পরিবেশ, খনিজ ও শক্তি সম্পদ

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)

'পরিবেশ, খনিজ ও শক্তি সম্পদ' অধ্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খনিজ সম্পদ কয়লা এবং বিভিন্ন প্রকার শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কয়লা কীভাবে তৈরি হয় (লক্ষ লক্ষ বছর ধরে গাছপালা মাটির নীচে চাপা পড়ে তাপে ও চাপে), কয়লাখনি (খোলামুখ ও সুড়ঙ্গ) এবং পশ্চিমবঙ্গের কয়লা উত্তোলনকারী অঞ্চল (রানিগঞ্জ, আসানসোল) সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। কয়লা ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট দূষণ, যেমন—বিষাক্ত ধোঁয়া, অ্যাসিড বৃষ্টি এবং খনি অঞ্চলে ধসের মতো সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয়েছে। এরপর জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। সবশেষে, প্রচলিত শক্তি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, জলবিদ্যুৎ) এবং অপ্রচলিত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি (সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব গ্যাস) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপ্রচলিত শক্তির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)

খনিজ সম্পদ

মাটির নীচ থেকে খুঁড়ে যে মূল্যবান পদার্থ পাওয়া যায়, যা মানুষের কাজে লাগে, তাকে খনিজ সম্পদ বলে। যেমন—কয়লা, লোহা, পেট্রোলিয়াম।

খোলামুখ খনি (Opencast Mine)

যেখানে মাটির অল্প নীচে খনিজ পদার্থ থাকে, সেখানে উপরের মাটি সরিয়ে সরাসরি খোলা জায়গা থেকে খনিজ তোলা হয়। একে খোলামুখ খনি বলে।

জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel)

লক্ষ লক্ষ বছর আগে মাটির নীচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তাপ ও চাপে যে জ্বালানি তৈরি হয়েছে, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

অ্যাসিড বৃষ্টি (Acid Rain)

কয়লা পোড়ানোর ফলে বাতাসে সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড গ্যাস মেশে। এই গ্যাসগুলি বৃষ্টির জলের সাথে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে। একে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

ধস

কয়লাখনি থেকে কয়লা তুলে নেওয়ার পর সৃষ্ট শূন্যস্থানের কারণে উপরের মাটি বসে যাওয়া বা ধসে পড়ার ঘটনাকে ধস বলে।

প্রচলিত শক্তি (Conventional Energy)

যেসব শক্তির উৎস দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং जिनका ভান্ডার সীমিত, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম, ডিজেল।

অপ্রচলিত শক্তি (Non-conventional Energy)

যেসব শক্তির উৎসগুলির ব্যবহার এখনও ততটা ব্যাপক নয় এবং যেগুলির ভান্ডার অফুরন্ত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য, তাদের অপ্রচলিত শক্তি বলে। যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈব গ্যাস।

সোলার প্যানেল

এটি এমন একটি যন্ত্র যা সূর্যের আলোকশক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে।

প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খনিজ সম্পদ কোনটি?




সঠিক উত্তর: C. কয়লা

বিশ্লেষণ: রানিগঞ্জ ও আসানসোল অঞ্চলে উন্নত মানের কয়লা পাওয়া যায়, যা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. যে খনিতে সুড়ঙ্গ করে মাটির গভীর থেকে কয়লা তোলা হয়, তাকে কী বলে?




সঠিক উত্তর: D. সুড়ঙ্গ খনি

বিশ্লেষণ: মাটির অনেক গভীরে থাকা কয়লার স্তর পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়, তাই একে সুড়ঙ্গ খনি বলে।

৩. কয়লা আসলে কী থেকে তৈরি হয়েছে?




সঠিক উত্তর: C. মাটির নীচে চাপা পড়া গাছপালা

বিশ্লেষণ: লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গাছপালা মাটির নীচে চাপা পড়ে এবং প্রচণ্ড তাপ ও চাপে তা ধীরে ধীরে কয়লায় রূপান্তরিত হয়।

৪. কয়লার প্রধান উপাদান কী?




সঠিক উত্তর: B. কার্বন

বিশ্লেষণ: গাছপালার মূল উপাদান কার্বন। গাছপালা থেকে কয়লা তৈরি হওয়ায় কয়লারও প্রধান উপাদান হল কার্বন।

৫. কোন কয়লা পোড়ালে ছাই কম হয়?




