দাম (নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়)
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত নবম শ্রেণীর পাঠ্য 'দাম' গল্পের সম্পূর্ণ আলোচনা, শব্দার্থ এবং প্রশ্নোত্তর।
পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নবম শ্রেণীর সাহিত্য সঞ্চয়ন বইয়ের অন্তর্ভুক্ত বিখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'দাম' গল্পের সম্পূর্ণ বিষয়সংক্ষেপ, শব্দার্থ, এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (MCQ, SAQ ও ৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. গল্পের বিষয়সংক্ষেপ
ছেলেবেলার আতঙ্ক ও মাস্টারমশাই: কথক সুকুমারের স্কুলজীবনে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন এক মস্ত বিভীষিকা। তাঁর অঙ্কে মাথা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার। কিন্তু যে ছাত্ররা অঙ্ক পারত না, তাদের ওপর তিনি প্রবল শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, "পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারে না, তার আবার কাঁদতে লজ্জা করে না?" তাঁর মতে, স্বর্গের দরজাতেও লেখা আছে, 'যে অঙ্ক জানে না তার প্রবেশ নিষেধ'। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পরও কথক স্বপ্নে সেই মাস্টারমশাইকে দেখে ভয় পেতেন।
পত্রিকায় গল্প লেখা ও দশ টাকা লাভ: বড়ো হয়ে কথক সুকুমার একটি কলেজে বাংলার অধ্যাপক হন। একদিন একটি পত্রিকার অনুরোধে তিনি তাঁর এই অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি কল্পনামিশ্রিত নিন্দনীয় গল্প লেখেন। গল্পের নীতিবাক্য ছিল, "গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।" এই লেখার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাঁকে দশ টাকা পারিশ্রমিক বা দক্ষিণা দিয়েছিল।
মাস্টারমশাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ ও আত্মোপলব্ধি: বহু বছর পর কথক বাংলাদেশের এক প্রান্তের একটি কলেজে বক্তৃতা দিতে যান। সেখানে ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য বক্তৃতা দিয়ে তিনি খুব হাততালি পান। হলের বাইরে এসে অন্ধকারে তিনি এক বৃদ্ধকে দেখতে পান; বুঝতে পারেন তিনি আর কেউ নন, তাঁর সেই ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাই। মাস্টারমশাই কথকের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি পকেট থেকে সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে দেখান, যেখানে কথক তাঁকে নিয়ে নিন্দনীয় গল্পটি লিখেছিলেন। কিন্তু মাস্টারমশাই সেই লেখায় কোনো রাগ বা অপমান বোধ করেননি; বরং তিনি গর্বিত ছিলেন যে তাঁর ছাত্র তাঁকে মনে রেখেছে এবং অমর করে দিয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার কাছে কথক নিজেকে চরম অপরাধী মনে করেন। তাঁর মনে হয়, মাস্টারমশাইয়ের এই অমূল্য ভালোবাসাকে তিনি মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন।
পত্রিকায় গল্প লেখা ও দশ টাকা লাভ: বড়ো হয়ে কথক সুকুমার একটি কলেজে বাংলার অধ্যাপক হন। একদিন একটি পত্রিকার অনুরোধে তিনি তাঁর এই অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি কল্পনামিশ্রিত নিন্দনীয় গল্প লেখেন। গল্পের নীতিবাক্য ছিল, "গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।" এই লেখার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাঁকে দশ টাকা পারিশ্রমিক বা দক্ষিণা দিয়েছিল।
মাস্টারমশাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ ও আত্মোপলব্ধি: বহু বছর পর কথক বাংলাদেশের এক প্রান্তের একটি কলেজে বক্তৃতা দিতে যান। সেখানে ফাঁপা ও অন্তঃসারশূন্য বক্তৃতা দিয়ে তিনি খুব হাততালি পান। হলের বাইরে এসে অন্ধকারে তিনি এক বৃদ্ধকে দেখতে পান; বুঝতে পারেন তিনি আর কেউ নন, তাঁর সেই ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাই। মাস্টারমশাই কথকের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর তিনি পকেট থেকে সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে দেখান, যেখানে কথক তাঁকে নিয়ে নিন্দনীয় গল্পটি লিখেছিলেন। কিন্তু মাস্টারমশাই সেই লেখায় কোনো রাগ বা অপমান বোধ করেননি; বরং তিনি গর্বিত ছিলেন যে তাঁর ছাত্র তাঁকে মনে রেখেছে এবং অমর করে দিয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার কাছে কথক নিজেকে চরম অপরাধী মনে করেন। তাঁর মনে হয়, মাস্টারমশাইয়ের এই অমূল্য ভালোবাসাকে তিনি মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন।
২. গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ | শব্দ | অর্থ / প্রতিশব্দ |
|---|---|---|---|
| বিভীষিকা | ভয়ংকর আতঙ্ক বা ভয় | সারগর্ভ | অর্থপূর্ণ বা যাতে মূল বিষয়বস্তু আছে |
| পণ্ডশ্রম | বৃথা চেষ্টা / যে শ্রমে ফল মেলে না | ফাঁপা ফানুস | ভেতরটা শূন্য এমন বেলুন (অসার বস্তু) |
| তটস্থ | ভীত / সন্ত্রস্ত | পঞ্চত্ব | মৃত্যু লাভ করা |
| যোজন | দূরত্ব মাপার একক (প্রায় ৪ ক্রোশ) | দক্ষিণা | পারিশ্রমিক বা পুরস্কার |
| স্পর্ধা | অহংকার বা উদ্ধত সাহস | রাজোচিত | রাজার মতো বা রাজার উপযুক্ত |
| রোমাঞ্চিত | পুলকিত বা শিহরিত হওয়া | দাক্ষিণ্য-পুলকিত | করুণা বা দয়া পেয়ে আনন্দিত |
| আত্মগ্লানি | নিজের কাজের জন্য মনে কষ্ট বা অনুশোচনা | শতচ্ছিন্ন | বহু জায়গায় ছেঁড়া বা জরাজীর্ণ |
৩. বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ) ২০ টি প্রশ্ন
১. 'দাম' গল্পটির রচয়িতা কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় (ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উত্তর: (গ) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
২. স্কুলে মাস্টারমশাই কীসের বিভীষিকা ছিলেন?
(ক) বিজ্ঞানের (খ) অঙ্কের (গ) ইতিহাসের (ঘ) ভূগোলের
উত্তর: (খ) অঙ্কের
৩. মাস্টারমশাইয়ের মতে স্বর্গের দরজাতেও কী লেখা আছে?
(ক) পুণ্যবানদের প্রবেশ নিষেধ (খ) যে বিজ্ঞান জানে না তার প্রবেশ নিষেধ (গ) যে অঙ্ক জানে না তার প্রবেশ নিষেধ (ঘ) অহংকারীদের প্রবেশ নিষেধ
উত্তর: (গ) যে অঙ্ক জানে না তার প্রবেশ নিষেধ
৪. কার দোরগোড়ায় লেখা ছিল, 'যে অঙ্ক জানে না- এখানে তার প্রবেশ নিষেধ'?
(ক) প্লেটোর (খ) অ্যারিস্টটলের (গ) সক্রেটিসের (ঘ) পিথাগোরাসের
উত্তর: (ক) প্লেটোর
৫. এম-এ পাশ করার পরও কথক কীসের স্বপ্ন দেখতেন?
(ক) স্কুলে পড়ানোর (খ) অঙ্ক পরীক্ষার (গ) ফেল করার (ঘ) বিদেশে যাওয়ার
উত্তর: (খ) অঙ্ক পরীক্ষার
৬. বড়ো হয়ে কথক কলেজে কোন্ বিষয় পড়াতেন?
(ক) ইংরেজি (খ) বিজ্ঞান (গ) বাংলা (ঘ) ইতিহাস
উত্তর: (গ) বাংলা
৭. মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা গল্প ছেপে কথক কত টাকা দক্ষিণা পেয়েছিলেন?
(ক) পাঁচ টাকা (খ) দশ টাকা (গ) পঞ্চাশ টাকা (ঘ) একশো টাকা
উত্তর: (খ) দশ টাকা
৮. "গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই..." কী হয়?
(ক) মানুষ হয় (খ) পণ্ডিত হয় (গ) পঞ্চত্ব পায় (ঘ) বোকা হয়
উত্তর: (গ) পঞ্চত্ব পায়
৯. "এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে..." কীসের সম্মান পায়?
(ক) কোকিলের (খ) ময়ূরের (গ) ঈগলের (ঘ) রাজহংসের
উত্তর: (ঘ) রাজহংসের
১০. কথক তাঁর বক্তৃতায় কার রচনা থেকে বারোটা উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন?
(ক) শরৎচন্দ্রের (খ) বঙ্কিমচন্দ্রের (গ) রবীন্দ্রনাথের (ঘ) নজরুলের
উত্তর: (গ) রবীন্দ্রনাথের
১১. কথক কার নামে একটি ইংরেজি কোটেশন চালিয়েছিলেন?
(ক) শেক্সপিয়রের (খ) বার্নার্ড শ'র (গ) শেলীর (ঘ) কিটসের
উত্তর: (খ) বার্নার্ড শ'র
১২. বক্তৃতা শেষ করার সময় কথক টেবিলে প্রকাণ্ড কিল মারায় কী রক্ষা পেল?
(ক) মাইকটা (খ) জলের গ্লাস (গ) ফুলদানিটা (ঘ) বইটা
উত্তর: (গ) ফুলদানিটা
১৩. "ভারী চমৎকার বলেছেন আপনি" - কথকের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে কে এ কথা বলেছিলেন?
(ক) ছাত্ররা (খ) বুড়ো প্রিন্সিপ্যাল (গ) মাস্টারমশাই (ঘ) কলেজের শিক্ষক
উত্তর: (খ) বুড়ো প্রিন্সিপ্যাল
১৪. হলের বাইরে তরল অন্ধকারে কাকে দেখা গেল?
(ক) কলেজের দপ্তরিকে (খ) একজন ছাত্রকে (গ) মাস্টারমশাইকে (ঘ) সাংবাদিককে
উত্তর: (গ) মাস্টারমশাইকে
১৫. মাস্টারমশাইয়ের পকেট থেকে কী বেরোল?
(ক) চশমা (খ) খাতা (গ) কলম (ঘ) শতচ্ছিন্ন এক জীর্ণ পত্রিকা
উত্তর: (ঘ) শতচ্ছিন্ন এক জীর্ণ পত্রিকা
১৬. মাস্টারমশাইয়ের চোখ দুটো কীসের মতো ঝকঝক করত?
(ক) হিরের মতো (খ) ছুরির ফলার মতো (গ) আগুনের মতো (ঘ) নক্ষত্রের মতো
উত্তর: (খ) ছুরির ফলার মতো
১৭. কথক মাস্টারমশাইয়ের স্নেহের পরিমাপ কীসের সাথে করেছেন?
(ক) আকাশের (খ) পর্বতের (গ) কোটি মণি-মাণিক্যের (ঘ) টাকার
উত্তর: (গ) কোটি মণি-মাণিক্যের
১৮. "আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম" - এখানে 'তাঁকে' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) সম্পাদককে (খ) মাস্টারমশাইকে (গ) পাঠকদের (ঘ) বন্ধুদের
উত্তর: (খ) মাস্টারমশাইকে
১৯. "তোমরাই তো আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়।" - উক্তিটি কার?
(ক) প্রিন্সিপ্যালের (খ) সুকুমারের (গ) সম্পাদকের (ঘ) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের
উত্তর: (ঘ) অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের
২০. ছেলেবেলায় মাস্টারমশাইয়ের ডাক শুনে কথকের কেমন অনুভূতি হতো?
(ক) আনন্দ হতো (খ) রাগ হতো (গ) গায়ের রক্ত হিম হয়ে আসত (ঘ) কিছুই হতো না
উত্তর: (গ) গায়ের রক্ত হিম হয়ে আসত
৪. অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ) ১৫ টি প্রশ্ন
১. স্কুলে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছে কেমন ছিলেন?
উত্তর: স্কুলে অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন ছাত্রদের কাছে এক মস্ত বড়ো বিভীষিকা। তাঁর প্রকাণ্ড হাতের চড় এবং রূঢ় শাসনের ভয়ে ছাত্ররা সর্বদা তটস্থ হয়ে থাকত।
২. ছাত্রদের চোখে জল দেখলে মাস্টারমশাই কী করতেন?
উত্তর: ছাত্রদের চোখে এক ফোঁটা জল দেখলেই মাস্টারমশাই ক্লাস ফাটিয়ে হুংকার দিয়ে বলতেন, "পুরুষ মানুষ হয়ে অঙ্ক পারিসনে-তার উপরে কাঁদতে লজ্জা করে না? এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবো।"
৩. "গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়" - কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: কথাটির অর্থ হলো, অহেতুক মারধর বা অত্যাচার করে কাউকে কিছু জোর করে শেখানো যায় না; তাতে হিতে বিপরীত হয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু বা চরম ক্ষতিও হতে পারে।
৪. কথক সুকুমার এম-এ পাশ করার পরও কীসের স্বপ্ন দেখতেন?
উত্তর: কথক এম-এ পাশ করার পরও স্বপ্ন দেখতেন যে, তাঁর পরীক্ষার লাস্ট বেল পড়ে যাচ্ছে, অথচ একটা অঙ্কও মিলছে না এবং মাস্টারমশাই গার্ড হয়ে রাগে দাঁতে দাঁত ঘষছেন।
৫. "কাগজ কলম নিয়ে বসে গেলুম।" - কথক কী লিখতে বসেছিলেন?
উত্তর: একটি পত্রিকার কর্তৃপক্ষের ফরমাশে কথক তাঁর নিজের ছেলেবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি কল্পনামিশ্রিত গল্প লিখতে বসেছিলেন।
৬. গল্পটি লিখে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কথক কী লাভ করেছিলেন?
উত্তর: মাস্টারমশাইকে নিয়ে নিন্দনীয় গল্পটি লেখার পর পত্রিকা কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে কথককে দশ টাকা পারিশ্রমিক বা দক্ষিণা দিয়েছিলেন।
৭. "এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে রাজহংসের সম্মান পায়।" - কেন এমন বলা হয়েছে?
উত্তর: কলকাতা থেকে কেউ মফস্বল বা দূরবর্তী কোনো গ্রামের কলেজে গেলে সেখানকার মানুষ তাকে খুব সম্মান ও রাজোচিত সংবর্ধনা দেয়। এই বিপুল কদর বোঝাতেই কথক মন্তব্যটি করেছেন।
৮. কথক তাঁর বক্তৃতায় কী কী করেছিলেন?
উত্তর: কথক তাঁর ফাঁপা বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ থেকে বারোটি উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন, বার্নার্ড শ'র নামে একটি ভুল ইংরেজি কোটেশন চালিয়েছিলেন এবং শেষে টেবিলে প্রকাণ্ড কিল মেরে তরুণদের জাগ্রত হতে বলেছিলেন।
৯. "আমি চমকে উঠলুম।" - কথকের চমকে ওঠার কারণ কী ছিল?
উত্তর: দূর গ্রামের অচেনা এক কলেজের মাঠে অন্ধকারে হঠাৎ কেউ তাঁকে তাঁর ছেলেবেলার 'সুকুমার' নামে ডাকায় এবং সেই সুপরিচিত ও ভীতিপ্রদ কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে কথক চমকে উঠেছিলেন।
১০. "খুব ভালো বলেছ সুকুমার, খুব খুশি হয়েছি।" - বক্তা কে এবং কেন খুশি হয়েছেন?
উত্তর: বক্তা হলেন কথকের ছোটবেলার অঙ্কের মাস্টারমশাই। অনেক বছর পর নিজের ছাত্রের মুখে এমন সাবলীল বক্তৃতা শুনে তিনি মুগ্ধ ও গর্বিত হয়ে এ কথা বলেছিলেন।
১১. মাস্টারমশাইয়ের পকেট থেকে বের হওয়া জীর্ণ পত্রিকাটিতে কী ছিল?
উত্তর: ওই শতচ্ছিন্ন জীর্ণ পত্রিকাটিতে কথক সুকুমারের লেখা সেই গল্পটি ছাপা হয়েছিল, যেখানে সে তার মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শাসনের সমালোচনা করেছিল।
১২. মাস্টারমশাই সুকুমারের লেখা গল্পটি নিয়ে গর্ববোধ করতেন কেন?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের মনে কোনো রাগ ছিল না, বরং এত বছর পরেও তাঁর ছাত্র তাঁকে মনে রেখে গল্প লিখেছে, এই আনন্দে তিনি আত্মহারা হয়ে গল্পটি নিয়ে গর্ববোধ করতেন।
১৩. "মুহূর্তে আমার জিভ শুকিয়ে গেল" - কেন এমন হলো?
উত্তর: যে মাস্টারমশাইকে নিয়ে কথক পত্রিকায় সমালোচনা ও নিন্দামূলক গল্প লিখেছিলেন, সেই মাস্টারমশাই ওই লেখাটিকে পরম শ্রদ্ধার জিনিস ভেবে বুকে আগলে রেখেছেন দেখে কথক চরম আত্মগ্লানি ও লজ্জায় পড়ে যান।
১৪. মাস্টারমশাই সুকুমারকে চিঠি পাঠাতে সাহস পাননি কেন?
উত্তর: সুকুমারের লেখা পড়ে আনন্দিত হয়ে মাস্টারমশাই চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু তাঁর মনে হয়েছিল সুকুমার এখন বড়ো হয়ে গেছে, তাই তাকে চিঠি পাঠাতে তিনি সংকোচ বা সাহস পাননি।
১৫. "আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম।" - দশ টাকায় বিক্রি করার অর্থ কী?
উত্তর: পত্রিকায় মাস্টারমশাইয়ের নামে কল্পনামেশানো নিন্দনীয় গল্প লিখে কথক যে দশ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, মাস্টারমশাইয়ের অসীম ভালোবাসার কাছে সেই সামান্য টাকাকেই তিনি 'দশ টাকায় বিক্রি করা' বলেছেন।
৫. রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions) ০৫ টি প্রশ্ন
১. "আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম।" - উক্তিটির বক্তা কে? তিনি কাকে, কেন দশ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলে মনে করেছেন?
উত্তর: বক্তা: উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'দাম' গল্পের মূল চরিত্র ও কথক সুকুমার।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: কথক সুকুমার ছোটবেলায় তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় পেতেন। বড়ো হয়ে তিনি যখন একটি কলেজের বাংলার অধ্যাপক হলেন, তখন একটি পত্রিকার অনুরোধে তিনি তাঁর সেই মাস্টারমশাইয়ের কঠোর ও অমানবিক শাসন নিয়ে একটি কল্পনামিশ্রিত গল্প লেখেন। গল্পটিতে তিনি লিখেছিলেন যে গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করা যায় না, শুধু গাধাটাই মরে। এই লেখার বিনিময়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাঁকে দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল।
বহু বছর পর এক মফস্বল কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সেই মাস্টারমশাইয়ের সাথে তাঁর দেখা হয়। সুকুমার দেখেন, মাস্টারমশাই সেই নিন্দনীয় গল্পের পত্রিকাটিকে সযত্নে বুকে আগলে রেখেছেন এবং গর্ব করে সবাইকে বলছেন যে তাঁর ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম ক্ষমা, স্নেহ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার রূপ দেখে সুকুমার চরম আত্মগ্লানিতে ভোগেন। তাঁর মনে হয়, যে মানুষটির কাছে রাগ বা অপমানের চেয়ে ছাত্রের ভালোবাসা এত বড়ো, তাঁর সেই অমূল্য স্নেহকে তিনি কেবল দশ টাকার লোভে পত্রিকায় ছাপিয়ে বিশ্বের কাছে উপহাসের পাত্র করেছেন। এই চরম লজ্জাবোধ থেকেই কথক আক্ষেপ করে কথাটি বলেছেন।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: কথক সুকুমার ছোটবেলায় তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইকে যমের মতো ভয় পেতেন। বড়ো হয়ে তিনি যখন একটি কলেজের বাংলার অধ্যাপক হলেন, তখন একটি পত্রিকার অনুরোধে তিনি তাঁর সেই মাস্টারমশাইয়ের কঠোর ও অমানবিক শাসন নিয়ে একটি কল্পনামিশ্রিত গল্প লেখেন। গল্পটিতে তিনি লিখেছিলেন যে গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করা যায় না, শুধু গাধাটাই মরে। এই লেখার বিনিময়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাঁকে দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল।
বহু বছর পর এক মফস্বল কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সেই মাস্টারমশাইয়ের সাথে তাঁর দেখা হয়। সুকুমার দেখেন, মাস্টারমশাই সেই নিন্দনীয় গল্পের পত্রিকাটিকে সযত্নে বুকে আগলে রেখেছেন এবং গর্ব করে সবাইকে বলছেন যে তাঁর ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম ক্ষমা, স্নেহ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার রূপ দেখে সুকুমার চরম আত্মগ্লানিতে ভোগেন। তাঁর মনে হয়, যে মানুষটির কাছে রাগ বা অপমানের চেয়ে ছাত্রের ভালোবাসা এত বড়ো, তাঁর সেই অমূল্য স্নেহকে তিনি কেবল দশ টাকার লোভে পত্রিকায় ছাপিয়ে বিশ্বের কাছে উপহাসের পাত্র করেছেন। এই চরম লজ্জাবোধ থেকেই কথক আক্ষেপ করে কথাটি বলেছেন।
২. 'দাম' গল্প অবলম্বনে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: কথাসাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের 'দাম' গল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাই একটি অসাধারণ ও স্মরণীয় চরিত্র। তাঁর চরিত্রের দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত দিক গল্পে ফুটে উঠেছে:
কঠোর ও বিভীষিকাময় রূপ: গল্পের প্রথমার্ধে তিনি ছাত্রদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অঙ্কে তাঁর মাথা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার, কিন্তু যে ছাত্র অঙ্ক পারত না, তার পিঠে তিনি প্রকাণ্ড হাতের চড় কষাতেন। তাঁর মতে, পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক না পারা এবং কাঁদা চরম লজ্জার বিষয়। এই কঠোরতার কারণে ছাত্ররা তাঁকে যমের মতো ভয় পেত।
ক্ষমাশীল ও স্নেহপ্রবণ রূপ: গল্পের দ্বিতীয়ার্ধে মাস্টারমশাইয়ের এক অন্য রূপ আমরা দেখতে পাই। ছাত্র সুকুমার তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় ব্যঙ্গাত্মক গল্প লিখলেও তিনি বিন্দু মাত্র রেগে যাননি। বরং এত বছর পরেও ছাত্র তাঁকে মনে রেখেছে, এই আনন্দে তিনি আত্মহারা হয়ে সেই জীর্ণ পত্রিকাটিকে সযত্নে পকেটে নিয়ে ঘুরেছেন। তাঁর মতে, "অন্যায় যদি করেই থাকি, ওরা ছাত্র—ওরা সন্তান—বড়ো হলে সে অন্যায় আমার শুধরে দেবে বই কি।" এই উক্তির মধ্য দিয়ে তাঁর চরিত্রের গভীর বাৎসল্য, ক্ষমা এবং ছাত্রদের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। আপাত-কঠোর আবরণের আড়ালে তিনি যে এক স্নেহময় পিতা, তা তাঁর চোখের জলেই প্রমাণিত হয়।
কঠোর ও বিভীষিকাময় রূপ: গল্পের প্রথমার্ধে তিনি ছাত্রদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। অঙ্কে তাঁর মাথা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার, কিন্তু যে ছাত্র অঙ্ক পারত না, তার পিঠে তিনি প্রকাণ্ড হাতের চড় কষাতেন। তাঁর মতে, পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক না পারা এবং কাঁদা চরম লজ্জার বিষয়। এই কঠোরতার কারণে ছাত্ররা তাঁকে যমের মতো ভয় পেত।
ক্ষমাশীল ও স্নেহপ্রবণ রূপ: গল্পের দ্বিতীয়ার্ধে মাস্টারমশাইয়ের এক অন্য রূপ আমরা দেখতে পাই। ছাত্র সুকুমার তাঁকে নিয়ে পত্রিকায় ব্যঙ্গাত্মক গল্প লিখলেও তিনি বিন্দু মাত্র রেগে যাননি। বরং এত বছর পরেও ছাত্র তাঁকে মনে রেখেছে, এই আনন্দে তিনি আত্মহারা হয়ে সেই জীর্ণ পত্রিকাটিকে সযত্নে পকেটে নিয়ে ঘুরেছেন। তাঁর মতে, "অন্যায় যদি করেই থাকি, ওরা ছাত্র—ওরা সন্তান—বড়ো হলে সে অন্যায় আমার শুধরে দেবে বই কি।" এই উক্তির মধ্য দিয়ে তাঁর চরিত্রের গভীর বাৎসল্য, ক্ষমা এবং ছাত্রদের প্রতি অকৃত্রিম স্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। আপাত-কঠোর আবরণের আড়ালে তিনি যে এক স্নেহময় পিতা, তা তাঁর চোখের জলেই প্রমাণিত হয়।
৩. "মনে হলো, স্নেহ-মমতা-ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়িয়েছি।" - কথকের এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: উৎস: উদ্ধৃত পঙ্ক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত 'দাম' গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
কারণ: কথক সুকুমার তাঁর স্কুলজীবনের ভীতিকর অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি পত্রিকায় ব্যঙ্গাত্মক গল্প লিখেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এই লেখা পড়লে মাস্টারমশাই প্রচণ্ড রেগে যাবেন। কিন্তু বহু বছর পর একটি কলেজের বার্ষিক উৎসবে মাস্টারমশাইয়ের সাথে দেখা হলে তিনি এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখেন। মাস্টারমশাই পকেট থেকে সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে দেখান এবং আনন্দে আপ্লুত হয়ে জানান যে সুকুমার তাঁকে অমর করে দিয়েছে।
মাস্টারমশাই সুকুমারের সমালোচনায় অপমানিত বোধ করেননি, বরং বলেছেন ছাত্ররা হলো সন্তানের মতো, তাই শিক্ষকের ভুল ত্রুটি শুধরে দেওয়ার অধিকার তাদের আছে। মাস্টারমশাইয়ের চোখ দিয়ে তখন আনন্দে জল পড়ছিল। একজন শিক্ষকের মনে ছাত্রের প্রতি এতটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এমন বিশাল উদারতা এবং সীমাহীন ক্ষমা থাকতে পারে, তা সুকুমার কল্পনাও করতে পারেননি। নিজের কৃতকর্মের জন্য চরম অপরাধবোধ এবং মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম মহানুভবতা উপলব্ধি করেই কথকের মনে হয়েছিল যে তিনি যেন স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
কারণ: কথক সুকুমার তাঁর স্কুলজীবনের ভীতিকর অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে একটি পত্রিকায় ব্যঙ্গাত্মক গল্প লিখেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এই লেখা পড়লে মাস্টারমশাই প্রচণ্ড রেগে যাবেন। কিন্তু বহু বছর পর একটি কলেজের বার্ষিক উৎসবে মাস্টারমশাইয়ের সাথে দেখা হলে তিনি এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখেন। মাস্টারমশাই পকেট থেকে সেই জীর্ণ পত্রিকাটি বের করে দেখান এবং আনন্দে আপ্লুত হয়ে জানান যে সুকুমার তাঁকে অমর করে দিয়েছে।
মাস্টারমশাই সুকুমারের সমালোচনায় অপমানিত বোধ করেননি, বরং বলেছেন ছাত্ররা হলো সন্তানের মতো, তাই শিক্ষকের ভুল ত্রুটি শুধরে দেওয়ার অধিকার তাদের আছে। মাস্টারমশাইয়ের চোখ দিয়ে তখন আনন্দে জল পড়ছিল। একজন শিক্ষকের মনে ছাত্রের প্রতি এতটা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, এমন বিশাল উদারতা এবং সীমাহীন ক্ষমা থাকতে পারে, তা সুকুমার কল্পনাও করতে পারেননি। নিজের কৃতকর্মের জন্য চরম অপরাধবোধ এবং মাস্টারমশাইয়ের এই অসীম মহানুভবতা উপলব্ধি করেই কথকের মনে হয়েছিল যে তিনি যেন স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার এক মহাসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
৪. "গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।" - কথাটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রসঙ্গ: একটি পত্রিকার সম্পাদকের অনুরোধে কথক সুকুমার যখন তাঁর ছেলেবেলার কথা নিয়ে একটি গল্প লিখেছিলেন, তখন তিনি তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোর শারীরিক শাস্তির সমালোচনা করে এই নীতিবাক্যটি ব্যবহার করেছিলেন।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: 'পঞ্চত্ব পাওয়া' মানে হলো মারা যাওয়া। মাস্টারমশাইয়ের ধারণা ছিল, ছাত্রদের প্রচণ্ড মারধর করলেই তারা ভয় পেয়ে অঙ্ক শিখে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সব ছাত্রের মেধা সমান হয় না। কথক বোঝাতে চেয়েছেন, যে গাধার মতো নির্বোধ বা যার অঙ্কে মাথা নেই, তাকে যদি জোর করে পিটিয়ে ঘোড়া অর্থাৎ অঙ্কে পণ্ডিত বানানোর চেষ্টা করা হয়, তবে তার কোনো উন্নতি তো হবেই না, উলটে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে তার জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে বা সে মারা পড়বে। এই কথার মধ্য দিয়ে কথক তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের অমানবিক শাস্তিদানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন যে অহেতুক তাড়না বা ভয় দেখিয়ে কখনও প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া যায় না।
তাৎপর্য বিশ্লেষণ: 'পঞ্চত্ব পাওয়া' মানে হলো মারা যাওয়া। মাস্টারমশাইয়ের ধারণা ছিল, ছাত্রদের প্রচণ্ড মারধর করলেই তারা ভয় পেয়ে অঙ্ক শিখে যাবে। কিন্তু বাস্তবে সব ছাত্রের মেধা সমান হয় না। কথক বোঝাতে চেয়েছেন, যে গাধার মতো নির্বোধ বা যার অঙ্কে মাথা নেই, তাকে যদি জোর করে পিটিয়ে ঘোড়া অর্থাৎ অঙ্কে পণ্ডিত বানানোর চেষ্টা করা হয়, তবে তার কোনো উন্নতি তো হবেই না, উলটে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে তার জীবনটাই শেষ হয়ে যাবে বা সে মারা পড়বে। এই কথার মধ্য দিয়ে কথক তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের অমানবিক শাস্তিদানের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং বোঝাতে চেয়েছেন যে অহেতুক তাড়না বা ভয় দেখিয়ে কখনও প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া যায় না।
৫. 'দাম' গল্পের নামকরণ কতখানি সার্থক হয়েছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: সাহিত্যের নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু, চরিত্র বা মূল ব্যঞ্জনাকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই গল্পের নাম 'দাম' একটি গভীর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বহন করে।
গল্পে আমরা 'দাম' বা মূল্যের দুটি রূপ দেখতে পাই। প্রথমটি হলো জাগতিক বা আর্থিক মূল্য। কথক সুকুমার তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতাকে ব্যঙ্গ করে পত্রিকায় একটি গল্প লিখে পারিশ্রমিক হিসেবে দশ টাকা পেয়েছিলেন। এটি ছিল মাস্টারমশাইয়ের সম্মানহানি করে পাওয়া এক তুচ্ছ আর্থিক দাম।
দ্বিতীয়টি হলো মানসিক বা আত্মিক মূল্য। বহু বছর পর যখন কথক দেখেন যে, মাস্টারমশাই সেই ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিকেই পরম শ্রদ্ধায় বুকে আগলে রেখেছেন এবং ছাত্রের ভালোবাসায় তাঁর চোখে জল এসেছে, তখন সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের অসীম স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার প্রকৃত দাম বা মূল্য বুঝতে পারেন। তিনি উপলব্ধি করেন, পৃথিবীর কোটি কোটি মণিমাণিক্য বা কুবেরের ভাণ্ডার দিয়েও মাস্টারমশাইয়ের এই মহৎ হৃদয়ের দাম মেটানো সম্ভব নয়। যে অমূল্য সম্পদকে তিনি মাত্র দশ টাকার লোভে বিক্রি করেছিলেন, সেই আত্মগ্লানিই গল্পের মূল সুর হয়ে উঠেছে। বস্তুগত দামের বিপরীতে মানবিক অনুভূতির এই অমূল্য দামকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই 'দাম' নামকরণটি সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে।
গল্পে আমরা 'দাম' বা মূল্যের দুটি রূপ দেখতে পাই। প্রথমটি হলো জাগতিক বা আর্থিক মূল্য। কথক সুকুমার তাঁর অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতাকে ব্যঙ্গ করে পত্রিকায় একটি গল্প লিখে পারিশ্রমিক হিসেবে দশ টাকা পেয়েছিলেন। এটি ছিল মাস্টারমশাইয়ের সম্মানহানি করে পাওয়া এক তুচ্ছ আর্থিক দাম।
দ্বিতীয়টি হলো মানসিক বা আত্মিক মূল্য। বহু বছর পর যখন কথক দেখেন যে, মাস্টারমশাই সেই ব্যঙ্গাত্মক লেখাটিকেই পরম শ্রদ্ধায় বুকে আগলে রেখেছেন এবং ছাত্রের ভালোবাসায় তাঁর চোখে জল এসেছে, তখন সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের অসীম স্নেহ, মমতা ও ক্ষমার প্রকৃত দাম বা মূল্য বুঝতে পারেন। তিনি উপলব্ধি করেন, পৃথিবীর কোটি কোটি মণিমাণিক্য বা কুবেরের ভাণ্ডার দিয়েও মাস্টারমশাইয়ের এই মহৎ হৃদয়ের দাম মেটানো সম্ভব নয়। যে অমূল্য সম্পদকে তিনি মাত্র দশ টাকার লোভে বিক্রি করেছিলেন, সেই আত্মগ্লানিই গল্পের মূল সুর হয়ে উঠেছে। বস্তুগত দামের বিপরীতে মানবিক অনুভূতির এই অমূল্য দামকে ফুটিয়ে তোলার জন্যই 'দাম' নামকরণটি সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে।
৬. ব্যাকরণগত প্রশ্ন (Grammar)
সন্ধি বিচ্ছেদ
- পরীক্ষা = পরি + ঈক্ষা
- আশ্চর্য = আ + চর্য
- রোমাঞ্চিত = রোমাঞ্চ + ইত
- উচ্ছ্বাস = উৎ + শ্বাস
- পরিষ্কার = পরিঃ + কার
সমাস নির্ণয়
- পণ্ডশ্রম: পণ্ড যে শ্রম (কর্মধারয় সমাস)
- ছেলেবেলা: ছেলের বেলা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- রাজহংস: হংসের রাজা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
- ফুলদানি: ফুল রাখার দানি (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
- মহাসমুদ্র: মহা যে সমুদ্র (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)
পদ পরিবর্তন
- আশ্চর্য ➜ আশ্চর্যান্বিত
- রোমাঞ্চ ➜ রোমাঞ্চিত
- শরীর ➜ শারীরিক
- স্নেহ ➜ স্নিগ্ধ
- দিন ➜ দৈনিক
দাম গল্প সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (FAQs)
গল্পটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা। এই গল্পের মূল চরিত্র হলো কথক সুকুমার এবং তাঁর স্কুলজীবনের কঠোর কিন্তু স্নেহপ্রবণ অঙ্কের মাস্টারমশাই।
পত্রিকায় মাস্টারমশাইয়ের কঠোরতার সমালোচনা করে একটি গল্প লেখার জন্য কথক দশ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। পরে যখন তিনি জানতে পারেন যে মাস্টারমশাই সেই লেখাটিকেই পরম স্নেহে বুকে আগলে রেখেছেন, তখন নিজের এই তুচ্ছ আর্থিক লাভের জন্য তিনি চরম অনুশোচনায় উক্তিটি করেছেন।
গল্পে উল্লেখিত নীতিবাক্য অনুযায়ী, অহেতুক মারধর করে গাধাকে ঘোড়া বানানো যায় না, বরং সেই অত্যধিক অত্যাচারে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায় বা মারা যায়।