Chapter 7: উপগ্রহ চিত্র ও মানচিত্র

দূরসংবেদন (Remote Sensing), সেন্সর, FCC এবং টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের স্কেল ও ব্যবহার | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর (WBBSE 2027)

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 7: উপগ্রহ চিত্র ও মানচিত্র | Madhyamik Geography

Chapter 7: উপগ্রহ চিত্র ও মানচিত্র

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 45 MCQ | 30 SAQ | 8 Broad Questions

রিমোট সেন্সিং টপোশিট FCC (ছদ্ম রঙ) ISRO গ্রিড ও স্কেল
🛰️

উপগ্রহ চিত্র

রিমোট সেন্সিং, সেন্সর, পিক্সেল এবং ছদ্ম রঙের (FCC) ব্যবহার

🗺️

টপোগ্রাফিক্যাল ম্যাপ

1:50,000 স্কেল, Survey of India এবং প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

45 টি
1. কোনো বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে দূর থেকে যন্ত্রের সাহায্যে সেই বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতিকে কী বলে?
ক) ফটোগ্রাফি
খ) দূরসংবেদন (Remote Sensing)
গ) জিপিএস (GPS)
ঘ) জিআইএস (GIS)
2. কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটে তথ্য সংগ্রহের জন্য কোন্ যন্ত্র লাগানো থাকে?
ক) ক্যামেরা
খ) সেন্সর (Sensor)
গ) স্ক্যানার
ঘ) রাডার
3. উপগ্রহ চিত্রের ক্ষুদ্রতম অংশ বা একককে কী বলে?
ক) ডট (Dot)
খ) গ্রিড (Grid)
গ) পিক্সেল (Pixel)
ঘ) সেন্সর
4. ছদ্ম রঙ বা False Colour Composite (FCC)-এ উপগ্রহ চিত্রে স্বাভাবিক উদ্ভিদ বা বনভূমিকে কোন্ রঙে দেখানো হয়?
ক) সবুজ
খ) নীল
গ) লাল
ঘ) হলুদ
5. উপগ্রহ চিত্রে (FCC) গভীর জলভাগ বা সমুদ্রকে কোন্ রঙে দেখানো হয়?
ক) হালকা নীল
খ) কালো বা গাঢ় নীল
গ) সাদা
ঘ) বাদামি
6. উপগ্রহ চিত্রে (FCC) কৃষিজমিকে সাধারণত কোন্ রঙে দেখানো হয়?
ক) লাল
খ) হলুদ
গ) বাদামি বা খয়েরি
ঘ) সবুজ
7. উপগ্রহ চিত্রে (FCC) তুষারাবৃত বা বরফ ঢাকা অঞ্চলকে কী রঙে দেখানো হয়?
ক) সাদা
খ) নীল
গ) ছাই
ঘ) লাল
8. যেসব কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর আবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে এবং পৃথিবী থেকে যাদের স্থির মনে হয়, তাদের কী বলে?
ক) সূর্যসমলয় উপগ্রহ
খ) ভূসমলয় উপগ্রহ (Geostationary)
গ) পোলার উপগ্রহ
ঘ) কোনোটিই নয়
9. ভূসমলয় (Geostationary) উপগ্রহগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতায় স্থাপন করা হয়?
ক) ৭০০ কিমি
খ) ১০০০ কিমি
গ) ৩৬,০০০ কিমি
ঘ) ৫ লক্ষ কিমি
10. নিচের কোনটি একটি ভূসমলয় (Geostationary) উপগ্রহের উদাহরণ?
ক) IRS
খ) SPOT
গ) INSAT
ঘ) LANDSAT
11. যেসব উপগ্রহ পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু বরাবর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, তাদের কী বলে?
ক) সূর্যসমলয় উপগ্রহ (Sun-synchronous)
খ) ভূসমলয় উপগ্রহ
গ) জিওস্টেশনারি উপগ্রহ
ঘ) রাডার
12. সূর্যসমলয় (Sun-synchronous) উপগ্রহগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় কত উচ্চতায় থাকে?
ক) ৩৬,০০০ কিমি
খ) ৭০০-৯০০ কিমি
গ) ২০০ কিমি
ঘ) ৫০,০০০ কিমি
13. নিচের কোনটি ভারতের একটি সূর্যসমলয় (Sun-synchronous) উপগ্রহ?
ক) INSAT
খ) IRS
গ) GOES
ঘ) METEOSAT
14. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের (USA) বিখ্যাত রিমোট সেন্সিং উপগ্রহ সিরিজের নাম কী?
ক) SPOT
খ) IRS
গ) LANDSAT
ঘ) INSAT
15. ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ISRO) সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
ক) দিল্লি
খ) মুম্বাই
গ) শ্রীহরিকোটা
ঘ) বেঙ্গালুরু
16. ভারতের রিমোট সেন্সিং বা উপগ্রহ চিত্রের ডেটা কোথায় সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হয় (NRSC)?
ক) হায়দ্রাবাদ
খ) দেরাদুন
গ) কলকাতা
ঘ) পুণে
17. যে সেন্সরের নিজস্ব কোনো শক্তির উৎস থাকে না, সূর্যরশ্মির প্রতিফলনের ওপর নির্ভর করে ছবি তোলে, তাকে কী বলে?
ক) অ্যাকটিভ সেন্সর (Active Sensor)
খ) প্যাসিভ সেন্সর (Passive Sensor)
গ) রাডার
ঘ) সোনার
18. যে সেন্সরের নিজস্ব শক্তির উৎস (যেমন লেজার, মাইক্রোওয়েভ) থাকে, তাকে কী বলে?
ক) প্যাসিভ সেন্সর
খ) অ্যাকটিভ সেন্সর (Active Sensor)
গ) অপটিক্যাল সেন্সর
ঘ) ফটোগ্রাফিক সেন্সর
19. উপগ্রহ দ্বারা সংগৃহীত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ছবি বা ডেটাকে কী বলা হয়?
ক) পিক্সেল
খ) সোয়াথ (Swath)
গ) গ্রিড
ঘ) সেন্সর
20. ভারতে ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টপোশিট (Topographical Map) কে প্রস্তুত ও প্রকাশ করে?
ক) ISRO
খ) NATMO
গ) Survey of India (SOI)
ঘ) GSI
21. সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (Survey of India) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
ক) ১৭৬৭ সালে
খ) ১৮৫৭ সালে
গ) ১৯৪৭ সালে
ঘ) ১৯৬৯ সালে
22. সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (SOI)-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
ক) কলকাতা
খ) নিউ দিল্লি
গ) দেরাদুন
ঘ) বেঙ্গালুরু
23. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে (Toposheet) ব্যবহৃত 1:50,000 স্কেলের মানচিত্রের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার কত?
ক) ৪° × ৪°
খ) ১° × ১°
গ) ৩০' × ৩০'
ঘ) ১৫' × ১৫' (১৫ মিনিট)
24. 1:250,000 স্কেলের (ডিগ্রি শিট) টপোশিটের বিস্তার কত?
ক) ১৫' × ১৫'
খ) ১° × ১°
গ) ৪° × ৪°
ঘ) ৩০' × ৩০'
25. 1:1,000,000 স্কেলের (মিলিয়ন শিট) মানচিত্রের বিস্তার কত?
ক) ৪° × ৪°
খ) ১° × ১°
গ) ১৫' × ১৫'
ঘ) ২° × ২°
26. 73 M/11 নম্বর টপোশিটটির স্কেল কত হবে?
ক) 1:1,000,000
খ) 1:250,000
গ) 1:50,000
ঘ) 1:25,000
27. টপোশিটে (Toposheet) নিত্যবহ নদী (Perennial River), হ্রদ বা জলাশয় বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহার করা হয়?
ক) কালো
খ) নীল
গ) লাল
ঘ) বাদামি
28. টপোশিটে অনিত্যবহ নদী (Non-perennial River) বা শুষ্ক নদীখাত বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহার করা হয়?
ক) নীল
খ) কালো
গ) বাদামি
ঘ) লাল
29. টপোশিটে সমোচ্চরেখা (Contour Lines), পাহাড়, পর্বত ও বালিয়াড়ি বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) বাদামি (Brown)
খ) কালো
গ) লাল
ঘ) হলুদ
30. টপোশিটে বসতি (Settlement), পাকা রাস্তা (Metal Road), এবং মন্দির বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) কালো
খ) হলুদ
গ) লাল (Red)
ঘ) সবুজ
31. টপোশিটে কৃষিজমি (Agricultural Land) বা চাষযোগ্য জমি বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) সবুজ
খ) হলুদ (Yellow)
গ) সাদা
ঘ) লাল
32. টপোশিটে স্বাভাবিক উদ্ভিদ (Natural Vegetation), বনভূমি বা অরণ্য বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) সবুজ (Green)
খ) হলুদ
গ) বাদামি
ঘ) কালো
33. টপোশিটে রেলপথ (Railway line), সীমানারেখা, এবং কাঁচা রাস্তা বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) লাল
খ) কালো (Black)
গ) বাদামি
ঘ) নীল
34. টপোশিটে পতিত জমি (Waste land) বা ফাঁকা পাথুরে জমি বোঝাতে কোন্ রঙ ব্যবহৃত হয়?
ক) হলুদ
খ) সাদা (White)
গ) সবুজ
ঘ) লাল
35. R.F. (Representative Fraction) বা ভগ্নাংশ সূচক স্কেলের একক কী?
ক) সেন্টিমিটার
খ) কিলোমিটার
গ) ইঞ্চি
ঘ) এর কোনো একক নেই
36. পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলি পরস্পরকে ছেদ করে যে জালিকা তৈরি করে, তাকে কী বলে?
ক) সোয়াথ
খ) পিক্সেল
গ) গ্রিড (Grid)
ঘ) সেন্সর
37. উপগ্রহ চিত্রের একটি প্রধান সুবিধা কী?
ক) এটি সহজে হাতে আঁকা যায়
খ) বিশাল ও দুর্গম অঞ্চলের নিখুঁত চিত্র সহজে পাওয়া যায়
গ) এতে কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই
ঘ) এটি শুধুমাত্র দিনে কাজ করে
38. ভারতের একটি জনপ্রিয় ওয়েব-ম্যাপিং বা উপগ্রহ চিত্র নির্ভর অ্যাপ্লিকেশনের নাম কী?
ক) ভুবন (Bhuvan)
খ) মেটস্যাট
গ) ল্যান্ডস্যাট
ঘ) কার্টোস্যাট
39. মানচিত্রে দুটি স্থানের উচ্চতা সমান হলে, তাদের যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে কী বলে?
ক) সমচাপ রেখা
খ) সমোচ্চরেখা (Contour Line)
গ) সমবর্ষণ রেখা
ঘ) সমোষ্ণ রেখা
40. উপগ্রহ চিত্রে তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য কোন্ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়?
ক) থার্মোমিটার
খ) রাডার
গ) কম্পিউটার ও উপযুক্ত সফটওয়্যার
ঘ) রেইনগেজ
41. মানচিত্র (Map) শব্দটি কোন্ ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে?
ক) Mappa
খ) Mapo
গ) Carto
ঘ) Grapho
42. টপোশিট বা ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে 'PO' কথাটির অর্থ কী?
ক) পুলিশ অফিস
খ) পোস্ট অফিস
গ) পাবলিক অফিস
ঘ) প্রাইভেট অফিস
43. টপোশিটে সমোচ্চরেখাগুলি (Contour Lines) খুব কাছাকাছি অবস্থান করলে কী বোঝায়?
ক) সমতলভূমি
খ) খাড়া ঢাল (Steep Slope)
গ) মৃদু ঢাল
ঘ) নদী উপত্যকা
44. 1:50,000 স্কেলের টপোশিটে মানচিত্রের ২ সেমি (cm) দূরত্ব বাস্তবে কত কিলোমিটারকে নির্দেশ করে?
ক) ১ কিলোমিটার
খ) ২ কিলোমিটার
গ) ৫০ কিলোমিটার
ঘ) ৫ কিলোমিটার
45. উপগ্রহ চিত্রের কোয়ালিটি বা স্পষ্টতা কীসের ওপর নির্ভর করে?
ক) উপগ্রহের রঙের ওপর
খ) সেন্সরের রেজোলিউশন (Resolution) এর ওপর
গ) মানচিত্রের স্কেলের ওপর
ঘ) ক্যামেরার ওজনের ওপর

