পরিবেশ ও আকাশ
অধ্যায়ের সংক্ষিপ্তসার (Basic Overview)
'পরিবেশ ও আকাশ' অধ্যায়ে মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘটনাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কেন এবং কীভাবে হয়, তা ছবি ও মডেলের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। পূর্ণগ্রাস ও খণ্ডগ্রাস গ্রহণের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের এবং সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর কক্ষপথের ধারণা দেওয়া হয়েছে। এরপর, চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে পৃথিবীতে জোয়ারভাটা সৃষ্টির প্রক্রিয়া, বিশেষ করে মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার, ভরা কোটাল ও মরা কোটালের কারণ আলোচনা করা হয়েছে। অধ্যায়ের শেষ অংশে সূর্যকে পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং মহাবিশ্বের বিশালতা, নক্ষত্রদের জন্ম-মৃত্যু এবং ধূমকেতুর মতো মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ শব্দ পরিচিতি (Important Terms)
সূর্যগ্রহণ (Solar Eclipse)
যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় চলে আসে এবং চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে, তখন পৃথিবী থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য দেখায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে।
চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse)
যখন পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে, তখন চাঁদকে দেখা যায় না। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
পূর্ণগ্রাস গ্রহণ (Total Eclipse)
যখন চাঁদের ছায়া সূর্যকে বা পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে সম্পূর্ণরূপে ঢেকে ফেলে, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
খণ্ডগ্রাস গ্রহণ (Partial Eclipse)
যখন চাঁদের ছায়া সূর্যকে বা পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে আংশিকভাবে ঢেকে ফেলে, তখন তাকে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।
কক্ষপথ (Orbit)
যে নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে কোনো গ্রহ সূর্যের চারপাশে অথবা কোনো উপগ্রহ গ্রহের চারপাশে ঘোরে, তাকে সেই গ্রহ বা উপগ্রহের কক্ষপথ বলে।
জোয়ারভাটা (Tides)
চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে এবং পৃথিবীর ঘূর্ণনের ফলে সমুদ্র ও নদীর জলস্তর নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
মুখ্য জোয়ার (Primary Tide)
চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে থাকে, সেখানকার জলস্তর সবচেয়ে বেশি ফুলে ওঠে। একে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে।
গৌণ জোয়ার (Secondary Tide)
পৃথিবীর যে অংশে মুখ্য জোয়ার হয়, তার ঠিক বিপরীত দিকের অংশে পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাবে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে।
ভরা কোটাল (Spring Tide)
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় থাকায়, উভয়ের মিলিত আকর্ষণে জোয়ারের জল খুব বেশি ফুলে ওঠে। একে ভরা কোটাল বা তেজ কোটাল বলে।
মরা কোটাল (Neap Tide)
শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী-অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকায়, উভয়ের আকর্ষণ বল একে অপরকে প্রশমিত করে। ফলে জোয়ারের জল খুব কম ওঠে। একে মরা কোটাল বলে।
ধূমকেতু (Comet)
বরফ, গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু যা সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। সূর্যের কাছাকাছি এলে এর ঝাঁটার মতো লেজ দেখা যায়।
প্রশ্নোত্তর (MCQ)
১. দিনের বেলায় সূর্যকে কে আড়াল করতে পারে?
সঠিক উত্তর: D. মেঘ ও চাঁদ উভয়ই
বিশ্লেষণ: পাঠ্যের শুরুতে আশা মেঘের ছায়া দেখেছিল এবং পরে দিদিমণি ব্যাখ্যা করেন যে চাঁদও সূর্যকে আড়াল করতে পারে।
২. সূর্যগ্রহণ কখন হয়?
সঠিক উত্তর: C. সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী এক সরলরেখায় এলে
বিশ্লেষণ: সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ এলে, চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে এবং সূর্যগ্রহণ হয়।
৩. চাঁদের ছায়া যখন পৃথিবীকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন তাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের ঘন ছায়ার (প্রচ্ছায়া) মধ্যে থাকে, সেখান থেকে সূর্যকে মোটেও দেখা যায় না, একে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
৪. সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকাতে নেই কেন?
সঠিক উত্তর: B. অতিবেগুনি রশ্মি চোখের ক্ষতি করতে পারে
বিশ্লেষণ: সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে, তাই বিশেষ চশমা ছাড়া সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়।
৫. চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?
সঠিক উত্তর: B. সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ এক সরলরেখায় এলে
বিশ্লেষণ: সূর্য ও চাঁদের মাঝে পৃথিবী এলে, পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে এবং চন্দ্রগ্রহণ হয়।
৬. কোন তিথিতে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. পূর্ণিমা
বিশ্লেষণ: পূর্ণিমার রাতেই চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকে, তাই চন্দ্রগ্রহণ শুধুমাত্র পূর্ণিমা তিথিতেই হয়।
৭. চাঁদ পৃথিবীকে একবার ঘুরে আসতে কত সময় নেয়?
সঠিক উত্তর: C. ২৯ দিন ১২ ঘন্টা
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে উল্লেখ আছে, চাঁদ পৃথিবীকে ২৯ দিন ১২ ঘন্টায় একবার ঘুরে আসে।
৮. পৃথিবীর কক্ষপথ দেখতে কিসের মতো?
সঠিক উত্তর: C. সাইকেলের টায়ার
বিশ্লেষণ: দিদিমণি পৃথিবীর কক্ষপথকে বোঝানোর জন্য সাইকেলের টায়ারের উদাহরণ দিয়েছেন।
৯. সমুদ্রে ও নদীতে জল ফুলে ওঠাকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: D. জোয়ার
বিশ্লেষণ: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে সমুদ্র ও নদীর জল নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার বলে।
১০. মুখ্য জোয়ারের প্রধান কারণ কী?
সঠিক উত্তর: A. চাঁদের আকর্ষণ
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, মুখ্য জোয়ারের মূল কারণ চাঁদের আকর্ষণ।
১১. গৌণ জোয়ারের প্রধান কারণ কী?
সঠিক উত্তর: C. পৃথিবীর ঘূর্ণন
বিশ্লেষণ: পাঠ্য অনুযায়ী, গৌণ জোয়ারের মূল কারণ পৃথিবীর ঘূর্ণন (কেন্দ্রাতিগ বল)।
১২. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
সঠিক উত্তর: C. ২৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট
বিশ্লেষণ: পৃথিবী ২৪ ঘন্টায় এক পাক ঘুরলেও, চাঁদও কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই চাঁদের সামনে আবার আসতে পৃথিবীর আরও প্রায় ৫২ মিনিট সময় লাগে।
১৩. একটি মুখ্য জোয়ার ও তার পরবর্তী গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত?
সঠিক উত্তর: C. ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর এক পিঠে মুখ্য জোয়ার হলে ঠিক তার উল্টো পিঠে গৌণ জোয়ার হয়। এই অবস্থানে আসতে পৃথিবীর প্রায় ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট সময় লাগে।
১৪. ভরা কোটাল কখন হয়?
সঠিক উত্তর: A. অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়
বিশ্লেষণ: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী এক সরলরেখায় আসায় উভয়ের মিলিত আকর্ষণে জোয়ার খুব প্রবল হয়।
১৫. মরা কোটাল কোন তিথিতে হয়?
সঠিক উত্তর: C. সপ্তমী-অষ্টমী
বিশ্লেষণ: সপ্তমী-অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পরস্পরের সাথে সমকোণে থাকায় জোয়ারের বেগ কম থাকে।
১৬. পৃথিবীর সব শক্তির উৎস কী?
সঠিক উত্তর: C. সূর্য
বিশ্লেষণ: পৃথিবীর আলো, তাপ এবং জীবজগতের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত শক্তির মূল উৎস হলো সূর্য।
১৭. সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
সঠিক উত্তর: A. প্রায় ৮ মিনিট
বিশ্লেষণ: দিদিমণি বলেছেন, সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে প্রায় ৮ মিনিট সময় লাগে।
১৮. সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম কী?
সঠিক উত্তর: C. প্রক্সিমা সেনটাউরি
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে উল্লেখ আছে, সূর্যের পর আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র হলো প্রক্সিমা সেনটাউরি।
১৯. প্রক্সিমা সেনটাউরি থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে কত সময় লাগে?
সঠিক উত্তর: C. ৪ বছরেরও বেশি
বিশ্লেষণ: এই নক্ষত্রটি এত দূরে যে সেখান থেকে আলো আসতে ৪ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।
২০. কয়লা, পেট্রোলিয়াম কীভাবে তৈরি হয়েছে?
সঠিক উত্তর: B. বড় বড় বন ও প্রাণীদের দেহ মাটির নিচে চাপা পড়ে
বিশ্লেষণ: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে কয়লা ও পেট্রোলিয়ামে রূপান্তরিত হয়েছে।
২১. সূর্যের জন্ম প্রায় কত বছর আগে হয়েছিল?
সঠিক উত্তর: A. ৫০০ কোটি বছর
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, প্রায় ৫০০ কোটি বছর আগে সূর্যের জন্ম হয়েছিল।
২২. ধূমকেতু আসলে কী?
সঠিক উত্তর: C. বরফ জমা পাহাড়ের মতো
বিশ্লেষণ: ধূমকেতু মূলত বরফ, গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি, যা বরফ জমা পাহাড়ের মতো দেখতে।
২৩. ১৯৯৪ সালে কোন গ্রহের উপর ধূমকেতু আছড়ে পড়েছিল?
সঠিক উত্তর: C. বৃহস্পতি
বিশ্লেষণ: শ্যুমেকার-লেভি ৯ ধূমকেতুটি ১৯৯৪ সালে বৃহস্পতি গ্রহে আছড়ে পড়েছিল।
২৪. শ্যুমেকার-লেভি কী?
সঠিক উত্তর: B. একটি ধূমকেতু
বিশ্লেষণ: যে ধূমকেতুটি বৃহস্পতিতে আছড়ে পড়েছিল, তার আবিষ্কারক দুই বিজ্ঞানী শ্যুমেকার ও লেভির নামে তার নামকরণ করা হয়।
২৫. মহাকাশ বিজ্ঞান কী নিয়ে গবেষণা করে?
সঠিক উত্তর: C. আমাদের চারপাশের আকাশের সবকিছু নিয়ে (মহাবিশ্ব)
বিশ্লেষণ: গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু সহ মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু ও ঘটনা মহাকাশ বিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়।
২৬. পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে কেমন দেখায়?
সঠিক উত্তর: C. পুরোটা অন্ধকার হয়ে যায়
বিশ্লেষণ: ফুলমণি তার অভিজ্ঞতায় বলেছে, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ একসময় পুরোটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল, যেন অমাবস্যা।
২৭. জোয়ারের জল কমে যাওয়াকে কী বলে?
সঠিক উত্তর: B. ভাটা
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে রাবেয়ার প্রশ্নের উত্তরে পুলক বলেছে, "পরে জল কমে যায়। তাকে বলে ভাটা।"
২৮. জোয়ারভাটায় কার টানের গুরুত্ব বেশি?
সঠিক উত্তর: B. চাঁদের
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, "জোয়ারভাটায় চাঁদের টানের গুরুত্ব বেশি। চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে আছে তো তাই।"
২৯. নক্ষত্ররা আকারে সূর্যের চেয়ে বড় হলেও পৃথিবীতে তাদের প্রভাব কম কেন?
সঠিক উত্তর: B. তারা অনেক দূরে আছে
বিশ্লেষণ: নক্ষত্র বা তারাগুলো পৃথিবী থেকে বহু বহু দূরে থাকায় তাদের আকর্ষণ বল বা আলোর প্রভাব পৃথিবীতে প্রায় নেই বললেই চলে।
৩০. গাছ খাদ্য তৈরির জন্য কার আলো ব্যবহার করে?
সঠিক উত্তর: C. সূর্যের
বিশ্লেষণ: মেরি বলেছে, গাছের খাদ্য তৈরি করতে সূর্যের আলো লাগে, যা সালোকসংশ্লেষ নামে পরিচিত।
৩১. সূর্যগ্রহণ সাধারণত কোন তিথিতে হয়?
সঠিক উত্তর: D. অমাবস্যা
বিশ্লেষণ: অমাবস্যা তিথিতেই চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে আসে, যা সূর্যগ্রহণের পূর্বশর্ত।
৩২. পৃথিবীর যে অংশে চাঁদের ছায়া পড়ে, সেখানকার মানুষেরা কী দেখতে পায়?
সঠিক উত্তর: B. সূর্যগ্রহণ
বিশ্লেষণ: চাঁদের ছায়া পৃথিবীর যে অংশে পড়ে, সেখান থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না, একেই সূর্যগ্রহণ বলে।
৩৩. পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরলে কী হয়?
সঠিক উত্তর: B. দিন-রাত্রি
বিশ্লেষণ: মুজিবর বলেছিল, পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে না ঘুরলে দিন-রাত্রি হবে কীভাবে?
৩৪. ভরা কোটালের সময় জোয়ারের জল...
সঠিক উত্তর: C. খুব বেশি বাড়ে
বিশ্লেষণ: পুলক বলেছিল, অমাবস্যা-পূর্ণিমাতে জোয়ারের জল খুব বাড়ে, যাকে আলি 'ভরা কোটাল' বলেছে।
৩৫. সূর্যের জ্বালানি শেষ হতে এখনও প্রায় কত বছর বাকি?
সঠিক উত্তর: A. ৫০০ কোটি বছর
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, সূর্য এখনও প্রায় ৫০০ কোটি বছর শক্তি ছড়াবে।
৩৬. ডাইনোসররা যখন পৃথিবীতে ছিল, তখন কারা ছিল না?
সঠিক উত্তর: B. মানুষ
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, "তারা (ডাইনোসর) যখন এসেছিল আমরা ছিলাম না।"
৩৭. খালি চোখে আকাশগঙ্গার কতগুলি নক্ষত্র দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B. কয়েক হাজার
বিশ্লেষণ: পাঠ্যে দিদিমণি বলেছেন, "খালি চোখে কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়।"
৩৮. ধূমকেতু সূর্যের কাছে এলে তাকে কেমন দেখতে লাগে?
সঠিক উত্তর: C. অনেকটা ঝাঁটার মতো
বিশ্লেষণ: সূর্যের তাপে ধূমকেতুর বরফ গলে গ্যাস ও ধূলিকণা বেরিয়ে আসে, যা ঝাঁটার মতো লেজ তৈরি করে।
৩৯. পৃথিবীর ঘূর্ণনের জন্য চাঁদকে একই জায়গায় আসতে কত মিনিট বাড়তি সময় লাগে?
সঠিক উত্তর: B. ২৬ মিনিট
বিশ্লেষণ: দিদি বুঝিয়েছেন, পৃথিবী ১২ ঘন্টায় আধপাক ঘুরলে চাঁদও এগিয়ে যায়, তাই চাঁদের সামনে আসতে পৃথিবীর আরও প্রায় ২৬ মিনিট সময় লাগে।
৪০. চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা পৃথিবীর কোন দিকে থাকি?
সঠিক উত্তর: B. যেদিকে সূর্য থাকে না (রাত)
বিশ্লেষণ: চন্দ্রগ্রহণ রাতে দেখা যায়। তখন আমরা পৃথিবীর সেই অংশে থাকি, যেখান থেকে সূর্য দেখা যায় না।
৪১. ক বিন্দু থেকে কোন ধরণের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে?
সঠিক উত্তর: B. খণ্ডগ্রাস
বিশ্লেষণ: পাঠ্যের প্রথম ছবি অনুযায়ী, ক বিন্দু চাঁদের উপচ্ছায়া অঞ্চলে থাকায় সেখান থেকে সূর্যের খানিকটা অংশ দেখা যাবে, অর্থাৎ খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে।
৪২. জীবজগৎ টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের কী বোঝা দরকার?
সঠিক উত্তর: A. পৃথিবীর পরিবেশ
বিশ্লেষণ: দিদি বলেছেন, "পৃথিবীর পরিবেশটা বুঝতে হবে। যাতে নিজেদের দোষে জীবজগতের ক্ষতি না হয় তা দেখতে হবে।"
৪৩. খ এবং গ বিন্দুর মাঝে থাকলে কী দেখা যাবে? (পাঠ্যের ২নং ছবি অনুযায়ী)
সঠিক উত্তর: B. পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
বিশ্লেষণ: পাঠ্যের ২নং ছবি অনুযায়ী, খ থেকে গ বিন্দুর মধ্যবর্তী অঞ্চলটি চাঁদের প্রচ্ছায়ার মধ্যে পড়ে, তাই সেখান থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
৪৪. ঘ বিন্দু থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না কেন? (পাঠ্যের ৩নং ছবি অনুযায়ী)
সঠিক উত্তর: C. ঘ বিন্দু থেকে চাঁদের আড়ালে সূর্য পড়ে না
বিশ্লেষণ: আশার আঁকা দাগ অনুযায়ী, ঘ বিন্দু থেকে সূর্যের পুরোটাই দেখা যায়, কারণ চাঁদ সূর্যকে আড়াল করতে পারে না।
৪৫. নক্ষত্রদের জন্ম-মৃত্যু আছে - এর অর্থ কী?
সঠিক উত্তর: B. নক্ষত্রদের নির্দিষ্ট জীবনকাল আছে, তারপর তারা নিভে যায়
বিশ্লেষণ: সূর্যের মতো সব নক্ষত্রই নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে জন্মায় এবং কোটি কোটি বছর পর জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তাদের মৃত্যু হয়।
৪৬. একটি মুখ্য জোয়ারের কত সময় পরে ভাটা হয়?
সঠিক উত্তর: C. প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
বিশ্লেষণ: একটি জোয়ার (মুখ্য বা গৌণ) এবং পরবর্তী ভাটার মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট (১২ ঘন্টা ২৬ মিনিটের অর্ধেক)।
৪৭. পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় দিনদুপুরে কেমন অবস্থা হয়?
সঠিক উত্তর: B. চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়
বিশ্লেষণ: সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ায় দিনের বেলাতেই সাময়িকভাবে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে।
৪৮. পৃথিবীর সব জায়গায় একই সময়ে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায় কি?
সঠিক উত্তর: C. না, পৃথিবীর যে অংশে রাত থাকে, সেখান থেকে দেখা যায়
বিশ্লেষণ: চন্দ্রগ্রহণ একটি রাতের ঘটনা। তাই পৃথিবীর যে গোলার্ধে তখন রাত, শুধুমাত্র সেখান থেকেই চন্দ্রগ্রহণ দেখা সম্ভব।
৪৯. কোন গ্রহাণুটি পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার কথা শোনা যায়?
সঠিক উত্তর: B. অ্যাপোফিস
বিশ্লেষণ: যদিও এটি পাঠ্যে নেই, অ্যাপোফিস নামক গ্রহাণুটি ভবিষ্যতে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার জন্য বিখ্যাত, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের একটি আলোচ্য বিষয়।
৫০. চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের তলের সঙ্গে...
সঠিক উত্তর: B. সামান্য হেলে থাকে
বিশ্লেষণ: চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে প্রায় ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকে। এই কারণে প্রত্যেক অমাবস্যা বা পূর্ণিমায় গ্রহণ হয় না।
৫১. পৃথিবী থেকে দেখলে কোনটিকে সবচেয়ে বড় দেখায়?
সঠিক উত্তর: A. সূর্য
বিশ্লেষণ: যদিও চাঁদ অনেক ছোট, কিন্তু কাছে থাকায় এবং সূর্য অনেক বড় কিন্তু দূরে থাকায় পৃথিবী থেকে দুটিকেই প্রায় সমান আকারের দেখায়। তবে সূর্যই আকারে ও উজ্জ্বলতায় সবচেয়ে বড় দেখায়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)
প্রশ্ন ১: সূর্যগ্রহণ কাকে বলে?
উত্তর: ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এক সরলরেখায় চলে আসে এবং চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে, তখন সেই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলে।
প্রশ্ন ২: চন্দ্রগ্রহণ কাকে বলে?
উত্তর: ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এক সরলরেখায় চলে আসে এবং পৃথিবীর ছায়ার জন্য চাঁদকে দেখা যায় না, তখন সেই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
প্রশ্ন ৩: পূর্ণগ্রাস ও খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণের পার্থক্য কী?
উত্তর: যখন চাঁদের ছায়া সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে। আর যখন চাঁদের ছায়া সূর্যকে আংশিকভাবে ঢাকে, তাকে খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে।
প্রশ্ন ৪: সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর: সূর্যগ্রহণ দেখার সময় খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ সৌর চশমা বা ফিল্টার ব্যবহার করে গ্রহণ দেখা উচিত।
প্রশ্ন ৫: কক্ষপথ কী?
উত্তর: যে নির্দিষ্ট পথে কোনো গ্রহ (যেমন পৃথিবী) নক্ষত্রের (যেমন সূর্য) চারপাশে ঘোরে অথবা কোনো উপগ্রহ (যেমন চাঁদ) গ্রহের (যেমন পৃথিবী) চারপাশে ঘোরে, তাকে কক্ষপথ বলে।
প্রশ্ন ৬: জোয়ারভাটা কেন হয়?
উত্তর: প্রধানত চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল এবং পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের মিলিত প্রভাবে সমুদ্র ও নদীর জলস্তর নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠে (জোয়ার) এবং নেমে যায় (ভাটা)।
প্রশ্ন ৭: মুখ্য জোয়ার ও গৌণ জোয়ার কী?
উত্তর: চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের সামনে থাকে, সেখানে যে প্রবল জোয়ার হয়, তাকে মুখ্য জোয়ার বলে। ঠিক তার বিপরীত দিকে পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাবে যে জোয়ার হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বলে।
প্রশ্ন ৮: ভরা কোটাল কখন হয়?
উত্তর: অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় উভয়ের মিলিত প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে ভরা কোটাল বলে।
প্রশ্ন ৯: মরা কোটাল কখন হয়?
উত্তর: শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী বা অষ্টমী তিথিতে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকায় তাদের আকর্ষণ বল একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফলে এই সময় জোয়ারের বেগ খুব কম হয়, একে মরা কোটাল বলে।
প্রশ্ন ১০: দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ২৪ ঘন্টার পরিবর্তে ২৪ ঘন্টা ৫২ মিনিট হয় কেন?
উত্তর: পৃথিবী ২৪ ঘন্টায় নিজের অক্ষের উপর একবার ঘোরে। কিন্তু এই সময়ে চাঁদও নিজের কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই পৃথিবীর সেই স্থানটিকে আবার চাঁদের সামনে আসতে অতিরিক্ত প্রায় ৫২ মিনিট সময় লাগে।
প্রশ্ন ১১: সূর্যকে কেন পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস বলা হয়?
উত্তর: কারণ পৃথিবীর আলো, তাপ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, গাছপালার খাদ্য তৈরি (সালোকসংশ্লেষ) এবং জীবজগতের বেঁচে থাকা—এই সমস্ত কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সৌরশক্তির উপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন ১২: প্রক্সিমা সেনটাউরি কী?
উত্তর: প্রক্সিমা সেনটাউরি হলো সূর্যের পর আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র।
প্রশ্ন ১৩: কয়লা ও পেট্রোলিয়ামকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয় কেন?
উত্তর: কারণ লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার উদ্ভিদ (কয়লা) ও প্রাণীর (পেট্রোলিয়াম) দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এই জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪: ধূমকেতু কী?
উত্তর: ধূমকেতু হলো বরফ, গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তু, যা সূর্যের চারপাশে ঘোরে এবং সূর্যের কাছে এলে এর ঝাঁটার মতো লেজ দেখা যায়।
প্রশ্ন ১৫: শ্যুমেকার-লেভি ৯ কী?
উত্তর: শ্যুমেকার-লেভি ৯ হলো একটি ধূমকেতুর নাম, যা ১৯৯৪ সালে বৃহস্পতি গ্রহের উপর আছড়ে পড়েছিল।
প্রশ্ন ১৬: প্রত্যেক অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় গ্রহণ হয় না কেন?
উত্তর: কারণ চাঁদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সাথে একই তলে না থেকে সামান্য (প্রায় ৫ ডিগ্রি) কোণে হেলে থাকে। তাই সব সময় তারা তিনজন এক সরলরেখায় আসে না।
প্রশ্ন ১৭: চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কি বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয়?
উত্তর: না, চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য কোনো বিশেষ চশমার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
প্রশ্ন ১৮: মহাকাশ বিজ্ঞান কী?
উত্তর: বিজ্ঞানের যে শাখায় গ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু, ছায়াপথ সহ মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু ও ঘটনা নিয়ে গবেষণা করা হয়, তাকে মহাকাশ বিজ্ঞান বলে।
প্রশ্ন ১৯: নক্ষত্র ও গ্রহের মধ্যে একটি মূল পার্থক্য লেখো।
উত্তর: নক্ষত্রের নিজস্ব আলো আছে (যেমন সূর্য), কিন্তু গ্রহের নিজস্ব কোনো আলো নেই, তারা নক্ষত্রের আলোয় আলোকিত হয় (যেমন পৃথিবী)।
প্রশ্ন ২০: জীবজগৎ টিকিয়ে রাখতে আমাদের একটি প্রধান কর্তব্য কী?
উত্তর: জীবজগৎ টিকিয়ে রাখতে আমাদের প্রধান কর্তব্য হলো পৃথিবীর পরিবেশকে বোঝা এবং নিজেদের কাজের মাধ্যমে যেন পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
বড় প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: ছবি এঁকে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা দুটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সূর্যগ্রহণ: যখন চাঁদ তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে এবং তিনটিই এক সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। পৃথিবীর ওই ছায়াচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে সূর্যকে আর দেখা যায় না। এই ঘটনাকেই সূর্যগ্রহণ বলে। এটি অমাবস্যা তিথিতে ঘটে।
চন্দ্রগ্রহণ: যখন পৃথিবী তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে এবং তিনটিই এক সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর বিশাল ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। এর ফলে চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং চাঁদকে আর দেখা যায় না। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। এটি পূর্ণিমা তিথিতে ঘটে।
প্রশ্ন ২: জোয়ারভাটা সৃষ্টির কারণ বিস্তারিত আলোচনা করো। মুখ্য ও গৌণ জোয়ার কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: জোয়ারভাটা সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ হলো:
(ক) মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল: মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই সূত্র অনুযায়ী, চাঁদ ও সূর্য উভয়েই পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। চাঁদের আকর্ষণ বল পৃথিবীর জলভাগের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, ফলে জল ফুলে ওঠে।
(খ) পৃথিবীর ঘূর্ণন বল (কেন্দ্রাতিগ বল): পৃথিবী তার নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরার সময় একটি বাইরের দিকে ছিটকে যাওয়ার বল তৈরি হয়, যা কেন্দ্রাতিগ বল নামে পরিচিত।
মুখ্য ও গৌণ জোয়ার সৃষ্টির প্রক্রিয়া:
- মুখ্য জোয়ার: পৃথিবীর যে অংশটি ঘোরার সময় চাঁদের সবচেয়ে কাছে বা সামনে আসে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি কাজ করে। এই প্রবল আকর্ষণে সেখানকার জলরাশি ফুলে ওঠে এবং প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয়। একেই মুখ্য জোয়ার বলে।
- গৌণ জোয়ার: ঠিক একই সময়ে, পৃথিবীর যে অংশটি চাঁদের বিপরীত দিকে থাকে, সেখানে চাঁদের আকর্ষণ বল সবচেয়ে কম থাকে, কিন্তু পৃথিবীর ঘূর্ণনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল সবচেয়ে বেশি হয়। এই কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে গিয়ে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার সৃষ্টি করে। এটি মুখ্য জোয়ারের তুলনায় কম শক্তিশালী হওয়ায় একে গৌণ জোয়ার বলে।
প্রশ্ন ৩: ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মধ্যে পার্থক্য লেখো। ছবি এঁকে এদের অবস্থান দেখাও।
উত্তর: ভরা কোটাল ও মরা কোটালের মধ্যে পার্থক্যগুলি হলো:
| বিষয় | ভরা কোটাল | মরা কোটাল |
|---|---|---|
| অবস্থান | সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। | সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করে। |
| তিথি | অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে হয়। | শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের সপ্তমী বা অষ্টমী তিথিতে হয়। |
| আকর্ষণ বল | সূর্য ও চাঁদের মিলিত আকর্ষণ বল একসঙ্গে কাজ করায় খুব শক্তিশালী হয়। | সূর্য ও চাঁদের আকর্ষণ বল birbiriniকে প্রশমিত করে, ফলে আকর্ষণ শক্তি দুর্বল হয়। |
| জোয়ারের প্রাবল্য | জোয়ারের জলস্তর স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি ফুলে ওঠে। | জোয়ারের জলস্তর খুব সামান্যই ওঠে। |
| ভাটার প্রাবল্য | ভাটার সময় জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নেমে যায়। | ভাটার সময় জলস্তর খুব বেশি নামে না। |
প্রশ্ন ৪: 'সূর্যই পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস'— উক্তিটি কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করো।
উত্তর: 'সূর্যই পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস'— এই উক্তিটি যথার্থ। কারণ পৃথিবীর প্রায় সমস্ত শক্তিই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকে আসে। নিচে কয়েকটি উদাহরণের সাহায্যে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
- উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ: সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। সেই উদ্ভিদের উপর সমস্ত প্রাণীজগৎ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অর্থাৎ, আমাদের খাদ্যের মূল শক্তি সূর্য থেকেই আসে।
- জীবাশ্ম জ্বালানি: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, ডিজেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। সেই উদ্ভিদ ও প্রাণীরা বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছিল সূর্য থেকে। তাই এই জ্বালানিগুলি আসলে সঞ্চিত সৌরশক্তি।
- আবহাওয়া ও জলবায়ু: সূর্যের তাপের কারণেই পৃথিবীতে বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি আবহাওয়ার ঘটনাগুলি ঘটে। জলচক্রও সূর্যের তাপের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- বিকল্প শক্তি: সৌরবিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল), বায়ুশক্তি (বায়ুকল) ইত্যাদি অপ্রচলিত শক্তিগুলির উৎসও সূর্য। সূর্যের তাপেই বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন ৫: পৃথিবী ও চাঁদের গতি কীরূপ? একটি মডেলের সাহায্যে এই গতি কীভাবে বোঝানো যায়, তা পাঠ্যাংশ অনুসারে লেখো।
উত্তর: পৃথিবী ও চাঁদের গতি বেশ জটিল। এদের দুটি প্রধান গতি আছে:
(ক) পৃথিবীর গতি: পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরে (আহ্নিক গতি, যার ফলে দিন-রাত্রি হয়) এবং একই সাথে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে ঘোরে (বার্ষিক গতি, যার ফলে ঋতু পরিবর্তন হয়)।
(খ) চাঁদের গতি: চাঁদ নিজের অক্ষের চারপাশে ঘোরে এবং একই সাথে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে।
মডেলের সাহায্যে ব্যাখ্যা:
পাঠ্যাংশ অনুসারে, এই গতি বোঝানোর জন্য একটি সহজ মডেল তৈরি করা যেতে পারে:
- উপকরণ: একটি বড় বল (সূর্য), একটি মাঝারি বল (পৃথিবী), একটি ছোট বল (চাঁদ), একটি সাইকেলের টায়ার (পৃথিবীর কক্ষপথ) এবং একটি গোল করে বাঁকানো তার (চাঁদের কক্ষপথ)।
- পদ্ধতি:
- বড় বলটিকে (সূর্য) মাঝখানে রাখা হবে।
- মাঝারি বলটিকে (পৃথিবী) টায়ারের উপর রেখে, টায়ার বরাবর ঘোরানো হবে, যা সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর পরিক্রমণ বোঝাবে।
- একই সাথে, মাঝারি বলটিকে (পৃথিবী) নিজের অক্ষের চারপাশেও ঘোরাতে হবে, যা পৃথিবীর আহ্নিক গতি বোঝাবে।
- ছোট বলটিকে (চাঁদ) তারের রিং-এর উপর রেখে, সেই রিংটিকে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরাতে হবে, যা পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের পরিক্রমণ বোঝাবে।
প্রশ্ন ৬: জীবজগৎকে টিকিয়ে রাখতে মানুষের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?
উত্তর: জীবজগৎ অর্থাৎ পৃথিবীর সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতকে টিকিয়ে রাখতে মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের উচিত প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে চলা।
মানুষের কর্তব্য:
- পরিবেশ রক্ষা: পরিবেশ দূষণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করে প্রচুর পরিমাণে নতুন গাছ লাগাতে হবে। জল, বায়ু ও মাটি দূষণ রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
- বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: চোরাশিকার বন্ধ করতে হবে এবং বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান অর্থাৎ জঙ্গল ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের সংরক্ষণের জন্য অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান তৈরি করতে হবে।
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার: কয়লা, পেট্রোলিয়াম, জল ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার সীমিত করতে হবে এবং অপ্রচলিত শক্তির (যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- গবেষণা ও সচেতনতা: পৃথিবীর পরিবেশ এবং জীবজগতের উপর মানুষের কাজের প্রভাব সম্পর্কে ক্রমাগত গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। সাধারণ মানুষকে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
প্রশ্ন ৭: নক্ষত্র ও ধূমকেতুর মধ্যে পার্থক্য কী? ধূমকেতু কি পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে?
উত্তর: নক্ষত্র ও ধূমকেতুর মধ্যে মূল পার্থক্যগুলি হলো:
| বিষয় | নক্ষত্র | ধূমকেতু |
|---|---|---|
| গঠন | বিশাল জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড। মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। | বরফ, গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি পাহাড়ের মতো বস্তু। |
| আলো | এর নিজস্ব আলো ও উত্তাপ আছে। | এর নিজস্ব আলো নেই, সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়। |
| আকার | অত্যন্ত বিশাল, সূর্যের চেয়েও বহুগুণ বড় হতে পারে। | নক্ষত্রের তুলনায় অনেক ছোট, কয়েক কিলোমিটার ব্যাসের হয়। |
| অবস্থান | সাধারণত স্থির, নিজস্ব ছায়াপথে অবস্থান করে। | সূর্যের চারপাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে। |
ধূমকেতুর বিপদ:
হ্যাঁ, ধূমকেতু পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যদিও এর সম্ভাবনা খুব কম। একটি বড় আকারের ধূমকেতু যদি তার কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীর সঙ্গে ধাক্কা খায়, তবে তার ফল হবে মারাত্মক। এর ফলে পৃথিবীতে বিশাল গর্ত তৈরি হতে পারে, সুনামি হতে পারে এবং বায়ুমণ্ডলে যে ধূলিকণার ঝড় উঠবে, তাতে দীর্ঘদিনের জন্য সূর্যরশ্মি আটকে গিয়ে পৃথিবীর জীবজগৎ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যেমনটি ডাইনোসরদের ক্ষেত্রে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন ৮: 'দিনদুপুরে সূর্য ঢাকা'— কথাটির মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে? এই ঘটনাটি ঘটলে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে কি একই রকম দেখা যায়? তোমার উত্তর যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর: 'দিনদুপুরে সূর্য ঢাকা'— কথাটির মাধ্যমে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণকে বোঝানো হয়েছে। এই ঘটনায় দিনের বেলাতেই চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করে দেয়, ফলে সাময়িকভাবে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে।
না, এই ঘটনাটি ঘটলে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে একই রকম দেখা যায় না।
কারণ:
সূর্যগ্রহণ নির্ভর করে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ঠিক কোন অংশের উপর পড়ছে তার উপর।
- পূর্ণগ্রাস: চাঁদ আকারে পৃথিবীর চেয়ে অনেক ছোট। তাই তার ছায়াও খুব বড় নয়। চাঁদের সবচেয়ে ঘন ও অন্ধকার ছায়াটি (প্রচ্ছায়া) পৃথিবীর খুব ছোট একটি অঞ্চলের উপর পড়ে। শুধুমাত্র সেই অঞ্চলের মানুষই সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকা বা 'পূর্ণগ্রাস' সূর্যগ্রহণ দেখতে পায়।
- খণ্ডগ্রাস: এই ঘন ছায়ার চারপাশে একটি হালকা ছায়ার (উপচ্ছায়া) অঞ্চল থাকে। এই অঞ্চল থেকে সূর্যকে আংশিকভাবে ঢাকা বা 'খণ্ডগ্রাস' সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।
- গ্রহণহীন অবস্থা: পৃথিবীর বাকি বিশাল অংশ চাঁদের ছায়ার বাইরে থাকে। সেখান থেকে সূর্যকে স্বাভাবিকভাবেই উজ্জ্বল দেখা যায়, অর্থাৎ কোনো গ্রহণই দেখা যায় না।
প্রশ্ন ৯: দুটি জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান প্রায় সাড়ে বারো ঘন্টা (১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট) কেন হয়? ঘড়ির কাঁটার উদাহরণের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর ২৪ ঘন্টায় একবার ঘোরে। সেই হিসাবে, পৃথিবীর কোনো একটি স্থান ১২ ঘন্টা পর ঠিক বিপরীত দিকে যায়। কিন্তু দুটি জোয়ারের (যেমন একটি মুখ্য জোয়ারের পর পরবর্তী গৌণ জোয়ার) মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় প্রায় ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট।
কারণ: এর কারণ হলো, পৃথিবী যখন নিজের অক্ষের উপর ঘোরে, তখন চাঁদও স্থির থাকে না। চাঁদও পৃথিবীর চারপাশে নিজের কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
ঘড়ির কাঁটার উদাহরণ:
বিষয়টি ঘড়ির কাঁটার উদাহরণের সাহায্যে সহজে বোঝা যায়:
- ধরা যাক, ঠিক দুপুর ১২টায় ঘন্টার কাঁটা ও মিনিটের কাঁটা একসঙ্গে আছে।
- এর ঠিক এক ঘন্টা পর, অর্থাৎ ১টায়, মিনিটের কাঁটাটি পুরো এক পাক ঘুরে আবার ১২-এর ঘরে ফিরে আসে।
- কিন্তু এই এক ঘন্টায় ঘন্টার কাঁটাটি স্থির থাকে না, সেটিও এগিয়ে গিয়ে ১-এর ঘরে পৌঁছে যায়।
- তাই মিনিটের কাঁটাটিকে, ঘন্টার কাঁটার সাথে আবার মিলিত হতে হলে, আরও কিছুটা পথ (প্রায় ৫ মিনিট) ঘুরতে হয়।
প্রশ্ন ১০: মহাকাশ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন কেন? এই গবেষণা ভবিষ্যতে মানব সভ্যতাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে?
উত্তর: মহাকাশ নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন একাধিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার প্রয়োজনীয়তা:
- মহাজাগতিক বিপদ থেকে রক্ষা: পাঠ্যাংশে যেমন ধূমকেতু বা উল্কাপাতের কথা বলা হয়েছে, তেমন বিপদ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে কিনা, তা আগে থেকে জানার জন্য মহাকাশ পর্যবেক্ষণ জরুরি। আগে থেকে জানতে পারলে পৃথিবীকে বাঁচানোর উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি জানা: মহাবিশ্ব কীভাবে সৃষ্টি হলো, গ্রহ-নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু কীভাবে হয়—এইসব মৌলিক প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজার জন্য এই গবেষণা প্রয়োজন।
- নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন: মহাকাশ অভিযানের জন্য তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রযুক্তি (যেমন জিপিএস, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নতুন ধাতু) পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের জীবনেও কাজে লাগে।
- নতুন সম্পদের সন্ধান: ভবিষ্যতে পৃথিবীতে সম্পদের অভাব দেখা দিলে অন্য গ্রহ বা গ্রহাণু থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদ আহরণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য এই গবেষণা দরকার।
ভবিষ্যতে সাহায্য:
এই গবেষণা ভবিষ্যতে মানব সভ্যতাকে নানাভাবে সাহায্য করতে পারে। যেমন—আবহাওয়ার আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া, পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের জন্য নতুন গ্রহ খুঁজে বের করা, এবং মহাবিশ্বের বিভিন্ন রহস্য উন্মোচন করে আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করা।