সঠিক উত্তর: C. যে কয়লায় কার্বনের ভাগ বেশি

বিশ্লেষণ: যে কয়লা যত বেশি দিন ধরে মাটির নীচে তাপে ও চাপে থাকে, তাতে কার্বনের ভাগ তত বাড়ে এবং অন্যান্য অশুদ্ধি কমে যায়। তাই সেই কয়লা পোড়ালে ছাই কম হয়।

৬. মাটির গভীরে তাপমাত্রা কেমন থাকে?




সঠিক উত্তর: B. খুব গরম

বিশ্লেষণ: পৃথিবীর কেন্দ্রভাগ অত্যন্ত উত্তপ্ত হওয়ায় মাটির যত গভীরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রাও তত বাড়তে থাকে।

৭. কয়লার ধোঁয়ায় থাকা কোন গ্যাস অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ?




সঠিক উত্তর: C. সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড

বিশ্লেষণ: এই গ্যাসগুলি বাতাসে জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা বৃষ্টির সাথে ঝরে পড়ে।

৮. কয়লার ধোঁয়ায় থাকা একটি বিষাক্ত গ্যাস হল—




সঠিক উত্তর: B. কার্বন মনোক্সাইড

বিশ্লেষণ: অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, যা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে ঢুকলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

৯. খনি অঞ্চলে ধস নামে কেন?




সঠিক উত্তর: C. কয়লা তুলে নেওয়ায় মাটি আলগা হয়ে যায় বলে

বিশ্লেষণ: মাটির নীচ থেকে কয়লা সরিয়ে নিলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, তার উপরের মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধসে যায়।

১০. খনি অঞ্চলে ধস আটকানোর একটি উপায় কী?




সঠিক উত্তর: A. বেশি করে গাছ লাগানো

বিশ্লেষণ: গাছের শিকড় মাটিকে জালের মতো আঁকড়ে ধরে রাখে, যা মাটিকে শক্ত করে এবং ধস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

১১. পেট্রোলিয়াম কী থেকে তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়?




সঠিক উত্তর: B. প্রাণীদেহ

বিশ্লেষণ: লক্ষ লক্ষ বছর আগে মূলত সামুদ্রিক প্রাণীদেহ পাললিক শিলার নীচে চাপা পড়ে তাপে ও চাপে পেট্রোলিয়ামে রূপান্তরিত হয়েছে।

১২. কয়লা ও পেট্রোলিয়ামকে একসঙ্গে কী বলা হয়?




সঠিক উত্তর: C. জীবাশ্ম জ্বালানি

বিশ্লেষণ: উভয়ই প্রাচীনকালের উদ্ভিদ বা প্রাণীর জীবাশ্ম (fossil) থেকে তৈরি হয়েছে, তাই এদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।

১৩. কোনটি প্রচলিত শক্তির উৎস?




সঠিক উত্তর: C. পেট্রোল-ডিজেল

বিশ্লেষণ: পেট্রোল ও ডিজেল দীর্ঘদিন ধরে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তাই এটি প্রচলিত শক্তির উদাহরণ।

১৪. কোনটি অপ্রচলিত শক্তির উৎস?




সঠিক উত্তর: D. সৌরশক্তি

বিশ্লেষণ: সৌরশক্তির ব্যবহার এখনও ততটা ব্যাপক হয়নি এবং এর উৎস সূর্য অফুরন্ত। তাই এটি একটি অপ্রচলিত শক্তি।

১৫. বিদ্যুৎকেন্দ্রে টারবাইন ঘোরাতে কী ব্যবহার করা হয়?




সঠিক উত্তর: B. জলীয় বাষ্পের চাপ বা জলের স্রোত

বিশ্লেষণ: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পুড়িয়ে তৈরি বাষ্পের চাপে এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জলের স্রোতে টারবাইন ঘোরানো হয়।

১৬. ভুটানের কাছে ঝালং-এ কোন নদীর স্রোত থেকে জলবিদ্যুৎ তৈরি হয়?




সঠিক উত্তর: C. জলঢাকা

বিশ্লেষণ: ঝালং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জলঢাকা নদীর উপর নির্মিত হয়েছে।

১৭. সোলার প্যানেল কী করে?




সঠিক উত্তর: C. সূর্যের আলোকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে

বিশ্লেষণ: সোলার প্যানেলে থাকা ফটোভোল্টাইক কোষ সূর্যের ফোটন কণাকে শোষণ করে সরাসরি বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে।

১৮. সোলার কুকার কী কাজে লাগে?




সঠিক উত্তর: C. রান্না করতে

বিশ্লেষণ: সোলার কুকার একটি বাক্স-সদৃশ যন্ত্র যা সূর্যের তাপশক্তিকে ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে পারে।

১৯. উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য থেকে কোন শক্তি পাওয়া যায়?




সঠিক উত্তর: D. জৈব গ্যাস

বিশ্লেষণ: উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থকে বায়ুর অনুপস্থিতিতে পচিয়ে মিথেন সমৃদ্ধ জৈব গ্যাস তৈরি করা হয়, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

২০. কোন শক্তি সম্পদটি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই?




সঠিক উত্তর: C. জলপ্রবাহের শক্তি

বিশ্লেষণ: জলচক্র একটি প্রাকৃতিক ও চলমান প্রক্রিয়া, তাই নদীর জলপ্রবাহের শক্তি সহজে ফুরিয়ে যাবে না। এটিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বলা হয়।

২১. অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহারে প্রাথমিক সমস্যা কী?




সঠিক উত্তর: B. শুরুতে খরচ বেশি হয়

বিশ্লেষণ: সোলার প্যানেল বা উইন্ডমিল বসানোর প্রাথমিক খরচ প্রচলিত শক্তির তুলনায় বেশি, যা এর ব্যাপক ব্যবহারে একটি প্রধান বাধা।

২২. রানিগঞ্জ-আসানসোল অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের কোন দিকে অবস্থিত?




সঠিক উত্তর: B. পশ্চিম

বিশ্লেষণ: এই কয়লাখনি সমৃদ্ধ অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিকে, বর্ধমান জেলার পশ্চিম অংশে অবস্থিত।

২৩. জোয়ারের জল কাজে লাগিয়ে কোন শক্তি উৎপন্ন করা যায়?




সঠিক উত্তর: B. বিদ্যুৎশক্তি

বিশ্লেষণ: জোয়ার-ভাটার সময় জলের স্রোতকে ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়, একে জোয়ার-ভাটা শক্তি বলে।

২৪. অ্যাসিড বৃষ্টি কীসের ক্ষতি করে?




সঠিক উত্তর: D. সবকটিই

বিশ্লেষণ: অ্যাসিড বৃষ্টি মাটিকে অম্লীয় করে তোলে, গাছের পাতা পুড়িয়ে দেয় এবং মার্বেল পাথরের তৈরি পুরোনো স্থাপত্যের (যেমন তাজমহল) ক্ষতি করে।

২৫. লোহা-ইস্পাত কারখানায় লোহা গলাতে কোন জ্বালানি লাগে?




সঠিক উত্তর: C. উচ্চ মানের কয়লা (কোক)

বিশ্লেষণ: লোহা গলানোর জন্য অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, যা উচ্চ মানের কার্বনযুক্ত কয়লা বা কোক কয়লা পোড়িয়েই পাওয়া সম্ভব।

২৬. জলচক্রের মূল চালিকাশক্তি কোনটি?




সঠিক উত্তর: B. সূর্যের তাপ

বিশ্লেষণ: সূর্যের তাপেই জল বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ তৈরি হয় এবং পর্বতের বরফ গলে নদীর সৃষ্টি হয়, তাই সূর্যই জলচক্রকে সচল রাখে।

২৭. ডায়নামো লাগানো সাইকেলে চালালে কী হয়?




সঠিক উত্তর: B. আলো জ্বলে

বিশ্লেষণ: সাইকেলের চাকার ঘূর্ণন শক্তিকে ডায়নামো বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে, যার ফলে ছোট বাল্ব জ্বলে ওঠে।

২৮. জেনারেটর চালাতে সাধারণত কোন জ্বালানি ব্যবহার করা হয়?




সঠিক উত্তর: B. ডিজেল

বিশ্লেষণ: লোডশেডিং-এর সময় বা অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরগুলি মূলত ডিজেল দিয়ে চালানো হয়।

২৯. বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করতে কী ঘোরানো হয়?




সঠিক উত্তর: B. বড় পাখা বা উইন্ডমিল

বিশ্লেষণ: বায়ুপ্রবাহের সাহায্যে উইন্ডমিলের বিশাল আকারের ব্লেড বা পাখাগুলিকে ঘোরানো হয়, যা টারবাইনকে ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।

৩০. কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?




সঠিক উত্তর: C. কাঠ-কয়লা

বিশ্লেষণ: কাঠ-কয়লা কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হয় এবং এটি লক্ষ লক্ষ বছর পুরানো নয়। তাই এটি জীবাশ্ম জ্বালানির পর্যায়ে পড়ে না।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

প্রশ্ন ১: খনিজ সম্পদ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: মাটির নীচ থেকে খুঁড়ে যে সমস্ত মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় পদার্থ পাওয়া যায়, তাদের খনিজ সম্পদ বলে। উদাহরণ: কয়লা।

প্রশ্ন ২: কয়লা কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভূমিকম্পের ফলে গাছপালা মাটির নীচে চাপা পড়ে যায় এবং উপরের স্তরের প্রচণ্ড চাপ ও নীচের গরমে ধীরে ধীরে কয়লায় পরিণত হয়।

প্রশ্ন ৩: খোলামুখ খনি ও সুড়ঙ্গ খনির মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: মাটির অল্প নীচে কয়লা থাকলে উপরের মাটি সরিয়ে যে খনি তৈরি হয় তা খোলামুখ খনি। আর অনেক গভীরে কয়লা থাকলে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে যে খনি তৈরি হয় তা সুড়ঙ্গ খনি।

প্রশ্ন ৪: অ্যাসিড বৃষ্টি কেন হয়?

উত্তর: কয়লা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড গ্যাস বৃষ্টির জলের সাথে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে। এই অ্যাসিড মিশ্রিত বৃষ্টিই হল অ্যাসিড বৃষ্টি।

প্রশ্ন ৫: খনি অঞ্চলে ধস নামে কেন?

উত্তর: মাটির নীচ থেকে কয়লা তুলে নেওয়ার ফলে যে বিশাল শূন্যস্থান তৈরি হয়, তার ফলে উপরের মাটি দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে।

প্রশ্ন ৬: জীবাশ্ম জ্বালানি বলতে কী বোঝো? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: কোটি কোটি বছর আগে মাটির নীচে চাপা পড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি জ্বালানিকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। উদাহরণ: কয়লা ও পেট্রোলিয়াম।

প্রশ্ন ৭: পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায় এমন দুটি জ্বালানির নাম লেখো।

উত্তর: পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া যায় এমন দুটি জ্বালানি হল পেট্রোল ও ডিজেল।

প্রশ্ন ৮: প্রচলিত শক্তি কাকে বলে?

উত্তর: যে সমস্ত শক্তি উৎস আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছি এবং যাদের ভান্ডার পৃথিবীতে সীমিত, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

প্রশ্ন ৯: অপ্রচলিত শক্তি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে সমস্ত শক্তি উৎসের ভান্ডার অফুরন্ত এবং যাদের ব্যবহার এখনও খুব বেশি প্রচলিত হয়নি, তাদের অপ্রচলিত শক্তি বলে। যেমন: সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি।

প্রশ্ন ১০: জলবিদ্যুৎ কীভাবে তৈরি করা হয়?

উত্তর: পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বা বাঁধে আটকানো জলের স্রোতে টারবাইন নামক একটি চাকা ঘুরিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন ১১: সৌরশক্তি ব্যবহারের দুটি সুবিধা লেখো।

উত্তর: (ক) এটি একটি অফুরন্ত শক্তির উৎস। (খ) এটি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না।

প্রশ্ন ১২: কয়লার ধোঁয়ায় থাকা দুটি ক্ষতিকারক পদার্থের নাম লেখো।

উত্তর: কয়লার ধোঁয়ায় থাকা দুটি ক্ষতিকারক পদার্থ হল কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস এবং সালফারের অক্সাইড।

প্রশ্ন ১৩: 'জলচক্র' কী?

উত্তর: সূর্যের তাপে নদী-সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে উপরে উঠে মেঘ সৃষ্টি করে এবং সেই মেঘ থেকে বৃষ্টি বা বরফ রূপে জল আবার পৃথিবীতে ফিরে আসার চক্রাকার প্রক্রিয়াকে জলচক্র বলে।

প্রশ্ন ১৪: বায়োগ্যাস বা জৈব গ্যাস কীভাবে তৈরি হয়?

উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পচা বর্জ্য পদার্থ, যেমন গোবর, আবর্জনা ইত্যাদি থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়, যা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ১৫: পশ্চিমবঙ্গের দুটি কয়লাখনি অঞ্চলের নাম লেখো।

উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের দুটি প্রধান কয়লাখনি অঞ্চল হল রানিগঞ্জ এবং আসানসোল।

প্রশ্ন ১৬: সোলার প্যানেল কোথায় বসানো হয়?

উত্তর: সোলার প্যানেল সাধারণত বাড়ির ছাদে বা খোলা জায়গায় এমনভাবে বসানো হয়, যেখানে সারাদিন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ১৭: জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো উচিত কেন?

উত্তর: কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির ভান্ডার সীমিত এবং এটি একদিন শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া, এটি পোড়ানোর ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়।

প্রশ্ন ১৮: একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম লেখো।

উত্তর: একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হল কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হল ঝালং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রশ্ন ১৯: ধস আটকানোর জন্য খনির ফাঁকা জায়গায় কী ভরাট করা হয়?

উত্তর: ধস আটকানোর জন্য খনির ফাঁকা জায়গায় সাধারণত বালি ভরাট করে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ২০: ভবিষ্যতে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহার করা হতে পারে?

উত্তর: পেট্রোল-ডিজেল ফুরিয়ে গেলে ভবিষ্যতে গাড়ির জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুৎ বা হাইড্রোজেন শক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: কয়লা কীভাবে তৈরি হয়? মাটির গভীরে থাকা কয়লার মান ভালো হয় কেন?

উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবী ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। ভূমিকম্প বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সেই বিশাল গাছপালা মাটির নীচে চাপা পড়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে উপরের মাটির প্রচণ্ড চাপ এবং পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপে ওই গাছপালার নরম অংশ পচে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু শক্ত কার্বন অংশ ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়ে কঠিন কয়লায় পরিণত হয়।

মাটির যত গভীরে যাওয়া যায়, চাপ ও তাপ তত বেশি থাকে। বেশি চাপ ও তাপের ফলে কয়লার মধ্যে থাকা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বেরিয়ে যায় এবং কার্বনের ভাগ বাড়তে থাকে। যে কয়লায় কার্বনের ভাগ যত বেশি, তার মান তত ভালো। তাই মাটির অনেক গভীরে থাকা কয়লা বেশিদিন ধরে তাপ ও চাপ পাওয়ায় তার মান উন্নত হয় এবং পোড়ালে কম ছাই উৎপন্ন হয়।

প্রশ্ন ২: কয়লা ব্যবহারের ফলে পরিবেশে কী কী ক্ষতি হয়?

উত্তর: কয়লা একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হলেও এর ব্যবহারের ফলে পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতি হয়:
(ক) বায়ু দূষণ: কয়লা পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস মেশে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ধুলো ও ছাই বাতাসে ওড়ে, যা বায়ু দূষণ ঘটায়।
(খ) অ্যাসিড বৃষ্টি: সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড গ্যাস বৃষ্টির জলের সাথে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি ঘটায়, যা গাছপালা, মাটি এবং মার্বেল পাথরের স্থাপত্যের ক্ষতি করে।
(গ) বিশ্ব উষ্ণায়ন: কয়লা পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
(ঘ) ধস: খনি থেকে কয়লা তুলে নেওয়ার পর খনি অঞ্চলে মাটি ধসে গিয়ে বাড়িঘর, রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়।
(ঙ) স্বাস্থ্য সমস্যা: কয়লার ধোঁয়া ও গুঁড়ো মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি সহ নানা রোগের সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ৩: প্রচলিত শক্তি ও অপ্রচলিত শক্তির মধ্যে পার্থক্য লেখো। কেন আমাদের অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানো উচিত?

উত্তর: প্রচলিত শক্তি ও অপ্রচলিত শক্তির মধ্যে পার্থক্য:

বিষয় প্রচলিত শক্তি অপ্রচলিত শক্তি
ভান্ডার এর ভান্ডার পৃথিবীতে সীমিত এবং একদিন শেষ হয়ে যাবে। এর উৎস অফুরন্ত, শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। (পুনর্নবীকরণযোগ্য)
পরিবেশগত প্রভাব এর ব্যবহারে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হয়। এগুলি মূলত পরিবেশ-বান্ধব এবং দূষণ ঘটায় না।
উদাহরণ কয়লা, পেট্রোলিয়াম, ডিজেল, প্রাকৃতিক গ্যাস। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জৈব গ্যাস, জোয়ার-ভাটা শক্তি।
খরচ প্রাথমিক খরচ কম কিন্তু জ্বালানির দাম ক্রমশ বাড়ছে। যন্ত্রপাতি বসানোর প্রাথমিক খরচ বেশি, কিন্তু জ্বালানির কোনো খরচ নেই।

অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কারণ:
(ক) প্রচলিত শক্তির ভান্ডার দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, তাই ভবিষ্যতের শক্তির চাহিদা মেটাতে অপ্রচলিত শক্তির উপর নির্ভর করা জরুরি।
(খ) অপ্রচলিত শক্তি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না, তাই বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবিলা করতে এর ব্যবহার বাড়ানো অপরিহার্য।

প্রশ্ন ৪: জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ কীভাবে উৎপন্ন হয়? এদের মধ্যে কোনটি বেশি পরিবেশ-বান্ধব এবং কেন?

উত্তর: তাপবিদ্যুৎ: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে কয়লা পুড়িয়ে জলকে ফুটিয়ে উচ্চচাপের বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্পের প্রচণ্ড চাপে টারবাইন নামক একটি বিশাল চাকা ঘোরানো হয়। টারবাইনের সাথে যুক্ত জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

জলবিদ্যুৎ: জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নদীর উপর বাঁধ বা ড্যাম তৈরি করে জল জমানো হয়। তারপর সেই জলকে অনেক উঁচু থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবল বেগে নীচে ফেলা হয়। জলের এই প্রচণ্ড স্রোতের শক্তিতে টারবাইন ঘোরানো হয় এবং তার সাথে যুক্ত জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।

এদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ বেশি পরিবেশ-বান্ধব।
কারণ: তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা পোড়াতে হয়, যার ফলে মারাত্মক বায়ু দূষণ হয়, অ্যাসিড বৃষ্টি হয় এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। অন্যদিকে, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না। তাই এখানে কোনো ধোঁয়া বা ছাই উৎপন্ন হয় না এবং পরিবেশ দূষিত হয় না। তাই জলবিদ্যুৎ একটি পরিষ্কার শক্তি বা 'Clean Energy'।

প্রশ্ন ৫: সৌরশক্তিকে ভবিষ্যতের শক্তি বলা হয় কেন? সৌরশক্তি ব্যবহার করে কী কী কাজ করা যায়?

উত্তর: সূর্য হল সকল শক্তির উৎস এবং এর শক্তি অফুরন্ত। যতদিন সূর্য থাকবে, ততদিন আমরা সৌরশক্তি পেতে থাকব। কয়লা, পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু সৌরশক্তি শেষ হবে না। এছাড়া, সৌরশক্তি ব্যবহারে কোনো পরিবেশ দূষণ হয় না। এই সব কারণে সৌরশক্তিকে ভবিষ্যতের প্রধান শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।

সৌরশক্তি ব্যবহার করে নিম্নলিখিত কাজগুলি করা যায়:
(ক) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন: সোলার প্যানেলের সাহায্যে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত করে আলো জ্বালানো, পাখা চালানো, টিভি, কম্পিউটার, জলের পাম্প ইত্যাদি চালানো যায়।
(খ) রান্না করা: সোলার কুকার ব্যবহার করে সূর্যের তাপে রান্না করা যায়।
(গ) জল গরম করা: সোলার ওয়াটার হিটারের সাহায্যে স্নানের বা অন্য কাজের জন্য জল গরম করা যায়।
(ঘ) শস্য শুকানো: সূর্যের তাপে ধান, গম বা অন্যান্য ফসল শুকানো হয়।
(ঙ) যানবাহন চালানো: বর্তমানে সৌরশক্তি চালিত গাড়ি, নৌকা ইত্যাদি তৈরির গবেষণা চলছে।