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

30 টি
1. উপগ্রহ চিত্র (Satellite Imagery) কাকে বলে?
মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহে (Satellite) বসানো অতি সংবেদনশীল ক্যামেরা বা সেন্সরের (Sensor) সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের বিশাল অঞ্চলের যে নিখুঁত ডিজিটাল ছবি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাকে উপগ্রহ চিত্র বলে।
2. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টপোশিট (Topographical Map) কী?
যে মানচিত্রের সাহায্যে ভূপৃষ্ঠের কোনো ছোটো অঞ্চলের প্রাকৃতিক উপাদান (যেমন পাহাড়, নদী, সমভূমি) এবং সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে (যেমন রাস্তা, বসতি) নির্দিষ্ট স্কেল ও নির্দিষ্ট প্রতীক চিহ্নের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়, তাকে ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বা টপোশিট বলে।
3. দূরসংবেদন বা রিমোট সেন্সিং (Remote Sensing) কাকে বলে?
Remote মানে দূর এবং Sensing মানে তথ্য সংগ্রহ করা বা অনুভব করা। কোনো বস্তু বা উপাদানকে সরাসরি স্পর্শ না করে, দূর থেকে সেন্সর বা ক্যামেরার সাহায্যে তার সম্পর্কে ছবি ও নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করার অত্যাধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেই রিমোট সেন্সিং বা দূরসংবেদন বলে।
4. সেন্সর (Sensor) কী?
সেন্সর হল কৃত্রিম উপগ্রহে বা বিমানে বসানো এক বিশেষ ধরনের সংবেদনশীল বৈদ্যুতিন ক্যামেরা বা গ্রাহক যন্ত্র, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত হওয়া আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গকে (Electromagnetic radiation) গ্রহণ করে উপগ্রহ চিত্রের ডেটা তৈরি করে।
5. প্যাসিভ সেন্সর (Passive Sensor) বা নিষ্ক্রিয় সেন্সর কাকে বলে?
যেসব সেন্সরের নিজস্ব কোনো আলোর উৎস থাকে না, বরং সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠের বস্তুর ওপর পড়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে সেই শক্তির সাহায্যে যারা তথ্য সংগ্রহ করে বা ছবি তোলে, তাদের প্যাসিভ সেন্সর বলে। (যেমন সাধারণ ক্যামেরা)। এরা রাতে কাজ করতে পারে না।
6. অ্যাকটিভ সেন্সর (Active Sensor) বা সক্রিয় সেন্সর কী?
যেসব সেন্সরের নিজস্ব শক্তির উৎস (যেমন লেজার, মাইক্রোওয়েভ বা রাডার তরঙ্গ) থাকে এবং সেই তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠে পাঠিয়ে তার প্রতিফলনের ভিত্তিতে যারা তথ্য সংগ্রহ করে, তাদের অ্যাকটিভ সেন্সর বলে। এরা দিন, রাত বা মেঘলা আকাশেও ছবি তুলতে পারে।
7. পিক্সেল (Pixel) কাকে বলে?
Pixel কথাটির পুরো অর্থ হল 'Picture Element'। উপগ্রহ চিত্র অসংখ্য ছোটো ছোটো বর্গাকার বা আয়তাকার ঘরের সমন্বয়ে গঠিত ডিজিটাল ইমেজ। উপগ্রহ চিত্রের এই ক্ষুদ্রতম অংশ বা ক্ষুদ্রতম একককেই পিক্সেল বলে।
8. স্পেশিয়াল রেজোলিউশন (Spatial Resolution) কী?
উপগ্রহ চিত্রে একটি পিক্সেল ভূপৃষ্ঠের যতটা ক্ষুদ্রতম দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের এলাকাকে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে পারে, তাকে সেন্সরের স্পেশিয়াল রেজোলিউশন বলে। রেজোলিউশন যত কম হবে (যেমন 1 মিটার), ছবির কোয়ালিটি ও স্পষ্টতা তত ভালো হবে।
9. এফসিসি বা ছদ্ম রঙ (FCC - False Colour Composite) কী?
উপগ্রহ চিত্রে বিভিন্ন বস্তু বা উপাদানকে স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য যখন তাদের বাস্তব বা স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অন্য বা কৃত্রিম রঙ ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে False Colour Composite বা ছদ্ম রঙ বলে। (যেমন বনভূমিকে সবুজ না দেখিয়ে লাল রঙে দেখানো)।
10. FCC উপগ্রহ চিত্রে স্বাভাবিক উদ্ভিদ বা অরণ্যকে কোন্ রঙে দেখানো হয়?
উপগ্রহ চিত্রে বা FCC-তে স্বাভাবিক উদ্ভিদ, বনভূমি বা চাষের খেতকে লাল (Red) রঙে দেখানো হয়। উদ্ভিদ যত ঘন হবে, লাল রঙ তত গাঢ় হবে।
11. ভূসমলয় উপগ্রহ (Geostationary Satellite) কাকে বলে?
যেসব কৃত্রিম উপগ্রহ নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর আবর্তন বেগের সমান বেগে (২৪ ঘণ্টায় একবার) পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘোরে, ফলে পৃথিবী থেকে যাদের সর্বদা একই স্থানে স্থির বলে মনে হয়, তাদের ভূসমলয় উপগ্রহ বলে। এগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উঁচুতে থাকে (যেমন ভারতের INSAT)।
12. সূর্যসমলয় উপগ্রহ (Sun-synchronous Satellite) কী?
যেসব উপগ্রহ পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু বরাবর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং সর্বদা একই স্থানীয় সময়ে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে ছবি তোলে, তাদের সূর্যসমলয় উপগ্রহ বলে। এরা ৭০০-৯০০ কিমি উঁচুতে থাকে (যেমন ভারতের IRS)।
13. ISRO (ইসরো) কী? এর সদর দপ্তর কোথায়?
ISRO-এর পুরো নাম Indian Space Research Organisation (ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা)। এটি ভারতের মহাকাশ ও উপগ্রহ গবেষণার প্রধান কেন্দ্র। এর সদর দপ্তর কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত।
14. NRSC-এর পুরো নাম কী এবং এটি কোথায় অবস্থিত?
NRSC-এর পুরো নাম National Remote Sensing Centre (জাতীয় দূরসংবেদন কেন্দ্র)। এটি তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে (Hyderabad) অবস্থিত। এখান থেকেই ভারতের উপগ্রহ চিত্রের ডেটা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ করা হয়।
15. সোয়াথ (Swath) বলতে কী বোঝো?
একটি কৃত্রিম উপগ্রহ কক্ষপথে একবার প্রদক্ষিণ করার সময় ভূপৃষ্ঠের যতটা চওড়া বা প্রশস্ত অংশের ছবি সেন্সরের সাহায্যে একসাথে তুলতে পারে, সেই অংশের প্রস্থকে ওই উপগ্রহের সোয়াথ বলে।
16. ভারতের টপোশিট বা ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র কে প্রস্তুত করে?
ভারতের সমস্ত টপোগ্রাফিক্যাল বা ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করার দায়িত্ব 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া' (Survey of India বা SOI) নামক সরকারি সংস্থার। এটি ১৭৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর দেরাদুনে অবস্থিত।
17. গ্রিড বা ভৌগোলিক জালক (Grid) কী?
গ্লোব বা মানচিত্রে অক্ষরেখা এবং দ্রাঘিমারেখাগুলি আড়াআড়িভাবে পরস্পরকে ছেদ করে যে অসংখ্য বর্গাকার বা আয়তাকার জালের মতো খোপ তৈরি করে, তাকে গ্রিড বা ভৌগোলিক জালক বলে।
18. প্রতীক চিহ্ন বা Conventional Signs বলতে কী বোঝো?
টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান (নদী, পাহাড়) এবং সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে (রাস্তা, মন্দির, বসতি) নিখুঁতভাবে বোঝানোর জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত যেসব নির্দিষ্ট চিহ্ন, রেখা বা রঙ ব্যবহার করা হয়, তাদের প্রচলিত প্রতীক চিহ্ন বা Conventional Signs বলে।
19. টপোশিটে সমোচ্চরেখা (Contour line) কী? এটি কোন্ রঙে দেখানো হয়?
মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের সমান উচ্চতাযুক্ত স্থানগুলিকে যুক্ত করে যে কাল্পনিক রেখা টানা হয়, তাকে সমোচ্চরেখা বলে। টপোশিটে সমোচ্চরেখা এবং ভূপ্রকৃতি (পাহাড়, পর্বত) বোঝাতে সর্বদা বাদামি (Brown) রঙ ব্যবহার করা হয়।
20. টপোশিটে লাল (Red) এবং হলুদ (Yellow) রঙের ব্যবহার লেখো।
টপোশিটে জনবসতি (ঘরবাড়ি), পাকা রাস্তা (Metal road), মন্দির, মসজিদ ইত্যাদি সাংস্কৃতিক উপাদান বোঝাতে লাল রঙ ব্যবহার করা হয়। আর কৃষিজমি বা চাষযোগ্য এলাকা বোঝাতে হলুদ রঙ ব্যবহার করা হয়।
21. টপোশিটে কালো (Black) এবং নীল (Blue) রঙের ব্যবহার লেখো।
রেলপথ, সীমানারেখা, কাঁচা রাস্তা, এবং শুষ্ক নদীখাত বোঝাতে কালো রঙ ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে সারাবছর জল থাকে এমন নিত্যবহ নদী, হ্রদ, পুকুর বা জলাশয় বোঝাতে নীল রঙ ব্যবহার করা হয়।
22. ভগ্নাংশ সূচক স্কেল বা R.F. (Representative Fraction) কী?
মানচিত্রের দূরত্ব এবং ভূপৃষ্ঠের বাস্তব দূরত্বের অনুপাতকে যখন একটি ভগ্নাংশের আকারে প্রকাশ করা হয় (যেখানে লব সর্বদা ১ থাকে), তখন তাকে R.F. বলে। যেমন: R.F. 1:50,000. এর কোনো নির্দিষ্ট একক থাকে না।
23. মিলিয়ন শিট (Million Sheet) মানচিত্র কী?
যে টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের স্কেল 1:1,000,000 (অর্থাৎ 1 সেমিতে 10 কিমি) এবং যার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার ৪° × ৪° (4 ডিগ্রি × 4 ডিগ্রি), তাকে মিলিয়ন শিট বলে।
24. ডিগ্রি শিট (Degree Sheet) মানচিত্র কাকে বলে?
যে টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রের স্কেল 1:250,000 (অর্থাৎ 1 সেমিতে 2.5 কিমি) এবং যার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার ১° × ১° (1 ডিগ্রি × 1 ডিগ্রি), তাকে ডিগ্রি শিট বলে। (এর সূচক সংখ্যা 73 M বা 72 P ইত্যাদি হয়)।
25. 1:50,000 স্কেলের টপোশিটের বিস্তার এবং সূচক নম্বর কেমন হয়?
1:50,000 স্কেলের টপোশিটের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার ১৫ মিনিট × ১৫ মিনিট (15' × 15') হয়। এর সূচক নম্বরে ডিগ্রি শিটের পর ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত সংখ্যা থাকে, যেমন: 73 M/11, 72 P/5।
26. প্লাটফর্ম (Platform) বলতে রিমোট সেন্সিং-এ কী বোঝায়?
রিমোট সেন্সিং বা দূরসংবেদনে সেন্সর বা ক্যামেরাকে যে যানের ওপর বসিয়ে মহাকাশ বা আকাশে পাঠানো হয়, তাকে প্ল্যাটফর্ম বলে। বেলুন, ড্রোন, বিমান এবং কৃত্রিম উপগ্রহ (Satellite) হল প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ।
27. উপগ্রহ চিত্রের একটি প্রধান অসুবিধা লেখো।
উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এটি ডিকোড বা পড়ার জন্য আধুনিক কম্পিউটার, সফটওয়্যার এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। সাধারণ মানুষ এটি সহজে বুঝতে পারে না।
28. টপোশিটে 'BM' এবং 'CH' কথাটির অর্থ কী?
টপোশিটে 'BM' বলতে বেঞ্চ মার্ক (Bench Mark) অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সঠিক উচ্চতাকে বোঝায়। 'CH' বলতে সার্কিট হাউস (Circuit House) বা সরকারি ডাকবাংলো বোঝায়।
29. উপগ্রহ চিত্রের দুটি ব্যবহার বা গুরুত্ব লেখো।
১) আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা। ২) দুর্গম অঞ্চলের বনভূমি, খনিজ সম্পদ এবং কৃষিজমির অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
30. জিপিএস (GPS) কী কাজে লাগে?
GPS (Global Positioning System) হল কৃত্রিম উপগ্রহ নির্ভর এক আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, যার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা এবং অবস্থান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যায়।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

8 টি
1. উপগ্রহ চিত্র (Satellite Imagery) এবং ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের (Topographical Map) মধ্যে পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

উপগ্রহ চিত্র ও ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যউপগ্রহ চিত্র (Satellite Imagery)ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Topographical Map)
সংজ্ঞা ও প্রকৃতিকৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের সাহায্যে তোলা ভূপৃষ্ঠের ডিজিটাল ছবি। এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তি নির্ভর।সার্ভে করে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট অঞ্চলের হাতে আঁকা বা প্রিন্ট করা নিখুঁত মানচিত্র।
তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমমহাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহ এবং সেন্সরের (Sensor) মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।মাঠে গিয়ে সরাসরি সমীক্ষা (Surveying) করে যন্ত্রপাতি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
রঙের ব্যবহারএতে ছদ্ম রঙ বা False Colour Composite (FCC) ব্যবহার করা হয় (যেমন অরণ্য লাল রঙের)।এতে উপাদানগুলির নির্দিষ্ট প্রচলিত রঙ (Conventional colors) থাকে (যেমন অরণ্য সবুজ রঙের)।
প্রতীক চিহ্নউপগ্রহ চিত্রে কোনো প্রতীক চিহ্ন বা Conventional signs থাকে না, পিক্সেলের মাধ্যমে ছবি ফোটে।এতে নির্দিষ্ট প্রতীক চিহ্নের সাহায্যে বিভিন্ন উপাদান (মন্দির, রাস্তা, গাছ) বোঝানো হয়।
আপডেট বা নবীকরণকৃত্রিম উপগ্রহ বারবার প্রদক্ষিণ করে বলে এটি খুব দ্রুত (কয়েক দিনেই) আপডেট করা যায়।এটি নতুন করে সার্ভে করে আপডেট করতে প্রচুর সময় (কয়েক বছর) ও লোকবল লাগে।
ব্যবহারের সহজতাএটি ডিকোড করার জন্য কম্পিউটার ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে না।প্রতীক চিহ্ন জানা থাকলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই এই মানচিত্র পড়তে ও বুঝতে পারে।
2. দূরসংবেদন বা রিমোট সেন্সিং (Remote Sensing) ব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি আলোচনা করো।

রিমোট সেন্সিং-এর সুবিধা (Advantages):

  1. দুর্গম অঞ্চলের তথ্য সংগ্রহ: গভীর জঙ্গল, উঁচু পর্বত, বরফাবৃত অঞ্চল বা গভীর সমুদ্র—যেখানে মানুষের সরাসরি পৌঁছানো অসম্ভব, রিমোট সেন্সিং-এর সাহায্যে সেখানকার নিখুঁত ছবি ও তথ্য সহজেই পাওয়া যায়।
  2. দ্রুত আপডেট ও নজরদারি: উপগ্রহগুলি নিয়মিত পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে বলে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরিবর্তনশীল ডেটা (যেমন বন্যার বিস্তার, দাবানল) অত্যন্ত দ্রুত (রিয়েল-টাইমে) পাওয়া যায়।
  3. বিশাল এলাকার কভারেজ: একটি মাত্র উপগ্রহ চিত্রে একসাথে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিশাল অঞ্চলের ছবি পাওয়া যায়, যা সাধারণ ফটোগ্রাফিতে সম্ভব নয়।
  4. বহুমুখী ব্যবহার: এর মাধ্যমে খনিজ সম্পদ খোঁজা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, কৃষিজমির অবস্থা, এবং সামরিক নজরদারি নিখুঁতভাবে করা যায়।

অসুবিধা (Disadvantages):

  1. অত্যন্ত ব্যয়বহুল: কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি, মহাকাশে উৎক্ষেপণ এবং এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা সব দেশের পক্ষে সম্ভব নয়।
  2. প্রযুক্তিগত নির্ভরতা: উপগ্রহের সেন্সর খারাপ হলে বা মহাকাশে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পুরো সিস্টেম বিকল হয়ে যেতে পারে।
  3. বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন: উপগ্রহ চিত্র বা ডেটা বিশ্লেষণ করার জন্য উন্নত কম্পিউটার, সফটওয়্যার এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ এটি পড়তে পারে না।
3. ভূসমলয় উপগ্রহ (Geostationary Satellite) এবং সূর্যসমলয় উপগ্রহের (Sun-synchronous Satellite) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

ভূসমলয় ও সূর্যসমলয় উপগ্রহের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যভূসমলয় উপগ্রহ (Geostationary)সূর্যসমলয় উপগ্রহ (Sun-synchronous)
কক্ষপথের ধরনএগুলি নিরক্ষরেখা বরাবর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।এগুলি উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু বরাবর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
উচ্চতাএগুলি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে, প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় স্থাপন করা হয়।এগুলি তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতায়, ৭০০ থেকে ৯০০ কিমি উঁচুতে স্থাপন করা হয়।
পরিক্রমণ কালএদের একবার পৃথিবী ঘুরতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে (পৃথিবীর আবর্তনের সমান)।এদের একবার পৃথিবী ঘুরতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মিনিট সময় লাগে।
পৃথিবী থেকে অবস্থানপৃথিবীর আবর্তন বেগের সমান বেগে ঘোরায় পৃথিবী থেকে এদের সর্বদা একই স্থানে স্থির বলে মনে হয়।এরা সারাদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের ওপর দিয়ে উড়ে যায়, স্থির থাকে না।
প্রধান কাজ ও উদ্দেশ্যআবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড়ের নজরদারি, টেলিভিশন সম্প্রচার এবং টেলিযোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।প্রাকৃতিক সম্পদ সমীক্ষা, অরণ্য, খনিজ, কৃষিকাজ এবং মানচিত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণভারতের INSAT, GSAT; আমেরিকার GOES.ভারতের IRS, Cartosat; আমেরিকার LANDSAT.
4. উপগ্রহ চিত্রের (Satellite Imagery) প্রধান ব্যবহার বা গুরুত্বগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

উপগ্রহ চিত্রের ব্যবহার ও গুরুত্ব:

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আধুনিক উপগ্রহ চিত্র বা রিমোট সেন্সিং ডেটা মানবকল্যাণে ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে:

  1. আবহাওয়া ও জলবায়ুর পূর্বাভাস: কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া মেঘের ছবি ও ডেটা বিশ্লেষণ করে নিখুঁত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া যায়। ঘূর্ণিঝড় (যেমন আম্ফান, যস) কবে কোথায় আছড়ে পড়বে তা উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে আগাম জানা যায়, ফলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়।
  2. প্রাকৃতিক সম্পদ সমীক্ষা: দুর্গম অরণ্যে বনভূমির ঘনত্ব, কৃষিক্ষেত্রে ফসলের উৎপাদন ও রোগ, এবং মাটির নীচে লুকিয়ে থাকা খনিজ তেল ও খনিজ সম্পদের সন্ধান পেতে উপগ্রহ চিত্র অত্যন্ত কার্যকরী।
  3. মানচিত্র প্রস্তুতকরণ: উপগ্রহ থেকে পাওয়া নিখুঁত ডেটা ব্যবহার করে খুব কম সময়ে নির্ভুল টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র বা থিমেটিক ম্যাপ প্রস্তুত ও আপডেট করা যায়।
  4. বিপর্যয় মোকাবিলা: বন্যা, সুনামি, ভূমিকম্প বা দাবানলের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কোন অঞ্চলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার তাৎক্ষণিক রিয়েল-টাইম ছবি উপগ্রহ থেকে পাওয়া যায়, যা দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে সাহায্য করে।
  5. সামরিক নজরদারি: দেশের সীমান্ত সুরক্ষায়, অনুপ্রবেশ রুখতে এবং শত্রুপক্ষের গতিবিধির ওপর মহাকাশ থেকে কড়া নজর রাখতে হাই-রেজোলিউশন উপগ্রহ চিত্র (যেমন Cartosat) ব্যবহার করা হয়।
5. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে (Topographical Map) ব্যবহৃত বিভিন্ন রঙের তাৎপর্য বা গুরুত্ব লেখো।

টপোশিটে ব্যবহৃত বিভিন্ন রঙের তাৎপর্য:

ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে নিখুঁতভাবে বোঝানোর জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত নির্দিষ্ট কয়েকটি রঙ ব্যবহার করা হয়:

  1. বাদামি (Brown): ভূপ্রকৃতির উচ্চতা এবং পাহাড়-পর্বত বোঝাতে সমোচ্চরেখা (Contour Lines) আঁকতে বাদামি রঙ ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বালিয়াড়ি বা স্যান্ড ডিউনস বোঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
  2. কালো (Black): শুষ্ক নদীখাত (যেখানে সারাবছর জল থাকে না), রেলপথ, টেলিগ্রাম ও টেলিফোন লাইন, কাঁচা রাস্তা, আন্তর্জাতিক বা রাজ্যের সীমানারেখা, এবং অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা বোঝাতে কালো রঙ ব্যবহার করা হয়।
  3. নীল (Blue): সারাবছর জল থাকে এমন নিত্যবহ নদী, হ্রদ, পুকুর, খাল, সমুদ্র বা যেকোনো জলভাগ বোঝাতে নীল রঙ ব্যবহৃত হয়।
  4. লাল (Red): মানুষের তৈরি সাংস্কৃতিক উপাদান যেমন—জনবসতি, ইটের তৈরি ঘরবাড়ি, পাকা রাস্তা (Metal road), মন্দির, মসজিদ, গির্জা প্রভৃতি বোঝাতে লাল রঙ ব্যবহৃত হয়।
  5. সবুজ (Green): বনভূমি, অরণ্য, জঙ্গল, চা বাগান এবং যেকোনো স্বাভাবিক উদ্ভিদ বোঝাতে সবুজ রঙ ব্যবহার করা হয়।
  6. হলুদ (Yellow): চাষযোগ্য কৃষিজমি বা আবাদি এলাকা বোঝাতে হলুদ রঙ ব্যবহার করা হয়।
  7. সাদা (White): অনুর্বর বা পতিত জমি, যেখানে কোনো চাষাবাদ হয় না বা জঙ্গল নেই, তা বোঝাতে সাদা রঙ (অর্থাৎ কোনো রঙ দেওয়া হয় না) ব্যবহৃত হয়।
6. রিমোট সেন্সিং বা দূরসংবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়গুলি (Stages of Remote Sensing) আলোচনা করো।

রিমোট সেন্সিং-এর বিভিন্ন পর্যায়:

দূরসংবেদন বা উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:

  1. শক্তির উৎস (Energy Source): রিমোট সেন্সিং-এর জন্য প্রথমে শক্তির প্রয়োজন। প্যাসিভ সেন্সরের ক্ষেত্রে প্রধান শক্তির উৎস হল সূর্য (সৌর বিকিরণ), আর অ্যাকটিভ সেন্সরের নিজস্ব শক্তি (যেমন লেজার বা রাডার) থাকে।
  2. শক্তির প্রতিফলন (Reflection): সূর্যরশ্মি বা সেন্সরের পাঠানো তরঙ্গ ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন বস্তু (যেমন গাছ, জল, বাড়ি) দ্বারা শোষিত বা প্রতিফলিত হয়ে আবার মহাশূন্যের দিকে ফিরে যায়।
  3. সেন্সর দ্বারা তথ্য গ্রহণ (Sensing): প্রতিফলিত তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গগুলিকে (Electromagnetic energy) মহাকাশে থাকা উপগ্রহের সেন্সরগুলি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে রেকর্ড বা গ্রহণ করে ডিজিটাল ডেটায় পরিণত করে।
  4. ডেটা ট্রান্সমিশন (Data Transmission): উপগ্রহ তার সংগৃহীত সেই ডিজিটাল ডেটা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভিং স্টেশনে (যেমন ভারতের হায়দ্রাবাদের NRSC-তে) পাঠিয়ে দেয়।
  5. তথ্য বিশ্লেষণ (Data Analysis): পৃথিবীর কেন্দ্রে আসা সেই সিগন্যালগুলিকে সুপার কম্পিউটার এবং বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে প্রসেসিং করে ছবি বা ইমেজে (FCC) রূপান্তরিত করা হয়। এরপর বিজ্ঞানীরা সেই ছবি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মানচিত্র বা রিপোর্ট তৈরি করেন যা সাধারণ মানুষের কাজে লাগে।
7. টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার স্কেল (1:1M, 1:250K, 1:50K) এবং তাদের সূচক নম্বরের বিবরণ দাও।

টপোশিটের স্কেল ও সূচক নম্বর:

সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (SOI) মূলত তিনটি প্রধান স্কেলে ভারতের ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রকাশ করে। এগুলি হল:

  1. মিলিয়ন শিট (Million Sheet):
    - স্কেল: 1:1,000,000 (অর্থাৎ মানচিত্রের ১ সেমিতে বাস্তব ১০ কিমি)।
    - বিস্তার: ৪° অক্ষাংশ × ৪° দ্রাঘিমাংশ (4° × 4°)।
    - সূচক নম্বর: শুধুমাত্র একটি সংখ্যা (১ থেকে ১৩৬ পর্যন্ত) দিয়ে সূচিত হয়। যেমন: 72, 73, 55।
  2. ডিগ্রি শিট (Degree Sheet):
    একটি মিলিয়ন শিটকে ১৬টি সমান ভাগে ভাগ করে এটি তৈরি হয়।
    - স্কেল: 1:250,000 (অর্থাৎ মানচিত্রের ১ সেমিতে বাস্তব ২.৫ কিমি)।
    - বিস্তার: ১° অক্ষাংশ × ১° দ্রাঘিমাংশ (1° × 1°)।
    - সূচক নম্বর: মিলিয়ন শিটের নাম্বারের পর ইংরেজি A থেকে P পর্যন্ত অক্ষর বসে। যেমন: 73 M, 72 P।
  3. হাফ ইঞ্চি বা 1:50,000 স্কেলের শিট:
    একটি ডিগ্রি শিটকে আবার ১৬টি ভাগে ভাগ করে এটি তৈরি হয়। মাধ্যমিক সিলেবাসে এটিই প্রধান।
    - স্কেল: 1:50,000 (অর্থাৎ মানচিত্রের ২ সেমিতে বাস্তব ১ কিমি)।
    - বিস্তার: ১৫ মিনিট অক্ষাংশ × ১৫ মিনিট দ্রাঘিমাংশ (15' × 15')।
    - সূচক নম্বর: ডিগ্রি শিটের পর ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত সংখ্যা বসে। যেমন: 73 M/11, 72 P/5।
8. সেন্সর (Sensor) কী? অ্যাকটিভ সেন্সর ও প্যাসিভ সেন্সরের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

সেন্সর (Sensor):

সেন্সর হল কৃত্রিম উপগ্রহে বসানো এক অতি সংবেদনশীল বৈদ্যুতিন যন্ত্র বা রিসিভার, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গকে গ্রহণ করে উপগ্রহ চিত্রের ডিজিটাল ডেটা তৈরি করে। এটি মূলত দু-প্রকার: অ্যাকটিভ এবং প্যাসিভ সেন্সর।

অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেন্সরের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যঅ্যাকটিভ সেন্সর (Active Sensor)প্যাসিভ সেন্সর (Passive Sensor)
শক্তির উৎসএদের নিজস্ব শক্তির উৎস থাকে (যেমন লেজার, রাডার বা মাইক্রোওয়েভ তরঙ্গ)।এদের নিজস্ব কোনো শক্তি থাকে না, এরা সূর্যের আলোর (সৌর বিকিরণ) ওপর নির্ভর করে।
কাজ করার পদ্ধতিএরা নিজেই ভূপৃষ্ঠে আলো বা তরঙ্গ পাঠায় এবং তার প্রতিফলনের ভিত্তিতে ছবি তোলে।সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পড়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে তা গ্রহণ করে ছবি তোলে।
দিন-রাতের প্রভাবনিজস্ব শক্তি থাকায় এরা দিনে ও রাতে উভয় সময়েই নিখুঁত ছবি তুলতে পারে।সূর্যের আলোর অভাবে এরা রাতের বেলা কাজ করতে পারে না বা ছবি তুলতে পারে না।
মেঘের প্রভাবএদের তরঙ্গ মেঘ ভেদ করে যেতে পারে, তাই মেঘলা আকাশেও ছবি তুলতে পারে।মেঘ থাকলে সূর্যের আলো বাধা পায়, তাই এরা মেঘলা দিনে স্পষ্ট ছবি তুলতে পারে না।
উদাহরণরাডার (RADAR), লিডার (LIDAR)।সাধারণ ফটোগ্রাফিক ক্যামেরা, ল্যান্ডস্যাট বা আইআরএস (IRS) এর লিনিয়ার স্ক্যানার।

মনে রেখো!

রিমোট সেন্সিং: দূর থেকে সেন্সরের সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ। প্যাসিভ সেন্সর সূর্যের আলোয় এবং অ্যাকটিভ সেন্সর নিজের আলোয় কাজ করে।
উপগ্রহ: INSAT একটি ভূসমলয় (৩৬০০০ কিমি) এবং IRS একটি সূর্যসমলয় (৭০০-৯০০ কিমি) উপগ্রহ।
টপোশিট রঙ: সমোচ্চরেখা = বাদামি, বনভূমি = সবুজ, বসতি = লাল, নিত্যবহ নদী = নীল।
FCC: উপগ্রহ চিত্রে (FCC) স্বাভাবিক উদ্ভিদকে লাল রঙে দেখানো হয়।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

কোনো বস্তুকে সরাসরি স্পর্শ না করে দূর থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের সেন্সরের সাহায্যে তার নিখুঁত ডিজিটাল ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করার প্রযুক্তিকে রিমোট সেন্সিং বা দূরসংবেদন বলে।

প্যাসিভ সেন্সর সূর্যের আলোর প্রতিফলনের সাহায্যে ছবি তোলে (রাতে কাজ করে না)। অ্যাকটিভ সেন্সরের নিজস্ব শক্তি (যেমন রাডার) থাকে, তাই এটি দিন ও রাত উভয় সময়েই ছবি তুলতে পারে।

উপগ্রহ চিত্রে বস্তুকে স্পষ্টভাবে বোঝানোর জন্য বাস্তব রঙের বদলে ছদ্ম রঙ (False Colour Composite বা FCC) ব্যবহার করা হয়। যেমন বনভূমিকে সবুজ না দেখিয়ে লাল রঙে দেখানো হয়।

ভারতের সমস্ত টপোগ্রাফিক্যাল মানচিত্র প্রস্তুত ও প্রকাশ করে 'সার্ভে অফ ইন্ডিয়া' (Survey of India বা SOI)। এর সদর দপ্তর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে অবস্থিত।

1:50,000 স্কেলের টপোশিটের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার ১৫ মিনিট × ১৫ মিনিট (15' × 15') হয়। এর সূচক নম্বরে ডিগ্রি শিটের পর ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত সংখ্যা থাকে (যেমন 73 M/11)।