আমরা - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
নবম শ্রেণীর বাংলা কবিতার সম্পূর্ণ সমাধান
আমরা: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি বিশদ আলোচনা
কবি পরিচিতি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ভূমিকা: রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক হয়েও সত্যেন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় রেখে গেছেন।
জন্ম এবং শৈশব: ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নিমতায় মামার বাড়িতে জন্ম হয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের। তাঁর বাবার নাম ছিল রজনীনাথ দত্ত। তাঁদের পৈতৃক বাড়ি ছিল বর্ধমান জেলার চুপিগ্রামে। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন বাংলার খ্যাতনামা চিন্তাবিদ, যুক্তিবাদী লেখক, ব্রাহ্ম মতবাদের প্রচারক এবং তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক।
ছাত্রজীবন: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে দ্বিতীয় বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইন্সটিটিউশনে FA ক্লাসে ভরতি হন। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি FA পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে পাস করেন। কিন্তু ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি BA পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন।
ব্যক্তিজীবন: ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের ১৭ এপ্রিল হাবড়ার ঈশানচন্দ্র বসু ও গিরিবালা বসুর মেয়ে কনকলতার সঙ্গে সত্যেন্দ্রনাথের বিয়ে হয়।
সাহিত্যজীবন: বাংলা সাহিত্যে সত্যেন্দ্রনাথের প্রধান পরিচয় 'ছন্দের জাদুকর' হিসেবে। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে 'ছন্দোরাজা' বলতেন। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২ বছর বয়সে সত্যেন্দ্রনাথ 'স্বর্গাদপি গরীয়সী' নামে একটি কবিতা রচনা করেন। ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাবার সঙ্গে মধুপুর-দেওঘর বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই সংক্রান্ত তাঁর একটি লেখা সাপ্তাহিক হিতৈষী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সত্যেন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সবিতা' প্রকাশিত হয় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর রচিত প্রথমদিকের কবিতাগুলিতে মাইকেল মধুসূদন দত্ত, অক্ষয়কুমার বড়াল, দেবেন্দ্রনাথ সেনের প্রভাব লক্ষ করা গেলেও পরবর্তী সময়ে লেখা কবিতাগুলিতে তাঁর নিজস্ব রীতি প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর কিছু লেখা ভারতী পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি রবীন্দ্রনাথের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কলকাতার টাউন হলে সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর রচিত 'কবিপ্রশস্তি' গুরুদেবকে উপহার দেন। এই উপলক্ষ্যে ভারতী পত্রিকায় ‘বরণ’ প্রকাশিত হয়। ১৯১৩-তে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর শান্তিনিকেতনে তাঁর সংবর্ধনা সভার অভিনন্দনপত্রের খসড়া রচনা করেন সত্যেন্দ্রনাথ। সত্যেন্দ্রনাথ বিভিন্ন ছদ্মনামেও লিখেছেন, যেমন—নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি। সত্যেন্দ্রনাথের রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি হল – সবিতা (১৯০০), বেণু ও বীণা (১৯০৬), হোমশিখা (১৯০৭), তীর্থসলিল (অনুবাদ কবিতা, ১৯০৮), তীর্থরেণু (১৯১০), ফুলের ফসল (১৯১১), কুহু ও কেকা (১৯১২), তুলির লিখন (১৯১৪), অভ্র ও আবীর (১৯১৬), হসন্তিকা। এ ছাড়াও তিনি একটি উপন্যাস জন্মদুঃখী (১৯১২) ও একটি নাটক রঙ্গমল্লী (১৯৯৩) রচনা করেন।
জীবনাবসান: ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন এই প্রতিভাবান কবির অকালমৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র চল্লিশ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রবীন্দ্রনাথ ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' নামে একটি কবিতা লেখেন যা তাঁর পুরবী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
উৎস
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'আমরা' কবিতাটি তাঁর-'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্গত।
সারসংক্ষেপ
ফুলে-ফসলে, প্রকৃতির শোভায় অপরূপ সুন্দর বাঙালির বাসভূমি। প্রাচীন কাল থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বাঙালি বেঁচে থেকেছে। তার সঙ্গে আছে পূর্বপুরুষের সাহস আর বীরত্বের উত্তরাধিকার। বিজয়সিংহের লঙ্কা জয়, চাঁদ রায় এবং প্রতাপাদিত্যের মোগলদের প্রতিরোধ বা মগ আক্রমণকারীদের প্রতিহত করা সেই গৌরবেরই অংশ। কপিলমুনির সাংখ্যদর্শন বা অতীশ দীপঙ্করের বৌদ্ধধর্মের প্রসারে ভূমিকা, রঘুনাথ শিরোমণির মিথিলার পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে পরাজিত করা, জয়দেবের গীতগোবিন্দ রচনা বাঙালির গৌরবের ঐতিহ্য। বরভূধর' বা ‘ওংকারধাম' মন্দির তৈরিতে বাঙালিদের স্থাপত্যকীর্তির নিদর্শন রয়েছে। বিটপাল আর ধীমানের মতো ভাস্কর এই বাংলাদেশেই জন্মেছিলেন। কীর্তন আর বাউলগানে বাঙালি তার হৃদয়ের তত্ত্বকথাকে প্রকাশ করেছে। সে অনায়াসেই দেবতাকে কাছের মানুষ করে নিয়েছে। মানবতার বাণী প্রচার করে চৈতন্যদেব সমাজে আলোড়ন তুলেছিলেন, বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন বিবেকানন্দ। কবি শুনিয়েছেন মহামিলনের গান। বাঙালি তার বুদ্ধি দিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছে, সত্যের সন্ধান পেয়েছে। এই অতীতের সাফল্যের ওপরে ভবিষ্যতের সার্থকতা প্রতিষ্ঠিত হবে। শক্তির প্রয়োগ বা ঈর্ষা-বিদ্বেষ নয়, মিলনের মন্ত্রে বাঙালি তার প্রতিভাকে প্রতিষ্ঠা করবে।
নামকরণ
যে-কোনো সাহিত্যের ক্ষেত্রেই নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটিতে তাঁর তীব্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে। এই জাতীয়তাবাদে অন্য জাতির প্রতি ঘৃণা নেই কিন্তু নিজের দেশ ও জাতি সম্পর্কে তীব্র ভালোবাসা ও গৌরববোধের প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাটির শুরুতে কবি বাংলামায়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করে তারপরেই বাঙালি জাতগৌরবগাথা রচনা করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে কবি এখানে কেবল বাংলাদেশ ও বাঙালিদের কথাই বলেননি, বাঙালি যাঁদের ভালোবেসেছে বা বাংলার সঙ্গে যাঁদের কিছুমাত্র সংযোগ হয়েছে তাঁদের কথাও কবি এই গৌরবগাথার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সেই কারণেই শ্রীকৃষ্ণ বা কপিলমুনি বাঙালি না হয়েও বাংলার গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। বাঙালির জয়গাথা রচনা করতে গিয়ে কবি শুধু ইতিহাস নয়, জনশ্রুতির ওপরও নির্ভর করেছেন। লঙ্কাজয়ী বীর বিজয়সিংহ, বারোভূঁইয়ার অন্যতম চাঁদ রায়, প্রতাপাদিত্য, পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর, রঘুনাথ শিরোমণি, কবি জয়দেবকে সত্যেন্দ্রনাথ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি ভোলেননি পাল যুগের বিখ্যাত ভাস্কর বিট্পাল, ধীমানকেও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সমুদ্রপথে বাংলার বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। ওই অঞ্চলের স্থাপত্যের ওপর পাল-সেন যুগের স্থাপত্যের প্রভাবের ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়। তার ওপর ভিত্তি করে কবি ‘বরভূধর’ স্তূপ এবং ‘ওংকারধাম’ মন্দিরে বাঙালির অবদানের কথা বলেছেন। শ্রীচৈতন্যদেব, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্মদেব, বিবেকানন্দ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর—কবি এঁদের কারও নাম করে, কারও-বা নাম না-করেইঙ্গিতে তাঁদের জয়গান করেছেন। ‘আমরা’ কবিতায় কবি একদিকে যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের অবদানকে স্মরণ করেছেন তেমনি অন্যদিকে বাংলার সংস্কৃতির মূলসুরটিকেও তুলে ধরেছেন। এই সুর হল মানুষের সঙ্গে মানুষের মহামিলনের সুর। বাঙালি দেবতাকে আত্মীয়ের মতো হৃদয়ে স্থান দিয়েছে, আবার প্রিয়জনকে ভালোবেসে দেবতার মর্যাদা দিয়েছে। আবেগপ্রবণ বাঙালি জাতি তার সংস্কৃতির সংস্পর্শে যারা এসেছে, তাদের সকলকে সাদরে গ্রহণ করেছে, কাউকে ফিরিয়ে দেয়নি। কীর্তনে আর বাউলগানে এই ভালোবাসা আর মিলনের সুরই ধ্বনিত হয়েছে। সবশেষে কবি স্বদেশ এবং স্বজাতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বপ্নের জাল বুনেছেন। তিনি আশা করেছেন একদিন নিশ্চয়ই বাঙালি জগৎসভায় শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা পাবে। কবিতাটি আমাদের অর্থাৎ বাঙালি জাতিকে কেন্দ্র করে রচিত। তাই বলা যায় ‘আমরা’ নামটি বিষয়বস্তু-নির্ভর এবং সবদিক থেকেই যথাযথ।
আমরা: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
১. আমরা (কবিতা) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:
MCQ
- ১.১ “আমরা বাঙালি বাস করি সেই ভূমি বঙ্গে।”
উত্তর: বাঞ্ছিত।
- ১.২ আমরা কীসের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি?
উত্তর: বাঘ।
- ১.৩ আদিবিদ্বান কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: কপিলকে।
- ১.৪ দীপঙ্কর কোথায় জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন?
উত্তর: তিব্বতে।
- ১.৫ কিশোর বয়সে পক্ষশাতন করি —
উত্তর: পক্ষধরের।
- ১.৬ বাংলার রবি কোন্ কবিকে বলা হয়েছে?
উত্তর: জয়দেবকে।
- ১.৭ “শ্যাম ‘ওঙ্কার-ধাম’ মোদেরি প্রাচীন কীর্তি।”
উত্তর: কম্বোজে।
- ১.৮ বিটপাল আর____ যাদের নাম অবিনশ্বর।” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
উত্তর: ধীমান।
- ১.৯ কীর্তনে আর _____ গানে আমরা দিয়েছি খুলি” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
উত্তর: বাউলের।
- ১.১০ ঘরের ছেলের চক্ষে আমরা কীসের ছায়া দেখেছি?
উত্তর: বিশ্বভূপের।
- ১.১১ আমরা কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
- ১.১২ দশানন জয়ী কে?
উত্তর: রামচন্দ্র।
- ১.১৩ বঙ্গভূমির দেহ কি দিয়ে ভূষিত?
উত্তর: অতসী অপরাজিতা।
- ১.১৪ বঙ্গমাতার চরণে কোন ফুল?
উত্তর: পদ্ম।
- ১.১৫ “________ গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
উত্তর: মুক্তবেণীর।
- ১.১৬ বঙ্গমাতার বাম হাতে কার ফুল?
উত্তর: লক্ষ্মীর।
- ১.১৭ “ভালে_______শৃঙ্গ-মুকুট” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
উত্তর: কাঞ্চন।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ২.১ সিংহল নামের মধ্য দিয়ে কোন্ বাঙালি নিজের শৌর্যের পরিচয় যেখেছেন?
উত্তর: বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কা জয় করে সিংহল নামকরণের মধ্য দিয়ে নিজের শৌর্যের পরিচয় রেখেছেন।
- ২.২ ‘আদিবিদ্বান্’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: বৈদিক ঋষি তথা সাংখ্যদর্শনের প্রণেতা মহামুনি কপিলকে আদিবিদ্বান্ বলা হয়েছে।
- ২.৩ তিব্বতে জ্ঞানের দীপ কে জ্বেলেছিলেন?
উত্তর: বাঙালি পন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর বা দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বতে জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন তথা বৌদ্ধধর্মের প্রচার করেছিলেন।
- ২.৪ ‘পক্ষধরের পক্ষশাতন’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বাঙালি পণ্ডিত রঘুনাথ শিরােমণি মিথিলার মহাপণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে বিতর্কসভায় পরাজিত করেছিলেন। একেই কবি ‘পক্ষধরের পক্ষশাতন’ বলেছেন।
- ২.৫ প্রাচীন বাংলার দুজন বিখ্যাত ভাস্করের নাম লেখাে।
উত্তর: প্রাচীন বাংলার দুজন বিখ্যাত ভাস্কর হলেন বিটপাল আর ধীমান।
- ২.৬ মানুষের ঠাকুরালি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: নিজের কর্মগুণে রক্তমাংসের মানুষের দেবত্বে উত্তীর্ণ হওয়াকেই কবি ‘মানুষের ঠাকুরালি’ বলেছেন।
- ২.৭ ‘জড়ের সাড়া’ কে পেয়েছিলেন?
উত্তর: বাঙালি বিজ্ঞানসাধক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আপাতদৃষ্টিতে জড়পদার্থ গাছের মধ্যে প্রাণের সাড়া পেয়েছিলেন।
- ২.৮ শব-সাধনা কী?
উত্তর: সদ্যোমৃত পুরুষের শবের ওপর ঘােড়ায় চড়ার ভঙ্গিতে বসে তান্ত্রিক সাধনাকেই শব-সাধনা বলা হয়।
- ২.৯ বিষম ধাতুর মিলন কে ঘটিয়েছেন?
উত্তর: বিষম অর্থাৎ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট ধাতুর রাসায়নিক সংযােগ ঘটিয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।
- ২.১০ জগতে মহামিলনের গান কে গেয়েছেন?
উত্তর: বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগতে মহামিলনের গান গেয়েছেন।
- ২.১১ পঞ্চবটী কোন্ কোন্ বৃক্ষের সমাহার?
উত্তর: পঞ্চবটী হল বট, বেল, অশ্বথ, অশােক, আমলকী—এই পাঁচটি বৃক্ষের সমাহার।
- ২.১২ ভুবন কেমন করে বাঙালির গৌরবে ভরে উঠবে?
উত্তর: বিধাতার আশীর্বাদে এবং বাঙালির প্রতিভা ও তপস্যা বা সাধনায় পৃথিবী তার গৌরবে ভরে উঠবে।
- ২.১৩ আমরা কীভাবে ‘দেব-ঋণে’ মুক্ত হব?
উত্তর: সারা পৃথিবীর মানুষকে মিলনের মহামন্ত্রে দীক্ষিত করে আমরা বাঙালিরা ‘দেব-ঋণে’ মুক্ত হব।
- ২.১৪ সাগর কেমন করে বঙ্গভূমির বন্দনা করে?
উত্তর: বঙ্গভূমির দক্ষিণতম প্রান্তে থাকা বঙ্গোপসাগর অনবরত অজস্র ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার মধ্য দিয়ে তার বঙ্গভূমির বন্দনা করে।
- ২.১৫ অতসী অপরাজিতায় কার দেহ ভূষিত?
উত্তর: বঙ্গভূমির দেহ।
- ২.১৬ নাগের সঙ্গে বাঙালি সম্পর্ক কিসের?
উত্তর: খেলাধুলার সম্পর্ক।
- ২.১৭ আমরা কিভাবে বেচে আছি?
উত্তর: বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
- ২.১৮ লংকা কে জয় করেছিলেন?
উত্তর: বিজয় সিংহ লঙ্কা জয় করেছিলেন।
- ২.১৯ “মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে৷”–গঙ্গা কোথায় মুক্তি বিতরণ করে?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘আমরা’ কবিতায় বলেছেন যে মুক্তধারা গঙ্গাতীর্থ ভূমি বাংলায় মুক্তি বিতরণ করে।
- ২.২০ বাংলা মায়ের দেহ কোন্ কোন্ ফুলে ভূষিতা?
উত্তর: বাংলা মায়ের দেহ অতসী ও অপরাজিতা ফুলে ভূষিত। তার বামহাতে কমলার ফুল আর বক্ষে গল্প শােভা পায়।
- ২.২১ বাঙালি জাতি কীসের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে?
উত্তর: বাংলার দক্ষিণে অবস্থিত সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে হিংস্র বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঙালি বেঁচে থাকে।
- ২.২২ নাগের মাথায় কে নেচেছিলেন?
উত্তর: পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ কালিয় নাগের মাথা অর্থাৎ ফণার ওপর নেমেছিলেন।
- ২.২৩ চতুরঙ্গ কী?
উত্তর: হাতি, ঘােড়া, রথ ও পদাতিক—এই চারটি শাখাবিশিষ্ট সেনাবাহিনীকে চতুরঙ্গ বলে।
সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
- ৩.১ “তাপের প্রভাবে বাঙালি সাধক জড়ের পেয়েছে সাড়া” — পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত পঙক্তিটি গৃহীত হয়েছে। যে-কোনো বিষয় নিয়ে কঠোর সাধনাকেই তপস্যা বলা যায় আর যিনি তপস্যা করেন তিনি হলেন সাধক। বাঙালি বিজ্ঞানসাধক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কঠোর সাধনার ফলে আবিষ্কার করেন যে গাছেরও প্রাণ আছে। এর আগে পর্যন্ত মানুষ গাছকে জড়পদার্থ ভাবত। জগদীশচন্দ্র সেই জড়ের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন আবিষ্কার করেন। তাই কবি বলেছেন যে তপস্যার ফলে বাঙালি সাধক জড়ের সাড়া পেয়েছেন।
- ৩.২ “বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া আমরা বাঁচিয়া আছি” — কবি কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে। বাংলার দক্ষিণের সুন্দরবন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত। কিন্তু এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবিকা নির্বাহের কারণে কাঠ, মধু, মাছ ইত্যাদি সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে যেতে হয়। আর সেই কারণে প্রতিনিয়তই তাদের এই হিংস্র প্রাণীটির আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। তাই কবি বলেছেন যে বাঙালি বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে।
- ৩.৩ “জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙালি দীপঙ্কর।” — পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত পঙক্তিটি গৃহীত হয়েছে। বিখ্যাত বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের কথা এখানে বলা হয়েছে। শীলভদ্রের শিষ্য অতীশ দীপঙ্কর পাল যুগে বিক্রমশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। পাল যুগেই তিনি হিমালয়ের বরফে ঢাকা অতি দুর্গম পথ অতিক্রম করে তিব্বতে যান মহাযান বৌদ্ধধর্মের প্রচারের উদ্দেশ্যে। সেখানে ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি তিনি শিক্ষাদান এবং গ্রন্থরচনার কাজও করেন। অতীশ দীপঙ্করের কীর্তি বাঙালি জাতির পক্ষে অত্যন্ত গৌরবের।
- ৩.৪ “আমরা বাঙালি বাস করি সেই বাঞ্ছিত ভূমি বঙ্গে।” | কবি বঙ্গদেশকে ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ কেন বলেছেন?
উত্তর: ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ অর্থাৎ যে দেশ সকলের আকাঙ্ক্ষার স্থান। বাংলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে পুণ্যসলিলা গঙ্গা, তার মাথায় তুষারমৌলি হিমালয়ের মুকুট আর তার পা ধুয়ে দেয় সমুদ্রের জল। বাংলামায়ের কোলভরা সোনার ধান আর দেহ অজস্র ফুলে শোভিত। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ, সুজলা-সুফলা, বাংলার মাটিতে শত তীর্থের পুণ্য অর্জন করা যায় বলে বঙ্গদেশকে কবি ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ বলেছেন।
- ৩.৫ “মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে” — পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। ‘মুক্তবেণী’ শব্দটির অর্থ হল বাধাহীন জলপ্রবাহ। গঙ্গা নদী গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশা পর্যন্ত বহু নদী তার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। কিন্তু তার নিজস্ব জলধারা অন্য কোনো নদীতে হারিয়ে যায়নি। তাই সে ‘মুক্তবেণী’। হিন্দুদের বিশ্বাস গঙ্গাজল মানুষকে পাপ থেকে মুক্তি দেয়। তাই কবি বলেছেন যুক্তধারা গঙ্গা আমাদের পাপমোচন করে এই বাংলায় আনন্দের সাথে মুক্তি বিতরণ করে।
- ৩.৬ “আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থে—বরদ” — এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: উদ্ধৃতি পঙক্তিটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গভূমির বর্ণনা করতে গিয়ে কবি উক্ত কথাটি বলেছেন। আমাদের এই বাংলায় রয়েছে অজস্র তীর্থক্ষেত্র। মানুষ বিশ্বাস করে তীর্থদর্শন করলে পুণ্য অর্জন করা যায়, ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। বাঙালি জাতির সৌভাগ্য যে তারা এমন একটি দেশে বাস করে যে দেশের মাটি তাদের শত তীর্থের পুণ্য আর বর দান করে।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
- ৪.১ ‘আমরা’ কবিতায় কবি বাঙালির কৃতিত্বকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটিতে কবি বাঙালির গৌরবগাথা রচনা করেছেন। জলে-জঙ্গলে পূর্ণ বাংলায় বাঙালি জাতি সাপ ও বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে। রাঢ় বাংলার সিংহপুরের রাজপুত্র বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কা জয় করেন এবং তার নামানুসারেই লঙ্কার নামকরণ সিংহল করা হয়। বারােভূঁইয়ার অন্যতম চাদ রায়, প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত করতে দিল্লির মােগল সম্রাটকে রীতিমতাে লড়াই করতে হয়েছিল। বাঙালি পন্ডিত অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে গিয়ে বৌদ্ধধর্মের প্রচার ও শিক্ষাবিস্তার করেন। নবদ্বীপের রঘুনাথ শিরােমণি মিথিলার বিখ্যাত পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে তর্কযুদ্ধে পরাজিত করে বাংলার গৌরব বৃদ্ধি করেন। বাঙালি কবি জয়দেবের লেখা কাব্য গীতগােবিন্দ সংস্কৃত সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। স্থাপত্য-ভাস্কর্য-শিল্পকলাতেও বাঙালি জাতি কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে। পাল যুগের বিখ্যাত দুই ভাস্কর ছিলেন বিপাল ও ধীমান। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণদেব আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাঙালিকে অপূর্ব মহিমা দান করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী মুগ্ধ করেছে বিশ্ববাসীকে। বাঙালি বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু গাছের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন আবিষ্কার করেছেন। ড. প্রফুল্লচন্দ্র রায় রসায়নশাস্ত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালির কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় মানুষের মহামিলনের কথা বলেছেন। সবশেষে কবি আশা প্রকাশ করেছেন যে বাঙালি একদিন তার প্রতিভা ও কর্মপ্রচেষ্টায় বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্বের শিরােপা লাভ করবে।
- ৪.২ আমরা কবিতাটিতে কবির জাতীয়তাবাদী মানসিকতার যে প্রকাশ ঘটেছে তা আলোচনা করো।
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত প্রবল জাতীয়তাবাদী কবি। জাতীয়তাবাদ বলতে বোঝায় স্বদেশ ও স্বজাতি বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ও জাতির তুলনায় কোনো অংশে কম নয় বরং উন্নততর—এই বোধ। ‘আমরা’ কবিতাটিতে সত্যেন্দ্রনাথের এই মানসিকতারই প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাটির প্রথম স্তবকেই কবি তাঁর মাতৃভূমি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা করে তাকে সারা পৃথিবীর মানুষের ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ বলে তাঁর স্বদেশের শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করতে চেয়েছেন। পরবর্তী স্তবকগুলিতে বাঙালি জাতির গৌরবগাথা রচনা করতে গিয়ে কবি প্রথমেই শ্রীকৃষ্ণের কথা বলেছেন, যিনি বাঙালি ছিলেন না। কিন্তু বাঙালি শ্রীকৃষ্ণকে ভালোবেসে আত্মার আত্মীয় করে নিয়েছে বলেই কবি তাঁকে স্বজাতির অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধা করেননি। আবার গঙ্গাসাগরে সাংখ্যদর্শন প্রণেতা কপিলমুনির আশ্রম থাকায় কবি বাংলাকেই তাঁর কর্মভূমি বলে গর্ববোধ করেছেন। কবি বলেছেন যে রামচন্দ্রের প্রপিতামহ রঘুর সঙ্গে বাঙালি যুদ্ধ করেছে। আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থাপত্যে পাল সেন যুগের স্থাপত্যের প্রভাবের সূত্র ধরে কবি ‘বরভূধর’ স্তূপ ও ‘ওঙ্কার-ধাম’ মন্দিরকে বাঙালির তৈরি বলেছেন। এই আবেগের আতিশয্য স্বজাতির প্রতি তীব্র ভালোবাসারই প্রমাণ। প্রাচীন যুগ থেকে তাঁর সমসাময়িক যুগ পর্যন্ত প্রায় সব কৃতী বাঙালির কৃতিত্বের উল্লেখ করে কবি আশা করেছেন আগামীদিনে বাঙালি বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান পাবে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে সত্যেন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদে অন্য দেশ বা জাতির প্রতি কোনো ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন বাঙালি তার প্রতিভা ও কর্মপ্রচেষ্টাতেই নিজেকে বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করবে।
- ৪.৩ ‘আমরা’ কবিতায় কবি বঙ্গভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: ‘আমরা’ কবিতাতে স্বদেশ এবং স্বজাতি সম্পর্কে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের তীব্র ভালোবাসা ও গৌরববোধের প্রকাশ ঘটেছে। বঙ্গভূমি তাঁর কাছে ভৌগোলিক সীমায় আবদ্ধ একটি ভূখণ্ড মাত্র নয়, এই দেশ তাঁর কল্পনায় মাতৃরূপে ধরা দিয়েছে। মুক্তধারা গঙ্গা নদী বাংলার ভূখণ্ডের উপর দিয়ে বয়ে গিয়ে সমুদ্রে মিশেছে। কবির মতে গঙ্গা এদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে গিয়ে আনন্দে উচ্ছল হয়েছেন এবং তাঁর পবিত্র জলের স্পর্শে এখানকার মানুষকে মুক্তিদান করেছেন। এই বাংলার বুকে রয়েছে অসংখ্য তীর্থস্থান। তাই বাংলার মানুষ নিজের জন্মস্থানেই তীর্থদর্শনের পুণ্য অর্জন করতে পারে। কবির কল্পনায় বাংলামায়ের বাম হাতে আছে ধনসম্পদের দেবী লক্ষ্মীর পদ্মফুল আর তাঁর ডানদিকে মধুলোভী অসংখ্য মধুকরের আনাগোনা। বাংলার উত্তরে বরফে ঢাকা হিমালয় পর্বতমালা সূর্যের কিরণে মায়ের মাথায় সোনার মুকুটের মতো ঝলমল করে। সেই মুকুট থেকে ঠিকরে পড়া আলোতে বিশ্বচরাচর আলোকিত হয়। বাংলার দিগন্তপ্রসারী সোনালি ধানখেতকে কবি বাংলামায়ের কোলভরা সোনার ধান বলেছেন। মায়ের বুকভরা অসীম স্নেহ কারণ তিনি তাঁর সন্তান অর্থাৎ বঙ্গবাসীদের ফুলে-ফলে সমৃদ্ধিতে লালন করেন। মায়ের দেহ অতসী-অপরাজিতা ফুলে শোভিত। বাংলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অজস্র ঢেউ দিয়ে মায়ের পা ধুইয়ে দেয়। কবির মনে হয়েছে সাগর যেন তটভূমিতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাধ্যমে বাংলামাকে তার প্রণাম জানায়, ঢেউয়ের কলতানে সৃষ্টি হয় মায়ের বন্দনাগীতি। এভাবেই কবি সারা পৃথিবীর মানুষের ‘বাঞ্ছিত ভূমি’ বাংলার রূপ বর্ণনা করেছেন।
অন্যান্য বাংলা অধ্যায় (নবম শ্রেণী)
বাংলা Resources
Complete Bengali Solutions কিনুন
অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান