তুমি কোথায় আছ
"তুমি কোথায় আছ" অধ্যায়ে পৃথিবীর কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর কোনো ধার বা কোণা নেই, তাই এর উপর কোনো জায়গার অবস্থান বোঝানোর জন্য কয়েকটি কাল্পনিক রেখা ও বিন্দু কল্পনা করা হয়েছে। এই অধ্যায়ে পৃথিবীর অক্ষ, দুই মেরু, নিরক্ষরেখা, অক্ষরেখা, দ্রাঘিমারেখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা যেমন কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই কাল্পনিক রেখাগুলির সাহায্যে কীভাবে পৃথিবীকে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করা হয় এবং কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা হয়, তা বোঝানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি
পৃথিবীর অক্ষ (Earth's Axis)
পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে সংযোগকারী কল্পিত সরলরেখাকে পৃথিবীর অক্ষ বলে। এই অক্ষের চারদিকেই পৃথিবী আবর্তন করে।
মেরু (Poles)
পৃথিবীর অক্ষের দুই প্রান্তবিন্দুকে মেরু বলে। উত্তর প্রান্তটি হলো উত্তর মেরু বা সুমেরু (90° উঃ) এবং দক্ষিণ প্রান্তটি হলো দক্ষিণ মেরু বা কুমেরু (90° দঃ)।
নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator)
দুই মেরু থেকে সমান দূরে পৃথিবীর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বলে। এর মান 0°। এটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করেছে।
অক্ষরেখা (Parallels of Latitude)
নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে। এগুলি পূর্ণবৃত্ত এবং পরস্পরের সমান্তরাল।
দ্রাঘিমারেখা (Meridians of Longitude)
উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলিকে দ্রাঘিমারেখা বলে। সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
মূলমধ্যরেখা (Prime Meridian)
লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত যে দ্রাঘিমারেখাটিকে প্রধান ধরা হয়, তাকে মূলমধ্যরেখা বলে। এর মান 0°। এটি পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করেছে।
গোলার্ধ (Hemisphere)
নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে এবং মূলমধ্যরেখা ও 180° দ্রাঘিমারেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করেছে।
মহাবৃত্ত (Great Circle)
যে কোনো পূর্ণ বৃত্তরেখা যা পৃথিবীকে দুটি সমান অংশে ভাগ করে, তাকে মহাবৃত্ত বলে। নিরক্ষরেখা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মহাবৃত্ত।
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন (MCQ)
১. পৃথিবীর একটি ছোটো মডেলকে কী বলা হয়?
সঠিক উত্তর: C. গ্লোব
বিশ্লেষণ: গ্লোব হলো পৃথিবীর একটি ত্রিমাত্রিক মডেল যা পৃথিবীর আকৃতি ও বিভিন্ন স্থানকে সঠিকভাবে দেখায়।
২. পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে চলে যাওয়া কাল্পনিক রেখাটি হলো—
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবীর অক্ষ
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অক্ষ হলো একটি কাল্পনিক দণ্ড যা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে সংযোগ করে এবং যার চারপাশে পৃথিবী ঘোরে।
৩. পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. উত্তর মেরু
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তবিন্দু হলো উত্তর মেরু বা সুমেরু।
৪. নিরক্ষরেখার মান কত?
সঠিক উত্তর: A. 0°
বিশ্লেষণ: দুই মেরু থেকে সমান দূরে অবস্থিত প্রধান অক্ষরেখা নিরক্ষরেখার মান ০° ধরা হয়।
৫. কোন রেখাটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করেছে?
সঠিক উত্তর: C. নিরক্ষরেখা
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার উত্তরের অংশ উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অংশ দক্ষিণ গোলার্ধ নামে পরিচিত।
৬. অক্ষরেখাগুলি কোন দিকে বিস্তৃত?
সঠিক উত্তর: B. পূর্ব-পশ্চিমে
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে অঙ্কিত কাল্পনিক রেখাগুলো হলো অক্ষরেখা।
৭. সবচেয়ে বড়ো অক্ষরেখা কোনটি?
সঠিক উত্তর: D. নিরক্ষরেখা
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝ বরাবর থাকায় এর পরিধি সবচেয়ে বেশি, তাই এটি দীর্ঘতম অক্ষরেখা।
৮. উত্তর মেরুর মান কত?
সঠিক উত্তর: A. 90° উঃ
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা থেকে সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত বিন্দু উত্তর মেরুর মান ৯০° উত্তর।
৯. কর্কটক্রান্তি রেখার মান কত?
সঠিক উত্তর: C. 23.5° উঃ
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার উত্তরে ২৩.৫° অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলে।
১০. মকরক্রান্তি রেখা কোন গোলার্ধে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: B. দক্ষিণ গোলার্ধে
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার দক্ষিণে ২৩.৫° অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
১১. পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সঙ্গে কত ডিগ্রি কোণ করে থাকে?
সঠিক উত্তর: C. 66.5°
বিশ্লেষণ: পৃথিবী তার কক্ষতলের উপর সোজা না থেকে ৬৬.৫° কোণে হেলে অবস্থান করে।
১২. দ্রাঘিমারেখাগুলির আকৃতি কেমন?
সঠিক উত্তর: B. অর্ধবৃত্ত
বিশ্লেষণ: উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত অঙ্কিত অর্ধেক বৃত্তরেখাগুলো হলো দ্রাঘিমারেখা।
১৩. মূলমধ্যরেখার মান কত?
সঠিক উত্তর: C. 0°
বিশ্লেষণ: লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে যাওয়া দ্রাঘিমারেখাটিকে মূলমধ্যরেখা ধরা হয় এবং এর মান ০°।
১৪. কোন রেখাটি পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধের সূচনা করে?
সঠিক উত্তর: B. মূলমধ্যরেখা
বিশ্লেষণ: ০° দ্রাঘিমারেখা বা মূলমধ্যরেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে বিভক্ত করে।
১৫. দ্রাঘিমারেখাগুলি কোথায় গিয়ে মিলিত হয়?
সঠিক উত্তর: B. দুটি মেরুতে
বিশ্লেষণ: সমস্ত দ্রাঘিমারেখা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
১৬. মোট দ্রাঘিমারেখার সংখ্যা কত?
সঠিক উত্তর: B. 360
বিশ্লেষণ: ১° অন্তর মোট ৩৬০টি দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে (০° থেকে ১৭৯° পূর্ব এবং ০° থেকে ১৭৯° পশ্চিম, এবং একটি ১৮০° রেখা)।
১৭. সুমেরুবৃত্ত রেখার মান কত?
সঠিক উত্তর: C. 66.5° উঃ
বিশ্লেষণ: উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত রেখা বলে।
১৮. কুমেরুবৃত্ত রেখার মান কত?
সঠিক উত্তর: B. 66.5° দঃ
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ গোলার্ধে ৬৬.৫° অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত রেখা বলে।
১৯. অক্ষরেখাগুলি পরস্পরের—
সঠিক উত্তর: A. সমান্তরাল
বিশ্লেষণ: অক্ষরেখাগুলি নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত এবং এরা কখনও একে অপরকে ছেদ করে না।
২০. কোন রেখাগুলির দৈর্ঘ্য সব সমান?
সঠিক উত্তর: B. দ্রাঘিমারেখা
বিশ্লেষণ: সমস্ত দ্রাঘিমারেখা উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধবৃত্ত, তাই এদের প্রত্যেকের দৈর্ঘ্য সমান।
২১. পৃথিবীর অক্ষ কোন তারার দিকে মুখ করে থাকে?
সঠিক উত্তর: C. ধ্রুবতারা
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্ত সারাবছর ধ্রুবতারার দিকে মুখ করে থাকে।
২২. মূলমধ্যরেখার ঠিক বিপরীতে কোন দ্রাঘিমারেখা রয়েছে?
সঠিক উত্তর: C. 180°
বিশ্লেষণ: ০° দ্রাঘিমারেখার ঠিক বিপরীতে থাকা ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা দুটি আসলে একটাই রেখা।
২৩. যে পূর্ণ বৃত্তরেখা পৃথিবীকে সমান দুটি অংশে ভাগ করে, তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: C. মহাবৃত্ত
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা একটি মহাবৃত্ত। এছাড়া দুটি বিপরীত দ্রাঘিমারেখার মিলিত বৃত্তও একটি মহাবৃত্ত।
২৪. ভারত কোন গোলার্ধে অবস্থিত?
সঠিক উত্তর: C. উত্তর ও পূর্ব
বিশ্লেষণ: ভারত নিরক্ষরেখার উত্তরে এবং মূলমধ্যরেখার পূর্বে অবস্থিত, তাই এটি উত্তর-পূর্ব গোলার্ধের দেশ।
২৫. কোন অক্ষরেখাটি কুমেরু মহাদেশের ওপর দিয়ে গেছে?
সঠিক উত্তর: B. কুমেরুবৃত্ত রেখা
বিশ্লেষণ: ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা বা কুমেরুবৃত্ত রেখা অ্যান্টার্কটিকা বা কুমেরু মহাদেশের উপর দিয়ে বিস্তৃত।
২৬. নিরক্ষরেখার অপর নাম কী?
সঠিক উত্তর: A. বিষুবরেখা
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা (Equator) হলো ০° অক্ষরেখা।
২৭. মূলমধ্যরেখা কোন মানমন্দিরের ওপর দিয়ে গেছে?
সঠিক উত্তর: D. গ্রিনিচ
বিশ্লেষণ: লন্ডনের গ্রিনিচ রয়্যাল অবজারভেটরি বা মানমন্দিরের ওপর দিয়ে মূলমধ্যরেখা কল্পনা করা হয়েছে।
২৮. নিরক্ষরেখার সঙ্গে পৃথিবীর অক্ষ কত ডিগ্রি কোণে থাকে?
সঠিক উত্তর: C. 90°
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা যে তলে অবস্থিত (নিরক্ষীয় তল), সেই তলের সঙ্গে পৃথিবীর অক্ষ ৯০° কোণ করে থাকে।
২৯. পৃথিবীর কোথায় দাঁড়ালে সব দিকই দক্ষিণ দিক হবে?
সঠিক উত্তর: B. উত্তর মেরুতে
বিশ্লেষণ: উত্তর মেরু হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের বিন্দু। তাই সেখান থেকে যে কোনো দিকে গেলেই তা দক্ষিণ দিক হবে।
৩০. দ্রাঘিমারেখাগুলিকে ইংরেজিতে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. Meridian of Longitude
বিশ্লেষণ: দ্রাঘিমারেখাকে ইংরেজিতে মেরিডিয়ান অফ লংগিচিউড বলা হয়।
৩১. পৃথিবীর কোথায় দাঁড়ালে সব দিকই উত্তর দিক হবে?
সঠিক উত্তর: A. দক্ষিণ মেরুতে
বিশ্লেষণ: দক্ষিণ মেরু হলো পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণের বিন্দু। তাই সেখান থেকে যে কোনো দিকে গেলেই তা উত্তর দিক হবে।
৩২. কর্কটক্রান্তি রেখা কোন মহাদেশের ওপর দিয়ে যায়নি?
সঠিক উত্তর: D. ইউরোপ
বিশ্লেষণ: কর্কটক্রান্তি রেখা এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার ওপর দিয়ে বিস্তৃত কিন্তু ইউরোপের ওপর দিয়ে যায়নি।
৩৩. নিরক্ষরেখা কোন দেশের ওপর দিয়ে গেছে?
সঠিক উত্তর: B. ব্রাজিল
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের ওপর দিয়ে গেছে।
৩৪. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে কত কোণে ছেদ করে?
সঠিক উত্তর: C. 90°
বিশ্লেষণ: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা পরস্পরকে সমকোণে বা ৯০° কোণে ছেদ করে।
৩৫. দুটি স্থানের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব কোন পথে হয়?
সঠিক উত্তর: C. মহাবৃত্ত বরাবর
বিশ্লেষণ: কোনো গোলকের পৃষ্ঠে দুটি বিন্দুর মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব হলো মহাবৃত্তের বৃত্তচাপ বরাবর।
৩৬. মূলমধ্যরেখা নির্ধারণের আন্তর্জাতিক সভা কবে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: B. 1884
বিশ্লেষণ: ১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক আলোচনাসভায় স্থির হয় যে লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে মূলমধ্যরেখা যাবে।
৩৭. কোন অক্ষরেখার কাছাকাছি দেশগুলিতে সারাবছর গরম থাকে?
সঠিক উত্তর: C. নিরক্ষরেখা
বিশ্লেষণ: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি প্রায় সারাবছর লম্বভাবে পড়ে, তাই এখানে উষ্ণতা বেশি থাকে।
৩৮. মেরুর দিকে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ—
সঠিক উত্তর: B. কমতে থাকে
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা থেকে যতই মেরুর দিকে যাওয়া যায়, অক্ষরেখাগুলির পরিধি বা দৈর্ঘ্য ততই ছোটো হতে থাকে।
৩৯. কোন রেখাগুলি অর্ধবৃত্ত?
সঠিক উত্তর: C. দ্রাঘিমারেখা
বিশ্লেষণ: দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধবৃত্তাকার রেখা।
৪০. দুটি দ্রাঘিমারেখার মধ্যে দূরত্ব কোথায় সবচেয়ে বেশি?
সঠিক উত্তর: B. নিরক্ষরেখায়
বিশ্লেষণ: দ্রাঘিমারেখাগুলি নিরক্ষরেখার কাছে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে এবং মেরুর দিকে ক্রমশ কাছাকাছি আসে।
৪১. মোট অক্ষরেখার সংখ্যা (১° অন্তর) কত?
সঠিক উত্তর: C. 179
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখার উত্তরে ৮৯টি, দক্ষিণে ৮৯টি এবং নিরক্ষরেখা নিজে ১টি, মোট (৮৯+৮৯+১)= ১৭৯টি। (মেরু দুটি বিন্দু হওয়ায় এদেরকে রেখা ধরা হয় না)।
৪২. পৃথিবীর উত্তর প্রান্ত ও দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
সঠিক উত্তর: B. অক্ষ
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর অক্ষ উত্তর ও দক্ষিণ মেরুকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে সংযোগকারী একটি কাল্পনিক সরলরেখা।
৪৩. পৃথিবীর কক্ষপথ যে তলে রয়েছে তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. কক্ষতল
বিশ্লেষণ: পৃথিবী যে পথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে তা হলো পৃথিবীর কক্ষপথ, আর এই কক্ষপথ যে তলে রয়েছে তা হলো কক্ষতল (Orbital Plane)।
৪৪. কোন গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখায় কোনো দেশ নেই?
সঠিক উত্তর: D. কুমেরুবৃত্ত রেখা
বিশ্লেষণ: কুমেরুবৃত্ত রেখাটি অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে গেছে, যেখানে কোনো দেশ নেই।
৪৫. একটি মহাবৃত্তের কেন্দ্র ও গোলকের কেন্দ্র হয়—
সঠিক উত্তর: B. এক
বিশ্লেষণ: কোনো গোলকের পৃষ্ঠে মহাবৃত্ত হলো সেই বৃত্ত, যার কেন্দ্র ও গোলকটির কেন্দ্র একই বিন্দুতে থাকে।
৪৬. বিমান চালকরা সাধারণত কোন পথ ধরে চলাচল করেন?
সঠিক উত্তর: D. মহাবৃত্তের পথ
বিশ্লেষণ: মহাবৃত্ত বরাবর পথই গোলকের উপর দুটি স্থানের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্বের পথ, তাই এই পথ অনুসরণ করা হয়।
৪৭. নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত বলা হয় কেন?
সঠিক উত্তর: B. এটি পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে
বিশ্লেষণ: যে কোনো বৃত্ত যা গোলককে দুটি সমান অংশে ভাগ করে, তাই মহাবৃত্ত। নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করে।
৪৮. দক্ষিণ মেরুর মান কত?
সঠিক উত্তর: B. 90° দঃ
বিশ্লেষণ: নিরক্ষরেখা থেকে সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত বিন্দু দক্ষিণ মেরুর মান ৯০° দক্ষিণ।
৪৯. কোন রেখাগুলি পূর্ণবৃত্ত নয়?
সঠিক উত্তর: B. দ্রাঘিমারেখা
বিশ্লেষণ: দ্রাঘিমারেখাগুলি অর্ধবৃত্ত, অপরদিকে সমস্ত অক্ষরেখা পূর্ণবৃত্ত।
৫০. কোনো জায়গার অবস্থান জানতে কোন দুটি রেখার প্রয়োজন?
সঠিক উত্তর: C. অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা
বিশ্লেষণ: কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান জানার জন্য সেই স্থানটি কোন অক্ষরেখা ও কোন দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত, তা জানতে হয়।
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
প্রশ্ন ১: পৃথিবীর অক্ষ কাকে বলে?
উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্র দিয়ে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুকে সংযোগকারী কল্পিত সরলরেখাকে পৃথিবীর অক্ষ বলে।
প্রশ্ন ২: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা কী?
উত্তর: দুই মেরু থেকে সমান দূরে পৃথিবীর মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত প্রধান কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাটিকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে, যার মান ০°।
প্রশ্ন ৩: অক্ষরেখা কাকে বলে?
উত্তর: নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত কাল্পনিক পূর্ণবৃত্ত রেখাগুলিকে অক্ষরেখা বলে।
প্রশ্ন ৪: দ্রাঘিমারেখা কাকে বলে?
উত্তর: উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত উত্তর-দক্ষিণে কল্পিত অর্ধবৃত্তাকার রেখাগুলিকে দ্রাঘিমারেখা বলে।
প্রশ্ন ৫: মূলমধ্যরেখা কী?
উত্তর: লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত ০° দ্রাঘিমারেখাটিকে মূলমধ্যরেখা বলা হয়।
প্রশ্ন ৬: গোলার্ধ কাকে বলে?
উত্তর: নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে এবং মূলমধ্যরেখা পৃথিবীকে পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধে ভাগ করেছে। এই প্রতিটি ভাগকে গোলার্ধ বলে।
প্রশ্ন ৭: উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ কী?
উত্তর: নিরক্ষরেখার উত্তরের অর্ধেক অংশ হলো উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অর্ধেক অংশ হলো দক্ষিণ গোলার্ধ।
প্রশ্ন ৮: পূর্ব ও পশ্চিম গোলার্ধ কী?
উত্তর: মূলমধ্যরেখার (০°) পূর্ব দিকের ১৮০° পর্যন্ত অংশ পূর্ব গোলার্ধ এবং পশ্চিম দিকের ১৮০° পর্যন্ত অংশ পশ্চিম গোলার্ধ।
প্রশ্ন ৯: কর্কটক্রান্তি রেখার মান কত?
উত্তর: কর্কটক্রান্তি রেখার মান হলো ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা।
প্রশ্ন ১০: মকরক্রান্তি রেখার মান কত?
উত্তর: মকরক্রান্তি রেখার মান হলো ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা।
প্রশ্ন ১১: সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত রেখার মান লেখো।
উত্তর: সুমেরুবৃত্ত রেখার মান ৬৬.৫° উত্তর এবং কুমেরুবৃত্ত রেখার মান ৬৬.৫° দক্ষিণ।
প্রশ্ন ১২: উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মান কত?
উত্তর: উত্তর মেরুর মান ৯০° উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর মান ৯০° দক্ষিণ।
প্রশ্ন ১৩: কোন অক্ষরেখাটি দীর্ঘতম?
উত্তর: নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা দীর্ঘতম অক্ষরেখা।
প্রশ্ন ১৪: সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য কেমন?
উত্তর: সব দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
প্রশ্ন ১৫: পৃথিবীর অক্ষ কক্ষতলের সাথে কত ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে?
উত্তর: পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষতলের সাথে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে।
প্রশ্ন ১৬: মহাবৃত্ত কাকে বলে?
উত্তর: যে পূর্ণ বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে দুটি সমান গোলার্ধে ভাগ করে এবং যার কেন্দ্র পৃথিবীর কেন্দ্রের সাথে এক, তাকে মহাবৃত্ত বলে। যেমন- নিরক্ষরেখা।
প্রশ্ন ১৭: পৃথিবীতে অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কী কী কল্পনা করা হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীতে অবস্থান নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিন্দু (যেমন- মেরু) এবং রেখা (অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা) কল্পনা করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৮: অক্ষরেখাগুলি কি পরস্পর সমান্তরাল?
উত্তর: হ্যাঁ, সমস্ত অক্ষরেখা পরস্পরের সমান্তরাল।
প্রশ্ন ১৯: দ্রাঘিমারেখাগুলি কি পরস্পর সমান্তরাল?
উত্তর: না, দ্রাঘিমারেখাগুলি সমান্তরাল নয়; এরা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে মিলিত হয়।
প্রশ্ন ২০: গ্লোব কী?
উত্তর: গ্লোব হলো পৃথিবীর একটি ছোটো, ত্রিমাত্রিক মডেল বা প্রতিরূপ।
প্রশ্ন ২১: মোট কটি দ্রাঘিমারেখা আছে?
উত্তর: ১° অন্তর মোট ৩৬০টি দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়।
প্রশ্ন ২২: নাবিক বা বিমান চালকরা কেন মহাবৃত্তের পথ অনুসরণ করেন?
উত্তর: কারণ গোলকের উপর দুটি স্থানের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্বের পথ হলো মহাবৃত্তের পথ।
প্রশ্ন ২৩: ভারত কোন কোন গোলার্ধের অন্তর্গত?
উত্তর: ভারত নিরক্ষরেখার উত্তরে হওয়ায় উত্তর গোলার্ধে এবং মূলমধ্যরেখার পূর্বে হওয়ায় পূর্ব গোলার্ধের অন্তর্গত।
প্রশ্ন ২৪: কক্ষপথ কী?
উত্তর: পৃথিবী যে নির্দিষ্ট পথে সূর্যের চারিদিকে ঘোরে, সেই পথটিকেই পৃথিবীর কক্ষপথ (Orbit) বলে।
প্রশ্ন ২৫: নিরক্ষীয় তল কাকে বলে?
উত্তর: নিরক্ষরেখা যে সমতলে অবস্থান করে, সেই কাল্পনিক সমতলটিকে নিরক্ষীয় তল (Equatorial Plane) বলে।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মধ্যে প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো:
(ক) আকৃতি ও বিস্তার: অক্ষরেখাগুলি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত পূর্ণবৃত্ত, কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত অর্ধবৃত্ত।
(খ) দৈর্ঘ্য: নিরক্ষরেখা সবচেয়ে বড় এবং মেরুর দিকে অক্ষরেখাগুলির দৈর্ঘ্য ক্রমশ কমতে থাকে। কিন্তু সমস্ত দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান।
(গ) পারস্পরিক সম্পর্ক: অক্ষরেখাগুলি পরস্পরের সমান্তরাল এবং কখনও মিলিত হয় না। কিন্তু দ্রাঘিমারেখাগুলি সমান্তরাল নয়, এরা উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে গিয়ে মিলিত হয়।
প্রশ্ন ২: পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাগুলির নাম ও মান উল্লেখ করো।
উত্তর: পৃথিবীতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা কল্পনা করা হয়েছে। এগুলি হলো:
(ক) নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা: এর মান ০°। এটি পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করেছে।
(খ) কর্কটক্রান্তি রেখা: উত্তর গোলার্ধে এর মান ২৩.৫° উত্তর।
(গ) মকরক্রান্তি রেখা: দক্ষিণ গোলার্ধে এর মান ২৩.৫° দক্ষিণ।
(ঘ) সুমেরুবৃত্ত রেখা: উত্তর গোলার্ধে এর মান ৬৬.৫° উত্তর।
(ঙ) কুমেরুবৃত্ত রেখা: দক্ষিণ গোলার্ধে এর মান ৬৬.৫° দক্ষিণ।
এছাড়া উত্তর মেরুর মান ৯০° উত্তর এবং দক্ষিণ মেরুর মান ৯০° দক্ষিণ।
প্রশ্ন ৩: পৃথিবীতে কোনো স্থানের অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
উত্তর: পৃথিবীতে কোনো স্থানের সঠিক অবস্থান জানার জন্য অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা উভয়ই প্রয়োজন। অক্ষরেখার সাহায্যে স্থানটি নিরক্ষরেখার কতটা উত্তরে বা দক্ষিণে অবস্থিত তা জানা যায়। অন্যদিকে, দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে স্থানটি মূলমধ্যরেখার কতটা পূর্বে বা পশ্চিমে অবস্থিত তা জানা যায়।
এই দুই প্রকার রেখা পৃথিবীপৃষ্ঠে একটি জালের মতো বিস্তার করে, যাকে ভৌগোলিক জালক (Geographic Grid) বলে। কোনো স্থান যে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত, সেই অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখার মানই হলো ওই স্থানের সঠিক অবস্থান বা স্থানাঙ্ক।
প্রশ্ন ৪: মূলমধ্যরেখা কী? এটি কেন কল্পনা করা হয়েছে?
উত্তর: যুক্তরাজ্যের লন্ডনের গ্রিনিচ মানমন্দিরের ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে দ্রাঘিমারেখাটিকে প্রধান ধরা হয়েছে এবং যার মান ০° ধরা হয়, তাকে মূলমধ্যরেখা বলে।
কল্পনার কারণ: সমস্ত দ্রাঘিমারেখার দৈর্ঘ্য সমান হওয়ায় কোনটিকে প্রধান ধরা হবে তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ১৮৮৪ সালে আন্তর্জাতিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনিচের ওপর দিয়ে যাওয়া দ্রাঘিমারেখাটিকে মূল ধরা হয়। এই রেখার সাপেক্ষেই অন্যান্য দ্রাঘিমারেখার মান গণনা করা হয় এবং কোনো স্থান কতটা পূর্বে বা পশ্চিমে তা নির্ণয় করা হয়।
প্রশ্ন ৫: অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
উত্তর: অক্ষরেখার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
(ক) অক্ষরেখাগুলি হলো পূর্ণবৃত্ত।
(খ) এগুলি নিরক্ষরেখার সমান্তরালে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত।
(গ) অক্ষরেখাগুলি পরস্পরের সমান্তরাল, তাই এরা একে অপরকে কখনও ছেদ করে না।
(ঘ) নিরক্ষরেখা হলো দীর্ঘতম অক্ষরেখা (মহাবৃত্ত) এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ক্রমশ কমতে থাকে।
(ঙ) দুটি অক্ষরেখার মধ্যে দূরত্ব সর্বত্র প্রায় সমান (প্রায় ১১১ কিমি)।