অধ্যায় ৭: উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Class 10 Geography Solutions)
WBBSE-র দশম শ্রেণীর ভূগোল বইয়ের সপ্তম অধ্যায় 'উপগ্রহ চিত্র ও ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র'-এর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত (SAQ) এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর এখানে Madhyamik পরীক্ষার সাল উল্লেখ করে আলোচনা করা হলো।
Madhyamik বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলী (MCQ)
-
ভারতের উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করে Madhyamik 2025 (Sample)
-
উপগ্রহ চিত্রে নদী ও জলাশয় যে রং এর সাহায্যে নির্দেশ করা হয় তা হলো Madhyamik 2024
-
74M/7 মানচিত্রের সংখ্যাসূচক স্কেল হলো Madhyamik 2023
-
মিলিয়ন শীট ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাগত বিস্তার- Madhyamik 2019
-
ভারত থেকে প্রেরিত কৃত্রিম উপগ্রহ হল- Madhyamik 2018
-
১৫'×১৫' অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাগত বিস্তারের ভূ-বৈচিত্র্য সূচক মানচিত্রের সংখ্যাসূচক স্কেল (R.F) হল- Madhyamik 2017
Madhyamik অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলী (SAQ)
শুদ্ধ/অশুদ্ধ
-
ভূবৈচিত্র্য সূচক মানচিত্রে ভূমিভাগের দূরত্ব ও মানচিত্রের দূরত্বের অনুপাত স্কেলের দ্বারা নির্দেশিত হয়। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: শু
-
মহাকাশে প্রেরিত ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম অ্যাপেলো। Madhyamik 2024
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: আর্যভট্ট)।
-
উপগ্রহ চিত্র ব্যাখ্যার জন্য কম্পিউটারের ব্যবহার আবশ্যিক। Madhyamik 2023
উত্তর: শু
-
উপগ্রহ চিত্রে লালবর্ণের রেখার সাহায্যে সড়কপথ বোঝানো হয়। Madhyamik 2019
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: FCC-তে উদ্ভিদ জগতকে লাল দেখায়, সড়কপথ নীলচে সাদা দেখায়)।
-
মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ যেখান থেকে চালু হয় তা হলো 'প্ল্যাটফর্ম'। Madhyamik 2018
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা লঞ্চ স্টেশন)।
-
উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন প্রতীকের সাহায্যে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলি বোঝানো হয়। Madhyamik 2017
উত্তর: অ (সঠিক উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে প্রতীক ব্যবহৃত হয়)।
শূন্যস্থান পূরণ
-
উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম এককের নাম ________। Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: পিক্সেল (Pixel)
একটি বা দুটি শব্দে উত্তর
-
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে প্রদত্ত R. F. যখন ১ঃ ৫০০০০ তখন এর মেট্রিক স্কেল কতো? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: ২ সেমিতে ১ কিমি (বা ১ সেমিতে ০.৫ কিমি)।
-
'ফলস্ কালার' (ছদ্ম রঙ) বলতে কী বোঝো? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রে কোনো বস্তুকে তার প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য একটি নির্দিষ্ট রঙে (যেমন সবুজ উদ্ভিদকে লাল রঙে) উপস্থাপন করাকে ফলস্ কালার বা ছদ্ম রঙ (FCC) বলে।
-
উপগ্রহের সেন্সর কী? Madhyamik 2025 (Sample)
উত্তর: সেন্সর হলো কৃত্রিম উপগ্রহে রাখা একটি বিশেষ ক্যামেরা বা যন্ত্র, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত সৌরশক্তি বা বিকিরিত তাপ শক্তিকে গ্রহণ করে ও ডিজিটাল তথ্যে রূপান্তর করে।
-
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয় তার নাম লেখো। Madhyamik 2024
উত্তর: সমোন্নতি রেখা (Contour Line)।
-
দূর সংবেদনের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2024 & 2017
উত্তর: কোনো বস্তু বা স্থানকে স্পর্শ না করে দূর থেকে সেন্সরের (যেমন - ক্যামেরা, স্ক্যানার) সাহায্যে সেই বস্তু বা স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং বলে।
-
ভারতের কোন্ সংস্থা ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রস্তুত করে? Madhyamik 2023
উত্তর: ভারতের জরিপ সংস্থা বা সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Survey of India)।
-
উপগ্রহ চিত্রের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2023 & 2019
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর কোনো স্থানের যে আলোকচিত্র বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়, এবং যা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ব্যবহার করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে।
-
মিলিয়ন শীট বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2023
উত্তর: ১:১,০০০,০০০ (এক ইঞ্চিতে প্রায় ১৬ মাইল) স্কেলে, ৪° অক্ষাংশ ও ৪° দ্রাঘিমাংশ বিস্তারে আঁকা ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রকে মিলিয়ন শীট বলে।
-
ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে নিত্যবহ নদী কোন রং এর সাহায্যে দেখানো হয়? Madhyamik 2023 (বহিরাগত) & 2017 (বহিরাগত)
উত্তর: নীল রঙ।
-
'ভারতের জরিপ সংস্থা'র (Survey of India) প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত? Madhyamik 2019
উত্তর: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে।
-
ভগ্নাংশসূচক স্কেলের (R.F.) ব্যবহার উল্লেখ করো। Madhyamik 2019
উত্তর: ভগ্নাংশসূচক স্কেল (Representative Fraction) বা R.F. হলো মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমিভাগের প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত। এর প্রধান ব্যবহার হলো যেকোনো দেশের মানুষ সহজে স্কেল বুঝতে পারে এবং মানচিত্রকে ছোট বা বড় করা সহজ হয়।
-
কোন্ মানচিত্রে সমোন্নতি রেখার সাহায্যে ভূপ্রকৃতি বোঝানো হয়। Madhyamik 2018
উত্তর: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে (Topographical Map)।
-
উপগ্রহ চিত্র বলতে কি বোঝো? Madhyamik 2018
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবীর কোনো স্থানের যে আলোকচিত্র বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়, এবং যা কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ব্যবহার করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে।
-
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের সংজ্ঞা দাও। Madhyamik 2018
উত্তর: নির্দিষ্ট স্কেল ও অভিক্ষেপের ভিত্তিতে কোনো অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য (ভূপ্রকৃতি, নদনদী) এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য (রাস্তা, জনবসতি) বিস্তারিতভাবে দেখানোর জন্য যে মানচিত্র তৈরি করা হয়, তাকে ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বলে।
-
বামদিকের সাথে ডানদিকেরগুলি মিলিয়ে লেখো: ২.৪.১ ইসরো Madhyamik 2017
উত্তর: ২.৪.১ ইসরো (ISRO) - (৩) ভারতের রকেট উৎক্ষেপণ সংস্থা।
-
জিওস্টেশনারী উপগ্রহ কী? Madhyamik 2017
উত্তর: যে-সকল কৃত্রিম উপগ্রহ নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর আবর্তন গতির (২৪ ঘন্টা) সাথে সমান গতিতে পৃথিবীকে পরিক্রমণ করে এবং পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় সেগুলি আকাশে এক জায়গায় স্থির আছে, তাদের জিওস্টেশনারী উপগ্রহ বা ভূ-সমলয় উপগ্রহ বলে (যেমন - INSAT)।
Madhyamik রচনাধর্মী প্রশ্নাবলী
-
উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো। Madhyamik 2025 (Sample) & 2019
উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো:
- ১. বিস্তৃত পরিধি (Synoptic View): উপগ্রহগুলি অনেক উঁচু থেকে ছবি তোলে, তাই একটি মাত্র চিত্রে অনেক বড়ো এলাকাকে (যেমন - একটি সম্পূর্ণ রাজ্য বা দেশ) দেখা যায়।
- ২. পর্যায়ক্রমিক তথ্য সংগ্রহ (Repetitive Coverage): একটি উপগ্রহ নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর একই স্থানের উপর দিয়ে পরিক্রমণ করে, ফলে সেই স্থানের পরিবর্তনশীল তথ্যাবলী (যেমন - বন্যার বিস্তার, ফসলের বৃদ্ধি) নিয়মিতভাবে পাওয়া যায়।
- ৩. ডিজিটাল তথ্য (Digital Data): উপগ্রহ চিত্রগুলি পিক্সেল (Pixel) নামক ক্ষুদ্রতম এককের সমন্বয়ে গঠিত ডিজিটাল তথ্য হিসাবে পাওয়া যায়, যা কম্পিউটারের মাধ্যমে খুব সহজে ও দ্রুত বিশ্লেষণ করা যায় এবং প্রয়োজনমতো পরিবর্তন (যেমন - FCC) করা যায়।
-
ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি প্রধান সুবিধা আলোচনা করো। Madhyamik 2025 (Sample)
ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের (Topographical Map) প্রধান তিনটি সুবিধা হলো:
- ১. ভূমিরূপ সম্পর্কে ধারণা: এই মানচিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সমোন্নতি রেখা (Contour lines)। এই রেখাগুলির মাধ্যমে কোনো অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, উচ্চতা, ঢাল এবং ভূমিরূপ (যেমন - পাহাড়, মালভূমি, উপত্যকা) সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।
- ২. বিস্তারিত তথ্য: এই মানচিত্রে নির্দিষ্ট স্কেলে একটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক (নদী, অরণ্য) এবং সাংস্কৃতিক (রাস্তা, সেতু, জনবসতি, মন্দির) বৈশিষ্ট্যগুলি প্রচলিত প্রতীক চিহ্নের মাধ্যমে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়।
- ৩. পরিকল্পনা ও সামরিক কাজে ব্যবহার: রাস্তাঘাট, বাঁধ, শহর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণে এবং সামরিক কার্যকলাপ ও কৌশল নির্ধারণে এই মানচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এটি ভূমির সঠিক অবস্থা তুলে ধরে।
-
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের তিনটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো। Madhyamik 2024 & 2018
বিষয় ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Toposheet) উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) সংগ্রহ পদ্ধতি এটি সাধারণত ভূমি জরিপ (Field Survey) বা বিমানচিত্রের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এটি হাতে আঁকা বা মুদ্রিত মানচিত্র। এটি মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের মাধ্যমে গৃহীত একটি আলোকচিত্র বা ডিজিটাল তথ্য। তথ্য উপস্থাপন এতে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলি প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন ও রঙের মাধ্যমে দেখানো হয়। (যেমন - সমোন্নতি রেখা, মন্দির, সেতু)। এতে বৈশিষ্ট্যগুলি পিক্সেল (Pixel) হিসাবে ডিজিটাল তথ্য রূপে থাকে এবং বাস্তব চিত্রের মতো দেখায় (বা FCC-তে ছদ্ম রঙে)। সময় এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে জরিপ করে তৈরি করা হয়, তাই এটি পুরনো তথ্য (Historical Data) বহন করে। এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে (বাস্তব সময়ের কাছাকাছি বা Real Time) তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তাই এটি সাম্প্রতিকতম তথ্য প্রদান করে। -
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের স্কেলের উল্লেখ করো। Madhyamik 2024 & 2017
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে বিভিন্ন তথ্য দেখানোর জন্য প্রধানত তিন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়:
- ১. বিবৃতিমূলক স্কেল (Statement Scale): যখন স্কেলকে কথায় লিখে প্রকাশ করা হয়। যেমন - "১ সেমিতে ১ কিমি" বা "1 cm to 1 km"। এটি সবচেয়ে সহজবোধ্য পদ্ধতি।
- ২. ভগ্নাংশসূচক স্কেল (Representative Fraction বা R.F.): যখন মানচিত্রের দূরত্ব ও ভূমিভাগের প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে একটি ভগ্নাংশ (লব ও হর উভয়ই একই এককে) হিসাবে প্রকাশ করা হয়। যেমন - ১:৫০,০০০ (এর অর্থ মানচিত্রের ১ একক = ভূমিভাগের ৫০,০০০ একক)। এটি একটি একক-বিহীন স্কেল।
- ৩. রৈখিক স্কেল (Linear Scale বা Graphic Scale): যখন একটি সরলরেখাকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মান (যেমন - কিমি, মাইল) লিখে দেওয়া হয়। মানচিত্র ছোট বা বড় করলেও এই স্কেল আনুপাতিকভাবে সঠিক থাকে, তাই এর ব্যবহার খুব গুরুত্বপূর্ণ।
-
দূর সংবেদন ব্যবস্থার গুরুত্ব আলোচনা করো। Madhyamik 2023
দূর সংবেদন বা রিমোট সেন্সিং ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রধান গুরুত্বগুলি হলো:
- ১. প্রাকৃতিক সম্পদ সমীক্ষা: কোনো অঞ্চলে কী পরিমাণ খনিজ সম্পদ, অরণ্য সম্পদ বা জলসম্পদ রয়েছে, তা দূর সংবেদনের মাধ্যমে সহজেই জানা যায় এবং সম্পদ আহরণের পরিকল্পনা করা যায়।
- ২. দুর্যোগ মোকাবিলা: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া, দুর্যোগের ফলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হলো তা নির্ণয় করা এবং দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকরী।
- ৩. ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা: কোনো জমি কৃষিকাজের উপযুক্ত, নাকি শিল্প বা জনবসতির উপযুক্ত, তা উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ভূমি ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনা (Land Use Planning) করা যায়।
- ৪. দুর্গম অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ: যেসকল অঞ্চল (যেমন - গভীর অরণ্য, উঁচু পর্বত, মেরু অঞ্চল) মানুষের পক্ষে দুর্গম, সেই সব স্থানের তথ্য দূর সংবেদনের মাধ্যমে সহজেই সংগ্রহ করা যায়।
-
ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি ব্যবহার উল্লেখ করো। Madhyamik 2023 & 2018
ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের তিনটি প্রধান ব্যবহার হলো:
- ১. সামরিক পরিকল্পনা: দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক অভিযানে ভূপ্রকৃতি, ঢাল, নদীর অবস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অপরিহার্য। সামরিক বাহিনী কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করতে এই মানচিত্র ব্যবহার করে।
- ২. পরিকল্পনা ও উন্নয়ন: কোনো অঞ্চলে রাস্তা, রেলপথ, বাঁধ, সেচখাল নির্মাণ বা শহর ও শিল্প স্থাপনের আগে সেই স্থানের ভূপ্রকৃতি, জলের উৎস, জনবসতির বিন্যাস ইত্যাদি জানা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনায় টোপোশীট মূল ভিত্তি হিসাবে কাজ করে।
- ৩. শিক্ষামূলক ও গবেষণামূলক কাজ: ভূগোল, ভূতত্ত্ব বা পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকরা কোনো অঞ্চলের ভূমিরূপ, নদনদী, অরণ্য বা জনবসতির বিন্যাস সম্পর্কে জানতে ও গবেষণা করতে এই মানচিত্র ব্যবহার করেন।
-
দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি উল্লেখ করো। Madhyamik 2019
দূর সংবেদন ব্যবস্থার সুবিধা:
- ১. দ্রুত তথ্য সংগ্রহ: এই ব্যবস্থায় খুব কম সময়ে পৃথিবীর বিশাল অঞ্চলের তথ্য (Data) সংগ্রহ করা যায়।
- ২. দুর্গম স্থানের তথ্য: উঁচু পর্বত, গভীর অরণ্য, মেরু অঞ্চল বা শত্রুপক্ষের দেশের মতো দুর্গম ও বিপজ্জনক স্থানের তথ্যও সহজে সংগ্রহ করা যায়।
- ৩. পর্যায়ক্রমিক তথ্য: একটি উপগ্রহ নির্দিষ্ট সময় অন্তর একই স্থানের তথ্য পাঠায়, ফলে কোনো স্থানের পরিবর্তন (যেমন - বন্যার বিস্তার) পর্যবেক্ষণ করা যায়।
- ৪. দুর্যোগ মোকাবিলা: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, দাবানলের মতো দুর্যোগের পূর্বাভাস ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে এটি অপরিহার্য।
দূর সংবেদন ব্যবস্থার অসুবিধা:
- ১. ব্যয়বহুল: কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, তথ্য গ্রহণ কেন্দ্র (Ground Station) স্থাপন এবং তথ্য বিশ্লেষণের ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
- ২. প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: মেঘাচ্ছন্ন বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় প্যাসিভ সেন্সর (ক্যামেরা) ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে তথ্য সংগ্রহে বাধা আসে। (যদিও অ্যাক্টিভ সেন্সর বা রাডার এই বাধা অতিক্রম করতে পারে)।
- ৩. তথ্য বিশ্লেষণ: উপগ্রহ চিত্র থেকে সঠিক তথ্য বের করার জন্য জটিল সফ্টওয়্যার এবং উচ্চ প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়।
-
উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি ব্যাবহার আলোচনা করো। Madhyamik 2017
উপগ্রহ চিত্রের প্রধান তিনটি ব্যবহার হলো:
- ১. আবহাওয়ার পূর্বাভাস: উপগ্রহ চিত্র মেঘের অবস্থান, গতিবিধি, বায়ুচাপের পার্থক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়, বৃষ্টিপাত বা আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস দিতে সাহায্য করে।
- ২. প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান: ভূপৃষ্ঠের নীচে কোথায় খনিজ তেল, গ্যাস বা অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদ থাকতে পারে, অথবা কোথায় ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার রয়েছে, তা উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যায়।
- ৩. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভূমি ব্যবহার: বন্যা বা খরা প্রবণ অঞ্চল চিহ্নিত করা, দুর্যোগের সময় কতটা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলো তা জানা, এবং কোনো জমি কৃষিকাজ, বনসৃজন বা শহর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত তা পরিকল্পনা করতে উপগ্রহ চিত্র ব্যবহার করা হয়।