অধ্যায় ১১: ওশিয়ানিয়া (Class VIII Geography Solutions)
WBBSE অষ্টম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের একাদশ অধ্যায় 'ওশিয়ানিয়া'-র সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
আয়তনে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
ওশিয়ানিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
ওশিয়ানিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ওশিয়ানিয়া মহাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়?
নিউজিল্যান্ড ওশিয়ানিয়ার কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?
গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ কোন মহাদেশে অবস্থিত?
আয়ার রক কোন শিলায় গঠিত?
আর্টিজিও কূপ কোথায় দেখা যায়?
পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর কোনটি?
নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত সমভূমির নাম কী?
মারে-ডার্লিং অববাহিকার নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি কী নামে পরিচিত?
অস্ট্রেলিয়ার একটি অন্তর্বাহিনী নদীর নাম হলো-
মেরিনো কীসের প্রজাতি?
পশম উৎপাদনে পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে কোন দেশ?
ব্রোকেনহিল শহরকে কী বলা হয়?
জ্যাকেরোস (Jackaroos) কাদের বলা হয়?
অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসীদের কী বলা হয়?
নিউজিল্যান্ডের আদিম অধিবাসীদের কী বলা হয়?
ইউক্যালিপটাস গাছের জন্ম কোন মহাদেশে?
কোন পাখি উড়তে পারে না?
কোনটি থলিযুক্ত প্রাণী?
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী কী?
নিউজিল্যান্ডের রাজধানী কী?
অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
ওশিয়ানিয়া মহাদেশ কাকে বলে?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগরের মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়া অঞ্চলের প্রায় দশ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে যে মহাদেশ গঠিত হয়েছে, তাকে ওশিয়ানিয়া বলে।
ওশিয়ানিয়ার চারটি আঞ্চলিক বিভাগের নাম লেখো।
উত্তর: ওশিয়ানিয়ার চারটি আঞ্চলিক বিভাগ হলো - অস্ট্রালেশিয়া, মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়া।
অস্ট্রালেশিয়া কোন কোন দেশ নিয়ে গঠিত?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দেশ দুটিকে নিয়ে অস্ট্রালেশিয়া গঠিত।
মেলানেশিয়ার নামকরণ কেন এমন হয়েছে?
উত্তর: 'মেলা' কথার অর্থ কালো। এই অঞ্চলের দ্বীপগুলির অধিবাসীদের গায়ের রং কালো হওয়ায় এর নাম হয়েছে মেলানেশিয়া।
গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ কী?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণিটি হলো গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ কী?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলে সমুদ্রের মধ্যে প্রবাল কীটের দেহাবশেষ জমে যে সুবিশাল প্রাচীরের মতো প্রবাল প্রাচীর গড়ে উঠেছে, তাকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বলে।
আর্টিজিও কূপ কী?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার কার্পেন্টেরিয়া নিম্নভূমিতে দুটি অপ্রবেশ্য শিলাস্তরের মাঝে প্রবেশ্য শিলাস্তর থাকায় কূপ খনন করলে পাম্প ছাড়াই জল আপনাআপনি বাইরে বেরিয়ে আসে। এই ধরনের কূপকে আর্টিজিও কূপ বলে।
প্লায়া কাকে বলে?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি অঞ্চলের মাঝে মাঝে অবস্থিত লবণাক্ত জলের হ্রদগুলিকে প্লায়া বলে। যেমন - আয়ার হ্রদ।
নিউজিল্যান্ডের দুটি প্রধান দ্বীপের নাম কী?
উত্তর: উত্তর দ্বীপ এবং দক্ষিণ দ্বীপ।
ডাউনস তৃণভূমি কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: অস্ট্রেলিয়ার মারে-ডার্লিং নদী অববাহিকার নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে যে সুবিস্তীর্ণ তৃণভূমি দেখা যায়, তাকে ডাউনস বলে।
মেরিনো মেষ কেন বিখ্যাত?
উত্তর: মেরিনো মেষ থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানের পশম পাওয়া যায়, তাই এটি বিখ্যাত।
মারে ও ডার্লিং নদীর উৎস কোথায়?
