দাম - নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
নবম শ্রেণীর বাংলা গল্পের সম্পূর্ণ সমাধান
দাম: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি বিশদ আলোচনা
লেখক পরিচিতি: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
জন্ম ও শৈশব: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম ছিল তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুরের বালিয়াডিঙিতে (বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্গত) তাঁর জন্ম হয়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বরিশাল জেলার বাসুদেব পুরের নাম চিড়া গ্রামে। লেখকের বাবা প্রমথনাথ গঙ্গোপাধ্যায় পুলিশ আধিকারিক হওয়ায় পিতার কর্মসূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে তাঁর শৈশব কাটে। বাবার বদলির চাকরির জন্য নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছাত্রজীবনের দিনগুলি কেটেছে দিনাজপুর, ফরিদপুর, বরিশাল এবং কলকাতায়। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুর জেলা স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে বরিশালের বিএম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে ভরতি হয়ে ১৯৩৬-এ ননকলেজিয়েট পরীক্ষার্থী হিসেবে তিনি কলা বিভাগে বিএ পাস করেন। এই বিএম কলেজেই তিনি স্বনামধন্য কবি জীবনানন্দ দাশকে তাঁর শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন। ১৯৪১-এ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন এবং এই পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফলের জন্য তিনি ব্রত্নময়ী স্বর্ণপদক পান।
১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন: এমএ পাস করার পর নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় অধ্যাপনাকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। জলপাইগুড়ি কলেজে ১৯৪২-৪৫ পর্যন্ত পড়ানোর পর তিনি কলকাতার সিটি কলেজে ১৯৪৫-৫৫ পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।
সাহিত্যজীবন: ছাত্রাবস্থাতেই নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্য-প্রতিভার বিকাশ ঘটে। এই সময় থেকেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি সাহিত্যকর্মের জন্যই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রথম গল্পটি বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য- উপনিবেশ, সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী, মন্দমুখর, মহানন্দা, স্বর্ণসীতা, নিশিযাপন, শিলালিপি, ট্রফি, লালমাটি, কৃষ্ণপক্ষ বিদূষক, বৈতালিক, বিখ্যাত ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ প্রভৃতি। সুনন্দ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় তিনি সুনন্দর জার্নাল নামে একটি কলাম লিখতেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৪৬-এ আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে সাপ্তাহিক বসুমতীর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।
জীবনাবসান: ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ৬ নভেম্বর কলকাতায় নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয়।
উৎস
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের রচিত 'দাম' ছোটোগল্পটি 'তরুণের স্বপ্ন'তে প্রথম প্রকাশিত হয়।
বিষয়সংক্ষেপ
‘দাম’ গল্পের কথক হল সুকুমার। স্কুলজীবনে তাদের কাছে এক বিভীষিকা ছিল অঙ্কের মাস্টারমশাই। তিনি অঙ্কে খুবই পারদর্শী ছিলেন। যে কোনো জটিল কঠিন অঙ্ক নিমেষে ঝড়ের গতিতে করতেন এবং ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন। কিন্তু সুকুমারের মতো অঙ্কে কাঁচারা শুধু নয়; অঙ্কে যারা একশোয় একশো পেত, সেইসব ছাত্রেরাও তাঁর ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকত। মাস্টারমশাইয়ের হাতের প্রচণ্ড চড় খেয়ে মাথা ঘুরে গেলেও কারও কাঁদবার উপায় ছিল না। চোখে একটু জল দেখলেই তিনি ক্লাস ফাটিয়ে হুংকার দিতেন। পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলতেন। কারণ পুরুষমানুষ হয়ে অঙ্ক না পারা তাঁর কাছে ছিল চূড়ান্ত অপমানের ও লজ্জার। এইভাবে স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার পর অঙ্কের হাত থেকে এবং মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে মুক্তি পেলেও, সুকুমারের মন থেকে সেই বিভীষিকা মুছতে সময় লেগেছিল। তার দুঃস্বপ্নেও বারবার ফিরে আসত সেই সমস্ত আতঙ্কের দিন। তবে ততদিনে সে কলেজে অধ্যাপনার চাকরী মাধ্যমে পেয়ে গেছে।
একবার একটি পত্রিকায় ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ পেল সুকুমার। কাগজ-কলম নিয়ে বসার পর সুকুমারের মনে এল স্কুলের সেই মাস্টারমশাইয়ের কথা, ব্ল্যাকবোর্ডে অঙ্কের ক্লাসে যিনি খড়ি দিয়ে ঝড় তুলতেন। গল্প লিখতে গিয়ে সুকুমার সেই মাস্টারমশাই সম্পর্কে যা লিখলেন, তার সবটাই খুব উজ্জ্বল নয়। মনের ভীতি পত্রিকার ও বিভীষিকায় অনেকটা কল্পনার খাদও মিশেছিল। সুকুমারের গল্প পত্রিকায় ছাপা হলে কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে দশ টাকা দক্ষিণাও দিয়েছিল। অর্থাৎ মাস্টারমশাইকে ব্যবহার করে দশ টাকা লাভ হয়েছিল সুকুমারের। এরপর বহু বছর পার হয়ে গেছে। সেই লেখার কথা আর একটুও মনে নেই তার।
হঠাৎ একদিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি কলেজের বার্ষিক উৎসবে অতিথি হিসেবে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে সুকুমার গিয়ে পৌঁছোল। উচ্ছ্বাসে সুকুমারের মন ভরে গেল। সাফল্যে রোমাঞ্চিত হয়ে পড়ল সুকুমার। সভায় দেশের তরুণ ছেলেমেয়েদের জেগে ওঠার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করে, সে বক্তৃতা শেষ করল। বয়স্ক প্রিন্সিপাল পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে গেলেন। প্রশংসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছিল সুকুমার। এমন সময় একটি ছেলে এসে জানাল, একজন বয়স্ক ভদ্রলোক সুকুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান। মাঠের অন্ধকারে কুঁজো, লম্বা চেহারার একজন মানুষ সুকুমারের নাম ধরে ডাকলেন। সুকুমার চমকে উঠল। স্মৃতির অন্ধকার ভেদ করে আশ্চর্য ওই গলার স্বর ছোটোবেলার ভয়ের কঙ্কালটাকে বিদ্যুতের আলোর মতো উদ্ভাসিত করে তুলল। সেই অঙ্কের মাস্টারমশাই-যাকে নিয়ে সুকুমার গল্প লিখেছিল। সুকুমারের মাথা নীচু হয়ে এল মাস্টারমশাইয়ের পায়ে। অনেক আশীর্বাদ করলেন তিনি। রিটায়ার করার পর এখানে এসেই মাথা গুঁজেছেন, সে-কথা জানালেন। আরও বললেন যে আজ সুকুমার এখানে বক্তৃতা করবে জেনেই তিনি ছুটে এসেছেন। সুকুমারের বক্তৃতা খুব ভালো লেগেছে। সুকুমারের অনেক প্রশংসা করলেন তিনি। সুকুমার কিন্তু খুশি হতে পারল না। সে বুঝতে পারল, তার বক্তৃতার ফাঁপা ফানুসে অন্যান্য বহু মানুষের মতো মাস্টারমশাইও খুশি হয়েছেন। আর মাস্টারমশাই সুকুমারকে বললেন, ছাত্রদের তিনি কিছুই দিতে পারেননি। শুধুই শাসন-পীড়ন করেছেন। তবু যে সুকুমার তাঁকে মনে রেখেছে, সেইজন্য তাঁর বুক আনন্দে ভরে গেছে। জামার পকেট থেকে শতচ্ছিন্ন-জীর্ণ সেই পত্রিকাটি বের করে দেখালেন। যেখানে সুকুমারের গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। মাস্টারমশাই সবাইকে সেই লেখা দেখিয়ে বলেছেন, প্রিয় ছাত্র তাঁকে অমর করে দিয়েছে। লজ্জায় আত্মগ্লানিতে সুকুমার যেন মাটিতে মিশে গেল। অথচ মাস্টারমশাই সুকুমারের সমালোচনা কেউ খোলা মনে মেনে নিয়েছেন। ছাত্রকে অংক শেখানোর সময় না হলেও সুকুমারের সাফল্য আজ তিনি গর্বিত। সুকুমার দেখল আবছা অন্ধকারে মাস্টারমশাইয়ের দুই চোখ দিয়ে জল পড়ছে। এই ভালোবাসাকে সুকুমার মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করেছিল। এই অপরাধ আর লজ্জা আছে কোথায় লুকাবে।
‘দাম’ গল্পটির নামকরণ:
গল্পের নামকরণ খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গল্পের নামকরণ থেকে আমরা গল্পের বিষয়বস্তুর আগাম ধারণা পেতে পারি। নামকরণ হতে পারে বিষয়বস্তু ধর্মী ব্যঞ্জনাধর্মী প্রকৃতি। লেখক ‘দাম’ গল্পটিতে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ককে অনন্য মানবিকতার আলোয় ফুটিয়ে তুলেছেন। কাহিনির কথক সুকুমার ও তাঁর সহপাঠীদের কাছে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন বিভীষিকা-স্বরূপ। তাঁদের অঙ্কভীতিকে ছাপিয়ে যেত মাস্টারমশাইয়ের মারের ভয়। ম্যাট্রিকুলেশনের পর অঙ্ক ও মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে মুক্তি পেলেও সেই ভয় সুকুমারকে বহুকাল তাড়া করে ফিরেছে।
পরবর্তীকালে বাংলার অধ্যাপক সুকুমার লেখক হিসেবে অল্পবিস্তর নাম করলে একটি অনামি পত্রিকা তাঁকে বাল্যস্মৃতি লেখার প্রস্তাব দেয়। সুকুমার অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে তাঁর ছোটোবেলার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা লেখেন সেই স্মৃতিকথায়। সঙ্গে ছিল লেখকসুলভ কল্পনার খাদ আর মাস্টারমশাইয়ের সমালোচনা। লেখাটির জন্য তিনি দশ টাকা পারিশ্রমিকও পান।
এর বহুকাল পর বাংলাদেশের একটি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে প্রৌঢ় সুকুমারের সঙ্গে হঠাৎ বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। সুকুমার জানতে পারেন তাঁর লেখা অনামি পত্রিকার সেই বাল্যস্মৃতিটি এখন মাস্টারমশাইয়ের সর্বক্ষণের সঙ্গী। ছাত্র তাঁর কথা মনে রেখেছে, শুনে বৃদ্ধ অংকের মাস্টার গর্বিত। ছাত্রের আলাপ আলোচনা মাস্টার মশাই নিজের সন্তান বলে মনে করতেন। সুকুমার অংকের মাস্টার মশাইকে শুধু ভয়ের চোখে দেখতেন কিন্তু ছাত্রের প্রতি যে ভালোবাসা আছে সেটা সে বুঝতে পারেনি। মাস্টারমশাইয়ের পড়ানোয় হয়তো কিছু পদ্ধতিগত ভুল ছিল, কিন্তু তাঁর নিষ্ঠার কোনো অভাব ছিল না। গুরু-শিষ্য উভয়ের উপলব্ধির আলোয় এই কাহিনিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ছাত্র-শিক্ষকের মানবিক সম্পর্ক, যা আজকের যুগের দিক থেকে খুবই সময়োপযোগী।
পৃথিবীতে এমন অনেক জিনিস আছে যাকে দাম দিয়ে কেনা যায় না, যেমন—স্নেহ, ভালোবাসা, মমতার সম্পর্কগুলি। মাস্টারমশাইকে নিয়ে তাঁর ছোটোবেলার অভিজ্ঞতা বিক্রি করে সুকুমার দশ টাকা দাম পেয়েছিলেন—এটাই তাঁকে চরম আত্ম-অনুশোচনায় ভোগায়। মাস্টারমশাইয়ের উদ্দেশে করা সমালোচনা দাম দিয়ে বিক্রি করা যায়, কিন্তু তাঁর স্নেহ দাম দিয়ে কেনা যায় না। সবদিক আলোচনা করে বলা যায় যে, গভীর ব্যঞ্জনাময় দাম নামটি এই কাহিনিটির ক্ষেত্রে যথাযথক এবং সার্থক।
দাম: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর:
MCQ
- ১.১ গল্প কথক তার বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথের উক্তি ব্যবহার করেছিলেন —
(A) ৩১ টি
(B) ১৩ টি
(C) ২১ টি
(D) ১২ টি
- ১.২ গল্প কথক ইংরেজি কোটেশন যার নামে চালিয়েছিলেন —
(A) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
(B) জন মিল্টন
(C) জর্জ বার্নাড শ
(D) এমিলী যেন ব্রন্টে
- ১.৩ কথককে যে নামে অংকের শিক্ষক ডেকেছিলেন —
(A) বিভূতি
(B) সুকুমার
(C) বিমল
(D) তারিণী
- ১.৪ “সেই কুবেরের ভান্ডারকে ধরে দিয়েও যা পাওয়া যায় না” —
(A) সম্পদ
(B) জ্ঞান
(C) ক্ষমা
(D) সোনাদানা
- ১.৫ ‘স্কুলে কি বিভীষিকায় যে ছিলেন’ — স্কুলে বিভীষিকা ছিলেন —
(A) মাস্টারমশাই
(B) সুকুমার
(C) ভদ্রলোক
(D) কর্তৃপক্ষ
- ১.৬ মাস্টারমশাই যে বিষয় পড়াতেন —
(A) ইংরেজি
(B) অংক
(C) ভূগোল
(D) সংস্কৃত
- ১.৭ খসখস করে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলত —
(A) কলম
(B) খড়ি
(C) পেনসিল
(D) ডাস্টার
- ১.৮ মাস্টারমশাই ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন —
(A) ব্যাকরণ
(B) ভূগোল
(C) অংক
(D) ইংরেজি
- ১.৯ “পৃথিবীতে যত _____ ছিল, সব যেন ওঁর মুখস্থ” — কি?
(A) গল্প
(B) অংক
(C) কবিতা
(D) ব্যাকরণ
- ১.১০ প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা ছিল —
(A) বাংলাদেশের কলেজে বক্তৃতা দিতে হবে
(B) স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর নেই
(C) যে অংক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ
(D) সেখানে রাজোচিত সংবর্ধনা পাওয়া যাবে।
- ১.১১ সুকুমার তার মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকা সম্পাদকের কাছ থেকে পেয়েছিলেন-
(A) দশ টাকা
(B) বারো টাকা
(C) পনেরো টাকা
(D) কুড়ি টাকা
- ১.১২ কলকাতা থেকে কেউ বাইরে গেলে সংবর্ধনা মেলে-
(A) বীরোচিত
(B) যথোচিত
(C) রাজোচিত
(D) ভদ্রোচিত
- ১.১৩ “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” সভাটি ছিল –
(A) সুকুমার রায়ের কলেজে
(B) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে
(C) কলকাতা এক নামী কলেজে
(D) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- ১.১৪ “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়। এখানে ‘পঞ্চত্ব’ শব্দের অর্থ-
(A) ক্ষতি
(B) হানি
(C) মৃত্যু
(D) সমস্যা
- ১.১৫ “কার একটা ইংরেজি কোটেশন চালিয়ে দিলুম — নামে”। –
(A) টেনিসনের
(B) বায়রনের
(C) শেকসপিয়রের
(D) বার্নার্ড শ-র
- ১.১৬ সুকুমার পেশায় ছিলেন-
(A) ডাক্তার
(B) অধ্যাপক
(C) ইঞ্জিনিয়ার
(D) সাংবাদিক
- ১.১৭ এম এ পাস করার পরেও সুকুমার দুঃস্বপ্ন দেখতেন –
(A) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার
(B) চাকরি না পাওয়ার
(C) স্কুলে শাস্তি পাওয়ার
(D) খেলায় জিততে না পারার
- ১.১৮ অঙ্কে যারা একশোর মধ্যে একশো পায়, তারা-
(A) ওঁর ভয়ে কান্নাকাটি করত
(B) ওঁর ভয়ে অজ্ঞান হত
(C) ওঁর জন্য অপেক্ষা করত
(D) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।
- ১.১৯ “…কাঁদবার জো ছিল না।” – এই কাঁদবার উপায় না থাকার কারণ-
(A) ক্লাসের অন্য ছেলেদের সামনে কাঁদতে লজ্জা করত
(B) চোখের জল মাস্টারমশাই সহ্য করতে পারতেন না
(C) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন
(D) কাঁদলে আরও অঙ্ক কষতে হত
- ১.২০ “সে স্বর্গের চাইতে ______ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম”।–
(A) শত
(B) সহস্র
(C) লক্ষ
(D) কোটি
- ১.২১ পত্রিকা থেকে ফরমাশ এসেছিল —
(A) ছেলেবেলার গল্প লেখার
(B) ঐতিহাসিক গল্প লেখার
(C) প্রেমের কবিতা লেখার
(D) ভ্রমণ কাহিনী লেখার
- ১.২২ “ছবিটা যা ফুটলো” তা —
(A) উজ্জ্বল নয়
(B) রঙিন নয়
(C) সুন্দর নয়
(D) গোছানো নয়
- ১.২৩ “গাধা পিটিয়ে করতে _____ গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
(A) হাতি
(B) মানুষ
(C) ঘোড়া
(D) বানর
- ১.২৪ পত্রিকা কত্তৃপক্ষ গল্প লেখার দক্ষিণা দিয়েছিলেন —
(A) পাঁচশো টাকা
(B) দশ টাকা
(C) কুড়ি টাকা
(D) একশো টাকা
- ১.২৫ “এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে সন্মান পায়” —
(A) রাজহংসের
(B) ময়ূরের
(C) টিয়াপাখির
(D) চাতকের
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
- ২.১ “এম এ পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি” —কে, কী স্বপ্ন দেখেছেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার স্বপ্ন দেখেছিলেন পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা আসন্ন, তবু অঙ্ক মিলছে না আর মাস্টারমশাই আগুন ঝরা চোখে তাকিয়ে আছেন।
- ২.২ “তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।” — কথকের এই নির্ভয়তার কারণ কী?
উত্তর: পত্রিকাটির পাঠকসংখ্যা সীমিত হওয়ায় কথকের আত্মকথা অন্য কারও কাছে স্পর্ধার মনে হবে না, এই ভেবেই। তিনি নির্ভয়ে লিখেছিলেন।
- ২.৩ “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পশুত্ব পায়” — ‘পঞ্চত্ব’ বলতে কী কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে গাধার ‘পঞ্চত্ব’ বলতে দুর্বল ছাত্রদের সামান্য সম্ভাবনাটুকুরও অপমৃত্যু ঘটার কথা বলা হয়েছে।
- ২.৪ “তার প্রমাণ আমি নিজেই।” — কে, কীসের প্রমাণ?
উত্তর: দাম গল্পের সেই মাস্টারমশাইয়ের শাসন ও শাস্তির মাধ্যমে যে কাউকে কিছু শেখানো যায় না, গল্পকথক সুকুমার নিজেই এ ঘটনার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ।
- ২.৫ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিল?
উত্তর: গল্পকথক নিজের স্কুলের মাস্টার মশাইকে নিয়ে গল্প লেখার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষ গল্পকথক সুকুমারকে সাম্মানিক দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল।
- ২.৬ “মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ” বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: গল্পকথক মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে দশ টাকা সাম্মানিক হিসেবে পেয়েছিলেন। একেই তিনি নগদ লাভ বলেছেন।
- ২.৭ “আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল।” — মন দুলে উঠেছিল কেন?
উত্তর: এক অতিপরিচিত ও আশ্চর্য গলায় গল্পকথকের নাম ধরে কেউ ডাকলে তাঁর মন দুলে উঠেছিল।
- ২.৮ “একটা ভয়ের মৃদু শিহরন আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল।” — এমন ঘটার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: সুকুমারের অন্তর্মনে মাস্টারমশাই সম্পর্কে ভীতি ও আতঙ্ক প্রচ্ছন্ন থাকায় মাস্টারমশাইয়ের গলা শুনে তাঁর শরীরে শিহরন বয়ে যায়।
- ২.৯ “…..লুকিয়ে ছিল মনের চোরাকুঠুরিতে” — কী লুকিয়ে ছিল?
উত্তর: ছেলেবেলায় অঙ্ক না-পারলেই মাস্টারমশাইয়ের কাছে শাস্তি পাওয়ার স্মৃতি লুকিয়ে ছিল গল্পকথক সুকুমারের মনের চোরাকুঠুরিতে।
- ২.১০ “আর বলতে পারলেন না।” — কেন?
উত্তর: অধ্যাপক ছাত্রের কাছে আবেগ-বিহ্বলাপ্লুত বৃদ্ধ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের চোখে জল এসে পড়ায়, তিনি তাঁর কথা শেষ করতে পারেননি।
- ২.১১ “এমন সময় একটি ছেলে এসে খবর দিলে” — কী?
উত্তর: একটি ছেলে এসে খবর দিয়েছিল যে, এক বয়স্ক ভদ্রলোক সুকুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।
- ২.১২ “তারপর চোখে পড়ল মানুষটিকে।” — মানুষটি দেখতে কেমন ছিলেন?
উত্তর: মানুষটির চেহারা ছিল কুঁজো ও লম্বা এবং মাঠের তরল অন্ধকারেও তাঁর সাদা চুলগুলি চিকমিক করছিল।
- ২.১৩ “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবাে’—কে, কাদের বলতেন?
উত্তর: স্কুলে অঙ্ক না পারায় মাস্টারমশাইয়ের চড় খেয়ে যেসব ছাত্ররা কঁাদত, গল্পকথকের অঙ্কের মাস্টারমশাই সেইসব ছাত্রদের এ কথা বলতেন।
- ২.১৪ মাস্টারমশাইয়ের চড়ের জোর থেকে ছারা কী আন্দাজ করে নিয়েছিল?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের চড়ের জোর থেকে ছাত্ররা আন্দাজ করেছিল যে, তাদের পা ধরে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার শক্তি মাস্টারমশাইয়ের ছিল।
- ২.১৫ প্লেটোর দোরগােড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাষ্টারমশায় বলেছেন?
উত্তর: প্লেটোর দোরগােড়ায় লেখা ছিল, যে ব্যক্তি অঙ্ক জানে না সেই ব্যক্তির তার বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ।
- ২.১৬ মাস্টারমশাইয়ের মতে স্বর্গের দরজায় কী লেখা আছে?
উত্তর: স্বর্গের দরজাতেও নাকি প্লেটোর দোরগােড়ার মতাে লেখা আছে, যে অঙ্ক জানে না তার প্রবেশ নিষেধ।
- ২.১৭ যে স্বর্গে পা দিয়েই জ্যামিতির এক্সট্রা কষতে হয় তার সম্পর্কে বক্তার মত কী?
উত্তর: বক্তার মতে যে স্বর্গে পা দিয়েই জ্যামিতির এক্সট্রা কষতে হয় তার থেকে লক্ষ যােজন দূরে থাকাই নিরাপদ।
- ২.১৮ ম্যাট্রিকুলেশনের গণ্ডি পার হয়ে সুকুমার কীসের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন?
উত্তর: ম্যাট্রিকুলেশনের গন্ডি পার হয়ে সুকুমার অঙ্ক ও বিভীষিকাস্বরূপ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
- ২.১৯ স্কুলে বিভীষিকা কে ছিলেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে কথকের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন তাদের কাছে বিভীষিকাস্বরূপ।
- ২.২০ অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই কী করতেন?
উত্তর: অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে বিরক্ত মাস্টারমশাই ভাঙা টুকরাে দুটো ছাত্রদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে আর-একটা খড়ি নিতেন।
- ২.২১ মাস্টারমশাই অঙ্ককে কেমন করে সাজিয়ে দিতেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে মাস্টারমশাই অঙ্ক কষে ছবির মতাে করে ব্ল্যাকবাের্ডে সাজিয়ে দিতেন।
- ২.২২ “কিন্তু কাদবার জো ছিল না’—কেন কাদবার জো ছিল না?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেয়েও কান্নার উপায় ছিল না। কারণ, তাহলে তিনি আরও বকতেন এবং পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দিতেন।
- ২.২৩ সুকুমার কলেজে কী পড়ান?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাম’ ছােটোগল্পে সুকুমার কলেজে বাংলা পড়ান।
- ২.২৪ সুকুমারের কাছে ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ কোথা থেকে এসেছিল?
উত্তর: একটি অনামি পত্রিকার পক্ষ থেকে সুকুমারের কাছে তার ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ এসেছিল।
- ২.২৫ সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তর: সাহিত্যজগতের রথী-মহারথী অর্থাৎ স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের ‘সাহিত্যে ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলা হয়েছে।
- ২.২৬ সুকুমার কাকে নিয়ে তার ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন?
উত্তর: সুকুমার তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন।
- ২.২৭ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
উত্তর: পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারের লেখায় খুশি হয়ে তাকে দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিলেন।
- ২.২৮ “কিন্তু কাঁদবার জো ছিল না”- কেন কাঁদবার জো ছিল না?
উত্তর: চোখে এক ফোঁটা জল দেখতে পেলেই মাস্টারমশাই ছাত্রদের আরো বকতেন, তাই অঙ্ক না পেরে এবং মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেলেও কাঁদার জো ছিল না।
- ২.২৯ প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাস্টারমশাই বলেছেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই বলতেন প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা লেখা ছিল – ‘যে অঙ্ক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ’।
- ২.৩০ ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলতে প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের বোঝানো হয়েছে।
- ২.৩১ ‘মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।’ কখন এমনটি ঘটেছে?
উত্তর: দাম গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার একটি পত্রিকায় তার ছেলেবেলার গল্প লেখার সময় মাস্টারমশাইয়ের কথা মনে করেছিলেন।
- ২.৩২ পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
উত্তর: পত্রিকার কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে সুকুমার অর্থাৎ লেখককে দশ টাকা দিয়েছিলেন।
- ২.৩৩ সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে কোন্টাকে নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন?
উত্তর: পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা বাল্যস্মৃতির দক্ষিণা হিসেবে পাওয়া দশ টাকাকেই সুকুমার নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন।
- ২.৩৪ গল্পকথক এর স্কুলে যে বিভীষিকা ছিলেন তিনি কে?
উত্তর: গল্পকথকদের স্কুলে অংকের মাস্টার মশাই ছিলেন তাদের বিভীষিকা।
- ২.৩৫ ঘন্টার পর ঘন্টা ছেলেরা কী নিয়ে পন্ডশ্রম ফটো?
উত্তর: ঘন্টার পর ঘন্টা স্কুলের ছেলেরা জটিল অংক নিয়ে পন্ডশ্রম করতো।
- ২.৩৬ স্কুলের মাস্টার মশাই এর হাতের ঘড়ি যখন ভেঙ্গে যেত, তখন তিনি কি করতেন?
উত্তর: অংক করার সময় হাতের খড়ি হঠাৎ ভেঙে গেলে অঙ্কের মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে তা তিনি ছাত্রদের দিকে ছুড়ে মারতেন।
- ২.৩৭ “আমরা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতুম” — কী দেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: দাম গল্পে ছোটবেলায় যখন স্কুলে অঙ্কের মাস্টার মশাই জটিল অংকগুলি অনায়াসেই ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মত সাজিয়ে দিতেন, তখন তা ছাত্ররা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতো।
- ২.৩৮ “ওর ভয় তারাও তটস্ত হয়ে থাকতো” এখানে ‘ওর’ ও ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাম গল্পে ওর বলতে স্কুলের সেই মাস্টার মশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এবং তারা বলতে যারা অংকে ১০০ তে ১০০ পায় তাদের কথা বলা হয়েছে।
- ২.৩৯ “তা উনি পারতেন।” — ‘উনি’ কী পারতেন?
উত্তর: অংকের মাস্টারমশাই অঙ্ক না-পারা ছাত্রদের কাঁদতে দেখলে পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতেন।
- ২.৪০ “এখানে তাঁর প্রবেশ নিষেধ” — কোথায় কাদের প্রবেশ নিষেধ?
উত্তর: এখানে বলতে প্লেটোর দোরগোড়াকে বোঝানো হয়েছে। যারা অংক পারে না তাদের দার্শনিক প্লেটোর দোরগোড়ায় প্রবেশ নিষেধ।
সংক্ষিত বা ব্যাখ্যাভিত্তিক
- ৩.১ “দু-চোখ দিয়ে তার আগুন ঝরছে” — কার কথা বলা হয়েছে? তার দু- চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে কেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। অঙ্কে বরাবর দুর্বল সুকুমার এমএ পাস করার পরও স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি যেন অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছেন। শেষ ঘণ্টা পড়ার সময় হয়ে গেছে কিন্তু তার একটি অঙ্কও মিলছে না। সুকুমারের স্কুলজীবনের অন্যতম আতঙ্ক অঙ্কের মাস্টারমশাই গার্ড হয়ে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ছাত্র অঙ্ক পারছে না দেখে মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখ থেকে আগুন ঝরছে।
- ৩.২ “আমাদের মতাে নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ” — ‘আমাদের’ বলতে যাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের কাছে কোন্ বিষয় সুখাবহ?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পের কথক সুকুমার ‘আমাদের’ বলতে তার মতাে মাঝারি মাপের লেখকদের বুঝিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার ডাক পেয়ে সুকুমার আলােচ্য উক্তিটি করেছেন। কলকাতায় একজন লেখকের প্রকৃত স্থান সম্পর্কে গ্রামের মানুষের স্বচ্ছ ধারণা থাকে লেখকের মর্যাদা এবং সম্মান পান। এই ব্যাপারটিকেই সুকুমার সুখাবহ বলেছেন।
- ৩.৩ “একটা ভয়ের মৃদু শিহরণ আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল” — বক্তার ভয়ের শিহরণ হওয়ার প্রকৃত কারণটি কী ছিল?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজের অন্ধকারে ঢাকা মাঠে এক ভদ্রলােক কথক সুকুমারকে নাম ধরে ডাকলে তার ভয়ের শিহরণ হয়। অচেনা এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তির মুখে নিজের নাম শুনে অবাক হওয়ার পরমুহূর্তেই সুকুমার কণ্ঠস্বরটি চিনতে পারেন। স্কুলের বিভীষিকাম্বরূপ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের গলার আওয়াজ কথকের মনে তার ছােটোবেলায় অঙ্ক না পেরে মার খাওয়ার স্মৃতিকে জাগিয়ে তােলে। এটিই ছিল তার ভয়ের প্রকৃত কারণ।
- ৩.৪ “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে” — বক্তার ছাত্র তাকে কীভাবে অমর করেছে?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পের অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ মাস্টারমশাই ভাবতেই পারতেন না যে তার ছাত্ররা অঙ্ক পারবে না। মেরে- বকে ছাত্রদের তিনি অঙ্ক শেখাতে চাইতেন। ফলে ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন বিভীষিকা। তার এক ছাত্র সুকুমার পরবর্তীকালে মাস্টারমশাইকে নিয়ে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা একটি পত্রিকায় লিখেছিলেন। সেটি পড়েই সরল মনের মাস্টারমশাইয়ের মনে হয়েছিল ছাপার অক্ষরে তার কথা লিখে তার ছাত্র তাকে অমর করে দিয়েছে।
- ৩.৫ “স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলােক!” — এখানে যার কথা বলা হয়েছে, তিনি কেন বিভীষিকা ছিলেন?
উত্তর: আলােচ্য উদ্ধৃতাংশে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ সেই মাস্টারমশাই যে-কোনাে অঙ্কই মুহুর্তে সমাধান করে ফেলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে অঙ্ক না জানলে জীবন বৃথা। তাই মাস্টারমশাই অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে ছাত্রদের অঙ্ক শেখানাের চেষ্টা করতেন। ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে কুস্থ মাস্টারমশাইয়ের প্রকাশ হারে প্রচণ্ড চড় তাদের পিঠে নেমে আসত কিন্তু কাদবার জো ছিল না, একারণেই তিনি ছাত্রদের কাছে বিভীষিকা ছিলেন।
- ৩.৬ “ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত”—কার ভয়ে কারা কেন তটস্থ হয়ে থাকত?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গােপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে যারা পরীক্ষায় একশােতে একশাে পেত তারাও তটস্থ হয়ে থাকত। স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন অসাধারণ দক্ষ। যে-কোনাে জটিল অঙ্কই তিনি অনায়াসে সমাধান করে ফেলতেন। মাস্টারমশাই মনে করতেন, অঙ্ক না জানলে জীবন বৃথা। তাই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে ছাত্রদের অঙ্ক শেখাতেন। কিন্তু ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তিনি ভয়ানক রেগে গিয়ে তাদের মারতেন বলেই লেখাপড়ায় ভালাে ছাত্ররাও তাকে ভয় পেত।
- ৩.৭ “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবাে” — বক্তা কেন পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্প থেকে নেওয়া উক্তিটি সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের। অঙ্ক-অন্তপ্রাণ মাস্টারমশাইয়ের ক্লাসের কোনাে ছাত্র অঙ্ক না পারলেই তার পিঠে নেমে আসত তার প্রকাণ্ড হাতের প্রচণ্ড চড়। সেই চড় খেয়ে কোনাে ছাত্র কাদলেই তাকে তিনি পা ধরে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সুমকি দিতেন। তার মতে অঙ্ক না পারা এবং কাদা, দুটোই পুরুষমানুষের পক্ষে চরম লজ্জার বিষয়।
বিশ্লেষণধর্মী ও রচনাধর্মী
- ৪.১ ‘দাম’ ছােটোগল্পের সুকুমার চরিত্রটি আলােচনা করাে। অথবা, “আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম”- এই উবিটির আলােকে সুকুমার চরিত্রটি আলােচনা করাে।
উত্তর: অঙ্কে দুর্বল: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাম ছােটোগল্পের কথক সুকুমার বরাবরই অঙ্কে দুর্বল ছিলেন। সুকুমারের কাছে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন মূর্তিমান বিভীষিকা। ম্যাট্রিকুলেশনের পর অঙ্ক ও মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেলেও দীর্ঘদিন সেই জয় সুকুমারকে তাড়া করে ফিরত। পরবর্তীকালে বাংলার অধ্যাপক লেখক সুকুমার একটি অনামি পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার স্মৃতিকথা লিখেছিলেন।
আত্মসমালােচক: সুকুমার চরিত্রের সবথেকে বড়াে বৈশিষ্ট্য হল তার আত্মবিশ্লেষণ। তিনি যে মাঝারি মাপের লেখক, তার বক্তৃতা যে আবেগসর্বস্ব, অন্তঃসারশূন্য, অত প্রশংসা যে তার প্রাপ্য নয় সবটাই তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
শ্রদ্ধাশীল: বহু বছর পর তার স্কুলজীবনের বিভীষিকা অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হতেই তঁাকে শ্রদ্ধা জানাতে কিন্তু সুকুমারের এতটুকু দেরি হয়নি। অঙ্কে মাস্টারমশাইয়ের পান্ডিত্যকেও সুকুমার মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করেছেন। তিনি মাস্টারমশাইকে ভয় পেয়েছেন, কিন্তু অশ্রদ্ধা করেননি।
সংবেদনশীল: সুকুমারের পরিপত মন বুঝেছে যে, এতদিন তিনি শুধু মাস্টারমশাইয়ের শাসনের ভীতিকেই উপলব্ধি করেছিলেন, তাঁর স্নেহের ফল্পধারাকে অনুভব করতে পারেননি। যে স্নেহ-মমতা-মার মহাসমুদ্র মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতিকে তিনি দশ টাকায় বিক্রি করেছেন, সেই মানুষটির অমূল্য স্নেহ তার মাথায় ঝরে পড়েছে— এই ভেবে সুকুমার আত্মগ্লানিতে জর্জরিত হন।
- ৪.২ ‘দাম’ গল্পটি ছােটোগল্প হিসেবে কতটা সার্থক আলােচনা করাে।
উত্তর: শুধু আয়তনের সংক্ষিপ্ততা নয়, ছােটোগল্পের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ‘দাম’ গল্পে দেখা যায়।
চরিত্রের স্বল্পতা: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পটিতে চরিত্রের সংখ্যা খুবই কম। সুকুমার এবং তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই হলেন গল্পের প্রধান দুই চরিত্র। এ ছাড়া কলেজের প্রিন্সিপাল ও কয়েকজন ছাত্রের উল্লেখ আছে, যাদের ভূমিকা খুবই কম।
ঘটনার ঘনঘটা বর্জিত: ‘দাম’ গল্পে ঘটনারও বাহুল্য নেই। গল্প শুরু হয়েছে। সুকুমার ও তার সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সম্পর্ক দিয়ে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনাে ঘটনার উল্লেখ নেই। সেই সম্পর্কেরই পরিণতিতে গল্প শেষ হয়— ফলে নিশ্চিতভাবে কাহিনিটিকে একমুখী বলা যায়।
গল্পের শেষে চমক: যখন গল্পের শেষদিকে এসে সুকুমারের সঙ্গে কথকের দেখা হয় এবং সুকুমার জানতে পারেন যে স্বয়ং মাস্টারমশাই তার লেখা বাল্যস্মৃতিটি পড়েছেন, তারপরে ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্ক যেভাবে নতুন ধারণায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তা পাঠকদের নিঃসন্দেহে চমকে দেয়।
অতৃপ্তি: মাস্টারমশাই তাঁর সব সমালােচনার আঘাত উদারমনে গ্রহণ করেছেন—এটা জানার পর সুকুমারের স্বগতােক্তি দিয়ে গল্প শেষ হয়। পাঠকের মনে একটা অতৃপ্তি থেকেই যায় এটা জানার জন্য যে, এরপর কী হল। সব দিক বিচার করে তাই বলাই যায় যে, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ একটি আদর্শ ছােটোগল্প।
- ৪.৩ ‘আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।’ বক্তা কে? কীভাবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন?
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে। গল্পে আমরা দুটি চরিত্রের সাথে পরিচিত হই, প্রথমটি হলেন গল্পের লেখক এবং দ্বিতীয়টি হলেন লেখকের অঙ্কের মাস্টারমশাই। এখানে মাস্টারমশাই তার ছাত্রের অর্থাৎ গল্পের লেখকের উদ্দেশে এই উক্তিটি করেছেন। ছাত্রজীবনে লেখক, স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই এবং তার প্রহারকে ভীষণ ভয় পেতেন। এমনকি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার পরেও, লেখকের মন থেকে তাঁর মাস্টারমশাইয়ের ভয়ের স্মৃতি অমলীন হয়ে থাকে। লেখক কোন একটি পত্রিকার অনুরোধে তাঁর ছেলেবেলার গল্প লেখেন এবং সেই গল্পে তিনি তাঁর মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা এবং বক্রোক্তি করেন। তাঁর লেখাটি প্রশংসিত হয় এবং তা থেকে তিনি দশ টাকা রোজগার করেন। পরবর্তী সময়ে লেখকের সাথে মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। লেখক দেখেন যে মাস্টারমশাই তার সমালোচনাসূচক লেখাটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন, শুধু তাই নয় সময় সুযোগ মতো তিনি সবাইকে ঐ লেখাটি দেখাতেও ভোলেন না। যে লেখাটি ছাত্রের কাছে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা বর্ষণ, ঠিক তাই যেন মাস্টারমশাইয়ের কাছে ছাত্রের শ্রদ্ধা নিবেদন। মাস্টারমশাইয়ের মনে হয় তাঁর ছাত্র যেন ঐ পত্রিকার লেখার মাধ্যমেই তাঁর মাস্টারমশাইকে অমর করে রেখেছে।
- ৪.৪ “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” — অপরাধবােধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তা সংক্ষেপে লেখাে।
উত্তর: ‘দাম’ গল্পে কথকের ছােটোবেলার বিভীষিকাম্বরূপ ছিলেন তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। অঙ্ক শেখানাের জন্য তার কঠোর শাসন, তীব্র বকাঝকা কথকদের কাছে আতঙ্ক হয়ে গিয়েছিল। সেই আতঙ্কের রেশ এতটাই তীব্র ছিল যে, এমএ পাস করার পরেও দুঃস্বপ্নে মাস্টারমশাই এসে হাজির হতেন সামনে। তারপরে যখন জেগে উঠে ভাবলেন যে তিনি এখন কলেজে বাংলা পড়ান, স্কুলে অঙ্ক করেন না তখন এক গভীর তৃপ্তি অনুভব করলেন। মাস্টারমশাইয়ের ওপরে মধুর প্রতিশােধ নেওয়ার সুযােগ কথক পেয়ে যান যখন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে ছেলেবেলার গল্প লেখার অনুরােধ আসে। তার লেখায় উঠে আসে যে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না—নিজের অঙ্ক শিক্ষার ব্যর্থতার কথা বলে এ কথাই বুঝিয়ে দেন কথক। কিন্তু বাংলাদেশের প্রান্তবর্তী কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বহুদিন পরে বয়সের ভারে জীর্ণ সেই মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে যখন কথকের আবারও দেখা হয়—কথকের সব ধারণা পালটে যায়। মাস্টারমশাই শুধু তার বক্তৃতারই প্রশংসা করেন না, জামার পকেট থেকে বের করেন সেই জীর্ণ পত্রিকা — যাতে ছিল মাস্টারমশাইকে নিয়ে কথকের লেখা বাল্যস্মৃতিটি। “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে” — মাস্টারমশাইয়ের মুখে এ কথা শুনে আত্মগ্লানিতে মাটিতে মিশে যান কথক। সন্তান বড়াে হলে অন্যায় শুধরে দেবে নিজের এই মূল্যায়নে মাস্টারমশাই যেন অনন্য মহিমা নিয়ে ধরা পড়ে কথকের সামনে। কথকের মনে হয় তিনি যেন স্নেহ-মমতামার এক মহাসমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। এই লজ্জাবােধে আর মাস্টারমশাইয়ের উদারতার সামনে নত হওয়ার মাধ্যমেই তাঁর আত্মশুদ্ধি ঘটে।
- ৪.৫ ‘দাম’ ছোট গল্পটি অবলম্বনে মাস্টারমশাইয়ের চরিত্র বর্ণনা করো।
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ একটি অসাধারণ ছােটোগল্প। গল্পটিতে মাস্টারমশাই এক অসামান্য চরিত্র।
পাণ্ডিত্য: স্কুলের মাস্টারমশাই ছিলেন অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ। যেকোনাে জটিল অংকই তিনি একবারমাত্র দেখে তক্ষুনি অনায়াসে সমাধান করে ফেলতে পারতেন।
আবেগময়তা: মাস্টারমশাই বিশ্বাস করতেন এক ভালোবাসা ও অত গারা প্রতিটি ছাত্রের ব্য এবং তার কর্তব্য হল ছাত্রদের মধ্যে অঙ্কের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলা। এ আবেগের কারণেই ছাত্ররা না পারলে তার একা হাতে প্রচণ্ড চড় নেমে আসত তাদের পিঠে। এই জন্যই মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা হয়ে উঠেছিলেন।
উদারমনা: ছাত্র সুকুমারের বাল্যকালে লেখা সমালোচনাকে তিনি উদারমনে সন্তানের অধিকার বলেই গ্রহণ করেছিলেন। ছাত্র তাকে মনে রেখেছে — এইটুকুই বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের কাছে সবথেকে বড়ো পাওয়া হয়ে উঠেছে।
সারকথা: মাস্টারমশাই যেটা উপলব্ধি করতে পারেননি, সেটা হল সব বিষয় সকলের প্রিয় না-ও হতে পারে এবং ভীতি কোনাে বিষয়কে ভালোবাসতে শেখায় না। বরং তার থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষাপদ্ধতির এই ত্রুটির জন্য ছাত্ররা তাকে ভুল বুঝত। আসলে কিন্তু তিনি ছিলেন একজন আদর্শনিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ এবং ছাত্রবৎসল শিক্ষক। তার ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সুকুমারের দেওয়া সব আঘাত তাঁর গায়ে ছাত্রের শ্রদ্ধার ফুল হয়ে ঝরে পড়েছিল।
অন্যান্য বাংলা অধ্যায় (নবম শ্রেণী)
বাংলা Resources
Complete Bengali Solutions কিনুন
অফলাইন অধ্যয়নের জন্য সমস্ত প্রশ্ন ও উত্তর PDF ফরম্যাটে পান