অধ্যায় ৩: বারিমণ্ডল (Class 10 Geography Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় 'বারিমণ্ডল'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
দক্ষিণ গোলার্ধে সমুদ্র স্রোত বামদিকে বিক্ষিপ্ত হয়, কারণ Madhyamik 2025 (Sample)
-
বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল প্রবলবেগে নদীর মোহনা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে, তাকে বলে Madhyamik 2025 (Sample)
-
ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের জোয়ারের সঙ্গে ভাটার সময়ের পার্থক্য হলো Madhyamik 2024
-
সমুদ্রের যে স্থানে উষ্ণ ও শীতল স্রোত উভয়ে মিলিত হয় তাকে বলে - Madhyamik 2024 & 2019
-
এল নিনোর প্রভাব দেখা যায় Madhyamik 2023 & 2017
-
কোন স্থানের মুখ্য জোয়ার এবং গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হলো Madhyamik 2023
-
পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যে দূরত্ব সর্বাধিক হলে তাকে বলে- Madhyamik 2019
-
শীতল লাব্রাডর স্রোত এবং উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত মিলিত হয়ে ঘনকুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি করে যে উপকূল অঞ্চলে তা হলো- Madhyamik 2018
-
মরা কোটালের সময়ে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে নিম্নলিখিত কোণে অবস্থান করে- Madhyamik 2018
-
পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম তখন যে জোয়ার সৃষ্টি হয় তাকে বলে- Madhyamik 2017
-
ভরা কোটাল/মরা কোটাল/গৌণ জোয়ারের সময় নদীতে 'বানডাকা' হয়। Madhyamik 2015
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সমুদ্রে ভরা কোটাল দেখা যায়। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: মরা কোটাল)।
-
সূর্য ও চন্দ্র যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থাকে তখন সিজিগি হয়। Madhyamik 2023
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: সমকোণে থাকলে তাকে 'মরা কোটাল' অবস্থান বা ' квадраচার' বলে, সিজিগি হয় এক সরলরেখায় থাকলে)।
-
সমুদ্রে ভাসমান বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রজলের লবণতা সর্বাধিক থাকে। Madhyamik 2019
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: ক্রান্তীয় অঞ্চলে)।
-
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে খরার সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2018
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: বন্যা বা অতিবৃষ্টির সৃষ্টি হয়)।
-
সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর সরলরৈখিক অবস্থানকে সিজিগি বলে। Madhyamik 2017
উত্তর: শু
-
সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়ে থাকে। Madhyamik 2015
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে)।
শূন্যস্থান পূরণ
-
চন্দ্র থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যখন ৩.৫৬ লক্ষ কিমি হয় তখন তাকে ________ অবস্থান বলে। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: পেরিজি (সবচেয়ে কম দূরত্ব)
-
শীতল ________ স্রোতের প্রভাবে নিউফাউন্ডল্যান্ড অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হয়। Madhyamik 2024 & 2019
উত্তর: ল্যাব্রাডর
-
________ স্রোত সমুদ্রতলের উপরিভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয়। Madhyamik 2023
উত্তর: উষ্ণ (বা বহিঃস্রোত)
-
ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল প্রবল বেগে মোহনা দিয়ে নদীতে প্রবেশ করে, একে ________ বলা হয়। Madhyamik 2018
উত্তর: বান ডাকা
-
পৃথিবীর ________ বলের প্রভাবে গৌণ জোয়ার সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2017
উত্তর: কেন্দ্রাতিগ
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
শীতকালে উত্তর পশ্চিম ইউরোপের বন্দরগুলি কোন উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে বরফমুক্ত থাকে? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: উত্তর আটলান্টিক স্রোত।
-
সিজিগি কী? Madhyamik 2025 (Sample) & 2015
উত্তর: পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য যখন আবর্তন করতে করতে একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন সেই অবস্থানকে সিজিগি বলে (যেমন: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে)।
-
কোন মহাসাগরে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়? Madhyamik 2024
উত্তর: ভারত মহাসাগরে (মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে)।
-
'অ্যাপোজি জোয়ার' বলতে কী বোঝো? Madhyamik 2024 & 2018
উত্তর: চাঁদ পৃথিবীকে পরিক্রমণ করার সময় যখন পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে (অ্যাপোজি অবস্থান) থাকে, তখন চাঁদের আকর্ষণ বল কম হওয়ায় যে জোয়ার সৃষ্টি হয়, তার প্রাবল্য কম হয়। একে অ্যাপোজি জোয়ার বা অপভূ জোয়ার বলে।
-
একটি পৃথিবীবিখ্যাত সামুদ্রিক মগ্নচড়ার নাম লেখো। Madhyamik 2023
উত্তর: গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক (নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূল)।
-
হিমপ্রাচীরের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2023
উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের উষ্ণ জল এবং শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের শীতল জল পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়ার সময় যে স্পষ্ট বিভাজন রেখা তৈরি করে, তাকে হিমপ্রাচীর (Cold Wall) বলে।
-
মরা জোয়ার কোন্ তিথিতে দেখা যায়? Madhyamik 2019
উত্তর: শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে।
-
সমুদ্রস্রোতের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2019
উত্তর: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, জলের উষ্ণতা, লবণাক্ততা ও ঘনত্বের তারতম্য ইত্যাদির কারণে সমুদ্রের জলরাশি যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়মিতভাবে সারাবছর অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়, তখন তাকে সমুদ্রস্রোত বলে।
-
সামুদ্রিক মাছের প্রধান খাদ্য কী? Madhyamik 2018
উত্তর: প্ল্যাঙ্কটন (উদ্ভিদ-প্ল্যাঙ্কটন বা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং প্রাণী-প্ল্যাঙ্কটন বা জুপ্ল্যাঙ্কটন)।
-
হিমশৈল কী? Madhyamik 2018
উত্তর: সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশাল আকৃতির বরফের স্তূপ বা চাঁইকে হিমশৈল (Iceberg) বলে, যার মাত্র ৯ ভাগের ১ ভাগ জলের উপরে ভাসে।
-
ক্রান্তীয় সমুদ্রে কোন্ ধরনের সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি হয়? Madhyamik 2017
উত্তর: উষ্ণ সমুদ্রস্রোত।
-
বানডাকা কী? Madhyamik 2017
উত্তর: ভরা কোটালের সময় (বিশেষত বর্ষাকালে) সমুদ্রের জোয়ারের জল নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে উঁচু জলপ্রাচীরের মতো করে নদীর উজানে প্রবেশ করে, একে বানডাকা বলে (যেমন: হুগলি নদীতে বানডাকা)।
-
কোনো একটি স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত? Madhyamik 2017 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট (প্রায়)।
-
টীকা লেখো: গৌণ জোয়ার Madhyamik 2015
উত্তর: পৃথিবীর যে স্থানে চাঁদের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয়, তার ঠিক প্রতিপাদ স্থানে (বিপরীত দিকে) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
চিত্রসহ জোয়ারভাটা সৃষ্টির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2025 (Sample) & 2019
সমুদ্রের জলতল নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। এর সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হলো:
১. চাঁদের মহাকর্ষ বল (মুখ্য জোয়ার): পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকায়, চাঁদের আকর্ষণ বলই জোয়ার সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা নেয়। পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সামনে আসে, সেই স্থানের জলরাশি চাঁদের প্রবল আকর্ষণে ফুলে ওঠে এবং মুখ্য জোয়ার সৃষ্টি করে।
২. পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বল (গৌণ জোয়ার): পৃথিবীকে আবর্তনের সময় সিঁটকে যাওয়ার প্রবণতা থেকে একটি কেন্দ্রাতিগ বলের সৃষ্টি হয়। মুখ্য জোয়ারের প্রতিপাদ স্থানে (বিপরীত দিকে) চাঁদের আকর্ষণ বল সবচেয়ে কম থাকে, কিন্তু কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব সর্বাধিক হওয়ায় সেই স্থানের জলরাশিও ফুলে ওঠে এবং গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে।
৩. সূর্যের মহাকর্ষ বল: সূর্য চাঁদ অপেক্ষা অনেক বড়ো হলেও পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থাকায় জোয়ার সৃষ্টিতে সূর্যের প্রভাব চাঁদের প্রায় অর্ধেক। অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী এক সরলরেখায় (সিজিগি) আসায় চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে প্রবল জোয়ার বা ভরা কোটাল হয়।
(এই উত্তরের সাথে মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার এবং কেন্দ্রাতিগ বল নির্দেশক একটি চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
হিমপ্রাচীর বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2025 (Sample) (বহিরাগত)
হিমপ্রাচীর (Cold Wall): উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর দিক থেকে আসা শীতল ও সবুজ রঙের ল্যাব্রাডর স্রোত এবং দক্ষিণ দিক থেকে আসা উষ্ণ ও গাঢ় নীল রঙের উপসাগরীয় স্রোত পাশাপাশি প্রবাহিত হয়। এই দুই ভিন্ন উষ্ণতা ও রঙের জলরাশি সহজে মেশে না, এদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা দেখা যায়। এই বিভাজন রেখাকে হিমপ্রাচীর বলে। এর ফলে এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়বৃষ্টি সৃষ্টি হয়।
-
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রস্রোতের প্রধান পাঁচটি প্রভাব আলোচনা করো। Madhyamik 2024 & 2017
পৃথিবীর জলবায়ু, অর্থনীতি ও পরিবেশের উপর সমুদ্রস্রোতের পাঁচটি প্রধান প্রভাব হলো:
- ১. জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ: উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে উপকূল অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায় (যেমন - উষ্ণ উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে পশ্চিম ইউরোপের বন্দর শীতকালেও বরফমুক্ত থাকে)। আবার শীতল স্রোতের প্রভাবে উপকূলের উষ্ণতা হ্রাস পায় ও আবহাওয়া শীতল হয় (যেমন - শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের প্রভাবে কানাডার পূর্ব উপকূল শীতল থাকে)।
- ২. বৃষ্টিপাত ও মরুভূমি সৃষ্টি: উষ্ণ স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটায়। কিন্তু শীতল স্রোতের (যেমন - পেরু স্রোত, ক্যানারি স্রোত) উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক হওয়ায় উপকূলে বৃষ্টিপাত হয় না, ফলে মরুভূমি (যেমন - আটাকামা, কালাহারি) সৃষ্টি হয়েছে।
- ৩. মগ্নচড়ার সৃষ্টি: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে (যেমন - নিউফাউন্ডল্যান্ড) কুয়াশা সৃষ্টি হয় এবং শীতল স্রোতের বয়ে আনা হিমশৈল গলে মগ্নচড়া তৈরি হয়, যা বাণিজ্যিক মাছ চাষের কেন্দ্র (যেমন - গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক) হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ৪. ঝড় ও কুয়াশা: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়, যা জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়।
- ৫. হিমশৈলের সঞ্চালন: শীতল স্রোত (যেমন - ল্যাব্রাডর স্রোত) মেরু অঞ্চল থেকে বিশাল হিমশৈল ভাসিয়ে এনে জাহাজ চলাচলে বিপদ ঘটায়।
-
ভরা জোয়ার ও মরা জোয়ারের তুলনামূলক আলোচনা করো। Madhyamik 2023
বিষয় ভরা জোয়ার (Spring Tide) মরা জোয়ার (Neap Tide) অবস্থান পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় (সিজিগি) অবস্থান করলে এটি ঘটে। পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য পরস্পর সমকোণে (৯০°) অবস্থান করলে এটি ঘটে। তিথি অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে দেখা যায়। শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে দেখা যায়। শক্তি চাঁদ ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষ বল একসাথে কাজ করায় জোয়ারের প্রাবল্য খুব বেশি হয়। চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ বল একে অপরের বিরুদ্ধে বা সমকোণে কাজ করায় জোয়ারের প্রাবল্য খুব কম হয়। ফলাফল জোয়ারের জলতল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফুলে ওঠে এবং ভাঁটার জলতল অনেক বেশি নেমে যায়। জোয়ারের জলতল স্বাভাবিকের চেয়ে কম ফোলে এবং ভাঁটার জলতল কম নামে। -
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির নিয়ন্ত্রকগুলি (বা কারণগুলি) আলোচনা করো। Madhyamik 2023 & 2018
সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রক বা কারণগুলি হলো:
- ১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: এটি সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু) সমুদ্রের জলের উপরিভাগে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে জলরাশিকে নিজের প্রবাহের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় এবং সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে (যেমন - আয়ন বায়ুর প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত)।
- ২. জলের উষ্ণতার তারতম্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও হালকা জল বহিঃস্রোত হিসাবে মেরুর দিকে যায়, এবং মেরু অঞ্চলের শীতল ও ভারী জল অন্তঃস্রোত হিসাবে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- ৩. জলের লবণাক্ততা ও ঘনত্বের তারতম্য: বেশি লবণাক্ত জল ভারী হওয়ায় অন্তঃস্রোত রূপে এবং কম লবণাক্ত জল হালকা হওয়ায় বহিঃস্রোত রূপে প্রবাহিত হয়।
- ৪. পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- ৫. মহাদেশের অবস্থান: প্রবাহিত হওয়ার পথে মহাদেশ বা দ্বীপে বাধা পেলে সমুদ্রস্রোত দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
-
মগ্নচড়া কোথায় গড়ে ওঠে? Madhyamik 2017 (বহিরাগত)
অবস্থান: মগ্নচড়াগুলি প্রধানত মহীসোপান অঞ্চলে, অর্থাৎ উপকূলের কাছে অগভীর সমুদ্রে (গভীরতা ২০০ মিটারের কম) গড়ে ওঠে।
সৃষ্টির কারণ: যেসকল অঞ্চলে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোত এসে মিলিত হয়, সেখানে শীতল স্রোতের বয়ে আনা বড়ো বড়ো হিমশৈলগুলি উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে এসে গলতে শুরু করে। হিমশৈলের মধ্যে থাকা নুড়ি, কাঁকর, বালি, কাদা ইত্যাদি ওই অগভীর সমুদ্রে সঞ্চিত হয়ে মগ্নচড়া (Submarine Bank) সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: উত্তর আমেরিকার নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলের কাছে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনের ফলে পৃথিবীখ্যাত 'গ্র্যান্ড ব্যাঙ্ক' মগ্নচড়াটি সৃষ্টি হয়েছে।
-
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান স্রোতগুলির বর্ণনা দাও। Madhyamik 2015
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্রধান স্রোতগুলি একটি চক্রাকারে আবর্তিত হয়:
- ১. দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত (উষ্ণ): দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট এই উষ্ণ স্রোতটি পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ব্রাজিলের সেন্ট রক অন্তরীপে বাধা পায়।
- ২. ব্রাজিল স্রোত (উষ্ণ): দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের যে শাখাটি ব্রাজিল উপকূল ধরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়, তা উষ্ণ ব্রাজিল স্রোত নামে পরিচিত।
- ৩. কুমেরু স্রোত বা দক্ষিণ আটলান্টিক স্রোত (শীতল): পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে কুমেরু মহাসাগর থেকে এই শীতল স্রোতটি পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রবাহিত হয় এবং ব্রাজিল স্রোতের সাথে মিলিত হয়।
- ৪. বেঙ্গুয়েলা স্রোত (শীতল): কুমেরু স্রোতের যে শাখাটি আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল (বেঙ্গুয়েলা উপকূল) ধরে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতের সাথে মেশে, তাকে শীতল বেঙ্গুয়েলা স্রোত বলে।
এই চারটি স্রোত মিলিত হয়ে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে আবর্তিত স্রোতের চক্র বা 'জায়ার' (Gyre) সৃষ্টি করেছে।
-
কোনো স্থানে দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট (প্রায়) হয় কেন? Madhyamik 2015
পৃথিবী তার নিজের অক্ষের উপর একবার আবর্তন করে (প্রায় ২৪ ঘন্টায়), ফলে পৃথিবীর প্রতিটি স্থান একবার চাঁদের সামনে আসে এবং সেখানে মুখ্য জোয়ার হয়। সেই হিসাবে প্রতি ২৪ ঘন্টা অন্তর মুখ্য জোয়ার হওয়ার কথা।
কিন্তু, পৃথিবী যখন ২৪ ঘন্টায় একবার নিজের চারিদিকে আবর্তন করে, সেই একই সময়ে চাঁদও পৃথিবীর চারিদিকে তার কক্ষপথে কিছুটা পথ (প্রায় ১৩°) এগিয়ে যায়।
ফলে, পৃথিবীর কোনো স্থানকে (যেমন 'ক' স্থান) চাঁদের সামনে থেকে ঘুরে আবার ঠিক চাঁদের সামনে আসতে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫২ মিনিট সময় লাগে (মোট = ২৪ ঘন্টা + ৫২ মিনিট)। এই কারণে, কোনো স্থানে একটি মুখ্য জোয়ার হওয়ার প্রায় ২৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট পর আবার পরের মুখ্য জোয়ারটি হয়।