জল-স্থল-বাতাস
"জল-স্থল-বাতাস" অধ্যায়ে পৃথিবীর তিনটি প্রধান প্রাকৃতিক মণ্ডল—বায়ুমণ্ডল, শিলামণ্ডল ও বারিমণ্ডল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর (ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ইত্যাদি) ও তাদের গুরুত্ব, শিলামণ্ডলের গঠন এবং বারিমণ্ডলের বিশালতা ও জলচক্রের ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি মণ্ডলের সম্মিলিত প্রভাবেই পৃথিবীতে জীবমণ্ডলের সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যায়ে আরও আলোচিত হয়েছে মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্ব, পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ ও পাঁচটি মহাসাগরের পরিচয় এবং মানুষের কার্যকলাপ কীভাবে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি
বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
পৃথিবীকে চাদরের মতো ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের অদৃশ্য স্তরকে বায়ুমণ্ডল বলে। এটি পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছে।
শিলামণ্ডল (Lithosphere)
পৃথিবীর সবথেকে বাইরের কঠিন আবরণ, যা মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে তৈরি, তাকে শিলামণ্ডল বলে। মহাদেশ ও মহাসাগরের তলদেশ এর অন্তর্গত।
বারিমণ্ডল (Hydrosphere)
পৃথিবীর সমস্ত জলভাগকে (মহাসাগর, সাগর, নদী, হ্রদ, হিমবাহ ইত্যাদি) একত্রে বারিমণ্ডল বলা হয়।
জীবমণ্ডল (Biosphere)
বায়ুমণ্ডল, শিলামণ্ডল ও বারিমণ্ডলের যে অংশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ সম্ভব, সেই অংশকে একত্রে জীবমণ্ডল বলে।
জলচক্র (Water Cycle)
সূর্যের তাপে জল বাষ্পীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি হওয়া এবং সেই মেঘ থেকে বৃষ্টিরূপে জল পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসার চক্রাকার প্রক্রিয়াকে জলচক্র বলে।
মহাদেশ সঞ্চরণ (Continental Drift)
পৃথিবীর মহাদেশগুলি স্থির নয়, এগুলি বছরে ২-২০ সেমি গতিতে খুব ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে আসছে। এই ঘটনাকে মহাদেশ সঞ্চরণ বলে।
প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা (Pangaea and Panthalassa)
প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রে একটি অখণ্ড মহাদেশরূপে ছিল, যার নাম প্যানজিয়া। আর প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল মহাসাগরের নাম ছিল প্যানথালাসা।
বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)
মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১. দিনের বেলা আকাশকে নীল দেখায় কেন?
সঠিক উত্তর: B. আলোর বিচ্ছুরণের জন্য
বিশ্লেষণ: বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্পে সূর্যের আলো ধাক্কা খেয়ে নীল রং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাই আকাশ নীল দেখায়।
২. বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
সঠিক উত্তর: C. নাইট্রোজেন
বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডলে ওজন হিসাবে প্রায় ৭৮% নাইট্রোজেন গ্যাস থাকে।
৩. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়?
সঠিক উত্তর: A. ট্রপোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: এই স্তরে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প থাকায় সমস্ত আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে।
৪. জেট প্লেন বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর দিয়ে চলাচল করে?
সঠিক উত্তর: B. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি না থাকায় এই শান্ত স্তর দিয়ে জেট প্লেন চলাচল করে।
৫. ওজোন গ্যাসের স্তর কোন স্তরে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ২০-২৫ কিমি উচ্চতায় ওজোন গ্যাসের স্তর থাকে যা ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
৬. কোন স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে?
সঠিক উত্তর: D. থার্মোস্ফিয়ার (আয়নোস্ফিয়ার)
বিশ্লেষণ: এই স্তরের আয়নিত কণা বেতার তরঙ্গকে প্রতিফলিত করে, ফলে আমরা রেডিও শুনতে পাই।
৭. মহাকাশ স্টেশন বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে থাকে?
সঠিক উত্তর: D. এক্সোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: এক্সোস্ফিয়ার হলো বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের স্তর, যেখানে কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা হয়।
৮. প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবী কেমন ছিল?
সঠিক উত্তর: B. জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড
বিশ্লেষণ: পৃথিবী সৃষ্টির সময়ে একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল, যা পরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়েছে।
৯. পৃথিবীর বাইরের শক্ত আস্তরণকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. ভূ-ত্বক
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সবথেকে বাইরের পাতলা ও শক্ত আস্তরণটি হলো ভূ-ত্বক (Crust)।
১০. পৃথিবীর কত ভাগ স্থল?
সঠিক উত্তর: A. এক ভাগ
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর চার ভাগের প্রায় এক ভাগ (২৯%) হলো স্থলভাগ।
১১. শিলামণ্ডল থেকে আমরা কী পাই?
সঠিক উত্তর: C. ধাতু ও খনিজ পদার্থ
বিশ্লেষণ: শিলামণ্ডল থেকে লোহা, তামা, সোনা, কয়লা, খনিজ তেলের মতো দরকারি সম্পদ পাওয়া যায়।
১২. পৃথিবীর বিশাল জলভান্ডারকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. বারিমণ্ডল
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সমস্ত জলভাগকে (মহাসাগর, সাগর, নদী ইত্যাদি) একত্রে বারিমণ্ডল (Hydrosphere) বলে।
১৩. মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায় কেন?
সঠিক উত্তর: C. বিশাল জলভাগের জন্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ জল হওয়ায় মহাকাশ থেকে একে একটি 'নীল গ্রহ' বলে মনে হয়।
১৪. পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের আবির্ভাব কোথায় হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: C. জলে
বিশ্লেষণ: প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জলেই পৃথিবীর প্রথম প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল।
১৫. পৃথিবীর মোট জলের কত শতাংশ সমুদ্রে আছে?
সঠিক উত্তর: D. ৯৭%
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর মোট জলের ৯৭ ভাগই নোনা জল হিসেবে সমুদ্রে রয়েছে।
১৬. জলের চক্রাকার আবর্তনকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. জলচক্র
বিশ্লেষণ: জল বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠা, মেঘ তৈরি হওয়া এবং বৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে ফিরে আসাকে জলচক্র বলে।
১৭. মহাদেশগুলো বছরে কতটা করে সরছে?
সঠিক উত্তর: A. ২-২০ সেমি
বিশ্লেষণ: কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে মহাদেশগুলো খুব ধীর গতিতে বছরে ২-২০ সেমি করে সরছে।
১৮. অখণ্ড মহা-মহাদেশটির নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: C. প্যানজিয়া
বিশ্লেষণ: প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রে 'প্যানজিয়া' নামক একটি বিশাল মহাদেশরূপে ছিল।
১৯. বিরাট মহা-মহাসাগরের নাম কী ছিল?
সঠিক উত্তর: B. প্যানথালাসা
বিশ্লেষণ: প্যানজিয়ার চারদিকে থাকা বিশাল জলভাগের নাম ছিল 'প্যানথালাসা'।
২০. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি?
সঠিক উত্তর: D. এশিয়া
বিশ্লেষণ: এশিয়া আয়তনে ও জনসংখ্যায় পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ।
২১. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোনটি?
সঠিক উত্তর: B. ওশিয়ানিয়া (অস্ট্রেলিয়া)
বিশ্লেষণ: ওশিয়ানিয়া হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ছোটো মহাদেশ।
২২. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. প্রশান্ত
বিশ্লেষণ: প্রশান্ত মহাসাগর হলো পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর।
২৩. পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. নীলনদ
বিশ্লেষণ: আফ্রিকার নীলনদ হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
২৪. জল, স্থল ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত জীবকে নিয়ে কী গঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: D. জীবমণ্ডল
বিশ্লেষণ: সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতকে নিয়ে জীবমণ্ডল (Biosphere) গঠিত।
২৫. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: A. বিশ্ব উষ্ণায়ন
বিশ্লেষণ: বিষাক্ত গ্যাসের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং নামে পরিচিত।
২৬. বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ কত?
সঠিক উত্তর: B. ২১%
বিশ্লেষণ: ওজন হিসাবে বায়ুমণ্ডলে প্রায় ২১ ভাগ অক্সিজেন গ্যাস রয়েছে।
২৭. ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি ১০০০ মিটারে তাপমাত্রা কত কমে?
সঠিক উত্তর: A. ৬.৪° সে.
বিশ্লেষণ: ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ৬.৪° সেলসিয়াস হারে তাপমাত্রা কমতে থাকে।
২৮. কোন স্তরের অপর নাম আয়নোস্ফিয়ার?
সঠিক উত্তর: C. থার্মোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: এই স্তরের গ্যাস আয়নিত অবস্থায় থাকে বলে একে আয়নোস্ফিয়ারও বলা হয়।
২৯. বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে দিনে ও রাতের তাপমাত্রার কীরকম পরিবর্তন হতো?
সঠিক উত্তর: C. দিনের বেলা প্রবল গরম ও রাতে প্রবল ঠান্ডা হতো
বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডল চাদরের মতো কাজ করে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩০. পৃথিবীর কেন্দ্রের স্তরটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: D. কেন্দ্রমণ্ডল
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর একেবারে ভেতরের অংশটি হলো কেন্দ্রমণ্ডল (Core)।
৩১. সাহারা মরুভূমি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: B. আফ্রিকা
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি সাহারা আফ্রিকা মহাদেশের উত্তরে অবস্থিত।
৩২. পৃথিবীর মোট স্থলভাগের পরিমাণ কত?
সঠিক উত্তর: B. ২৯%
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর মোট আয়তনের মাত্র ২৯ শতাংশ হলো স্থলভাগ।
৩৩. কোন গোলার্ধে জলভাগের পরিমাণ বেশি?
সঠিক উত্তর: B. দক্ষিণ গোলার্ধে
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
৩৪. পরিবেশের জড় উপাদান কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. সূর্যের আলো
বিশ্লেষণ: জল, বাতাস, সূর্যের আলো, মাটি হলো পরিবেশের জড় উপাদান।
৩৫. ফ্রিজ, এ.সি. থেকে নির্গত গ্যাস কোন স্তরের ক্ষতি করে?
সঠিক উত্তর: C. ওজোন স্তর
বিশ্লেষণ: ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC) জাতীয় গ্যাস বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটায়।
৩৬. মহাদেশ সঞ্চরণের মূল কারণ কী?
সঠিক উত্তর: C. গুরুমণ্ডলের পরিচলন স্রোত
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অভ্যন্তরের প্রচণ্ড তাপে গুরুমণ্ডলে যে পরিচলন স্রোত তৈরি হয়, তা-ই মহাদেশীয় পাতগুলিকে সচল রাখে।
৩৭. আমাজন নদী কোন মহাদেশে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: D. দক্ষিণ আমেরিকা
বিশ্লেষণ: আমাজন হলো জলপ্রবাহের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম নদী এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
৩৮. মেরুজ্যোতি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: C. থার্মোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারে আয়নিত কণার সঙ্গে সৌরবায়ুর সংঘর্ষের ফলে মেরু অঞ্চলে মেরুজ্যোতি সৃষ্টি হয়।
৩৯. 'ইউরেশিয়া' বলতে কোন দুটি মহাদেশকে বোঝায়?
সঠিক উত্তর: C. ইউরোপ ও এশিয়া
বিশ্লেষণ: ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশ দুটিকে একত্রে 'ইউরেশিয়া' বলা হয়।
৪০. পরিবেশের সজীব উপাদান কোনটি?
সঠিক উত্তর: D. উদ্ভিদ
বিশ্লেষণ: উদ্ভিদ, প্রাণী এবং সমস্ত জীবজগত হলো পরিবেশের সজীব উপাদান।
৪১. কোন মণ্ডলে আমরা বাস করি?
সঠিক উত্তর: B. শিলামণ্ডল
বিশ্লেষণ: মানুষ এবং অন্যান্য স্থলচর প্রাণীরা শিলামণ্ডলের উপর বসবাস করে।
৪২. পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর কোনটি?
সঠিক উত্তর: D. সুমেরু
বিশ্লেষণ: উত্তর মেরুর চারদিকে অবস্থিত সুমেরু মহাসাগর হলো পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর।
৪৩. পৃথিবীর শীতলতম মরুভূমি কোনটি?
সঠিক উত্তর: C. প্যাটাগোনিয়া
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত প্যাটাগোনিয়া একটি শুষ্ক ও শীতল মরুভূমি।
৪৪. রকি পর্বতশ্রেণি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: A. উত্তর আমেরিকা
বিশ্লেষণ: রকি হলো উত্তর আমেরিকার প্রধান এবং দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণি।
৪৫. আন্দিজ পর্বতশ্রেণি কোন মহাদেশে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: B. দক্ষিণ আমেরিকা
বিশ্লেষণ: আন্দিজ হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতশ্রেণি এবং এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।
৪৬. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উল্কা পুড়ে ছাই হয়ে যায়?
সঠিক উত্তর: C. মেসোস্ফিয়ার
বিশ্লেষণ: মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ডগুলি মেসোস্ফিয়ার স্তরে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে।
৪৭. পৃথিবীর মাঝের স্তরটির নাম কী?
সঠিক উত্তর: B. গুরুমণ্ডল
বিশ্লেষণ: ভূ-ত্বকের নিচে এবং কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে অবস্থিত স্তরটি হলো গুরুমণ্ডল (Mantle)।
৪৮. প্রতিদিন প্রায় কতগুলি উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে?
সঠিক উত্তর: D. ১০ হাজার কোটি
বিশ্লেষণ: প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার কোটি ছোটো ছোটো উল্কা পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে, তবে সেগুলি বায়ুমণ্ডলেই ধ্বংস হয়ে যায়।
৪৯. কোন মণ্ডলের জন্য পৃথিবীতে অনুকূল তাপমাত্রা বজায় থাকে?
সঠিক উত্তর: C. বায়ুমণ্ডল
বিশ্লেষণ: বায়ুমণ্ডল গ্রিনহাউস গ্যাসের মাধ্যমে পৃথিবীর তাপমাত্রাকে জীবনধারণের উপযোগী রাখে।
৫০. উচ্চতা বা গভীরতা মাপার জন্য কিসের সাপেক্ষে মাপা হয়?
সঠিক উত্তর: C. গড় সমুদ্রতল
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর সব মহাসাগর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকায় এদের জলতলের উচ্চতা প্রায় সমান। তাই গড় সমুদ্রতলকে উচ্চতা বা গভীরতা পরিমাপের ভিত্তি ধরা হয়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
প্রশ্ন ১: বায়ুমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীকে চাদরের মতো ঘিরে থাকা বিভিন্ন গ্যাসের অদৃশ্য স্তরকে বায়ুমণ্ডল বলে।
প্রশ্ন ২: শিলামণ্ডল কী?
উত্তর: পৃথিবীর সবথেকে বাইরের কঠিন আবরণ, যা মূলত শিলা ও মাটি দিয়ে তৈরি, তাকে শিলামণ্ডল বলে।
প্রশ্ন ৩: বারিমণ্ডল কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর সমস্ত জলভাগকে (মহাসাগর, সাগর, নদী, হ্রদ ইত্যাদি) একত্রে বারিমণ্ডল বলা হয়।
প্রশ্ন ৪: জীবমণ্ডল কী?
উত্তর: বায়ুমণ্ডল, শিলামণ্ডল ও বারিমণ্ডলের যে অংশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ সম্ভব, সেই অংশকে একত্রে জীবমণ্ডল বলে।
প্রশ্ন ৫: ট্রপোস্ফিয়ার কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরে প্রায় ১৬ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তরকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
প্রশ্ন ৬: ওজোন স্তরের গুরুত্ব কী?
উত্তর: ওজোন স্তর সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন ৭: বায়ুমণ্ডলে থাকা দুটি প্রধান গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের দুটি প্রধান গ্যাস হলো নাইট্রোজেন (প্রায় ৭৮%) এবং অক্সিজেন (প্রায় ২১%)।
প্রশ্ন ৮: বায়ুমণ্ডল না থাকলে কী হতো?
উত্তর: বায়ুমণ্ডল না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকত না এবং দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম ও রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হতো।
প্রশ্ন ৯: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তিনটি স্তরের নাম লেখো।
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তিনটি স্তর হলো ভূ-ত্বক, গুরুমণ্ডল এবং কেন্দ্রমণ্ডল।
প্রশ্ন ১০: জলচক্র কাকে বলে?
উত্তর: যে চক্রাকার পদ্ধতিতে জল বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে ওঠে, মেঘে পরিণত হয় এবং বৃষ্টিরূপে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসে, তাকে জলচক্র বলে।
প্রশ্ন ১১: মহাদেশ সঞ্চরণ কী?
উত্তর: পৃথিবীর মহাদেশগুলি বছরে ২-২০ সেমি গতিতে খুব ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বা কাছে আসছে। এই ঘটনাকে মহাদেশ সঞ্চরণ বলে।
প্রশ্ন ১২: প্যানজিয়া ও প্যানথালাসা কী ছিল?
উত্তর: প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ একত্রে একটি অখণ্ড মহাদেশরূপে ছিল, যার নাম প্যানজিয়া। আর প্যানজিয়াকে ঘিরে থাকা বিশাল মহাসাগরের নাম ছিল প্যানথালাসা।
প্রশ্ন ১৩: বর্তমানে পৃথিবীতে কটি মহাদেশ ও কটি মহাসাগর আছে?
উত্তর: বর্তমানে পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ এবং পাঁচটি মহাসাগর আছে।
প্রশ্ন ১৪: পৃথিবীর বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ ওশিয়ানিয়া (অস্ট্রেলিয়া)।
প্রশ্ন ১৫: পৃথিবীর বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম মহাসাগরের নাম কী?
উত্তর: পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্ষুদ্রতম মহাসাগর সুমেরু মহাসাগর।
প্রশ্ন ১৬: বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে?
উত্তর: মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ঘটনাকে বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
প্রশ্ন ১৭: কেন আকাশ দিনের বেলায় নীল দেখায়?
উত্তর: দিনের বেলায় সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণায় বিচ্ছুরিত হয়ে নীল রং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে, তাই আকাশ নীল দেখায়।
প্রশ্ন ১৮: কোন গোলার্ধে স্থলভাগের পরিমাণ বেশি?
উত্তর: উত্তর গোলার্ধে জলভাগ ও স্থলভাগের পরিমাণ প্রায় সমান, কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধের তুলনায় উত্তর গোলার্ধেই স্থলভাগ বেশি।
প্রশ্ন ১৯: মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে 'নীল গ্রহ' মনে হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবীর চার ভাগের প্রায় তিন ভাগ জলভাগ হওয়ায় মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল গোলকের মতো দেখায়।
প্রশ্ন ২০: পরিচলন স্রোত কী?
উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তাপে গুরুমণ্ডলের পদার্থ উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠে আসে এবং উপরের ঠান্ডা ভারী পদার্থ নীচে নেমে যায়। এই চক্রাকার স্রোতকে পরিচলন স্রোত বলে।
প্রশ্ন ২১: পরিবেশের জড় ও সজীব উপাদান বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পরিবেশের প্রাণহীন উপাদান যেমন—জল, বাতাস, মাটি, সূর্যের আলো হলো জড় উপাদান। আর উদ্ভিদ, প্রাণীসহ সমস্ত জীব হলো সজীব উপাদান।
প্রশ্ন ২২: পৃথিবীর কত শতাংশ জল পানের যোগ্য?
উত্তর: পৃথিবীর মোট জলের মাত্র ৩ শতাংশ হলো মিষ্টি জল (নদী, হ্রদ, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ জল), যা পানের যোগ্য।
প্রশ্ন ২৩: বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম হয়?
উত্তর: মেসোস্ফিয়ার স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের শীতলতম স্তর।
প্রশ্ন ২৪: পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে কেন?
উত্তর: জল, স্থল ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে পৃথিবীতে জীবনধারণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই এখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন ২৫: দুটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখো।
উত্তর: দুটি গ্রিনহাউস গ্যাস হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) এবং মিথেন (CH₄)।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: উচ্চতা ও উষ্ণতার তারতম্য অনুযায়ী বায়ুমণ্ডলকে কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়:
(ক) ট্রপোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তরে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি হয়। উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে।
(খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তরটি শান্ত হওয়ায় জেট প্লেন চলে। এই স্তরে ওজোন গ্যাসের অস্তিত্ব রয়েছে।
(গ) মেসোস্ফিয়ার: ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তরে উল্কা পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
(ঘ) থার্মোস্ফিয়ার (আয়নোস্ফিয়ার): প্রায় ৩০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় এবং মেরুজ্যোতি দেখা যায়।
(ঙ) এক্সোস্ফিয়ার: এটি সবচেয়ে বাইরের স্তর, যেখানে কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশ স্টেশন থাকে।
প্রশ্ন ২: জীবজগতের জন্য বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম কেন?
উত্তর: জীবজগতের জন্য বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ:
(ক) প্রাণের অস্তিত্ব: বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন গ্যাস ছাড়া প্রাণীজগত এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ছাড়া উদ্ভিদজগত বাঁচতে পারত না।
(খ) তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা জীবনধারণের অনুকূলে রাখে। এটি না থাকলে দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম ও রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা হতো।
(গ) উল্কাপাত থেকে রক্ষা: মহাকাশ থেকে ছুটে আসা কোটি কোটি উল্কা বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘষা লেগে জ্বলে ছাই হয়ে যায়, ফলে পৃথিবী সুরক্ষিত থাকে।
(ঘ) ক্ষতিকারক রশ্মি শোষণ: বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগতকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন ৩: জলচক্র বলতে কী বোঝো? একটি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যে চক্রাকার পদ্ধতিতে পৃথিবীর জলভাগ থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে উপরে উঠে যায়, ঘনীভূত হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে এবং অবশেষে বৃষ্টি বা তুষাররূপে আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে, সেই সমগ্র প্রক্রিয়াকে জলচক্র বলে।
প্রক্রিয়া:
(ক) বাষ্পীভবন: সূর্যের তাপে সমুদ্র, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ের জল বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মেশে।
(খ) ঘনীভবন: ঐ জলীয় বাষ্পযুক্ত হালকা বাতাস উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র জলকণায় পরিণত হয় এবং ধূলিকণাকে আশ্রয় করে মেঘ তৈরি করে।
(গ) অধঃক্ষেপণ: মেঘের জলকণাগুলি মিলিত হয়ে বড়ো হলে মাধ্যাকর্ষণের টানে বৃষ্টি, তুষার বা শিলাবৃষ্টিরূপে পৃথিবীতে নেমে আসে। এই জল আবার নদী ও সমুদ্রের মাধ্যমে জলভান্ডারে ফিরে যায় এবং চক্রটি চলতে থাকে।
প্রশ্ন ৪: মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্বটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর: মহাদেশ সঞ্চরণ তত্ত্ব অনুযায়ী, আজ আমরা যে সাতটি মহাদেশ দেখি, সেগুলি চিরকাল এমন অবস্থায় ছিল না।
প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগগুলি একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অখণ্ড মহাদেশ গঠন করেছিল, যার নাম ছিল 'প্যানজিয়া'। এই প্যানজিয়াকে ঘিরে ছিল 'প্যানথালাসা' নামক এক বিশাল মহাসাগর।
প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গুরুমণ্ডলে সৃষ্ট পরিচলন স্রোতের কারণে প্যানজিয়া ভাঙতে শুরু করে। এর ভাঙা টুকরোগুলো অর্থাৎ মহাদেশগুলি বছরে ২-২০ সেমি গতিতে খুব ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে দূরে সরতে থাকে। কোটি কোটি বছর ধরে এই সরণের ফলেই বর্তমানের সাতটি মহাদেশ ও পাঁচটি মহাসাগরের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সরণ প্রক্রিয়া আজও অব্যাহত রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: জীবমণ্ডল কীভাবে গঠিত হয়েছে? পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: জীবমণ্ডলের গঠন: শিলামণ্ডল (মাটি), বারিমণ্ডল (জল) এবং বায়ুমণ্ডল (বাতাস)—এই তিনটি প্রাকৃতিক মণ্ডলের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে পৃথিবীতে জীবনের অনুকূল এক আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই তিনটি মণ্ডলের যে অংশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারণ সম্ভব, সেই অংশকে একত্রে জীবমণ্ডল বলে।
পরিবেশ রক্ষায় করণীয়: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এর জন্য আমাদের উচিত:
(ক) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা।
(খ) প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগানো এবং বনজঙ্গল ধ্বংস বন্ধ করা।
(গ) জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, খনিজ তেল) ব্যবহার কমানো।
(ঘ) কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
(ঙ) জল, মাটি ও বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।