আবহাওয়া ও জলবায়ু

Aakash
Aakash

"আবহাওয়া ও জলবায়ু" অধ্যায়ে বায়ুমণ্ডলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা — আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য এবং তাদের উপাদানগুলি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা ও বৃষ্টিপাত হলো আবহাওয়ার প্রধান উপাদান। এই অধ্যায়ে পৃথিবীর তাপ বাজেট (Insolation ও Albedo), তাপমাত্রা পরিমাপের পদ্ধতি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সবশেষে, সূর্যরশ্মির পতনকোণের ভিত্তিতে পৃথিবীকে তিনটি প্রধান তাপমণ্ডলে (উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ও হিমমণ্ডল) ভাগ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি

আবহাওয়া (Weather)

কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদির অবস্থাকে আবহাওয়া বলে। এটি স্বল্পমেয়াদী এবং পরিবর্তনশীল।

জলবায়ু (Climate)

কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে সেই অঞ্চলের জলবায়ু বলে। এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং সহজে বদলায় না।

আগত সৌর বিকিরণ (Insolation)

সূর্য থেকে পৃথিবীতে যে পরিমাণ তাপ এসে পৌঁছায়, তাকে আগত সৌর বিকিরণ বা Insolation বলে।

অ্যালবেডো (Albedo)

আগত সৌর বিকিরণের যে অংশ (প্রায় ৩৫%) মেঘ, ধূলিকণা দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বলে।

কার্যকরী সৌর বিকিরণ

আগত সৌর বিকিরণের যে ৫১% সরাসরি ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে, তাকে কার্যকরী সৌর বিকিরণ বলে।

পার্থিব বিকিরণ (Terrestrial Radiation)

দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ যে তাপ গ্রহণ করে, রাতের বেলায় সেই তাপ বিকিরণ করে মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। একে পার্থিব বিকিরণ বলে।

বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity)

নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, তাকে ওই বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

বায়ুচাপ (Air Pressure)

বায়ুর নিজস্ব ওজনের জন্য ভূপৃষ্ঠের উপর প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যে বল প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ বলে।

বায়ুপ্রবাহ (Wind)

ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ুর চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

তাপমণ্ডল (Heat Zone)

সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্যের ভিত্তিতে পৃথিবীকে যে তিনটি প্রধান উষ্ণতা অঞ্চলে ভাগ করা হয়, তাদের তাপমণ্ডল বলে। এগুলি হলো— উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ও হিমমণ্ডল।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. আবহাওয়া

বিশ্লেষণ: আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা যা প্রতি মুহূর্তে বদলাতে পারে।

২. কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. জলবায়ু

বিশ্লেষণ: জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার একটি সাধারণ চিত্র।

৩. পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু কী প্রকৃতির?

সঠিক উত্তর: C. ক্রান্তীয় মৌসুমি

বিশ্লেষণ: পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র ধরনের, যা ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত।

৪. সূর্যরশ্মির কত অংশ পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়?

সঠিক উত্তর: B. ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ

বিশ্লেষণ: সূর্যের মোট শক্তির অতি সামান্য অংশই পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, যাকে 'Insolation' বলে।

৫. আগত সৌর বিকিরণের কত শতাংশ ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে?

সঠিক উত্তর: C. ৫১%

বিশ্লেষণ: এই ৫১% তাপকে 'কার্যকরী সৌর বিকিরণ' বলা হয়।

৬. অ্যালবেডো কী?

সঠিক উত্তর: C. মহাশূন্যে ফিরে যাওয়া তাপ

বিশ্লেষণ: আগত সৌর বিকিরণের ৩৫% মেঘ, ধূলিকণা ইত্যাদি দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, একেই অ্যালবেডো বলে।

৭. বায়ুমণ্ডল প্রধানত কোন পদ্ধতিতে উত্তপ্ত হয়?