উত্তর: মারে নদীর উৎস অস্ট্রেলিয়ান আল্পস পর্বত এবং ডার্লিং নদীর উৎস নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জ।
ওশিয়ানিয়ার দুটি বিচিত্র প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর: ক্যাঙারু এবং হংসচঞ্চু (প্লাটিপাস)।
ওশিয়ানিয়ার দুটি আগ্নেয় দ্বীপের নাম লেখো।
উত্তর: হাওয়াই এবং ফিজি।
ওশিয়ানিয়ার দুটি প্রবাল দ্বীপের নাম লেখো।
উত্তর: মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং কিরিবাটি।
রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
ওশিয়ানিয়ার আঞ্চলিক বিভাগগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।
বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা দ্বীপপুঞ্জ ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশকে নিয়ে গঠিত ওশিয়ানিয়াকে প্রধানত চারটি ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়:
- অস্ট্রালেশিয়া (Australasia): এই অঞ্চলের মধ্যে প্রধানত অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড দ্বীপরাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। এটি ওশিয়ানিয়ার বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল অংশ।
- মেলানেশিয়া (Melanesia): 'কালো দ্বীপপুঞ্জ' নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এখানকার অধিবাসীদের গায়ের রং কালো। নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ফিজি, ভানুয়াতু প্রভৃতি এই অঞ্চলের অন্তর্গত।
- মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia): 'ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ' নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি মেলানেশিয়ার উত্তরে অবস্থিত। গুয়াম, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, নাউরু, কিরিবাটি-র মতো অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এটি গঠিত।
- পলিনেশিয়া (Polynesia): 'বহু দ্বীপপুঞ্জ' নামে পরিচিত এই বিশাল ত্রিভুজাকৃতি অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। হাওয়াই, সামোয়া, টোঙ্গা, ইস্টার দ্বীপ, তাহিতি প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জ এর অন্তর্গত।
-
অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতিকে প্রধান ভাগে ভাগ করে আলোচনা করো।
ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. পশ্চিমের মালভূমি: অস্ট্রেলিয়ার অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়ে এই প্রাচীন, ক্ষয়প্রাপ্ত ও তরঙ্গায়িত মালভূমি অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা ২০০-৫০০ মিটার। এই অঞ্চলের মাঝে রয়েছে গ্রেট ভিক্টোরিয়া, গিবসন, গ্রেট স্যান্ডি-র মতো সুবিশাল মরুভূমি এবং আয়ার রকের মতো একক প্রস্তর খণ্ড।
২. মধ্যভাগের সমভূমি: পশ্চিমে মালভূমি এবং পূর্বে উচ্চভূমির মাঝে এই নিম্ন সমভূমি অবস্থিত। এটি তিনটি অংশে বিভক্ত - উত্তরে কার্পেন্টেরিয়া নিম্নভূমি, মাঝে আয়ার হ্রদের অববাহিকা এবং দক্ষিণে মারে-ডার্লিং নদীর উর্বর অববাহিকা। এই সমভূমিতেই বিখ্যাত আর্টিজিও কূপ দেখা যায়।
৩. পূর্বের উচ্চভূমি: অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ নামক একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণি অবস্থিত। এটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামে পরিচিত। এই পর্বতশ্রেণীর নিউ ইংল্যান্ড রেঞ্জের মাউন্ট কোসিয়াস্কো হলো অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
মারে-ডার্লিং অববাহিকার কৃষি ও পশুপালনে উন্নতির কারণগুলি কী কী?
মারে-ডার্লিং অববাহিকা অস্ট্রেলিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ কৃষি ও পশুপালন অঞ্চল। এর উন্নতির কারণগুলি হলো:
- উর্বর মৃত্তিকা: নদী বাহিত পলি দ্বারা গঠিত এই অববাহিকার রিভেরিনা সমভূমির মাটি অত্যন্ত উর্বর।
- অনুকূল জলবায়ু: এখানকার নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু এবং পরিমিত বৃষ্টিপাত গম, যব ইত্যাদি ফসল চাষ এবং পশুপালনের জন্য আদর্শ।
- বিস্তীর্ণ তৃণভূমি: অববাহিকার ডাউনস নামক সুবিস্তীর্ণ নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি মেরিনো মেষ ও গবাদি পশু পালনের জন্য উৎকৃষ্ট চারণক্ষেত্র প্রদান করে।
- জলসেচের সুবিধা: মারে ও ডার্লিং নদী এবং তাদের উপনদীগুলি থেকে জলসেচের পর্যাপ্ত যোগান পাওয়া যায়।
- আধুনিক প্রযুক্তি: এখানে অত্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত বীজ ও সার ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও পশুপালন করা হয়।
- জনসংখ্যার অল্প চাপ: বিশাল কৃষিক্ষেত্রের তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ায় উদ্বৃত্ত ফসল ও পশুজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয়।
নিউজিল্যান্ডের ভূপ্রকৃতি ও নদনদীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ভূপ্রকৃতি: নিউজিল্যান্ড মূলত উত্তর ও দক্ষিণ নামক দুটি প্রধান দ্বীপ এবং আরও কিছু ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি পর্বতময় দেশ।
- দক্ষিণ দ্বীপ: এই দ্বীপের প্রধান পর্বতশ্রেণি হলো দক্ষিণ আল্পস, যা একটি নবীন ভঙ্গিল পর্বত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট কুক। এখানে অনেক হিমবাহ ও ফিয়র্ড দেখা যায়। পূর্ব উপকূলে বিখ্যাত ক্যান্টারবেরি সমভূমি অবস্থিত।
- উত্তর দ্বীপ: এটি একটি আগ্নেয় মালভূমি অঞ্চল। এখানে মাউন্ট এগমন্ট, রুহাপেহুর মতো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ প্রস্রবণ ও গিজার দেখা যায়।
নদনদী: নিউজিল্যান্ডের নদীগুলি পর্বতময় অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হওয়ায় দৈর্ঘ্যে ছোটো কিন্তু অত্যন্ত খরস্রোতা। এগুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক। দক্ষিণ দ্বীপের ওয়াইটাকি ও ক্লুথা এবং উত্তর দ্বীপের ওয়াইকাটো ও ওয়ানগানুই প্রধান নদী। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে অসংখ্য হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ রয়েছে, যাদের মধ্যে তাউপো বৃহত্তম।
ওশিয়ানিয়ার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈচিত্র্য আলোচনা করো।
ওশিয়ানিয়ার বিশাল অক্ষাংশগত বিস্তার এবং দ্বীপগুলির অবস্থানের কারণে এখানে বিভিন্ন প্রকার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ দেখা যায়।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু ও চিরহরিৎ অরণ্য: মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া ও পলিনেশিয়ার দ্বীপগুলিতে সারা বছর উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে ঘন চিরহরিৎ অরণ্য (মেহগনি, পাম) সৃষ্টি হয়েছে।
- ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু ও পর্ণমোচী অরণ্য: অস্ট্রেলিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশে আর্দ্র গ্রীষ্মকাল ও শুষ্ক শীতকালের জন্য পর্ণমোচী বনভূমি (পাম, বার্চ) দেখা যায়।
- নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ও তৃণভূমি (ডাউনস): মারে-ডার্লिंग অববাহিকায় পরিমিত বৃষ্টিপাতের কারণে সুবিস্তীর্ণ তৃণভূমি বা ডাউনস সৃষ্টি হয়েছে।
- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু ও উদ্ভিদ: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে শুষ্ক গ্রীষ্মকাল ও আর্দ্র শীতকালের জন্য চিরসবুজ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ (জারা, কারি) জন্মায়।
- ক্রান্তীয় মরু জলবায়ু ও মরু উদ্ভিদ: অস্ট্রেলিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাংশে বৃষ্টিপাতের অভাবে ক্যাকটাস, আকাসিয়া জাতীয় কাঁটাঝোপ দেখা যায়।
- ব্রিটিশ জলবায়ু ও নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য: নিউজিল্যান্ড ও তাসমানিয়ায় সারা বছর বৃষ্টিপাতের কারণে নাতিশীতোষ্ণ পর্ণমোচী অরণ্য (ওক, ম্যাপল) দেখা যায়।