অধ্যায় ৫: মেঘ-বৃষ্টি (Class VIII Geography Solutions)

Aakash
Aakash

WBBSE-র অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের পঞ্চম অধ্যায় 'মেঘ-বৃষ্টি'-র সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)

  1. আকাশে ভেসে থাকা ধূলিকণাকে আশ্রয় করে থাকা জলকণার সমষ্টিকে কী বলে?

    • (ক) মেঘ
    • (খ) কুয়াশা
    • (গ) শিশির
    • (ঘ) বৃষ্টি
  2. কোন মেঘ দেখতে হালকা পালকের মতো?

    • (ক) সিরাস
    • (খ) স্ট্র্যাটাস
    • (গ) কিউমুলাস
    • (ঘ) নিম্বাস
  3. পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে কোন মেঘ?

    • (ক) সিরাস
    • (খ) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
    • (গ) কিউমুলোনিম্বাস
    • (ঘ) অল্টোস্ট্র্যাটাস
  4. ম্যাকারেল মাছের পিঠের মতো দেখতে মেঘ কোনটি?

    • (ক) সিরাস
    • (খ) সিরোকিউমুলাস
    • (গ) অল্টোকিউমুলাস
    • (ঘ) স্ট্র্যাটোকিউমুলাস
  5. কোন মেঘ আকাশে থাকলে চাঁদ ও সূর্যের চারপাশে বলয় দেখা যায়?

    • (ক) সিরাস
    • (খ) সিরোস্ট্র্যাটাস
    • (গ) স্ট্র্যাটাস
    • (ঘ) কিউমুলাস
  6. একটানা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয় কোন মেঘ?

    • (ক) অল্টোস্ট্র্যাটাস
    • (খ) সিরাস
    • (গ) কিউমুলাস
    • (ঘ) সিরোকিউমুলাস
  7. কোন মেঘ থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হয়?

    • (ক) স্ট্র্যাটাস
    • (খ) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
    • (গ) কিউমুলাস
    • (ঘ) সিরাস
  8. বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় কোন মেঘ?

    • (ক) কিউমুলাস
    • (খ) কিউমুলোনিম্বাস
    • (গ) সিরাস
    • (ঘ) স্ট্র্যাটাস
  9. কোন মেঘকে 'বজ্রমেঘ' (Thunder Cloud) বলা হয়?

    • (ক) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
    • (খ) কিউমুলোনিম্বাস
    • (গ) অল্টোস্ট্র্যাটাস
    • (ঘ) সিরাস
  10. শিলাবৃষ্টি হয় কোন মেঘ থেকে?

    • (ক) কিউমুলোনিম্বাস
    • (খ) স্ট্র্যাটাস
    • (গ) সিরাস
    • (ঘ) নিম্বোস্ট্র্যাটাস
  11. ফুলকপির মতো দেখতে মেঘ কোনটি?

    • (ক) সিরাস
    • (খ) স্ট্র্যাটাস
    • (গ) কিউমুলাস
    • (ঘ) নিম্বাস
  12. জলীয়বাষ্পের জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

    • (ক) বাষ্পীভবন
    • (খ) ঘনীভবন
    • (গ) অধঃক্ষেপণ
    • (ঘ) সম্পৃক্তি
  13. যে তাপমাত্রায় বায়ু সম্পৃক্ত হয়, তাকে বলে-

    • (ক) শিশিরাঙ্ক
    • (খ) হিমাঙ্ক
    • (গ) স্ফুটনাঙ্ক
    • (ঘ) গলনাঙ্ক
  14. বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসাকে কী বলে?

    • (ক) বাষ্পীভবন
    • (খ) ঘনীভবন
    • (গ) অধঃক্ষেপণ
    • (ঘ) বর্ষণ
  15. নিরক্ষীয় অঞ্চলে বিকেলের দিকে কোন বৃষ্টিপাত হয়?

    • (ক) পরিচলন বৃষ্টি
    • (খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
    • (গ) ঘূর্ণবৃষ্টি
    • (ঘ) মৌসুমী বৃষ্টি
  16. পর্বতের প্রতিবাত ঢালে কোন বৃষ্টিপাত হয়?

    • (ক) পরিচলন
    • (খ) শৈলোৎক্ষেপ
    • (গ) ঘূর্ণ
    • (ঘ) সীমান্ত
  17. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল দেখা যায় পর্বতের কোন ঢালে?

    • (ক) প্রতিবাত ঢালে
    • (খ) অনুবাত ঢালে
    • (গ) শীর্ষদেশে
    • (ঘ) পাদদেশে
  18. ঘূর্ণবাতের ফলে যে বৃষ্টি হয়, তাকে বলে-

    • (ক) পরিচলন বৃষ্টি
    • (খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
    • (গ) ঘূর্ণবৃষ্টি
    • (ঘ) শিলাবৃষ্টি
  19. শরৎকালে পশ্চিমবঙ্গে যে ঝড়বৃষ্টি হয়, তা হল-

    • (ক) পরিচলন বৃষ্টি
    • (খ) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
    • (গ) ঘূর্ণবৃষ্টি (আশ্বিনের ঝড়)
    • (ঘ) কালবৈশাখী
  20. বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?

    • (ক) ব্যারোমিটার
    • (খ) রেনগজ
    • (গ) হাইগ্রোমিটার
    • (ঘ) থার্মোমিটার
  21. মানচিত্রে সমান বৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলিকে যে রেখা দিয়ে যোগ করা হয়, তাকে বলে-

    • (ক) সমোষ্ণরেখা
    • (খ) সমবর্ষণরেখা
    • (গ) সমচাপরেখা
    • (ঘ) আইসোহেলাইন
  22. পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এ কোন বৃষ্টিপাত বেশি হয়?

    • (ক) পরিচলন
    • (খ) শৈলোৎক্ষেপ
    • (গ) ঘূর্ণ
    • (ঘ) সীমান্ত
  23. শীতের রাতে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন জলীয়বাষ্প জমে তৈরি হয়-

    • (ক) শিশির
    • (খ) কুয়াশা
    • (গ) তুහিন
    • (ঘ) তুষার
  24. ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি ভাসমান জলকণাকে কী বলে?

    • (ক) মেঘ
    • (খ) কুয়াশা
    • (গ) শিশির
    • (ঘ) ধোঁয়াশা
  25. জলকণা ও তুষারকণার মিশ্রিত রূপ হল-

    • (ক) স্লিট
    • (খ) শিলা
    • (গ) তুහিন
    • (ঘ) বরফ
  26. কোন মেঘকে 'Bumpy Cloud' বলা হয়?

    • (ক) স্ট্র্যাটাস
    • (খ) স্ট্র্যাটোকিউমুলাস
    • (গ) অল্টোকিউমুলাস
    • (ঘ) কিউমুলাস
  27. বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হলে বায়ু কী অবস্থায় থাকে?

    • (ক) সম্পৃক্ত
    • (খ) অসম্পৃক্ত
    • (গ) অতিপৃক্ত
    • (ঘ) শুষ্ক
  28. মেঘালয়ের শিলং একটি-

    • (ক) অতিবৃষ্টি অঞ্চল
    • (খ) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল
    • (গ) মরু অঞ্চল
    • (ঘ) শৈলশিরা
  29. 'শৈল' কথার অর্থ কী?

    • (ক) পর্বত
    • (খ) ওপরে ওঠা
    • (গ) বৃষ্টি
    • (ঘ) মেঘ
  30. ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে শান্ত আবহাওয়ার অংশটিকে কী বলে?

    • (ক) চোখ
    • (খ) প্রাচীর
    • (গ) কেন্দ্র
    • (ঘ) বলয়

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)

  1. মেঘ কাকে বলে?

    উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম জলকণা বা তুষারকণার সমষ্টিকে মেঘ বলে।

  2. বাষ্পীভবন কী?

    উত্তর: সূর্যের তাপে জল তরল অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় বা জলীয়বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে।

  3. ঘনীভবন কী?

    উত্তর: জলীয়বাষ্প শীতল হয়ে পুনরায় জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।

  4. সম্পৃক্ত বায়ু কাকে বলে?

    উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু সর্বাধিক যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে, সেই পরিমাণ জলীয়বাষ্প বায়ুতে থাকলে তাকে সম্পৃক্ত বায়ু বলে।

  5. শিশিরাঙ্ক কাকে বলে?

    উত্তর: যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো বায়ু জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়, সেই তাপমাত্রাকে ওই বায়ুর শিশিরাঙ্ক বলে।

  6. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কী?

    উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প আছে এবং ওই উষ্ণতায় ওই বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্পের প্রয়োজন, এই দুইয়ের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।

  7. অধঃক্ষেপণ কাকে বলে?

    উত্তর: পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে বায়ুমণ্ডল থেকে জলকণা বা বরফকণা (তরল বা কঠিন অবস্থায়) ভূপৃষ্ঠে নেমে আসাকে অধঃক্ষেপণ বলে।

  8. বৃষ্টিপাত কাকে বলে?

    উত্তর: মেঘের জলকণাগুলি মিলিত হয়ে বড়ো ও ভারী হয়ে যখন পৃথিবীর অভিকর্ষের টানে তরল আকারে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে, তখন তাকে বৃষ্টিপাত বলে।

  9. বৃষ্টিপাতের প্রধান قسمগুলি কী কী?

    উত্তর: বৃষ্টিপাত প্রধানত তিন প্রকার - পরিচলন বৃষ্টি, শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি এবং ঘূর্ণবৃষ্টি।

  10. পরিচলন বৃষ্টিপাত কোথায় দেখা যায়?

    উত্তর: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর এবং ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে গ্রীষ্মকালে পরিচলন বৃষ্টিপাত দেখা যায়।

  11. প্রতিবাত ঢাল কাকে বলে?

    উত্তর: শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাতের সময় পর্বতের যে ঢাল বরাবর জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু ওপরে ওঠে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়, সেই ঢালকে প্রতিবাত ঢাল বলে।

  12. অনুবাত ঢাল কাকে বলে?

    উত্তর: পর্বতের যে ঢাল বরাবর শুষ্ক বায়ু নীচে নামে এবং বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না, সেই ঢালকে অনুবাত ঢাল বলে।

  13. বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কাকে বলে?

    উত্তর: পর্বতের অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত খুব কম হয় বলে এই অঞ্চলকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল বলা হয়।

  14. একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলের উদাহরণ দাও।

    উত্তর: পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পূর্ব ঢালে অবস্থিত দাক্ষিণাত্য মালভূমির কিছু অংশ (যেমন- পুণে) এবং মেঘালয়ের শিলং একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল।

  15. ঘূর্ণবৃষ্টি কাকে বলে?

    উত্তর: ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের দিকে ছুটে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ওপরে উঠে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে ঘূর্ণবৃষ্টি বলে।

  16. শিশির ও কুয়াশার মধ্যে পার্থক্য কী?

    উত্তর: শিশির হলো ঘনীভূত জলবিন্দু যা ভূপৃষ্ঠের কোনো বস্তুর ওপর জমা হয়। আর কুয়াশা হলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ঘনীভূত জলকণা।

  17. শিলাবৃষ্টি কী?

    উত্তর: ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর প্রভাবে জলকণাগুলি জমে বরফের টুকরোতে পরিণত হয়ে বৃষ্টির সাথে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে শিলাবৃষ্টি বলে।

  18. তুষারপাত কী?

    উত্তর: উচ্চ পার্বত্য বা শীতপ্রধান অঞ্চলে জলীয়বাষ্প হিমাঙ্কের নীচে ঘনীভূত হয়ে সরাসরি বরফ কণায় পরিণত হয়ে ঝরে পড়লে তাকে তুষারপাত বলে।

  19. ম্যাকারেল আকাশ কী?

    উত্তর: সিরোকিউমুলাস মেঘে আকাশ ছেয়ে গেলে তা দেখতে ম্যাকারেল মাছের পিঠের মতো লাগে, একে ম্যাকারেল আকাশ বলে।

  20. কোন মেঘ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়?

    উত্তর: স্ট্র্যাটাস মেঘ থেকে অনেক সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।

রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী

  1. মেঘ কীভাবে সৃষ্টি হয়? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

    মেঘ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

    1. বাষ্পীভবন: সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী, হ্রদ ইত্যাদি জলাশয় থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে এবং উদ্ভিদের প্রস্বেদনের মাধ্যমে জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে মেশে।
    2. বায়ুর ঊর্ধ্বগমন: জলীয়বাষ্পযুক্ত এই আর্দ্র ও উষ্ণ বায়ু সাধারণ বায়ুর চেয়ে হালকা হওয়ায় ওপরের দিকে উঠে যায়।
    3. শীতলীকরণ ও সম্পৃক্তি: ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই বায়ু প্রসারিত ও শীতল হতে থাকে। শীতল হতে হতে একসময় বায়ুটি তার শিশিরাঙ্কে পৌঁছায় এবং জলীয়বাষ্প দ্বারা সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।
    4. ঘনীভবন: সম্পৃক্ত বায়ু আরও শীতল হলে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয়।
    5. মেঘ গঠন: এই ক্ষুদ্র জলকণাগুলি বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণা, লবণকণা ইত্যাদিকে আশ্রয় করে একত্রিত হয়ে মেঘ গঠন করে এবং আকাশে ভেসে বেড়ায়।
  2. উচ্চতা অনুসারে মেঘের শ্রেণিবিভাগ করে প্রত্যেকটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

    উচ্চতা অনুসারে মেঘকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

    ১. বেশি উচ্চতার মেঘ (গড় উচ্চতা ২০,০০০ ফুটের বেশি):

    • সিরাস: পালকের মতো সাদা, স্বচ্ছ মেঘ। পরিষ্কার আবহাওয়া নির্দেশ করে।
    • সিরোস্ট্র্যাটাস: পাতলা সাদা চাদরের মতো মেঘ, যা চাঁদ বা সূর্যের চারপাশে বলয় সৃষ্টি করে।
    • সিরোকিউমুলাস: পেঁজা তুলোর মতো খণ্ড খণ্ড মেঘ, যা 'ম্যাকারেল আকাশ' তৈরি করে।

    ২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ (গড় উচ্চতা ৬,৫০০ - ২০,০০০ ফুট):

    • অল্টোস্ট্র্যাটাস: ধূসর বা নীলচে রঙের তন্তুর মতো মেঘ, যা একটানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।
    • অল্টোকিউমুলাস: চ্যাপ্টা গোলাকার সাদা বা ধূসর মেঘ, যা আকাশে ঢেউ-এর মতো ভেসে থাকে।

    ৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ (গড় উচ্চতা ৬,৫০০ ফুটের কম):

    • স্ট্র্যাটোকিউমুলাস: স্তরে স্তরে সাজানো স্তূপের মতো মেঘ।
    • স্ট্র্যাটাস: কুয়াশার মতো ধূসর চাদরের মেঘ, যা থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়।
    • নিম্বোস্ট্র্যাটাস: ঘন, কালো রঙের মেঘ, যা থেকে একটানা বৃষ্টিপাত হয়।

    এছাড়া, কিউমুলাস (ফুলকপির মতো) ও কিউমুলোনিম্বাস (বিশাল গম্বুজের মতো বজ্রমেঘ) উল্লম্বভাবে বিস্তৃত থাকে।

  3. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত কীভাবে হয়? চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো এবং বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টির কারণ লেখো।

    শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: সমুদ্র থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু প্রবাহপথে আড়াআড়িভাবে কোনো উঁচু পর্বত বা মালভূমিতে বাধা পেলে পর্বতের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে বাধ্য হয়। এই ঊর্ধ্বগামী বায়ু ক্রমশ প্রসারিত, শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward Slope) যে বৃষ্টিপাত ঘটায়, তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত বলে।

    বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টির কারণ:

    1. পর্বতের প্রতিবাত ঢালে বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর বায়ু যখন অনুবাত ঢালে (Leeward Slope) পৌঁছায়, তখন তাতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অনেক কমে যায়।
    2. অনুবাত ঢাল বেয়ে বায়ু নীচের দিকে নামার সময় উষ্ণ ও সংকুচিত হয়। ফলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা আরও বেড়ে যায়, এবং বায়ু অসম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।

    এই দুই কারণে অনুবাত ঢালে বৃষ্টিপাত প্রায় হয়ই না। তাই পর্বতের অনুবাত ঢাল 'বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল' (Rainshadow Region) নামে পরিচিত। যেমন - পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল।

  4. পরিচলন বৃষ্টি ও ঘূর্ণবৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য লেখো।

    বিষয়পরিচলন বৃষ্টিঘূর্ণবৃষ্টি
    কারণভূপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে বায়ুর উল্লম্ব পরিচলন স্রোতের ফলে সৃষ্টি হয়।নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ুর অনুভূমিক অভিসরণের ফলে সৃষ্টি হয়।
    এলাকাসাধারণত অল্প বা সীমিত অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সংঘটিত হয়।
    সময়সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে হয়।দিনের যেকোনো সময়ে হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
    বজ্রপাতবজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে বজ্রপাত হলেও নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়।
    উদাহরণনিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর দেখা যায়।ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে দেখা যায় (যেমন- আশ্বিনের ঝড়)।
  5. অধঃক্ষেপণের বিভিন্ন রূপগুলি কী কী? সংক্ষেপে আলোচনা করো।

    অধঃক্ষেপণের বিভিন্ন রূপগুলি হলো:

    • বৃষ্টিপাত: মেঘ থেকে জলকণা তরল অবস্থায় ভূপৃষ্ঠে পড়লে তাকে বৃষ্টিপাত বলে।
    • গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি (Drizzle): খুব সূক্ষ্ম জলকণা (০.৫ মিমি-এর কম ব্যাস) ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়লে তাকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বলে।
    • তুষারপাত (Snowfall): শীতপ্রধান বা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে জলীয়বাষ্প হিমাঙ্কের নীচে সরাসরি বরফ কণায় পরিণত হয়ে ঝরে পড়লে তাকে তুষারপাত বলে।
    • স্লিট (Sleet): বৃষ্টি ও তুষারের মিশ্রিত রূপ, যেখানে বৃষ্টির ফোঁটা parcialmente জমে বরফ হয়ে ঝরে পড়ে।
    • শিলাবৃষ্টি (Hailstorm): কিউমুলোনিম্বাস মেঘের মধ্যে জলকণা বারবার ওপরে-নীচে ওঠানামা করে বরফের বড়ো টুকরোতে পরিণত হয়ে ঝরে পড়লে তাকে শিলাবৃষ্টি বলে।

    শিশির ও কুয়াশা ঘনীভবনের রূপ হলেও এগুলি ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে না, তাই এগুলিকে অধঃক্ষেপণ বলা হয় না।