Chapter 4: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management)
সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions
বর্জ্যের ধরন 4R পদ্ধতি কম্পোস্টিং স্ক্রাবার গঙ্গা দূষণ
🌿
বর্জ্যের প্রকারভেদ
জৈব ভঙ্গুর, অভঙ্গুর, ই-বর্জ্য, বিষাক্ত ও চিকিৎসা বর্জ্য
♻️
ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি
4R, ল্যান্ডফিল, ইনসিনারেশন এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ
MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
50 টি1. পার্থিব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বর্জ্যপদার্থকে প্রধানত কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়?
ক) ২ ভাগে
খ) ৩ ভাগে
গ) ৪ ভাগে
ঘ) ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা: ভৌত বা পার্থিব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বর্জ্যকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়— কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় বর্জ্য।
2. নিচের কোনটি কঠিন বর্জ্যের উদাহরণ?
ক) কারখানার ধোঁয়া
খ) প্লাস্টিকের বোতল
গ) নর্দমার জল
ঘ) কৃষিক্ষেত্রের ধোয়া জল
ব্যাখ্যা: প্লাস্টিকের বোতল, কাচ, পুরোনো কাগজ, ছেঁড়া কাপড় ইত্যাদি হল কঠিন বর্জ্য।
3. নিচের কোনটি একটি গ্যাসীয় বর্জ্য?
ক) গোবর
খ) পলিথিন
গ) কার্বন মনোক্সাইড
ঘ) ডিটারজেন্ট জল
ব্যাখ্যা: যানবাহন ও শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড (CO), CFC, সালফার ডাইঅক্সাইড হল গ্যাসীয় বর্জ্য।
4. গৃহস্থালির সর্বাধিক বর্জ্যটি কী প্রকৃতির হয়?
ক) কৃষিজ বর্জ্য
খ) কঠিন বর্জ্য
গ) বিষাক্ত বর্জ্য
ঘ) তেজস্ক্রিয় বর্জ্য
ব্যাখ্যা: গৃহস্থালির বেশিরভাগ বর্জ্যই হল সবজির খোসা, কাগজ, প্যাকেট ইত্যাদি, যা কঠিন বর্জ্য।
5. নিচের কোনটি জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) বর্জ্যের উদাহরণ?
ক) প্লাস্টিক
খ) পলিথিন প্যাকেট
গ) সবজির খোসা
ঘ) কাচের বোতল
ব্যাখ্যা: যেসব বর্জ্য সহজে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলে (যেমন: সবজির খোসা)।
6. নিচের কোনটি জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্য?
ক) পলিথিন
খ) শুকনো পাতা
গ) মাছের কাঁটা
ঘ) ছেঁড়া কাগজ
ব্যাখ্যা: পলিথিন বা প্লাস্টিক জীবাণু দ্বারা বিয়োজিত হয় না, তাই এটি জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য।
7. একটি বিষাক্ত (Toxic) বর্জ্যের উদাহরণ হল-
ক) সিসা
খ) চটের বস্তা
গ) সবজির খোসা
ঘ) শুকনো কাঠ
ব্যাখ্যা: সিসা (Lead), পারদ, আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম প্রভৃতি হল চরম বিষাক্ত বর্জ্য, যা জীবদেহে মারাত্মক ক্ষতি করে।
8. চিকিৎসা-সংক্রান্ত (Medical) বর্জ্যের একটি উদাহরণ হল-
ক) ফ্লাই অ্যাশ
খ) ব্যবহৃত সিরিঞ্জ
গ) খড়ের গাদা
ঘ) মোবাইলের ব্যাটারি
ব্যাখ্যা: ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রক্তমাখা তুলো ইত্যাদি হাসপাতাল থেকে নির্গত চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য।
9. নিচের কোনটি ই-বর্জ্য (E-waste) বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য?
ক) পচা খাবার
খ) ভাঙা মোবাইল ও কম্পিউটার
গ) থার্মোকল
ঘ) কাচের গ্লাস
ব্যাখ্যা: খারাপ হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিন সামগ্রী যেমন মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি, মাদারবোর্ড প্রভৃতিকে ই-বর্জ্য বলে।
10. তেজস্ক্রিয় (Radioactive) বর্জ্যের প্রধান উৎস কোনটি?
ক) গৃহস্থালি
খ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
গ) কৃষিক্ষেত্র
ঘ) হাসপাতাল
ব্যাখ্যা: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নির্গত হয়।
11. কৃষিজ বর্জ্যের একটি উদাহরণ হল-
ক) ধানের তুষ ও খড়
খ) ফ্লাই অ্যাশ
গ) পারদ
ঘ) ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা: কৃষিকাজের পর অবশিষ্টাংশ যেমন ধানের তুষ, খড়, আখের ছিবড়ে ইত্যাদি কৃষিজ বর্জ্য।
12. ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) কোন্ ধরনের শিল্পের প্রধান বর্জ্য?
ক) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
খ) কাগজ কল
গ) বস্ত্রবয়ন শিল্প
ঘ) চামড়া শিল্প
ব্যাখ্যা: তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমাণে ছাই বা ফ্লাই অ্যাশ উৎপন্ন হয়।
13. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হল 4R। এর মধ্যে কোন্ 'R' টি 'পুনর্ব্যবহার' বোঝায়?
ক) Reduce
খ) Reuse
গ) Recycle
ঘ) Refuse
ব্যাখ্যা: Reuse (পুনর্ব্যবহার) অর্থাৎ কোনো জিনিস ফেলে না দিয়ে অন্য কাজে পুনরায় ব্যবহার করা।
14. বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস করাকে 4R-এর ভাষায় কী বলে?
ক) Recycle
খ) Reuse
গ) Reduce
ঘ) Refuse
ব্যাখ্যা: বর্জ্যের পরিমাণ বা ব্যবহার কমিয়ে আনাকে Reduce বা হ্রাসকরণ বলে।
15. বাতিল বর্জ্য পদার্থ গলিয়ে তা থেকে নতুন জিনিস তৈরি করাকে কী বলে?
ক) Reuse
খ) Refuse
গ) Reduce
ঘ) Recycle
ব্যাখ্যা: Recycle (পুনর্নবীকরণ) অর্থাৎ বর্জ্য পদার্থ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নতুন দ্রব্যে পরিণত করা (যেমন পুরোনো কাগজ থেকে নতুন কাগজ)।
16. প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জন করাকে 4R-এর ভাষায় কী বলে?
ক) Refuse
খ) Recycle
গ) Reuse
ঘ) Reduce
ব্যাখ্যা: পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দ্রব্য (যেমন পলিথিন) গ্রহণ করতে অস্বীকার করাকে Refuse (প্রত্যাখ্যান) বলে।
17. জৈব বর্জ্য পদার্থ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সাহায্যে সার তৈরি করার পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) ল্যান্ডফিল
খ) কম্পোস্টিং
গ) ইনসিনারেশন
ঘ) স্ক্রাবার
ব্যাখ্যা: জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যকে গর্তে পচিয়ে জৈব সার বা হিউমাস তৈরির পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং (Composting) বলে।
18. কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে উৎপন্ন সারের নাম কী?
ক) ইউরিয়া
খ) ফসফেট
গ) জৈব সার বা ম্যানিওর
ঘ) পটাশ
ব্যাখ্যা: কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার তৈরি হয়, যা জমির উর্বরতা বাড়ায়।
19. কেঁচোর সাহায্যে বর্জ্য পদার্থ বিয়োজিত করে সার তৈরির পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) ভার্মি কম্পোস্টিং
খ) ল্যান্ডফিল
গ) স্ক্রাবিং
ঘ) রিসাইক্লিং
ব্যাখ্যা: কেঁচো (Earthworm) ব্যবহার করে দ্রুত জৈব সার তৈরির পদ্ধতিকে ভার্মি কম্পোস্টিং (Vermicomposting) বলে।
20. শহরাঞ্চলের কঠিন বর্জ্য পদার্থগুলি মাটির নিচু গর্তে ফেলে মাটি দিয়ে ভরাট করার পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) কম্পোস্টিং
খ) ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল
গ) ইনসিনারেশন
ঘ) লিচেট
ব্যাখ্যা: শহরের বর্জ্য দিয়ে নিচু জায়গা ভরাট করাকে Sanitary Landfill বা ভরাটকরণ বলে।
21. ল্যান্ডফিল থেকে যে বিষাক্ত তরল নির্গত হয়, তাকে কী বলে?
ক) স্ক্রাবার
খ) লিচেট
গ) স্মগ
ঘ) কম্পোস্ট
ব্যাখ্যা: ল্যান্ডফিলে সঞ্চিত বর্জ্য পচে গিয়ে যে কালো রঙের বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ চুঁইয়ে বের হয়, তাকে লিচেট (Leachate) বলে। এটি ভৌমজল দূষিত করে।
22. হাসপাতালের বিষাক্ত বা সংক্রামক বর্জ্যগুলি ধ্বংস করার জন্য কোন্ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়?
ক) ল্যান্ডফিল
খ) কম্পোস্টিং
গ) ইনসিনারেশন বা ভস্মীকরণ
ঘ) স্ক্রাবিং
ব্যাখ্যা: বিশেষ চুল্লিতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় (১০০০°C-১২০০°C) সংক্রামক বর্জ্য পুড়িয়ে ছাই করার পদ্ধতিকে ইনসিনারেশন (Incineration) বলে।
23. শিল্প কারখানা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাস ও ধোঁয়া শোধনের জন্য কোন্ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
ক) ব্যারোমিটার
খ) স্ক্রাবার
গ) ইনসিনারেটর
ঘ) ভার্মিকম্পোস্টার
ব্যাখ্যা: কারখানার চিমনিতে স্ক্রাবার (Scrubber) যন্ত্র বসিয়ে গ্যাসীয় বর্জ্য বা ধোঁয়া থেকে দূষক কণাগুলি ছেঁকে নেওয়া হয়।
24. ধূলিকণা ও কঠিন দূষক পদার্থ শোষণের জন্য কোন্ স্ক্রাবার ব্যবহার করা হয়?
ক) শুষ্ক স্ক্রাবার (Dry Scrubber)
খ) আর্দ্র স্ক্রাবার (Wet Scrubber)
গ) ইলেকট্রনিক স্ক্রাবার
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা: কঠিন দূষক কণা বা ধূলিকণা অপসারণের জন্য Dry Scrubber বা শুষ্ক স্ক্রাবার ব্যবহৃত হয়।
25. দূষিত গ্যাস (যেমন SO2) তরলের মাধ্যমে দ্রবীভূত করে শোধনের জন্য কোন্ স্ক্রাবার ব্যবহৃত হয়?
ক) শুষ্ক স্ক্রাবার
খ) আর্দ্র স্ক্রাবার (Wet Scrubber)
গ) সলিড স্ক্রাবার
ঘ) ফিল্টার
ব্যাখ্যা: দূষিত গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণাকে জলীয় বা রাসায়নিক তরলের স্প্রে-এর মাধ্যমে ধৌত করে দূষণমুক্ত করার যন্ত্রকে Wet Scrubber বলে।
26. জলাশয়ে কৃষিজাত সার ও ডিটারজেন্ট মিশলে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে কী বলে?
ক) ইউট্রোফিকেশন
খ) বায়োম্যাগনিফিকেশন
গ) ল্যান্ডফিল
ঘ) ইনসিনারেশন
ব্যাখ্যা: জলে ফসফেট ও নাইট্রেট জাতীয় বর্জ্য মিশলে শৈবাল ও কচুরিপানার অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটে, একে ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) বলে।
27. ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ে কোন্ গ্যাসের অভাব দেখা দেয়?
ক) কার্বন ডাইঅক্সাইড
খ) অক্সিজেন (BOD বৃদ্ধি)
গ) নাইট্রোজেন
ঘ) মিথেন
ব্যাখ্যা: শৈবালের পচনে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং মাছ মারা যায়।
28. গঙ্গা নদীর দূষণ কমানোর জন্য 'গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান' (GAP) কত সালে গৃহীত হয়?
ক) ১৯৭৫ সালে
খ) ১৯৮৫ সালে
গ) ১৯৯৫ সালে
ঘ) ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা: গঙ্গা নদীর দূষণ রোধ এবং জলের মান উন্নয়নের জন্য ১৯৮৫ সালে 'Ganga Action Plan' (GAP) প্রকল্প ভারত সরকার গ্রহণ করে।
29. গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করতে বর্তমানে ভারত সরকার কোন্ প্রকল্পটি পরিচালনা করছে?
ক) নর্মদা বাঁচাও
খ) নমামি গঙ্গে
গ) সেভ গঙ্গা
ঘ) ক্লিন ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা: গঙ্গার পরিচ্ছন্নতা ও দূষণ রোধে ২০১৪ সালে 'নমামি গঙ্গে' (Namami Gange) প্রকল্পটি চালু করা হয়।
30. পশ্চিমবঙ্গের কোন্ নদীর তীরে সবচেয়ে বেশি চটকল বা পাটশিল্প গড়ে ওঠায় নদীটি সবচেয়ে বেশি দূষিত হয়েছে?
ক) দামোদর
খ) তিস্তা
গ) ভাগীরথী-হুগলি
ঘ) সুবর্ণরেখা
ব্যাখ্যা: ভাগীরথী-হুগলি নদীর দুই তীরে অসংখ্য চটকল, কাগজকল, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠায় শিল্পবর্জ্যে এই নদী সবচেয়ে বেশি দূষিত।
31. নিচের কোন্ দূষকের প্রভাবে 'মিনামাটা' রোগ হয়?
ক) পারদ
খ) সিসা
গ) ক্যাডমিয়াম
ঘ) আর্সেনিক
ব্যাখ্যা: জলে পারদ (Mercury) দূষণের ফলে মিনামাটা (Minamata) রোগ হয় (জাপানে প্রথম দেখা যায়)।
32. ক্যাডমিয়াম দূষণের ফলে মানুষের কী রোগ হয়?
ক) ব্ল্যাকফুট
খ) মিনামাটা
গ) ইটাই-ইটাই
ঘ) ফ্লোরোসিস
ব্যাখ্যা: ক্যাডমিয়াম (Cadmium) দূষণে ইটাই-ইটাই (Itai-Itai) বা আউচ-আউচ রোগ হয়, যাতে হাড়ের ক্ষয় ও ব্যথা হয়।
33. পানীয় জলে অতিরিক্ত আর্সেনিক থাকলে কোন্ রোগ হয়?
ক) ইটাই-ইটাই
খ) ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ
গ) মিনামাটা
ঘ) কলেরা
ব্যাখ্যা: আর্সেনিক দূষণের ফলে পায়ের পাতায় ও হাতে কালো দাগ দেখা দেয়, একে ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black Foot Disease) বলে।
34. ফ্লোরাইড দূষণের ফলে কী রোগ হয়?
ক) মিনামাটা
খ) ফ্লোরোসিস
গ) ডিসলেক্সিয়া
ঘ) টাইফয়েড
ব্যাখ্যা: পানীয় জলে ফ্লোরাইডের মাত্রা বাড়লে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়জনিত ফ্লোরোসিস (Fluorosis) রোগ হয়।
35. সিসা দূষণের ফলে শিশুদের কী রোগ হতে পারে?
ক) ডিসলেক্সিয়া
খ) মিনামাটা
গ) ব্ল্যাক ফুট
ঘ) বধিরতা
ব্যাখ্যা: সিসা (Lead) দূষণের ফলে শিশুদের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং ডিসলেক্সিয়া (Dyslexia) বা পঠন অক্ষমতা দেখা দেয়।
36. খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ এক স্তর থেকে পরবর্তী স্তরে গিয়ে বৃদ্ধি পাওয়াকে কী বলে?
ক) ইউট্রোফিকেশন
খ) বায়োম্যাগনিফিকেশন
গ) কম্পোস্টিং
ঘ) ল্যান্ডফিল
ব্যাখ্যা: DDT বা বিষাক্ত কীটনাশক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে প্রতিটি পুষ্টিস্তরে তার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়াকে জৈব বিবর্ধন বা বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) বলে।
37. বর্জ্য পৃথকীকরণ (Segregation of waste) বলতে কী বোঝায়?
ক) সব বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা
খ) বর্জ্যকে নদীতে ফেলা
গ) জৈব ভঙ্গুর ও অভঙ্গুর বর্জ্যকে আলাদা ডাস্টবিনে রাখা
ঘ) বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলা
ব্যাখ্যা: উৎপত্তিস্থলেই বর্জ্যকে প্রকৃতি অনুযায়ী (যেমন পচনশীল ও অপচনশীল) আলাদা আলাদা রঙের ডাস্টবিনে রাখাকে বর্জ্য পৃথকীকরণ বলে।
38. সবুজ রঙের ডাস্টবিনে সাধারণত কোন্ ধরনের বর্জ্য ফেলা উচিত?
ক) প্লাস্টিক
খ) কাচ
গ) জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (যেমন সবজির খোসা)
ঘ) ই-বর্জ্য
ব্যাখ্যা: সবুজ ডাস্টবিনে জৈব ভঙ্গুর বা পচনশীল বর্জ্য ফেলা হয়, যা পরে কম্পোস্টিং-এর কাজে লাগে।
39. নীল রঙের ডাস্টবিনে সাধারণত কোন্ ধরনের বর্জ্য ফেলা উচিত?
ক) জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য
খ) জৈব অভঙ্গুর ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য (প্লাস্টিক, কাচ)
গ) চিকিৎসা বর্জ্য
ঘ) তরল বর্জ্য
ব্যাখ্যা: নীল ডাস্টবিনে শুকনো, জৈব অভঙ্গুর এবং রিসাইকেল করা যাবে এমন বর্জ্য (যেমন প্লাস্টিক বোতল, কাগজ) ফেলা হয়।
40. বর্জ্য জল শোধনের (Sewage Treatment) প্রধানত কয়টি পর্যায় থাকে?
ব্যাখ্যা: নর্দমার নোংরা জল শোধনের প্রধানত ৩টি পর্যায়— প্রাথমিক (Primary), গৌণ (Secondary) এবং প্রগৌণ (Tertiary) শোধন।
41. বর্জ্য জল শোধনের প্রাথমিক পর্যায়ে (Primary treatment) কী করা হয়?
ক) রাসায়নিক প্রয়োগ
খ) কঠিন বর্জ্য ছাঁকনির সাহায্যে আলাদা করা
গ) ব্যাকটেরিয়া দিয়ে শোধন
ঘ) জল গরম করা
ব্যাখ্যা: প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রিড চেম্বার বা ছাঁকনির সাহায্যে ভাসমান বড়ো ও কঠিন বর্জ্যগুলিকে জল থেকে আলাদা করা হয়।
42. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের একটি প্রধান ভূমিকা কী হতে পারে?
ক) যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা
খ) প্লাস্টিক ব্যবহার করা
গ) সচেতনতা বৃদ্ধি ও বর্জ্য পৃথকীকরণ
ঘ) গাছ কাটা
ব্যাখ্যা: শিক্ষার্থীরা নিজেরা ডাস্টবিন ব্যবহার করে এবং সমাজকে 4R পদ্ধতি ও বর্জ্য পৃথকীকরণ সম্পর্কে সচেতন করতে পারে।
43. জৈব সার তৈরিতে কোন্ প্রাণী সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে?
ক) সাপ
খ) ব্যাঙ
গ) কেঁচো
ঘ) মশা
ব্যাখ্যা: কেঁচো মাটি ও জৈব বর্জ্য খেয়ে মল ত্যাগ করে যা অত্যন্ত পুষ্টিকর ভার্মিকম্পোস্ট সার তৈরি করে, তাই কেঁচোকে 'কৃষকের বন্ধু' বলে।
44. একটি পৌর বর্জ্য (Municipal Waste) এর উদাহরণ হল-
ক) গৃহস্থালির আবর্জনা
খ) তেজস্ক্রিয় পদার্থ
গ) কারখানার বিষাক্ত গ্যাস
ঘ) রাসায়নিক সার
ব্যাখ্যা: শহর বা পৌরসভার ডাস্টবিনে জমা হওয়া গৃহস্থালি, বাজার ও রাস্তার আবর্জনাকে পৌর বর্জ্য বলে।
45. কোন্ বর্জ্যটি দীর্ঘকাল পরিবেশে অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়?
ক) কাগজ
খ) সবজির খোসা
গ) পলিথিন বা প্লাস্টিক
ঘ) সুতির কাপড়
ব্যাখ্যা: পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজিত হয় না, তাই এটি কয়েকশো বছর ধরে পরিবেশে অবিকৃত থেকে দূষণ ছড়ায়।
46. নিচের কোনটি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি নয়?
ক) ল্যান্ডফিল
খ) কম্পোস্টিং
গ) ইনসিনারেশন
ঘ) স্ক্রাবার
ব্যাখ্যা: স্ক্রাবার (Scrubber) যন্ত্রটি গ্যাসীয় বর্জ্য বা কারখানার ধোঁয়া শোধনের কাজে ব্যবহৃত হয়, কঠিন বর্জ্যের জন্য নয়।
47. ভাগীরথী-হুগলি নদীর জলদূষণের একটি প্রধান কারণ কী?
ক) নদীর নাব্যতা
খ) কৃষিকাজ
গ) নদীর তীরে অসংখ্য শিল্পের অপরিশোধিত বর্জ্য
ঘ) মাছ ধরা
ব্যাখ্যা: হুগলি নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিল্প-কারখানার (বিশেষত চটকল ও কাগজকল) বিষাক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ায় জল প্রবলভাবে দূষিত হচ্ছে।
48. যেসব বর্জ্য সহজে প্রকৃতির সাথে মিশে যায় না, তাদের কী বলে?
ক) জৈব ভঙ্গুর
খ) জৈব অভঙ্গুর
গ) চিকিৎসা বর্জ্য
ঘ) তরল বর্জ্য
ব্যাখ্যা: যেসব বর্জ্য অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয় না এবং প্রকৃতির সাথে মেশে না (যেমন প্লাস্টিক), তাদের জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্য বলে।
49. উন্মুক্ত ল্যান্ডফিল (Open Landfill) থেকে বায়ুমণ্ডলে কোন্ ক্ষতিকারক গ্যাস সবচেয়ে বেশি নির্গত হয়?
ক) অক্সিজেন
খ) মিথেন
গ) নাইট্রোজেন
ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা: ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিলের বর্জ্য অবায়বীয় (Anaerobic) পচনের ফলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন (CH4) গ্যাস নির্গত হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাস।
50. শব্দদূষণ রোধে কারখানার জেনারেটরে কী ব্যবহার করা হয়?
ক) স্ক্রাবার
খ) সাইলেন্সার
গ) ফিল্টার
ঘ) ইনসিনারেটর
ব্যাখ্যা: জেনারেটর বা যানবাহনের বিকট শব্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সাইলেন্সার (Silencer) ব্যবহার করা হয়।
SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)
40 টি1. বর্জ্য পদার্থ (Waste) কাকে বলে?
মানুষের দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপের ফলে উৎপন্ন যেসব পদার্থ আমাদের কোনো কাজে লাগে না এবং যা আমরা ফেলে দিই বা বাতিল বলে গণ্য করি, তাদের বর্জ্য পদার্থ বলে। (যেমন: সবজির খোসা, ছেঁড়া কাগজ)।
2. পার্থিব বৈশিষ্ট্য বা অবস্থার ভিত্তিতে বর্জ্য কত প্রকার ও কী কী?
অবস্থার ভিত্তিতে বর্জ্য ৩ প্রকার। যথা— ১) কঠিন বর্জ্য (যেমন প্লাস্টিক, কাগজ), ২) তরল বর্জ্য (যেমন নর্দমার জল, কারখানার দূষিত জল), এবং ৩) গ্যাসীয় বর্জ্য (যেমন যানবাহনের ধোঁয়া, কারখানার CFC)।
3. কঠিন বর্জ্য (Solid Waste) কী?
যেসব বাতিল ও অব্যবহারযোগ্য পদার্থ কঠিন অবস্থায় থাকে, তাদের কঠিন বর্জ্য বলে। যেমন: গৃহস্থালির আবর্জনা, পলিথিন, কাচ, ধাতব টুকরো। বর্জ্যের মধ্যে এর পরিমাণই সর্বাধিক।
4. তরল বর্জ্য (Liquid Waste) কাকে বলে?
যেসব দূষিত ও ক্ষতিকারক বাতিল পদার্থ তরল অবস্থায় পরিবেশে মেশে, তাকে তরল বর্জ্য বলে। যেমন: পৌরসভার নর্দমার জল, কারখানার রাসায়নিক মেশানো জল, ডিটারজেন্ট মিশ্রিত জল।
5. গ্যাসীয় বর্জ্য (Gaseous Waste) কী?
যেসব ক্ষতিকারক বর্জ্য গ্যাসীয় বা ধোঁয়া অবস্থায় বায়ুমণ্ডলে মেশে, তাদের গ্যাসীয় বর্জ্য বলে। যেমন: কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া (CO, CO2, SO2)।
6. জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) বর্জ্য কাকে বলে?
যেসব বর্জ্য পদার্থ প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি অণুজীব দ্বারা খুব সহজেই বিয়োজিত হয়ে বা পচে গিয়ে মাটি বা জলের সাথে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলে। (যেমন: সবজির খোসা, কাগজ, মৃত প্রাণী)।
7. জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্য কী?
যেসব বর্জ্য পদার্থ অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয় না এবং শত শত বছর ধরে প্রকৃতিতে অবিকৃত অবস্থায় থেকে দূষণ ছড়ায়, তাদের জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য বলে। (যেমন: প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচ, ডিডিটি)।
8. বিষাক্ত বর্জ্য (Toxic Waste) কাকে বলে?
যেসব বর্জ্য পদার্থের মধ্যে চরম বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে এবং যা মানুষ ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে, তাদের বিষাক্ত বর্জ্য বলে। (যেমন: পারদ, সিসা, ক্যাডমিয়াম)।
9. বিষহীন বর্জ্য (Non-toxic Waste) কী?
যেসব বর্জ্য পদার্থ সরাসরি মানুষ বা জীবের কোনো মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি বা বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে না, তাদের বিষহীন বর্জ্য বলে। (যেমন: সবজির খোসা, ছেঁড়া কাগজ, খড়)।
10. কৃষিজ বর্জ্য (Agricultural Waste) কী?
কৃষিকাজের ফলে উৎপন্ন অব্যবহারযোগ্য অবশিষ্টাংশকে কৃষিজ বর্জ্য বলে। যেমন: ধানের তুষ, খড়, আখের ছিবড়ে, এবং জমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার।
11. চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য (Medical Waste) কাকে বলে?
হাসপাতাল, নার্সিংহোম, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব থেকে যে বিপুল পরিমাণ সংক্রামক বা রোগজীবাণুযুক্ত বর্জ্য নির্গত হয়, তাকে চিকিৎসা বর্জ্য বলে। যেমন: ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, রক্তমাখা তুলো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ।
12. ই-বর্জ্য বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য (E-waste) কী?
ব্যবহারের অযোগ্য, বিকল বা বাতিল হয়ে যাওয়া ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলিকে একত্রে ই-বর্জ্য (Electronic waste) বলে। যেমন: খারাপ মোবাইল, কম্পিউটার, মাদারবোর্ড, টিভি, ব্যাটারি।
13. তেজস্ক্রিয় বর্জ্য (Radioactive Waste) কাকে বলে?
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা বা ইউরেনিয়াম খনি থেকে নির্গত অত্যন্ত ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলিকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলে। (যেমন: ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম, প্লুটোনিয়াম)।
14. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) বলতে কী বোঝো?
বর্জ্য পদার্থের বিজ্ঞানসম্মত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, অপসারণ, পুনর্নবীকরণ এবং নিরাপদ স্থানে ফেলার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে, যাতে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না হয়।
15. 4R পদ্ধতি কী?
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চারটি প্রধান আধুনিক উপায়কে একত্রে 4R বলে। এগুলি হল: ১) Reduce (হ্রাসকরণ), ২) Reuse (পুনর্ব্যবহার), ৩) Recycle (পুনর্নবীকরণ) এবং ৪) Refuse (প্রত্যাখ্যান)।
16. Reduce বা হ্রাসকরণ বলতে কী বোঝায়?
দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার কমিয়ে বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ কমানোকেই Reduce বা হ্রাসকরণ বলে (যেমন: কম প্লাস্টিকের প্যাকেজিং ব্যবহার করা)।
17. Reuse বা পুনর্ব্যবহার কী?
কোনো অব্যবহারযোগ্য বা পুরোনো জিনিসকে ফেলে না দিয়ে তাকে একটু সংস্কার করে অন্য কোনো কাজে পুনরায় ব্যবহার করাকে Reuse বলে (যেমন: পুরোনো জ্যামের বোতলকে মশলা রাখার কাজে ব্যবহার)।
18. Recycle বা পুনর্নবীকরণ কাকে বলে?
বাতিল বর্জ্য পদার্থগুলিকে কারখানায় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে গলিয়ে বা পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যে পরিণত করাকে Recycle বলে (যেমন: পুরোনো কাগজ গলিয়ে নতুন কাগজ তৈরি)।
19. Refuse বা প্রত্যাখ্যান করা কী?
পরিবেশের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক এমন বস্তুর ব্যবহারকে সম্পূর্ণভাবে না বলা বা বর্জন করাকে Refuse বলে (যেমন: দোকানদার প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ দিলে তা নিতে প্রত্যাখ্যান করা)।
20. বর্জ্য পৃথকীকরণ (Segregation of Waste) কী?
উৎপত্তিস্থলেই বর্জ্য পদার্থগুলিকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী (যেমন: পচনশীল ও অপচনশীল) আলাদা করে ভিন্ন ভিন্ন রঙের ডাস্টবিনে (সবুজ ও নীল) সংরক্ষণ করাকে বর্জ্য পৃথকীকরণ বলে।
21. ভরাটকরণ বা Sanitary Landfill কী?
শহর বা পৌরসভার সংগৃহীত কঠিন বর্জ্যগুলিকে শহরের বাইরে কোনো নিচু বা গর্তযুক্ত জায়গায় স্তরে স্তরে ফেলে তার ওপর মাটি চাপা দিয়ে জায়গাটি সমতল করার পদ্ধতিকে ল্যান্ডফিল বা ভরাটকরণ বলে।
22. লিচেট (Leachate) কাকে বলে?
ল্যান্ডফিল বা ভরাটকরণ অঞ্চলে সঞ্চিত জৈব বর্জ্য পচে যাওয়ার পর এবং বৃষ্টির জলের সাথে মিশে যে বিষাক্ত, কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল পদার্থ চুঁইয়ে মাটির নীচে প্রবেশ করে, তাকে লিচেট বলে।
23. কম্পোস্টিং (Composting) কী?
গৃহস্থালি বা পৌরসভার জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যগুলিকে (সবজির খোসা, পাতা) একটি নির্দিষ্ট গর্তে ফেলে রাখলে তা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের দ্বারা বিয়োজিত হয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সারে (হিউমাস) পরিণত হয়। এই পদ্ধতিকে কম্পোস্টিং বলে।
24. ভার্মিকম্পোস্টিং (Vermicomposting) কাকে বলে?
যে কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে কেঁচো (Earthworm) ব্যবহার করে জৈব বর্জ্যকে দ্রুত বিয়োজিত করে অত্যন্ত পুষ্টিকর জৈব সার তৈরি করা হয়, তাকে ভার্মিকম্পোস্টিং বলে।
25. ভস্মীকরণ বা ইনসিনারেশন (Incineration) কী?
হাসপাতাল বা ল্যাবরেটরির বিষাক্ত ও সংক্রামক বর্জ্যগুলিকে একটি বিশেষ আবদ্ধ চুল্লিতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় (১০০০°C এর বেশি) পুড়িয়ে ছাই করার পদ্ধতিকে ইনসিনারেশন বা ভস্মীকরণ বলে।
26. স্ক্রাবার (Scrubber) কী?
শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসীয় বর্জ্য এবং ধোঁয়াকে বায়ুমণ্ডলে মেশার আগে যে যন্ত্রের সাহায্যে ছেঁকে বা ধৌত করে দূষণমুক্ত করা হয়, তাকে স্ক্রাবার বলে।
27. শুষ্ক স্ক্রাবার (Dry Scrubber) ও আর্দ্র স্ক্রাবারের (Wet Scrubber) মধ্যে পার্থক্য কী?
শুষ্ক স্ক্রাবারে কোনো তরল ব্যবহার না করে ধোঁয়া থেকে কেবল কঠিন ধূলিকণা বা দূষক কণা আলাদা করা হয়। কিন্তু আর্দ্র স্ক্রাবারে তরল (জল বা রাসায়নিক স্প্রে) ব্যবহার করে বিষাক্ত গ্যাসকে দ্রবীভূত করে শোধন করা হয়।
28. বর্জ্য জল শোধন (Sewage Treatment) কী?
শহর ও কারখানার দূষিত তরল বর্জ্য বা নর্দমার জল সরাসরি নদী বা জলাশয়ে ফেলার আগে বিভিন্ন ধাপে (প্রাথমিক, গৌণ ও প্রগৌণ) ছাঁকনি ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে দূষণমুক্ত করার প্রক্রিয়াকে বর্জ্য জল শোধন বলে।
29. ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication) কাকে বলে?
জলাশয়ে কৃষিজমি থেকে ধোয়া রাসায়নিক সার (ফসফেট, নাইট্রেট) ও ডিটারজেন্ট মিশলে জলে পুষ্টির মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে শৈবাল ও কচুরিপানার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে এবং জলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। একে ইউট্রোফিকেশন বলে।
30. জৈব বিবর্ধন বা বায়োম্যাগনিফিকেশন (Biomagnification) কী?
পরিবেশে প্রবেশ করা অবিশ্লেষ্য বিষাক্ত বর্জ্য (যেমন DDT, পারদ) খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এক পুষ্টিস্তর থেকে পরবর্তী পুষ্টিস্তরে স্থানান্তরিত হওয়ার সময় জীবদেহে এর ঘনত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়াকে বায়োম্যাগনিফিকেশন বলে।
31. গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (Ganga Action Plan - GAP) কী?
ভারতের প্রধান নদী গঙ্গার ভয়াবহ জলদূষণ রোধ করতে এবং জলের গুণমান উন্নত করতে ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার যে বহুমুখী নদী পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প গ্রহণ করে, তাকে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান (GAP) বলে।
32. ফ্লাই অ্যাশ (Fly Ash) কী?
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা পোড়ানোর ফলে চিমনির ধোঁয়ার সাথে যে অতি সূক্ষ্ম, হালকা ও বিষাক্ত ছাই বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়, তাকে ফ্লাই অ্যাশ বলে। এটি বায়ুদূষণ ঘটায় এবং ইদানীং এটি ইট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
33. ই-বর্জ্যের একটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
ই-বর্জ্যে উপস্থিত সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম প্রভৃতি ভারী ধাতু মাটিতে ও জলে মিশে ভয়াবহ দূষণ ঘটায়, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে।
34. مینামাটা (Minamata) রোগ কীভাবে হয়?
জাপানের মিনামাটা উপসাগরের জলে কারখানার বিষাক্ত পারদ (Mercury) মেশার ফলে সেখানকার মাছ বিষাক্ত হয় এবং সেই মাছ খেয়ে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের যে ভয়াবহ রোগ দেখা দেয়, তাকে মিনামাটা রোগ বলে।
35. ইটাই-ইটাই (Itai-Itai) রোগ কীসের প্রভাবে হয়?
জলে ক্যাডমিয়াম (Cadmium) নামক ভারী ধাতব বর্জ্য দূষণের ফলে মানুষের হাড়ের সংযোগস্থলে যে প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক রোগ হয়, তাকে জাপানি ভাষায় ইটাই-ইটাই (অর্থ: আউচ-আউচ) বলে।
36. ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ (Black Foot Disease) কী?
পানীয় জলে বা ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিক নামক বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে মানুষের হাতের তালু ও পায়ের তলায় যে কালো ছোপ ছোপ দাগ বা ক্ষত সৃষ্টি হয়, তাকে ব্ল্যাক ফুট ডিজিজ বলে।
37. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের দুটি ভূমিকা লেখো।
১) শিক্ষার্থীরা স্কুল ও বাড়িতে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে (পচনশীল ও অপচনশীল আলাদা করে) বর্জ্য ফেলবে। ২) তারা প্লাস্টিক বর্জন করে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
38. ভাগীরথী-হুগলি নদীর তীরবর্তী শিল্পবর্জ্যের প্রভাব কী?
হুগলি নদীর দুই তীরে অসংখ্য চটকল, কাগজকল ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে ওঠায়, কারখানার অপরিশোধিত বিষাক্ত রাসায়নিক জল ও উষ্ণ জল সরাসরি নদীতে পড়ে গঙ্গার জল ও জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করছে।
39. BOD (Biochemical Oxygen Demand) কী?
জলে উপস্থিত দূষিত জৈব পদার্থগুলিকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা বিয়োজিত বা ভাঙার জন্য যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তাকে BOD বলে। জল বেশি দূষিত হলে BOD-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
40. সবুজ ও নীল ডাস্টবিনের ব্যবহার কী?
সবুজ ডাস্টবিনে সবজির খোসা, খাবারের টুকরোর মতো জৈব ভঙ্গুর (পচনশীল) বর্জ্য ফেলা হয়। অন্যদিকে নীল ডাস্টবিনে প্লাস্টিক, কাচ, ধাতুর মতো জৈব অভঙ্গুর ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ফেলা হয়।
Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)
10 টি1. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) বলতে কী বোঝো? এর প্রয়োজনীয়তাগুলি আলোচনা করো।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:
মানুষের দৈনন্দিন কাজ ও শিল্পের ফলে উৎপন্ন কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় বর্জ্য পদার্থগুলিকে পরিবেশের ক্ষতি না করে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, অপসারণ, পুনর্নবীকরণ এবং নিরাপদ স্থানে ফেলার সামগ্রিক পদ্ধতিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা:
- পরিবেশ দূষণ রোধ: বর্জ্য সঠিক জায়গায় না ফেললে বায়ু, জল ও মৃত্তিকা দূষিত হয়। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ভয়াবহ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
- রোগব্যাধি প্রতিরোধ: যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকলে সেখানে মশা, মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ে এবং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরার মতো রোগ ছড়ায়। বর্জ্য অপসারণের ফলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও রোগমুক্ত থাকে।
- সম্পদের সংরক্ষণ: রিসাইক্লিং বা পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরোনো ধাতু, কাগজ, প্লাস্টিক থেকে নতুন জিনিস তৈরি করা যায়। ফলে কাঁচামালের সাশ্রয় হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ঘটে।
- জৈব সার ও শক্তি উৎপাদন: পচনশীল জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার এবং ল্যান্ডফিল গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।
- বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা: নদীতে বা সমুদ্রে বিষাক্ত বর্জ্য না ফেললে জলজ প্রাণী এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পায়।
2. পরিবেশের ওপর বর্জ্য পদার্থের প্রভাবগুলি (Impacts of Waste on Environment) বিস্তারিত আলোচনা করো।
পরিবেশের ওপর বর্জ্যের প্রভাব:
বর্জ্য পদার্থগুলি অবৈজ্ঞানিকভাবে পরিবেশে নিক্ষেপ করলে তা ভয়াবহ প্রভাব ফেলে:
- জলদূষণ: কারখানার বিষাক্ত তরল বর্জ্য, ডিটারজেন্ট, কৃষিজমির রাসায়নিক সার সরাসরি নদী, পুকুর বা সমুদ্রে পড়লে জল চরমভাবে দূষিত হয়। এর ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু হয় এবং পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়।
- মৃত্তিকা দূষণ: কৃষিজ বর্জ্য (কীটনাশক), প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য মাটিতে মিশলে মাটির স্বাভাবিক গুণমান ও উর্বরতা নষ্ট হয়। প্লাস্টিক মাটির বায়ু ও জলের চলনে বাধা সৃষ্টি করে।
- বায়ুদূষণ: ল্যান্ডফিল বা ভাগাড়ে বর্জ্য পচে গিয়ে মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড প্রভৃতি দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মেশে। এছাড়া বর্জ্য পোড়ালে প্রচুর কার্বন মনোক্সাইড নির্গত হয়ে বায়ুদূষণ ঘটায়।
- রোগের বিস্তার: খোলা স্থানে জমে থাকা আবর্জনায় রোগজীবাণু বাহক মশা-মাছির বংশবৃদ্ধি ঘটে। ফলে টাইফয়েড, কলেরা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- জীববৈচিত্র্য হ্রাস: ইউট্রোফিকেশনের ফলে জলাশয়ের প্রাণী মারা যায়। বিষাক্ত প্লাস্টিক খেয়ে গরু বা সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। ভারী ধাতু (পারদ, সিসা) বায়োম্যাগনিফিকেশনের মাধ্যমে জীবদেহে প্রবেশ করে বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করে।
3. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক পদ্ধতি 4R (Reduce, Reuse, Recycle, Refuse) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার 4R পদ্ধতি:
বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকরী উপায় হল 4R পদ্ধতি। এগুলি হল:
- Reduce (হ্রাসকরণ): বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হল বর্জ্যের উৎপত্তি কমানো। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার ও অপচয় কমানোকে Reduce বলে। যেমন— এককালীন ব্যবহারযোগ্য (Single-use) জিনিস না কেনা, বাজার করার সময় কম প্যাকেজিং যুক্ত জিনিস নেওয়া। এতে বর্জ্যের পরিমাণ অনেক কমে যায়।
- Reuse (পুনর্ব্যবহার): কোনো অব্যবহারযোগ্য বা পুরোনো জিনিসকে ফেলে না দিয়ে, তাকে সামান্য সংস্কার করে অন্য কোনো কাজে পুনরায় ব্যবহার করাকে Reuse বলে। যেমন— পুরোনো জ্যামের বোতলে মশলা রাখা, পুরোনো জামাকাপড় দিয়ে ব্যাগ বা মোছনি তৈরি করা। এর ফলে বর্জ্য উৎপন্ন হয় না।
- Recycle (পুনর্নবীকরণ): বাতিল বা নষ্ট হয়ে যাওয়া জিনিসগুলিকে ফেলে না দিয়ে কারখানায় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে গলিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যে পরিণত করাকে Recycle বলে। যেমন— পুরোনো কাগজ গলিয়ে নতুন খাতা তৈরি করা, লোহার ছাঁট গলিয়ে নতুন যন্ত্রাংশ তৈরি করা।
- Refuse (প্রত্যাখ্যান): পরিবেশের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক এমন বস্তুর ব্যবহারকে সম্পূর্ণভাবে না বলা বা প্রত্যাখ্যান করাকে Refuse বলে। যেমন— দোকানদার প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ দিলে তা নিতে সরাসরি অস্বীকার করা এবং নিজের কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা।
4. ভাগীরথী-হুগলি নদীর জলদূষণের কারণ ও বর্জ্যের প্রভাব আলোচনা করো।
ভাগীরথী-হুগলি নদীর ওপর বর্জ্যের প্রভাব:
গঙ্গা নদীর নিম্ন প্রবাহ অর্থাৎ ভাগীরথী-হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চল (বিশেষত কলকাতা ও হাওড়া সংলগ্ন) ভারতের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। এই নদীর ওপর বর্জ্যের ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে:
- শিল্প বর্জ্যের মিশ্রণ: নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা শতাধিক চটকল, কাগজকল, রাসায়নিক ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার বিষাক্ত অপরিশোধিত তরল বর্জ্য (যাতে সিসা, পারদ, ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু থাকে) সরাসরি নদীতে পড়ছে।
- পৌর বর্জ্য ও নর্দমার জল: কলকাতা, হাওড়া, শ্রীরামপুর প্রভৃতি অসংখ্য শহরের পৌরসভার ডাস্টবিনের আবর্জনা এবং নর্দমার নোংরা জল (Sewage) কোনো পরিশোধন ছাড়াই পাইপলাইনের মাধ্যমে নদীতে মিশছে।
- কৃষিজ ও অন্যান্য বর্জ্য: নদীর উচ্চ অববাহিকার কৃষিজমির রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে নদীতে পড়ছে। এছাড়া মৃতদেহ সৎকার, প্রতিমা নিরঞ্জন এবং জাহাজের বর্জ্য তেল গঙ্গার জলকে চরমভাবে দূষিত করছে।
ফলাফল:
এর ফলে হুগলি নদীর জল পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (BOD বৃদ্ধি) অভাবে ইলিশ সহ বহু মাছের আকাল দেখা দিয়েছে এবং নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে।
5. কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিগুলি (ল্যান্ডফিল, কম্পোস্টিং, ইনসিনারেশন) আলোচনা করো।
কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি:
কঠিন বর্জ্যগুলিকে (যেমন প্লাস্টিক, কাগজ, সবজির খোসা) পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণ করার প্রধান তিনটি পদ্ধতি হল:
- ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল (Sanitary Landfill): শহর থেকে সংগৃহীত কঠিন বর্জ্যগুলিকে শহরের বাইরে কোনো নিচু বা গর্তযুক্ত জায়গায় স্তরে স্তরে ফেলে তার ওপর মাটি বা ছাই চাপা দিয়ে জায়গাটি সমতল করার পদ্ধতিকে ল্যান্ডফিল বলে। এর ফলে নিচু জায়গা ভরাট হয়ে ব্যবহারযোগ্য জমিতে পরিণত হয়। তবে এখান থেকে দূষিত তরল 'লিচেট' এবং গ্রিনহাউস গ্যাস 'মিথেন' নির্গত হওয়ার ভয় থাকে।
- কম্পোস্টিং বা সার তৈরি (Composting): গৃহস্থালি বা বাজারের পচনশীল জৈব ভঙ্গুর বর্জ্যগুলিকে (সবজির খোসা, পাতা) একটি গর্তে ফেলে রাখলে তা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের দ্বারা বিয়োজিত হয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সারে (হিউমাস) পরিণত হয়। কেঁচোর সাহায্যে এই সার তৈরি করলে তাকে ভার্মিকম্পোস্টিং বলে। এই সার কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
- ভস্মীকরণ বা ইনসিনারেশন (Incineration): হাসপাতাল বা ল্যাবরেটরির বিষাক্ত ও সংক্রামক বর্জ্যগুলিকে খোলা জায়গায় না ফেলে একটি বিশেষ আবদ্ধ চুল্লিতে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় (১০০০°C-১২০০°C) পুড়িয়ে ছাই করার পদ্ধতিকে ইনসিনারেশন বলে। এতে বর্জ্যের আয়তন অনেক কমে যায় এবং জীবাণু ধ্বংস হয়। তবে ধোঁয়া নির্গত হয়ে বায়ুদূষণের সম্ভাবনা থাকে।
6. গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে স্ক্রাবার (Scrubber)-এর ব্যবহার আলোচনা করো।
গ্যাসীয় বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ও স্ক্রাবার:
শিল্প কারখানা এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস সরাসরি বায়ুমণ্ডলে মিশে ভয়াবহ বায়ুদূষণ ঘটায়। এই গ্যাসীয় বর্জ্যকে বায়ুমণ্ডলে মেশার আগে যে যন্ত্রের সাহায্যে ছেঁকে বা ধৌত করে দূষণমুক্ত করা হয়, তাকে স্ক্রাবার বলে। এটি দুই প্রকার:
- শুষ্ক স্ক্রাবার (Dry Scrubber): এই যন্ত্রে কোনো তরল ব্যবহার করা হয় না। কারখানার চিমনির ধোঁয়াকে একটি চেম্বারের মধ্য দিয়ে পাঠানোর সময়, রাসায়নিক পাউডার বা ফিল্টারের সাহায্যে ধোঁয়া থেকে বিষাক্ত গ্যাস (প্রধানত সালফার ডাইঅক্সাইড - SO2) এবং কঠিন ধূলিকণাগুলিকে (PM) শুষে নেওয়া হয়। এর ফলে দূষণমুক্ত বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসে।
- আর্দ্র স্ক্রাবার (Wet Scrubber): এই যন্ত্রে দূষিত গ্যাস ও ধোঁয়াকে নীচের দিক থেকে উপরের দিকে পাঠানো হয় এবং ওপর থেকে ক্রমাগত জল বা বিশেষ রাসায়নিক তরলের স্প্রে করা হয়। এর ফলে ধোঁয়ার মধ্যে থাকা দূষিত কণা ও বিষাক্ত গ্যাস তরলের সাথে মিশে ভারী হয়ে নীচে থিতিয়ে পড়ে এবং ওপর দিয়ে শুদ্ধ বাতাস নির্গত হয়। এটি অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি।
7. বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা সংক্ষেপে লেখো।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা:
সমাজ পরিবর্তন ও সুস্থ পরিবেশ গঠনে শিক্ষার্থীরা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে:
- সচেতনতা বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবার, প্রতিবেশী এবং সমাজের মানুষদের বর্জ্য ফেলার কুফল এবং 4R (Reduce, Reuse, Recycle, Refuse) পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করতে পারে।
- বর্জ্য পৃথকীকরণ: বাড়িতে বা স্কুলে শিক্ষার্থীরা জৈব ভঙ্গুর (পচনশীল) বর্জ্যের জন্য সবুজ ডাস্টবিন এবং জৈব অভঙ্গুর (অপচনশীল) বর্জ্যের জন্য নীল ডাস্টবিন ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
- প্লাস্টিক বর্জন (Refuse): শিক্ষার্থীরা নিজেরা প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ, থার্মোকল বা ইউজ-অ্যান্ড-থ্রো পেন ব্যবহার করা বন্ধ করতে পারে এবং অন্যদেরও পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে।
- কম্পোস্টিং-এ উদ্যোগ: স্কুলের মাঠে বা বাড়ির বাগানের এককোণে সবজির খোসা ও শুকনো পাতা জমা করে কম্পোস্ট সার তৈরি করে তা গাছের গোড়ায় দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে।
- পরিচ্ছন্নতা অভিযান: বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখার জন্য তারা দলবদ্ধভাবে 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'-এর মতো পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।
8. জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) এবং জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) বর্জ্যের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (Biodegradable) | জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য (Non-biodegradable) |
|---|
| সংজ্ঞা | যেসব বর্জ্য সহজে অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয়ে মাটিতে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য বলে। | যেসব বর্জ্য অণুজীব দ্বারা বিয়োজিত হয় না এবং পরিবেশে দীর্ঘকাল অবিকৃত থাকে, তাদের জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য বলে। |
| বিয়োজন বা পচন | এগুলি প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা খুব দ্রুত পচে যায়। | এগুলির ওপর ব্যাকটেরিয়ার কোনো প্রভাব নেই, তাই এরা পচে না। |
| পরিবেশ দূষণ | এগুলি মাটির সাথে মিশে যায় বলে পরিবেশ দূষণ খুবই কম ঘটায়। | এগুলি শত শত বছর অবিকৃত থেকে মাটি, জল ও বায়ুর ভয়াবহ দূষণ ঘটায়। |
| পরিণতি বা ব্যবহার | কম্পোস্টিং পদ্ধতিতে এগুলি থেকে উৎকৃষ্ট জৈব সার (হিউমাস) তৈরি করা যায়। | সার তৈরি করা যায় না, তবে এদের রিসাইকেল বা পুনর্নবীকরণ করে নতুন জিনিস বানানো যায়। |
| উদাহরণ | সবজির খোসা, ফল, পাতা, মৃত প্রাণী, কাগজ, সুতির কাপড় ইত্যাদি। | প্লাস্টিক, পলিথিন, কাচ, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, ডিডিটি (DDT) ইত্যাদি। |
9. কৃষিজ বর্জ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্যের উৎস এবং প্রভাব আলোচনা করো।
১. কৃষিজ বর্জ্য (Agricultural Waste):
- উৎস: কৃষিকাজের পর পড়ে থাকা ফসলের অবশিষ্টাংশ (ধানের তুষ, খড়, আখের ছিবড়ে), পচা ফসল এবং জমিতে অতিরিক্ত ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক হল কৃষিজ বর্জ্যের প্রধান উৎস।
- প্রভাব: ফসলের অবশিষ্টাংশ মাঠে পুড়িয়ে দিলে ভয়াবহ বায়ুদূষণ হয় (যেমন শীতকালে দিল্লি ও পাঞ্জাবে স্মগ)। জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও সার বৃষ্টির জলে ধুয়ে জলাশয়ে পড়লে জলদূষণ ও ইউট্রোফিকেশন ঘটে, যা জলজ প্রাণীদের মৃত্যু ডেকে আনে।
২. চিকিৎসা-সংক্রান্ত বর্জ্য (Medical/Biomedical Waste):
- উৎস: হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি থেকে নির্গত ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রক্তমাখা তুলো-ব্যান্ডেজ, মানুষের দেহাংশ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ হল এর প্রধান উৎস।
- প্রভাব: এটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক বর্জ্য। এগুলি যত্রতত্র ফেলে রাখলে কুকুর বা কাকের মাধ্যমে এই বর্জ্য লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে হেপাটাইটিস, এইডস, টিবি-র মতো ভয়ানক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহার করলে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটে।
10. তরল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের উপায় বা বর্জ্য জল শোধন (Sewage Treatment) পদ্ধতিটি আলোচনা করো।
তরল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ (Sewage Treatment):
শহর ও কারখানার দূষিত জল বা নর্দমার জল সরাসরি নদীতে না ফেলে, একটি নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে বিভিন্ন ধাপে পরিশোধন করা হয়। এর তিনটি প্রধান পর্যায় রয়েছে:
- প্রাথমিক পর্যায় (Primary Treatment): প্রথমে নর্দমার দূষিত জলকে একটি বড়ো গ্রিড চেম্বার বা জালের (Screening) মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। এর ফলে জলে ভাসমান বড়ো ও কঠিন বর্জ্য (যেমন প্লাস্টিক, কাঠের টুকরো, ছেঁড়া কাপড়) আটকে যায়। এরপর জলকে একটি থিতানো ট্যাংকে রেখে ভারী কাদা ও বালি নীচে থিতিয়ে আলাদা করা হয়।
- গৌণ পর্যায় (Secondary Treatment): প্রাথমিক শোধনের পর জলটিকে একটি বায়বীয় ট্যাংকে (Aeration tank) পাঠানো হয়। সেখানে জলে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীবের সাহায্যে জলের ভিতরের জৈব দূষকগুলিকে পচিয়ে বা বিয়োজিত করে ফেলা হয় (Biological treatment)।
- প্রগৌণ পর্যায় (Tertiary Treatment): সবশেষে জলটিতে ক্লোরিন গ্যাস, ব্লিচিং পাউডার বা ইউভি রশ্মি (UV rays) প্রয়োগ করে জলের সমস্ত ক্ষতিকারক রোগজীবাণু ধ্বংস করা হয়। এরপর এই পরিশ্রুত ও দূষণমুক্ত জলকে নদীতে বা সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় বা কৃষিকাজে সেচের জন্য ব্যবহার করা হয়।
মনে রেখো!
4R পদ্ধতি: Reduce (হ্রাস), Reuse (পুনর্ব্যবহার), Recycle (পুনর্নবীকরণ), Refuse (প্রত্যাখ্যান)।
বর্জ্য শোধন: গ্যাসীয় বর্জ্যের জন্য স্ক্রাবার, চিকিৎসা বর্জ্যের জন্য ইনসিনারেশন, এবং জৈব বর্জ্যের জন্য কম্পোস্টিং ব্যবহৃত হয়।
দূষণ ও রোগ: পারদ থেকে মিনামাটা, ক্যাডমিয়াম থেকে ইটাই-ইটাই এবং আর্সেনিক থেকে ব্ল্যাক ফুট রোগ হয়।
শিক্ষার্থীর ভূমিকা: ডাস্টবিন ব্যবহার, প্লাস্টিক বর্জন এবং সমাজে 4R পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।