অধ্যায় ৩: শিলা (Class VIII Geography Solutions)
WBBSE-র অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় 'শিলা'-র সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে আলোচনা করা হলো।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
পৃথিবীতে প্রথম সৃষ্ট শিলা কোনটি?
প্রাথমিক শিলা বলা হয় কোন শিলাকে?
গ্রানাইট কোন প্রকার শিলার উদাহরণ?
ব্যাসল্ট কোন শ্রেণীর শিলা?
ভূ-অভ্যন্তরে ম্যাগমা জমে যে শিলা তৈরি হয়, তাকে বলে-
কোন শিলাতে কেলাস দেখা যায়?
কোন শিলাতে জীবাশ্ম দেখা যায়?
স্তরায়ন বা স্তর দেখা যায় কোন শিলায়?
কয়লা, খনিজ তেল পাওয়া যায় কোন শিলায়?
চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
গ্রানাইট শিলার রূপান্তরিত রূপ কোনটি?
শেল বা কাদাপাথর রূপান্তরিত হয়ে কীসে পরিণত হয়?
কয়লার রূপান্তরিত রূপ কোনটি?
ব্যাসল্ট শিলার রূপান্তরিত রূপ কী?
আগ্রার তাজমহল কোন শিলায় নির্মিত?
দিল্লির লালকেল্লা কোন শিলায় নির্মিত?
কোন শিলার সছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা বেশি?
পাতালিক শিলার একটি উদাহরণ হলো-
উপপাতালিক শিলার একটি উদাহরণ হলো-
ভূত্বকের মহাদেশীয় অংশ মূলত কোন শিলায় গঠিত?
ভূত্বকের মহাসাগরীয় অংশ মূলত কোন শিলায় গঠিত?
কোন শিলা সবচেয়ে কঠিন ও ভারী?
কোন শিলা সবচেয়ে নরম ও ভঙ্গুর?
শিলাচক্রের ধারণা অনুযায়ী সব শিলার উৎস কী?
গ্রানাইট শিলায় গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ কেমন হয়?
ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত অঞ্চলের ভূমিরূপ কেমন হয়?
চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে সৃষ্ট ভূমিরূপকে কী বলে?
গুহার ছাদ থেকে ঝুলতে থাকা চুনাপাথরের দণ্ডকে বলে-
গুহার মেঝে থেকে ওপরের দিকে ওঠা চুনাপাথরের দণ্ডকে বলে-
কোন খনিজের উপস্থিতিতে গ্রানাইট শিলা চিকচিক করে?
পেনসিলের সিস কী দিয়ে তৈরি?
ভারতের খনিজ ভান্ডার বলা হয় কোন অঞ্চলকে?
শিলাচূর্ণ ও জৈবপদার্থের মিশ্রণে কী তৈরি হয়?
ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাচূর্ণকে কী বলে?
ব্যাসল্ট শিলা থেকে কোন মাটি সৃষ্টি হয়?
খনিজের কাঠিন্য মাপার স্কেল কোনটি?
মোহ স্কেলে সবচেয়ে কঠিন খনিজ কোনটি?
মোহ স্কেলে সবচেয়ে নরম খনিজ কোনটি?
সংঘাত শিলার উদাহরণ হল-
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শিলা কাকে বলে?
উত্তর: এক বা একাধিক খনিজের সমসত্ত্ব বা অসমসত্ত্ব মিশ্রণকে শিলা বলে, যা দিয়ে পৃথিবীর শক্ত আবরণ বা ভূ-ত্বক গঠিত।
খনিজ কাকে বলে?
উত্তর: এক বা একাধিক অজৈব মৌলিক পদার্থের যৌগ যা দিয়ে শিলা গঠিত হয়, তাকে খনিজ বলে।
সৃষ্টি অনুসারে শিলা কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর: সৃষ্টি অনুসারে শিলা তিন প্রকার - (১) আগ্নেয় শিলা, (২) পাললিক শিলা ও (৩) রূপান্তরিত শিলা।
আগ্নেয় শিলা কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-গর্ভের উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বা ভূ-অভ্যন্তরে শীতল ও কঠিন হয়ে জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
পাললিক শিলা কাকে বলে?
উত্তর: প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ কোনো সমুদ্র বা হ্রদের তলদেশে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে ও জমাট বেঁধে যে শিলার সৃষ্টি করে, তাকে পাললিক শিলা বলে।
রূপান্তরিত শিলা কাকে বলে?
উত্তর: আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, তাপ ও রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোনো ধর্ম হারিয়ে নতুন ধর্ম বিশিষ্ট শিলায় পরিণত হলে তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
উদ্বেধী ও নিঃসারী আগ্নেয় শিলার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরে জমে উদ্বেধী শিলা (যেমন-গ্রানাইট) এবং ভূপৃষ্ঠে লাভারূপে বেরিয়ে এসে জমে নিঃসারী শিলা (যেমন-ব্যাসল্ট) তৈরি করে।
পাতালিক শিলা কাকে বলে?
উত্তর: ম্যাগমা ভূ-অভ্যন্তরের অনেক নীচে অতি ধীরে ধীরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে উদ্বেধী শিলার সৃষ্টি করে, তাকে পাতালিক শিলা বলে। যেমন - গ্রানাইট।
কেলাস কী?
উত্তর: বিভিন্ন খনিজের নির্দিষ্ট জ্যামিতিক আকারযুক্ত, স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দানাকে কেলাস বলে।
জীবাশ্ম বা ফসিল কাকে বলে?
উত্তর: পাললিক শিলা সৃষ্টির সময় স্তরের মধ্যে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষের ছাপ বা প্রস্তরীভূত অবস্থাকে জীবাশ্ম বলে।
স্তরায়ন তল কী?
উত্তর: পাললিক শিলার একটি স্তর আরেকটি স্তরের থেকে যে তলের মাধ্যমে পৃথক থাকে, তাকে স্তরায়ন তল বলে।
শিলাচক্র কাকে বলে?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় প্রকৃতিতে তিন প্রকার শিলা (আগ্নেয়, পাললিক, রূপান্তরিত) চক্রাকারে একটি থেকে অন্যটিতে রূপান্তরিত হয়, তাকে শিলাচক্র বলে।
দুটি আগ্নেয় শিলার নাম লেখো।
উত্তর: গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট।
দুটি পাললিক শিলার নাম লেখো।
উত্তর: বেলেপাথর ও চুনাপাথর।
দুটি রূপান্তরিত শিলার নাম লেখো।
উত্তর: মার্বেল ও স্লেট।
রেগোলিথ কী?
উত্তর: আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট মূল শিলার ওপরের শিথিল শিলাচূর্ণের স্তরকে রেগোলিথ বলে, যা থেকে মাটি তৈরি হয়।
সছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতার মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সছিদ্রতা হলো শিলার মধ্যে জলধারণ ক্ষমতা, আর প্রবেশ্যতা হলো শিলার মধ্যে দিয়ে জল চলাচল করার ক্ষমতা।
গ্রানাইট শিলার প্রধান খনিজগুলি কী কী?
উত্তর: গ্রানাইট শিলার প্রধান খনিজগুলি হলো কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, মাইকা (অভ্র) ও হর্নব্লেন্ড।
ব্যাসল্ট শিলার প্রধান খনিজগুলি কী কী?
উত্তর: ব্যাসল্ট শিলার প্রধান খনিজগুলি হলো কোয়ার্টজ, ফেল্ডসপার, অলিভিন ও পাইরক্সিন।
কংগ্লোমারেট কী ধরনের শিলা?
উত্তর: কংগ্লোমারেট একটি প্রস্তরময় বা সংঘাত পাললিক শিলা।
স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলের গুহার মধ্যে স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইট দেখা যায়।
আঞ্চলিক ও স্পর্শ রূপান্তরের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: প্রচণ্ড চাপের ফলে বিশাল অঞ্চল জুড়ে শিলার রূপান্তরকে আঞ্চলিক রূপান্তর (যেমন-স্লেট) এবং উত্তপ্ত ম্যাগমার সংস্পর্শে এসে শিলার রূপান্তরকে স্পর্শ রূপান্তর (যেমন-মার্বেল) বলে।
জিপসামের দুটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: জিপসাম সিমেন্ট শিল্পে ও সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
অভ্রর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম লেখো।
উত্তর: অভ্র তাপ ও বিদ্যুতের কুপরিবাহী।
কোন শিলা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ড ও বাড়ির টালি তৈরি হয়?
উত্তর: স্লেট শিলা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ড ও বাড়ির টালি তৈরি হয়।
কোন শিলা ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ায় নির্মাণকার্যের জন্য উপযুক্ত?
উত্তর: গ্রানাইটের মতো আগ্নেয় শিলা ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ায় নির্মাণকার্যের জন্য উপযুক্ত।
পাললিক শিলার দুটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: (১) এই শিলায় কয়লা, খনিজ তেলের মতো মূল্যবান জ্বালানি পাওয়া যায়। (২) সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল চুনাপাথর এই শিলায় পাওয়া যায়।
কেন আগ্নেয় শিলায় জীবাশ্ম থাকে না?
উত্তর: অত্যন্ত উত্তপ্ত গলিত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয় বলে আগ্নেয় শিলায় কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর দেহাবশেষ থাকতে পারে না।
কেন রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায় না?
উত্তর: প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে রূপান্তরের সময় পাললিক শিলার মধ্যে থাকা জীবাশ্মগুলি নষ্ট হয়ে যায়।
দাক্ষিণাত্য মালভূমির ডেকানট্র্যাপ অঞ্চল কোন শিলায় গঠিত?
উত্তর: দাক্ষিণাত্য মালভূমির ডেকানট্র্যাপ অঞ্চল ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
উৎপত্তি অনুসারে শিলার শ্রেণিবিভাগ করো এবং প্রত্যেক ভাগের দুটি করে বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও।
উৎপত্তি অনুসারে শিলা প্রধানত তিন প্রকার:
১. আগ্নেয় শিলা: ভূ-গর্ভের উত্তপ্ত, তরল ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বা ভূ-অভ্যন্তরে শীতল ও কঠিন হয়ে যে শিলা তৈরি করে, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে।
- বৈশিষ্ট্য: (i) এই শিলা খুব কঠিন, ভারী ও ক্ষয়-প্রতিরোধী। (ii) এতে কেলাস দেখা যায় কিন্তু কোনো স্তর বা জীবাশ্ম থাকে না।
- উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
২. পাললিক শিলা: নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ কোনো জলাশয়ের নীচে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে ও জমাট বেঁধে পাললিক শিলা তৈরি করে।
- বৈশিষ্ট্য: (i) এই শিলায় স্তর ও জীবাশ্ম দেখা যায়। (ii) এটি তুলনামূলকভাবে নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়।
- উদাহরণ: বেলেপাথর, চুনাপাথর।
৩. রূপান্তরিত শিলা: আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, তাপ বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তার পুরোনো ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম হারিয়ে নতুন শিলায় পরিণত হয়, তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- বৈশিষ্ট্য: (i) এই শিলা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন, মসৃণ ও চকচকে হয়। (ii) অনেক সময় এতে কেলাস দেখা যায় কিন্তু জীবাশ্ম দেখা যায় না।
- উদাহরণ: মার্বেল (চুনাপাথর থেকে), স্লেট (শেল থেকে)।
-
চিত্রের সাহায্যে শিলাচক্র ব্যাখ্যা করো।
শিলাচক্র: প্রকৃতিতে তিন প্রকার শিলার উৎপত্তি এবং একটি শিলা থেকে অন্য শিলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলেছে। এই চক্রাকার আবর্তনকে শিলাচক্র বলে।
প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- ভূ-গর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা শীতল ও কঠিন হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- আগ্নেয় শিলা প্রাকৃতিক শক্তিতে ক্ষয় ও পরিবাহিত হয়ে জলাশয়ের তলদেশে জমাট বেঁধে পাললিক শিলায় পরিণত হয়।
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা উভয়ই প্রচণ্ড তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে রূপান্তরিত শিলার সৃষ্টি করে।
- এই তিন প্রকার শিলা ভূ-আলোড়নের ফলে ভূ-গর্ভে প্রবেশ করলে আবার গলে গিয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয়, যা থেকে পুনরায় আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি হয়।
- এছাড়াও রূপান্তরিত ও আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরাসরি পাললিক শিলায় এবং পাললিক শিলা ভূ-গর্ভে প্রবেশ করে না গলে রূপান্তরিত শিলায় পরিণত হতে পারে।
এইভাবে শিলার রূপান্তর চক্রাকারে চলতে থাকে।
আগ্নেয় ও পাললিক শিলার মধ্যে পার্থক্য লেখো।
বিষয় আগ্নেয় শিলা পাললিক শিলা সৃষ্টি উত্তপ্ত ম্যাগমা বা লাভা শীতল ও কঠিন হয়ে সৃষ্টি হয়। পলি স্তরে স্তরে সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে সৃষ্টি হয়। গঠন কেলাসযুক্ত, অ-স্তরীভূত। স্তরীভূত, অ-কেলাসিত। জীবাশ্ম থাকে না। থাকতে পারে। কঠিনতা অত্যন্ত কঠিন ও ভারী। তুলনামূলকভাবে নরম ও হালকা। প্রবেশ্যতা সাধারণত অপ্রবেশ্য (ফাটল ছাড়া)। প্রবেশ্য ও সছিদ্র। উদাহরণ গ্রানাইট, ব্যাসল্ট। বেলেপাথর, চুনাপাথর। ভূমিরূপের ওপর শিলার প্রভাব উদাহরণসহ আলোচনা করো।
কোনো অঞ্চলের ভূমিরূপ কেমন হবে তা অনেকাংশে সেই অঞ্চলের শিলার প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে।
- গ্রানাইট শিলা: এই শিলা খুব কঠিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী। তাই গ্রানাইট গঠিত অঞ্চলে রাসায়নিক আবহবিকারের ফলে গম্বুজ বা গোলাকার মাথাযুক্ত টিলা বা পাহাড় (মোনাডনক) দেখা যায়। যেমন - ছোটনাগপুর মালভূমির বিভিন্ন অংশ।
- ব্যাসল্ট শিলা: লাভা স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে এই শিলা গঠিত হয়। এই শিলায় গঠিত মালভূমির উপরিভাগ চ্যাপ্টা ও পাশগুলি সিঁড়ির ধাপের মতো হয়, যাকে ডেকানট্র্যাপ বলে। যেমন - দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
- চুনাপাথর: এই শিলা জলে সহজেই দ্রবীভূত হয়। তাই চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে বৃষ্টির জলের প্রভাবে ভূমির ওপর ও নীচে বিভিন্ন গর্ত, গুহা, স্ট্যালাকটাইট ও স্ট্যালাগমাইটের মতো ভূমিরূপ (কার্স্ট ভূমিরূপ) সৃষ্টি হয়। যেমন - চেরাপুঞ্জীর গুহা।
- বেলেপাথর: নরম ও কঠিন বেলেপাথর পাশাপাশি অবস্থান করলে ক্ষয়কাজের ভিন্নতার জন্য খাড়া ঢালযুক্ত টেবিলের মতো ভূমিরূপ বা মেসা ও বিউট গঠিত হয়।
আমাদের জীবনে শিলার তিনটি ব্যবহারিক গুরুত্ব লেখো।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে শিলার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধান তিনটি ব্যবহার নিচে দেওয়া হলো:
- নির্মাণকার্য: ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণে শিলা অপরিহার্য। গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, মার্বেল, বেলেপাথর, স্লেট ইত্যাদি শিলা ব্যাপকভাবে নির্মাণকার্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন - তাজমহল মার্বেল পাথরে এবং লালকেল্লা বেলেপাথরে তৈরি।
- শক্তি সম্পদ: পাললিক শিলা হলো পৃথিবীর প্রধান শক্তি সম্পদের উৎস। এর মধ্যেই কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো মূল্যবান জীবাশ্ম জ্বালানি সঞ্চিত থাকে, যা আমাদের শিল্প ও পরিবহনের মূল চালিকাশক্তি।
- কৃষিকাজ: শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে উর্বর মাটি সৃষ্টি করে যা কৃষিকাজের ভিত্তি। যেমন - ব্যাসল্ট শিলা থেকে উর্বর কৃষ্ণমৃত্তিকা সৃষ্টি হয়, যা তুলা চাষের জন্য আদর্শ।
এছাড়া বিভিন্ন শিল্পে (যেমন - সিমেন্ট শিল্পে চুনাপাথর) কাঁচামাল হিসেবে এবং মূল্যবান খনিজ ও রত্ন (সোনা, হীরে) আহরণেও শিলার গুরুত্ব রয়েছে।