বরফে ঢাকা মহাদেশ

Aakash
Aakash

"বরফে ঢাকা মহাদেশ" অধ্যায়ে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত আন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই মহাদেশটি পৃথিবীর উচ্চতম, শীতলতম ও শুষ্কতম মহাদেশ এবং সারাবছর বরফের চাদরে ঢাকা থাকে বলে একে 'সাদা মহাদেশ' বলা হয়। অধ্যায়ে আন্টার্কটিকার ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, জীবজগৎ, আবিষ্কারের ইতিহাস এবং এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড যেখানে বিভিন্ন দেশ শান্তির উদ্দেশ্যে গবেষণা চালায়। ভারতও এখানে 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' ও 'মৈত্রী' নামক গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই মহাদেশের পরিবেশ আজ সংকটের মুখে, যা সমগ্র পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি

আন্টার্কটিকা (Antarctica)

পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ, যা দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে অবস্থিত এবং প্রায় পুরোটাই বরফাবৃত।

সাদা মহাদেশ (White Continent)

সারাবছর ১-২ কিমি পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে বলে আন্টার্কটিকা মহাদেশকে 'সাদা মহাদেশ' বলা হয়।

ভিনসন ম্যাসিফ (Vinson Massif)

আন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা ৪৮৯২ মিটার।

মাউন্ট এরেবাস (Mount Erebus)

আন্টার্কটিকার রস উপসাগরের তীরে অবস্থিত একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।

ল্যাম্বার্ট হিমবাহ (Lambert Glacier)

আন্টার্কটিকায় অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ।

মেরুজ্যোতি (Aurora)

মেরু অঞ্চলে রাতের আকাশে দৃশ্যমান সবুজ, নীল, লাল ইত্যাদি রঙের আলোর ছটা, যা আন্টার্কটিকায় 'অরোরা অস্ট্রালিস' নামে পরিচিত।

পেঙ্গুইন (Penguin)

আন্টার্কটিকার একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা। এটি একটি উড়তে না পারা সামুদ্রিক পাখি।

ক্রিল (Krill)

আন্টার্কটিকার সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুরে বেড়ানো এক প্রকার ছোট চিংড়ি জাতীয় প্রাণী, যা সেখানকার খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দক্ষিণ গঙ্গোত্রী ও মৈত্রী

আন্টার্কটিকায় অবস্থিত ভারতের দুটি গবেষণাকেন্দ্র। দক্ষিণ গঙ্গোত্রী ভারতের প্রথম গবেষণাকেন্দ্র।

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)

১. পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত মহাদেশটির নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. আন্টার্কটিকা

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকা পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ এবং এটি দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে রয়েছে।

২. কোন মহাদেশকে 'সাদা মহাদেশ' বলা হয়?

সঠিক উত্তর: B. আন্টার্কটিকা

বিশ্লেষণ: সারাবছর পুরু বরফের চাদরে ঢাকা থাকে বলে মানচিত্রে একে সাদা দেখায়, তাই এর এই নাম।

৩. আয়তনে আন্টার্কটিকা পৃথিবীর কততম মহাদেশ?

সঠিক উত্তর: C. পঞ্চম

বিশ্লেষণ: আয়তনে (১ কোটি ৪০ লক্ষ বর্গ কিমি) আন্টার্কটিকা পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ।

৪. আন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?

সঠিক উত্তর: B. ভিনসন ম্যাসিফ

বিশ্লেষণ: ভিনসন ম্যাসিফ (৪৮৯২ মিটার) হলো আন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

৫. পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. ল্যাম্বার্ট

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকায় অবস্থিত ল্যাম্বার্ট হিমবাহটি পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ।

৬. মাউন্ট এরেবাস কী?

সঠিক উত্তর: D. জীবন্ত আগ্নেয়গিরি

বিশ্লেষণ: মাউন্ট এরেবাস হলো আন্টার্কটিকা মহাদেশের একটি সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি।

৭. আন্টার্কটিকার শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত হতে পারে?

সঠিক উত্তর: B. -৪০° সে. থেকে -৭৫° সে.

বিশ্লেষণ: শীতকালে এই মহাদেশ পৃথিবীর শীতলতম স্থানে পরিণত হয়।

৮. পৃথিবীর শীতলতম (জনবসতিহীন) স্থান কোনটি?

সঠিক উত্তর: C. ভস্টক

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকায় অবস্থিত রাশিয়ার গবেষণাকেন্দ্র 'ভস্টক'-এ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৮৯.২° সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

৯. আন্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকাল কোন মাসগুলিতে হয়?

সঠিক উত্তর: B. নভেম্বর - ফেব্রুয়ারি

বিশ্লেষণ: দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় উত্তর গোলার্ধের শীতকালের সময় এখানে গ্রীষ্মকাল হয়।

১০. আন্টার্কটিকায় একটানা ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত হয় কেন?

সঠিক উত্তর: B. পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের জন্য

বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অক্ষ ৬৬.৫° কোণে হেলে সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ করে বলে মেরু অঞ্চলে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত হয়।

১১. আন্টার্কটিকায় কোন উদ্ভিদ দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: C. মস, লাইকেন, শ্যাওলা

বিশ্লেষণ: শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের ধারে সামান্য বরফ গলে গেলে এই ধরণের উদ্ভিদ জন্মায়।

১২. আন্টার্কটিকার একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা কে?

সঠিক উত্তর: B. পেঙ্গুইন

বিশ্লেষণ: পেঙ্গুইন পাখি এই মহাদেশের চরম ঠান্ডা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

১৩. ক্রিল কী?

সঠিক উত্তর: C. চিংড়ি জাতীয় প্রাণী

বিশ্লেষণ: ক্রিল হলো আন্টার্কটিকার সমুদ্রে পাওয়া যাওয়া একপ্রকার ছোট চিংড়ি, যা সেখানকার খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি।

১৪. কোন অভিযাত্রী প্রথম দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছান?

সঠিক উত্তর: C. আমুন্ডসেন

বিশ্লেষণ: নরওয়ের অভিযাত্রী রোয়াল্ড আমুন্ডসেন ১৯১১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর প্রথম দক্ষিণ মেরুতে পদার্পণ করেন।

১৫. আন্টার্কটিকা চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?

সঠিক উত্তর: B. ১৯৫৯

বিশ্লেষণ: ১৯৫৯ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে আন্টার্কটিকাকে বিজ্ঞানের জন্য উৎসর্গ করা হয় এবং সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়।

১৬. আন্টার্কটিকায় ভারতের প্রথম গবেষণাকেন্দ্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: C. দক্ষিণ গঙ্গোত্রী

বিশ্লেষণ: ১৯৮২ সালে প্রথম ভারতীয় অভিযাত্রী দল আন্টার্কটিকায় 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' স্থাপন করে।

১৭. ভারতের দ্বিতীয় গবেষণাকেন্দ্রের নাম কী?

সঠিক উত্তর: A. মৈত্রী

বিশ্লেষণ: ১৯৮৮ সালে ভারতের দ্বিতীয় গবেষণাকেন্দ্র 'মৈত্রী' স্থাপন করা হয়।

১৮. কোন কারণে আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাচ্ছে?

সঠিক উত্তর: A. বিশ্ব উষ্ণায়ন

বিশ্লেষণ: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে।

১৯. এম্পেরর পেঙ্গুইনের ওজন প্রায় কত হয়?

সঠিক উত্তর: C. ৩০ কেজি

বিশ্লেষণ: এম্পেরর পেঙ্গুইন হলো সবথেকে বড় প্রজাতির পেঙ্গুইন, যার উচ্চতা প্রায় ৪ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি হয়।

২০. আন্টার্কটিকা মহাদেশটি কী দ্বারা বেষ্টিত?

সঠিক উত্তর: B. কুমেরু মহাসাগর

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকা মহাদেশটিকে কুমেরু মহাসাগর বা দক্ষিণ মহাসাগর চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে।

২১. 'Antarktika' শব্দটি কোন ভাষার?

সঠিক উত্তর: B. গ্রিক

বিশ্লেষণ: গ্রিক শব্দ 'Antarktika' -র অর্থ হলো 'উত্তরের বিপরীত'।

২২. আন্টার্কটিকার ভূপ্রকৃতি মূলত কীরকম?

সঠিক উত্তর: B. মালভূমি

বিশ্লেষণ: পুরো মহাদেশটাই একটা বিশাল উঁচু মালভূমি, যার গড় উচ্চতা ২০০০ থেকে ৫০০০ মিটার।

২৩. আন্টার্কটিকার গ্রীষ্মকালে আকাশে কতক্ষণ সূর্য দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: B. ২৪ ঘণ্টা

বিশ্লেষণ: গ্রীষ্মকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলে থাকায় এখানে ২৪ ঘণ্টাই আকাশে সূর্য দেখা যায়।

২৪. আন্টার্কটিকার ভূগর্ভে কোন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়?

সঠিক উত্তর: D. সবকটি

বিশ্লেষণ: এই মহাদেশের ভূগর্ভে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, নিকেল, সোনার অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে।

২৫. পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য কী?

সঠিক উত্তর: C. মাছ ও ক্রিল

বিশ্লেষণ: পেঙ্গুইন সমুদ্র থেকে মাছ এবং ক্রিল শিকার করে খায়।

২৬. পেঙ্গুইন ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য তাদের ত্বকের নিচে কী থাকে?

সঠিক উত্তর: C. পুরু চর্বির স্তর

বিশ্লেষণ: ত্বকের নিচের এই পুরু চর্বির স্তর বা ব্লাবার তাদের শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে।

২৭. প্রথম ভারতীয় অভিযাত্রী দল কবে আন্টার্কটিকায় পৌঁছায়?

সঠিক উত্তর: C. ১৯৮২

বিশ্লেষণ: ৯ই জানুয়ারি, ১৯৮২ সালে প্রথম ভারতীয় অভিযাত্রী দল ডঃ এস জেড কাসিমের নেতৃত্বে আন্টার্কটিকায় পৌঁছায়।

২৮. আন্টার্কটিকা মহাদেশের আয়তন কত?

সঠিক উত্তর: B. ১ কোটি ৪০ লক্ষ বর্গ কিমি

বিশ্লেষণ: এটি আয়তনে ইউরোপ ও ওশিয়ানিয়ার চেয়ে বড়ো।

২৯. আন্টার্কটিকার শীতকালে আকাশে কী দেখা যায়?

সঠিক উত্তর: C. মেরুজ্যোতি

বিশ্লেষণ: মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা অন্ধকার থাকার সময় আকাশে মাঝে মাঝে সবুজ, নীল, লাল আলোর ছটা দেখা যায়।

৩০. আন্টার্কটিকা মহাদেশটি কোন মহাসাগরীয় পাত দ্বারা গঠিত?

সঠিক উত্তর: C. আন্টার্কটিক

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকা মহাদেশটি আন্টার্কটিক পাতের উপর অবস্থিত।

৩১. কোন মহাদেশকে 'বিজ্ঞানের মহাদেশ' বলা হয়?

সঠিক উত্তর: C. আন্টার্কটিকা

বিশ্লেষণ: এটি আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড হওয়ায় সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা এখানে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করেন।

৩২. ট্রান্স আন্টার্কটিকা পর্বতশ্রেণির দৈর্ঘ্য কত?

সঠিক উত্তর: C. ৩,৫০০ কিমি

বিশ্লেষণ: এই দীর্ঘ পর্বতশ্রেণিটি মহাদেশটিকে পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত করেছে।

৩৩. আন্টার্কটিকার বরফহীন উপত্যকায় প্রবল বাতাস কত বেগে বয়?

সঠিক উত্তর: C. ৩২০ কিমি/ঘণ্টা

বিশ্লেষণ: এই প্রবল কনকনে ঠান্ডা বাতাসকে ক্যাটাবেটিক বায়ু বলে, যা পর্বতের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে আসে।

৩৪. একসময় আন্টার্কটিকা কোন প্রাচীন মহাদেশের অংশ ছিল?

সঠিক উত্তর: B. প্যানজিয়া

বিশ্লেষণ: একসময় আন্টার্কটিকা, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত একসাথে প্যানজিয়া নামক মহা-মহাদেশের অংশ ছিল।

৩৫. আন্টার্কটিক চুক্তি অনুযায়ী সেখানে কোন ধরনের কাজ নিষিদ্ধ?

সঠিক উত্তর: D. শান্তির উদ্দেশ্যে নয় এমন সব কাজ

বিশ্লেষণ: চুক্তি অনুযায়ী, সমস্ত গবেষণা ও পরিকল্পনা শান্তির উদ্দেশ্যে হতে হবে এবং কোনো দেশেরই প্রাকৃতিক সম্পদে নিজস্ব অধিকার থাকবে না।

৩৬. পেঙ্গুইন কি উড়তে পারে?

সঠিক উত্তর: B. না

বিশ্লেষণ: পেঙ্গুইন উড়তে পারে না, তবে জলে খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে।

৩৭. আন্টার্কটিকার ভবিষ্যৎ কীসের ওপর নির্ভরশীল?

সঠিক উত্তর: B. সারা পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর

বিশ্লেষণ: এই মহাদেশ পৃথিবীর জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করে, তাই এর ভবিষ্যৎ সারা পৃথিবীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত।

৩৮. কুমেরু বিন্দুতে পৌঁছানোর জন্য আমুন্ডসেনের অভিযান কবে শুরু হয়?

সঠিক উত্তর: B. ১৯ অক্টোবর, ১৯১১

বিশ্লেষণ: আমুন্ডসেন ও তাঁর সঙ্গীরা ১৯শে অক্টোবর, ১৯১১ সালে বেসক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেন।

৩৯. আন্টার্কটিকার আবহাওয়া কীরকম?

সঠিক উত্তর: B. শীতল ও শুষ্ক

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকা পৃথিবীর শীতলতম ও শুষ্কতম মহাদেশ। এখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না বললেই চলে।

৪০. কোন মহাসাগর আন্টার্কটিকাকে ঘিরে নেই?

সঠিক উত্তর: D. সুমেরু

বিশ্লেষণ: সুমেরু মহাসাগর উত্তর মেরুতে অবস্থিত, যা আন্টার্কটিকার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে।

৪১. আন্টার্কটিকায় প্রায় কতগুলো দেশের গবেষণাকেন্দ্র আছে?

সঠিক উত্তর: C. ৪০

বিশ্লেষণ: প্রায় ৪০টি দেশ এই আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডে ১০০টিরও বেশি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছে।

৪২. পেঙ্গুইনের পালক কি জলে ভেজে?

সঠিক উত্তর: B. না

বিশ্লেষণ: পেঙ্গুইনের সারা শরীর চকচকে জলরোধী পালকে ঢাকা থাকে, যা জলে ভেজে না।

৪৩. বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আন্টার্কটিকার কোন প্রাণীর সংখ্যা কমছে?

সঠিক উত্তর: D. সবকটি

বিশ্লেষণ: বরফ গলে যাওয়ায় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় ক্রিল, সীল, পেঙ্গুইন সবারই সংখ্যা কমছে।

৪৪. আন্টার্কটিকা মহাদেশের আবিষ্কার কবে হয়?

সঠিক উত্তর: A. ১৮২০ সালে

বিশ্লেষণ: ১৮২০ সালে প্রথম জানা যায় যে পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে বরফে ঢাকা একটি বিশাল ভূখণ্ড রয়েছে।

৪৫. মৈত্রী গবেষণাকেন্দ্রটি দক্ষিণ গঙ্গোত্রী থেকে কত দূরে অবস্থিত?

সঠিক উত্তর: C. ৭০ কিমি

বিশ্লেষণ: ১৯৮৮ সালে 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' থেকে ৭০ কিমি দূরে 'মৈত্রী' গবেষণাকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়।

৪৬. আন্টার্কটিকার গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা সর্বোচ্চ কত হতে পারে?

সঠিক উত্তর: D. ২০° সে.

বিশ্লেষণ: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ২০° সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, কিন্তু গড় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচেই থাকে।

৪৭. আন্টার্কটিকার বরফের চাদরের গড় পুরুত্ব কত?

সঠিক উত্তর: B. ১-২ কিলোমিটার

বিশ্লেষণ: মহাদেশটি সারাবছরই ১ থেকে ২ কিলোমিটার পুরু স্থায়ী বরফের চাদরে ঢাকা থাকে।

৪৮. উত্তর মেরু অঞ্চলের প্রধান বাসিন্দা কে?

সঠিক উত্তর: C. মেরু ভালুক

বিশ্লেষণ: পেঙ্গুইন যেমন দক্ষিণ মেরুর বাসিন্দা, তেমনই মেরু ভালুক বা পোলার বিয়ার উত্তর মেরু অঞ্চলের প্রধান বাসিন্দা।

৪৯. আন্টার্কটিকা কোন দেশের অধীন?

সঠিক উত্তর: C. কোনো দেশের অধীন নয়

বিশ্লেষণ: আন্টার্কটিকা পৃথিবীর সমস্ত দেশের একটি 'আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড'।

৫০. কুমেরু বিন্দুতে পৌঁছানোর সময় আমুন্ডসেনের প্রধান বাধা কী ছিল?

সঠিক উত্তর: D. সবকটি

বিশ্লেষণ: ভয়ংকর প্রতিকূল আবহাওয়া, তুষারঝড় এবং বরফের স্তরে বড়ো বড়ো ফাটল (Crevasse) - এই সব কিছুই তাঁর অভিযানের পথে প্রধান বাধা ছিল।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

প্রশ্ন ১: আন্টার্কটিকা মহাদেশ কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: আন্টার্কটিকা মহাদেশ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে, দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে অবস্থিত।

প্রশ্ন ২: আন্টার্কটিকাকে 'সাদা মহাদেশ' বলা হয় কেন?

উত্তর: সারাবছরই ১-২ কিমি পুরু স্থায়ী বরফের চাদরে ঢাকা থাকে বলে আন্টার্কটিকাকে 'সাদা মহাদেশ' বলা হয়।

প্রশ্ন ৩: আন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী?

উত্তর: আন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম ভিনসন ম্যাসিফ (৪৮৯২ মিটার)।

প্রশ্ন ৪: আন্টার্কটিকার একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির নাম লেখো।

উত্তর: আন্টার্কটিকার একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি হলো মাউন্ট এরেবাস।

প্রশ্ন ৫: পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি ও কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ হলো ল্যাম্বার্ট হিমবাহ, এটি আন্টার্কটিকায় অবস্থিত।

প্রশ্ন ৬: পৃথিবীর শীতলতম স্থান কোনটি?

উত্তর: আন্টার্কটিকায় অবস্থিত রাশিয়ার গবেষণাকেন্দ্র 'ভস্টক' হলো পৃথিবীর শীতলতম (জনবসতিহীন) স্থান, যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৮৯.২°সে রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৭: মেরুজ্যোতি কী?

উত্তর: মেরু অঞ্চলে শীতকালে একটানা ৬ মাস রাত্রি চলার সময় রাতের আকাশে যে সবুজ, নীল, লাল রঙের আলোর ছটা দেখা যায়, তাকে মেরুজ্যোতি বলে।

প্রশ্ন ৮: আন্টার্কটিকার দুটি প্রধান উদ্ভিদের নাম লেখো।

উত্তর: আন্টার্কটিকায় কোনো বড়ো গাছপালা জন্মায় না। এখানে মস ও লাইকেন জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।

প্রশ্ন ৯: আন্টার্কটিকার একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা কোন প্রাণী?

উত্তর: আন্টার্কটিকার একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা হলো পেঙ্গুইন পাখি।

প্রশ্ন ১০: ক্রিল কী?

উত্তর: ক্রিল হলো আন্টার্কটিকার সমুদ্রে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুরে বেড়ানো এক প্রকার ছোট চিংড়ি জাতীয় প্রাণী।

প্রশ্ন ১১: কে, কবে প্রথম দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছান?

উত্তর: নরওয়ের অভিযাত্রী রোয়াল্ড আমুন্ডসেন ১৯১১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর প্রথম দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছান।

প্রশ্ন ১২: আন্টার্কটিকা চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: আন্টার্কটিকা চুক্তি ১৯৫৯ সালে স্বাক্ষরিত হয়।

প্রশ্ন ১৩: আন্টার্কটিকায় ভারতের দুটি গবেষণাকেন্দ্রের নাম কী?

উত্তর: আন্টার্কটিকায় ভারতের দুটি গবেষণাকেন্দ্র হলো 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' এবং 'মৈত্রী'।

প্রশ্ন ১৪: আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ কী?

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ।

প্রশ্ন ১৫: আন্টার্কটিকাকে 'আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড' বলা হয় কেন?

উত্তর: এই মহাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের অধীন নয়, এটি পৃথিবীর সমস্ত দেশের সম্পত্তি। তাই একে 'আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড' বলা হয়।

প্রশ্ন ১৬: পেঙ্গুইনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর: পেঙ্গুইনের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো— (১) এরা উড়তে পারে না কিন্তু ভালো সাঁতার কাটতে পারে, (২) এদের ত্বকের নীচে পুরু চর্বির স্তর থাকে যা শরীরকে গরম রাখে।

প্রশ্ন ১৭: আন্টার্কটিকার গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের সময় উল্লেখ করো।

উত্তর: আন্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকাল হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এবং শীতকাল হলো মে থেকে আগস্ট মাস।

প্রশ্ন ১৮: আন্টার্কটিকা মহাদেশের আবহাওয়া কীরূপ?

উত্তর: আন্টার্কটিকা মহাদেশের আবহাওয়া অত্যন্ত শীতল, শুষ্ক এবং ঝোড়ো। এখানে সারাবছর হিমশীতল বাতাস ও তুষারঝড় চলে।

প্রশ্ন ১৯: একসময় কোন কোন মহাদেশ আন্টার্কটিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল?

উত্তর: একসময় আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত আন্টার্কটিকার সঙ্গে প্যানজিয়া নামক মহা-মহাদেশের অংশ হিসেবে যুক্ত ছিল।

প্রশ্ন ২০: আন্টার্কটিকাকে 'বিজ্ঞানের মহাদেশ' বলা হয় কেন?

উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই মহাদেশের দূষণমুক্ত পরিবেশে আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেন বলে একে 'বিজ্ঞানের মহাদেশ' বলা হয়।

প্রশ্ন ২১: আন্টার্কটিকার বরফহীন উপত্যকা দেখা যায় কোথায়?

উত্তর: ট্রান্স আন্টার্কটিকা পর্বতশ্রেণির কাছে কিছু বরফহীন উপত্যকা দেখা যায়, যেখানে প্রবল বাতাসের কারণে বরফ জমতে পারে না।

প্রশ্ন ২২: সুমেরু অঞ্চলে কোন প্রাণী দেখা যায়?

উত্তর: সুমেরু বা উত্তর মেরু অঞ্চলে মেরু ভালুক দেখা যায়।

প্রশ্ন ২৩: মৈত্রী গবেষণাকেন্দ্রটি কবে স্থাপিত হয়?

উত্তর: মৈত্রী গবেষণাকেন্দ্রটি ১৯৮۸ সালের ২৬শে মার্চ স্থাপিত হয়।

প্রশ্ন ২৪: কেন গ্রীষ্মকালে ২৪ ঘণ্টা সূর্য দেখা গেলেও আন্টার্কটিকা গরম হয় না?

উত্তর: কারণ গ্রীষ্মকালে সূর্যরশ্মি খুব বাঁকাভাবে পড়ে এবং এর বেশিরভাগটাই বরফে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যায়।

প্রশ্ন ২৫: আন্টার্কটিকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে কেন?

উত্তর: বিশ্ব উষ্ণায়ন, ওজোন স্তর ক্ষয় ও দূষণের কারণে আন্টার্কটিকার বরফ গলে যাচ্ছে এবং জীবজগতের সংখ্যা কমছে, ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

বড় প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন ১: আন্টার্কটিকার ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তর: ভূপ্রকৃতি: আন্টার্কটিকা মূলত একটি বরফাবৃত উচ্চ মালভূমি, যার গড় উচ্চতা ২০০০-৫০০০ মিটার। ৩,৫০০ কিমি দীর্ঘ ট্রান্স আন্টার্কটিকা পর্বতমালা মহাদেশটিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে। এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো ভিনসন ম্যাসিফ (৪৮৯২ মি.) এবং মাউন্ট এরেবাস একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। এখানে পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ ল্যাম্বার্ট অবস্থিত।
জলবায়ু: আন্টার্কটিকা পৃথিবীর শীতলতম, শুষ্কতম ও ঝঞ্ঝাপূর্ণ মহাদেশ। শীতকালে (মে-আগস্ট) তাপমাত্রা -৪০°সে থেকে -৭৫°সে পর্যন্ত নেমে যায় এবং একটানা ৬ মাস রাত থাকে। গ্রীষ্মকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি থাকে এবং একটানা ৬ মাস দিন থাকে। এখানে বৃষ্টিপাত প্রায় হয় না, শুধু তুষারপাত হয়।

প্রশ্ন ২: আন্টার্কটিকার জীবজগৎ সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর: আন্টার্কটিকার প্রতিকূল পরিবেশে জীবজগত অত্যন্ত সীমিত।
উদ্ভিদ: এখানে কোনো বড় গাছপালা জন্মায় না। গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের ধারে সামান্য বরফমুক্ত স্থানে মস, লাইকেন ও শ্যাওলা জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।
প্রাণী: পেঙ্গুইন এই মহাদেশের একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দা। এরা উড়তে না পারলেও excelentes সাঁতারু। এছাড়া, চারপাশের কুমেরু মহাসাগরে প্রচুর মাছ, সীল, বিভিন্ন প্রজাতির তিমি এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ক্রিল (চিংড়ি জাতীয় প্রাণী) দেখা যায়। অ্যালবাট্রসের মতো কিছু সামুদ্রিক পাখিও রয়েছে। পেঙ্গুইন, সীল ও পাখিদের প্রধান খাদ্য হলো মাছ ও ক্রিল।

প্রশ্ন ৩: আন্টার্কটিকাকে 'আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড' বা 'বিজ্ঞানের মহাদেশ' বলা হয় কেন?

উত্তর: আন্টার্কটিকা মহাদেশ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের সম্পত্তি নয়। ১৯৫৯ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, এই মহাদেশটি পৃথিবীর সমস্ত দেশের একটি যৌথ ভূখণ্ড। পৃথিবীর যেকোনো দেশ এখানে শুধুমাত্র শান্তির উদ্দেশ্যে গবেষণা করতে পারে।
এই মহাদেশের দূষণমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, মেঘমুক্ত আকাশ, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ নিয়ে গবেষণা করার জন্য এটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি আদর্শ স্থান। বর্তমানে ভারতসহ প্রায় ৪০টি দেশ এখানে ১০০টিরও বেশি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। এই কারণেই আন্টার্কটিকাকে 'আন্তর্জাতিক ভূখণ্ড' বা 'বিজ্ঞানের মহাদেশ' বলা হয়।

প্রশ্ন ৪: আন্টার্কটিকা মহাদেশের ভবিষ্যৎ সংকটের কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তর: আন্টার্কটিকার ভবিষ্যৎ আজ নানা কারণে সংকটের মুখে।
(ক) বিশ্ব উষ্ণায়ন: পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আন্টার্কটিকার বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে মহাদেশের আয়তন কমছে এবং সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে গিয়ে উপকূলবর্তী অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
(খ) ওজোন স্তরের ক্ষয়: মানুষের তৈরি দূষণের ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তরে গহ্বর সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব আন্টার্কটিকায় সবচেয়ে বেশি। এর ফলে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে প্রবেশ করে জীবজগতের ক্ষতি করছে।
(গ) প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট: বরফ গলে যাওয়ায় ক্রিল, পেঙ্গুইন, সীল ইত্যাদি প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা আন্টার্কটিকার সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

প্রশ্ন ৫: আন্টার্কটিকা অভিযানে ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: আন্টার্কটিকার বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতের প্রথম আন্টার্কটিকা অভিযান শুরু হয় ১৯৮১ সালে এবং অভিযাত্রী দল সেখানে পৌঁছায় ১৯৮২ সালের ৯ই জানুয়ারি। সেই বছরেই ভারতের প্রথম গবেষণাকেন্দ্র 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' স্থাপিত হয়।
পরবর্তীকালে, ১৯৮৮ সালে 'দক্ষিণ গঙ্গোত্রী' থেকে ৭০ কিমি দূরে ভারতের দ্বিতীয় স্থায়ী গবেষণাকেন্দ্র 'মৈত্রী' স্থাপন করা হয়। ২০১২ সালে 'লার্সম্যান হিল' পার্বত্য অঞ্চলে ভারতের তৃতীয় এবং অত্যাধুনিক গবেষণাকেন্দ্র 'ভারতী' স্থাপিত হয়েছে। এই গবেষণাকেন্দ্রগুলি থেকে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আন্টার্কটিকার আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূতত্ত্ব, পরিবেশ এবং মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে মূল্যবান গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।