ছুটি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'ছুটি' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ছুটি' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
দুরন্ত ফটিক ও গ্রাম্য জীবন: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ছুটি' গল্পের প্রধান চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী। সে গ্রামের বালকদের সর্দার এবং অত্যন্ত দুরন্ত স্বভাবের। একদিন ফটিক ও তার দলবল নদীর ধারের একটি শালকাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ফটিকের ছোটো ভাই মাখনলাল অবাধ্য হয়ে সেই গুঁড়ির ওপর বসে পড়ে। ফটিকের আদেশে ছেলেরা গুঁড়ি সমেত মাখনকে গড়িয়ে দিলে মাখন কাঁদাতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে ফটিকের নামে মিথ্যে নালিশ করে যে ফটিক তাকে মেরেছে। মা রেগে গিয়ে ফটিককে মারেন, তখন ফটিকও মাখনকে মারে। এই অশান্তির মাঝেই ফটিকের মামা বিশ্বম্ভরবাবু বহুকাল পর সেখানে উপস্থিত হন।
কলকাতায় ফটিকের জীবন ও মানসিক যন্ত্রণা: বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মায়ের কাছে তার দুরন্তপনার কথা শুনে তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেন। ফটিকের মা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এবং ফটিকও উৎসাহের সঙ্গে কলকাতায় যায়। কিন্তু কলকাতায় মামাবাড়িতে ফটিকের মামি তাকে অবাঞ্ছিত বালাই বা আপদ হিসেবে দেখেন। রবীন্দ্রনাথ তেরো-চোদ্দো বছরের ছেলেদের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে এই বয়সে তারা স্নেহ ও ভালোবাসার কাঙাল থাকে, অথচ চারপাশের মানুষের কাছে কেবল উপেক্ষাই পায়। ফটিকের ক্ষেত্রেও তাই হয়। চার দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়ে সে গ্রামের সেই মুক্ত প্রান্তর, ঘুড়ি ওড়ানো, সাঁতার কাটা এবং সবচেয়ে বেশি তার অত্যাচরিণী মাকে মনে করে নিরবে কাঁদে। স্কুলে সে বকা খায় এবং মামির কাছে পদে পদে অপমানিত হয়।
মর্মন্তুদ পরিণতি: একদিন ফটিক তার স্কুলের বই হারিয়ে ফেলে এবং মামির কাছে অমানবিক তিরস্কার শোনে। এরপরেই তার গায়ে জ্বর আসে। মামিকে বিরক্ত না করার জন্য অসুস্থ শরীরেই সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। মুষলধারে বৃষ্টির রাতে পুলিশ তাকে সম্পূর্ণ কাদামাখা ও জ্বরে প্রলাপ বকা অবস্থায় বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। প্রবল জ্বরের ঘোরে ফটিক জাহাজের খালাসিদের মতো জল মাপতে থাকে। ডাক্তার অবস্থা খারাপ জানান। শেষ মুহূর্তে ফটিকের মা ছুটে আসেন এবং কেঁদে ওঠেন। ফটিক পাশ ফিরে মৃদুস্বরে তার জীবনের শেষ কথাটি বলে, "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।" এই অনন্ত 'ছুটি' বা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ফটিকের মুক্তি ঘটে।
কলকাতায় ফটিকের জীবন ও মানসিক যন্ত্রণা: বিশ্বম্ভরবাবু ফটিকের মায়ের কাছে তার দুরন্তপনার কথা শুনে তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেন। ফটিকের মা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এবং ফটিকও উৎসাহের সঙ্গে কলকাতায় যায়। কিন্তু কলকাতায় মামাবাড়িতে ফটিকের মামি তাকে অবাঞ্ছিত বালাই বা আপদ হিসেবে দেখেন। রবীন্দ্রনাথ তেরো-চোদ্দো বছরের ছেলেদের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে এই বয়সে তারা স্নেহ ও ভালোবাসার কাঙাল থাকে, অথচ চারপাশের মানুষের কাছে কেবল উপেক্ষাই পায়। ফটিকের ক্ষেত্রেও তাই হয়। চার দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়ে সে গ্রামের সেই মুক্ত প্রান্তর, ঘুড়ি ওড়ানো, সাঁতার কাটা এবং সবচেয়ে বেশি তার অত্যাচরিণী মাকে মনে করে নিরবে কাঁদে। স্কুলে সে বকা খায় এবং মামির কাছে পদে পদে অপমানিত হয়।
মর্মন্তুদ পরিণতি: একদিন ফটিক তার স্কুলের বই হারিয়ে ফেলে এবং মামির কাছে অমানবিক তিরস্কার শোনে। এরপরেই তার গায়ে জ্বর আসে। মামিকে বিরক্ত না করার জন্য অসুস্থ শরীরেই সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। মুষলধারে বৃষ্টির রাতে পুলিশ তাকে সম্পূর্ণ কাদামাখা ও জ্বরে প্রলাপ বকা অবস্থায় বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। প্রবল জ্বরের ঘোরে ফটিক জাহাজের খালাসিদের মতো জল মাপতে থাকে। ডাক্তার অবস্থা খারাপ জানান। শেষ মুহূর্তে ফটিকের মা ছুটে আসেন এবং কেঁদে ওঠেন। ফটিক পাশ ফিরে মৃদুস্বরে তার জীবনের শেষ কথাটি বলে, "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।" এই অনন্ত 'ছুটি' বা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ফটিকের মুক্তি ঘটে।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| ভাবোদয় | ভাবের উদয় / নতুন চিন্তার আবির্ভাব | প্রগল্ভতা | অতিরিক্ত বাচালতা / জ্যাঠামি |
| শালকাষ্ঠ | শাল গাছের কাঠ বা গুঁড়ি | বালাই | আপদ / অবাঞ্ছিত বাধা |
| তত্ত্বজ্ঞানী | জ্ঞানী / দার্শনিক | স্নেহশূন্য বিরাগ | ভালোবাসাহীন বিরক্তি |
| আস্ফালন | দম্ভ প্রকাশ / আস্ফালন করা | অহর্নিশি | দিনরাত / সব সময় |
| বিমর্ষ | বিষণ্ণ / দুঃখিত | স্রোতস্বিনী | নদী |
| আড়কোলা | পাঁজাকোলা করে তোলা | মুর্মূর্ষু | মরণাপন্ন অবস্থা |
| অগ্নিমূর্তি | ভীষণ রেগে যাওয়া রূপ | স্তিমিতপ্রদীপ | নিভু-নিভু প্রদীপ |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'ছুটি' গল্পটির রচয়িতা কে?
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
২. ফটিক চক্রবর্তীর ছোটো ভাইয়ের নাম কী?
(ক) রাখাল (খ) মাখনলাল (গ) বিশ্বম্ভর (ঘ) সুশীল
উত্তর: (খ) মাখনলাল
৩. নদীর ধারে কীসের গুঁড়ি পড়ে ছিল?
(ক) সেগুন কাঠের (খ) আম কাঠের (গ) শাল কাঠের (ঘ) মেহগনি কাঠের
উত্তর: (গ) শাল কাঠের
৪. শালকাষ্ঠটি কীসে রূপান্তরিত হওয়ার প্রতীক্ষায় ছিল?
(ক) নৌকোয় (খ) মাস্তুলে (গ) আসবাবে (ঘ) খুঁটিতে
উত্তর: (খ) মাস্তুলে
৫. ফটিকের মামার নাম কী?
(ক) বিশ্বম্ভরবাবু (খ) সুরেশবাবু (গ) রমেশবাবু (ঘ) ভৈরববাবু
উত্তর: (ক) বিশ্বম্ভরবাবু
৬. ফটিকের মামা কোথায় কাজ করতেন?
(ক) কলকাতায় (খ) পশ্চিমে (গ) দিল্লিতে (ঘ) ঢাকায়
উত্তর: (খ) পশ্চিমে
৭. মামা ফটিককে কোথায় নিয়ে যেতে চাইলেন?
(ক) পশ্চিমে (খ) দার্জিলিংয়ে (গ) কলকাতায় (ঘ) মামাবাড়িতে
উত্তর: (গ) কলকাতায়
৮. ফটিক কলকাতায় যাওয়ার আনন্দে তার খেলনাগুলো কাকে দিয়ে গিয়েছিল?
(ক) বন্ধুকে (খ) মাখনকে (গ) পাড়ার ছেলেদের (ঘ) বাঘা বাগদিকে
উত্তর: (খ) মাখনকে
৯. মামির নিজের কয়টি ছেলে ছিল?
(ক) একটি (খ) দুটি (গ) তিনটি (ঘ) চারটি
উত্তর: (গ) তিনটি
১০. মামির চোখে ফটিক কেমন ছিল?
(ক) আদরের (খ) অবাধ্য (গ) বালাই বা আপদ (ঘ) শান্ত
উত্তর: (গ) বালাই বা আপদ
১১. লেখকের মতে কোন্ বয়সের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নেই?
(ক) দশ-এগারো (খ) তেরো-চৌদ্দ (গ) পনেরো-ষোলো (ঘ) সতেরো-আঠেরো
উত্তর: (খ) তেরো-চৌদ্দ
১২. ফটিক মামির কাছে কী হারিয়ে ফেলার কথা বলেছিল?
(ক) টাকা (খ) স্কুলের বই (গ) ছাতা (ঘ) খাতা
উত্তর: (খ) স্কুলের বই
১৩. ফটিক মামাকে কবে বাড়ি যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল?
(ক) গরমের ছুটিতে (খ) পুজোর ছুটিতে (গ) শীতের ছুটিতে (ঘ) বড়োদিনে
উত্তর: (খ) পুজোর ছুটিতে
১৪. পুজোর ছুটি কোন্ মাসে ছিল?
(ক) ভাদ্র (খ) কার্তিক (গ) আশ্বিন (ঘ) অগ্রহায়ণ
উত্তর: (খ) কার্তিক
১৫. জ্বরের ঘোরে ফটিক বাড়ি থেকে পালালে তাকে কারা ফিরিয়ে আনে?
(ক) মামা (খ) পাড়ার লোক (গ) পুলিশ (ঘ) মাস্টারমশাই
উত্তর: (গ) পুলিশ
১৬. প্রলাপে ফটিক কাদের মতো সুর করে জল মাপছিল?
(ক) মাঝিদের মতো (খ) খালাসিদের মতো (গ) জেলেদের মতো (ঘ) ডুবুরিদের মতো
উত্তর: (খ) খালাসিদের মতো
১৭. "এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।" - কথাটির অর্থ কী?
(ক) জলের গভীরতা মাপা (খ) মাছ ধরা (গ) নৌকো বাওয়া (ঘ) সাঁতার কাটা
উত্তর: (ক) জলের গভীরতা মাপা
১৮. ফটিকের মা ঘরে প্রবেশ করে কীভাবে ডাকলেন?
(ক) ফটিক! সোনা! মানিক আমার! (খ) ওরে ফটিক! (গ) বাবা আমার! (ঘ) দুষ্টু ছেলে!
উত্তর: (ক) ফটিক! সোনা! মানিক আমার!
১৯. ফটিকের শেষ কথা কী ছিল?
(ক) মা আমাকে বাঁচাও (খ) মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি (গ) আমি আর পালাব না (ঘ) আমাকে নিয়ে চলো
উত্তর: (খ) মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি
২০. 'ছুটি' গল্পে ফটিকের চূড়ান্ত 'ছুটি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) স্কুল থেকে ছুটি (খ) পুজার ছুটি (গ) মৃত্যু বা চিরবিদায় (ঘ) বাড়ি ফেরা
উত্তর: (গ) মৃত্যু বা চিরবিদায়
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় কী নূতন ভাবোদয় হয়েছিল?
উত্তর: ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় একটি নতুন খেলার ভাবোদয় হয়েছিল যে, নদীর ধারে পড়ে থাকা প্রকাণ্ড শালকাঠের গুঁড়িটিকে তারা সবাই মিলে গড়িয়ে নিয়ে যাবে।
২. মাখনলাল কী করেছিল যখন ফটিকের দল গুঁড়ি ঠেলতে গেল?
উত্তর: ফটিকের অবাধ্য ছোটো ভাই মাখনলাল অত্যন্ত গম্ভীরভাবে ও অকাল-তত্ত্বজ্ঞানীর মতো সেই শালকাঠের গুঁড়ির ওপর গিয়ে বসে পড়েছিল।
৩. ফটিকের মা ফটিককে কেন মেরেছিলেন?
উত্তর: গুঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার পর মাখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে মায়ের কাছে মিথ্যে নালিশ করেছিল যে ফটিক তাকে মেরেছে। এই মিথ্যে নালিশ শুনেই মা ফটিককে মেরেছিলেন।
৪. বিশ্বম্ভরবাবু কে ছিলেন এবং তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন?
উত্তর: বিশ্বম্ভরবাবু ছিলেন ফটিকের মামা। তিনি বহুদিন যাবৎ পশ্চিমে কাজ করতেন এবং সেখান থেকেই বহুকাল পর নিজের দেশে ও বোনের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন।
৫. ফটিকের মা ফটিককে কলকাতায় পাঠাতে রাজি হলেন কেন?
উত্তর: ফটিকের মায়ের সবসময় আশঙ্কা ছিল যে দুরন্ত ফটিক কোনোদিন মাখনকে জলে ফেলে দেবে বা মাথা ফাটিয়ে দেবে। তাই মামা যখন ফটিককে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দেন, মা সহজেই রাজি হয়ে যান।
৬. কলকাতায় যাওয়ার আনন্দে ফটিক মাখনকে কী দিয়ে গিয়েছিল?
উত্তর: কলকাতায় যাওয়ার প্রবল উৎসাহে ও আনন্দের আতিশয্যে ফটিক তার সমস্ত ছিপ, ঘুড়ি এবং লাটাই চিরকালের জন্য (পুত্রপৌত্রাদিক্রমে) ভোগদখল করার অধিকার মাখনকে দিয়ে গিয়েছিল।
৭. ফটিককে দেখে তার মামির কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: ফটিকের মামি নিজের তিনটি ছেলে নিয়ে ঘরকন্না করছিলেন। এর মধ্যে তেরো বছরের অশিক্ষিত পাড়াগেঁয়ে ফটিককে দেখে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন এবং তাকে অনাবশ্যক বালাই বা আপদ মনে করেছিলেন।
৮. তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলেদের সম্পর্কে লেখকের অভিমত কী?
উত্তর: লেখকের মতে, তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলের মতো বালাই পৃথিবীতে আর নেই। এই বয়সে তাদের মধ্যে শৈশবের লালিত্য থাকে না, আবার যৌবনের পরিণতিও আসে না। তারা কেবল স্নেহের কাঙাল হয়ে থাকে।
৯. কলকাতায় ফটিকের মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: কলকাতায় চার দেওয়ালের মধ্যে ফটিক হাঁফিয়ে উঠেছিল। সেখানে কোনো আদর বা স্নেহ ছিল না। সে সবসময় তার গ্রামের মুক্ত প্রান্তর, নদী এবং নিজের মায়ের কথা ভেবে নিরবে চোখের জল ফেলত।
১০. ফটিক মামাকে কবে বাড়ি যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল এবং মামা কী উত্তর দিয়েছিলেন?
উত্তর: ফটিক তার মামাকে জিজ্ঞাসা করেছিল সে কবে মায়ের কাছে যাবে। মামা উত্তর দিয়েছিলেন যে, কার্তিক মাসে যখন স্কুলের পূজার ছুটি হবে, তখন সে বাড়ি যাবে।
১১. বই হারিয়ে ফেলার পর মামি ফটিককে কী বলেছিলেন?
উত্তর: বই হারিয়ে ফেলার পর ফটিক অপরাধীর মতো মামিকে সে কথা জানালে, মামি অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন যে তিনি মাসের মধ্যে পাঁচবার করে বই কিনে দিতে পারবেন না।
১২. ফটিক কেন বাড়ি থেকে পালিয়েছিল?
উত্তর: বই হারানোর অপমানের পর ফটিকের গায়ে জ্বর আসে। সে বুঝতে পেরেছিল যে তার এই রোগ মামির কাছে অনাবশ্যক উপদ্রব মনে হবে। মামিকে জ্বালাতন না করতেই সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল।
১৩. পুলিশ ফটিককে কীরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছিল?
উত্তর: মুষলধারে বৃষ্টির রাতে পুলিশ ফটিককে ফিরিয়ে এনেছিল। তখন তার আপাদমস্তক ভেজা, সর্বাঙ্গে কাদা, চোখ-মুখ লাল এবং জ্বরে সে থরথর করে কাঁপছিল।
১৪. জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকার সময় ফটিক কী করছিল?
উত্তর: জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকার সময় ফটিক স্টিমারের খালাসিদের অনুকরণে করুণ স্বরে নদীর জলের গভীরতা মাপার মতো করে বলছিল, 'এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।'
১৫. ফটিকের মৃত্যু কীভাবে তার জীবনে 'ছুটি' এনে দিয়েছিল?
উত্তর: কলকাতায় মামাবাড়ির অনাদর, স্কুলের অপমান এবং দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে ফটিক মুক্তি চেয়েছিল। মৃত্যু বা চিরবিদায়ই তার জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্টের অবসান ঘটিয়ে তাকে এক অনন্ত 'ছুটি' এনে দিয়েছিল।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. 'ছুটি' গল্প অবলম্বনে ফটিক চক্রবর্তীর চরিত্র বিশ্লেষণ করো এবং তার জীবনের ট্র্যাজেডি পরিস্ফুট করো।
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ছুটি' গল্পের প্রধান চরিত্র ফটিক চক্রবর্তী। গল্পের শুরুতেই আমরা তাকে গ্রামের এক দুরন্ত, চঞ্চল এবং বালকদের সর্দার হিসেবে পাই। সে সারাদিন মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াতে এবং নিত্যনতুন ফন্দি আঁটতে ভালোবাসে। তার মধ্যে এক স্বাভাবিক গ্রামীণ বন্যতা ছিল।
কিন্তু তার জীবনের ট্র্যাজেডি শুরু হয় যখন তাকে জোর করে তার পরিচিত পরিবেশ থেকে উপড়ে নিয়ে কলকাতার মতো এক ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি করা হয়। কলকাতায় মামাবাড়িতে সে কারোর ভালোবাসা পায়নি। মামির চোখে সে ছিল এক জঞ্জাল বা বালাই। রবীন্দ্রনাথ নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনায় দেখিয়েছেন যে, তেরো-চোদ্দো বছরের ছেলেরা একটু স্নেহের কাঙাল হয়। ফটিকও তার মায়ের স্নেহ এবং গ্রামের মুক্ত জীবনের জন্য ভেতরে ভেতরে গুমরে কাঁদত।
মামির অনাদর, স্কুলের মাস্টারমশাইদের প্রহার এবং বন্ধুদের উপেক্ষা ফটিকের মনকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিল। সে নিজের অস্তিত্বের জন্যই যেন সকলের কাছে অপরাধী বোধ করত। শেষে যখন তার জ্বর আসে, তখন মামিকে বিরক্ত না করার অভিপ্রায়ে সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। কিন্তু সেই জ্বরই তার প্রাণ কেড়ে নেয়। মায়ের স্নেহবঞ্চিত, অবহেলিত এক কিশোরের অনন্ত 'ছুটি' বা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তার জীবনের গভীর ট্র্যাজেডি চরম রূপ লাভ করেছে।
কিন্তু তার জীবনের ট্র্যাজেডি শুরু হয় যখন তাকে জোর করে তার পরিচিত পরিবেশ থেকে উপড়ে নিয়ে কলকাতার মতো এক ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি করা হয়। কলকাতায় মামাবাড়িতে সে কারোর ভালোবাসা পায়নি। মামির চোখে সে ছিল এক জঞ্জাল বা বালাই। রবীন্দ্রনাথ নিখুঁত মনস্তাত্ত্বিক বর্ণনায় দেখিয়েছেন যে, তেরো-চোদ্দো বছরের ছেলেরা একটু স্নেহের কাঙাল হয়। ফটিকও তার মায়ের স্নেহ এবং গ্রামের মুক্ত জীবনের জন্য ভেতরে ভেতরে গুমরে কাঁদত।
মামির অনাদর, স্কুলের মাস্টারমশাইদের প্রহার এবং বন্ধুদের উপেক্ষা ফটিকের মনকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিল। সে নিজের অস্তিত্বের জন্যই যেন সকলের কাছে অপরাধী বোধ করত। শেষে যখন তার জ্বর আসে, তখন মামিকে বিরক্ত না করার অভিপ্রায়ে সে বাড়ি ছেড়ে পালায়। কিন্তু সেই জ্বরই তার প্রাণ কেড়ে নেয়। মায়ের স্নেহবঞ্চিত, অবহেলিত এক কিশোরের অনন্ত 'ছুটি' বা মৃত্যুর মধ্য দিয়েই তার জীবনের গভীর ট্র্যাজেডি চরম রূপ লাভ করেছে।
২. "তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই।" - লেখক কেন এমন কথা বলেছেন? বয়ঃসন্ধিকালের মনস্তত্ত্বের আলোকে তা আলোচনা করো।
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছুটি' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। কলকাতার মামাবাড়িতে ফটিকের অসহায় অবস্থাকে বোঝাতে লেখক বয়ঃসন্ধিকালের এই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি তুলে ধরেছেন।
বিশ্লেষণ: তেরো-চৌদ্দ বছর বয়সটি হলো শৈশব এবং যৌবনের মধ্যবর্তী এক সন্ধিক্ষণ। লেখকের মতে, এই বয়সের ছেলেরা না থাকে শিশুদের মতো আদুরে, না পায় বয়স্কদের মতো সম্মান। তাদের আধো আধো কথাকে ন্যাকামি এবং পাকা কথাকে জ্যাঠামি মনে করা হয়। শারীরিক দিক থেকেও তারা বেমানানভাবে বেড়ে ওঠে, যা অন্যদের চোখে দৃষ্টিকটু লাগে। এই বয়সের কোনো ত্রুটিকেই সমাজ সহজে ক্ষমা করতে চায় না।
অথচ মানসিক দিক থেকে এই বয়সের ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি স্নেহ ও ভালোবাসার প্রত্যাশী হয়। তারা অনুভব করে যে পৃথিবীর কোথাও তারা ঠিকমতো খাপ খাচ্ছে না, তাই তারা নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই লজ্জিত থাকে। এই সময় নারীজাতির (যেমন মা বা মামি) কাছ থেকে উপেক্ষা তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি দুঃসহ মনে হয়। ফটিকও এই বয়সেরই এক কিশোর ছিল। মামির স্নেহহীন চোখে সে নিজেকে এক অবাঞ্ছিত আপদ বা 'বালাই' হিসেবেই দেখতে পেয়েছিল, যা তার মানসিক যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
বিশ্লেষণ: তেরো-চৌদ্দ বছর বয়সটি হলো শৈশব এবং যৌবনের মধ্যবর্তী এক সন্ধিক্ষণ। লেখকের মতে, এই বয়সের ছেলেরা না থাকে শিশুদের মতো আদুরে, না পায় বয়স্কদের মতো সম্মান। তাদের আধো আধো কথাকে ন্যাকামি এবং পাকা কথাকে জ্যাঠামি মনে করা হয়। শারীরিক দিক থেকেও তারা বেমানানভাবে বেড়ে ওঠে, যা অন্যদের চোখে দৃষ্টিকটু লাগে। এই বয়সের কোনো ত্রুটিকেই সমাজ সহজে ক্ষমা করতে চায় না।
অথচ মানসিক দিক থেকে এই বয়সের ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি স্নেহ ও ভালোবাসার প্রত্যাশী হয়। তারা অনুভব করে যে পৃথিবীর কোথাও তারা ঠিকমতো খাপ খাচ্ছে না, তাই তারা নিজেদের অস্তিত্বের জন্যই লজ্জিত থাকে। এই সময় নারীজাতির (যেমন মা বা মামি) কাছ থেকে উপেক্ষা তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি দুঃসহ মনে হয়। ফটিকও এই বয়সেরই এক কিশোর ছিল। মামির স্নেহহীন চোখে সে নিজেকে এক অবাঞ্ছিত আপদ বা 'বালাই' হিসেবেই দেখতে পেয়েছিল, যা তার মানসিক যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
৩. গ্রামের ফটিক এবং কলকাতার ফটিকের জীবনযাত্রার মধ্যে কী পার্থক্য লক্ষ করা যায় তা 'ছুটি' গল্প অবলম্বনে লেখো।
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছুটি' গল্পে ফটিকের জীবনের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অধ্যায় দেখা যায়—একটি গ্রামের মুক্ত জীবন এবং অন্যটি কলকাতার বন্দি জীবন।
গ্রামের ফটিক: গ্রামে ফটিক ছিল স্বাধীন, মুক্ত এবং বালকদের অবিসংবাদিত সর্দার। নদীর ধারে ঘুরে বেড়ানো, ঘুড়ি ওড়ানো, শালকাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে দেওয়া বা ভাই মাখনের সাথে মারামারি—সব কিছুতেই তার এক বন্য স্বাধীনতা ছিল। মা তাকে বকলেও তার মনে কোনো গভীর শূন্যতা ছিল না। সে ছিল গ্রামের প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কলকাতার ফটিক: কিন্তু কলকাতায় এসে ফটিক যেন এক ডানা কাটা পাখিতে পরিণত হয়। চার দেওয়ালের মাঝে আটকা পড়ে তার দম বন্ধ হয়ে আসে। সেখানে কোনো মুক্ত প্রান্তর বা নদী নেই। মামাবাড়িতে মামির কাছে সে পদে পদে অনাদর ও অবজ্ঞা পায়। স্কুলে সে পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না, মাস্টারদের মার খায় এবং ভাইদের কাছে অপমানিত হয়। গ্রামের সেই দামাল ছেলেটি কলকাতায় এসে হয়ে যায় প্রভুহীন কুকুরের মতো অসহায়, ভীত এবং লজ্জিত। গ্রামের স্বাধীনতা থেকে কলকাতার এই স্নেহহীন বন্দিজীবনের পার্থক্যই ফটিকের চরিত্রকে ট্র্যাজিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
গ্রামের ফটিক: গ্রামে ফটিক ছিল স্বাধীন, মুক্ত এবং বালকদের অবিসংবাদিত সর্দার। নদীর ধারে ঘুরে বেড়ানো, ঘুড়ি ওড়ানো, শালকাঠের গুঁড়ি গড়িয়ে দেওয়া বা ভাই মাখনের সাথে মারামারি—সব কিছুতেই তার এক বন্য স্বাধীনতা ছিল। মা তাকে বকলেও তার মনে কোনো গভীর শূন্যতা ছিল না। সে ছিল গ্রামের প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কলকাতার ফটিক: কিন্তু কলকাতায় এসে ফটিক যেন এক ডানা কাটা পাখিতে পরিণত হয়। চার দেওয়ালের মাঝে আটকা পড়ে তার দম বন্ধ হয়ে আসে। সেখানে কোনো মুক্ত প্রান্তর বা নদী নেই। মামাবাড়িতে মামির কাছে সে পদে পদে অনাদর ও অবজ্ঞা পায়। স্কুলে সে পড়াশোনায় মন বসাতে পারে না, মাস্টারদের মার খায় এবং ভাইদের কাছে অপমানিত হয়। গ্রামের সেই দামাল ছেলেটি কলকাতায় এসে হয়ে যায় প্রভুহীন কুকুরের মতো অসহায়, ভীত এবং লজ্জিত। গ্রামের স্বাধীনতা থেকে কলকাতার এই স্নেহহীন বন্দিজীবনের পার্থক্যই ফটিকের চরিত্রকে ট্র্যাজিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।
৪. "ফটিক খালাসিদের মতো সুর করিয়া বলিতে লাগিল, 'এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।'" - উক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ ও মর্মান্তিকতা বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: প্রসঙ্গ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছুটি' গল্পের শেষ পর্যায়ে, জ্বরে আক্রান্ত ফটিক যখন মৃত্যুশয্যায় প্রলাপ বকছিল, তখন সে এই কথাগুলো উচ্চারণ করে।
অন্তর্নিহিত অর্থ ও মর্মান্তিকতা: ফটিক যখন গ্রাম থেকে কলকাতায় আসছিল, তখন তাদের কিছুটা রাস্তা স্টিমারে আসতে হয়েছিল। সেই সময় সে দেখেছিল জাহাজের খালাসিরা কাছি বা দড়ি ফেলে নদীর জলের গভীরতা মাপছে এবং সুর করে বলছে যে তল পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রবল জ্বরের ঘোরে মৃত্যু পথযাত্রী ফটিক সেই স্মৃতিরই রোমন্থন করছিল। কিন্তু রূপক অর্থে, এর গভীর এক মর্মান্তিক তাৎপর্য রয়েছে। ফটিক কলকাতায় এসে স্নেহ, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের সন্ধান করেছিল। কিন্তু মামির অনাদরে এবং নিষ্ঠুর সমাজে সে কোথাও আপন হওয়ার মতো একটু গভীরতা বা তল পায়নি। এখন সে তার জীবনের শেষ প্রান্তে উপস্থিত হয়ে মৃত্যুরূপী যে অকূল সমুদ্রে যাত্রা করেছে, সেখানেও যেন সে রশি ফেলে বেঁচে থাকার বা স্নেহের কোনো তল খুঁজে পাচ্ছে না। স্নেহবঞ্চিত এক কিশোরের জীবনের এই অতলস্পর্শী শূন্যতা ও মৃত্যুর অন্ধকারের প্রতীক হয়েই এই প্রলাপ বাক্যটি অসামান্য করুণ রস সৃষ্টি করেছে।
অন্তর্নিহিত অর্থ ও মর্মান্তিকতা: ফটিক যখন গ্রাম থেকে কলকাতায় আসছিল, তখন তাদের কিছুটা রাস্তা স্টিমারে আসতে হয়েছিল। সেই সময় সে দেখেছিল জাহাজের খালাসিরা কাছি বা দড়ি ফেলে নদীর জলের গভীরতা মাপছে এবং সুর করে বলছে যে তল পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রবল জ্বরের ঘোরে মৃত্যু পথযাত্রী ফটিক সেই স্মৃতিরই রোমন্থন করছিল। কিন্তু রূপক অর্থে, এর গভীর এক মর্মান্তিক তাৎপর্য রয়েছে। ফটিক কলকাতায় এসে স্নেহ, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের সন্ধান করেছিল। কিন্তু মামির অনাদরে এবং নিষ্ঠুর সমাজে সে কোথাও আপন হওয়ার মতো একটু গভীরতা বা তল পায়নি। এখন সে তার জীবনের শেষ প্রান্তে উপস্থিত হয়ে মৃত্যুরূপী যে অকূল সমুদ্রে যাত্রা করেছে, সেখানেও যেন সে রশি ফেলে বেঁচে থাকার বা স্নেহের কোনো তল খুঁজে পাচ্ছে না। স্নেহবঞ্চিত এক কিশোরের জীবনের এই অতলস্পর্শী শূন্যতা ও মৃত্যুর অন্ধকারের প্রতীক হয়েই এই প্রলাপ বাক্যটি অসামান্য করুণ রস সৃষ্টি করেছে।
৫. 'মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।' - ফটিকের এই শেষ কথাটির আলোকে গল্পের 'ছুটি' নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: সাহিত্যের ক্ষেত্রে নামকরণ একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। নামকরণের মধ্য দিয়েই রচনার মূল ভাব ও দর্শন পরিস্ফুট হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচ্য গল্পটির নাম 'ছুটি'।
সমগ্র গল্প জুড়েই ফটিক 'ছুটি' চেয়ে এসেছে। কলকাতায় মামাবাড়ির দমবন্ধ করা পরিবেশ, মামির অবজ্ঞা এবং স্কুলের নিষ্ঠুরতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে মামাকে বারবার জিজ্ঞাসা করত, "মামা, মার কাছে কবে যাব?" মামা তাকে পূজার ছুটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ফটিকের পক্ষে সেই আশ্বিন-কার্তিক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। সে জ্বর গায়েই স্কুল ও মামাবাড়ি থেকে ছুটি নিয়ে চিরকালের জন্য পালাতে চেয়েছিল।
গল্পের শেষে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ফটিক তার মাকে দেখে বলে ওঠে যে তার ছুটি হয়েছে এবং সে বাড়ি যাচ্ছে। এখানে 'ছুটি' কথাটির অর্থ বহুমাত্রিক। এটি কেবল স্কুল বা কলকাতার ছুটি নয়, এটি হলো পৃথিবীর সমস্ত বন্ধন, অনাদর এবং অবহেলা থেকে এক চিরস্থায়ী মুক্তি। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ফটিক সেই অনন্ত 'ছুটি' লাভ করে তার পরম আশ্রয়ে বা ঈশ্বরের বাড়িতে পাড়ি দেয়। যেহেতু ফটিকের জীবনের এই মর্মান্তিক মুক্তি বা 'ছুটি'ই গল্পের মূল উপজীব্য, তাই গল্পটির নামকরণ সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও হৃদয়স্পর্শী হয়েছে।
সমগ্র গল্প জুড়েই ফটিক 'ছুটি' চেয়ে এসেছে। কলকাতায় মামাবাড়ির দমবন্ধ করা পরিবেশ, মামির অবজ্ঞা এবং স্কুলের নিষ্ঠুরতা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে মামাকে বারবার জিজ্ঞাসা করত, "মামা, মার কাছে কবে যাব?" মামা তাকে পূজার ছুটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ফটিকের পক্ষে সেই আশ্বিন-কার্তিক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। সে জ্বর গায়েই স্কুল ও মামাবাড়ি থেকে ছুটি নিয়ে চিরকালের জন্য পালাতে চেয়েছিল।
গল্পের শেষে মৃত্যুশয্যায় শুয়ে ফটিক তার মাকে দেখে বলে ওঠে যে তার ছুটি হয়েছে এবং সে বাড়ি যাচ্ছে। এখানে 'ছুটি' কথাটির অর্থ বহুমাত্রিক। এটি কেবল স্কুল বা কলকাতার ছুটি নয়, এটি হলো পৃথিবীর সমস্ত বন্ধন, অনাদর এবং অবহেলা থেকে এক চিরস্থায়ী মুক্তি। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ফটিক সেই অনন্ত 'ছুটি' লাভ করে তার পরম আশ্রয়ে বা ঈশ্বরের বাড়িতে পাড়ি দেয়। যেহেতু ফটিকের জীবনের এই মর্মান্তিক মুক্তি বা 'ছুটি'ই গল্পের মূল উপজীব্য, তাই গল্পটির নামকরণ সর্বাঙ্গীণভাবে সার্থক ও হৃদয়স্পর্শী হয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- ভাবোদয় = ভাব + উদয়
- অত্যন্ত = অতি + অন্ত
- নিরুপায় = নিঃ + উপায়
- আবিষ্কার = আবিঃ + কার
- সংশয় = সম্ + শয়
সমাস নির্ণয়
- শালকাষ্ঠ: শাল নামক কাষ্ঠ (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- অকাল-তত্ত্বজ্ঞানী: অকালে তত্ত্বজ্ঞানী (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)
- পিতৃদেব: যিনি পিতা তিনিই দেব (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
- মাতৃহীন: মাতা দ্বারা হীন (তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস)
- অকর্মণ্য: নয় কর্মণ্য (নঞ তৎপুরুষ সমাস)
পদ পরিবর্তন
- শাসন ➜ শাসিত
- মনোযোগ ➜ মনোযোগী
- পৃথিবী ➜ পার্থিব
- গ্রাম ➜ গ্রাম্য
- স্নেহ ➜ স্নেহশীল / স্নিগ্ধ
ছুটি গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
গল্পটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। গল্পের প্রধান চরিত্র হলো ফটিক চক্রবর্তী, যে গ্রামের এক স্বাধীন দুরন্ত ছেলে থেকে কলকাতার এক স্নেহবঞ্চিত কিশোর হিসেবে ট্র্যাজিক পরিণতির শিকার হয়।
কলকাতায় ফটিক তার মামির কাছে পদে পদে অপমানিত ও অবহেলিত হতো। স্কুলের বই হারিয়ে ফেলার পর তার গায়ে জ্বর আসে। মামিকে অনাবশ্যক উপদ্রব না করতেই সে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি থেকে পালিয়েছিল।
গল্পের শেষে ফটিকের 'ছুটি' বলতে স্কুল বা কলকাতার ছুটি বোঝায়নি, বরং বোঝানো হয়েছে মৃত্যু। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই ফটিক পৃথিবীর সমস্ত অবহেলা ও বন্ধন থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি বা অনন্ত ছুটি লাভ করেছিল।