নিরুদ্দেশ - প্রেমেন্দ্র মিত্র
নবম শ্রেণীর বাংলা গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান
নিরুদ্দেশ: প্রেমেন্দ্র মিত্রের একটি বিশদ আলোচনা
কবি পরিচিতি: প্রেমেন্দ্র মিত্র
ভূমিকা: প্রেমেন্দ্র মিত্র রবীন্দ্র-পরবর্তী যুগের বিশিষ্ট কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও চলচ্চিত্রকার হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।
জন্ম এবং শৈশব: ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে কাশীতে তাঁর জন্ম হয়। হুগলি জেলার কোন্নগরে অভিজাত মিত্র বংশের সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁর পিতার নাম জ্ঞানেন্দ্রনাথ মিত্র, মাতার নাম সুহাসিনী দেবী। তাঁর উচ্চশিক্ষিত পিতা রেলের অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে চাকরি করতেন। প্রেমেন্দ্রর বয়স যখন সাত-আট বছর, তখন তাঁর মা মারা যান।
ছাত্রজীবন: প্রেমেন্দ্রর দাদামশাই রাধারমণ ঘোষ ইস্ট ইন্ডিয়া রেলের মির্জাপুর ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত ডাক্তার ছিলেন। প্রেমেন্দ্র সেখানেই বড়ো হতে থাকেন। দাদামশাইয়ের মৃত্যুর পর প্রেমেন্দ্রকে আশ্রয় নিতে হয় নলহাটিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে একটি স্কুলে তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। পড়াশোনায় তিনি ভালো ছিলেন। এরপরে নলহাটি ছেড়ে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। সেখানে তিনি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভরতি হন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করে স্কটিশচার্চ কলেজে ভরতি হন। কিছুদিন বাদে কলেজের পড়া ছেড়ে দিয়ে কৃষিবিদ্যা শিক্ষার জন্য তিনি শ্রীনিকেতনে যান। এরপর কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে তিনি জগন্নাথ কলেজে বিজ্ঞান শাখায় ভরতি হন। কিছুদিন পর আবার ঢাকা থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু এবার আর পড়াশোনা নয়, শুরু করেন জীবিকার সন্ধান। এইসময় প্রবাসী পত্রিকায় তাঁর দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং এখান থেকেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তিনি চেয়েছিলেন ডাক্তার হতে, কিন্তু শেষপর্যন্ত হয়ে গেলেন সাহিত্যিক।
সাহিত্যজীবন: প্রেমেন্দ্র মিত্র সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। তাঁর উপন্যাসের সংখ্যা পঞ্চাশটি, ছোটোগল্প তিরিশটি, এছাড়াও শিশু ও কিশোরদের রচনা, ছড়া, নাটক, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথা, এবং অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি লরেন্সের গল্প, বার্নার্ড শ-র নাটক এবং হুইটম্যানের শ্রেষ্ঠ কবিতা অনুবাদ করেছেন। তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত একটি চরিত্র ঘনাদা। ‘পরাশর’ গোয়েন্দাকে নিয়ে তিনি গল্প লিখেছেন। চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন তিরিশটি। তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'কৃত্তিবাস ভদ্র’। আগামীকাল, বিসর্পিল প্রভৃতি প্রেমেন্দ্র মিত্রের বিখ্যাত উপন্যাস। তাঁর গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-বেনামী বন্দর, পুতুল ও প্রতিমা, মৃত্তিকা, অফুরন্ত, মহানগর, নিশীথ নগরী, কুড়িয়ে ছড়িয়ে, সামনে চড়াই এবং সপ্তপদী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল-প্রথমা, সম্রাট, ফেরারী ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, কখনো মেঘ, হরিণ চিতা চিল, অথবা কিন্নর, নদীর নিকটে এবং নতুন কবিতা।
সম্মান ও স্বীকৃতি: সাগর থেকে ফেরা কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে অকাদেমি পুরস্কার এবং ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে 'রণীর পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া 'পদ্মশ্রী' ও 'দেশিকোত্তম' উপাধিও লাভ করেছেন তিনি।
জীবনাবসান: ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ মে প্রেমেন্দ্র মিত্রের জীবনাবসান হয়।
উৎস
প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা 'নিরুদ্দেশ' ছোটোগল্পটি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত 'সামনে চড়াই' গল্প সংকলনে প্রথম প্রকাশিত হয়।
বিষয়সংক্ষেপ
খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের দিকে ইঙ্গিত করে গল্পকথক তার বন্ধু সোমেশকে বোঝাতে চান যে, বিজ্ঞাপন অধিকাংশ সময়েই অর্থহীন হয় এবং নিরুদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি ঠিকঠাকই ফিরে আসে। তখন সোমেশ এই ফিরে আসা নিয়ে এক ভয়ানক ট্র্যাজেডির কাহিনি শোনান কথককে। অনেক বছর আগে সংবাদপত্রে দিনের পর দিন একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হতে থাকে, যাতে শোভন নামে একটি ছেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় তার প্রতি ফিরে আসার কাতর আবেদন জানানো হয়। তারপর বিজ্ঞাপন বের হতে থাকে। একদিন হঠাৎ সেই কাতর আবেদন কাগজে প্রকাশিত হয়। এভাবে চলতে চলতে একসময় এই বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর প্রায় দু-বছর পর একদিন শোভন হঠাৎই বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু পুরোনো নায়েবমশাই তাকে চিনতে পারেন না। তাকে বাইরের বাড়িতে বসতে বলে, ভিতরে ঢুকতে দেন না। এরপর ছবি মিলিয়ে সে আসল শোভন কিনা তার পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু মিল খুঁজে পাওয়া গেলেও শোভনকে ভিতরে যেতে দেওয়া হয় না, বরং চলে যেতে বলা হয়। শোভন উদ্ভ্রান্তের মতো তার বাবা-মার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে বলা হয়, তাঁদের কাছে খবর আছে সাত দিন আগে শোভন মারা গেছে। এই কথাবার্তার মধ্যেই শোভনের বৃদ্ধ বাবা সেখান দিয়ে যান। শোভন ছুটে তাঁর কাছে গেলেও তিনি তাকে চিনতে পারেন না। নায়েবমশাই তাকে জানান যে তৃতীয়বার নিজেকে শোভন হিসেবে দাবি জানাতে লোক এসেছে। বৃদ্ধ বাবা কিছু না বলে শোভনকে চলে যেতে বলেন। শোভন বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে। যখন নায়েবমশাই কিছু টাকার নোট তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলেন যে গৃহকর্ত্রী মৃত্যুশয্যায়, ছেলের মৃত্যুসংবাদ তিনি পাননি। তিনি ছেলেকে দেখার আশা করে আছেন। তাই তাকেই সেই হারিয়ে যাওয়া ছেলে হয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হতে হবে। সোমেশের গল্প এখানেই শেষ হয়। গল্পকথক সোমেশের কানের কাছে শোভনের মতোই একটা জরুল রয়েছে এ কথা জানালে সোমেশ জানান এই সাদৃশ্যের জন্যই তাঁর পক্ষে গল্প বানানো সহজ হল। গল্পকথক অবশ্য তাঁর এই গল্প বানানোর কথাটি বিশ্বাস করতে পারেন না।
নামকরণ
প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পটি বিষয়ভিত্তিক নামকরণ হলেও তা শেষপর্যন্ত ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে উঠেছে। গল্পের প্রথম অংশে কথক কাগজে প্রকাশিত নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করে বোঝাতে চান যে, নিরুদ্দেশ আসলে ঘটে অভিমানের কারণে। অভিমান মিটলেই নিরুদ্দিষ্ট ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু এই গল্পে সোমেশের সংসারের প্রতি আকর্ষণ ছিল না। তার জীবন দিয়ে সে নিরুদ্দিষ্টের ট্র্যাজেডি বুঝতে পেরেছে, শোভন নিরুদ্দিষ্ট হওয়ার পরে কাগজে নানাভাবে অসংখ্য বিজ্ঞাপন বেরোয়। দু-বছর চলার পরে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়। তখনই কৌতূহলী শোভন বাড়ি ফেরে। কিন্তু ট্র্যাজেডি হল তখন কেউ তাকে চিনতে পারে না। শোভনের ট্র্যাজেডি ঘনীভূত হয়, যখন নায়েবমশাই শোভনকে টাকা দিয়ে বলেন যে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের কাছে শোভনকেই শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। মিথ্যা এভাবে সত্যের জায়গা দখল করে নেয়। প্রকৃত শোভন চিরকালের জন্য বর্তমানে থেকেও নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তাই গল্পের নামকরণ ‘নিরুদ্দেশ' অত্যন্ত সার্থক হয়ে উঠেছে।
নিরুদ্দেশ: প্রেমেন্দ্র মিত্র
নিরুদ্দেশ (গল্প) প্রেমেন্দ্র মিত্র – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:
MCQ
- ১.১ শোভন কতদিন বাদে তার বাড়ি ফিরে ছিল —
(A) প্রায় তিন বছর
(B) প্রায় দুই বছর
(C) প্রায় দেড় বছর
(D) প্রায় পাঁচ বছর
- ১.২ ‘তারা ঠিক কঠিন হৃদয় নয়’ — তাদের মন কেমন?
(A) তৈলাক্ত
(B) সরল
(C) জটিল
(D) নিলিপ্ত
- ১.৩ ‘বাবা সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন’ — কি দেখেন?
(A) মা শয্যাগত
(B) স্ত্রী অসুস্থ
(C) প্রবল অশান্তি চলছে
(D) ছেলে ফেরেনি
- ১.৪ ‘মা ধমক দিয়ে বলেন’ — কি বলেন বক্তা?
(A) তুই একেবারেই পীর হয়েছিস
(B) এত বড় আস্পর্ধা
(C) কুলাঙ্গার হয়েছিস
(D) তুই থাম। এত আদর ভালো নয়
- ১.৫ ‘এবার তার স্বরে কাতরতা’ — কার স্বরে কাতরতা?
(A) শোভনের বাবার
(B) শোভনের
(C) সোমেশের
(D) শোভনের মায়ের
- ১.৬ শোভন তার বাড়িতে আসার আগে তার পরিচয় আর কয়জন তাদের বাড়িতে এসেছিল?
(A) দুজন
(B) একজন
(C) চারজন
(D) তিনজন
- ১.৭ “ইনি ভেতরে যেতে চাইছেন!” — কথাটি কার?
(A) খাজাঞ্চির
(B) নতুন খাজাঞ্চির
(C) দারোয়ানের
(D) নায়বের
- ১.৮ দিনটা কেমন ছিলো?
(A) ভারী গরম
(B) ভারী ঠান্ডা
(C) ভারী বৃষ্টি
(D) ভারি বিশ্রী
- ১.৯ “চেনেন একে” — কথাটি কার?
(A) খাজাঞ্চির
(B) নায়েবের
(C) শোভনের
(D) সোমেশের
- ১.১০ “আঃ আর বকাবকি কেন?” — কথাটি কার?
(A) গল্পকথকের
(B) বাবার
(C) মায়ের
(D) শোভনের
- ১.১১ “তুমি জানোনা, এই বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্য কার ট্রাজিডি থাকে।” — কথাটি কার?
(A) শোভনের
(B) সোমেশের
(C) গল্পের নিরুদ্দিষ্টের
(D) গল্পকথকের
- ১.১২ “আজকের কাগজে একসঙ্গে _____ নিরুদ্দেশ এর বিজ্ঞাপন।”
(A) ছয় সাতটা
(B) পাঁচ-পাঁচটা
(C) সাত সাতটা
(D) সাত-আটটা
- ১.১৩ ‘এত আমারই ফটো’ — কার উক্তি?
(A) শোভনের
(B) সোমেনের
(C) নায়েব মশায়ের
(D) লেখকের
- ১.১৪ ‘এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো!’ — বলে বাবা কোথায় বেরিয়ে পড়েন?
(A) কর্মস্থলে
(B) স্টেশনের দিকে
(C) বাসস্ট্যান্ডের দিকে
(D) কাগজের অফিসে
- ১.১৫ নায়েবমশাই নোটের তাড়া এনে দিয়েছিলেন যার হাতে-
(A) গল্পকথক
(B) সমরেশ
(C) সোমেশ
(D) শোভন
- ১.১৬ “শোভন দৌড়ে ঘর থেকে বার হয়ে গেল।” – কারণ –
(A) সে বাবাকে দেখতে পেয়েছিল
(B) তার ভালো লাগছিল না
(C) তাকে নায়েবমশাই বাধা দিচ্ছিল
(D) সে ঘর ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল।
- ১.১৭ “জমিদার নিজে তাঁকে কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন” – কাতর অনুরোধ কি ছিল?
(A) শোভন যেন বাড়ি থেকে চলে যায়
(B) শোভন যেন আর না আসে
(C) শোভন যেন একবার হারানো ছেলে হয়ে জমিদারের স্ত্রী-র কাছে যায়
(D) শোভন যেন টাকা গুলি নেয়
- ১.১৮ সোমেশের কোথায় জড়ুল ছিল?
(A) ডান হাতে
(B) বাম হাতে
(C) নাকের নীচে
(D) কানের কাছে
- ১.১৯ “বৃদ্ধ কম্পিত হাত তুলে, কম্পিত স্বরে বললেন” – এই বৃদ্ধ হলেন-
(A) খাজাঞ্চিবাবু
(B) পুরোনো সরকারমশাই
(C) নায়েবমশাই
(D) শোভনের বাবা
- ১.২০ “তাঁরা সবাই ভালো আছেন।” – এখানে যাদের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা হলেন-
(A) শোভনের বাবা-মা
(B) পুরোনো বন্ধুরা
(C) পুরোনো সরকারমশাই ও নায়েব মশাই
(D) নায়েবমশাই ও খাজাঞ্চিবাবু
- ১.২১ “তোমার কি এতটুকু কর্তব্যবোধও নেই!” – যাকে এ কথা বলা হয়েছে, সে হল-
(A) সোমেশ
(B) শুভম
(C) শোভন
(D) কোনোটাই নয়
- ১.২২ ‘নিরুদ্দেশ’এর বিজ্ঞাপন দেখে লেখকের —
(A) হাসি পেত
(B) আনন্দ হতো
(C) কান্না পেত
(D) দুঃখ হতো
- ১.২৩ ‘আকাশ ও ম্লান পৃথিবী কেমন মৃতের মতন অসাড় হইয়া আছে’ — আকাশের রূপ কেমন?
(A) মেঘাচ্ছন্ন
(B) রৌদ্রোজ্জ্বল
(C) মেঘে ঢাকা
(D) জ্যোৎস্নালোকিত
- ১.২৪ ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে যে ঋতুর কথা আছে
(A) শীত
(B) হেমন্ত
(C) বর্ষা
(D) গ্রীষ্ম
- ১.২৫ ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে উল্লিখিত খবরের কাগজের বিজ্ঞাপণগুলির বিষয় ছিল
(A) গৃহসজ্জা
(B) অলংকার
(C) নিরুদ্দেশ
(D) পাত্রপাত্রী
- ১.২৬ ‘নিরুদ্দেশ’ নামাঙ্কিত গল্পটি কোন ঋতুর প্রেক্ষাপটে রচিত?
(A) গ্রীষ্মঋতু
(B) বর্ষাঋতু
(C) শীতঋতু ঋতুর প্রেক্ষাপটে রচিত।
(D) বসন্তঋতু
- ১.২৭ শোভন গৃহত্যাগের যত বছর পরে দেশে ফিরেছিল, তা হল-
(A) প্রায় এক বছর
(B) প্রায় তিন বছর
(C) প্রায় দুই বছর
(D) প্রায় চার বছর
- ১.২৮ শোভন বাড়িতে ফিরে এলে তাকে প্রথম বাধা দিয়েছিলেন যিনি, তিনি হলেন-
(A) খাজাঞ্চিমশাই
(B) দরোয়ান
(C) তার বাবা
(D) নায়েবমশায়
- ১.২৯ ‘…সে যেন আশ্বস্ত হলো”- শোভন আশ্বস্ত হয়েছে, কারণ-
(A) সে তার বাবাকে দেখতে পেয়েছে
(B) সে তার পরিচিত বৃদ্ধ খাজাঞ্চিমশাইকে দেখতে পেয়েছে
(C) বাড়ির পুরানো নায়েবমশাইকে দেখতে পেয়েছে
(D) তার মা বাবার শরীর ভালো আছে বলে তাকে জানানো হয়েছে
- ১.৩০ “ইনি ভেতরে যেতে চাইছেন!” – এ কথা বলেছেন-
(A) খাজাঞ্চিমশাই নায়েবমশাইকে
(B) নায়েবমশাই সরকারমশাইকে
(C) সরকারমশাই খাজাঞ্চিমশাইকে
(D) নায়েবমশাই খাজাঞ্চিমশাইকে
- ১.৩১ “পাশের ঘরে গিয়ে টেবিলের একটা ড্রয়ার খুলে তিনি একটা জিনিস এনে শোভনের হাতে দিলেন।” – জিনিসটা হল-
(A) একগোছা চাবি
(B) একটি চিঠি
(C) শোভনের আঁকা একটি পুরোনো ছবি
(D) শোভনের একটি পুরোনো ফোটো
- ১.৩২ নিরুদ্দেশ গল্পটির লেখক হলেন —
(A) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
(B) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(C) তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
(D) প্রেমেন্দ্র মিত্র
- ১.৩৩ কাঁচের শার্সির ভেতর দিয়ে বাইরের রাস্তাঘাট কেমন ছিল?
(A) স্বচ্ছ
(B) ঝাপসা
(C) অর্ধস্বচ্ছ
(D) বাস্তব
- ১.৩৪ নিরুদ্দেশ গল্পের কোন ঋতুর কথা বলা হয়েছে —
(A) শরৎ
(B) বসন্ত
(C) বর্ষা
(D) শীত
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ২.১ হঠাৎ করে বিজ্ঞাপন বন্ধ হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: শোভনের মায়ের অসুস্থতার খবর দিয়ে শোভনের নিরুদ্দেশ হবার বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়।
- ২.২ বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের কী মনে হয়েছিল?
উত্তর: ঝড়ে ভাঙা গাছ যেমন মুহ্যমান অবস্থায় থাকে, বাড়ি থেকে বাবাকে বেরোতে দেখে শোভনের মনে হয়েছিল তেমনই মনে হয়েছিল।
- ২.৩ “বৃদ্ধ স্থলিতপদে এক পা এগিয়ে আবার থমকে গেলেন।” – কখন এই থমকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: নিরুদ্দেশ গল্পে, নিরুদ্দেশ হবার দুই বছর পর শোভন যখন তার বাড়ি ফিরে যায় সেসময় বাড়ির নায়েব এবং কর্মচারীরা তাকে তার পিতা – মাতার সাথে দেখা করতে বাধা দেয়, এই সময়ে শোভন তার বাবাকে দেখে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলে শোভনের বৃদ্ধ পিতা এগিয়ে আবার থমকে যান।
- ২.৪ মনে হয় ছাপার লেখায় সত্যি যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” — এই আর্তনাদ কীসের জন্য ছিল?
উত্তর: নিরুদ্দিষ্ট শোভনের প্রতি তার মায়ের কাতর অনুরোধকে কথক কাতর আর্তনাদের সাথে তুলনা করেছেন। একমাত্র পুত্র শোভনের বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।
- ২.৫ বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়েছিল?
উত্তর: বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে প্রথমে নাম–পরিচয় ইত্যাদির বর্ণনা চাওয়া হয়।
- ২.৬ শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক কী বিশেষ চিহ্ন ছিল?
উত্তর: শোভনের পরিচয়জ্ঞাপক বিশেষ চিহ্ন ছিল ডান কানের কাছে বড় একটি জড়ুল।
- ২.৭ “নিরুদ্দেশ’ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে কী করবেন বলেছেন?
উত্তর: নিরুদ্দেশ গল্পে বাবা তার থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে ফিরলে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবার কথা বলেন।
- ২.৮ “দিনটা ভারী বিশ্রী।” – দিনটা ‘বিশ্রী’ কেন?
উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের কথকের বক্তব্য অনুযায়ী দিনটা ভারি বিশ্রী ছিল কারন, শীতের দিনে বৃষ্টি পড়ছিল।
- ২.৯ “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” – একথা বলে বাবা কী করেন?
উত্তর: ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অনুযায়ী “এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।” – একথা বলে বাবা খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপ্ন দিতে গিয়েছিলেন।
- ২.১০ খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই কী ঘটনা ঘটল?
উত্তর: খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগেই বাড়িতে ছেলে ফিরে আসে।
সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
- ৩.১ “যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে পুরোনো খবরের কাগজে বহুদিন ধরে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি নিরুদ্দেশের। একজন মা কাতরভারের ছেলেকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেখানে অস্পষ্ট আড়ষ্ট ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে মায়ের মনের আকুলতা। একসময়ে সেই আকুলতা মিলিয়ে যায়। এরপর সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় ভেসে ওঠে পিতার কম্পিত, ধীর এবং শান্ত স্বর—যেখানে মার অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছেলেকে ফিরে আসতে বলা হয়। এইসব অনুরোধ, আবেদনই আর্তনাদের মতো শোনায়।
- ৩.২ “শোভন এই অবস্থাতে না হেসে পারলে না।” — শোভনের হাসির কারণ কী ছিল?
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। শোভন মা বাবার কাছে যেতে চাইলে নায়েবমশাই তাকে নিবৃত্ত করার জন্য বলেন যে, তাদের কাছে খবর আছে শোভন সাত দিন আগেই মারা গিয়েছে। উদ্ভ্রান্ত শোভন এই কথা শুনেই হেসে ফেলে। সে নিজে সশরীরে উপস্থিত, আর তাকেই কিনা তার মৃত্যুসংবাদ শোনানো হচ্ছে—এই ঘটনা শোভনকে হাসতে বাধ্য করে। কণ্ঠস্বরে বিদ্রুপ মিশিয়ে তাই সে জানতে চায় শোভন কীভাবে মারা গেল।
- ৩.৩ “আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি!” — কে কেন মন্তব্যটি করেছে?
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কোনো-একটি ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তার মা খাওয়া-দাওয়া ত্যাগ করেন এবং বিছানা নেন! বিব্রত বাবা খবরের কাগজের অফিসে গিয়ে হাজির হন এবং সেখানে এক কর্মী ভদ্রলোককে জানান যে তিনি তাদের কাগজে একটা খবর বের করতে চান। তাতে সেই নিরীহ চেহারার ভদ্রলোকটি ব্যঙ্গের সুরে বলেন যে তাদের খবরগুলো বুঝি ছেলেটির বাবার পছন্দ হচ্ছে না। একইসঙ্গে প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটিও করেন তিনি।
- ৩.৪ “বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্যকার ট্র্যাজিডি থাকে।” — মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পে কথক খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে বলেন যে এই নিরুদ্দিষ্টরা অনেক সময়ই রাগের মাথায় বা অভিমান করে বাড়ি ছাড়ে, তারপরে কিছুদিন বাদে রাগ আর অভিমান কমলে বাড়ি ফিরেও আসে। কিন্তু বন্ধু সোমেশের মনে হয় বিষয়টি এত সহজনয়। বহু নিরুদ্দেশের ঘটনার পিছনেই থাকে জীবন থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সেসব ক্ষেত্রে হয় ফিরে আসা সম্ভব হয় না, বা ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
- ৪.১ ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প অবলম্বনে শোভন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ’ গল্পের প্রধান চরিত্র শোভন ছিল এক প্রাচীন জমিদার বংশের একমাত্র উত্তরাধিকারী এবং সে জমিদারি ক্ষয়িষ্ণু নয়। অনেক দুর্দিনের ভিতরেও তা নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছে। শোভন ছিল ষোলো-সতেরো বছর বয়সের একটি ছেলে, দোহারা গড়ন। নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনে তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, ডান কানের কাছে একটি জভুল আছে।
নিরুদ্দেশের কারণ: সোমেশের কথা থেকে জানা যায় যে, কোনো অভিমান নয়, শোভন বাড়ি ছেড়েছিল সংসারের প্রতি তার আকর্ষণ না থাকার কারণে। পৃথিবীতে এক ধরনের মানুষ আছে যারা কোনো কিছুতেই বাঁধা পড়ে না শোভন ছিল সেরকম মানুষ।
শোভনের ট্র্যাজেডি: দুবছর পরে বাড়ি ফিরে এসে শোভন এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। বাড়ির পুরোনো নায়েবমশাই কিংবা খাজাঞিমশাই কেউই তাকে চিনতে পারেননি। তাকে বারবাড়িতে থাকতে বলা হয়। শোভনকে শুনতে হয় তার নিজেরই মৃত্যুসংবাদ। এমনকি বৃদ্ধ বাবাও তাকে চিনতে পারেন না। আর সব থেকে ট্র্যাজিক মুহূর্তটি আসে যখন শোভনের হাতে কিছু টাকা দিয়ে নায়েবমশাই বলেন যে তাকে মা-এর সামনে শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। আসল পরিচয়কে অস্বীকার করে তাকে একটা মিথ্যা কাহিনির নায়ক করে তোলা হয়।
শোভন এবং সোমেশ: গল্পের সমাপ্তি এই ইঙ্গিত দিয়ে যায় যে, সোমেশই শোভন। কারণ, সোমেশেরও কানের কাছে জডুল ছিল, আর ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে সোমেশ জানিয়েছে—”সেই জনেই গল্প বানানো সহজ হলো।”
- ৪.২ “তার চলার গতিতে পর্যন্ত যেন ভয়ংকর দুর্ঘটনার পরিচয় আছে” — কার কথা বলা হয়েছে? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কি?
উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা ‘নিরুদ্দেশ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। এখানে শোভনের বাবার কথা বলা হয়েছে। শোভনের নিরুদ্দেশ সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন গুলো যখন খবরের কাগজে আর প্রকাশিত হতো না, তখন শোভনের বাড়ি ফেরার কথা মনে হয়। বাড়ি ফিরে গেলে তার চেহারার পরিবর্তনে কেউই তাকে চিনতে পারেনা। প্রাণপণে শোভন যখন তাদের নায়েব মশাইকে নিজের পরিচয় বোঝাতে চেষ্টা করে চলেছে, সেই মুহূর্তে বাড়ি থেকে শোভন তার বাবাকে বের হতে দেখে। বাবার চেহারা দেখে শোভন অবাক হয়ে যায়। দুঃখ, শোকে জর্জরিত হতে হতে মানুষটির চেহারা এতটাই ভেঙে পড়েছে যে একমাত্র ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের সঙ্গেই তার মিল সম্ভব। তার হাঁটা চলার গতিতেও ভয়ংকর দুর্ঘটনার প্রকাশ স্পষ্ট।
অন্যান্য বাংলা অধ্যায় (নবম শ্রেণী)
বাংলা Resources
Complete Bengali Solutions কিনুন
অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান