অধ্যায় ১: বর্হিজাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ (Class 10 Geography Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের প্রথম অধ্যায় 'বর্হিজাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
একটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ হলো Madhyamik 2024
-
পার্বত্য হিমবাহের শীর্ষদেশে হিমবাহ ও পর্বত গাত্রের মধ্যে সঙ্কীর্ণ ও গভীর ফাটলগুলিকে বলে Madhyamik 2024
-
পাখীর পায়ের মতো বদ্বীপ দেখা যায় যে নদীর মোহানায়- Madhyamik 2025 (Sample)
-
যে প্রক্রিয়ায় অসমতল বন্ধুরভূমি অপসারিত হয়ে সমতল বা প্রায় সমতলে পরিণত হয় তাকে বলে Madhyamik 2023
-
মরুভূমিতে বায়ু দ্বারা বালুকণা উত্থিত এবং অপসারিত হয় যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে তা হলো Madhyamik 2023
-
যে প্রক্রিয়ায় ভূমির উচ্চতা হ্রাস পায় তাকে বলে Madhyamik 2022
-
দুটি নদী-অববাহিকার মধ্যবর্তী উচ্চভূমিকে বলে- Madhyamik 2022
-
হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ হ'ল Madhyamik 2022
-
বায়ুর সঞ্চয়ের ফলে গঠিত সমভূমিকে বলে Madhyamik 2022
-
সাহারা মরুভূমির লবণাক্ত হ্রদগুলিকে বলে - Madhyamik 2022
-
যে প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, তাকে বলে- Madhyamik 2019
-
পার্বত্য হিমবাহের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্ট গভীর ফাটলগুলিকে বলে- Madhyamik 2019
-
শুষ্ক অঞ্চলে গিরিখাতকে বলা হয়- Madhyamik 2018
-
পাখির পায়ের মতো আকৃতির বদ্বীপ গঠিত হয়েছে- Madhyamik 2018
-
যে প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠের উপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে বলে- Madhyamik 2017
-
লবণযুক্ত শিলাস্তরের উপর নদীর প্রধান ক্ষয় প্রক্রিয়াটি হল- Madhyamik 2017
-
হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে ... দেখা যায়। Madhyamik 2015
-
হিমবাহের ক্ষয়ের ফলে গঠিত একটি ভূমিরূপ হল- Madhyamik 2015
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
মরু অঞ্চলে বায়ু ও জলের মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট অস্থায়ী হ্রদগুলিকে প্লায়া বলে। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: শু
-
নদীর উৎস অঞ্চলে ধারণ অববাহিকা সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2024
উত্তর: শু
-
ঝুলন্ত উপত্যকা নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়। Madhyamik 2024
উত্তর: অ (এটি হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়)।
-
নদীর গতিবেগ পরিমাপের একক হ'ল কিউসেক। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
সমুদ্রে ভাসমান বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে। Madhyamik 2022
উত্তর: শু
-
অক্ষাংশের ভিত্তিতে হিমরেখার উচ্চতা পরিবর্তিত হয়ে থাকে। Madhyamik 2019
উত্তর: শু
-
জলপ্রপাতের পাদদেশে মন্থকূপের সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2018
উত্তর: শু (তাকে প্রপাতকূপ বা প্লাঞ্জপুল বলে, যা মন্থকূপের সমগোত্রীয়)।
-
বার্খান বালিয়াড়ি থেকে সিফ বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2017
উত্তর: শু
-
গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে অসংখ্য অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ দেখা যায়। Madhyamik 2015
উত্তর: শু
শূন্যস্থান পূরণ
-
যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে ভূমিরূপের বিবর্তন ও পরিবর্তন ঘটে, তাকে ________ বলে। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: বহির্জাত প্রক্রিয়া
-
নদী দ্বারা ________ পদ্ধতির সাহায্যে অদ্রবীভূত সুক্ষ বালু পলি ও কাদা পরিবাহিত হয়। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: ভাসমান
-
প্রপাতকূপ (প্লাঞ্জপুল) সৃষ্টি হয় ________ -এর পাদদেশে। Madhyamik 2024
উত্তর: জলপ্রপাতের
-
ফানেল আকৃতির চওড়া নদী মোহনাকে ________ বলে। Madhyamik 2023
উত্তর: খাঁড়ি
-
বালি দ্বারা গঠিত মরুভূমি সাহারায় ________ নামে পরিচিত। Madhyamik 2023
উত্তর: আর্গ
-
নীল নদের বদ্বীপ ________ আকৃতির। Madhyamik 2022
উত্তর: ধনুকাকৃতি
-
দুটি করির মধ্যবর্তী উচ্চ অংশকে ________ বলে। Madhyamik 2022
উত্তর: অ্যারেট (বা অ্যারেট)
-
নদীগর্ভে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট গর্তগুলিকে ________ বলে। Madhyamik 2019
উত্তর: মন্থকূপ
-
________ নদীর নাম অনুসারে নদীতে সৃষ্ট বাঁক 'মিয়েন্ডার' নামে পরিচিত। Madhyamik 2018
উত্তর: মিয়েন্ডারেস
-
হিমবাহ পৃষ্ঠে আড়াআড়ি ও সমান্তরাল ফাটলগুলিকে ________ বলে। Madhyamik 2018
উত্তর: ক্রেভাস
-
বিভিন্ন ধরনের বহির্জাত শক্তির দ্বারা ভূমিভাগের সমতলীকরণ ঘটলে তাকে ________ বলে। Madhyamik 2017
উত্তর: পর্যায়ন
-
হিমবাহ ও জলধারা বাহিত নুড়ি বালি কাঁকর ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপকে ________ বলে। Madhyamik 2017
উত্তর: এসকার
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
পর্বতের পাদদেশে নদীর কার্যের ফলে যে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: পলল শঙ্কু।
-
নদীর অবঘর্ষ বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: নদীর স্রোতের সঙ্গে বাহিত শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালির সঙ্গে নদীগর্ভ বা নদীপাড়ের সংঘর্ষের ফলে যে ক্ষয় হয়, তাকে অবঘর্ষ বলে।
-
চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যে কোন প্রক্রিয়ার প্রাধান্য দেখা যায়? Madhyamik 2024
উত্তর: দ্রবণ প্রক্রিয়া।
-
নগ্নীভবনের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2024
উত্তর: আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং ক্ষয়ীভবন—এই তিনটি প্রক্রিয়ার যৌথ প্রভাবে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তর অপসারিত হয়ে নীচের শিলাস্তর উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলে।
-
মন্থকূপ কিভাবে সৃষ্টি হয়। Madhyamik 2024 (বহিরাগত)
উত্তর: নদীর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীগর্ভের কোনো গর্তে বা ডোবায় বাহিত পাথরখন্ড আবদ্ধ হয়ে ঘুরতে ঘুরতে যে পাত্রের মতো গর্ত সৃষ্টি করে, তাকে মন্থকূপ বলে।
-
মরুভূমিতে যে শুষ্ক নদী উপত্যকা দেখা যায় তার নাম লেখো। Madhyamik 2023
উত্তর: ওয়াদি।
-
জলবিভাজিকার সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2023
উত্তর: যে উচ্চভূমি দুটি বা তার বেশি নদীগোষ্ঠীকে বা নদী অববাহিকাকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে (যেমন: পশ্চিমঘাট পর্বত)।
-
ইনসেলবার্জ কাকে বলে? Madhyamik 2023
উত্তর: মরু বা মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট অবশিষ্ট পাহাড়গুলি বা ঢিবিগুলি, যা সমপ্রায় ভূমি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে ইনসেলবার্জ বলে।
-
বাজাদার সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2023 (বহিরাগত)
উত্তর: মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশের প্লায়া হ্রদকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে যে প্রায় সমতলভূমি গড়ে ওঠে, তাকে বাজাদা বলে।
-
নদী বাঁকের কোন্ দিকে ক্ষয় বেশি ঘটে? Madhyamik 2022
উত্তর: অবতল বাঁকে বা খাড়া পাড়ে।
-
মেরু অঞ্চলে কোন্ উচ্চতায় হিমরেখা দেখা যায়। Madhyamik 2022
উত্তর: সমুদ্রপৃষ্ঠে (বা ০ মিটার)।
-
বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে সৃষ্ট বালিয়াড়িগুলির নাম লেখো। Madhyamik 2022
উত্তর: অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বা সিফ বালিয়াড়ি।
-
পর্যায়ণের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2022
উত্তর: ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়—এই তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্হিজাত শক্তিগুলি ভূপৃষ্ঠের উঁচু স্থানগুলিকে ক্ষয় করে এবং নীচু স্থানগুলিকে ভরাট করে যে সমতল বা প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত করে, তাকে পর্যায়ন বলে।
-
পলল শঙ্কু কী? Madhyamik 2022
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চল থেকে নদী যখন সমভূমিতে মেশে, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদী বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি পর্বতের পাদদেশে শঙ্কু বা ত্রিকোণাকার আকৃতিতে সঞ্চিত হয়ে পলল শঙ্কু গঠন করে।
-
পাদদেশীয় হিমবাহ বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2022
উত্তর: উচ্চ পর্বতের উপত্যকা হিমবাহ যখন পর্বতের পাদদেশে নেমে এসে বিস্তৃত সমভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ বলে (যেমন: আলাস্কার ম্যালাসপিনা)।
-
তির্যক বালিয়াড়ির সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2022
উত্তর: বায়ুপ্রবাহের সাথে আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে গড়ে ওঠা অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি বালিয়াড়িকে তির্যক বালিয়াড়ি বা বার্খান বালিয়াড়ি বলে।
-
ক্যানিয়ন কী? Madhyamik 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: শুষ্ক অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট অত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ 'I' আকৃতির গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলে (যেমন: কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
-
'বার্গস্রুন্ড' কাকে বলে? Madhyamik 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: পার্বত্য হিমবাহের শীর্ষদেশে হিমবাহ এবং পর্বতগাত্রের মধ্যে যে গভীর ও সংকীর্ণ ফাটল সৃষ্টি হয়, তাকে বার্গস্রুন্ড বলে।
-
'ইনসেলবার্জ' বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2022 (বহিরাগত)
উত্তর: মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট অবশিষ্ট, বিচ্ছিন্ন, কঠিন শিলাগঠিত পাহাড় বা ঢিবিকে ইনসেলবার্জ বলে।
-
মরুভূমির শুষ্ক নদীখাতকে কি বলে? Madhyamik 2019 (দৃষ্টিহীন)
উত্তর: ওয়াদি।
-
ধারণ অববাহিকা কাকে বলে? Madhyamik 2019 (বহিরাগত)
উত্তর: পার্বত্য অঞ্চলে মূল নদীর সঙ্গে বিভিন্ন উপনদীগুলি যে অঞ্চলের জল সংগ্রহ করে মূল নদীতে পাঠায়, সেই সমগ্র অঞ্চলটিকে মূল নদীর ধারণ অববাহিকা বলে।
-
সাহারায় বালুকাময় মরুভূমি কি নামে পরিচিত? Madhyamik 2018
উত্তর: আর্গ।
-
'অপসারণ গর্ত' কিভাবে সৃষ্টি হয়? Madhyamik 2018
উত্তর: মরু অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে শিথিল বালিকণা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অপসারিত হয়ে যে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারণ গর্ত বলে।
-
হিমশৈল কী? Madhyamik 2018
উত্তর: সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশাল আকৃতির বরফের স্তূপ বা চাঁইকে হিমশৈল বলে, যার ৯ ভাগের ১ ভাগ জলের উপরে ভাসে।
-
যে উচ্চভূমি দুটি নদী ব্যবস্থাকে পৃথক করে তার নাম লেখো। Madhyamik 2017
উত্তর: জলবিভাজিকা।
-
পাখির পায়ের মতো ব-দ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়? Madhyamik 2017
উত্তর: নদীর মোহনায় সূক্ষ্ম পলিরাশি সঞ্চিত হয়ে প্রধান নদী ও শাখানদীগুলি পাখির পায়ের মতো আকৃতিতে ছড়িয়ে পড়লে তাকে পাখির পায়ের মতো ব-দ্বীপ বলে (যেমন: মিসিসিপি-মিসৌরি নদীর ব-দ্বীপ)।
-
বার্গস্রুন্ড কী? Madhyamik 2017
উত্তর: পার্বত্য হিমবাহের শীর্ষদেশে হিমবাহ এবং পর্বতগাত্রের মধ্যে যে গভীর ও সংকীর্ণ ফাটল সৃষ্টি হয়, তাকে বার্গস্রুন্ড বলে।
-
বর্হিজাত প্রক্রিয়া কাকে বলে? Madhyamik 2017 (বহিরাগত)
উত্তর: যেসব প্রাকৃতিক শক্তি (যেমন - নদী, হিমবাহ, বায়ু, সমুদ্রতরঙ্গ) ভূপৃষ্ঠের বাইরে কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের বর্হিজাত প্রক্রিয়া বলে।
-
টীকা লেখো: মোনাডনক্ Madhyamik 2015
উত্তর: সমপ্রায় ভূমির উপর কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত, কম উচ্চতাযুক্ত, বিচ্ছিন্নভাবে দাঁড়িয়ে থাকা টিলা বা পাহাড়গুলিকে মোনাডনক্ বলে।
-
টীকা লেখো: পিন্ড বিশরণ Madhyamik 2015
উত্তর: মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার চরম পার্থক্যের জন্য শিলার বিভিন্ন খনিজ অসমভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হওয়ায় শিলাখণ্ডগুলি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। একে পিন্ড বিশরণ বা প্রস্তরচাই খণ্ডীকরণ বলে।
-
টীকা লেখো: গ্রাবরেখা Madhyamik 2015
উত্তর: হিমবাহ বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি, শিলাখণ্ড ইত্যাদি হিমবাহের প্রবাহপথে বা উপত্যকার বিভিন্ন অংশে সঞ্চিত হয়ে যে ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে গ্রাবরেখা বলে।
-
অবঘর্ষ ক্ষয় কিভাবে হয়? Madhyamik 2015
উত্তর: নদী/হিমবাহ/বায়ু বাহিত পাথর, নুড়ি, বালি প্রভৃতি যখন বাহিত হওয়ার পথে নদী/উপত্যকার তলদেশ ও পার্শ্বদেশকে ঘষে ক্ষয় করে, তখন তাকে অবঘর্ষ ক্ষয় বলে।
-
হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি 'U”-এর মতো হয় কেন? Madhyamik 2015
উত্তর: হিমবাহ যখন উপত্যকার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার বিশাল আয়তন ও ওজনের জন্য পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় প্রায় সমানভাবে ঘটে। এর ফলে নদী উপত্যকার 'V' আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে 'U' আকৃতিতে পরিণত হয়।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের সৃষ্টি চিত্রসহ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2025 (Sample)
সমভূমি প্রবাহে নদীর গতিবেগ কমে যাওয়ায় নদী সামান্য বাধা পেলেই এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। এই বাঁকগুলিকে মিয়েন্ডার বলে।
সৃষ্টির প্রক্রিয়া:
- নদীবাঁকের বাইরের অংশে (অবতল পাড়) জলের স্রোত বেশি থাকায় ক্ষয় হয় এবং ভেতরের অংশে (উত্তল পাড়) স্রোত কম থাকায় পলি সঞ্চয় হয়।
- ক্রমাগত ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে নদীবাঁকটি ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং দুটি বাঁকের মধ্যবর্তী অংশ খুব সংকীর্ণ হয়ে আসে।
- বন্যার সময় বা জলের পরিমাণ বাড়লে নদী তখন সংকীর্ণ অংশটি সোজাভাবে কেটে বেরিয়ে যায় এবং পুরনো বাঁকটি নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
- এই পরিত্যক্ত, ঘোড়ার খুরের মতো দেখতে হ্রদকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
(এই উত্তরের সাথে একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্র ও উদাহরণ সহযোগে আলোচনা করো। Madhyamik 2025 (Sample)
হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১. করি (Corrie/Cirque): পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের উৎপাটন ও অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে উপত্যকার শীর্ষভাগে হাতলযুক্ত চেয়ার বা বাটির মতো যে গভীর গহ্বরের সৃষ্টি হয়, তাকে করি বলে। ফ্রান্সে এটি 'সার্ক' নামে পরিচিত।
বৈশিষ্ট্য: এর তিনটি দিক খাড়া দেওয়ালযুক্ত হয় এবং একটি দিক খোলা থাকে।
উদাহরণ: আল্পস পর্বতের করি।২. অ্যারেট (Arete): দুটি পাশাপাশি করির মধ্যবর্তী খাড়া, সংকীর্ণ ও করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা শৈলশিরাকে অ্যারেট বলে।
উদাহরণ: আল্পস পর্বতের ম্যাটারহর্ন শৃঙ্গটি অ্যারেট দ্বারা গঠিত।৩. 'U' আকৃতির উপত্যকা (U-shaped Valley): পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ প্রবাহিত হওয়ার সময় অবঘর্ষ ও উৎপাটন প্রক্রিয়ায় পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমানভাবে করে। এর ফলে পূর্বের 'V' আকৃতির নদী উপত্যকা চওড়া ও খাড়া পাড়বিশিষ্ট 'U' আকৃতির উপত্যকায় পরিণত হয়।
উদাহরণ: হিমালয়, আল্পস প্রভৃতি পার্বত্য অঞ্চলে অনেক 'U' আকৃতির উপত্যকা দেখা যায়।(এই উত্তরের সাথে করি, অ্যারেট ও U-আকৃতির উপত্যকার চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো। Madhyamik 2024
শুষ্ক মরু অঞ্চলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১. গৌর (Gour): মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে থাকলে, বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে নীচের কোমল শিলা বেশি ক্ষয় পায় এবং উপরের কঠিন শিলা ব্যাঙের ছাতার মতো বা স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। একে গৌর বলে।
২. জিউগেন (Zeugen): মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে থাকলে, উপরের কঠিন শিলাস্তরের ফাটল দিয়ে আবহবিকারের প্রভাবে শিলা ফেটে যায়। পরে বায়ু সেই ফাটল দিয়ে প্রবেশ করে নীচের কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে। এর ফলে উপরের কঠিন শিলা চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত টিলার মতো এবং নীচের কোমল শিলা খাঁজযুক্ত ভূমিরূপ গঠন করে, যাকে জিউগেন বলে।
৩. ইয়ারদাং (Yardang): মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর উল্লম্বভাবে বা আড়াআড়িভাবে থাকলে, বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে কোমল শিলাস্তর বেশি ক্ষয় পেয়ে লম্বা ও গভীর খাঁজের সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলাস্তরগুলি খাড়া ও উঁচু শৈলশিরার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। একে ইয়ারদাং বলে।
(এই উত্তরের সাথে গৌর, জিউগেন ও ইয়ারদাং-এর চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
হিমরেখার উচ্চতা সর্বত্র এবং সব ঋতুতে সমান হয় না কেন? Madhyamik 2024
হিমরেখা হলো সেই কাল্পনিক উচ্চতার সীমানা যার উপরে সারাবছর বরফ জমে থাকে। এই উচ্চতা সর্বত্র ও সব ঋতুতে সমান না হওয়ার কারণগুলি হলো:
- ১. অক্ষাংশ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণতা বেশি হওয়ায় হিমরেখা অনেক উঁচুতে (প্রায় ৫৫০০ মিটার) থাকে, কিন্তু মেরু অঞ্চলে উষ্ণতা সারাবছর হিমাঙ্কের নীচে থাকায় হিমরেখা সমুদ্রপৃষ্ঠে (০ মিটার) অবস্থান করে।
- ২. ঋতু পরিবর্তন: গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা বাড়লে হিমরেখা উপরে উঠে যায়, আবার শীতকালে উষ্ণতা কমলে হিমরেখা নীচে নেমে আসে।
- ৩. ভূমির ঢাল: পর্বতের যে ঢালে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে, সেই ঢালে উষ্ণতা বেশি হওয়ায় হিমরেখা উঁচুতে থাকে। উল্টোদিকে, ছায়াচ্ছন্ন ঢালে হিমরেখা নীচে থাকে।
- ৪. তুষারপাতের পরিমাণ: যে অঞ্চলে তুষারপাতের পরিমাণ বেশি, সেখানে হিমরেখা নীচে থাকে, আর কম তুষারপাতের অঞ্চলে হিমরেখা উঁচুতে অবস্থান করে।
-
অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি ও তির্যক বালিয়াড়ির মধ্যে পার্থক্য লেখো। Madhyamik 2023 & 2019
বিষয় অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি (সিফ) তির্যক বালিয়াড়ি (বার্খান) গঠন বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে গঠিত হয়। বায়ুপ্রবাহের আড়াআড়ি বা তির্যকভাবে গঠিত হয়। আকৃতি লম্বা ও সংকীর্ণ, তরবারির মতো দেখতে। অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি, এর দুটি শিং থাকে। অবস্থান বায়ুপ্রবাহের গতিপথ নির্দিষ্ট ও প্রবল হলে এটি গঠিত হয়। বায়ুপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তিত হলে ও বালির জোগান সীমিত থাকলে গঠিত হয়। -
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও। Madhyamik 2023 & 2019 & 2015
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১. 'I' ও 'V' আকৃতির উপত্যকা (গিরিখাত ও ক্যানিয়ন): পার্বত্য অঞ্চলে নদীর স্রোত ও গভীরতা বেশি হওয়ায় নদী প্রধানত নিম্নক্ষয় করে। এর ফলে উপত্যকাটি গভীর ও সংকীর্ণ 'V' আকৃতির হয়।
গিরিখাত: আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে 'V' আকৃতির উপত্যকাকে গিরিখাত বলে।
ক্যানিয়ন: শুষ্ক অঞ্চলে নদী শুধুমাত্র নিম্নক্ষয় করায় 'I' আকৃতির যে গভীর উপত্যকা তৈরি হয়, তাকে ক্যানিয়ন বলে (যেমন: গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।২. জলপ্রপাত: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়িভাবে থাকলে, কোমল শিলা বেশি ক্ষয় পেয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি করে, যেখান থেকে জল সজোরে নীচে পড়ে। একে জলপ্রপাত বলে।
৩. মন্থকূপ (Pot-hole): নদীর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় নদীগর্ভের কোনো গর্তে বা ডোবায় বাহিত পাথরখন্ড আবদ্ধ হয়ে ঘুরতে ঘুরতে যে পাত্রের মতো গর্ত সৃষ্টি করে, তাকে মন্থকূপ বলে।
(এই উত্তরের সাথে 'V' আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত ও মন্থকূপের চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
উষ্ণ মরুঅঞ্চলে বায়ুর কার্যের প্রাধান্য দেখা যায় কেন, ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2022 & 2017
উষ্ণ মরুঅঞ্চলে বায়ুর কার্যের প্রাধান্যের কারণগুলি হলো:
- ১. বৃষ্টিপাতের অভাব: মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে (বার্ষিক ২৫ সেমি-এর কম), ফলে ভূমিরূপ পরিবর্তনে নদীর বা জলের ভূমিকা খুব কম।
- ২. উদ্ভিদহীনতা: বৃষ্টিপাতের অভাবে মরুভূমি প্রায় উদ্ভিদশূন্য। গাছপালার শিকড় মাটিকে ধরে রাখতে পারে না, ফলে শিথিল বালি ও মাটি সহজেই বায়ুর দ্বারা ক্ষয় ও অপসারিত হয়।
- ৩. যান্ত্রিক আবহবিকার: দিন ও রাতের তাপমাত্রার চরম পার্থক্যের জন্য যান্ত্রিক আবহবিকারে শিলাখণ্ড চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে বালি ও ছোটো পাথরে পরিণত হয়, যা বায়ুর ক্ষয়কাজের প্রধান উপাদান।
- ৪. বায়ুর বাধাহীন প্রবাহ: উদ্ভিদ বা জনবসতি না থাকায় মরু অঞ্চলে বায়ু প্রবল গতিতে বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হতে পারে এবং ভূমিরূপ গঠন করতে পারে।
-
উপনদী ও শাখানদীর মধ্যে পার্থক্য করো। Madhyamik 2022
বিষয় উপনদী শাখানদী সংজ্ঞা যেসব ছোটো নদী বিভিন্ন স্থান থেকে উৎপন্ন হয়ে এসে মূল নদীতে মেশে। মূল নদী থেকে যেসকল নদীশাখা বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও মেশে বা সাগরে পড়ে। প্রবাহ মূল নদীর দিকে জল নিয়ে আসে। মূল নদী থেকে জল বার করে নিয়ে যায়। অবস্থান মূলত পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। প্রধানত ব-দ্বীপ বা নিম্ন সমভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। উদাহরণ গঙ্গার উপনদী হলো যমুনা, শোন। গঙ্গার শাখানদী হলো পদ্মা, ভাগীরথী-হুগলি। -
নদী উপত্যকা ও হিমবাহ উপত্যকার তিনটি পার্থক্য উল্লেখ করো। Madhyamik 2022
বিষয় নদী উপত্যকা হিমবাহ উপত্যকা আকৃতি নিম্নক্ষয় বেশি হওয়ায় 'V' আকৃতির হয়। পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমান হওয়ায় 'U' আকৃতির হয়। ঢাল পার্শ্বঢাল খাড়া ও অবতল প্রকৃতির হয়। পার্শ্বঢাল খুব খাড়া এবং তলদেশ চওড়া ও সমতল হয়। শাখা উপত্যকা শাখা উপত্যকাগুলি মূল উপত্যকার সাথে একই উচ্চতায় মেশে। শাখা উপত্যকাগুলি (ঝুলন্ত উপত্যকা) মূল উপত্যকার উপর উঁচুতে ঝুলে থাকে। -
মধ্যগতিতে নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপের চিত্রসহ বর্ণনা দাও। Madhyamik 2022
মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহে নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি ভূমিরূপ হলো:
১. পলল শঙ্কু ও পলল ব্যজনী: পার্বত্য অঞ্চল থেকে নদী যখন সমভূমিতে মেশে, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ায় নদী বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি পর্বতের পাদদেশে শঙ্কু বা ত্রিকোণাকার আকৃতিতে সঞ্চিত হয়ে পলল শঙ্কু গঠন করে। একাধিক পলল শঙ্কু পরস্পর যুক্ত হয়ে হাতপাখার মতো দেখতে পলল ব্যজনী (Alluvial Fan) তৈরি করে।
২. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: সমভূমিতে নদীবাঁকের (মিয়েন্ডার) অবতল পাড়ে ক্ষয় এবং উত্তল পাড়ে সঞ্চয় চলতে থাকে। একসময় বাঁকটি খুব বেশি হয়ে গেলে নদী সোজা পথে প্রবাহিত হয় এবং পরিত্যক্ত বাঁকটি হ্রদে পরিণত হয়, যাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
৩. প্লাবনভূমি ও স্বাভাবিক বাঁধ: বর্ষাকালে বা বন্যার সময় নদী যখন দুকূল ছাপিয়ে উপত্যকায় প্লাবিত হয়, তখন নদীর বাহিত পলি, বালি সেই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সঞ্চিত হয়ে প্লাবনভূমি গঠন করে। নদীর দুই পাড়ে ক্রমাগত পলি সঞ্চিত হয়ে যে উঁচু বাঁধের মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।
(এই উত্তরের সাথে পলল ব্যজনী, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ এবং প্লাবনভূমি ও স্বাভাবিক বাঁধের চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
হিমবাহের সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপের সচিত্র বিবরণ দাও। Madhyamik 2022
হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হলো:
১. গ্রাবরেখা (Moraine): হিমবাহ বাহিত শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি ইত্যাদি উপত্যকার বিভিন্ন অংশে (যেমন- পাশে, সামনে, নীচে) সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে গ্রাবরেখা বলে। অবস্থানের ভিত্তিতে এটি পার্শ্ব গ্রাবরেখা, মধ্য গ্রাবরেখা, প্রান্ত গ্রাবরেখা ইত্যাদি নামে পরিচিত।
২. ড্রামলিন (Drumlin): হিমবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে উপত্যকার তলদেশে উল্টানো নৌকা বা চামচের মতো দেখতে যে ছোটো ছোটো টিলা বা ঢিবি গঠিত হয়, তাকে ড্রামলিন বলে। এর হিমবাহের প্রবাহের দিকটি অমসৃণ এবং বিপরীত দিকটি মসৃণ হয়।
৩. এসকার (Esker): হিমবাহ গলে যাওয়ার পর তার মধ্যে থাকা সুড়ঙ্গপথে বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে এসকার বলে।
(এই উত্তরের সাথে গ্রাবরেখা, ড্রামলিন ও এসকারের চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপের বর্ণনা দাও। Madhyamik 2022 & 2017
শুষ্ক মরু অঞ্চলে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি হলে জলধারা বায়ুর কাজের সঙ্গে মিলিতভাবে ভূমিরূপ গঠনে অংশ নেয়। প্রধান ভূমিরূপগুলি হলো:
১. পেডিমেন্ট (Pediment): মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে বায়ুর ক্ষয় এবং জলধারার মিলিত ক্ষয় ও সঞ্চয়ের ফলে যে মৃদু ঢালযুক্ত, প্রায় সমতল, প্রস্তরময় ভূমিরূপ গঠিত হয়, তাকে পেডিমেন্ট বলে।
২. বাজাদা (Bajada): পেডিমেন্টের পরবর্তী অংশে বা পর্বতের পাদদেশ থেকে দূরে জলধারা বাহিত সূক্ষ্ম পলি, বালি, নুড়ি সঞ্চিত হয়ে যে প্রায় সমতলভূমি গড়ে ওঠে, তাকে বাজাদা বলে।
৩. প্লায়া (Playa): মরু অঞ্চলের অবনমিত বা নীচু অংশে (যেখানে অপসারণ গর্ত থাকে) বৃষ্টির জল বা জলধারাগুলি এসে মিলিত হয়ে যে লবণাক্ত জলের হ্রদ সৃষ্টি করে, তাকে প্লায়া বলে। এগুলি অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী হয়।
৪. ওয়াদি (Wadi): মরু অঞ্চলের শুষ্ক নদীখাত, যা শুধুমাত্র প্রবল বৃষ্টি হলেই জলপূর্ণ হয়, তাকে ওয়াদি বলে।
-
নদীর মোহনায় বদ্বীপ কেন গড়ে ওঠে ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2018
নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠার অনুকূল কারণগুলি হলো:
- ১. পলিরাশির জোগান: নদীতে প্রচুর পরিমাণে পলি, বালি, কাদা বাহিত হয়ে আসতে হবে।
- ২. মৃদু ঢাল: মোহনা অঞ্চলে নদীর ঢাল বা গতিবেগ খুব কম হতে হবে, যাতে পলিরাশি থিতিয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
- ৩. সমুদ্রের গভীরতা: মোহনার কাছে সমুদ্র অগভীর হলে পলিরাশি দ্রুত ভরাট হয়ে বদ্বীপ গঠন করতে পারে।
- ৪. সমুদ্রস্রোতের প্রভাব: মোহনায় দুর্বল সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটার প্রভাব কম থাকলে পলিরাশি অপসারিত না হয়ে সঞ্চিত হতে পারে এবং বদ্বীপ গড়তে সাহায্য করে।
- ৫. লবণাক্ততা: সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে এলে নদীর পলির কণাগুলি সহজে জমাট বেঁধে থিতিয়ে পড়ে, যা বদ্বীপ গঠনে সাহায্য করে।
-
হিমবাহ ও জলধারার মিলিত সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট প্রধান ভূমিরূপগুলির চিত্রসহ বিবরণ দাও। Madhyamik 2018
হিমবাহ ও তার গলিত জলধারার মিলিত সঞ্চয়কার্যের ফলে (Fluvio-glacial deposits) গঠিত প্রধান ভূমিরূপগুলি হলো:
১. এসকার (Esker): হিমবাহ গলে যাওয়ার পর তার মধ্যে থাকা সুড়ঙ্গপথে বাহিত নুড়ি, কাঁকর, বালি ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, সংকীর্ণ ও আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপ তৈরি হয়, তাকে এসকার বলে।
২. কেম (Kame): হিমবাহের প্রান্তে বা ফাটলের মধ্যে জলধারা বাহিত পলি, বালি, নুড়ি ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিকোণাকার ব-দ্বীপের মতো ঢিবি বা টিলা গঠন করে, তাকে কেম বলে।
৩. কেটেল (Kettle): বহিঃবিধৌত সমভূমির মধ্যে অনেকসময় বড়ো বরফের চাঁই চাপা পড়ে থাকে। পরে সেই বরফ গলে গেলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে কেটেল বলে। এই গর্তে জল জমলে তাকে কেটেল হ্রদ বলে।
৪. বহিঃবিধৌত সমভূমি (Outwash Plain): হিমবাহের প্রান্তভাগে হিমবাহ গলা জলধারা বাহিত নুড়ি, বালি, কাদা ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠিত হয়, তাকে বহিঃবিধৌত সমভূমি বলে।
(এই উত্তরের সাথে এসকার, কেম ও কেটেল হ্রদের চিত্র অঙ্কন করা বাঞ্ছনীয়।)
-
প্লাবন ও বদ্বীপ সমভূমির উৎপত্তি উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। Madhyamik 2015
প্লাবনভূমি (Flood Plain): সমভূমি অঞ্চলে নদীর ঢাল কম থাকায় বর্ষাকালে বা বন্যার সময় নদী উপচে দুই কূল প্লাবিত করে। এই বন্যার জলের সঙ্গে বাহিত পলি, বালি, কাদা নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ ও উর্বর সমভূমি গঠন করে, তাকে প্লাবনভূমি বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু নদীর অববাহিকায় বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমি দেখা যায়।বদ্বীপ সমভূমি (Deltaic Plain): নদীর মোহনায়, অর্থাৎ যেখানে নদী সাগরে মেশে, সেখানে স্রোতের বেগ একেবারে কমে যাওয়ায় নদী বাহিত সমস্ত পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হতে থাকে। ক্রমাগত সঞ্চয়ের ফলে বাংলা 'ব' বা গ্রিক 'Δ' (ডেল্টা) অক্ষরের মতো যে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ বা সমভূমি গঠিত হয়, তাকে বদ্বীপ সমভূমি বলে।
উদাহরণ: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ (পৃথিবীর বৃহত্তম)।