সঠিক উত্তর: C. পার্থিব বিকিরণ দ্বারা

বিশ্লেষণ: ভূপৃষ্ঠ প্রথমে সূর্যরশ্মি শোষণ করে উত্তপ্ত হয় এবং পরে সেই তাপ বিকিরণ করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।

৮. বায়ুর উষ্ণতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. থার্মোমিটার

বিশ্লেষণ: থার্মোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর তাপমাত্রা বা উষ্ণতা মাপা হয়।

৯. দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাপার জন্য কোন থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়?

সঠিক উত্তর: C. সিক্স-এর থার্মোমিটার

বিশ্লেষণ: সিক্স-এর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন থার্মোমিটার দিয়ে কোনো দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।

১০. বায়ুর আর্দ্রতা মাপার যন্ত্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. হাইগ্রোমিটার

বিশ্লেষণ: হাইগ্রোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে বাতাসে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা পরিমাপ করা হয়।

১১. বায়ুচাপ মাপার যন্ত্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: B. ব্যারোমিটার

বিশ্লেষণ: ফোর্টিন ব্যারোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর চাপ মাপা হয়।

১২. বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: D. অ্যানিমোমিটার

বিশ্লেষণ: অ্যানিমোমিটার যন্ত্র দিয়ে বায়ুর গতিবেগ পরিমাপ করা হয়।

১৩. বৃষ্টিপাত মাপার যন্ত্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. রেনগজ

বিশ্লেষণ: রেনগজ বা বৃষ্টিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে কোনো স্থানে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাপা হয়।

১৪. বায়ু কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয়?

সঠিক উত্তর: B. উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে

বিশ্লেষণ: বায়ু সব জায়গায় চাপ সমান রাখার জন্য উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

১৫. মেঘলা রাতে গরম বেশি লাগে কেন?

সঠিক উত্তর: B. মেঘ পার্থিব বিকিরণে বাধা দেয়

বিশ্লেষণ: মেঘ চাদরের মতো পৃথিবীকে ঢেকে রাখে, ফলে ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ মহাশূন্যে ফিরে যেতে পারে না, তাই গরম বেশি লাগে।

১৬. জলীয়বাষ্প ঠান্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. ঘনীভবন

বিশ্লেষণ: জলীয়বাষ্পযুক্ত বাতাস উপরে উঠে ঠান্ডা হলে তা ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয়।

১৭. প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা কীরকম পরিবর্তিত হয়?

সঠিক উত্তর: B. ৬.৫° সে. কমে

বিশ্লেষণ: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর উষ্ণতা তত কমতে থাকে।

১৮. নিরক্ষরেখার উভয় দিকে কোন তাপমণ্ডল অবস্থিত?

সঠিক উত্তর: C. উষ্ণমণ্ডল

বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা থেকে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মাঝের অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর লম্বভাবে পড়ায় এটি উষ্ণমণ্ডল।

১৯. সূর্যরশ্মি যেখানে তির্যকভাবে পড়ে, সেখানে কোন তাপমণ্ডল দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: D. B ও C উভয়ই

বিশ্লেষণ: নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে সূর্যরশ্মি মাঝারি তির্যকভাবে এবং হিমমণ্ডলে অতি তির্যকভাবে পড়ে।

২০. পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কোথায়?

সঠিক উত্তর: D. কলকাতা (আলিপুর)

বিশ্লেষণ: পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া অফিসের প্রধান কার্যালয় কলকাতার আলিপুরে অবস্থিত।

২১. সমভাবাপন্ন জলবায়ু কোথায় দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: B. সমুদ্রের কাছে

বিশ্লেষণ: সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে জলের প্রভাবে গ্রীষ্ম ও শীতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম হয়, তাই জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়।

২২. চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য কী?

সঠিক উত্তর: C. গ্রীষ্মে খুব গরম ও শীতে খুব ঠান্ডা

বিশ্লেষণ: সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত মহাদেশীয় অঞ্চলে তাপমাত্রার প্রসর খুব বেশি হয়, যা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু সৃষ্টি করে।

২৩. ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ুর চলাচলকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. বায়ুপ্রবাহ

বিশ্লেষণ: ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে বায়ুর প্রবাহই হলো বায়ুপ্রবাহ বা বাতাস।

২৪. তুষারপাত কোথায় হয়?

সঠিক উত্তর: B. যেখানে উষ্ণতা ০° সে.-এর নীচে

বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা হিমাঙ্কের নীচে নেমে গেলে জলকণা জমে বরফকণায় পরিণত হয় এবং তুষাররূপে ঝরে পড়ে।

২৫. সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে যে রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয় তাকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: B. সমোন্নরেখা

বিশ্লেষণ: মানচিত্রে সমান উষ্ণতার স্থানগুলিকে সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাকে সমোষ্ণরেখা (Isotherm) বলে।

২৬. কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে সুমেরুবৃত্ত রেখার মাঝের অঞ্চল কোনটি?

সঠিক উত্তর: B. উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল

বিশ্লেষণ: এটি উত্তর গোলার্ধের নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল, যেখানে খুব গরম বা খুব ঠান্ডা কোনোটাই থাকে না।

২৭. হিমমণ্ডল কোথায় অবস্থিত?

সঠিক উত্তর: C. মেরু অঞ্চলের কাছে

বিশ্লেষণ: সুমেরুবৃত্ত থেকে উত্তর মেরু এবং কুমেরুবৃত্ত থেকে দক্ষিণ মেরুর মাঝের অঞ্চল হলো হিমমণ্ডল, যেখানে সারাবছর ঠান্ডা থাকে।

২৮. বর্ষাকালে জামাকাপড় শুকোতে দেরি হয় কেন?

সঠিক উত্তর: B. বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে

বিশ্লেষণ: বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় জামাকাপড় থেকে জল সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না।

২৯. বায়ুর চাপ কমে গেলে আবহাওয়া কেমন হয়?

সঠিক উত্তর: B. ঝড়-বৃষ্টি ও অশান্ত

বিশ্লেষণ: নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশেপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বাতাস প্রবল বেগে ছুটে আসে, ফলে ঝড়-বৃষ্টি হয়।

৩০. শীতকালে আমাদের চামড়ায় টান ধরে কেন?

সঠিক উত্তর: C. বাতাসে জলীয়বাষ্প কম থাকে বলে

বিশ্লেষণ: শীতকালের শুষ্ক বাতাস আমাদের ত্বক থেকে জলীয় অংশ শোষণ করে নেয়, তাই চামড়ায় টান ধরে।

৩১. দৈনিক উষ্ণতার প্রসর কী?

সঠিক উত্তর: B. এক দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য

বিশ্লেষণ: কোনো স্থানের এক দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বিয়োগফলই হলো দৈনিক উষ্ণতার প্রসর।

৩২. আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপকে কী বলে?

সঠিক উত্তর: C. মেঘাচ্ছন্নতা

বিশ্লেষণ: মেঘাচ্ছন্নতা (Cloud Cover) হলো আকাশে মেঘের পরিমাণ, যা সাধারণত অক্টাস এককে মাপা হয়।

৩৩. সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে উষ্ণতা কেমন হয়?

সঠিক উত্তর: B. বেশি হয়

বিশ্লেষণ: লম্বরশ্মি কম জায়গায় বেশি শক্তি প্রদান করে, তাই সেই স্থান বেশি উত্তপ্ত হয়।

৩৪. আবহাওয়ার পূর্বাভাস কারা জানায়?

সঠিক উত্তর: B. আবহাওয়া অফিস

বিশ্লেষণ: আবহাওয়া অফিস বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে আবহাওয়া কেমন হতে পারে, সেই সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।

৩৫. উচ্চতা বাড়লে বায়ুচাপের কী পরিবর্তন হয়?

সঠিক উত্তর: B. কমে

বিশ্লেষণ: ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব তত কমতে থাকে এবং বায়ুর চাপও কমে যায়।

৩৬. সেলসিয়াস স্কেলে জলের হিমাঙ্ক কত?

সঠিক উত্তর: C. ০°C

বিশ্লেষণ: ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জল জমে বরফে পরিণত হয়।

৩৭. ফারেনহাইট স্কেলে জলের স্ফুটনাঙ্ক কত?

সঠিক উত্তর: D. ২১২°F

বিশ্লেষণ: ২১২° ফারেনহাইট তাপমাত্রায় জল ফুটে বাষ্পে পরিণত হয়।

৩৮. ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ ওপরের বায়ুস্তরে কোন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়?

সঠিক উত্তর: D. সবগুলি

বিশ্লেষণ: বিকিরণ, পরিবহণ ও পরিচলন—এই তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমেই বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়।

৩৯. বায়ুপ্রবাহের দিক কোন যন্ত্রের সাহায্যে মাপা হয়?

সঠিক উত্তর: B. বাতপতাকা

বিশ্লেষণ: বাতপতাকা যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু কোন দিক থেকে প্রবাহিত হচ্ছে তা নির্ণয় করা হয়।

৪০. মেঘ কীসের দ্বারা গঠিত?

সঠিক উত্তর: D. সবগুলি

বিশ্লেষণ: জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ধূলিকণাকে আশ্রয় করে অসংখ্য ক্ষুদ্র জলকণা বা বরফকণার সমন্বয়ে মেঘ তৈরি হয়।

৪১. কোন সময়ে আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনশীল?

সঠিক উত্তর: C. বর্ষাকালে

বিশ্লেষণ: বর্ষাকালে হঠাৎ রোদ, হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি কারণে আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়।

৪২. সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ কেমন থাকে?

সঠিক উত্তর: B. সবচেয়ে বেশি

বিশ্লেষণ: সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্তর সবচেয়ে পুরু থাকে, তাই সেখানে বায়ুর চাপও সর্বাধিক হয়।

৪৩. আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান নিয়ন্ত্রক কে?

সঠিক উত্তর: B. সূর্য

বিশ্লেষণ: সূর্যই পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস এবং এর তাপের কারণেই আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রিত হয়।

৪৪. দক্ষিণ গোলার্ধে সমোষ্ণরেখাগুলি দূরে দূরে অবস্থান করে কেন?

সঠিক উত্তর: B. জলভাগ বেশি

বিশ্লেষণ: জলভাগের প্রভাবে তাপমাত্রার পার্থক্য কম হয় বলে দক্ষিণ গোলার্ধে সমোষ্ণরেখাগুলি দূরে দূরে এবং প্রায় সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।

৪৫. একটি জায়গায় বায়ুচাপ হঠাৎ কমে গেলে কী হতে পারে?

সঠিক উত্তর: C. ঝড়

বিশ্লেষণ: কোনো স্থানে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হলে আশেপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বাতাস প্রবল বেগে সেই দিকে ছুটে আসে, যার ফলে ঝড় সৃষ্টি হয়।

৪৬. 'দখিনা বাতাস' বলতে কোন দিক থেকে আসা বাতাসকে বোঝায়?

সঠিক উত্তর: D. দক্ষিণ

বিশ্লেষণ: বায়ু যে দিক থেকে আসে, সেই দিক অনুযায়ী তার নামকরণ হয়। তাই দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাতাসকে 'দখিনা বাতাস' বলে।

৪৭. নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর উষ্ণতা বেশি থাকে কেন?

সঠিক উত্তর: B. সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে

বিশ্লেষণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি প্রায় সারাবছর লম্বভাবে পড়ায় এই অঞ্চল সবচেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়।

৪৮. জলবায়ু কাদের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলে?

সঠিক উত্তর: D. সকলের

বিশ্লেষণ: জলবায়ু আমাদের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, ঘরবাড়ি, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে।

৪৯. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মূল পার্থক্য কী?

সঠিক উত্তর: C. সময়

বিশ্লেষণ: আবহাওয়া হলো স্বল্প সময়ের অবস্থা, আর জলবায়ু হলো দীর্ঘ সময়ের গড় অবস্থা। এটাই তাদের মূল পার্থক্য।

৫০. পৃথিবীতে মোট কটি তাপমণ্ডল আছে?

সঠিক উত্তর: B. তিনটি

বিশ্লেষণ: সূর্যরশ্মির পতনকোণের ভিত্তিতে পৃথিবীকে তিনটি প্রধান তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়— উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ও হিমমণ্ডল।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

প্রশ্ন ১: আবহাওয়া কাকে বলে?

উত্তর: কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদির অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।

প্রশ্ন ২: জলবায়ু কাকে বলে?

উত্তর: কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে সেই অঞ্চলের জলবায়ু বলে।

প্রশ্ন ৩: আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান উপাদানগুলি হলো বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘাচ্ছন্নতা এবং বৃষ্টিপাত।

প্রশ্ন ৪: আগত সৌর বিকিরণ বা Insolation কী?

উত্তর: সূর্যরশ্মির ২০০ কোটি ভাগের এক ভাগ যা পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়, তাকে আগত সৌর বিকিরণ বা Insolation বলে।

প্রশ্ন ৫: অ্যালবেডো বলতে কী বোঝো?

উত্তর: আগত সৌর বিকিরণের যে ৩৫% অংশ মেঘ, ধূলিকণা দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বলে।

প্রশ্ন ৬: পার্থিব বিকিরণ কী?

উত্তর: দিনের বেলায় ভূপৃষ্ঠ যে তাপ গ্রহণ করে, রাতের বেলায় সেই তাপ বিকিরণ করে মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। একে পার্থিব বিকিরণ বলে।

প্রশ্ন ৭: বায়ুর আর্দ্রতা কাকে বলে?

উত্তর: নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, তাকে ওই বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

প্রশ্ন ৮: বায়ুচাপ কী?

উত্তর: বায়ুর নিজস্ব ওজনের জন্য ভূপৃষ্ঠের উপর প্রতি একক ক্ষেত্রফলে যে লম্বভাবে বল প্রয়োগ করে, তাকে বায়ুচাপ বলে।

প্রশ্ন ৯: বায়ুপ্রবাহ কেন হয়?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের মধ্যে বায়ুচাপের পার্থক্য ঘটলে বায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।

প্রশ্ন ১০: ঘনীভবন কাকে বলে?

উত্তর: জলীয়বাষ্পযুক্ত বাতাস ঠান্ডা হয়ে ছোটো ছোটো জলকণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ঘনীভবন বলে।

প্রশ্ন ১১: আবহাওয়ার পূর্বাভাস কী?

উত্তর: আবহাওয়া অফিস বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো জায়গার আবহাওয়া আগামীতে কেমন হতে পারে, সেই সম্পর্কে যে ধারণা দেয়, তাকেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।

প্রশ্ন ১২: সমভাবাপন্ন জলবায়ু কাকে বলে?

উত্তর: যে অঞ্চলের জলবায়ুতে গ্রীষ্ম ও শীতকালের মধ্যে উষ্ণতার পার্থক্য খুব বেশি হয় না, অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে বেশি গরম বা শীতকালে বেশি ঠান্ডা হয় না, তাকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

প্রশ্ন ১৩: চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যে অঞ্চলের জলবায়ুতে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম এবং শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়, অর্থাৎ বার্ষিক উষ্ণতার প্রসর খুব বেশি হয়, তাকে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

প্রশ্ন ১৪: পৃথিবীর তিনটি তাপমণ্ডলের নাম লেখো।

উত্তর: পৃথিবীর তিনটি তাপমণ্ডল হলো— উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল ও হিমমণ্ডল।

প্রশ্ন ১৫: বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার তিনটি পদ্ধতির নাম লেখো।

উত্তর: বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হওয়ার তিনটি পদ্ধতি হলো— বিকিরণ, পরিবহণ ও পরিচলন।

প্রশ্ন ১৬: বায়ুর উষ্ণতা মাপার দুটি স্কেলের নাম কী?

উত্তর: বায়ুর উষ্ণতা মাপার দুটি স্কেল হলো সেলসিয়াস বা সেন্টিগ্রেড এবং ফারেনহাইট।

প্রশ্ন ১৭: মেঘাচ্ছন্নতা কী?

উত্তর: আকাশে মেঘের পরিমাণের পরিমাপকেই মেঘাচ্ছন্নতা (Cloud Cover) বলা হয়।

প্রশ্ন ১৮: উচ্চতা বাড়লে উষ্ণতা কমে যায় কেন?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়। তাই ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায়, বায়ুর ঘনত্ব ও তাপ কমে যায়, ফলে উষ্ণতাও কমতে থাকে।

প্রশ্ন ১৯: আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের স্বল্পকালীন বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল। অন্যদিকে, জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের দীর্ঘকালীন (৩০-৩৫ বছরের) আবহাওয়ার গড় অবস্থা, যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।

প্রশ্ন ২০: সমোষ্ণরেখা কাকে বলে?

উত্তর: পৃথিবীর মানচিত্রে সমান গড় উষ্ণতাযুক্ত স্থানগুলিকে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে।

প্রশ্ন ২১: বায়ুর কোন কোন উপাদান আমরা সরাসরি অনুভব করতে পারি?

উত্তর: বায়ুর উষ্ণতা, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ আমরা সরাসরি অনুভব করতে পারি।

প্রশ্ন ২২: হিমমণ্ডল সারাবছর ঠান্ডা থাকে কেন?

উত্তর: হিমমণ্ডলে সূর্যরশ্মি সারাবছর অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে, তাই এই অঞ্চল খুব কম তাপ পায় এবং সারাবছর ঠান্ডা থাকে।

প্রশ্ন ২৩: একটি নিম্নচাপ ও একটি উচ্চচাপ অঞ্চলের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: নিম্নচাপ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি সহ অশান্ত আবহাওয়া এবং উচ্চচাপ অঞ্চলে শান্ত ও পরিষ্কার আকাশ দেখা যায়।

প্রশ্ন ২৪: পরিচলন পদ্ধতিতে কীভাবে বায়ু উত্তপ্ত হয়?

উত্তর: ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং উপরের শীতল ও ভারী বায়ু নীচে নেমে আসে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়।

প্রশ্ন ২৫: আবহাওয়ার পূর্বাভাসের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর: "আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে" — এটি আবহাওয়ার পূর্বাভাসের একটি উদাহরণ।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্যগুলি লেখো।

উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হলো:

বিষয়আবহাওয়াজলবায়ু
সংজ্ঞাকোনো নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট ও স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা।কোনো অঞ্চলের প্রায় ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা।
সময়এটি স্বল্পমেয়াদী, প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে।এটি দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রায় অপরিবর্তনীয়।
স্থানএটি একটি ছোটো অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।এটি একটি বিস্তৃত অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
পরিবর্তনআবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়।জলবায়ু সহজে পরিবর্তিত হয় না, এর পরিবর্তন হতে হাজার হাজার বছর সময় লাগে।

প্রশ্ন ২: পৃথিবীর তাপ বাজেট বা হিট বাজেট (Heat Budget) বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সূর্য থেকে যে পরিমাণ তাপ পৃথিবীতে আসে এবং পৃথিবী থেকে যে পরিমাণ তাপ মহাশূন্যে ফিরে যায়, তার হিসাবকে পৃথিবীর তাপ বাজেট বা হিট বাজেট বলে।
সূর্য থেকে আগত সৌর বিকিরণকে ১০০% ধরলে তার হিসাবটি নিম্নরূপ:

  • সরাসরি মহাশূন্যে প্রত্যাবর্তন (অ্যালবেডো): ৩৫% (মেঘ, ধূলিকণা দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে)।
  • বায়ুমণ্ডল দ্বারা শোষণ: ১৪%।
  • ভূপৃষ্ঠ দ্বারা শোষণ (কার্যকরী সৌর বিকিরণ): ৫১%।
এই ৫১% তাপই ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে। দিনের বেলা গৃহীত এই ৫১% তাপ রাতের বেলায় পার্থিব বিকিরণরূপে প্রায় পুরোটাই মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই আয় ও ব্যয়ের সমতার ফলেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় sabit থাকে।

প্রশ্ন ৩: পৃথিবীর পৃষ্ঠের উষ্ণতার তারতম্যের প্রধান কারণগুলি কী কী?

উত্তর: পৃথিবীর সব জায়গায় উষ্ণতা সমান নয়। এর প্রধান কারণগুলি হলো:
(ক) সূর্যরশ্মির পতনকোণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে বলে উষ্ণতা বেশি হয়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চলের দিকে রশ্মি ক্রমশ তির্যকভাবে পড়ায় উষ্ণতা কমতে থাকে।
(খ) উচ্চতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে প্রায় ৬.৫° সেলসিয়াস হারে উষ্ণতা কমে যায়। তাই উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের উষ্ণতা সমভূমির চেয়ে কম হয়।
(গ) সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়, অর্থাৎ উষ্ণতার প্রসর কম থাকে। কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরের অঞ্চলে উষ্ণতার প্রসর বেশি হওয়ায় জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।
(ঘ) বায়ুপ্রবাহ: শীতল অঞ্চল থেকে আসা বায়ু কোনো স্থানের উষ্ণতা কমিয়ে দেয়, আবার উষ্ণ অঞ্চল থেকে আসা বায়ু উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন ৪: পৃথিবীর তিনটি তাপমণ্ডলের বিবরণ দাও।

উত্তর: সূর্যরশ্মির পতনকোণের ভিত্তিতে পৃথিবীকে তিনটি প্রধান তাপমণ্ডলে ভাগ করা হয়:
(১) উষ্ণমণ্ডল: নিরক্ষরেখার উভয় দিকে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর) ও মকরক্রান্তি রেখার (২৩.৫° দক্ষিণ) মধ্যবর্তী অঞ্চলে সারাবছর সূর্যরশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে। তাই এই অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম অংশ।
(২) নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল: উভয় গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা থেকে সুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° উত্তর) ও কুমেরুবৃত্ত (৬৬.৫° দক্ষিণ) রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যরশ্মি মাঝারি তির্যকভাবে পড়ে। তাই এখানে উষ্ণতা মাঝারি ধরনের হয়, অর্থাৎ খুব গরম বা খুব ঠান্ডা হয় না।
(৩) হিমমণ্ডল: উভয় গোলার্ধে সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু (৯০°) পর্যন্ত অঞ্চলে সূর্যরশ্মি সারাবছর অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে। তাই এই অঞ্চল সবচেয়ে কম তাপ পায় এবং সারাবছর বরফে ঢাকা থাকে।

প্রশ্ন ৫: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তর: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের গুরুত্ব অপরিসীম:

  • কৃষিকাজ: কৃষকরা আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে বীজ বপন, ফসল কাটা, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।
  • যোগাযোগ ব্যবস্থা: ঝড়, বৃষ্টি বা কুয়াশার পূর্বাভাস বিমান ও জাহাজ চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতে সাহায্য করে।
  • মৎস্যজীবী: সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পূর্বাভাস পেলে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন, যা তাদের জীবন রক্ষা করে।
  • দুর্যোগ মোকাবিলা: ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস পেলে প্রশাসন আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা সহজ হয়।
  • সাধারণ জীবনযাত্রা: আমরা বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা বা গরম জামাকাপড় নেব কিনা, সেই সিদ্ধান্তও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে।