কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি - মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
নবম শ্রেণীর বাংলা কবিতার সম্পূর্ণ সমাধান
কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর একটি বিশদ আলোচনা
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডীর রোষে কলিঙ্গদেশে যে ভীষণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘনিয়ে এসেছে, তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দেবী চণ্ডী তাঁর কৃপাধন্য ব্যাধ কালকেতুর তৈরি গুজরাট নগরে বসতি প্রতিষ্ঠার জন্য কলিঙ্গদেশে প্লাবন ঘটান। কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমে ওঠে, ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। উত্তর পবনে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিনরাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে নিস্তার পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান মঠ অট্টালিকা ভেঙে খান খান করে দেন। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় অবশেষে কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।
কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি: প্রাকৃতিক বিপর্যয়
কবি পরিচিতি: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ধারায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তী (আনুমানিক ১৫৪০-১৬০০ খ্রিস্টাব্দ) নিঃসংশয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর সৃজনশীলতা, মৌলিকতা ও অভিনবত্বের জন্য তিনি মঙ্গলকাব্যের প্রচলিত কাহিনীর বাইরে এসে রচনায় অসাধারণত্ব দান করেছেন। ভাষা, ছন্দ, অলংকার প্রয়োগ এবং চরিত্র সৃষ্টিতে তাঁর পরিবেশনা অভিনবত্বের দাবি রাখে। কবির আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় তার পূর্বপুরুষরা বর্ধমানের রত্না নদীর তীরে দামিন্যা গ্রামে বাস করতেন। তার পিতার নাম হৃদয় মিশ্র এবং মাতার নাম দৈবকি। মোঘল-পাঠানের সংঘর্ষে উদ্ভুত রাজনৈতিক বিপর্যয় ও ডিহিদার মামুদ শরীফের অত্যাচারে সাত পুরুষের ভিটা মাটি ছেড়ে সপরিবারে দেশান্তরী হতে বাধ্য হন কবি। পথশ্রমে ক্লান্ত কবি তাঁর শিশুদের অন্নের জন্য কান্না শুনতে শুনতে নিদ্রা যান এবং সেই সময়ই দেবী চণ্ডী নিজের মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে স্বপ্নাদেশ দেন। পরবর্তীকালে এই স্বপ্নাদেশে এবং রঘুনাথ রায়ের রাজত্বের সময় তার পৃষ্ঠপোষকতায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এই কাব্যটি অভয়ামঙ্গল, অম্বিকামঙ্গল নামেও পরিচিত।
১. কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি (কবিতা) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:
MCQ
- ১.১ মেঘ কোথায় উচ্চনাদে ডাকে?
উত্তর: গগন মন্ডলে।
- ১.২ কোন মাসে তাল পড়ে?
উত্তর: ভাদ্র মাসে।
- ১.৩ কি উলটিয়ে পড়ে?
উত্তর: শস্য।
- ১.৪ মঠ অট্টালিকা খানখান করে কে ভেঙে দিল?
উত্তর: হনুমান।
- ১.৫ কেন অন্ধকার হয়েছে?
উত্তর: মেঘে ঢেকে গেছে বলে।
- ১.৬ কলিঙ্গদেশে কতদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: সাত দিন।
- ১.৭ চণ্ডীর আদেশ কে পেয়েছিল?
উত্তর: বীর হনুমান।
- ১.৮ ‘সঘনে চিকুর পরে’- “চিকুর” শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: বিদ্যুৎ।
- ১.৯ ‘ঈশানে উড়িলো মেঘ সঘনে’-
উত্তর: চিকুর।
- ১.১০ চাল বিদরিয়া কি পরছে?
উত্তর: শিলা।
- ১.১১ অম্বিকা মঙ্গল গান কে গেয়েছেন?
উত্তর: শ্রীকবিকঙ্কণ।
- ১.১২ চারি মেঘে বরিষে মুষলধারে জল। – এখানে যে ভাবনাটি প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-
উত্তর: চার রকমের মেঘ মুষলধারে জল বর্ষণ করছে।
- ১.১৩ “না পাই দেখিতে কেহ রবির কিরণ।” এখানে যে ভাবনাটি প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-
উত্তর: ঘন মেঘ আকাশ ঢেকে যাওয়ায় সূর্যের আলো কেউ দেখতে পায়না।
- ১.১৪ “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার” – এখানে যে ভাবনাটি প্রকাশ পেয়েছে, তা হল-
উত্তর: মেঘ করার জন্য চারিদিক অন্ধকার হওয়ায় কেউ কারোর অঙ্গ দেখতে পায়না।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ২.১ ‘সোঙ্গরে’ শব্দের অর্থ হল?
উত্তর: স্মরণ করে।
- ২.২ “গর্ত ছাড়ি ভুজঙ্গ ভাসিয়া বুলে জলে”- ‘বুলে’ শব্দটির অর্থ হল?
উত্তর: ঘুরে বেরায়।
- ২.৩ কবিতায় যে মাসে তাল পড়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ভাদ্র।
- ২.৪ বীর হনুমান কার আদেশ পান?
উত্তর: দেবী চন্ডীর।
- ২.৫ কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার উৎস?
উত্তর: চন্ডীমঙ্গল।
- ২.৬ কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার কবি হলেন?
উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
- ২.৭ ঝড়-বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে।
- ২.৮ চারিদিক অন্ধকারে দেখতে না পাওয়ার কারণ হল?
উত্তর: সূর্য মেঘে ঢাকা পড়েছিল।
- ২.৯ ‘চিকুর’ বলতে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিদ্যুৎ।
- ২.১০ ‘রড়’ কথার অর্থ হল?
উত্তর: দৌড় বা ছুট।
- ২.১১ শ্রীকবিকঙ্কণ কোন গান গেয়েছেন?
উত্তর: শ্রীকবিকঙ্কণ অম্বিকা মঙ্গল গান গেয়েছেন।
- ২.১২ ‘প্রজা দিল রড়’-‘রড়’ শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: দৌড়ানো বা ছুটে যাওয়া।
- ২.১৩ কোথায় অন্ধকার হয়ে এলো?
উত্তর: কলিঙ্গের আকাশ অন্ধকার হয়ে এলো।
- ২.১৪ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি’ কার লেখা?
উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা।
- ২.১৫ মুষলধারে কে বর্ষণ করছে?
উত্তর: মুষলধারে চারিমেঘ জল বর্ষণ করছে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ৩.১ শিলাবৃষ্টি প্রজাদের কী ক্ষতি করেছিল?
উত্তর: শিলাবৃষ্টির ফলে প্রজাদের ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে শিল এসে পড়ে।
- ৩.২ বন্যার জলের ঢেউ কীরূপ লাভ করেছিল?
উত্তর: বন্যার জলের ঢেউ পর্বতের সমান উচ্চতা লাভ করেছিল।
- ৩.৩ মঙ্গলকাব্যে যে ভণিতার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা কী?
উত্তর: মধ্যযুগীয় কবিরা তাদের পরিচিতি প্রদানের উদ্দেশ্যে পদের শেষে নিজেদের নাম ও পরিচয় উল্লেখ করতেন, একেই ভণিতা বলা হয়।
- ৩.৪ ‘উলটিয়া পড়ে শস্য’-শস্য উলটিয়ে কেন পরে?
উত্তর: প্রবল বর্ষণে এবং প্রবল বায়ু প্রবাহের ফলে খেতের ফসল নুয়ে পড়ে অর্থাৎ উল্টে পড়ে।
- ৩.৫ কবি বেঙ্গ তড়কা বাজ পড়ার কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে সাতদিন ধরে টানা বর্ষণ হয়। তখন বারবার বাজ পড়তে থাকে। তাই কবি একে বেঙ্গল তড়কা বাজ বলেছেন।
- ৩.৬ জৈমিনি কে কারা স্মরণ করে?
উত্তর: জৈমিনি কে কলিঙ্গের সকল লোক স্মরণ করে।
- ৩.৭ ‘দেখিতে না পায় কেহ’-কেন দেখতে পাই না?
উত্তর: আকাশ মেঘে ঢেকে যাওয়ায় চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে, তাই কেউ নিজের অঙ্গ দেখতে পায়না।
- ৩.৮ ‘চারিমেঘ’বলতে কোন মেঘকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ’চারিমেঘ’বলতে সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ-চার প্রকারের মেঘকে বোঝানো হয়েছে।
- ৩.৯ আকাশের কোন কোণে প্রথমে মেঘ জমেছিল?
উত্তর: আকাশের ঈশাণ কোণে অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব কোণে প্রথমে মেঘ জমেছিল।
- ৩.১০ ‘বেঙ্গ তরকা বাজ’কি?
উত্তর: ব্যাঙের মতন তড়কা করে লাফিয়ে লাফিয়ে যে বাজ পড়ে তাকে বেঙ্গল তড়কা বাজ বলে।
- ৩.১১ ‘উঠে-পড়ে ঘরগুলো করে দলমল’-ঘরগুলো দলমল করার কারণ কি?
উত্তর: সাত দিনের বর্ষণে কলিঙ্গ শহরে প্রবল বন্যা হয়। পর্বত সমান ঢেউ হয়ে বন্যার জল আসে পড়ে ঘরগুলোতে। তাই সেখানকার ঘরগুলো দলমল করছিল।
- ৩.১২ জৈমিনি কে কখন তারা স্মরণ করে?
উত্তর: কলিঙ্গ দেশে যখন প্রবল ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় তখন বারবার বাজ পড়তে থাকে। সেই সময় ভীত প্রজারা জৈমিনি কে স্মরণ করে।
- ৩.১৩ ‘না পারে দেখিতে কেহ রবির কিরণ’-রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কি?
উত্তর: কলিঙ্গ দেশে সাতদিন ধরে প্রবল ঝড় বৃষ্টি হয়, কালো মেঘে সমস্ত আকাশ ঢেকে থাকে। তাই কলিঙ্গ বাসি রবির কিরণ দেখতে পারেনি।
- ৩.১৪ কলিঙ্গদেশে কখন অন্ধকার নেমে আসে?
উত্তর: যখন কলিঙ্গের সমগ্র আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়, তখন কলিঙ্গে অন্ধকার নেমে আসে।
- ৩.১৫ ‘চারি মেঘ’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ হলো চার প্রকার মেঘ।
- ৩.১৬ ‘রড়’ কী ধরণের শব্দ?
উত্তর: ‘রড়’ শব্দটি একটি প্রচলিত লৌকিক শব্দ, যার অর্থ দৌড়ে পালানো।
- ৩.১৭ ঝড়ে শস্যক্ষেত্রের কী দশা হয়?
উত্তর: ঝড়ে শস্যের গাছগুলি সব উলটে পড়ে।
- ৩.১৮ মেঘের গর্জনের ফলে প্রজাদের কী অবস্থা হয়?
উত্তর: মেঘের গর্জনের ফলে প্রজারা কেউ কারো কোনো কথা শুনতে পারছিলো না।
- ৩.১৯ কলিঙ্গে নিরবধি কতদিন ধরে বৃষ্টিপাত হয়েছিল?
উত্তর: কলিঙ্গে একটানা সাত দিন বৃষ্টি হয়েছিল।
- ৩.২০ চণ্ডীর আদেশে হনুমান কি করছিল?
উত্তর: চণ্ডীর আদেশে হনুমান মঠ অট্টালিকা ভেঙ্গে খানখান করছিল।
- ৩.২১ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি কার লেখা, কোন্ কাব্যের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি মধ্যযুগের কবি মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত ‘অম্বিকামঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্গত।
- ৩.২২ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি অন্য কী কী নামে পরিচিত?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি ‘অভয়ামঙ্গল’,’চন্ডিকামঙ্গল’, ‘কবিকঙ্কণ চণ্ডী’,’অম্বিকাঙাল’ প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
- ৩.২৩ মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমণ্ডল কাব্যটির ক-টি খণ্ড ও কী কী?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটির দুটি খণ্ড, যথা— আখেটিক খণ্ড এবং বণিক খন্ড।
- ৩.২৪ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ চণ্ডীমণ্ডল কাব্যের কোন্ খণ্ডের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খন্ডের অন্তর্গত।
- ৩.২৫ জলধারার বর্ষণকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: জলধারার প্রবল বর্ষণকে করি-কর অর্থাৎ হাতির শুঁড় দিয়ে জল ঢালার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- ৩.২৬ “কারো কথা শুনিতে না পায় কোনো জন।”—কারও কথা শুনতে না পাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিপাতের সঙ্গে বারবার মেঘের প্রবল গর্জনে কলিঙ্গবাসী কেউ কারও কথা শুনতে পাচ্ছিল না।
- ৩.২৭ মেঘ ঝড়বৃষ্টির থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী কার কথা স্মরণ করেছেন? অথবা, কলিঙ্গবাসী জৈমিনিকে স্মরণ করে কেন?
উত্তর: মেঘ ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কলিঙ্গবাসী ঋষি জৈমিনির কথা স্মরণ করেছেন।
- ৩.২৮ “না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।” রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: ভয়ংকর কালো মেঘে চারদিক ঢেকে গিয়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কেউ সূর্যরশ্মি দেখতে পাচ্ছিল না।
- ৩.২৯ গর্ত ছেড়ে কারা জলে ভেসে বেড়াচ্ছে?
উত্তর: প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় গর্ত ছেড়ে সাপ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে।
- ৩.৩০ সাত দিনের বৃষ্টিতে কৃষিকাজ ও ঘরবাড়ির কী ক্ষতি হল?
উত্তর: সাত দিনের বৃষ্টিতে শস্যখেত জলে ডুবে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেল এবং প্রবল শিলাবৃষ্টিতে বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেল।
- ৩.৩১ “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল”—কবি কোন বিষয়ের সঙ্গে এমন তুলনা করেছেন?
উত্তর: প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে ঘরের চাল ভেদ করে যে শিল মেঝেতে এসে পড়ে তার সঙ্গে ভাদ্র মাসের পাকা তালের তুলনা করা হয়েছে।
- ৩.৩২ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি’ কাব্যাংশে শিল পড়াকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বড়ো আকারের শিল পড়াকে ভাদ্র মাসে তাল পড়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- ৩.৩৩ “চণ্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।”—আদেশ পেয়ে হনুমান কী করেছিল?
উত্তর: দেবী চণ্ডীর আদেশ পেয়ে বীর হনুমান মঠ, অট্টালিকা ভেঙে খানখান করেছিল।
- ৩.৩৪ “উঠে পড়ে ঘরগুলা করে দলমল”—এর কারণ কী?
উত্তর: পর্বতের সমান নদীর ঢেউয়ের দাপটে কলিঙ্গদেশের বাড়িঘর জলে ভাসতে ভাসতে টলমল করছিল।
- ৩.৩৫ “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার” — কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছে না কেন?
উত্তর: চারদিকের আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হওয়ায় সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে গেছে, ফলে কলিঙ্গবাসী নিজেদের অঙ্গ দেখতে পাচ্ছেনা।
- ৩.৩৬ উচ্চনাদে কলিঙ্গ কীসের ডাক শোনা গিয়েছে?
উত্তর: ঘন মেঘে ঢাকা কলিঙ্গের আকাশে জোরে জোরে মেঘের ডাক শোনা গিয়েছে।
- ৩.৩৭ “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।”–মন্তব্যটির অর্থ লেখো। অথবা, কলিঙ্গের প্রজাদের মন বিষাদগ্রস্ত কেন?
উত্তর: চারদিক মেঘে ঢাকা অবস্থায় মুশলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঘনঘন মেঘের ডাকে প্রজারা ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কায় বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
- ৩.৩৮ “হড় হড় দুড় দুড় বহে ঘন ঝড়।”~-উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: উদ্ধৃতাংশটিতে কলিঙ্গদেশে মেঘের প্রবল গর্জন এবং মুশলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছিল তার ভয়ানক রূপ প্রকাশ পাচ্ছে।
- ৩.৩৯ “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়” –কোন্ বিপাকে পড়ে প্রজারা পালিয়েছিল?
উত্তর: মুশলধারায় বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ভয়ংকর ঝড়ের তাণ্ডবে আসন্ন বিপদকেথা ভেবে প্রজারা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল।
- ৩.৪০ শ্রীকবিকঙ্কণ কার উপাধি?
উত্তর: শ্রীকবিকঙ্কণ কবি মুকুন্দ চক্রবর্তীর উপাধি।
- ৩.৪১ “ধূলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত”—লাইনটির অর্থ লেখো।
উত্তর: উদ্ধৃত পঙক্তিটির অর্থ হল সবুজ শস্যখেত ধুলােয় ঢেকে গেল।
- ৩.৪২ প্রজা চমকিত হল কেন?
উত্তর: বিধ্বংসী ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে সমগ্র কলিঙ্গদেশ ধুলােয় ঢেকে যায় এবং প্রবল দুর্যোগে শস্যখেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রজারা চমকিত হয়।
- ৩.৪৩ “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ ‘চারি মেঘ’-এর নাম লেখো।
উত্তর: ‘চারি মেঘ’ হল সম্বৰ্ত, অাবর্ত, পুষ্কর এবং দ্ৰোণ।
- ৩.৪৪ চারদিকে মেঘে জল দেয় কারা?
উত্তর: কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সময় চারদিকে মেঘে জল দিয়েছিল ‘অষ্ট গজরাজ’ বা আটটি শ্রেষ্ঠ হাতি।
ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
- ৪.১ “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর নির্দেশে কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। প্রবল মেঘগর্জনে প্রজারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে তারা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সবুজ শস্যের খেত ধুলোয় ঢেকে যায়। বৃষ্টি এতটাই তীব্র হয় যে কবি মনে করেন, আটটি দিকের পাহারাদার আটটি হাতি—ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম এবং সুপ্রতীক যেন তাদের শুঁড়ের সাহায্যে চারমেঘে জল দিচ্ছে। আর তার ফলেই প্রবল বৃষ্টিপাতে চারপাশ জলে ডুবে গেছে।
- ৪.২ “কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।” – জৈমিনি কে? কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ কী?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশে উল্লিখিত জৈমিনি হলেন এক বাক্সিদ্ধ ঋষি। এনার নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত বন্ধ হয়ে যায় এই বিশ্বাসে বজ্রপাতের সময় মানুষ এঁর নামকীর্তন করে। কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ ঘন কালো মেঘ জমে ওঠে। আকাশভাঙা মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে মুষলধারায়। মেঘের গম্ভীর গর্জন, ঘনঘন বজ্রপাত, ঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে ভীত কলিঙ্গাবাসী এই ভীষণ বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায় ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।
- ৪.৩ “না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।” – কারা, কেন রবির কিরণ দেখতে পায়নি?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশটিতে ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলিঙ্গবাসীর কথা বলা হয়েছে। কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎই প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে, মেঘের ঘনঘটার মাঝে বিদ্যুতের ঝলকে সমগ্র কলিঙ্গদেশ কেঁপে ওঠে। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। কালো মেঘে চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় দিনরাত্রির পার্থক্যও বোঝা সম্ভব হয় না কলিঙ্গাবাসীর। সাত দিন একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তারা সূর্যের আলো দেখতে পায় না।
- ৪.৪ “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।” – কারোর অঙ্গ দেখতে না পাওয়ার কারণ কী?
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। হঠাৎই কলিঙ্গদেশে ভয়ংকর প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দেয়। আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। কালো মেঘের বুক চিরে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, তা ভেদ করে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না।
- ৪.৫ “ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর।” – উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় শুরু হয়। তৈরি হয় বন্যার আশঙ্কা প্রবল। ঝড়বৃষ্টি কলিঙ্গদেশে সর্বনাশ ডেকে আনে। উদ্ধৃতাংশটিতে সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। কলিঙ্গদেশে আকাশের উত্তর-পূর্ব অর্থাৎ ঈশান কোণে মেঘের ঘনঘটায় চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। প্রজারা সেই অন্ধকারে নিজেদেরকেও দেখতে পাচ্ছে না। মেঘের বুক চিরে অবিরাম বিদ্যুতের ঝিলিক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
- ৪.৬ “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রজাদের বিষাদের কারণ আলোচনা করো।
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিটিতে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে। কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। ঈশান কোণে জমাটবাঁধা মেঘ সারা আকাশ ঢেকে ফেললে সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে। উত্তরের প্রবল বাতাসে দূর থেকে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে। মেঘের প্রবল গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুৎচমকের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় প্রজারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
- ৪.৭ “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।” – ‘রড়’ শব্দের অর্থ কী? কোথাকার প্রজারা কী কারণে বিপাকে পড়েছিল?
উত্তর: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত ‘রড়’ শব্দের অর্থ ‘পালিয়ে যাওয়া। দেবী চণ্ডীর ইচ্ছা অনুযায়ী কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টি বিপর্যয় ডেকে আনে। আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়। ঘন অন্ধকারে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের তাণ্ডবে সেখানকার প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
- ৪.৮ “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।” – ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দের অর্থ কী? কবি এরকম বলেছেন কেন?
উত্তর: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় পাওয়া ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দটির অর্থ হল ‘বিভেদ’ বা পার্থক্য’। দেবীচণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। বিদ্যুৎ চমক আর মেঘগর্জনের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রজারা ভয় পেয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সবুজ শস্যের খেত ধুলোয় ঢেকে যায়। প্রবল বৃষ্টিতে জলে ডুবে যায় চারপাশ। জল-স্থল একাকার হয়ে পথ হারিয়ে যায়। মেঘের গর্জনে কেউ কারোর কথা শুনতে পায় না। অন্ধকার এতটাই নিবিড় হয়ে যায় যে দিন এবং রাত্রিকেও কেউ আলাদা করতে পারে না।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
- ৫.১ কলিঙ্গদেশে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছিল তা কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তর: উৎস: কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত “চন্ডীমঙ্গল” কাব্যের “আখেটিক খন্ড”-এর অন্তর্গত “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি আরম্ভ” অংশটি আমাদের পাঠ্য “কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি” নামে গৃহীত হয়েছে।
কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিচয়: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় ব্যাধ কালকেতু সাত ঘড়া ধন লাভ করে গুজরাট নগরী নির্মাণ করলে সেখানে প্রজা স্থাপনের উদ্দেশ্যে দেবী চণ্ডী পার্শ্ববর্তী কলিঙ্গদেশে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি করেন। আমাদের পাঠ্য কবিতায় আমরা যার পরিচয় লাভ করি। সমগ্র কলিঙ্গদেশের আকাশ এমনভাবে ঘন কালো মেঘ দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে যায় যে কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখতে পায় না। উত্তর-পূর্ব কোণ জুড়ে কালো মেঘ বিদ্যুতের ভয়াবহ চমক সৃষ্টি করে— "ঈশানে উড়িল মেঘ সঘনে চিকুর"। উত্তর দিক থেকে প্রবল বাতাস বইতে থাকে ও মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র কলিঙ্গদেশের আকাশে বিস্তৃত কালো মেঘে ঢেকে যায়। সম্বর্ত, আবর্ত, পুষ্কর ও দ্রোণ—এই চার প্রকার মেঘের সম্মিলিত বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে যায়— "চারি মেঘে বরিষে মুষুলধারে জল"। মেঘের উচ্চনাদে কলিঙ্গের প্রজারা মহাপ্রলয়ের আশঙ্কায় আশঙ্কিত হয়ে ওঠে। ঝড়ের তাণ্ডবে প্রজারা নিজেদের গৃহ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। প্রচন্ড ঝড়ে পথের ধুলো দ্বারা সকল সবুজ আচ্ছাদিত হয়ে যায়। এমনকি ঝড়ের আঘাতে প্রজাদের মজুদ করা শস্য উলটে পড়ে যায়। চার প্রকার মেঘ যেন ঐরাবত, পুন্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম ও সুপ্রতীক নামক অষ্ট গজরাজের সহায়তায় কলিঙ্গের বুকে বৃষ্টিপাতে ব্রতী হয়— "চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ"। ব্যাঙের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বাজ পড়তে থাকে। কলিঙ্গদেশের জল-স্থল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় বলে প্রজারা পথ হারিয়ে ফেলে ও গর্ত থেকে সাপ বেরিয়ে পড়ে জলে ভেসে বেড়াতে থাকে। প্রচন্ড মেঘের গর্জনে কলিঙ্গবাসী নিজেদের কথা পর্যন্ত শুনতে পারছিল না। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিন ও রাতের প্রভেদ পর্যন্ত অবলুপ্ত হয়ে যায়— "পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী"। ভীত কলিঙ্গবাসী পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে জৈমিনি মুনিকে স্মরণ করতে থাকে। নিরন্তর সাত দিন বৃষ্টিতে ফসল সঠিক ভাবে ঝাড়াই-মাড়াই না হওয়ায় তা পচে যেতে থাকে। প্রজাদের ঘরের চাল ভেদ করে ভাদ্রমাসে তাল পড়ার মতো শিল পড়তে থাকে— "মেঝ্যাতে পড়য়ে শিল বিদারিয়া চাল ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।" ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে দেবী চণ্ডীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গের সমস্ত মঠ ও অট্টালিকা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে থাকেন। দেবী চণ্ডীর আদেশে নদনদীরা কলিঙ্গের উদ্দেশ্যে ধাবিত হলে পর্বতসম ঢেউ কলিঙ্গদেশে আছড়ে পড়ে। এইরূপে কলিঙ্গদেশে যে প্রাকৃতিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছিল তা কলিঙ্গবাসীকে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছিল।
- ৫.২ “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।” – কী দেখে প্রজাদের প্রলয় মনে হয়েছিল? এই প্রলয়ের ফলে কী হয়েছিল?
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ নামক কাব্যাংশে কলিঙ্গদেশের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। উত্তর-পূর্ব কোণে মেঘের সঙ্গে দেখা দেয় বিদ্যুৎচমক। চারদিকে মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। এইসব দেখেই প্রজাদের মনে প্রলয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বৃষ্টিতে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিনরাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে একটানা বৃষ্টির ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদ-নদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় অবশেষে কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।
- ৫.৩ ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল তা কীভাবে কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চণ্ডী তার কৃপাধন্য ব্যাধ কালকেতুর তৈরি গুজরাট নগরে বসতি প্রতিষ্ঠার জন্য কলিঙ্গদেশে প্লাবন ঘটান। কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারায় বৃষ্টি। বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে শস্যখেত এবং সবুজ গাছপালা নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিনরাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে নিস্তার পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায়, ভীত প্রজারা বিপদের আশঙ্কায়। শেষপর্যন্ত কলিঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়।
অন্যান্য বাংলা অধ্যায় (নবম শ্রেণী)
বাংলা Resources
Complete Bengali Solutions কিনুন
অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান