চন্দ্রনাথ - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
নবম শ্রেণীর বাংলা গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান
চন্দ্রনাথ: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিশদ আলোচনা
লেখক পরিচিতি: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ভূমিকা: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক ও গল্পলেখক। তাঁর রচনায় বীরভূমের মাটি ও মানুষের জীবন, আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, গ্রামজীবনের ভাঙন এবং নাগরিক জীবনের বিকাশ সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
জন্ম ও শৈশব: বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের জমিদার বংশে ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুলাই তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মায়ের নাম প্রভাবতী দেবী। তারা মায়ের কৃপায় সন্তান লাভ করেন বলে বাবা-মা পুত্রের নাম রাখেন তারাশঙ্কর।
ছাত্রজীবন: লাভপুরের যাদবলাল হাই স্কুল থেকে তিনি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তারপর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে আই.এ-তে ভরতি হন। এইসময় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি গ্রামে ফিরে যান। পরে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে সাউথ সুবার্বন কলেজে ভরতি হন তিনি। কিন্তু খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে সেখানেও তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।
ব্যক্তিজীবন: তারাশঙ্করের বিবাহ হয় লাভপুরের ধনী জমিদার যাদবলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতনি উমাশশীর সঙ্গে। সমকালীন রাজনীতি ও বিপ্লবী দলের সঙ্গে তারাশঙ্করের যোগাযোগ থাকায় তাঁর ওপর পুলিশের নজরও ছিল। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্ত্রী ও পুত্রকন্যা-সহ কলকাতায় চলে আসেন এবং সাহিত্যকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নেন।
সাহিত্যজীবন: তারাশঙ্করের প্রথম গল্প 'রসকলি' কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কল্লোল, কালিকলম, উত্তরা, উপাসনা, বঙ্গশ্রী, প্রবাসী প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর ছোটোগল্প প্রকাশিত হত। বেশ কিছু কালজয়ী উপন্যাস ও অসংখ্য ছোটোগল্প তিনি আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছোটোগল্প হল- রসকলি, ডাইনি, তারিণী মাঝি, জলসাঘর, অগ্রদানী, ডাকহরকরা, বেদেনী প্রভৃতি এবং কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হল- চৈতালী ঘূর্ণি, রাইকমল, ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী, কবি, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম, মন্বন্তর, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, সন্দীপন পাঠশালা, সপ্তপদী, নাগিণী কন্যার কাহিনী, আরোগ্য নিকেতন, নিশিপদ্ম, কীর্তিহাটের কড়চা, গন্না বেগম প্রভৃতি।
সম্মান ও স্বীকৃতি: হাঁসুলী বাঁকের উপকথা উপন্যাসের জন্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 'শরৎ স্মৃতি পুরস্কার' লাভ করেন। আরোগ্য নিকেতন উপন্যাসের জন্য 'রবীন্দ্র পুরস্কার' এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এ ছাড়াও তিনি 'গণদেবতা' উপন্যাসের জন্য 'জ্ঞানপীঠ' পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তিনি 'পদ্মশ্রী' এবং ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে 'পদ্মভূষণ' সম্মানে ভূষিত হন।
জীবনাবসান: ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর এই মহান সাহিত্যিকের জীবনাবসান হয়।
উৎস
কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পটি ‘আগুন’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়সংক্ষেপ
গল্পকথক নরেশ ওরফে নরু। গল্পে কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রনাথের স্কুলের সহপাঠী। স্কুলজীবন শেষ হওয়ার বহু বছর পরে একদিন সারকুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে কথকের মনে ভেসে ওঠে চন্দ্রনাথের কথা। কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো বিশাল আকৃতি নিয়ে দৃপ্তভঙ্গিতে সে যেন জীবনের পথে হেঁটে চলেছে। কথকের স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে ছোট্ট একটি গ্রামে কাটানো তাঁদের জীবনের পুরোনো অধ্যায়ের কথা। সুস্থদেহ নির্ভীক কিশোর চন্দ্রনাথের ছবি ফুটে ওঠে তাঁর মনে। উত্তেজনায় তার মধ্য-কপালের শিরা ফুলে ত্রিশূল চিহ্নের আকার ধারণ করত। এই চন্দ্রনাথ তার স্কুলকে এক প্রচণ্ড আঘাত দিয়েছে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করার চিঠি দিয়ে। কোনোদিনও সেকেন্ড না হওয়া চন্দ্রনাথ তার দ্বিতীয় হওয়াকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তার মনে ধারণা হয় প্রথম স্থানাধিকারী হীরুর কাকা স্কুলের সেক্রেটারি বলেই সে প্রথম হয়েছে। তাই সে ঘরে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় স্কুলের ফল নিজে তৈরি করে এবং তার স্কুলের ফলাফলও তৈরি করে।
চন্দ্রনাথের দাদা পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের চিঠি প্রত্যাহারের জন্য এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য তাকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু চন্দ্রনাথ তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু তাতেও চন্দ্রনাথের কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সে হীরুর কাকার স্পেশাল প্রাইজের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয় বিষয়টা তার পক্ষে অপমানজনক বলে। এমনকি স্কুলের সঙ্গে সম্পর্কও সে ঘুচিয়ে দেয়। হেডমাস্টারমশাইকেও সে উত্তর করে আসে যে, গুরুদক্ষিণার যুগ আর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফল বেরোলে দেখা যায় চন্দ্রনাথ পাঁচশো পঁচিশের কম পেয়েছে এবং তার হিসাবমতোই দশটি ছেলে ফেল করেছে আর কথকও তৃতীয় বিভাগে পাস করেছেন। শুধু হীরু অপ্রত্যাশিতভাবে চন্দ্রনাথকে পিছনে ফেলে স্কলারশিপ পেয়েছে। হীরুর বাড়িতে প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান হয়। এই উপলক্ষ্যে চিনা লণ্ঠন ও রঙিন কাগজের মালায় তাদের আমের বাগান সাজানো হয়। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিও সেখানে নিমন্ত্রিত হন। কিন্তু নিমন্ত্রণ পেলেও চন্দ্রনাথ সেখানে যায় না। বরং চিঠি লিখে বলে দেয় যে, স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য এমন উৎসব হীরু না করলেই পারত, কারণ স্কলারশিপ পাওয়া এত বড়ো কিছুও নয়। চিঠিটি হীরু স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নিজের কাছে রেখে দেয়। নিরুদ্দেশে চলে যায় চন্দ্রনাথ। কথক কল্পনা করেন পথ-প্রান্তরকে পিছনে ফেলে লাঠির প্রান্তে পোঁটলা বেঁধে জনহীন পথে একলা চলেছে চন্দ্রনাথ। তার মাথার ওপরে নীল আকাশে ছায়াপথ এবং পাশে কালপুরুষ নক্ষত্র চলেছে।
নামকরণ
‘চন্দ্রনাথ’ গল্পটির চরিত্রপ্রধান নামকরণের উদাহরণ। প্রায় সমবয়সি তিনটি চরিত্রের যে কাহিনি এখানে বর্ণনা করা হয়েছে সেখানে চন্দ্রনাথকেই পাওয়া যায় মুখ্য ভূমিকায়। তার শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার, যশ-আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদিই কাহিনিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। স্কুলের পরীক্ষায় জীবনে প্রথমবার দ্বিতীয় হওয়ার কারণে সেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে স্কুলে চিঠি দেওয়া, প্রত্যাখ্যানের চিঠি ফিরিয়ে নেওয়া ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে দাদার নির্দেশকেও অমান্য করা, এমনকি এর জন্য দাদার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া- কাহিনির উল্লেখযোগ্য প্রতিটি ঘটনার কেন্দ্রেই চন্দ্রনাথ রয়েছে। এমনকি হীরুর স্কলারশিপ পাওয়া বা তার জন্য উৎসবের যে প্রসঙ্গ গল্পে এসেছে তারও প্রেক্ষাপটে থেকেছে হীরুর কাছে আরও একবার চন্দ্রনাথের পরাজয়। আর এর প্রতিক্রিয়াতেই নিমন্ত্রণ সত্ত্বেও চন্দ্রনাথ হীরুর বাড়িতে যায়নি বরং তার মতে, স্কলারশিপের জন্য উৎসব যে বেমানান তা সে চিঠি লিখে হীরুকে জানিয়েও গিয়েছে। নিজের অহংকার, মর্যাদাবোধ আর প্রতিভা নিয়ে চন্দ্রনাথ যেভাবে কাহিনির কেন্দ্রে নিজেকে স্থাপন করেছে তা বিচার করলে গল্পের নামকরণ ‘চন্দ্রনাথ’ যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।
চন্দ্রনাথ: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
১. চন্দ্রনাথ (গল্প) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:
MCQ
- ১.১ ‘সে তো আলোকিত প্রত্যক্ষের মধ্যে ফেরে না’ — প্রত্যক্ষে ফেরে না —
উত্তর: আলোকিত দিবস।
- ১.২ ‘চন্দ্রনাথ অসংকোচে বলিল’ — আমি —
উত্তর: সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করেছি।
- ১.৩ ‘চন্দ্রনাথের দাদার মুখ দিয়া কথা সরিতেছিল না’ — কারণ
উত্তর: তিনি নীল নির্বিরোধী শান্ত প্রকৃতির মানুষ।
- ১.৪ ‘ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বর একবার কাঁপিতে ছিল’ — ভদ্রলোকটি হলো
উত্তর: নিশানাথ বাবু।
- ১.৫ ‘আজ থেকে তোমার সঙ্গে আমার আর কোনো সংস্রব রইল না।’ — এ কথা বলেছিল
উত্তর: নিশানাথ বাবু।
- ১.৬ ‘আজ থেকে আমরা পৃথক’ — এ কথা বলেছিল
উত্তর: নিশানাথ বাবু।
- ১.৭ ‘হিরুর বাড়িতে প্রতি ভোজনের নিমন্ত্রণ পাইলাম’ — প্রতিভোজের নিমন্ত্রণ
উত্তর: হিরু স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য।
- ১.৮ ‘হীরুই সেবার ফার্স্ট হইয়াছিল’ — হিরু হলো —
উত্তর: স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো।
- ১.৯ ‘বিলেতে যেতে হবে আমাকে’ — বিলেতে যেতে হবে —
উত্তর: হিরুকে।
- ১.১০ চন্দ্রনাথ তার চিঠির সম্বোধনে যে শব্দটা কেটে দিয়েছিল-
উত্তর: প্রিয়বরেষু।
- ১.১১ চন্দ্রনাথ হীরুর সফলতায় যা প্রকাশ করেছিল-
উত্তর: আনন্দ প্রকাশ করেছিল।
- ১.১২ “এইটেই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন।” – কথাটি বলেছে-
উত্তর: হীরু।
- ১.১৩ কথকের কল্পনায় জনহীন পথে একলা হেঁটে চলা চন্দ্রনাথের কাঁধে ছিল-
উত্তর: পোঁটলা বাঁধা লাঠি।
- ১.১৪ “… চন্দ্রনাথ বলিল, বেশ।” – চন্দ্রনাথ যে কথা মেনে নিয়েছে, তা হল-
উত্তর: দাদার থেকে সে পৃথক হয়ে যাবে।
- ১.১৫ “… আমার অন্যায় হলো।” – বক্তার যে কাজকে অন্যায় বলে মনে হয়েছে, তা হল-
উত্তর: নিশানাথবাবুকে বিদ্যালয়ের ঘটনাটি জানানো।
- ১.১৬ “দিস ইজ ম্যাথম্যাটিকস।” – বক্তা ‘ম্যাথম্যাটিকস’ বলেছে-
উত্তর: অনুপাতের গাণিতিক নিয়মকে।
- ১.১৭ প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশনের সময় চন্দ্রনাথ-
উত্তর: প্রাইজ প্রত্যাখান করে চিঠি দিয়েছে।
- ১.১৮ “…পড়ব আমি।” – বক্তা ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন-
উত্তর: পত্রিকায় প্রকাশিত নরেশের লেখা পড়ার।
- ১.১৯ ‘চন্দ্রনাথের কথাই ভাবিতে ভাবিতে বাড়ি ফিরলাম’ — বাড়ি ফিরছিলেন
উত্তর: নরেশ সার্কুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে।
- ১.২০ ‘দিস ইজ ম্যাথম্যাটিকস’ — ম্যাথম্যাটিকসটা হল —
উত্তর: অনুপাতের আঙ্কিক নিয়ম।
- ১.২১ ‘চন্দ্রনাথ, হিরু, আমি সহপাঠী’ — আমি হলো —
উত্তর: নরেশ এই গল্পের কথক।
- ১.২২ ‘এ কামনা ও বোধহয় করিয়াছিলাম’ — নরেশ কামনা করেছিল —
উত্তর: দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়।
- ১.২৩ চন্দ্রনাথের দাদার নাম ছিল-
উত্তর: কাশীনাথবাবু।
- ১.২৪ চন্দ্রনাথ পাঁচশো- পঁচিশের নিচে পেলে তবে স্কুলের ফেলের সংখ্যা দাঁড়াবে-
উত্তর: দশ।
- ১.২৫ “এই দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়”- দাম্ভিকটা কে?
উত্তর: চন্দ্রনাথ।
- ১.২৬ “এই প্রস্তাবই আমার পক্ষে অপমানজনক।” – প্রস্তাবটি ছিল –
উত্তর: বিশেষ পুরস্কারের।
- ১.২৭ “নির্জন বাড়িখানা খাঁ খাঁ করিতেছিল” – কার বাড়ির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বাড়ির কথা বলা হয়েছে।
- ১.২৮ হীরুর আয়ত কোমল চোখে ছিল-
উত্তর: মোহময় দৃষ্টি।
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ২.১ “চিন্তাকুল বিমর্ষ নেত্রে আমাকে বলিলেন…” — কি বলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথ কি বলে কথক নরেশকে তা জেনে নিতে বলেছেন চিন্তান্বিত হেড মাস্টার মশায়।
- ২.২ চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ স্কুলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করবে না বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- ২.৩ দ্বিতীয় হওয়ার জন্য চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কারণ, এর আগে স্কুলের পরীক্ষায় সে কখনো দ্বিতীয় হয়নি।
- ২.৪ “বোডিং এ আশিয়া মাস্টার মহাশয়কে সংবাদটা দিতে গিয়া দেখিলাম…” — কি দেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কথক বোর্ডিং এ ফিরে এসে মাস্টার মহাশয়কে চিন্তিতভাবে তখনও ফটকের সামনে বসে থাকতে দেখেছিলাম।
- ২.৫ চন্দ্রনাথ কোন ঘটনা প্রসঙ্গে ‘বিনিথ মাই ডিগনিটি’ কথাটি বলেছে?
উত্তর: চন্দ্রনাথ স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেকেন্ড প্রাইজ অর্থাৎ দ্বিতীয় পুরস্কার নেওয়ারকে ‘বিনিথ মাই ডিগনিটি’ কথাটি বলেছে।
- ২.৬ চন্দ্রনাথ পরীক্ষার সময় হিরু কে কিভাবে সাহায্য করেছিল?
উত্তর: তিনটে অংক তার খাতা থেকে টুকতে দিয়ে সাহায্য করেছিল।
- ২.৭ “… এ ভালোই হলো।” — কিসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে দাদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় চন্দ্রনাথ সম্পত্তির ভাগ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে।
- ২.৮ চন্দ্রনাথের দাদা কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথ বাবু ছিলেন নির্বিরোধী শান্ত প্রকৃতির মানুষ।
- ২.৯ চন্দ্রনাথের দাদা চন্দ্রনাথকে কি নির্দেশ দিয়েছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা তাকে হেডমাস্টার মশায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান এর চিঠি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
- ২.১০ “বোধ হয় সেদিন সে সময়ে ভাবিয়াছিলাম…” — কি ভেবেছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ তার দাদার সঙ্গে পৃথক হওয়াকে ভালো হয়েছে বলায় কথা ভেবেছিলেন তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না।
- ২.১১ চন্দ্রনাথের দাদাকে নতশিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথক কি ভেবেছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের ব্যবহারে ব্যথিত ভদ্রলোক আত্ম সংবরনের প্রবল চেষ্টা করেছেন।
- ২.১২ “… তোমার বৌদি বলতো…” —বৌদি কি বলতেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের বৌদি তার দাদা নিশানাথ বাবুকে বলতেন যে চন্দ্রনাথ অত্যান্ত স্বাধীনচেতা হয়ে উঠেছে।
- ২.১৩ হিরু চন্দ্রনাথের কাছে কি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: হিরু চন্দ্রনাথের কাছে তার কাকা তথা স্কুলের সম্পাদকের চন্দ্রনাথকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।
- ২.১৪ “… এইটেই আমার কাছে আর স্মৃতি চিহ্ন।”-স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কিসের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: হিরু তাকে উদ্দেশ্য করে চন্দ্রনাথের লেখা চিঠিটিকেই স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে মনে করেছেন।
- ২.১৫ চন্দ্রনাথ তার চিঠিতে হিরুকে কি সম্বোধন করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ তার চিঠিতে হিরুকে প্রথম ‘প্রিয়বরেষু’ লিখলেও পরে সেটি কেটে ‘প্রীতিভাজনেষু’ লিখেছিল।
- ২.১৬ “… বাড়ির পাশের আমবাগানটার সে শোভা আজও আমার মনে আছে।” — শোভা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর: চিনা লন্ঠন আর রঙিন কাগজের মালার বিন্যাসে হিরুর বাড়ির পাশে আম বাগানের শোভা তৈরি হয়েছিল।
- ২.১৭ ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের কথক নুরুর প্রতি মাস্টারমশাইয়ের পরামর্শ কি ছিল?
উত্তর: মাস্টারমশাই নরুকে চন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি মনে করেছিলেন চন্দ্রনাথ তার কথা শুনবে না।
- ২.১৮ “… একটা স্পেশাল প্রাইজ দেবেন” – কে কাকে প্রাইজ দেবেন?
উত্তর: এই উক্তিটি ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের অন্তর্গত, এখানে চন্দ্রনাথের স্কুলের সেক্রেটারি মহাশয় চন্দ্রনাথকে স্পেশাল পুরস্কার দেবার কথা বলেছেন।
- ২.১৯ স্কুলের সেক্রেটারি ভাইপোর নাম কী ছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ গল্পে স্কুলের সেক্রেটারি ভাইপোর নাম ছিল হিরু।
- ২.২০ স্কুলের সঙ্গে চন্দ্রনাথ কীভাবে সব সম্পর্ক মিটিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: স্কুলের দুই – তিন মাসের বাড়তি বেতন দিয়ে চন্দ্রনাথ স্কুলের সাথে সব সম্পর্ক মিটিয়ে দিয়েছিল।
- ২.২১ “Shame in crowd but solitary pride”- কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এই কথাটির অর্থ শখের সাহিত্যচর্চা জনসমক্ষে কুন্ঠার বিষয় হলেও, নিজের কাছে নিভৃতে তা গর্বের বিষয়।
- ২.২২ “এইটেই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন।” – কোন স্মৃতিচিহ্ন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ গল্পে হিরুকে চন্দ্রনাথ যে চিঠি লিখেছিল, এখানে স্মৃতিচিহ্ন বলতে তার কথা বলা হয়েছে।
- ২.২৩ নরেশ চন্দ্রনাথের চলে যাওয়া সম্পর্কে কী কল্পনা করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথ গল্পের কথক নরেশ, চন্দ্রনাথের চলে যাওয়া সম্পর্কে কল্পনা করেছিল যে, কিশোর চন্দ্রনাথ কাঁধে লাঠির প্রান্তে পোঁটলা বেঁধে নির্জন জনহীন রাতে একলা হেঁটে যাচ্ছে।
- ২.২৪ কথক মাস্টার মহাশয়কে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন কেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথ মাস্টার মহাশয়ের কথা নাও শুনতে পারে, এই আশঙ্কা করে গল্পের কথক মাস্টার মহাশয়কে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন।
- ২.২৫ “বোর্ডিং-এ আসিয়া মাস্টারমহাশয়কে সংবাদটা দিতে গিয়া দেখিলাম…” কী দেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বোর্ডিং-এ এসে চন্দ্রনাথ গল্পের কথক নরেশ দেখেছিল যে তাদের মাস্টারমশাই চিন্তান্বিত অবস্থায় একা বসে আছেন।
- ২.২৬ কথকের জীবনে চন্দ্রনাথের স্মৃতি কিরূপ ছিল?
উত্তর: কথকের জীবনে চন্দ্রনাথ গভীর রাত্রির আকাশে বিচরণকারী কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো ভাস্বর ও প্রদীপ্ত হয়েছিল।
- ২.২৭ কোথা থেকে কি ভাবতে ভাবতে কথক বাড়ি ফিরছিলেন?
উত্তর: সার্কুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বের হয়ে চন্দ্রনাথের কথা ভাবতে ভাবতে কথক বাড়ি ফিরছিলেন।
- ২.২৮ “… আমার দিকে চিন্তা কুল নেত্রে চাহিয়া বসিয়া আছে।” — কে,কার দিকে তাকিয়ে বসে আছে?
উত্তর: গল্পকথক দেখেছিলেন সামনের দেয়ালে বড়ো আয়না টির মধ্যে তাঁরাই প্রতিবিম্ব তাঁর দিকে তাকিয়ে বসে আছে।
- ২.২৯ চন্দ্রনাথের কপালে ত্রিশূল চিহ্ন কখন দেখা যায়?
উত্তর: চন্দ্রনাথ সামান্য উত্তেজিত হলেই রক্তের চাপ বেড়ে গিয়ে প্রবল হয়ে কপালের শিরা ফুটে উঠে ত্রিশূল চিহ্ন দেখা যায়।
- ২.৩০ হেড মাস্টার মশাইয় কোথায় বসে থাকতেন?
উত্তর: স্কুলের বোর্ডিংয়ের ফটকের সামনে চেয়ার বেঞ্চের আসন পেতে হেডমাস্টারমশায় বসে থাকতেন।
- ২.৩১ চন্দ্রনাথের সঙ্গে কালপুরুষ নক্ষত্রের কি সাদৃশ্য লেখক খুঁজে পেয়েছিলেন?
উত্তর: চন্দ্রনাথের আকৃতির সঙ্গে লেখক কালপুরুষ নক্ষত্রের খড়্গধারী বিশালকায় আকৃতির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন।
- ২.৩২ “… বলিতে পারি না…” — কার কি বলতে না পারার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: গল্পের কথক এবং তার সহপাঠী চন্দ্রনাথ, হিরু কিভাবে একই সময়ে ক্ষুদ্র এক গ্রামের মধ্যে এসে পড়েছিলেন তা কথা বলতে পারবেন না।
- ২.৩৩ কথক নরু চন্দ্রনাথের সঙ্গে কার তুলনা করেছিলেন?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রনাথ গল্পে কথক নরু চন্দ্রনাথের সঙ্গে কালপুরুষ নক্ষত্রের তুলনা করেছিলেন।
- ২.৩৪ চন্দ্রনাথের ললাটে কোন চিহ্ন আত্মপ্রকাশ করেছিল?
উত্তর: চন্দ্রনাথের ললাটে ত্রিশূল চিহ্ন আত্মপ্রকাশ করেছিল।
- ২.৩৫ চন্দ্রনাথের কপালে ত্রিশূল চিহ্ন কখন দেখা যায়?
উত্তর: সামান্য উত্তেজনায় রক্তের চাপ বাড়লে নাকের উপরে কপালের মাঝে ত্রিশূল চিহ্ন মোটা হয়ে ফুলে ওঠে।
- ২.৩৬ ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পে হেডমাস্টার দেখতে কেমন ছিলেন?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রনাথ গল্পে হেডমাস্টার মশাইয়ের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা হল – শীর্ণ, দীর্ঘকায় ও শান্ত প্রকৃতির।
- ২.৩৭ চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখান করেছিল কেন?
উত্তর: স্কুলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হবার পুরস্কার চন্দ্রনাথ প্রত্যাখান করেছিল কারণ, এর আগের কোনো পরীক্ষায় সে দ্বিতীয় হয়নি।
- ২.৩৮ “পত্রখানার উপর দৃষ্টি বুলাইয়া চন্দ্রনাথ অসংকোচে বলিল” – কী বলল?
উত্তর: তার দাদার দেওয়া পত্রটি দেখে চন্দ্রনাথ বলেছিল – “আমি সেকেন্ড প্রাইজ রিফিউজ করেছি”।
সংক্ষিপ্ত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
- ৩.১ ‘হীরুই সেবার ফার্স্ট হইয়াছিল’ — হীরু পরিচয় দাও। সে কিভাবে ফার্স্ট হয়েছিল?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। হীরু, নরেশ ও চন্দ্রনাথ সহপাঠী ছিল। হীরু ছিল স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো। চন্দ্রনাথ বলেছিল, হীরু তার সাহায্যে ফাস্ট হয়েছে। ওর প্রাইভেট মাস্টার স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার। তিনি সে কারণে প্রশ্নপত্রটি হীরুর কাছে লুকিয়ে রাখেননি। এছাড়া খাতা দেখার সময় উত্তর বিচারের ক্ষেত্রে তিনি ইচ্ছাকৃত ভুল করেছেন। অংকের পরীক্ষার দিন সে চন্দ্রনাথ এর কাছে মিনতি করে তার খাতা থেকে তিনটি অংক ঢুকে ছিল হীরু। মাস্টার মশাই বলে দেওয়া সত্ত্বেও তার মনে ছিল না সে কথা। এভাবেই নিজের যোগ্যতা ছাড়াই হীরু স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।
- ৩.২ ‘এইটাই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন’ — কিসের কথা বলা হয়েছে? সেটাই শেষ স্মৃতিচিহ্ন কেন?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। হীরুকে লেখা চন্দ্রনাথের চিঠির কথা বলা হয়েছে। স্কলারশিপ পাওয়ার আনন্দে যে উৎসবের আয়োজন করেছিল হীরু, তাতে চন্দ্রনাথকেও নিমন্ত্রণ করেছিল সে। কিন্তু চন্দ্রনাথ জানত নিজের যোগ্যতায় হীরু স্কলারশিপ পায়নি। চন্দ্রনাথকেও সে এক অর্থে ঠকিয়েছে। কাজেই উৎসবের আয়োজন, প্রীতিভোজের নিয়ন্ত্রণ চন্দ্রনাথে কাছে অর্থহীন হয়ে গেছে। সেই কথা জানিয়েই চন্দ্রনাথ হিরুকে চিঠি লেখে। স্কলারশিপ পাওয়াটাই জীবনের শেষ কথা নয়। এর জন্য উৎসবের কোন প্রয়োজন নেই। এই চিঠিটাই হীরুর কাছে চন্দ্রনাথের শেষ স্মৃতিচিহ্ন। কারণ চন্দ্রনাথ গ্রাম ছেড়ে স্কুল ছেড়ে চলে গেছে।
- ৩.৩ ‘তবুও সে চলিয়াছে’ — কার চলার কথা বলা হয়েছে? সে কিভাবে চলছে?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। এখানে চন্দ্রনাথের চলার কথা বলা হয়েছে। চন্দ্রনাথের জীবন ইতিহাসের সবটুকুই মহাকালের পাতায় রাত্রির মধ্য গগনচারে কালপুরুষ নক্ষত্রের চলার সঙ্গে তুলনীয়। কালপুরুষ নক্ষত্রের মতোই তার দীপ্তি। চন্দ্রনাথ এর বলিষ্ঠ উন্নত চরিত্র, নির্ভীক দৃষ্টির সঙ্গে কালপুরুষের খরগোধারী আকৃতির একটা আশ্চর্য সাদৃশ্য আছে। কালপুরুষের মতো এই দৃপ্ত ভঙ্গিতে সে আপনার জীবনের কক্ষপথেও যাত্রা করে চলেছে।
- ৩.৪ ‘অসাধারণ তাহার মুখাকৃতি’ — কার? তার মুখাকৃতির বর্ণনা দাও।
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। এখানে চন্দ্রনাথের মুখের কথা বলা হয়েছে। চন্দ্রনাথের দেহ সুস্থ সবল, দীর্ঘাকার, চোখের দৃষ্টি নির্ভীক। প্রথমেই চোখে পড়ে তার অদ্ভুত মোটা নাক। খুব সামান্য উত্তেজনাতেই তা স্ফীত হয়ে ওঠে। বড় বড় চোখ, চওড়া কপাল আর সেই কপালের ঠিক মাঝখানে শিরাই শিরায় রচিত ত্রিশূল চিহ্ন। কিশোর বয়সেও ললাটের মাঝখানে ত্রিশূল চিহ্ন মোটা হয়ে ফুলে ওঠে।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর
- ৪.১ ‘চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুদ্ধ হইয়া উঠিয়াছে’ — চন্দ্রনাথের পরিচয় দাও। কেন তার আঘাতে সমস্ত স্কুল চঞ্চল, বিক্ষুদ্ধ?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। নরেশ ও হীরুর সহপাঠী চন্দ্রনাথ। তার দাদার নাম নিশানাথ। অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও দৃপ্ত ও চরিত্রের অধিকারী ছিল সে। চোখের দৃষ্টি ছিল নির্ভীক। মুখশ্রীও অদ্ভুত। মোটা নাক, সামান্য চাঞ্চল্য কিংবা উত্তেজনাতেই তা ফুলে ওঠে। কিশোর বয়সেই তার চরিত্রে আশ্চার্য ব্যক্তিত্ব ছিল। সেই ব্যক্তিত্বের জোর পড়েছিল তার পড়াশোনাতেও। কোনোদিনই স্কুলের পরীক্ষায় সে প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হয়নি। চন্দ্রনাথের দৃঢ় ব্যক্তিত্বের কারণেই সমস্ত স্কুল চঞ্চল ও বিক্ষুদ্ধ। স্কুলের পরীক্ষার ফলাফল কী হবে, তা সে অনেক আগে থেকেই বলে দিতে পারে। কারণ স্কুলের সেক্রেটারির ভাইপো অনেক সুবিধা পেয়েছে। প্রথমত হীরুর প্রাইভেট মাস্টার ছিল স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার। প্রশ্নপত্র তিনি হীরুর কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেননি। উত্তরপত্রের মূল্যায়নেও তিনি হিরোর পক্ষপাতিত্ব করেছেন। পরীক্ষার হলে চন্দ্রনাথের খাতা থেকে তিনখানি অংক টুকেছিল হীরু। তাই খুব সহজেই পরীক্ষার ফলাফল চন্দ্রনাথ জেনে গিয়েছিল। চন্দ্রনাথ নিজের যোগ্যতার পরীক্ষায় প্রথম স্থান পায়নি। সে দ্বিতীয় হয়েছিল। এই আশ্চর্য অবিচার মেনে নিতে পারেনি চন্দ্রনাথ। প্রতিবাদে সেকেন্ড প্রাইজ প্রত্যাখ্যান করে হেডমাস্টার কে চিঠি লিখেছিল। যার ফলে স্কুল চঞ্চল, বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- ৪.২ ‘কালপুরুষ নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রনাথের তুলনা আমার আনন্দ হয়’ — উক্তিটি কার? কেন এমন তুলনার প্রসঙ্গ এসেছে গল্পে?
উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ গল্প থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত হয়েছে। উক্তিটি চন্দ্রনাথ পাঠ্যাংশের কথক চরিত্র নরেশের। চন্দ্রনাথ চরিত্রের বলিষ্ঠতা, কিশোর বয়সেও তার নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকবার ক্ষমতা, তেজোদৃপ্ত, নির্ভীক দৃষ্টি নরেশের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে গেছে। দীর্ঘদিনের জীবন-ইতিহাস পেরিয়ে, রাত্রিকালীন গভীরতায় মধ্যগগনচারী কালপুরুষ নক্ষত্রের বিশালাকার আকৃতির সঙ্গেই নরেশ তার তুলনা খুঁজে পেয়েছে। কালপুরুষের খড়্গধারী ভীমকায় আকৃতির দৃপ্তভঙ্গির সঙ্গে চন্দ্রনাথের উন্নত চরিত্র যেন আশ্চর্যভাবে সাদৃশ্যযুক্ত। কালপুরুষ যেমন নিজের কক্ষপথে চিরকাল আবর্তিত হয়ে চলেছে, চন্দ্রনাথও একইরকম দৃপ্তভঙ্গিতে নিজের জীবনপথে একাকী ভ্রাম্যমাণ। একটি দিনের জন্য, এক মুহূর্তের জন্য সে কখনও পিছন ফিরে চায়নি, কোথাও সামান্য বিশ্রামের প্রয়োজনও অনুভব করেনি। যাকে পাবার জন্য তার এই দৃপ্ত পথযাত্রা তাকে সে কখনও পায়নি, তবু পথচলা তার থেমেও যায়নি। কালপুরুষের সঙ্গে চন্দ্রনাথ চরিত্রের এই আশ্চর্য সাদৃশ্য লক্ষ করেই লেখক এমন তুলনা করেছেন।
অন্যান্য বাংলা অধ্যায় (নবম শ্রেণী)
বাংলা Resources
Complete Bengali Solutions কিনুন
অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান