পরিবেশ ও বনভূমি

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)

'পরিবেশ ও বনভূমি' অধ্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রকার বনভূমি এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের পাইন, ওক, রডোডেনড্রনের বন থেকে শুরু করে তরাই-ডুয়ার্সের শাল, সেগুন, চাপ, চিলোনির জঙ্গল, রাঢ় অঞ্চলের পাতাঝরা বন এবং দক্ষিণের সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য—প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বন থেকে আমরা কাঠ, মধু, ফল, ফুল, পাতা ও বিভিন্ন ঔষধি সামগ্রী পাই। অধ্যায়ে বনভূমি ধ্বংসের কারণ, যেমন—চাষের জমি ও শহর তৈরির জন্য গাছ কাটা এবং তার ফলাফল—অক্সিজেনের অভাব, দূষণ বৃদ্ধি ও বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে প্রবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা, 'সমাজভিত্তিক বন' বা সোশ্যাল ফরেস্ট্রির গুরুত্ব এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষার কথাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বাঘ, গন্ডার, হাতির মতো প্রাণীদের চোরাশিকার এবং তার ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে আলোকপাত করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন ও বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)

রডোডেনড্রন

এটি উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের এক প্রকার ফুলগাছ, যা তার সুন্দর ফুলের জন্য বিখ্যাত।

লাল পাণ্ডা

দার্জিলিং-এর পার্বত্য অঞ্চলের বনে বসবাসকারী একটি বিপন্ন প্রজাতির শান্ত, লাজুক প্রাণী।

সমাজভিত্তিক বন (সোশ্যাল ফরেস্ট্রি)

লোকালয়ের মধ্যে বা রাস্তার ধারে মানুষের উদ্যোগে ও অংশগ্রহণে যে ছোট ছোট বন তৈরি করা হয়, তাকে সমাজভিত্তিক বন বলে।

মাজার

কোনো পির বা সাধুসন্তের কবরস্থান, যা একটি পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য হয়। অনেক সময় এই মাজারকে কেন্দ্র করে পুরোনো বনভূমি রক্ষা পায়।

লুপ্ত প্রাণী

যেসব প্রাণী একসময় পৃথিবীতে ছিল কিন্তু এখন আর তাদের একটিও বেঁচে নেই, তাদের লুপ্ত প্রাণী বলে। যেমন—চিতা, হুইয়া পাখি।

চোরাশিকার

সরকারি আইন অমান্য করে লুকিয়ে বন্যপ্রাণী শিকার করাকে চোরাশিকার বলে। গন্ডারের খড়্গ বা হাতির দাঁতের জন্য এই ধরনের শিকার করা হয়।

বিশালাক্ষীর আমবাগান

কথিত আছে, এটি একটি তিন-চারশো বছরের পুরোনো আমবাগান, যেখানে প্রায় দু-হাজার আম গাছ আছে। এটি একটি স্থানীয় সংরক্ষিত বনখণ্ডের উদাহরণ।

প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. পাইন, ওক, ফার, রডোডেনড্রন গাছ কোন প্রকার বনে দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: C. উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের বনে

বিশ্লেষণ: এই গাছগুলি ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় জন্মায়, তাই এগুলি দার্জিলিং-এর পার্বত্য অঞ্চলের বনে দেখা যায়।

২. লাল পাণ্ডা পশ্চিমবঙ্গের কোন বনে পাওয়া যায়?




সঠিক উত্তর: D. দার্জিলিং-এর পার্বত্য বন

বিশ্লেষণ: লাল পাণ্ডা একটি শীতল পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণী, যা দার্জিলিং-এর উঁচু এলাকার বনে বাস করে।

৩. সুন্দরী, গরান, হেতাল গাছ কোন বনের বৈশিষ্ট্য?




সঠিক উত্তর: B. সুন্দরবন

বিশ্লেষণ: এই গাছগুলি ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ, যা সুন্দরবনের নোনা মাটিতে জন্মায়।

৪. একশৃঙ্গ গন্ডার কোন বনে দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: C. জলদাপাড়া ও গোরুমারা

বিশ্লেষণ: উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গন্ডার সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিখ্যাত।

৫. কোন গাছের ছাল থেকে মশলা পাওয়া যায়?




সঠিক উত্তর: C. দারুচিনি

বিশ্লেষণ: দারুচিনি গাছের ছাল শুকিয়ে মশলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৬. কাগজ কী থেকে তৈরি হয়?




সঠিক উত্তর: C. গাছের নরম কাঠ ও বাঁশ

বিশ্লেষণ: গাছের নরম কাঠ বা বাঁশ থেকে মণ্ড তৈরি করে কাগজ বানানো হয়।

৭. মানুষ প্রথম দিকে বন কাটতে শুরু করেছিল কেন?




সঠিক উত্তর: B. চাষের জমি তৈরি করার জন্য

বিশ্লেষণ: মানুষ যখন চাষ করতে শিখল, তখন ফসলের জন্য জমির প্রয়োজন হলো এবং তারা বন কেটে চাষের জমি তৈরি করতে শুরু করল।

৮. প্রাচীনকালে রাজারা হাতি-বন রক্ষা করতেন কেন?




সঠিক উত্তর: B. সেনাবাহিনীতে যুদ্ধের কাজে লাগানোর জন্য

বিশ্লেষণ: প্রাচীন ভারতে যুদ্ধে হাতির ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই রাজারা হাতি পাওয়া যায় এমন বনগুলিকে নিজেদের দখলে রাখতেন ও রক্ষা করতেন।

৯. বন কমে যাওয়ার একটি প্রধান ফলাফল কী?




সঠিক উত্তর: B. বন্যপ্রাণীদের লোকালয়ে চলে আসা

বিশ্লেষণ: বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেলে বন্যপ্রাণীরা তাদের বাসস্থান ও খাবার হারায় এবং খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বা গ্রামে চলে আসে।

১০. রাস্তার ধারে বা কারখানার পাশে গাছ লাগানোকে কী বলা হয়?




সঠিক উত্তর: C. সমাজভিত্তিক বন

বিশ্লেষণ: সমাজের সার্বিক মঙ্গলের জন্য স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে লোকালয়ের মধ্যে যে বনসৃজন করা হয়, তাকে সমাজভিত্তিক বন বা সোশ্যাল ফরেস্ট্রি বলে।

১১. 'মাজার' কথার অর্থ কী?




সঠিক উত্তর: C. পির সাহেবের কবরস্থান

বিশ্লেষণ: মাজার হল কোনো মুসলিম সাধুসন্ত বা পিরের সমাধি, যা একটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

১২. ভারতে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?




সঠিক উত্তর: B. বন কমে যাওয়া ও চোরাশিকার

বিশ্লেষণ: বাসস্থান ধ্বংস এবং চামড়া, হাড়ের জন্য নির্বিচারে শিকার করার ফলেই বাঘের সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে।

১৩. কোন প্রাণীটি ভারত থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে?




সঠিক উত্তর: B. চিতা

বিশ্লেষণ: অতিরিক্ত শিকারের ফলে ভারত থেকে এশিয়াটিক চিতা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত বা লুপ্ত হয়ে গেছে।

১৪. গন্ডারকে কেন হত্যা করা হয়?




সঠিক উত্তর: C. তার খড়্গের জন্য

বিশ্লেষণ: গন্ডারের নাকের উপর থাকা খড়্গটির আন্তর্জাতিক কালোবাজারে 엄청 চাহিদা, তাই চোরাশিকারিরা খড়্গের জন্য গন্ডার হত্যা করে।

১৫. হাতিকে কেন মারা হয়?




সঠিক উত্তর: D. তার লম্বা দুটি দাঁতের জন্য

বিশ্লেষণ: পুরুষ হাতির লম্বা দুটি দাঁত (Tusks) আইভরি বা হাতির দাঁত হিসেবে খুব মূল্যবান, তাই চোরাশিকারিরা এই দাঁতের জন্য হাতি মারে।

১৬. বাঘের وجود সুন্দরবনের জন্য উপকারী কেন?




সঠিক উত্তর: B. বাঘের ভয়ে মানুষ বন কাটতে সাহস পায় না

বিশ্লেষণ: বাঘের উপস্থিতি সুন্দরবনের গভীরে মানুষের অবাধ প্রবেশে বাধা দেয়, যার ফলে বনভূমি এবং তার বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষিত থাকে।

১৭. কোন পাখির সুন্দর পালকের জন্য তাকে মেরে ধ্বংস করা হয়েছে?




সঠিক উত্তর: C. হুইয়া পাখি

বিশ্লেষণ: হুইয়া পাখির পালক খুব সুন্দর হওয়ায় মানুষ শখের জন্য এই পাখিকে নির্বিচারে শিকার করে বিলুপ্ত করে দিয়েছে।

১৮. রাঢ় অঞ্চলের বনে কোন গাছ বেশি দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: C. শাল

বিশ্লেষণ: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরের লালমাটির বনভূমি শাল গাছের জন্য বিখ্যাত।

১৯. বন থেকে আমরা শ্বাস নেওয়ার জন্য কী পাই?




সঠিক উত্তর: B. অক্সিজেন

বিশ্লেষণ: গাছ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ত্যাগ করে।

২০. কোন নরম কাণ্ডের গাছ থেকে আমরা ফল পাই?




সঠিক উত্তর: B. কলা ও পেঁপে

বিশ্লেষণ: কলা এবং পেঁপে গাছের কাণ্ড কাঠের মতো শক্ত হয় না, তাই এদের নরম কাণ্ডের গাছ বলা হয়।

২১. 'বিশালাক্ষীর আমবাগান' কত বছরের পুরোনো বলে মনে করা হয়?




সঠিক উত্তর: C. ৩০০-৪০০ বছর

বিশ্লেষণ: এই প্রাচীন আমবাগানটি তিন-চারশো বছরের পুরোনো বলে গল্পে উল্লেখ করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে বন রক্ষায় ঐতিহ্যের গুরুত্ব বোঝায়।

২২. বনভূমি কমে গেলে শহরে কীসের পরিমাণ বেড়ে যায়?




সঠিক উত্তর: B. ধুলো-ধোঁয়া

বিশ্লেষণ: গাছপালা বাতাসের ধুলো-ধোঁয়া ও দূষণ শোষণ করে। গাছ কমে গেলে বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়।

২৩. কোন বনটি উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত?




সঠিক উত্তর: C. বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প

বিশ্লেষণ: বক্সা অরণ্য আলিপুরদুয়ার জেলায় অবস্থিত, যা তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বনভূমি।

২৪. একটি চিরহরিৎ বা 'সবসময় সবুজ' পাতার গাছ হল—




সঠিক উত্তর: C. আম

বিশ্লেষণ: শাল, শিমুল, পলাশ ইত্যাদি পাতাঝরা গাছ, যাদের পাতা শীতকালে ঝরে যায়। কিন্তু আম গাছের পাতা সারা বছর সবুজ থাকে।

২৫. পাতা থেকে থালা-বাটি তৈরিতে কোন গাছের পাতা বহুল ব্যবহৃত হয়?




সঠিক উত্তর: C. শাল

বিশ্লেষণ: শাল গাছের বড় ও মোটা পাতা দিয়ে প্লেট, বাটি ইত্যাদি তৈরি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ কুটির শিল্প।

২৬. পশ্চিমবঙ্গের কোন বনে কুমির ও কামট দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: D. সুন্দরবনে

বিশ্লেষণ: সুন্দরবনের নোনা জলের নদী ও খাঁড়িতে লবণাক্ত জলের কুমির এবং কামট (এক প্রকার বড় গুঁইসাপ) বাস করে।

২৭. বনভূমি সংরক্ষণের জন্য ধর্মীয় স্থানের ভূমিকা কী?




সঠিক উত্তর: C. পবিত্র স্থান হওয়ায় মানুষ গাছ কাটতে ভয় পায়

বিশ্লেষণ: মন্দির, মাজার বা অন্যান্য পবিত্র স্থানের আশেপাশের বনকে মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং সেখান থেকে গাছ কাটতে দ্বিধা বোধ করে, ফলে বন রক্ষা পায়।

২৮. ভারত থেকে চিতা হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী?




সঠিক উত্তর: B. অতিরিক্ত শিকার

বিশ্লেষণ: একসময় রাজা-মহারাজারা এবং ব্রিটিশরা ব্যাপকভাবে চিতা শিকার করত, যার ফলে এই সুন্দর প্রাণীটি ভারত থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

২৯. বন্যায় কোন বন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?




সঠিক উত্তর: D. তরাই-ডুয়ার্সের বন

বিশ্লেষণ: পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা নদীগুলি বর্ষাকালে প্রচুর জল বয়ে আনে এবং তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলে প্রায়ই বন্যার সৃষ্টি করে।

৩০. বেথুয়াডহরি অভয়ারণ্য কীসের জন্য বিখ্যাত?




সঠিক উত্তর: C. হরিণ

বিশ্লেষণ: নদিয়া জেলায় অবস্থিত বেথুয়াডহরি একটি ছোট অভয়ারণ্য যা মূলত চিতল হরিণের জন্য পরিচিত।

৩১. কোন প্রাণীটিকে তার দাঁতের জন্য মারা হয়?




সঠিক উত্তর: B. হাতি

বিশ্লেষণ: পুরুষ হাতির লম্বা দুটি দাঁত, যা আইভরি নামে পরিচিত, তার জন্য চোরাশিকারিরা হাতি হত্যা করে।

৩২. বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন কেন প্রয়োজন?




সঠিক উত্তর: C. চোরাশিকার বন্ধ করতে এবং বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে

বিশ্লেষণ: বন্যপ্রাণীদের নির্বিচারে হত্যা বন্ধ করতে এবং তাদের প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর আইন থাকা প্রয়োজন।

৩৩. চাপ, চিলোনি, লালি গাছ কোন অরণ্যে দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: B. তরাই-ডুয়ার্সের বনে

বিশ্লেষণ: এই গাছগুলি উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের ঘন, আর্দ্র বনভূমির বৈশিষ্ট্য।

৩৪. গাছপালার অভাবে কোন গ্যাসের পরিমাণ বাতাসে বেড়ে যায়?




সঠিক উত্তর: C. কার্বন ডাই অক্সাইড

বিশ্লেষণ: গাছ সালোকসংশ্লেষের সময় কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। গাছ কমে গেলে বাতাসে এই গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ।

৩৫. শাল, সেগুন, পলাশ কোন অঞ্চলের বনভূমির গাছ?




সঠিক উত্তর: C. রাঢ় ও মালভূমি অঞ্চল

বিশ্লেষণ: এই গাছগুলি পাতাঝরা প্রকৃতির এবং দক্ষিণবঙ্গের শুষ্ক প্রকৃতির লালমাটির অরণ্যে এদের বেশি দেখা যায়।

৩৬. বন কেটে ফেলার ফলে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বাড়ে?




সঠিক উত্তর: B. বন্যা ও খরা

বিশ্লেষণ: গাছ মাটিকে ধরে রাখে এবং বৃষ্টিপাত হতে সাহায্য করে। গাছ কেটে ফেললে মাটির ক্ষয় বেড়ে নদী ভরাট হয়ে বন্যার প্রবণতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা হয়।

৩৭. কোন গাছটি লতানো প্রকৃতির?




সঠিক উত্তর: B. শাঁকালু

বিশ্লেষণ: শাঁকালু গাছের কাণ্ড দুর্বল হওয়ায় এটি অন্য কিছুকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে, তাই এটি একটি লতানো গাছ।

৩৮. ফার্ন কী জাতীয় উদ্ভিদ?




সঠিক উত্তর: B. ঝোপঝাড়

বিশ্লেষণ: ফার্ন হল এক ধরনের অপুষ্পক উদ্ভিদ যা সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ছায়াচ্ছন্ন জায়গায় ঝোপের আকারে জন্মায়।

৩৯. আগেকার দিনে মানুষ কিসের উপর লিখত?




সঠিক উত্তর: C. গাছের পাতা

বিশ্লেষণ: কাগজ আবিষ্কারের আগে মানুষ তালপাতা, ভূর্জপত্রের মতো গাছের পাতায় লিখত।

৪০. 'বন্যপ্রাণী সুরক্ষা' বলতে কী বোঝায়?




সঠিক উত্তর: C. বন্যপ্রাণী ও তাদের বাসস্থানকে রক্ষা করা

বিশ্লেষণ: বন্যপ্রাণী সুরক্ষার অর্থ হল চোরাশিকার বন্ধ করা এবং তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান অর্থাৎ বনভূমিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো।

৪১. কোন প্রাণীটি সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়িতে দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: C. কুমির

বিশ্লেষণ: সুন্দরবনের নোনা জলের নদীগুলি লবণাক্ত জলের কুমিরের আদর্শ বাসস্থান।

৪২. আমাদের রাজ্যে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায়—




সঠিক উত্তর: C. খুব কম

বিশ্লেষণ: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট আয়তনের ৩৩% বনভূমি থাকা প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের রাজ্যে তা নেই।

৪৩. একটি জায়গার বনভূমি রক্ষা পায় যদি সেখানে—




সঠিক উত্তর: A. একটি মন্দির বা মাজার থাকে

বিশ্লেষণ: ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মানুষ সাধারণত পবিত্র স্থানের গাছপালা কাটে না, ফলে সেই বনভূমিটি সুরক্ষিত থাকে।

৪৪. গাছের পাতা আমাদের কী কাজে লাগে?




সঠিক উত্তর: D. সবকটিই

বিশ্লেষণ: গাছের পাতা নানাভাবে আমাদের কাজে লাগে। কিছু পাতা ওষুধ, কিছু দিয়ে থালা-বাটি বানানো হয় এবং আগে লেখার কাজেও ব্যবহৃত হতো।

৪৫. আম কাঠ আসবাবপত্রের জন্য ভালো নয় কেন?




সঠিক উত্তর: B. সহজে বেঁকে যায়

বিশ্লেষণ: আম কাঠ টেকসই নয় এবং এটি শুকানোর সময় বা পরে বেঁকে যাওয়ার প্রবণতা দেখায়, তাই আসবাব তৈরির জন্য এটি উপযুক্ত নয়।

৪৬. 'ডোরাকাটা বাঘ' বলতে কোন বাঘকে বোঝানো হয়েছে?




সঠিক উত্তর: B. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার

বিশ্লেষণ: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকে, তাই একে ডোরাকাটা বাঘ বলা হয়।

৪৭. কোন প্রাণীর আক্রমণের ভয়ে মানুষ দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলে যেতে ভয় পায়?




সঠিক উত্তর: C. বাঘ

বিশ্লেষণ: দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অবাধ বিচরণ, তাই সেখানে বাঘের আক্রমণের ভয় সবচেয়ে বেশি।

৪৮. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল—




সঠিক উত্তর: B. বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা

বিশ্লেষণ: বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীরা পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এদের রক্ষা করতে পারলেই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

৪৯. ইউক্যালিপটাস গাছ কোন অঞ্চলের বনে দেখা যায়?




সঠিক উত্তর: B. রাঢ় অঞ্চলের পাতাঝরা বন

বিশ্লেষণ: যদিও এটি একটি বিদেশি গাছ, সামাজিক বনসৃজনের মাধ্যমে এটি রাঢ় ও মালভূমি অঞ্চলের বনে লাগানো হয়েছে।

৫০. বাইসন কোন বনে পাওয়া যায়?




সঠিক উত্তর: C. জলদাপাড়া ও বক্সা

বিশ্লেষণ: ভারতীয় বাইসন বা গৌর উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের ঘন অরণ্যে (যেমন জলদাপাড়া, গোরুমারা, বক্সা) দেখতে পাওয়া যায়।

৫১. 'বনে থাকে বাঘ' - এই কথাটি কার লেখায় পাওয়া যায়?




সঠিক উত্তর: B. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্লেষণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'সহজ পাঠ' বইয়ের এই লাইনটি বহুল প্রচলিত।

৫২. বন কেটে ফেলার ফলে কোন রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?




সঠিক উত্তর: B. শ্বাসকষ্টের অসুখ

বিশ্লেষণ: বন কেটে ফেললে বাতাসে ধুলো, ধোঁয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কারণ হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

প্রশ্ন ১: পশ্চিমবঙ্গের প্রধান চার ধরনের বনভূমি কী কী?

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের প্রধান চার ধরনের বনভূমি হল: (ক) উত্তরের পার্বত্য বন, (খ) তরাই-ডুয়ার্সের বন, (গ) রাঢ় ও মালভূমি অঞ্চলের পাতাঝরা বন এবং (ঘ) দক্ষিণের সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অরণ্য।

প্রশ্ন ২: বন থেকে আমরা পাই এমন চারটি জিনিসের নাম লেখো।

উত্তর: বন থেকে আমরা কাঠ, ফল, মধু এবং বিভিন্ন ঔষধি গাছপালা পাই।

প্রশ্ন ৩: বনভূমি কেন কমে যাচ্ছে?

উত্তর: চাষের জমি বাড়ানো, বাড়িঘর ও শহর তৈরি করা, রাস্তাঘাট এবং কলকারখানা নির্মাণের জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছ কেটে ফেলার কারণে বনভূমি কমে যাচ্ছে।

প্রশ্ন ৪: 'সমাজভিত্তিক বন' বা সোশ্যাল ফরেস্ট্রি কাকে বলে?

উত্তর: লোকালয়ের মধ্যে রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়ে বা পতিত জমিতে স্থানীয় মানুষের উপকারে লাগার জন্য যে বন তৈরি করা হয়, তাকে সমাজভিত্তিক বন বলে।

প্রশ্ন ৫: দুটি লুপ্তপ্রায় প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: দুটি লুপ্তপ্রায় প্রাণী হল ডোরাকাটা বাঘ এবং একশৃঙ্গ গন্ডার।

প্রশ্ন ৬: ভারত থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন একটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: ভারত থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এমন একটি প্রাণী হল চিতা।

প্রশ্ন ৭: চোরাশিকারিরা গন্ডার ও হাতি মারে কেন?

উত্তর: চোরাশিকারিরা মূলত গন্ডারের নাকের খড়্গের জন্য গন্ডার মারে এবং হাতির মূল্যবান দাঁতের (আইভরি) জন্য হাতি মারে।

প্রশ্ন ৮: সুন্দরবনের দুটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাছের নাম লেখো।

উত্তর: সুন্দরবনের দুটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গাছ হল সুন্দরী এবং গরান।

প্রশ্ন ৯: পার্বত্য অঞ্চলের দুটি প্রাণীর নাম লেখো।

উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলের দুটি প্রাণী হল লাল পাণ্ডা এবং কালো ভালুক।

প্রশ্ন ১০: বনজ সম্পদের উপর নির্ভর করে এমন দুটি শিল্পের নাম লেখো।

উত্তর: বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল দুটি শিল্প হল আসবাবপত্র শিল্প এবং কাগজ শিল্প।

প্রশ্ন ১১: বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসে কেন?

উত্তর: বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে বন্যপ্রাণীরা তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান ও খাবার হারায়, তাই খাদ্যের সন্ধানে তারা লোকালয়ে চলে আসে।

প্রশ্ন ১২: গাছ আমাদের কীভাবে বাঁচিয়ে রাখে?

উত্তর: গাছ আমাদের শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন দেয়, বৃষ্টি হতে সাহায্য করে এবং বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখে। এভাবেই গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

প্রশ্ন ১৩: ধর্মীয় স্থানগুলি কীভাবে বন রক্ষায় সাহায্য করে?

উত্তর: মন্দির, মাজার বা অন্যান্য পবিত্র স্থানের গাছপালাকে মানুষ শ্রদ্ধার চোখে দেখে এবং সাধারণত কাটে না। এভাবেই ধর্মীয় স্থানগুলি অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু বনখণ্ডকে রক্ষা করে।

প্রশ্ন ১৪: 'পাতাঝরা' বা পর্ণমোচী গাছ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সব গাছের পাতা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত শীতকালে) ঝরে যায়, তাদের পাতাঝরা বা পর্ণমোচী গাছ বলে। উদাহরণ: শাল, সেগুন।

প্রশ্ন ১৫: বাঘ কমে গেলে সুন্দরবনের কী ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর: বাঘ কমে গেলে সুন্দরবনে মানুষের অবাধ প্রবেশ বাড়বে। এর ফলে গাছ কাটা, চোরাশিকার ইত্যাদি বেড়ে গিয়ে বনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রশ্ন ১৬: আগেকার দিনে রাজারা বনভূমি রক্ষা করতেন কেন?

উত্তর: আগেকার দিনে রাজারা মূলত বন থেকে মূল্যবান কাঠ এবং যুদ্ধের জন্য হাতি সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে বনভূমি রক্ষা করতেন।

প্রশ্ন ১৭: বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য দুটি করণীয় উল্লেখ করো।

উত্তর: (ক) নির্বিচারে গাছ কাটা ও চোরাশিকার বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। (খ) বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং বন ও বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

প্রশ্ন ১৮: নরম কাণ্ডের দুটি গাছের নাম লেখো।

উত্তর: নরম কাণ্ডের দুটি গাছ হল কলা এবং পেঁপে।

প্রশ্ন ১৯: তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের দুটি প্রধান প্রাণীর নাম কী?

উত্তর: তরাই-ডুয়ার্স অঞ্চলের দুটি প্রধান প্রাণী হল হাতি এবং একশৃঙ্গ গন্ডার।

প্রশ্ন ২০: বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন কী?

উত্তর: যে আইনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী শিকার করা, ধরা বা তাদের দেহের অংশ দিয়ে ব্যবসা করাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাকে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন বলে।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমির বৈশিষ্ট্য এবং সেখানকার প্রধান উদ্ভিদ ও প্রাণীদের নাম লেখো।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের বনভূমির বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হল:
(ক) উত্তরের পার্বত্য বন: দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে এই বন দেখা যায়। এখানকার প্রধান গাছ হল পাইন, ওক, ফার, বার্চ ও রডোডেনড্রন। এখানকার প্রধান প্রাণীরা হল লাল পাণ্ডা, কালো ভালুক, চিতাবাঘ ইত্যাদি।
(খ) তরাই-ডুয়ার্সের বন: হিমালয়ের পাদদেশে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় এই ঘন অরণ্য অবস্থিত। এখানকার প্রধান গাছ শাল, সেগুন, শিশু, খয়ের, চাপ, চিলোনি। এখানকার প্রধান প্রাণীরা হল হাতি, একশৃঙ্গ গন্ডার, বাইসন, বাঘ (বক্সা) ও চিতাবাঘ।
(গ) রাঢ় ও মালভূমির পাতাঝরা বন: বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূমের লালমাটির অঞ্চলে এই বন দেখা যায়। এখানকার প্রধান গাছ শাল, পিয়াল, পলাশ, মহুয়া, কেন্দু। এখানে হাতি, শিয়াল, খরগোশ, বনবিড়াল ইত্যাদি প্রাণী দেখা যায়।
(ঘ) সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী নোনা মাটিতে এই বিশেষ বন অবস্থিত। এখানকার প্রধান গাছ সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া, হেতাল। এখানকার প্রধান প্রাণী হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতল হরিণ, বুনো শুয়োর, কুমির ইত্যাদি।

প্রশ্ন ২: বন থেকে আমরা কী কী উপকার পাই? বন আমাদের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: বন থেকে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা উপকার পাই। বন আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য।
প্রত্যক্ষ উপকার:
(ক) কাঠ: আমরা ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, জ্বালানি ইত্যাদির জন্য কাঠ পাই।
(খ) খাদ্য: বন থেকে নানা রকম ফল, মূল, মধু ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ করা হয়।
(গ) শিল্পের কাঁচামাল: কাগজ, দেশলাই, রবার, আঠা, রজন, ভেষজ ওষুধ ইত্যাদি শিল্পের কাঁচামাল বন থেকে আসে।
(ঘ) অন্যান্য: শালপাতা, কেন্দুপাতা (বিড়ির জন্য), পশুখাদ্য ইত্যাদিও আমরা বন থেকে পাই।

পরোক্ষ উপকার:
(ক) অক্সিজেন সরবরাহ: গাছপালা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং আমাদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে।
(খ) বৃষ্টিপাত ঘটানো: বনভূমি বাতাসে জলীয় বাষ্পের জোগান দিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে।
(গ) পরিবেশ দূষণ রোধ: গাছপালা বাতাস থেকে ধুলো, ধোঁয়া শোষণ করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে এবং শব্দ দূষণও কমায়।
(ঘ) মাটির ক্ষয় রোধ: গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে, ফলে মাটির ক্ষয় রোধ হয় এবং বন্যা ও ভূমিধস আটকায়।
(ঙ) বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল: বন হল লক্ষ লক্ষ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থান।

প্রশ্ন ৩: বনভূমি ধ্বংসের কারণগুলি কী কী? এর ফলে পরিবেশের উপর কী কী খারাপ প্রভাব পড়ছে?

উত্তর: বনভূমি ধ্বংসের প্রধান কারণগুলি হল:
(ক) জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বাসস্থান, চাষের জমি, স্কুল, হাসপাতাল তৈরির জন্য বন কেটে ফেলা হচ্ছে।
(খ) শিল্পায়ন ও নগরায়ন: নতুন শহর, কলকারখানা, রাস্তাঘাট, রেললাইন ইত্যাদি নির্মাণের জন্য বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে।
(গ) নির্বিচারে গাছ কাটা: কাঠ, কাগজ ও অন্যান্য বনজ সম্পদের চাহিদা মেটাতে বেআইনিভাবে প্রচুর গাছ কাটা হচ্ছে।
(ঘ) ঝুম চাষ: পাহাড়ি অঞ্চলে বন পুড়িয়ে চাষের জমি তৈরি করার ফলেও বন নষ্ট হয়।

পরিবেশের উপর খারাপ প্রভাব:
(ক) বাতাসে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটছে।
(খ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং অনিয়মিত হয়ে পড়ছে, ফলে খরা দেখা দিচ্ছে।
(গ) মাটির ক্ষয় বেড়ে যাওয়ায় নদীর গভীরতা কমে যাচ্ছে এবং বন্যার প্রকোপ বাড়ছে।
(ঘ) লক্ষ লক্ষ বন্যপ্রাণী তাদের বাসস্থান হারিয়ে ফেলছে এবং অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
(ঙ) বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মাত্রা বাড়ছে।

প্রশ্ন ৪: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কী? ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: পরিবেশের বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত ضروری। প্রতিটি প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের উপর তার খারাপ প্রভাব পড়ে। যেমন—বাঘ বিলুপ্ত হলে হরিণের সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গিয়ে বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাবে। বন্যপ্রাণীরা পরাগমিলন ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে বনভূমিকে টিকিয়ে রাখে।

ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্যবস্থা:
(ক) আইন প্রণয়ন: ১৯৭২ সালে 'বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন' চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো বন্যপ্রাণী শিকার করা বা ধরা এবং তাদের দেহের অংশ নিয়ে ব্যবসা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
(খ) সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা: বন্যপ্রাণীদের তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে সুরক্ষিত রাখার জন্য বিভিন্ন বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান (National Park) এবং অভয়ারণ্য (Sanctuary) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন—সুন্দরবন, জলদাপাড়া, গোরুমারা।
(গ) প্রকল্প গ্রহণ: বাঘ, হাতি, গন্ডার, কুমিরের মতো বিপন্ন প্রাণীদের সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রকল্প (যেমন—প্রোজেক্ট টাইগার, প্রোজেক্ট এলিফ্যান্ট) গ্রহণ করা হয়েছে।
(ঘ) সচেতনতা বৃদ্ধি: বনমহোৎসব, বন্যপ্রাণী সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন ৫: 'সমাজভিত্তিক বনসৃজন' বা সোশ্যাল ফরেস্ট্রি বলতে কী বোঝো? এর উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: 'সমাজভিত্তিক বনসৃজন' হল একটি পদ্ধতি যেখানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রামের পতিত জমি, রাস্তার ধার, রেললাইনের পাশ, খালের পাড় ইত্যাদি অব্যবহৃত জায়গায় গাছ লাগানো হয় এবং তার পরিচর্যা করা হয়।

উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব:
(ক) পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা: লোকালয়ের মধ্যে সবুজের পরিমাণ বাড়িয়ে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং স্থানীয় আবহাওয়াকে মনোরম রাখা।
(খ) গ্রামীণ চাহিদা পূরণ: গ্রামের মানুষের জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য, ফল এবং ছোটখাটো কাঠের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ করা, যাতে তারা মূল বনের উপর চাপ কমাতে পারে।
(গ) কর্মসংস্থান সৃষ্টি: গাছ লাগানো, তার পরিচর্যা এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে গ্রামীণ স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
(ঘ) মাটির ক্ষয় রোধ: পতিত জমিতে গাছ লাগানোর ফলে মাটির ক্ষয় রোধ হয় এবং জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
(ঙ) সচেতনতা বৃদ্ধি: এই কর্মসূচিতে সরাসরি যুক্ত থাকার ফলে মানুষের মধ্যে গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ে।