাজ টোকিও বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না — তাই ইয়োকোহামা বৃহত্তম বহির্বন্দর হিসেবে কাজ করে।
16. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার তৈল বলয় কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
ক) ক) জাপান
খ) খ) পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল (সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত)
গ) গ) চীন
ঘ) ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম প্রধান তৈল বলয়। সৌদি আরব (ঘাওয়ার, আবকাইক), ইরান (মসজিদ-ই-সুলেমান), ইরাক (কিরকুক), কুয়েত (বারগান), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার — এই দেশগুলো খনিজ তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।
17. জাপানের কান্টো সমভূমিতে জাপানের কত ভাগ মানুষ বাস করে?
ক) ক) ১০ ভাগের ১ ভাগ
খ) খ) ৩ ভাগের ১ ভাগ
গ) গ) ২ ভাগের ১ ভাগ
ঘ) ঘ) ৪ ভাগের ১ ভাগ
ব্যাখ্যা: জাপানের প্রধান চারটি দ্বীপের মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ হনসুর পূর্বদিকে অবস্থিত কান্টো সমভূমি। গোটা জাপানের প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ (প্রায় ৩৩%) মানুষ এই সমভূমি অঞ্চলে বসবাস করে। এই অঞ্চলের জনবসতি অত্যধিক ঘন এবং এখানে জাপানের প্রধান শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
18. সাইবেরীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) উষ্ণ সারাবছর
খ) খ) অতি শীতল — ৭-৮ মাস বরফ, গ্রীষ্মে গড় ৫°C
গ) গ) ক্রান্তীয়
ঘ) ঘ) ভূমধ্যসাগরীয়
ব্যাখ্যা: রাশিয়ার সাইবেরিয়া ও সাখালিন দ্বীপপুঞ্জে সাইবেরীয় জলবায়ু দেখা যায়। বৈশিষ্ট্য: (১) অতি শীতল ও দীর্ঘস্থায়ী শীতকাল — বছরের ৭ থেকে ৮ মাস বরফ পড়ে, (২) শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে, (৩) গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা মাত্র ৫°C, (৪) সরলবর্গীয় তৈগা বনভূমি এখানকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ।
19. এশিয়া মহাদেশ কয়টি দেশ নিয়ে গঠিত?
ক) ক) ৩০টি
খ) খ) ৪৮টি
গ) গ) ৫৪টি
ঘ) ঘ) ৬০টি
ব্যাখ্যা: এশিয়া মহাদেশ মোট ৪৮টি দেশ নিয়ে গঠিত (জাতিসংঘ স্বীকৃত)। এর মধ্যে রাশিয়া (ইউরোপ ও এশিয়া উভয় মহাদেশে বিস্তৃত), চীন (জনসংখ্যায় বিশ্বের বৃহত্তম), ভারত (জনসংখ্যায় দ্বিতীয়) অন্যতম। এশিয়া আয়তনেও পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ — ৪,৪৮,৪১,০০০ বর্গকিমি।
20. সিন্ধু সভ্যতা বর্তমানে কোন কোন দেশে বিস্তৃত ছিল?
ক) ক) শুধু ভারত
খ) খ) ভারত ও পাকিস্তান
গ) গ) চীন
ঘ) ঘ) ইরাক
ব্যাখ্যা: প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা (Indus Valley Civilization — খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০-১৩০০) বর্তমান ভারত (গুজরাট, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান) ও পাকিস্তান (সিন্ধু, পাঞ্জাব)-এর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো ছিল প্রধান দুই শহর। এটি সিন্ধু নদীর তীরে গড়ে ওঠা এক নদীমাতৃক সভ্যতা।
21. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা কোন নদী উপত্যকায় গড়ে উঠেছিল?
ক) ক) নীল নদ
খ) খ) টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস
গ) গ) গঙ্গা
ঘ) ঘ) ইয়াংসি
ব্যাখ্যা: প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতা (Mesopotamia — 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি') বর্তমান তুরস্ক ও ইরাকের টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী উপত্যকায় গড়ে উঠেছিল। সুমেরীয়, অ্যাসিরীয়, ব্যাবিলনীয় — এই সভ্যতাগুলোই মেসোপটেমিয়ার অংশ। লিখন পদ্ধতি (কিউনিফর্ম), চাকা ও কৃষির বিকাশ এখানেই হয়।
22. সৌদি আরবের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র কোনটি?
ক) ক) কিরকুক
খ) খ) ঘাওয়ার
গ) গ) বারগান
ঘ) ঘ) মাসুল
ব্যাখ্যা: সৌদি আরবের ঘাওয়ার (Ghawar) পৃথিবীর বৃহত্তম তেলক্ষেত্র। সৌদি আরবের অন্যান্য বড় তেলক্ষেত্র: আবকাইক (Abqaiq), আইনডার, ধাহরান, সাফানিয়া, মানিফা। সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ — OPEC-এর নেতৃত্ব দেয়।
23. জাপানের রাজধানী কোনটি?
ক) ক) ইয়োকোহামা
খ) খ) ওসাকা
গ) গ) টোকিও
ঘ) ঘ) কিয়োটো
ব্যাখ্যা: টোকিও (Tokyo) জাপানের রাজধানী এবং জাপানের বৃহত্তম শহর। এটি একদিকে যেমন জাপানের বৃহত্তম শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র, তেমনি জাপানের শিল্প-সংস্কৃতির পীঠস্থান। টোকিও বন্দর উপসাগরের গভীরতা কম হওয়ায় বড় জাহাজ এখানে আসতে পারে না — ইয়োকোহামা মূল বহির্বন্দর।
24. এশিয়ার কোন নদী উপত্যকায় প্রাচীন চীন সভ্যতা গড়ে উঠেছিল?
ক) ক) ইয়াংসি
খ) খ) হোয়াংহো (হলুদ নদী)
গ) গ) গঙ্গা
ঘ) ঘ) সিন্ধু
ব্যাখ্যা: প্রাচীন চীন সভ্যতা হোয়াংহো নদী (Huang He — হলুদ নদী) উপত্যকায় গড়ে উঠেছিল। হোয়াংহো নদী তার পলিমাটি দিয়ে কৃষি ও সভ্যতার বিকাশে সাহায্য করেছিল। পরে ইয়াংসি নদী উপত্যকাতেও চীন সভ্যতার বিস্তার ঘটে। চীন সভ্যতা পৃথিবীর প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন সভ্যতা।
25. কিরকুক তেলক্ষেত্র কোন দেশে অবস্থিত?
ক) ক) সৌদি আরব
খ) খ) ইরাক
গ) গ) ইরান
ঘ) ঘ) কুয়েত
ব্যাখ্যা: কিরকুক (Kirkuk) তেলক্ষেত্র ইরাকে অবস্থিত — এটি ইরাকের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম তেলক্ষেত্র। ইরাকের অন্যান্য তেলক্ষেত্র: মাসুল। ইরাক ওপেক (OPEC)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশ্বের ৫ম বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক।
26. টোকিও উপসাগরের ধারে গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলকে কী বলা হয়?
ক) ক) কেইহিন শিল্পাঞ্চল
খ) খ) হানশিন শিল্পাঞ্চল
গ) গ) চুকিও শিল্পাঞ্চল
ঘ) ঘ) কিতাকিউশু শিল্পাঞ্চল
ব্যাখ্যা: টোকিও উপসাগরের ধারে গড়ে ওঠা টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চলকে 'কেইহিন শিল্পাঞ্চল' (Keihin Industrial Region) বলা হয়। এটি জাপানের সর্বপ্রধান শিল্প এলাকা — ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল শিল্পের কেন্দ্র। জাপানের ৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এই অঞ্চলে বাস করে।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

14 টি
1. এশিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।
এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম ও সর্বাধিক জনবহুল মহাদেশ — আয়তন ৪,৪৮,৪১,০০০ বর্গকিমি, দেশের সংখ্যা ৪৮টি। পৃথিবীর ৬০% মানুষ এশিয়ায় বাস করে। অবস্থান: ১°১৬' দক্ষিণ থেকে ৭৭°৪৪' উত্তর অক্ষাংশ এবং ১৭০° পশ্চিম থেকে ২৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। চারদিকে: পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও কাস্পিয়ান সাগর, উত্তরে সুমেরু মহাসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর। এশিয়া ও ইউরোপ মিলে 'ইউরেশিয়া'। সীমা: ইউরাল পর্বত ও ইউরাল নদী। এশিয়া-আফ্রিকা সীমা: লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল।
2. এশিয়াকে 'চরম বৈচিত্র্যের মহাদেশ' বলা হয় কেন?
এশিয়াকে 'Continent of Extremes' (চরম বৈচিত্র্যের মহাদেশ) বলার কারণ: (১) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ — মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মি) এশিয়ার হিমালয়ে, (২) পৃথিবীর সর্বনিম্ন স্থান — মৃত সাগর (-৪৩০ মি) পশ্চিম এশিয়ায়, (৩) পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি — সাইবেরীয় সমভূমি, (৪) পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমি — তিব্বত, (৫) বিশ্বের শীতলতম স্থান (ভার্খোয়ানস্ক, সাইবেরিয়া) ও উষ্ণতম স্থান (জেকোবাবাদ, পাকিস্তান) — উভয়ই এশিয়ায়, (৬) সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত (চেরাপুঞ্জি) ও সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত (গোবি মরুভূমি) — উভয়ই এশিয়ায়।
3. এশিয়ার তিনটি প্রাচীন নদীমাতৃক সভ্যতার পরিচয় দাও।
এশিয়ার তিনটি প্রাচীন নদীমাতৃক সভ্যতা: (১) সিন্ধু সভ্যতা (Indus Valley): সিন্ধু নদের তীরে — বর্তমান ভারত ও পাকিস্তানে। হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো ছিল প্রধান শহর। সময়কাল — খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০-১৩০০। উন্নত নগর পরিকল্পনা ও পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত। (২) মেসোপটেমিয়া সভ্যতা: টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে (বর্তমান ইরাক)। সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা — কিউনিফর্ম লিপি, চাকার আবিষ্কার। (৩) চীন সভ্যতা: হোয়াংহো (হলুদ) নদী উপত্যকায়। পৃথিবীর প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন সভ্যতা — রেশম, কাগজ, বারুদের আবিষ্কার।
4. এশিয়ার প্রধান পর্বতশ্রেণি ও মালভূমিগুলির নাম লেখো।
এশিয়ার প্রধান পর্বতশ্রেণি: (১) হিমালয় — ভারত, নেপাল, চীন, ভুটান, (২) কুনলুন — চীন, (৩) কারাকোরাম — ভারত-পাকিস্তান, (৪) আলতাই — মঙ্গোলিয়া-রাশিয়া, (৫) পন্টিক ও টরাস — তুরস্ক, (৬) এলবুর্জ ও জাগ্রোস — ইরান, (৭) আরাবল্লী — ভারত (প্রাচীন)।
প্রধান মালভূমি: (১) তিব্বত মালভূমি — হিমালয় ও কুনলুনের মাঝে (পৃথিবীর বৃহত্তম), (২) মঙ্গোলিয়া মালভূমি — তিব্বতের উত্তর-পূর্বে, (৩) আনাতোলিয়া মালভূমি — পন্টিক ও টরাসের মাঝে (তুরস্ক), (৪) পামীর মালভূমি — 'পৃথিবীর ছাদ' (সর্বোচ্চ মালভূমি)।
5. উত্তর এশিয়ার তিনটি প্রধান নদীর নাম ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর এশিয়ার তিনটি প্রধান নদী: (১) ওব নদী — উৎস: আলতাই পর্বত, দৈর্ঘ্য ৩,৬৫০ কিমি, মোহনা: ওব সাগর। (২) ইয়েনিসি নদী — উৎস: সায়ান পর্বত, দৈর্ঘ্য ৫,৫৪০ কিমি, মোহনা: ইয়েনিসি উপসাগর। (৩) লেনা নদী — উৎস: বৈকাল পর্বত, দৈর্ঘ্য ৪,২৭০ কিমি, মোহনা: লাপ্তেভ সাগর। বৈশিষ্ট্য: (১) মোহনা উচ্চ অক্ষাংশের হিমমণ্ডলে — বছরের ৮-৯ মাস বরফে ঢাকা, (২) পার্বত্য অঞ্চলে বরফ গললে বন্যা, (৩) নদীগুলো যাতায়াতের অনুপযোগী, (৪) নদী উপত্যকা জনবিরল, (৫) অববাহিকায় একাধিক জলাভূমি।
6. এশিয়ার নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য কী?
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি ১০° উ-১০° দ): ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর এই জলবায়ুতে অবস্থিত। বৈশিষ্ট্য: (১) সূর্যের লম্বরশ্মি সারাবছর পড়ায় প্রচণ্ড উষ্ণতা — বার্ষিক গড় ২৫°-৩০°C, (২) প্রতিদিন বিকালে পরিচলন বৃষ্টি হয়, (৩) বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ থেকে ২৫০ সেমি, (৪) ঋতু পরিবর্তন নেই — সারাবছর উষ্ণ ও আর্দ্র। স্বাভাবিক উদ্ভিদ: ঘন চিরহরিৎ বন — মেহগনি, রবার, সেগুন, আবলুস, কোকো, সিঙ্কোনা (কুইনাইন গাছ)।
7. তৈগা বনভূমি কী? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব লেখো।
তৈগা (Taiga) বনভূমি: সাইবেরীয় (অতি শীতল) জলবায়ু অঞ্চলের সরলবর্গীয় (কনিফারাস) সরলবর্গীয় বনভূমি। রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় বিস্তৃত। বৈশিষ্ট্য: (১) গাছগুলো শঙ্কু আকৃতির — যাতে বরফ জমতে না পারে, (২) পাতা ছুঁচালো — জল কম নির্গত হয়, (৩) প্রধান গাছ: পাইন, ফার, স্প্রুস, লার্চ, বার্চ, সিডার, উইলো, (৪) পৃথিবীর বৃহত্তম সরলবর্গীয় বনভূমি। গুরুত্ব: (১) কাঠ ও কাগজের মণ্ড (Pulp) উৎপাদন, (২) নিউজপ্রিন্ট ও প্লাইউড শিল্পের ভিত্তি, (৩) লোমশ পশুর (শিয়াল, ভালুক, নেকড়ে) বাসস্থান।
8. জাপানের টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চলের বর্ণনা দাও।
টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল (কেইহিন শিল্পাঞ্চল): জাপানের প্রধান চারটি দ্বীপের মধ্যে বৃহত্তম দ্বীপ হনসুর পূর্বদিকে কান্টো সমভূমিতে অবস্থিত। সাতটি আঞ্চলিক বিভাগ নিয়ে গঠিত — গানমা, তোচিগি, ইবারাকি, সাইতামা, টোকিও, চিবা ও কানাগাওয়া। জাপানের ৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এই সমভূমিতে বাস করে — জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। টোকিও: জাপানের রাজধানী, বৃহত্তম শহর ও শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্র। ইয়োকোহামা: টোকিও থেকে ৩০ কিমি দূরে, জাপানের বৃহত্তম বন্দর (উপসাগরের বেশি গভীরতার জন্য)। প্রধান শিল্প: ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, রাসায়নিক দ্রব্য।
9. ইয়োকোহামা কেন জাপানের বৃহত্তম বন্দর?
ইয়োকোহামা জাপানের বৃহত্তম বন্দর হওয়ার কারণ: (১) টোকিও বন্দরের কাছে টোকিও উপসাগরের গভীরতা কম — তাই বড় বড় সমুদ্রগামী জাহাজ টোকিও বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না, (২) ইয়োকোহামা টোকিও থেকে মাত্র ৩০ কিমি দূরে এবং ইয়োকোহামা বন্দরের কাছে উপসাগরের গভীরতা বেশি — বড় জাহাজ অনায়াসে আসতে পারে, (৩) ইয়োকোহামা জাপানের বৃহত্তম বহির্বন্দর (Outer Port) হিসেবে টোকিও-র আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনা করে, (৪) এটি জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর।
10. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার তৈল বলয়ের দেশ ও প্রধান তেলক্ষেত্রগুলির নাম লেখো।
দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার (পারস্য উপসাগরীয়) তৈল বলয়ের দেশ ও তেলক্ষেত্র: (১) সৌদি আরব — ঘাওয়ার (পৃথিবীর বৃহত্তম), আবকাইক, আইনডার, ধাহরান, সাফানিয়া, মানিফা। (২) ইরান — মসজিদ-ই-সুলেমান, নফত-ই-শাহ, আঘাজারি, গাচসারান। (৩) ইরাক — কিরকুক, মাসুল। (৪) কুয়েত — বারগান (বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম), মাগওয়া-আল আহমদি। (৫) সংযুক্ত আরব আমিরশাহী — মুরবান, বুহাসা। (৬) কাতার — জেবেল দুখান, ইদ-আল শারকি। (৭) ওমান — নাতিহ। (৮) বাহরাইন — আওয়ালি।
11. এশিয়ার সমভূমিগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
এশিয়ার প্রধান সমভূমি: (১) সাইবেরীয় সমভূমি (উত্তর এশিয়া) — পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি, অত্যন্ত শীতল, জনবিরল, নদীগুলি উত্তর মহাসাগরে পতিত। (২) উত্তর চীন সমভূমি — হোয়াংহো নদীর পলিতে গঠিত, চীনের প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র। (৩) সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি (ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ) — পৃথিবীর অন্যতম উর্বর ও ঘনবসতিপূর্ণ সমভূমি, পলিগঠিত। (৪) মেসোপটেমিয়া সমভূমি (ইরাক) — টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর পলিতে গঠিত, প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র। (৫) কান্টো সমভূমি (জাপান) — জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও কৃষি অঞ্চল।
12. ইয়াংসি কিয়াং নদী অববাহিকা সম্পর্কে কী জানো?
ইয়াংসি কিয়াং (Yangtze Kiang) এশিয়ার দীর্ঘতম নদী (৫,৫৩০ কিমি) এবং পৃথিবীর তৃতীয় দীর্ঘতম। উৎস: কুনলুন পর্বতের হিমবাহ। মোহনা: চীন সাগর। অববাহিকা তিন ভাগে বিভক্ত: (১) উচ্চপ্রবাহ — পার্বত্য অঞ্চল, গিরিখাত, (২) মধ্যপ্রবাহ — মালভূমি ও উপত্যকা, কৃষি ও চাষাবাদ, (৩) নিম্নপ্রবাহ — সমতল সমভূমি, ঘন জনবসতি ও শিল্পকেন্দ্র। বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ — থ্রি গর্জেস ড্যাম (Three Gorges Dam) এই নদীর উপর অবস্থিত। ইয়াংসি কিয়াং অববাহিকা চীনের অন্যতম উন্নত ও সমৃদ্ধশালী অঞ্চল।
13. এশিয়ার তুন্দ্রা ও সাইবেরীয় জলবায়ুর পার্থক্য লেখো।
পার্থক্য: (১) অবস্থান: সাইবেরীয় — মধ্য অক্ষাংশে (রাশিয়ার সাইবেরিয়া); তুন্দ্রা — আরও উত্তরে সুমেরু বৃত্তের কাছে। (২) তাপমাত্রা: সাইবেরীয় — শীতকাল দীর্ঘ (৭-৮ মাস বরফ), গ্রীষ্মে ৫°C; তুন্দ্রা — সারাবছর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে, প্রবল তুষারপাত। (৩) উদ্ভিদ: সাইবেরীয় — তৈগা (পাইন, ফার, স্প্রুস, লার্চ); তুন্দ্রা — শুধু মস, লাইকেন, শৈবাল। (৪) মাটি: সাইবেরীয় — পডজল (অম্লীয় ও অনুর্বর); তুন্দ্রা — পারমাফ্রস্ট (স্থায়ীভাবে জমাট মাটি)।
14. টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চলের গুরুত্ব আলোচনা করো।
টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল (কেইহিন) জাপান তথা বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। গুরুত্ব: (১) জনসংখ্যা: জাপানের ৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এখানে বাস করে — জনঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, (২) শিল্প: জাপানের সর্বোচ্চ শিল্প উৎপাদন এখানেই হয় — ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, রাসায়নিক, (৩) বাণিজ্য: ইয়োকোহামা জাপানের বৃহত্তম বন্দর — বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের কেন্দ্র, (৪) নগরায়ণ: টোকিও (রাজধানী), ইয়োকোহামা, কাওয়াসাকি, চিবা — অত্যাধুনিক নগর কেন্দ্র, (৫) অর্থনীতি: গোটা জাপানের অর্থনীতির চালিকা শক্তি — জিডিপির বড় অংশ এই অঞ্চল থেকে আসে।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

5 টি
1. এশিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় বিস্তারিত বর্ণনা করো। এর অবস্থান, আয়তন, সীমানা, প্রধান ভূমিরূপ ও নদী সম্পর্কে আলোচনা করো।

এশিয়া মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয়

অবস্থান ও আয়তন:
  • আয়তন: ৪,৪৮,৪১,০০০ বর্গকিমি (পৃথিবীর স্থলভাগের এক-তৃতীয়াংশ)
  • অক্ষাংশ: ১°১৬' দক্ষিণ থেকে ৭৭°৪৪' উত্তর
  • দ্রাঘিমাংশ: ১৭০° পশ্চিম থেকে ২৬° পূর্ব
  • দেশের সংখ্যা: ৪৮টি
  • জনসংখ্যা: পৃথিবীর ৬০% মানুষ
সীমানা:
  • পূর্বে: প্রশান্ত মহাসাগর
  • পশ্চিমে: ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর
  • উত্তরে: সুমেরু মহাসাগর
  • দক্ষিণে: ভারত মহাসাগর
  • ইউরোপ সীমা: ইউরাল পর্বত ও ইউরাল নদী
  • আফ্রিকা সীমা: লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল
প্রধান ভূমিরূপ:
  • পর্বত: হিমালয় (সর্বোচ্চ), কুনলুন, কারাকোরাম, আলতাই, পন্টিক, টরাস
  • মালভূমি: তিব্বত (বৃহত্তম), পামীর (সর্বোচ্চ), মঙ্গোলিয়া, আনাতোলিয়া
  • সমভূমি: সাইবেরীয় (বৃহত্তম), সিন্ধু-গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, মেসোপটেমিয়া
প্রধান নদী:

ইয়াংসি কিয়াং (৫,৫৩০ কিমি), ওব, ইয়েনিসি, লেনা (উত্তর মহাসাগরে), গঙ্গা, সিন্ধু, ব্রহ্মপুত্র (ভারত মহাসাগরে), টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস।

2. এশিয়াকে কেন 'চরম বৈচিত্র্যের মহাদেশ' ও 'সভ্যতার জন্মস্থল' বলা হয়? বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো।

এশিয়া: 'চরম বৈচিত্র্যের মহাদেশ' (Continent of Extremes)

এশিয়ায় এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে যা অন্য কোনো মহাদেশে নেই:

  • সর্বোচ্চ পর্বত: মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮ মি) — হিমালয়ে
  • সর্বনিম্ন স্থান: মৃত সাগর (-৪৩০ মি) — পশ্চিম এশিয়ায়
  • বৃহত্তম সমভূমি: সাইবেরীয় সমভূমি
  • বৃহত্তম মালভূমি: তিব্বত (২৫ লক্ষ বর্গকিমি)
  • শীতলতম জনপদ: ভার্খোয়ানস্ক (-৬৭°C), সাইবেরিয়া
  • সর্বাধিক বৃষ্টি: চেরাপুঞ্জি (মেঘালয়) — ১,০০০+ সেমি/বছর

'সভ্যতার জন্মস্থল' (Cradle of Civilization):

খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০-৫০০০ বছর আগে এশিয়ার নদী উপত্যকায় প্রাচীনতম সভ্যতার উদ্ভব:

  • সিন্ধু সভ্যতা (ভারত-পাকিস্তান): সিন্ধু নদীর তীরে — হরপ্পা, মহেঞ্জোদাড়ো
  • মেসোপটেমিয়া (ইরাক): টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস — সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়
  • চীন সভ্যতা: হোয়াংহো নদী উপত্যকা — পৃথিবীর প্রাচীনতম অবিচ্ছিন্ন সভ্যতা

অতীতকাল থেকে আজও এশিয়া প্রাচ্য সংস্কৃতির ধারক এবং ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।

3. এশিয়া মহাদেশের প্রধান জলবায়ু অঞ্চলগুলির বিবরণ দাও। নিরক্ষীয়, সাইবেরীয় ও তুন্দ্রা জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বর্ণনা করো।

এশিয়ার প্রধান জলবায়ু অঞ্চল:

১. নিরক্ষীয় জলবায়ু:
  • অবস্থান: নিরক্ষরেখার কাছে (১০° উ-১০° দ) — ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর
  • উষ্ণতা: সারাবছর ২৫°-৩০°C
  • বৃষ্টিপাত: প্রতিদিন পরিচলন বৃষ্টি, বার্ষিক ২০০-২৫০ সেমি
  • উদ্ভিদ: চিরহরিৎ বন — মেহগনি, রবার, সেগুন, আবলুস, কোকো, সিঙ্কোনা
২. সাইবেরীয় জলবায়ু:
  • অবস্থান: রাশিয়ার সাইবেরিয়া, সাখালিন
  • উষ্ণতা: ৭-৮ মাস বরফ, গ্রীষ্মে গড় ৫°C
  • উদ্ভিদ: সরলবর্গীয় তৈগা বন — পাইন, ফার, স্প্রুস, লার্চ, বার্চ
  • বিশেষত্ব: পৃথিবীর বৃহত্তম সরলবর্গীয় বনভূমি
৩. তুন্দ্রা জলবায়ু:
  • অবস্থান: সুমেরু বৃত্তের কাছে — রাশিয়ার উত্তর প্রান্ত
  • উষ্ণতা: সারাবছর হিমাঙ্কের নীচে, প্রবল তুষারপাত
  • উদ্ভিদ: শুধু মস, লাইকেন, শৈবাল
  • মাটি: পারমাফ্রস্ট (স্থায়ী জমাট মাটি)
4. জাপানের টোকিও-ইয়োকোহামা (কেইহিন) শিল্পাঞ্চলের বিস্তারিত বিবরণ দাও। কেন এই অঞ্চল জাপানের সর্বপ্রধান শিল্পকেন্দ্র?

কেইহিন শিল্পাঞ্চল (টোকিও-ইয়োকোহামা):

অবস্থান ও বিস্তৃতি:

জাপানের হনসু দ্বীপের পূর্বদিকে কান্টো সমভূমিতে অবস্থিত। এটি সাতটি আঞ্চলিক বিভাগ নিয়ে গঠিত — গানমা, তোচিগি, ইবারাকি, সাইতামা, টোকিও, চিবা, কানাগাওয়া। জাপানের ৩ ভাগের ১ ভাগ মানুষ এখানে বাস করে।

প্রধান শহর:
  • টোকিও: জাপানের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর — শিল্প-বাণিজ্য-সংস্কৃতির পীঠস্থান
  • ইয়োকোহামা: জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বৃহত্তম বন্দর — টোকিও থেকে ৩০ কিমি দূরে
  • কাওয়াসাকি, চিবা: প্রধান শিল্প নগর
কেন সর্বপ্রধান শিল্পকেন্দ্র?
  1. বন্দর সুবিধা: টোকিও উপসাগরের ধারে অবস্থিত — কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ
  2. শ্রমিক: অত্যন্ত ঘন জনবসতি — সহজে দক্ষ শ্রমিক পাওয়া যায়
  3. পরিবহন: উন্নত রেল, সড়ক ও জলপথের নেটওয়ার্ক
  4. প্রযুক্তি: জাপানের সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্র এখানে
  5. বাজার: দেশি-বিদেশি বিশাল বাজার
প্রধান শিল্প:

ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স (Sony, Toshiba), অটোমোবাইল (Toyota, Honda), রাসায়নিক দ্রব্য, ছাপার কাগজ ও প্লাস্টিক শিল্প।

5. দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার তৈল বলয়ের দেশসমূহ ও তাদের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলির বিবরণ দাও। এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে খনিজ তেলের গুরুত্ব আলোচনা করো।

পারস্য উপসাগরীয় তৈল বলয়:

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ তৈল বলয় — এখানে বিশ্বের প্রায় ৬০% প্রমাণিত তেল ভান্ডার রয়েছে।

দেশ ও প্রধান তেলক্ষেত্র:

দেশপ্রধান তেলক্ষেত্র
সৌদি আরবঘাওয়ার (বৃহত্তম), আবকাইক, ধাহরান, সাফানিয়া
ইরানমসজিদ-ই-সুলেমান, নফত-ই-শাহ, আঘাজারি
ইরাককিরকুক, মাসুল
কুয়েতবারগান, মাগওয়া-আল আহমদি
UAEমুরবান, বুহাসা
কাতারজেবেল দুখান, ইদ-আল শারকি
ওমাননাতিহ

অর্থনীতির গুরুত্ব:

  • এই দেশগুলোর অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণ তেল রপ্তানি নির্ভর
  • তেল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ
  • একসময়ের দরিদ্র মরুভূমি বর্তমানে বিলাসবহুল নগরীতে পরিণত (দুবাই, আবুধাবি, দোহা)
  • OPEC (Organization of Petroleum Exporting Countries) — বিশ্ব তেল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান জোট
  • সৌদি আরব — বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক

মনে রেখো!

এশিয়া: ৪৮ দেশ, ৬০% বিশ্ব জনসংখ্যা | ইউরেশিয়া: এশিয়া+ইউরোপ | সর্বোচ্চ: এভারেস্ট ৮,৮৪৮ মি | সর্বনিম্ন: মৃত সাগর -৪৩০ মি | বৃহত্তম মালভূমি: তিব্বত | বৃহত্তম সমভূমি: সাইবেরীয় | দীর্ঘতম নদী: ইয়াংসি কিয়াং ৫,৫৩০ কিমি | তৈগা: সরলবর্গীয় বন — পাইন, ফার, স্প্রুস | টোকিও-ইয়োকোহামা: কেইহিন শিল্পাঞ্চল | তৈল বলয়: পারস্য উপসাগর

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)

Frequently Asked Questions - এশিয়া মহাদেশ

এশিয়ায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (মাউন্ট এভারেস্ট ৮,৮৪৮ মি) এবং সর্বনিম্ন স্থান (মৃত সাগর -৪৩০ মি) উভয়ই অবস্থিত। এছাড়া পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি (সাইবেরীয়), বৃহত্তম মালভূমি (তিব্বত), শীতলতম স্থান (ভার্খোয়ানস্ক -৬৭°C) ও সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের স্থান (চেরাপুঞ্জি) — সবই এশিয়ায়। এমন চরম বৈচিত্র্য অন্য কোনো মহাদেশে নেই।

টোকিও-ইয়োকোহামা (কেইহিন) শিল্পাঞ্চল জাপানের হনসু দ্বীপের কান্টো সমভূমিতে অবস্থিত। জাপানের ১/৩ মানুষ এখানে বাস করে। এটি জাপানের সর্বপ্রধান শিল্পকেন্দ্র — ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল শিল্প। ইয়োকোহামা জাপানের বৃহত্তম বন্দর। টোকিও বন্দরের গভীরতা কম হওয়ায় ইয়োকোহামা প্রধান বহির্বন্দর হিসেবে কাজ করে।

পারস্য উপসাগরীয় তৈল বলয়ের প্রধান দেশ: সৌদি আরব (ঘাওয়ার — বিশ্বের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র), ইরান, ইরাক (কিরকুক), কুয়েত (বারগান — দ্বিতীয় বৃহত্তম), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, ওমান, বাহরাইন। এই দেশগুলোর অর্থনীতি তেল রপ্তানি নির্ভর। বিশ্বের প্রায় ৬০% প্রমাণিত তেল ভান্ডার এখানে রয়েছে।