পরিবেশ ও পরিবহণ

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)

'পরিবেশ ও পরিবহণ' অধ্যায়ে মানুষের চলাফেরার বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রাচীনকালে পায়ে হাঁটা, পালকি, গোরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বাস, ট্রেন, সাইকেল, মোটরগাড়ি পর্যন্ত পরিবহণ ব্যবস্থার যাত্রাপথ তুলে ধরা হয়েছে। জলপথে ভেলা, নৌকা, পানসি থেকে আজকের ভুটভুটি, লঞ্চ, স্টিমারের বিবর্তনও দেখানো হয়েছে। অধ্যায়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা এবং পথ নিরাপত্তা। সাইকেলকে কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব যান বলা হয়, তা ধোঁয়া ও দূষণের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কলকাতার মতো বড় শহরে পথচারী ও চালকদের জন্য ট্র্যাফিক নিয়ম, যেমন—সিগন্যাল মানা, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, ফুটপাথ দিয়ে হাঁটা, হেলমেট ও সিটবেল্ট পরা ইত্যাদির গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। সবশেষে, গণ পরিবহণ হিসেবে ট্রেনের ভূমিকা এবং ভারতে তার ইতিহাস নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)

পালকি

কাঠের তৈরি একটি বাক্স-সদৃশ যান যা চারজন বাহক কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যেত। আগেকার দিনে ধনী ব্যক্তিরা এতে যাতায়াত করতেন।

পানসি

ডিঙিনৌকার মতো দেখতে কিন্তু তার চেয়ে লম্বাটে ও হালকা এক ধরনের পালতোলা নৌকা।

হাল ও পাল

হাল: নৌকার পিছনে থাকা একটি যন্ত্র যা দিয়ে নৌকার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাল: নৌকার মাস্তুলে খাটানো বড় কাপড় যা বাতাসে ধাক্কা লেগে নৌকাকে চলতে সাহায্য করে।

পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ

যেসব যানবাহন চালাতে জীবাশ্ম জ্বালানি (পেট্রোল-ডিজেল) লাগে না এবং যা থেকে কোনো ধোঁয়া বা দূষণ ছড়ায় না, তাদের পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ বলে। যেমন: সাইকেল, পায়ে টানা রিকশা।

ট্র্যাফিক সিগন্যাল

রাস্তার মোড়ে থাকা লাল, হলুদ ও সবুজ আলো যা দিয়ে গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

জেব্রা ক্রসিং

রাস্তার উপর সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ দেওয়া নির্দিষ্ট অংশ যেখান দিয়ে পথচারীরা নিরাপদে রাস্তা পারাপার করতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স

সরকারিভাবে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র। নির্দিষ্ট পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলে তবেই এই লাইসেন্স পাওয়া যায়।

স্টিম ইঞ্জিন

কয়লা পুড়িয়ে জলকে বাষ্পে পরিণত করে সেই বাষ্পের চাপে যে ইঞ্জিন চালানো হতো, তাকে স্টিম ইঞ্জিন বলে। আগেকার দিনে ট্রেনে এই ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতো।

প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. বাস আবিষ্কারের আগে সাধারণ মানুষ দূরে যাওয়ার জন্য কী ব্যবহার করত?




সঠিক উত্তর: C. গোরুর গাড়ি

বিশ্লেষণ: পালকি বা ঘোড়ার গাড়ির খরচ বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ দূরে যাওয়ার জন্য ধীরগতির হলেও গোরুর গাড়িই বেশি ব্যবহার করত।

২. চারজন লোক কাঁধে করে কোন যানটি বইত?




সঠিক উত্তর: B. পালকি

বিশ্লেষণ: পালকি হল কাঠের তৈরি একটি যান যা বেহারা বা বাহকেরা কাঁধে করে বহন করত।

৩. কলকাতায় মানুষ টানা রিকশা কবে থেকে যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত হতে শুরু করে?




সঠিক উত্তর: B. ১৯১৪ সাল

বিশ্লেষণ: ১৯০০ সালে কলকাতায় রিকশা এলেও প্রথমে মালপত্র বয়নের কাজে লাগত। ১৯১৪ সাল থেকে এটি মানুষ পরিবহণের কাজে ব্যবহার শুরু হয়।

৪. নৌকার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?




সঠিক উত্তর: C. হাল

বিশ্লেষণ: হাল অনেকটা সাইকেলের হ্যান্ডেলের মতো কাজ করে, যা দিয়ে নৌকাকে ডাইনে বা বাঁয়ে ঘোরানো হয়।

৫. নৌকার পালে বাতাস লাগলে কী হয়?




সঠিক উত্তর: C. নৌকা hızlı চলতে পারে

বিশ্লেষণ: পাল বাতাসে ধাক্কা খায় এবং বাতাসের শক্তিতে নৌকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৬. লঞ্চ বা ভুটভুটিতে কী লাগানো থাকে?




সঠিক উত্তর: B. ডিজেল ইঞ্জিন

বিশ্লেষণ: লঞ্চ বা ভুটভুটির মতো আধুনিক জলযানগুলি ডিজেল ইঞ্জিনের শক্তিতে চলে।

৭. কোন যানটি সব ধরনের রাস্তায় চলতে পারে?




সঠিক উত্তর: C. সাইকেল

বিশ্লেষণ: সাইকেল সরু বা ভাঙা রাস্তা, এমনকি সরু সেতু দিয়েও চলতে পারে, যেখানে বড় গাড়ি চলতে পারে না।

৮. কোনটি পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা?




সঠিক উত্তর: C. সাইকেল

বিশ্লেষণ: সাইকেল চালাতে পেট্রোল বা ডিজেল লাগে না, তাই এর থেকে কোনো ধোঁয়া বের হয় না এবং পরিবেশ দূষিত হয় না।

৯. গাড়ির ধোঁয়ায় থাকা বিষাক্ত গ্যাস কীসের ক্ষতি করে?




সঠিক উত্তর: D. সবকটিই

বিশ্লেষণ: গাড়ির ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে, গাছের পাতায় জমে সালোকসংশ্লেষ বাধা দেয় এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট সহ নানা রোগের কারণ হয়।

১০. পথচারীদের রাস্তা পার হওয়ার জন্য রাস্তার উপর কীসের দাগ থাকে?




সঠিক উত্তর: B. জেব্রা ক্রসিং

বিশ্লেষণ: রাস্তার উপর সাদা-কালো ডোরাকাটা জেব্রা ক্রসিং পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট করা থাকে।

১১. ট্র্যাফিক সিগন্যালে লাল আলোর অর্থ কী?




সঠিক উত্তর: A. গাড়ি থামাও

বিশ্লেষণ: ট্র্যাফিক সিগন্যালে লাল আলো জ্বললে গাড়ি চালককে নির্দিষ্ট দাগের আগে গাড়ি থামাতে হয়।

১২. হাঁটার জন্য রাস্তার পাশে যে উঁচু জায়গা থাকে, তাকে কী বলে?




সঠিক উত্তর: B. ফুটপাথ

বিশ্লেষণ: পথচারীদের নিরাপদে হাঁটার জন্য রাস্তার পাশে যে বাঁধানো উঁচু অংশ থাকে, তাকে ফুটপাথ বলে।

১৩. গাড়ি চালানোর জন্য সরকারি অনুমতিপত্রকে কী বলে?




সঠিক উত্তর: C. ড্রাইভিং লাইসেন্স

বিশ্লেষণ: পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার পর সরকার গাড়ি চালানোর যে ছাড়পত্র বা অনুমতিপত্র দেয়, তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স বলে।

১৪. মোটরসাইকেল চালানোর সময় মাথায় কী পরা উচিত?




সঠিক উত্তর: B. হেলমেট

বিশ্লেষণ: দুর্ঘটনায় মাথার আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়েরই ISI চিহ্নযুক্ত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।

১৫. কলকাতায় কোন যানটি বিদ্যুতের সাহায্যে চলে এবং দূষণ কম ছড়ায়?




সঠিক উত্তর: B. ট্রাম

বিশ্লেষণ: ট্রাম বিদ্যুতের সাহায্যে চলে, তাই এর থেকে কোনো ধোঁয়া বের হয় না এবং এটি একটি পরিবেশ-বান্ধব গণ পরিবহণ।

১৬. ভারতে প্রথম ট্রেন কবে চলেছিল?




সঠিক উত্তর: C. ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল

বিশ্লেষণ: ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল মুম্বাই থেকে থানে পর্যন্ত ভারতে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চলেছিল।

১৭. পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ট্রেন কোথা থেকে কোথা পর্যন্ত চলেছিল?




সঠিক উত্তর: C. হাওড়া থেকে হুগলি

বিশ্লেষণ: ১৮৫৪ সালে পূর্ব ভারতে প্রথম ট্রেন চলেছিল হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত।

১৮. আগেকার দিনে ট্রেনে কোন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হতো?




সঠিক উত্তর: C. স্টিম ইঞ্জিন (বাষ্পীয় ইঞ্জিন)

বিশ্লেষণ: আগে কয়লা পুড়িয়ে জলকে বাষ্প করে সেই বাষ্পের চাপে স্টিম ইঞ্জিন চালানো হতো।

১৯. 'পথের পাঁচালী' সিনেমাটি কে বানিয়েছিলেন?




সঠিক উত্তর: C. সত্যজিৎ রায়

বিশ্লেষণ: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় এই বিখ্যাত সিনেমাটি তৈরি করেন।

২০. রাস্তার নীচে দিয়ে পথচারী পারাপারের রাস্তাকে কী বলে?




সঠিক উত্তর: C. সাবওয়ে

বিশ্লেষণ: ব্যস্ত রাস্তায় নিরাপদে পারাপারের জন্য রাস্তার নীচে দিয়ে তৈরি সুড়ঙ্গ পথকে সাবওয়ে বলে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

প্রশ্ন ১: আগেকার দিনে ব্যবহৃত হত এমন দুটি স্থলযানের নাম লেখো।

উত্তর: আগেকার দিনে ব্যবহৃত হত এমন দুটি স্থলযান হল পালকি এবং গোরুর গাড়ি।

প্রশ্ন ২: জলপথে পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত দুটি পুরনো যানের নাম লেখো।

উত্তর: জলপথে ব্যবহৃত দুটি পুরনো যান হল ভেলা এবং পালতোলা নৌকা।

প্রশ্ন ৩: নৌকার পাল ও হালের কাজ কী?

উত্তর: পাল: বাতাসে ধাক্কা লেগে নৌকাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। হাল: নৌকার দিক পরিবর্তন করতে বা সোজা পথে চলতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন ৪: সাইকেলকে পরিবেশ-বান্ধব যান বলা হয় কেন?

উত্তর: সাইকেল চালাতে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল) লাগে না, ফলে এটি থেকে কোনো ধোঁয়া বা বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় না। তাই সাইকেল একটি পরিবেশ-বান্ধব যান।

প্রশ্ন ৫: গাড়ির ধোঁয়া থেকে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হয়?

উত্তর: গাড়ির ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে, অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হয়, গাছের ক্ষতি করে এবং মানুষের শ্বাসকষ্ট সহ নানা রোগের সৃষ্টি করে।

প্রশ্ন ৬: পথ নিরাপত্তা বা Road Safety বলতে কী বোঝো?

উত্তর: রাস্তায় পথচারী, চালক এবং যাত্রীদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে চলা হয়, তাকেই পথ নিরাপত্তা বা Road Safety বলে।

প্রশ্ন ৭: জেব্রা ক্রসিং কী? এর ব্যবহার কী?

উত্তর: রাস্তার উপর সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ দেওয়া অংশটি হল জেব্রা ক্রসিং। পথচারীরা নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য এটি ব্যবহার করে।

প্রশ্ন ৮: গাড়ি চালানোর সময় কী কী নিয়ম মেনে চলা উচিত?

উত্তর: গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট পরা, ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, নির্দিষ্ট গতিবেগে গাড়ি চালানো এবং মোবাইল ফোনে কথা না বলা উচিত।

প্রশ্ন ৯: ভারতে কবে, কোথা থেকে কোথায় প্রথম ট্রেন চলেছিল?

উত্তর: ভারতে প্রথম ট্রেন চলেছিল ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল, বোম্বে (এখন মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত।

প্রশ্ন ১০: স্টিম ইঞ্জিন কীভাবে চলত?

উত্তর: কয়লা পুড়িয়ে জলকে বাষ্পে পরিণত করা হতো এবং সেই বাষ্পের প্রচণ্ড চাপে পিস্টনের সাহায্যে ট্রেনের চাকা ঘোরানো হতো। এভাবেই স্টিম ইঞ্জিন চলত।

প্রশ্ন ১১: দুটি বাসের রেষারেষি বিপজ্জনক কেন?

উত্তর: রেষারেষি করার সময় চালকরা গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সিগন্যাল বা পথচারীদের খেয়াল করে না, ফলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রশ্ন ১২: ফুটব্রিজ ও সাবওয়ে কেন ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর: ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির সামনে দিয়ে পারাপারের ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার জন্য ফুটব্রিজ (রাস্তার উপরের پل) ও সাবওয়ে (রাস্তার নীচের সুড়ঙ্গ) ব্যবহার করা উচিত।

প্রশ্ন ১৩: "No Helmet, No Fuel" – এই নীতির অর্থ কী?

উত্তর: এর অর্থ হল, মোটরসাইকেল চালকের মাথায় হেলমেট না থাকলে পেট্রোল পাম্প থেকে তাকে পেট্রোল বা কোনো জ্বালানি দেওয়া হবে না। এটি হেলমেট পরাকে বাধ্যতামূলক করার একটি পদক্ষেপ।

প্রশ্ন ১৪: ট্রেনের চাকা লাইন থেকে বেরিয়ে যায় না কেন?

উত্তর: ট্রেনের চাকার ভিতরের দিকে খাঁজ বা ফ্ল্যাঞ্জ থাকে, যা রেললাইনকে আঁকড়ে ধরে রাখে। এর ফলে ট্রেন লাইন থেকে বেরিয়ে যেতে পারে না।

প্রশ্ন ১৫: অ্যাম্বুলেন্সকে কেন আগে रास्ता ছেড়ে দেওয়া উচিত?

উত্তর: অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী থাকে, যার দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। তাই মানবিকতার খাতিরে এবং আইন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্সকে আগে रास्ता ছেড়ে দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন ১৬: কলকাতায় কোন কোন পরিবেশ-বান্ধব যান চলাচল করে?

উত্তর: কলকাতায় ট্রাম, মেট্রো রেল এবং সাইকেলের মতো পরিবেশ-বান্ধব যান চলাচল করে।

প্রশ্ন ১৭: বাসে ওঠার ও নামার সঠিক নিয়ম কী?

উত্তর: নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে বাস পুরোপুরি থামলে তবেই ওঠা-নামা করা উচিত। চলন্ত বাসে বা যেখানে-সেখানে ওঠা-নামা করা বিপজ্জনক।

প্রশ্ন ১৮: মেঘলা দিনে বা কুয়াশায় গাড়ি আস্তে চালাতে হয় কেন?

উত্তর: মেঘলা দিনে বা কুয়াশায় আলো কম থাকার কারণে রাস্তা স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। তাই দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য গাড়ি আস্তে চালানো উচিত।

প্রশ্ন ১৯: ট্রেনে চড়ার ফলে মানুষের মধ্যে মেলামেশা কীভাবে সহজ হল?

উত্তর: ট্রেনে বিভিন্ন অঞ্চলের ও বিভিন্ন জাতের মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করত। এর ফলে তাদের মধ্যে ভেদাভেদ দূর হয়ে একে অপরের সাথে মেলামেশার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

প্রশ্ন ২০: 'সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ' – কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: কথাটির অর্থ হল "সাবধানে গাড়ি চালান, জীবন বাঁচান"। এটি পথ নিরাপত্তা বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক বার্তা।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: পুরনো দিনের পরিবহণ ব্যবস্থা ও আজকের পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর: পুরনো দিনের পরিবহণ ব্যবস্থা ও আজকের পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল:

বিষয় পুরনো দিনের পরিবহণ আজকের পরিবহণ
গতি খুব ধীরগতির ছিল (যেমন: গোরুর গাড়ি, পালকি)। অত্যন্ত দ্রুতগতির (যেমন: বাস, ট্রেন, উড়োজাহাজ)।
শক্তি উৎস মূলত মানুষ বা পশুর শক্তি দ্বারা চালিত হতো (যেমন: পালকি, ঘোড়ার গাড়ি)। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি (পেট্রোল, ডিজেল) বা বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত হয়।
পরিবেশগত প্রভাব এগুলি পরিবেশ-বান্ধব ছিল, কোনো দূষণ হতো না। আধুনিক যানবাহনগুলি বায়ু ও শব্দ দূষণের প্রধান কারণ।
খরচ ও সহজলভ্যতা পালকি বা ঘোড়ার গাড়ির খরচ বেশি ছিল, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। বাস, ট্রেনের মতো গণ পরিবহণ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সস্তা ও সহজলভ্য।
সুবিধা অনেক কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ ছিল। খুব আরামদায়ক এবং কম সময়ে অনেক দূরে যাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২: পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি পরিবেশের উপর কী প্রভাব ফেলেছে?

উত্তর: পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ ও দ্রুত করলেও পরিবেশের উপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে:
(ক) বায়ু দূষণ: বাস, লরি, মোটরগাড়ি ইত্যাদি থেকে নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড-এর মতো বিষাক্ত গ্যাস থাকে, যা বায়ুকে দূষিত করে।
(খ) বিশ্ব উষ্ণায়ন: গাড়ির ধোঁয়ায় থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইড একটি গ্রিনহাউস গ্যাস, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
(গ) শব্দ দূষণ: গাড়ির হর্ন এবং ইঞ্জিনের তীব্র শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
(ঘ) মাটি ও জল দূষণ: রাস্তা থেকে গাড়ির পোড়া মোবিল, তেল ইত্যাদি বৃষ্টির জলে ধুয়ে কাছের জলাশয় ও চাষের জমিতে মিশে জল ও মাটিকে দূষিত করে।
(ঙ) বনভূমি ধ্বংস: রাস্তা, রেললাইন ইত্যাদি তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছপালা ও বনভূমি নষ্ট করতে হয়েছে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে নষ্ট করছে।
তাই পরিবেশ বাঁচাতে আমাদের পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা, যেমন—সাইকেল, ট্রাম, মেট্রো রেলের ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

প্রশ্ন ৩: পথচারীদের জন্য রাস্তা পারাপারের নিরাপদ নিয়মগুলি কী কী?

উত্তর: রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে পথচারীদের নিম্নলিখিত নিরাপদ নিয়মগুলি মেনে চলা উচিত:
(ক) সবসময় ফুটপাথ দিয়ে হাঁটা উচিত। যেখানে ফুটপাথ নেই, সেখানে রাস্তার ডান দিক দিয়ে হাঁটা উচিত।
(খ) রাস্তা পারাপারের জন্য সবসময় জেব্রা ক্রসিং, সাবওয়ে বা ফুটব্রিজ ব্যবহার করা উচিত।
(গ) ট্র্যাফিক সিগন্যাল দেখে রাস্তা পার হতে হবে। পথচারীদের পারাপারের জন্য সবুজ সংকেত জ্বললে তবেই পার হতে হবে।
(ঘ) রাস্তা পার হওয়ার আগে প্রথমে ডান দিকে, তারপর বাঁ দিকে এবং আবার ডান দিকে তাকিয়ে গাড়ি আসছে কিনা দেখে নিতে হবে।
(ঙ) চলন্ত গাড়ির সামনে বা দুটি গাড়ির মাঝখান দিয়ে দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়া উচিত নয়।
(চ) মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা কানে হেডফোন লাগিয়ে রাস্তা পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

প্রশ্ন ৪: ট্রেন কীভাবে আমাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে?

উত্তর: ট্রেন আবিষ্কার এবং এর প্রচলন আমাদের জীবনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে:
(ক) দ্রুত যাতায়াত: ট্রেনের মাধ্যমে অনেক কম সময়ে ও কম খরচে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
(খ) পণ্য পরিবহণ: মালগাড়ির মাধ্যমে কয়লা, লোহা, খাদ্যশস্যের মতো ভারী জিনিসপত্র সহজে ও কম খরচে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, যা শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতি ঘটিয়েছে।
(গ) সামাজিক মিলন: ট্রেনে বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একসঙ্গে যাতায়াত করার সুযোগ পায়। এর ফলে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ কমে এবং একতা ও সামাজিক মিলন বৃদ্ধি পায়।
(ঘ) অর্থনৈতিক উন্নতি: রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে নতুন শহর, বাজার ও শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সাহায্য করেছে।
সুতরাং, ট্রেন শুধুমাত্র একটি যানবাহন নয়, এটি দেশের উন্নতি ও ঐক্যের প্রতীক।

প্রশ্ন ৫: একজন ভালো গাড়ি চালকের কী কী গুণ বা দায়িত্ব থাকা উচিত?

উত্তর: একজন ভালো ও দায়িত্বশীল গাড়ি চালকের নিম্নলিখিত গুণগুলি থাকা উচিত:
(ক) নিয়ম মেনে চলা: তাকে অবশ্যই সমস্ত ট্র্যাফিক নিয়ম, যেমন—সিগন্যাল মানা, নির্দিষ্ট গতিবেগে গাড়ি চালানো, সঠিক লেনে থাকা ইত্যাদি মেনে চলতে হবে।
(খ) ধৈর্যশীল হওয়া: রাস্তার যানজট বা অন্য কোনো কারণে উত্তেজিত না হয়ে ধৈর্য ধরে গাড়ি চালানো উচিত।
(গ) সতর্ক থাকা: গাড়ি চালানোর সময় সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা অন্যমনস্ক হওয়া চলবে না।
(ঘ) আইনি কাগজপত্র সঙ্গে রাখা: ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, পলিউশন সার্টিফিকেট ইত্যাদি সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
(ঙ) গাড়ির যত্ন নেওয়া: নিয়মিত গাড়ির ইঞ্জিন, ব্রেক, চাকা, আলো ইত্যাদি পরীক্ষা করা উচিত যাতে হঠাৎ কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না দেখা দেয়।
(চ) মানবিক হওয়া: পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।