Chapter 1: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ

নদী, হিমবাহ ও বায়ুর কাজ, বিভিন্ন ভূমিরূপের সচিত্র ব্যাখ্যা এবং সুন্দরবনের ওপর বিশ্ব উন্নায়নের প্রভাব | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 1: বহির্জাত প্রক্রিয়া | Madhyamik Geography

Chapter 1: বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 70 MCQ | 50 SAQ | 20 Broad Questions

নদীর কাজ হিমবাহ বায়ুর কাজ বদ্বীপ সুন্দরবন
🏞️

নদী ও হিমবাহ

ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয় কাজের সৃষ্ট ভূমিরূপ

🏜️

বায়ুর কাজ

মরুভূমি, বালিয়াড়ি এবং মরুকরণের বিবরণ

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

70 টি
1. যে প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়, তাকে কী বলে?
ক) অন্তর্জাত প্রক্রিয়া
খ) বহির্জাত প্রক্রিয়া
গ) মহাজাগতিক প্রক্রিয়া
ঘ) অগ্ন্যুৎপাত
2. যে প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের কোনো উঁচু জায়গা ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে সমতলভূমিতে পরিণত হয়, তাকে কী বলে?
ক) আরোহণ
খ) অবরোহণ
গ) পর্যায়ন
ঘ) নগ্নীভবন
3. ক্ষয়জাত পদার্থ ভূপৃষ্ঠের নীচু অংশে সঞ্চিত হয়ে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তাকে কী বলে?
ক) অবরোহণ
খ) আরোহণ
গ) আবহবিকার
ঘ) বিচূর্ণীভবন
4. অবরোহণ ও আরোহণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল কোনটি?
ক) আবহবিকার
খ) নগ্নীভবন
গ) পর্যায়ন
ঘ) ক্ষয়ীভবন
5. চুনাপাথরে গঠিত (Karst) অঞ্চলে কোন্ বহির্জাত শক্তি বেশি কাজ করে?
ক) নদী
খ) বায়ু
গ) হিমবাহ
ঘ) ভৌমজল
6. যে উচ্চভূমি কাছাকাছি অবস্থিত দুটি নদী-ব্যবস্থাকে পৃথক করে, তাকে কী বলে?
ক) নদী অববাহিকা
খ) জল-বিভাজিকা
গ) দোয়াব
ঘ) বদ্বীপ
7. বিশ্বের সর্বপ্রধান জল-বিভাজিকা কোনটি?
ক) হিমালয় পর্বত
খ) রকি পর্বত
গ) মধ্য এশিয়ার পার্বত্যভূমি
ঘ) আন্দিজ পর্বত
8. নদীর পার্বত্য প্রবাহ বা উচ্চগতিতে প্রধান কাজ কী?
ক) ক্ষয়কাজ
খ) বহনকাজ
গ) সঞ্চয়কাজ
ঘ) কোনোটিই নয়
9. নদীবাহিত পাথরখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের সংঘর্ষের ফলে নদীখাতে ছোটো ছোটো গর্ত সৃষ্টি হওয়াকে কোন্ ক্ষয় বলে?
ক) ঘর্ষণ ক্ষয়
খ) অবঘর্ষ
গ) জলপ্রবাহ ক্ষয়
ঘ) দ্রবণ ক্ষয়
10. নদীর জলস্রোতের প্রবল আঘাতে নদীখাত ভেঙে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক) অবঘর্ষ
খ) ঘর্ষণ
গ) জলপ্রবাহ ক্ষয়
ঘ) দ্রবণ ক্ষয়
11. পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হলে ইংরেজি 'V' আকৃতির উপত্যকা কীসে পরিণত হয়?
ক) গিরিখাত
খ) ক্যানিয়ন
গ) জলপ্রপাত
ঘ) মন্থকূপ
12. হিমালয় পর্বতে অবস্থিত বিশ্বের গভীরতম গিরিখাত কোনটি?
ক) কালি গণ্ডকী
খ) গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
গ) ইয়ারলুং জ্যাংবো
ঘ) মার্বেল ক্যানিয়ন
13. শুষ্ক মরুপ্রায় অঞ্চলে নদীর গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকাকে কী বলে?
ক) গিরিখাত
খ) ক্যানিয়ন
গ) রসে মতানে
ঘ) প্লাবনভূমি
14. পৃথিবীর বৃহত্তম ক্যানিয়ন কোনটি?
ক) গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
খ) কালি গণ্ডকী
গ) ইয়ারলুং জ্যাংবো
ঘ) কলোরাডো ক্যানিয়ন
15. ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাত কোনটি?
ক) যোগ
খ) কুঞ্চিকল
গ) শিবসমুদ্রম
ঘ) ধুয়াঁধর
16. পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত কোনটি?
ক) নায়াগ্রা
খ) ভিক্টোরিয়া
গ) অ্যাঞ্জেল
ঘ) ইগুয়াজু
17. জলপ্রপাতের নীচে জলস্রোতের আঘাত ও ঘূর্ণির ফলে সৃষ্ট গোলাকার গর্তকে কী বলে?
ক) মন্থকূপ
খ) প্রপাত কূপ
গ) পলল শঙ্কু
ঘ) প্লাবনভূমি
18. নদীগর্ভে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ছোটো-বড়ো গর্তগুলিকে কী বলে?
ক) প্রপাত কূপ
খ) মন্থকূপ
গ) পলল ব্যজনী
ঘ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
19. পর্বতের পাদদেশে নদী সমভূমিতে নেমে এলে পলল শঙ্কুর ওপর নদী নানা খাতে প্রবাহিত হলে কী সৃষ্টি হয়?
ক) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
খ) বদ্বীপ
গ) পলল ব্যজনী
ঘ) মিয়েন্ডার
20. নদীর আঁকাবাঁকা প্রবাহকে কী বলে?
ক) মিয়েন্ডার
খ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
গ) বদ্বীপ
ঘ) খাঁড়ি
21. নদীর বাঁকের কোন দিকে সঞ্চয় বেশি হয়?
ক) অবতল ঢালে
খ) উত্তল ঢালে
গ) খাড়া পাড়ে
ঘ) নদীগর্ভে
22. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ নদীর কোন গতিতে বেশি দেখা যায়?
ক) উচ্চগতিতে
খ) মধ্য ও নিম্নগতিতে
গ) মোহানায়
ঘ) শুধুমাত্র উচ্চগতিতে
23. নদীর নিম্নগতিতে মোহানায় পলি সঞ্চিত হয়ে মাত্রাহীন 'ব' বা ডেল্টা (Δ) আকৃতির ভূমিরূপকে কী বলে?
ক) খাঁড়ি
খ) বদ্বীপ
গ) প্লাবনভূমি
ঘ) স্বাভাবিক বাঁধ
24. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীর মোহানায় কী আকৃতির বদ্বীপ দেখা যায়?
ক) তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ
খ) পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ
গ) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ
ঘ) করাতের মতো বদ্বীপ
25. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি-মিসৌরি নদীর মোহানায় কী ধরনের বদ্বীপ দেখা যায়?
ক) পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ
খ) ধনুকাকৃতি বদ্বীপ
গ) তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ
ঘ) করাতের মতো বদ্বীপ
26. বদ্বীপ সৃষ্টির জন্য মোহানায় সমুদ্রজলের গভীরতা কেমন হওয়া প্রয়োজন?
ক) খুব গভীর
খ) কম গভীর
গ) মাঝারি গভীর
ঘ) গভীরতার কোনো প্রভাব নেই
27. হুগলি নদীর মোহানায় অবস্থিত সুন্দরবনের কোন্ দ্বীপটি সম্প্রতি জলমগ্ন হয়ে বিলীন হয়ে গিয়েছিল?
ক) সাগর দ্বীপ
খ) ফ্রেজারগঞ্জ
গ) লোহাচড়া
ঘ) পাথরপ্রতিমা
28. পৃথিবীর মোট জলসম্পদের কত শতাংশ সুপেয় জল?
ক) ১%
খ) ৩%
গ) ১০%
ঘ) ১৫%
29. পৃথিবীর বৃহত্তম সুপেয় জলের ভান্ডার কোনটি?
ক) নদী
খ) ভৌমজল
গ) মহাদেশীয় ও পার্বত্য হিমবাহ
ঘ) হ্রদ
30. সুমেরু ও কুমেরুতে বিরাট অঞ্চলজুড়ে বরফের স্তরকে কী বলে?
ক) পার্বত্য হিমবাহ
খ) মহাদেশীয় হিমবাহ
গ) পাদদেশীয় হিমবাহ
ঘ) উপকূলীয় হিমবাহ
31. ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ কোনটি?
ক) গঙ্গোত্রী
খ) জেমু
গ) সিয়াচেন
ঘ) হিসপার
32. আলাস্কার মালাসপিনা কী ধরনের হিমবাহের উদাহরণ?
ক) মহাদেশীয়
খ) পার্বত্য
গ) পর্বতের পাদদেশীয়
ঘ) উপকূলীয়
33. যে সীমারেখার ওপরে সারাবছর জল জমে বরফ থাকে, তাকে কী বলে?
ক) হিমশৈল
খ) হিমরেখা
গ) ক্রেভাস
ঘ) বার্গশূন্ড
34. হিমশৈলের কত অংশ জলের ওপরে ভেসে থাকে?
ক) ১/২ অংশ
খ) ১/৪ অংশ
গ) ১/৯ অংশ
ঘ) ৮/৯ অংশ
35. হিমবাহের উপরের পৃষ্ঠে সৃষ্ট ফাটলগুলিকে কী বলে?
ক) বার্গশূন্ড
খ) ক্রেভাস
গ) সার্ক
ঘ) ড্রামলিন
36. পর্বতগাত্র ও হিমবাহের মধ্যে সৃষ্ট সংকীর্ণ ফাঁক বা ফাটলকে কী বলে?
ক) ক্রেভাস
খ) বার্গশূন্ড
গ) রসে মতানে
ঘ) ফিওর্ড
37. হিমবাহের অবঘর্ষ ও উৎপাটন ক্ষয়ে সৃষ্ট হাতল ছাড়া ডেক চেয়ারের মতো গর্তকে কী বলে?
ক) অ্যারেট
খ) পিরামিড চূড়া
গ) সার্ক বা করি
ঘ) কেটল্
38. পাশাপাশি দুটি সার্কের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ, খাঁজকাটা শৈলশিরাকে কী বলে?
ক) পিরামিড চূড়া
খ) অ্যারেট
গ) ড্রামলিন
ঘ) কর্তিত শৈলশিরা
39. আল্পস পর্বতের ম্যাটারহর্ন কিসের উদাহরণ?
ক) সার্ক
খ) পিরামিড চূড়া
গ) রসে মতানে
ঘ) এসকার
40. হিমবাহ উপত্যকার আকৃতি ইংরেজি কোন্ অক্ষরের মতো হয়?
ক) V
খ) I
গ) U
ঘ) S
41. প্রধান হিমবাহ উপত্যকার ওপর শাখা হিমবাহ উপত্যকা অবস্থান করলে তাকে কী বলে?
ক) কর্তিত উপত্যকা
খ) ঝুলন্ত উপত্যকা
গ) ফিয়র্ড
ঘ) কেম
42. ঝুলন্ত উপত্যকায় হিমবাহ গলে নদীর সৃষ্টি হলে কী গঠিত হয়?
ক) হ্রদ
খ) জলপ্রপাত
গ) খরস্রোত
ঘ) মন্থকূপ
43. হিমবাহের প্রবাহপথে শিলাখণ্ডের প্রবাহের দিক অবঘর্ষে মসৃণ এবং বিপরীত দিক উৎপাটনে অমসৃণ হলে তাকে কী বলে?
ক) ড্রামলিন
খ) ক্র্যাগ ও টেল
গ) রসে মতানে
ঘ) ইনসেলবার্জ
44. হিমবাহের ক্ষয়কাজে সৃষ্ট সমুদ্র উপকূলবর্তী আংশিক জলপূর্ণ উপত্যকাকে কী বলে?
ক) রিয়া উপকূল
খ) ফিয়র্ড
গ) ডালমেশিয়ান উপকূল
ঘ) খাঁড়ি
45. হিমবাহের সঞ্চয়কাজে হিমবাহের সাথে বাহিত শিলাস্তূপ উপত্যকায় সঞ্চিত হলে তাকে কী বলে?
ক) গ্রাবরেখা
খ) রসে মতানে
গ) এসকার
ঘ) কেম
46. দুটি হিমবাহ মিলিত হলে তাদের মধ্যবর্তী অংশে কোন্ গ্রাবরেখা সৃষ্টি হয়?
ক) পার্শ্ব-গ্রাবরেখা
খ) প্রান্ত-গ্রাবরেখা
গ) মধ্য-গ্রাবরেখা
ঘ) অবিন্যস্ত গ্রাবরেখা
47. হিমবাহের সাথে বাহিত নুড়ি-পাথর সঞ্চিত হয়ে উলটানো নৌকা বা আধখানা ডিমের মতো টিলা গঠন করলে তাকে কী বলে?
ক) রসে মতানে
খ) এসকার
গ) ড্রামলিন
ঘ) কেটল্
48. হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে পর্বতের পাদদেশে গঠিত সমভূমিকে কী বলে?
ক) প্লাবনভূমি
খ) লোয়েস সমভূমি
গ) বহিঃধৌত সমভূমি
ঘ) বাজাদা
49. বহিঃধৌত সমভূমিতে বিশাল বরফের চাঁই চাপা পড়ে গলে গেলে যে গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
ক) কেটল্
খ) এসকার
গ) কেম
ঘ) ওয়াদি
50. হিমবাহের বাহিত নুড়ি-বালি সঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ, সংকীর্ণ আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো ভূমিরূপকে কী বলে?
ক) কেম
খ) ড্রামলিন
গ) এসকার
ঘ) গ্রাবরেখা
51. মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্যের প্রধান কারণ কী?
ক) অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
খ) গাছপালার অভাব ও শিথিল মাটি
গ) পাহাড়ের প্রাচুর্য
ঘ) নদীর উপস্থিতি
52. প্রবল বায়ুপ্রবাহে মরুভূমির শিথিল বালিরাশি অপসারিত হয়ে অবনত গর্তের সৃষ্টি হলে তাকে কী বলে?
ক) গৌর
খ) অপসারণ গর্ত
গ) জিউগেন
ঘ) ইয়ারদাং
53. মিশরের 'কাতারা' বা কোয়াতার কিসের উদাহরণ?
ক) প্লায়া হ্রদ
খ) অপসারণ গর্ত
গ) বার্খান
ঘ) ইনসেলবার্জ
54. বায়ুর ক্ষয়কার্যে কঠিন শিলা ওপরের দিকে ছাতার মতো এবং কোমল শিলা সরু স্তম্ভের মতো অবস্থান করলে তাকে কী বলে?
ক) গৌর
খ) জিউগেন
গ) ইয়ারদাং
ঘ) ইনসেলবার্জ
55. মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ে সৃষ্ট চ্যাপটা মাথার টিলা ও খাতকে কী বলে?
ক) ইয়ারদাং
খ) জিউগেন
গ) গৌর
ঘ) ড্রামলিন
56. মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলা লম্বালম্বি বা উলম্বভাবে থাকলে কোমল শিলা ক্ষয়ে যে মূর্তি আকৃতির শৈলশিরা গঠিত হয়, তাকে কী বলে?
ক) ইয়ারদাং
খ) জিউগেন
গ) ইনসেলবার্জ
ঘ) বার্খান
57. মরু বা আধা-মরু অঞ্চলে বায়ু ও অস্থায়ী জলধারার ক্ষয়ে সৃষ্ট বিক্ষিপ্ত, অনুচ্চ, গোলাকার পাহাড়গুলিকে কী বলে?
ক) ড্রামলিন
খ) রসে মতানে
গ) ইনসেলবার্জ
ঘ) গৌর
58. বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালির স্তূপকে কী বলে?
ক) সিফ বালিয়াড়ি
খ) বার্খান
গ) লোয়েস
ঘ) ড্রামলিন
59. বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে দীর্ঘ ও সংকীর্ণভাবে গঠিত বালিয়াড়িকে কী বলে?
ক) সিফ বালিয়াড়ি
খ) বার্খান
গ) আক্লে
ঘ) ওয়াদি
60. বায়ুবাহিত অতি সূক্ষ্ম বালিকণা বা মাটির কণা বহুদূরে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে, তাকে কী বলে?
ক) প্লাবনভূমি
খ) লোয়েস সমভূমি
গ) বহিঃধৌত সমভূমি
ঘ) পেডিমেন্ট
61. মরুভূমিতে বৃষ্টির জলের ক্ষয়কাজে সৃষ্ট শুষ্ক নদীখাতকে কী বলে?
ক) প্লায়া
খ) ওয়াদি
গ) বাজাদা
ঘ) ক্যানিয়ন
62. পর্বতের পাদদেশে বায়ু ও জলধারার মিলিত ক্ষয়ে সৃষ্ট মৃদু ঢালু সমতলভূমিকে কী বলে?
ক) প্লায়া
খ) পেডিমেন্ট
গ) বাজাদা
ঘ) ওয়াদি
63. পেডিমেন্টের নীচে নুড়ি, বালি, পলি সঞ্চিত হয়ে যে প্রায় সমতলভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলে?
ক) ওয়াদি
খ) বাজাদা
গ) প্লায়া
ঘ) লোয়েস
64. মরুভূমির অবনত গর্তে ভূগর্ভস্থ জল বা বৃষ্টির জল জমে সৃষ্ট লবণাক্ত হ্রদকে কী বলে?
ক) প্লায়া হ্রদ
খ) কেটল্ হ্রদ
গ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
ঘ) উপহ্রদ
65. রাজস্থানের সম্বর হ্রদ কিসের উদাহরণ?
ক) কেটল্ হ্রদ
খ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
গ) প্লায়া হ্রদ
ঘ) ক্রেটার হ্রদ
66. উত্পাদনশীল ভূমি ক্রমশ অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
ক) মরূদ্যান
খ) মরুকরণ
গ) আবহবিকার
ঘ) পর্যায়ন
67. মরু সম্প্রসারণ প্রতিরোধের একটি উল্লেখযোগ্য উপায় কী?
ক) অতিরিক্ত পশুচারণ
খ) বৃক্ষচ্ছেদন
গ) বৃক্ষরোপণ ও তৃণবলয় তৈরি
ঘ) অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ
68. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলের কোন্ দ্বীপের আয়তন অর্ধেকেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে?
ক) সাগর দ্বীপ
খ) ঘোড়ামারা দ্বীপ
গ) নিউমুর দ্বীপ
ঘ) লোহাচড়া দ্বীপ
69. ১৯৭০ সালে ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের পর জেগে ওঠা কোন্ দ্বীপটি ২০১০ সালে আবার জলমগ্ন হয়ে যায়?
ক) সাগর দ্বীপ
খ) লোহাচড়া
গ) নিউমুর (তালপট্টি)
ঘ) ফ্রেজারগঞ্জ
70. বায়ুর কোন্ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বালি একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়?
ক) ভাসমান প্রক্রিয়া
খ) লম্ফদান প্রক্রিয়া
গ) গড়ানো প্রক্রিয়া
ঘ) থিতানো প্রক্রিয়া

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

50 টি
1. ভূমিরূপ (Landform) কাকে বলে?
পৃথিবীপৃষ্ঠের উচ্চতা, ঢাল ও আকৃতির যে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য (উঁচু পর্বত, মালভূমি, সমতলভূমি) দেখা যায়, তাকেই ভূমিরূপ বলে।
2. বহির্জাত প্রক্রিয়া (Exogenetic processes) কী?
যে প্রক্রিয়ায় সূর্যতাপ, বৃষ্টিপাত, নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক বহির্জাত শক্তিগুলি ভূপৃষ্ঠের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য ঘটায়, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে।
3. অবরোহণ (Degradation) কী?
যে বহির্জাত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের কোনো উঁচু স্থান ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমতলভূমিতে পরিণত হয় বা তার উচ্চতা হ্রাস পায়, তাকে অবরোহণ বলে।
4. আরোহণ (Aggradation) কী?
যে প্রক্রিয়ায় ক্ষয়জাত পদার্থগুলি ভূপৃষ্ঠের নীচু অংশে সঞ্চিত হয়ে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধি করে, তাকে আরোহণ বা স্তূপীকরণ বলে।
5. পর্যায়ন (Gradation) কাকে বলে?
অবরোহণ ও আরোহণ প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফলস্বরূপ ভূপৃষ্ঠের সমতলীকরণ ঘটাকে বা উচ্চতার ভারসাম্য আসাকে পর্যায়ন বলে।
6. জলচক্র (Hydrological cycle) কী?
জলের বারিমণ্ডল থেকে বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডল হয়ে আবার বৃষ্টি বা তুষাররূপে বারিমণ্ডলে ফিরে আসার চক্রাকার গতিকেই জলচক্র বলে।
7. জল-বিভাজিকা (Watershed) কাকে বলে?
যে পার্বত্য অঞ্চল বা উচ্চভূমি কাছাকাছি অবস্থিত দুটি নদী-ব্যবস্থাকে পৃথক করে বা বৃষ্টির জলকে বিভিন্ন দিকে ভাগ করে দেয়, তাকে জল-বিভাজিকা বলে।
8. ধারণ অববাহিকা (Catchment area) কী?
পর্বতের ওপর থেকে পাদদেশ পর্যন্ত যে বিরাট অঞ্চলের বৃষ্টির জল বা বরফগলা জল মূল নদীতে এসে পড়ে, সেই অঞ্চলটিই ওই নদীর ধারণ অববাহিকা।
9. নদীর অবঘর্ষ (Corrasion) ক্ষয় বলতে কী বোঝো?
নদীবাহিত পাথরখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের সংঘর্ষের ফলে নদীখাতে ছোটো ছোটো গর্ত (Potholes) সৃষ্টি হয়ে নদীখাত দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়াকে অবঘর্ষ বলে।
10. শৃঙ্খলিত শৈলশিরা (Interlocking spur) কী?
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিপথে পাহাড় বা শৈলশিরা থাকলে নদী এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়। দূর থেকে দেখলে শৈলশিরাগুলিকে আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত মনে হয়, একে শৃঙ্খলিত শৈলশিরা বলে।
11. ক্যানিয়ন (Canyon) কাকে বলে?
মরুপ্রায় শুষ্ক অঞ্চলের দীর্ঘপথ জুড়ে নদীর জলের স্বল্পতার জন্য সৃষ্ট অতি সংকীর্ণ ও অতি গভীর 'I' আকৃতির গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলে (যেমন: গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন)।
12. মন্থকূপ (Pothole) কী?
পার্বত্য গতিতে নদীবাহিত শিলাখণ্ডের আঘাতে নদীগর্ভে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ছোটো-বড়ো গোলাকার গর্তগুলিকে মন্থকূপ বলে।
13. পলল ব্যজনী (Alluvial fan) কোথায় ও কীভাবে সৃষ্টি হয়?
পার্বত্য অঞ্চল পেরিয়ে নদী সমভূমিতে নামলে নদীর বেগ হঠাৎ কমে যাওয়ায় পলি, বালি শঙ্কুর আকারে সঞ্চিত হয় এবং নদী তার ওপর দিয়ে বয়ে গেলে তা হাতপাখার মতো অর্ধগোলাকার পলল ব্যজনী গঠন করে।
14. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow lake) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
নদী খুব এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হলে বাঁকের অবতল ঢালে ক্ষয় ও উত্তলে সঞ্চয় ঘটে। একসময় বাঁকটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো হ্রদের আকার ধারণ করে, একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
15. খাঁড়ি (Estuary) কাকে বলে?
নদীর মোহানায় স্রোতের বেগ বেশি থাকলে বা জোয়ারভাটা প্রবল হলে পলি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপ গঠিত না হয়ে ফানেলের মতো খোলা ও প্রশস্ত যে মোহানার সৃষ্টি হয়, তাকে খাঁড়ি বলে।
16. তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ (Cuspate delta) কী?
সমুদ্রতরঙ্গ প্রবল হলে মোহানায় সঞ্চিত পলি করাতের দাঁতের মতো তীক্ষ্ণ অগ্রভাগ নিয়ে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে থাকলে তাকে তীক্ষ্ণাগ্র বদ্বীপ বলে (যেমন: স্পেনের এব্রো নদীর বদ্বীপ)।
17. পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ কীভাবে গঠিত হয়?
নদীর জলের ঘনত্ব সমুদ্রের চেয়ে কম হলে এবং নদীর গতিবেগ বেশি থাকলে সূক্ষ্ম পলি সমুদ্রের লবণাক্ত জলে আসামাত্রই দু-পাশে থিতিয়ে পড়ে পাখির পায়ের মতো বদ্বীপ গঠন করে (যেমন: মিসিসিপি-মিসৌরি)।
18. হিমবাহ (Glacier) কাকে বলে?
পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে উচ্চ পার্বত্য বা মেরু অঞ্চলে তুষারক্ষেত্রের জমাট বাঁধা বরফ যখন অত্যন্ত ধীরগতিতে ভূমির ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নেমে আসে, তখন সেই বরফের নদীকে হিমবাহ বলে।
19. মহাদেশীয় হিমবাহ কী?
সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে বিরাট এলাকা জুড়ে যে সুবিশাল বরফের স্তর বা স্তূপ দেখা যায়, তাকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলে (যেমন: গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকা)।
20. হিমরেখা (Snowline) কী?
মেরুপ্রদেশ ও উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যে সীমারেখার ওপরে সারাবছর জল জমে বরফ থাকে এবং যার নীচে বরফ গলে যায়, সেই সীমারেখাকে হিমরেখা বলে।
21. হিমশৈল (Iceberg) কাকে বলে?
উপকূলীয় হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সংলগ্ন মহাসাগরে ভাসমান বিশাল বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে, যার মাত্র ১/৯ অংশ জলের ওপরে থাকে।
22. ক্রেভাস (Crevasse) ও বার্গশূন্ড (Bergschrund) কী?
হিমবাহের উপরের পৃষ্ঠে সৃষ্ট ফাটলগুলিকে ক্রেভাস বলে। আর পর্বতগাত্র থেকে হিমবাহ নীচে নামার সময় উভয়ের মধ্যে যে গভীর ফাটল তৈরি হয় তাকে বার্গশূন্ড বলে।
23. করি বা সার্ক (Corrie/Cirque) কী?
হিমবাহের অবঘর্ষ ও উৎপাটন ক্ষয়ের ফলে পর্বতের গায়ে সৃষ্ট হাতল ছাড়া ডেক চেয়ারের মতো আকৃতির গর্তবিশিষ্ট ভূমিরূপকে ফরাসি ভাষায় সার্ক এবং ইংরেজিতে করি বলে।
24. অ্যারেট (Arete) কাকে বলে?
হিমবাহের ক্ষয়কাজে পাশাপাশি দুটি সার্ক বা করির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ, খাঁজকাটা ও তীক্ষ্ণ পাঁচিলের মতো শৈলশিরাকে অ্যারেট বলে।
25. পিরামিড চূড়া (Pyramidal peak) কীভাবে গঠিত হয়?
একটি পাহাড়ের বিভিন্ন দিকে তিন-চারটি সার্ক পাশাপাশি সৃষ্টি হলে, তাদের মধ্যবর্তী খাড়া পর্বত চূড়াটি পিরামিডের মতো তীক্ষ্ণ আকার ধারণ করে, একে পিরামিড চূড়া বলে (যেমন: ম্যাটারহর্ন)।
26. হিমদ্রোণী বা U-আকৃতির উপত্যকা কী?
হিমবাহ উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পার্শ্বক্ষয় ও নিম্নক্ষয় সমানভাবে করে, ফলে পার্বত্য উপত্যকাটি প্রশস্ত হয়ে ইংরেজি 'U' অক্ষরের আকার ধারণ করে, একে হিমদ্রোণী বলে।
27. ঝুলন্ত উপত্যকা (Hanging valley) কী?
প্রধান হিমবাহ উপত্যকার ওপর শাখা হিমবাহ দ্বারা গঠিত উপত্যকাগুলি যখন ওপর থেকে ভাসমান বা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তখন তাকে ঝুলন্ত উপত্যকা বলে।
28. রসে মতানে (Roches Moutonnes) কাকে বলে?
হিমবাহের প্রবাহপথে কোনো কঠিন শিলাখণ্ডের হিমবাহ প্রবাহের দিকটি অবঘর্ষে মসৃণ এবং বিপরীত দিকটি উৎপাটনে অমসৃণ ও ভগ্ন হলে সেই ঢিবির মতো ভূমিরূপকে রসে মতানে বলে।
29. ক্র্যাগ ও টেল (Crag and tail) কী?
হিমবাহের গতিপথে কঠিন শিলার (ক্র্যাগ) পিছনে নরম শিলা থাকলে তা ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে ঢালু লেজের মতো অবস্থান করে (টেল)। এই ভূমিরূপকে ক্র্যাগ ও টেল বলে।
30. ফিয়র্ড (Fjord) কী?
সমুদ্র উপকূলবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের গভীরভাবে ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট আংশিক জলপূর্ণ উপত্যকাকে ফিয়র্ড বলে (যেমন: নরওয়ের উপকূল)।
31. গ্রাবরেখা (Moraine) কাকে বলে?
হিমবাহের প্রবাহপথে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি প্রভৃতি হিমবাহের সঙ্গে বাহিত হয়ে উপত্যকার বিভিন্ন অংশে সঞ্চিত হলে সেই শিলাস্তূপকে গ্রাবরেখা বলে।
32. ড্রামলিন (Drumlin) কী?
হিমবাহের সঞ্চয়কাজে নুড়ি-পাথর, বালি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে উলটানো নৌকা বা আধখানা ডিমের মতো যে টিলা গঠন করে, তাকে ড্রামলিন বা 'ডিমের ঝুড়ি ভূমিরূপ' বলে।
33. বহিঃধৌত সমভূমি (Out wash plain) কীভাবে তৈরি হয়?
পর্বতের পাদদেশে হিমবাহ গলে নদীর সৃষ্টি হলে হিমবাহের বয়ে আনা নুড়ি, কাঁকর, বালি সঞ্চিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠন করে তাকে বহিঃধৌত সমভূমি বলে।
34. এসকার (Esker) কী?
হিমবাহের বয়ে আনা নুড়ি, বালি, কাদা জলস্রোত দ্বারা বাহিত হয়ে নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ, সংকীর্ণ, আঁকাবাঁকা শৈলশিরার মতো যে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে এসকার বলে।
35. মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য বেশি কেন?
মরুভূমিতে গাছপালা ও বৃষ্টির অভাব থাকায় মাটি শিথিল থাকে এবং পাহাড়ের বাধা না থাকায় বায়ু প্রবল বেগে বইতে পারে, তাই বায়ুর কাজ বেশি দেখা যায়।
36. অবঘর্ষ (Abrasion) ক্ষয় বায়ুর ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করে?
বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে ভাসমান বালি ও কঠিন কোয়ার্টজ কণার ঘর্ষণে মরুভূমির শিলাস্তর ক্ষয় পেয়ে আঁচড়ের দাগ বা গর্ত সৃষ্টি হওয়াকে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয় বলে।
37. অপসারণ গর্ত (Deflation Hollow) কী?
প্রবল বায়ুপ্রবাহের ফলে মরুভূমির শিথিল বালি একস্থান থেকে অন্যত্র অপসারিত হয়ে যে বিস্তীর্ণ অবনত ভূভাগের বা গর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে অপসারণ গর্ত বলে (যেমন: মিশরের কাতারা)।
38. গৌর (Gour) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে নীচের কোমল শিলা অবঘর্ষে বেশি ক্ষয় পেয়ে সরু স্তম্ভ এবং ওপরের কঠিন শিলা ব্যাঙের ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকে, একে গৌর বলে।
39. জিউগেন (Zeugen) কী?
উপরের কঠিন ও নীচের কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে বায়ুর ক্ষয়ে কঠিন শিলা চ্যাপটা মাথার টিলা এবং কোমল শিলা খাত তৈরি করে যে ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে জিউগেন বলে।
40. ইয়ারদাং (Yardang) কাকে বলে?
মরু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলা লম্বালম্বিভাবে থাকলে কোমল শিলা ক্ষয়ে গহ্বর এবং কঠিন শিলা বিভিন্ন মূর্তি বা শৈলশিরার মতো দাঁড়িয়ে থাকে, একে ইয়ারদাং বলে।
41. ইনসেলবার্জ (Inselberg) কী?
মরু বা শুষ্ক অঞ্চলে বায়ু ও অস্থায়ী জলধারার ক্ষয়ে সৃষ্ট কঠিন শিলায় গঠিত অনুচ্চ, ক্ষয়ীভূত, মসৃণ ও গোলাকার পাহাড়গুলিকে ইনসেলবার্জ বলে।
42. বালিয়াড়ি (Sand Dunes) কাকে বলে?
বিস্তীর্ণ স্থানজুড়ে বায়ুর সঞ্চয়কাজে গঠিত উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপকে বালিয়াড়ি বলে। এটি মরুভূমি এবং সমুদ্রোপকূলে দেখা যায়।
43. বার্খান (Barchan) কী?
উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালির স্তূপকে বার্খান বলে। এর দুই প্রান্তে শিং-এর মতো শিরা থাকে।
44. সিফ বালিয়াড়ি (Seif dune) কীভাবে গঠিত হয়?
বায়ুর গতিপ্রবাহের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গঠিত দীর্ঘ, সংকীর্ণ, তরোয়ালের মতো বালিয়াড়িকে অনুদৈর্ঘ্য বা সিফ বালিয়াড়ি বলে। বায়ুর দিক পরিবর্তনে বার্খানের শিং প্রসারিত হয়ে এটি গঠিত হয়।
45. লোয়েস সমভূমি (Loess plain) কী?
বায়ুবাহিত অতি সূক্ষ্ম বালিকণা (০.০৫ মিমি-এর কম ব্যাস) বহুদূরে বাহিত হয়ে কোনো স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে উর্বর সমভূমি গঠন করে তাকে লোয়েস সমভূমি বলে (যেমন: চীনের হোয়াং হো অববাহিকা)।
46. ওয়াদি (Wadi) কাকে বলে?
মরুভূমিতে বৃষ্টির জলের ক্ষয়কাজে সৃষ্ট ছোটো, অস্থায়ী ও শুষ্ক নদীখাতগুলিকে আরবি ভাষায় ওয়াদি বলা হয়। এগুলোতে বৃষ্টির জল কিছুদূর গিয়ে বালিতে হারিয়ে যায়।
47. পেডিমেন্ট (Pediment) কী?
মরুভূমি অঞ্চলে বায়ু ও অস্থায়ী জলধারার ক্ষয়কাজে পর্বতের পাদদেশে গঠিত উন্মুক্ত শিলা ও পলিস্তরে ঢাকা ঢালু সমতলভূমিকে পেডিমেন্ট বলে।
48. বাজাদা (Bajada) কাকে বলে?
পেডিমেন্টের নীচে মরুভূমির নিম্নভূমিতে অস্থায়ী জলধারার সঞ্চয়কাজে নুড়ি, বালি, পলি সঞ্চিত হয়ে যে প্রায় সমতলভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে বাজাদা বলে।
49. প্লায়া (Playa) হ্রদ কী?
বায়ুপ্রবাহে বালি অপসারিত হয়ে মরুভূমিতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হলে তাতে ভূগর্ভস্থ বা বৃষ্টির জল জমে যে লবণাক্ত হ্রদের সৃষ্টি হয় তাকে প্লায়া বলে (যেমন: রাজস্থানের সম্বর)।
50. মরুকরণ বা মরু সম্প্রসারণ বলতে কী বোঝায়?
যে প্রক্রিয়ার দ্বারা উৎপাদনশীল উর্বর ভূমি প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে ক্রমশ সম্পূর্ণভাবে উৎপাদনে অক্ষম অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হয়, তাকে মরুকরণ বলে।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

20 টি
1. নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপের সচিত্র বর্ণনা দাও।

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

নদীর উচ্চগতি বা পার্বত্য প্রবাহে প্রবল স্রোতের কারণে নদী প্রধানত ক্ষয়কাজ করে। এর ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হল:

  • V-আকৃতির উপত্যকা ও গিরিখাত (Gorge): পার্বত্য অঞ্চলে নদীর প্রবল নিম্নক্ষয়ের ফলে নদীখাত গভীর হয়, কিন্তু দু-পাশে সামান্য পার্শ্বক্ষয় চলতে থাকায় উপত্যকা ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো আকার ধারণ করে। এই অতি গভীর ও সংকীর্ণ উপত্যকাকে গিরিখাত বলে। (যেমন: নেপালের কালিগণ্ডকী গিরিখাত)।
  • জলপ্রপাত (Waterfall): নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি করে। তখন জলস্রোত খাড়া ঢাল বেয়ে সজোরে নীচে পড়ে, একে জলপ্রপাত বলে। (যেমন: ভারতের কুঞ্চিকল)।
  • মন্থকূপ (Potholes): নদীগর্ভে কোমল শিলা অবস্থান করলে নদীবাহিত পাথরখণ্ডের আঘাতে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ছোটো-বড়ো গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয়। এগুলিকে মন্থকূপ বলে। (যেমন: ঝাড়খণ্ডের খরকাই নদীতে দেখা যায়)।

(পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় প্রতিটি ভূমিরূপের রেখাচিত্র বা পেনসিল স্কেচ দেওয়া আবশ্যক।)

2. নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রধান ভূমিরূপের বিবরণ দাও।

নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে স্রোতের বেগ কমে যাওয়ায় নদী অবক্ষেপণ বা সঞ্চয়কাজ করে। এর ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ হল:

  • পলল ব্যজনী (Alluvial fan): নদী পার্বত্য অঞ্চল ছেড়ে সমভূমিতে নামলে স্রোতের বেগ হঠাৎ কমে যায়। তখন পর্বতের পাদদেশে পলি, কাঁকর, নুড়ি শঙ্কুর আকারে সঞ্চিত হয়। নদী এর ওপর দিয়ে বইলে তা হাতপাখার মতো অর্ধগোলাকার আকার ধারণ করে, একে পলল ব্যজনী বলে।
  • অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-bow lake): মধ্যপ্রবাহে নদী অত্যন্ত এঁকেবেঁকে (মিয়েন্ডার) প্রবাহিত হলে নদীবাঁকের অবতল ঢালে ক্ষয় ও উত্তল ঢালে সঞ্চয় চলে। একসময় বাঁকের মাঝের অংশ ক্ষয়ে জুড়ে গিয়ে নদী সোজা পথে বয়। তখন পরিত্যক্ত বাঁকটি ঘোড়ার ক্ষুরের মতো হ্রদের আকারে অবস্থান করে, যাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে।
  • বদ্বীপ (Delta): নদীর নিম্নগতিতে মোহানার কাছে স্রোতের বেগ অত্যন্ত কমে যাওয়ায় নদীবাহিত পলি, কাদা সঞ্চিত হয়ে গ্রিক অক্ষর 'ডেল্টা' (Δ) বা মাত্রাহীন 'ব'-এর মতো যে ভূমিরূপ গঠন করে তাকে বদ্বীপ বলে (যেমন: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ)।
3. বদ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল ভৌগোলিক শর্তগুলি আলোচনা করো।

বদ্বীপ সৃষ্টির অনুকূল ভৌগোলিক শর্ত বা অবস্থা:

সব নদীর মোহানায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে না (যেমন নর্মদা, তাপ্তীতে নেই)। বদ্বীপ গড়ে ওঠার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলি প্রয়োজন:

  1. স্রোতের স্বল্প বেগ: মোহানার কাছে নদী বা সমুদ্রের স্রোতের বেগ কম হতে হবে, যাতে পলি সহজে সঞ্চিত হতে পারে।
  2. পলির প্রাচুর্য: নদীর জলে প্রচুর পরিমাণে অবক্ষেপণযোগ্য বালি, কাদা ও পলি থাকতে হবে। নদী অববাহিকার আয়তন বড়ো হলে পলির পরিমাণ বেশি হয়।
  3. সমুদ্রের অগভীরতা: নদী যে স্থানে সাগরে পতিত হবে, সেখানকার সমুদ্রের গভীরতা কম হওয়া প্রয়োজন।
  4. লবণতার আধিক্য: মোহানায় সমুদ্রজলের লবণতা বেশি হলে নদীবাহিত পলি দ্রুত থিতিয়ে পড়ে বা অধঃক্ষিপ্ত হয়।
  5. জোয়ারভাটার প্রকোপ: নদী-মোহানায় জোয়ারভাটার প্রকোপ কম হওয়া বাঞ্ছনীয়, নাহলে জোয়ারের টানে পলি গভীর সমুদ্রে ভেসে যাবে।
  6. উন্মুক্ত সমুদ্রের অভাব: উন্মুক্ত সমুদ্রের তুলনায় স্থলবেষ্টিত সাগরে নদী পড়লে তরঙ্গের আঘাত কম হয়, ফলে বদ্বীপ গঠনের হার বৃদ্ধি পায়।
4. গিরিখাত (Gorge) ও ক্যানিয়নের (Canyon) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

গিরিখাত ও ক্যানিয়নের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যগিরিখাত (Gorge)ক্যানিয়ন (Canyon)
উৎপত্তি অঞ্চলবৃষ্টিবহুল অতি উচ্চ ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয়।বৃষ্টিবিরল শুষ্ক মরুপ্রায় বা উচ্চভূমি অঞ্চলে সৃষ্টি হয়।
আকৃতিনিম্নক্ষয়ের সাথে সামান্য পার্শ্বক্ষয় হওয়ায় এটি ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো হয়।শুধুমাত্র নিম্নক্ষয় হওয়ায় এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং ইংরেজি 'I' অক্ষরের মতো হয়।
গভীরতা ও বিস্তারঅত্যন্ত গভীর ও সংকীর্ণ, তবে ক্যানিয়নের চেয়ে ওপরের দিক কিছুটা চওড়া।অত্যন্ত গভীর এবং আগাগোড়া অতি সংকীর্ণ (সংকীর্ণতা বেশি)।
উদাহরণনেপালের কালিগণ্ডকী নদীর গিরিখাত (বিশ্বের গভীরতম)।আমেরিকার কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন (বিশ্বের বৃহত্তম)।
5. রসে মতানে (Roches Moutonnes) এবং ড্রামলিনের (Drumlin) মধ্যে পার্থক্য লেখো।

রসে মতানে ও ড্রামলিনের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যরসে মতানেড্রামলিন
সৃষ্টির প্রক্রিয়াএটি হিমবাহের অবঘর্ষ ও উৎপাটন ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত হয়।এটি হিমবাহের সঞ্চয়কাজের (অবক্ষেপণ) ফলে গঠিত হয়।
আকৃতি ও প্রকৃতিএর হিমবাহ প্রবাহের দিকটি মসৃণ এবং বিপরীত দিকটি এবড়োখেবড়ো (অমসৃণ) হয়।এটি দেখতে উলটানো নৌকা বা আধখানা ডিমের মতো হয়।
অবস্থানসাধারণত এটি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদী উপত্যকার মধ্যে সৃষ্টি হয়।এটি সাধারণত পর্বতের পাদদেশবর্তী অঞ্চলে বা সমভূমিতে সৃষ্টি হয়।
অবস্থানের ধরনরসে মতানে সাধারণত বিক্ষিপ্তভাবে বা এককভাবে অবস্থান করে।ড্রামলিন একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে অবস্থান করে (যাকে 'ডিমের ঝুড়ি' ভূমিরূপ বলে)।
6. হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট করি, অ্যারেট ও পিরামিড চূড়ার বর্ণনা দাও।

হিমবাহের ক্ষয়কাজে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

  • করি বা সার্ক (Corrie / Cirque): উচ্চ পর্বতের ঢালে হিমবাহের উৎপাটন (প্লাকিং) এবং অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে যে বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়, যা দেখতে অনেকটা 'হাতল ছাড়া ডেক চেয়ারের' মতো, তাকে সার্ক বা করি বলে। বরফ গলে গেলে এতে করি হ্রদ সৃষ্টি হয়।
  • অ্যারেট (Arete): পাশাপাশি দুটি সার্ক সৃষ্টি হলে তাদের মাঝখানের দেওয়ালটি ক্ষয় পেয়ে একটি তীক্ষ্ণ, সংকীর্ণ, করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা শৈলশিরায় পরিণত হয়। এই খাড়া প্রাচীর বা শৈলশিরাটিকে অ্যারেট বলে।
  • পিরামিড চূড়া (Pyramidal Peak): একটি পাহাড়ের বিভিন্ন দিকে তিন-চারটি সার্ক পাশাপাশি গঠিত হলে, সার্কগুলির পেছনের দেওয়াল ক্ষয় পেয়ে পেছাতে থাকে। এর ফলে মাঝখানের পর্বত চূড়াটি তীক্ষ্ণ, খাড়া ও পিরামিডের মতো আকার ধারণ করে। একে পিরামিড চূড়া বা হর্ন বলে। (উদাহরণ: আল্পসের ম্যাটারহর্ন)।
7. হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে সৃষ্ট তিনটি ভূমিরূপের বিবরণ দাও।

হিমবাহ ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

পর্বতের পাদদেশে হিমবাহ গলে নদীর সৃষ্টি হলে উভয়ের মিলিত সঞ্চয়কাজে যে ভূমিরূপগুলি গঠিত হয় তা হল:

  • বহিঃধৌত সমভূমি (Out wash plain): উঁচু পর্বতের পাদদেশে হিমবাহ গলে জলধারার সৃষ্টি হলে হিমবাহের বয়ে আনা পাথরের টুকরো, নুড়ি, বালি, কাদা বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে বহিঃধৌত সমভূমি বলে।
  • এসকার (Esker): হিমবাহের বহন করে আনা নুড়ি, পাথর, কাদা, বালি প্রভৃতি জলস্রোতের দ্বারা বাহিত হয়ে পাদদেশের নিম্নভূমিতে দীর্ঘ, সংকীর্ণ এবং সাপের মতো আঁকাবাঁকা শৈলশিরার আকারে সঞ্চিত হলে তাকে এসকার বলে।
  • কেম (Kame): পর্বতের পাদদেশে কোনো হ্রদ থাকলে সেখানে হিমবাহ বাহিত কাদা, বালি, কাঁকর ইত্যাদি স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে তিনকোণা বদ্বীপের মতো বা ধাপযুক্ত যে টিলার সৃষ্টি করে তাকে কেম বলে।
8. বায়ুর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট গৌর, জিউগেন ও ইয়ারদাং-এর সচিত্র বিবরণ দাও।

বায়ুর ক্ষয়কাজে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

  • গৌর (Gour): বায়ুর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে নীচের কোমল অংশ বায়ুর ঘর্ষণে বেশি ক্ষয় পেয়ে সরু স্তম্ভের আকার নেয়। ওপরের কঠিন অংশটি কম ক্ষয় পেয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। স্তম্ভাকৃতি এই ভূমিরূপকে গৌর বা মাশরুম রক বলে।
  • জিউগেন (Zeugen): উপরের স্তরে কঠিন শিলা ও নীচের স্তরে কোমল শিলা অনুভূমিকভাবে থাকলে ফাটল বরাবর বায়ুর ক্ষয়ে কোমল শিলা গভীর খাত তৈরি করে এবং কঠিন শিলা চ্যাপটা মাথার টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। দুটি খাতের মাঝের এই চ্যাপটা টিলাকে জিউগেন বলে (উচ্চতা ৩-৩০ মি)।
  • ইয়ারদাং (Yardang): কঠিন ও কোমল শিলা লম্বালম্বি বা উলম্বভাবে পাশাপাশি থাকলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ে কোমল শিলা গহ্বরের আকার নেয় এবং কঠিন শিলাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন মূর্তি বা শৈলশিরার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। একে ইয়ারদাং বলে (উচ্চতা ৬ মি পর্যন্ত)।

(পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় প্রতিটি ভূমিরূপের রেখাচিত্র আবশ্যক।)

9. বায়ুর সঞ্চয়কাজের ফলে সৃষ্ট বালিয়াড়িগুলির (বার্খান ও সিফ) শ্রেণিবিন্যাস ও বৈশিষ্ট্য লেখো।

বালিয়াড়ি (Sand Dunes):

মরুভূমিতে বায়ুর সঞ্চয়কাজে সৃষ্ট উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপকে বালিয়াড়ি বলে। আকৃতি অনুসারে এরা দু-ধরনের:

  • বার্খান (Barchan) বা তির্যক বালিয়াড়ি: বায়ুপ্রবাহের পথে আড়াআড়িভাবে গঠিত অর্ধচন্দ্রাকৃতি বালির স্তূপকে বার্খান বলে।
    বৈশিষ্ট্য: ১) এর বায়ুপ্রবাহের দিকের অংশ উত্তল ও বিপরীত দিক অবতল হয়। ২) এর দুই প্রান্তে শিং-এর মতো দুটি শিরা থাকে। ৩) এদের উচ্চতা ১৫ মি ও প্রস্থ ৪০-৭০ মি হয়। ৪) এরা প্রতিনিয়ত সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
  • সিফ (Seif) বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি: বায়ুর গতিপ্রবাহের সঙ্গে সমান্তরালভাবে গঠিত দীর্ঘ, সংকীর্ণ, তরোয়ালের মতো বালিয়াড়িকে সিফ বালিয়াড়ি বলে।
    বৈশিষ্ট্য: ১) বার্খানের একটি শিং প্রসারিত হয়ে সিফ তৈরি হতে পারে। ২) এরা বায়ুর সমান্তরালে শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ হতে পারে। ৩) উচ্চতা ১০০ মিটারের বেশি হতে পারে। ৪) থর মরুভূমিতে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে এরা সমান্তরালভাবে বিস্তৃত।
10. জিউগেন (Zeugen) ও ইয়ারদাং (Yardang)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

জিউগেন ও ইয়ারদাং-এর পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যজিউগেনইয়ারদাং
শিলার অবস্থানএক্ষেত্রে কঠিন ও কোমল শিলাস্তরগুলি অনুভূমিকভাবে (উপর-নীচ) পর্যায়ক্রমে অবস্থান করে।এক্ষেত্রে কঠিন ও কোমল শিলাস্তরগুলি লম্বালম্বি বা উলম্বভাবে (পাশাপাশি) অবস্থান করে।
আকৃতিকঠিন শিলাটি চ্যাপটা মাথার টিলা এবং কোমল শিলাটি খাতের আকার ধারণ করে। মাথার দিক চ্যাপটা হয়।কঠিন শিলাগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন মূর্তি বা শৈলশিরার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মাথার দিক তীক্ষ্ণ বা অমসৃণ হয়।
উচ্চতাএদের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় (সাধারণত ৩ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত)।এদের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হয় (সাধারণত ৬ মিটার পর্যন্ত)।
ক্ষয়ের প্রকৃতিবায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয় কোমল শিলায় বেশি কার্যকর হয়ে ফাটলগুলিকে প্রসারিত করে।বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয় কঠিন শিলাকে এড়িয়ে কোমল শিলাকে গভীরভাবে ক্ষয় করে সুড়ঙ্গ বানায়।
11. বায়ু ও জলধারার মিলিত কাজের ফলে সৃষ্ট পেডিমেন্ট (Pediment) ও বাজাদা (Bajada) ভূমিরূপের বর্ণনা দাও।

বায়ু ও জলধারার মিলিত কার্যে সৃষ্ট ভূমিরূপ:

মরু বা মরুপ্রায় অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ও অস্থায়ী প্রবল জলধারা (ওয়াদি)-র মিলিত কার্যে পর্বতের পাদদেশে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভূমিরূপ গড়ে ওঠে:

  • পেডিমেন্ট (Pediment): পর্বতের পাদদেশের উন্মুক্ত শিলাস্তর এবং পলিস্তরে ঢাকা ঢালু ও প্রায় সমতল ভূমিকে পেডিমেন্ট বলে। বায়ু ও জলধারার অবঘর্ষ ক্ষয় ও অপসারণের ফলে পর্বতের পাদদেশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই মৃদু ঢালু ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়। এর ওপর মাঝে মাঝে ইনসেলবার্জ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় (যেমন আটলাস পর্বতের পাদদেশে)।
  • বাজাদা (Bajada): পেডিমেন্টের নীচে মরুভূমির নিম্নভূমিতে বা প্লায়া হ্রদের চারপাশে অস্থায়ী জলধারার সঞ্চয়কাজে নুড়ি, বালি, পলি, কাদা সঞ্চিত হয়ে যে সুবিস্তীর্ণ সমভূমি বা পলিগঠিত সমতলভূমির সৃষ্টি হয়, তাকে বাজাদা বলে। কয়েকটি পলল ব্যজনী পাশাপাশি জুড়ে গিয়েও বাজাদা তৈরি হতে পারে।
12. মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্য এত বেশি দেখা যায় কেন?

মরু অঞ্চলে বায়ুর কাজের প্রাধান্যের কারণ:

ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র বায়ু প্রবাহিত হলেও কেবল মরু ও মরুপ্রায় অঞ্চলে এর কাজ সবচেয়ে বেশি। এর কারণগুলি হল:

  1. গাছপালার অভাব: বৃষ্টিপাতের অভাবে মরুভূমিতে গাছপালা থাকে না। ফলে বায়ুর গতিপথে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না এবং বায়ু প্রবল বেগে বইতে পারে।
  2. মাটির শিথিলতা: গাছপালার শিকড় ও মাটির আর্দ্রতা না থাকায় বালুকণা ও মৃত্তিকা সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না, অত্যন্ত শিথিল থাকে। ফলে বায়ু সহজেই বালি উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।
  3. যান্ত্রিক আবহবিকারের প্রাবল্য: মরুভূমিতে দিনরাত্রির চরম উষ্ণতার পার্থক্যের কারণে শিলার ব্যাপক সংকোচন-প্রসারণ ঘটে। প্রবল যান্ত্রিক আবহবিকারের ফলে শিলা দ্রুত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে বালিতে পরিণত হয়, যা বায়ুর ক্ষয়কাজে (অবঘর্ষ) প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
  4. বৃষ্টিহীনতা: বৃষ্টিহীন শুষ্ক পরিবেশ মাটিকে শুষ্ক ও আলগা রাখে, যা অপসারণ প্রক্রিয়ার জন্য আদর্শ।
13. বিশ্ব উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাবে সুন্দরবন অঞ্চলে কী কী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তা আলোচনা করো।

সুন্দরবনে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব:

গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশে অবস্থিত সুন্দরবনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে:

  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়নে মেরু অঞ্চল ও পর্বতের হিমবাহ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে (বার্ষিক প্রায় ২.৯ মিমি)। ফলে সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি দ্রুত সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
  • দ্বীপের নিমজ্জন: সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির কারণে ১৯৯৫ সাল নাগাদ লোহাচড়া দ্বীপটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়। তালপট্টি বা নিউমুর দ্বীপটিও ২০১০ সালে পুনরায় তলিয়ে যায়।
  • দ্বীপের সংকোচন: ঘোড়ামারা দ্বীপের আয়তন ১৯৭৫ সালের ৮.৫১ বর্গকিমি থেকে সংকুচিত হয়ে ২০১২ সালে ৪.৪৩ বর্গকিমিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য দ্বীপের তীরভাগও প্রবলভাবে ক্ষয় পাচ্ছে।
  • ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি: সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের সংখ্যা ও তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে (যেমন আয়লা, আম্ফান), যা সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য, জীববৈচিত্র্য এবং জনবসতিকে ধ্বংস করছে।
  • লবণাক্ততা বৃদ্ধি: সমুদ্রের নোনা জল কৃষিজমিতে প্রবেশ করে উর্বরতা নষ্ট করছে এবং মিষ্টি জলের অভাব দেখা দিচ্ছে।
14. মরুকরণ (Desertification) বা মরু সম্প্রসারণের প্রধান কারণগুলি কী কী?

মরু সম্প্রসারণের কারণসমূহ:

উৎপাদনশীল ভূমি ক্রমশ অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হওয়াকে মরুকরণ বলে। এর প্রধান কারণগুলি হল:

  1. বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন: গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের অভাব খরা পরিস্থিতি তৈরি করে, ফলে মাটি আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক মরু অঞ্চলে পরিণত হয়।
  2. নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন: গাছপালা কেটে ফেলার ফলে মাটি আলগা হয়ে যায় এবং বায়ু সহজেই সেই উর্বর মাটিকে উড়িয়ে নিয়ে মরুভূমির বালি দ্বারা ঢেকে দেয়।
  3. অতিরিক্ত পশুচারণ: তৃণভূমিতে অনিয়ন্ত্রিত পশুচারণের ফলে ঘাসের আচ্ছাদন নষ্ট হয়ে মাটি উন্মুক্ত ও শিথিল হয়ে পড়ে।
  4. অবৈজ্ঞানিক কৃষিকাজ ও অতিরিক্ত সেচ: অবৈজ্ঞানিক চাষ এবং অতিরিক্ত ভৌমজল উত্তোলনের ফলে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়ে তা অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হয়।
  5. বালিয়াড়ির চলন: বায়ুর অপসারণ প্রক্রিয়ায় মরুভূমির বালিয়াড়ি ক্রমাগত সামনের উর্বর কৃষিভূমির দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে গ্রাস করে নেয়।
15. মরুকরণ বা মরু অঞ্চলের প্রসারণ প্রতিরোধের উপায়গুলি আলোচনা করো।

মরু সম্প্রসারণ প্রতিরোধের উপায়:

মরুকরণের গ্রাস থেকে জীববৈচিত্র্য ও উর্বর জমি বাঁচানোর জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত:

  1. বৃক্ষরোপণ (Afforestation): মরুভূমির সীমান্তে বায়ুর গতিপথের আড়াআড়িভাবে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগিয়ে (Shelter belt) বা তৃণবলয় তৈরি করে বালির চলন রোধ করতে হবে।
  2. শুকনো ঘাস ও খড় দ্বারা আচ্ছাদন: বালির প্রসারণ রোধ করতে এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে শুকনো ঘাস বা খড় দিয়ে গাছপালার গোড়া ও কৃষিজমি ঢেকে দিতে হবে (Mulching)।
  3. কৃষিপদ্ধতির পরিবর্তন: মাটিতে শুঁটি জাতীয় উদ্ভিদের চাষ (নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণ) এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসলের চাষ (Crop rotation) করে মাটির উর্বরতা রক্ষা করতে হবে।
  4. পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পশুচারণ করতে হবে যাতে ঘাসের আচ্ছাদন সম্পূর্ণ নষ্ট না হয়।
  5. জল সংরক্ষণ: শুষ্ক অঞ্চলে কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈজ্ঞানিক জলসেচ বন্ধ করতে হবে।
16. নদীর ক্ষয়কাজের বিভিন্ন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো।

নদীর ক্ষয়কাজের প্রক্রিয়া:

পার্বত্য অঞ্চলে স্রোতের বেগে নদী প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কাজ করে থাকে:

  1. জলপ্রবাহ ক্ষয় (Hydraulic Action): নদীর প্রবল জলস্রোতের প্রচণ্ড আঘাতে নদীখাত এবং তীরের পাথরখণ্ডগুলি ভেঙে গিয়ে মূল শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে জলপ্রবাহ ক্ষয় বলে।
  2. অবঘর্ষ (Corrasion / Abrasion): নদীর স্রোতের সঙ্গে বাহিত বড়ো বড়ো পাথর, নুড়ি, বালি প্রভৃতি নদীগর্ভে ও নদীর দুই পাড়ে সজোরে আঘাত করে নদীখাতকে গভীর ও চওড়া করে। একে অবঘর্ষ বলে। এর ফলে নদীগর্ভে মন্থকূপ (Potholes) সৃষ্টি হয়।
  3. ঘর্ষণ ক্ষয় (Attrition): নদীবাহিত শিলাখণ্ড, পাথর ও নুড়িগুলি স্রোতের টানে এগিয়ে চলার সময় নিজেদের মধ্যে ঠোকাঠুকি লেগে ঘষা খেয়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছোটো গোলাকার মসৃণ পাথর বা বালিতে পরিণত হয়। একে ঘর্ষণ ক্ষয় বলে।
  4. দ্রবণ ক্ষয় (Solution): নদীর জল চুনাপাথর (Karst), ডলোমাইট বা লবণযুক্ত শিলাস্তরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে তা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জলে সহজে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। একে দ্রবণ ক্ষয় বলে।
17. নদীর বহনকাজের বিভিন্ন পদ্ধতিগুলি কী কী?

নদীর বহনকাজের প্রক্রিয়া:

নদী তার ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড, বালি, কাদা প্রধানত চারটি প্রক্রিয়ায় বহন করে থাকে:

  1. আকর্ষণ বা গড়ানো প্রক্রিয়া (Traction): বড়ো ও ভারী পাথরখণ্ডগুলি স্রোতের টানে নদীর তলদেশ বরাবর গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে চলে। নদীর মোট বাহিত বস্তুর বেশিরভাগই এই প্রক্রিয়ায় পরিবাহিত হয় (Bed-load)।
  2. লম্ফদান প্রক্রিয়া (Saltation): মাঝারি আকৃতির শিলাখণ্ড বা নুড়িগুলি নদীর স্রোতের ধাক্কায় নদীখাতে বারবার আঘাত খেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।
  3. ভাসমান প্রক্রিয়া (Suspension): ছোটো আকৃতির ও কম ওজনের বালি, পলি, কাদার সূক্ষ্ম কণাগুলি জলে দ্রবীভূত না হয়ে নদীস্রোতে ভাসমান অবস্থায় বহুদূর পর্যন্ত পরিবাহিত হয়।
  4. দ্রবণ প্রক্রিয়া (Solution): চুনাপাথর, লবণ, জিপসাম জাতীয় খনিজ পদার্থ নদীর জলে রাসায়নিকভাবে দ্রবীভূত হয়ে নদীর স্রোতের সাথে বয়ে চলে।
18. বায়ুর ক্ষয়কাজ ও বহনকাজের প্রক্রিয়াগুলি বর্ণনা করো।

বায়ুর ক্ষয়কাজের প্রক্রিয়া:

বায়ু প্রধানত তিনটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয়কাজ করে:

  1. অবঘর্ষ (Abrasion): বায়ুবাহিত বালি ও কঠিন কোয়ার্টজ কণার ঘর্ষণে মরুভূমির শিলাস্তর ক্ষয় পেয়ে আঁচড়ের দাগ বা ছোটো গর্ত সৃষ্টি করে। এর ফলে গৌর, জিউগেন সৃষ্টি হয়।
  2. অপসারণ (Deflation): প্রবল বায়ুপ্রবাহে মরুভূমির শিথিল বালিরাশি একস্থান থেকে উড়ে অন্যত্র অপসারিত হয়ে অবনত গর্তের সৃষ্টি করে (অপসারণ গর্ত বা ব্লো-আউট)।
  3. ঘর্ষণ (Attrition): বায়ুবাহিত পাথরখণ্ড ও বালিকণাগুলো পরস্পরের সাথে ঠোকাঠুকি লেগে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে সূক্ষ্ম বালিতে পরিণত হয়।

বায়ুর বহনকাজের প্রক্রিয়া:

  1. ভাসমান প্রক্রিয়া (Suspension): ধূলিকণা ও সূক্ষ্ম বালি বাতাসে ভেসে বহুদূর বাহিত হয়।
  2. লম্ফদান প্রক্রিয়া (Saltation): মাঝারি বালিকণা ও নুড়ি মাটিতে বারবার ধাক্কা খেয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলে। সর্বাধিক বালি এই প্রক্রিয়ায় বাহিত হয়।
  3. গড়ানো প্রক্রিয়া (Creep): বড়ো ও ভারী পাথরখণ্ডগুলি বায়ুর টানে ভূমির ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে বাহিত হয়।
19. মহাদেশীয় হিমবাহ ও পার্বত্য হিমবাহের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

মহাদেশীয় ও পার্বত্য হিমবাহের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যমহাদেশীয় হিমবাহ (Continental)পার্বত্য হিমবাহ (Mountain/Valley)
অবস্থান ও বিস্তৃতিউচ্চ অক্ষাংশ ও মেরুপ্রদেশে (সুমেরু/কুমেরু) সুবিশাল অঞ্চলজুড়ে বরফের স্তূপ অবস্থান করে।উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমরেখার ওপরে উপত্যকা বরাবর অবস্থান করে। বিস্তৃতি অনেক কম।
উৎস ও প্রবাহএটি বিস্তীর্ণ সমতল বা মালভূমির ওপর সৃষ্টি হয়ে চারদিকে ধীরগতিতে ছড়াতে থাকে।এটি পর্বতের ওপর তুষারক্ষেত্র থেকে সৃষ্টি হয়ে মাধ্যাকর্ষণে উপত্যকা বেয়ে নীচে নামে।
গতিবেগএর গতিবেগ অত্যন্ত ধীর (প্রায় স্থির)।এর গতিবেগ মহাদেশীয় হিমবাহের তুলনায় কিছুটা বেশি হয়।
সৃষ্ট ভূমিরূপএতে নুনাটাক্ (বরফমুক্ত পর্বতশৃঙ্গ) দেখা যায়। ক্রেভাস কম থাকে।এতে বার্গশূন্ড, ক্রেভাস, সার্ক, অ্যারেট, 'U' আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি হয়।
উদাহরণঅ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ।কারাকোরামের সিয়াচেন, হিমালয়ের গঙ্গোত্রী।
20. প্লাবনভূমি (Flood plain) ও স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee) বলতে কী বোঝো?

প্লাবনভূমি (Flood Plain):

নদীর নিম্নপ্রবাহে স্রোতের বেগ অত্যন্ত কমে যাওয়ায় নদীগর্ভে নুড়ি, বালি, কাদা ক্রমাগত সঞ্চিত হয়ে নদীর গভীরতা ও জলধারণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল এলে নদীর দুই কূল ছাপিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা বা প্লাবন দেখা দেয়। প্রতিবছর এই প্লাবনের ফলে নদীর দুই তীরে পলি, বালি সঞ্চিত হয়ে যে সমতল, উর্বর নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় তাকে প্লাবনভূমি বলে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, নীলনদের নিম্ন অববাহিকায় প্লাবনভূমি দেখা যায়।

স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee):

নদীতে বন্যা বা প্লাবনের সময় নদীর দু-কূল ছাপিয়ে জল উপচে পড়ার সময় জলের সাথে বাহিত ভারী বালি, পলি, কাদা নদীর পাড় বরাবর সঞ্চিত হয়। বছর বছর ধরে এইভাবে নদীর দুই পাড় বরাবর প্রাকৃতিকভাবে পলি সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ, উঁচু বাঁধের মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়, তাকে স্বাভাবিক বাঁধ বলে। এটি প্লাবনভূমির তুলনায় ২-৩ মিটার উঁচু হয়। কলকাতা শহর গঙ্গার স্বাভাবিক বাঁধের ওপর অবস্থিত।

মনে রেখো!

নদীর কাজ: V-আকৃতির উপত্যকা, জলপ্রপাত (ক্ষয়), বদ্বীপ (সঞ্চয়)।
হিমবাহের কাজ: U-আকৃতির উপত্যকা, রসে মতানে (ক্ষয়), ড্রামলিন (সঞ্চয়)।
বায়ুর কাজ: গৌর, জিউগেন (ক্ষয়), বার্খান (সঞ্চয়)।
সুন্দরবন: বিশ্ব উষ্ণায়নে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও দ্বীপ নিমজ্জন (ঘোড়ামারা, লোহাচড়া)।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

যে প্রক্রিয়ায় নদী, হিমবাহ, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি ভূপৃষ্ঠের ওপর কাজ করে ভূমিরূপের পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য ঘটায়, তাকে বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে।

গিরিখাত বৃষ্টিবহুল পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয় এবং ইংরেজি 'V' আকৃতির হয়। অন্যদিকে ক্যানিয়ন বৃষ্টিবিরল শুষ্ক অঞ্চলে সৃষ্টি হয় এবং এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ 'I' আকৃতির হয়।

নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে নদী খুব এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হলে বাঁকের অবতল ঢালে ক্ষয় ও উত্তল ঢালে সঞ্চয় চলে। একসময় বাঁকের মাঝের অংশ ক্ষয়ে জুড়ে গিয়ে নদী সোজা পথে বয়, তখন পরিত্যক্ত বাঁকটি ঘোড়ার ক্ষুরের মতো হ্রদ গঠন করে।

জিউগেনে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে (উপর-নীচ) থাকে এবং কঠিন শিলা চ্যাপটা মাথার টিলা গঠন করে। ইয়ারদাং-এ কঠিন ও কোমল শিলা লম্বালম্বিভাবে থাকে এবং কঠিন শিলা বিভিন্ন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

বিশ্ব উষ্ণায়নে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি (যেমন লোহাচড়া, নিউমুর) সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘোড়ামারা দ্বীপের আয়তন অর্ধেকেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে।