Chapter 3: বারিমণ্ডল (Hydrosphere)

সমুদ্রস্রোত, সমুদ্রতরঙ্গ, মগ্নচড়া এবং জোয়ার-ভাটার কারণ ও ফলাফল | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর (WBBSE 2027)

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 03 May 2026 Last Update: 30 May 2026
Chapter 3: বারিমণ্ডল | Madhyamik Geography

Chapter 3: বারিমণ্ডল (Hydrosphere)

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের গভীর বিশ্লেষণ ও প্রস্তুতি | 50 MCQ | 40 SAQ | 10 Broad Questions

সমুদ্রস্রোত জোয়ার-ভাটা সিজিগি মগ্নচড়া বানডাকা
🌊

সমুদ্রস্রোত

উষ্ণ ও শীতল স্রোত, মগ্নচড়া সৃষ্টি এবং এল নিনো

🌕

জোয়ার-ভাটা

ভরা কোটাল, মরা কোটাল, সিজিগি এবং বানডাকা

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

50 টি
1. পৃথিবীর মোট আয়তনের কত শতাংশ জলভাগ?
ক) ৭১%
খ) ২৯%
গ) ৫০%
ঘ) ৯৭%
2. পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর কোনটি?
ক) আটলান্টিক
খ) ভারত
গ) প্রশান্ত
ঘ) সুমেরু
3. সমুদ্রের জলরাশির নির্দিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে একমুখী প্রবাহকে কী বলে?
ক) সমুদ্রতরঙ্গ
খ) সমুদ্রস্রোত
গ) জোয়ার-ভাটা
ঘ) সুনামি
4. বায়ুপ্রবাহের ফলে সমুদ্রের জলরাশির উল্লম্ব উত্থান-পতনকে কী বলে?
ক) সমুদ্রস্রোত
খ) সমুদ্রতরঙ্গ
গ) বানডাকা
ঘ) সুনামি
5. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
ক) পৃথিবীর পরিক্রমণ গতি
খ) নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
গ) জোয়ার-ভাটা
ঘ) ভূমিকম্প
6. উষ্ণ ও হালকা সমুদ্রস্রোত সমুদ্রের কোন্ অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়?
ক) পৃষ্ঠদেশ দিয়ে (বহিঃস্রোত)
খ) তলদেশ দিয়ে (অন্তঃস্রোত)
গ) মধ্যভাগ দিয়ে
ঘ) উপকূল বরাবর
7. শীতল ও ভারী সমুদ্রস্রোত কীভাবে প্রবাহিত হয়?
ক) বহিঃস্রোত রূপে
খ) অন্তঃস্রোত রূপে
গ) সমুদ্রতরঙ্গ রূপে
ঘ) উল্লম্বভাবে
8. ফেরেলের সূত্র অনুসারে উত্তর গোলার্ধে সমুদ্রস্রোত কোন্ দিকে বেঁকে যায়?
ক) বাম দিকে
খ) ডান দিকে
গ) সোজা পথে
ঘ) উপরের দিকে
9. সমুদ্রজলের লবণতা ও ঘনত্ব বেশি হলে স্রোত কীভাবে প্রবাহিত হয়?
ক) বহিঃস্রোত রূপে
খ) অন্তঃস্রোত রূপে
গ) উল্লম্ব স্রোত রূপে
ঘ) স্থির থাকে
10. নিরক্ষীয় স্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ কোন্ বায়ুপ্রবাহ?
ক) পশ্চিমা বায়ু
খ) মেরু বায়ু
গ) আয়ন বায়ু
ঘ) মৌসুমি বায়ু
11. কুরোশিও (Kuroshio) স্রোত কোন্ মহাসাগরে দেখা যায়?
ক) ভারত মহাসাগর
খ) আটলান্টিক মহাসাগর
গ) প্রশান্ত মহাসাগর
ঘ) সুমেরু মহাসাগর
12. উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream) কোন্ মহাসাগরের স্রোত?
ক) উত্তর আটলান্টিক
খ) দক্ষিণ আটলান্টিক
গ) প্রশান্ত
ঘ) ভারত
13. নিচের কোনটি একটি শীতল স্রোত?
ক) ব্রাজিল স্রোত
খ) আগুলহাস স্রোত
গ) ল্যাব্রাডর স্রোত
ঘ) জাপান স্রোত
14. আগুলহাস স্রোত (Agulhas Current) কোথায় প্রবাহিত হয়?
ক) প্রশান্ত মহাসাগরে
খ) ভারত মহাসাগরে
গ) আটলান্টিক মহাসাগরে
ঘ) সুমেরু মহাসাগরে
15. পেরু স্রোত বা হামবোল্ট স্রোত কী ধরনের স্রোত?
ক) উষ্ণ স্রোত
খ) শীতল স্রোত
গ) অন্তঃস্রোত
ঘ) মিশ্র স্রোত
16. মৌসুমি বায়ু দ্বারা কোন্ মহাসাগরের সমুদ্রস্রোত নিয়ন্ত্রিত হয়?
ক) প্রশান্ত মহাসাগর
খ) আটলান্টিক মহাসাগর
গ) ভারত মহাসাগর
ঘ) কুমেরু মহাসাগর
17. 'শৈবাল সাগর' (Sargasso Sea) কোন্ মহাসাগরে সৃষ্টি হয়েছে?
ক) উত্তর আটলান্টিক
খ) দক্ষিণ প্রশান্ত
গ) ভারত
ঘ) সুমেরু
18. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে কী সৃষ্টি হয়?
ক) পরিষ্কার আবহাওয়া
খ) ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্জা
গ) প্রবল শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ঘ) মরুভূমি
19. 'মগ্নচড়া' (Banks) কোথায় সৃষ্টি হয়?
ক) উষ্ণ স্রোতের গতিপথে
খ) শীতল স্রোতের গতিপথে
গ) উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে
ঘ) গভীর সমুদ্রে
20. গ্র্যান্ড ব্যাংক (Grand Bank) মগ্নচড়াটি কীসের জন্য বিখ্যাত?
ক) খনিজ তেল উত্তোলনের জন্য
খ) মৎস্য আহরণের জন্য
গ) প্রবাল প্রাচীরের জন্য
ঘ) মুক্তো চাষের জন্য
21. নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে কোন্ কোন্ স্রোত মিলিত হয়েছে?
ক) উষ্ণ উপসাগরীয় ও শীতল ল্যাব্রাডর
খ) উষ্ণ কুরোশিও ও শীতল ওয়াসিও
গ) উষ্ণ ব্রাজিল ও শীতল ফকল্যান্ড
ঘ) কোনোটিই নয়
22. এল নিনো (El Nino) দেখা দিলে সমুদ্রজলের উষ্ণতা-
ক) বৃদ্ধি পায়
খ) হ্রাস পায়
গ) একই থাকে
ঘ) হিমাঙ্কের নীচে চলে যায়
23. সমুদ্রের জল নিয়মিতভাবে দিনে দুবার ফুলে ওঠাকে কী বলে?
ক) ভাটা
খ) জোয়ার
গ) সুনামি
ঘ) বানডাকা
24. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
ক) বায়ুপ্রবাহ
খ) সমুদ্রস্রোত
গ) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ
ঘ) ভূমিকম্প
25. পৃথিবীর ওপর চাঁদের আকর্ষণ সূর্যের আকর্ষণের চেয়ে প্রায় কত গুণ বেশি?
ক) ২.২ গুণ
খ) ৪ গুণ
গ) ৫ গুণ
ঘ) ১০ গুণ
26. চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীর যে অংশে জোয়ার হয়, তাকে কী বলে?
ক) গৌণ জোয়ার
খ) মুখ্য জোয়ার
গ) মরা কোটাল
ঘ) ভরা কোটাল
27. পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বা বিকর্ষণ বলের প্রভাবে কোন্ জোয়ার সৃষ্টি হয়?
ক) মুখ্য জোয়ার
খ) গৌণ জোয়ার
গ) অ্যাপোজি জোয়ার
ঘ) ভরা কোটাল
28. পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দিনে কতবার জোয়ার ও কতবার ভাটা হয়?
ক) ১ বার জোয়ার, ১ বার ভাটা
খ) ২ বার জোয়ার, ২ বার ভাটা
গ) ৩ বার জোয়ার
ঘ) ৪ বার ভাটা
29. দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
ক) ২৪ ঘণ্টা
খ) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
গ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
30. একটি মুখ্য জোয়ার এবং একটি গৌণ জোয়ারের মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
ক) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
খ) ১২ ঘণ্টা
গ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
ঘ) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
31. একটি জোয়ার ও একটি ভাটার মধ্যে সময়ের পার্থক্য কত?
ক) ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট
খ) ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট
গ) ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট
ঘ) ৩ ঘণ্টা
32. পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের একই সরলরেখায় অবস্থানকে কী বলে?
ক) সিজিগি
খ) অ্যাপোজি
গ) পেরিজি
ঘ) অপোকা
33. অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানকে কী বলে?
ক) সংযোগ
খ) প্রতীয়োগ
গ) পেরিজি
ঘ) অ্যাপোজি
34. পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থানকে কী বলে?
ক) সংযোগ
খ) প্রতীয়োগ
গ) সিজিগি
ঘ) উভয়ই খ ও গ
35. ভরা কোটাল বা তেজকোটাল (Spring Tide) কোন্ তিথিতে হয়?
ক) অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে
খ) অষ্টমী তিথিতে
গ) একাদশী তিথিতে
ঘ) শুক্লপক্ষে
36. মরা কোটাল (Neap Tide) কোন্ তিথিতে হয়?
ক) অমাবস্যায়
খ) পূর্ণিমায়
গ) শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে
ঘ) প্রতিপদে
37. চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে কম থাকলে তাকে কী বলে?
ক) অ্যাপোজি
খ) পেরিজি
গ) সিজিগি
ঘ) সংযোগ
38. পেরিজি অবস্থানে সৃষ্ট জোয়ারকে কী বলে?
ক) পেরিজি জোয়ার
খ) অ্যাপোজি জোয়ার
গ) মরা কোটাল
ঘ) গৌণ জোয়ার
39. চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সবচেয়ে বেশি থাকলে তাকে কী বলে?
ক) অ্যাপোজি
খ) পেরিজি
গ) প্রতীয়োগ
ঘ) সিজিগি
40. নদীর মোহানা ফানেল আকৃতির হলে ভরা কোটালের সময় প্রবল বেগে নদীর ভেতরে জল প্রবেশ করাকে কী বলে?
ক) সুনামি
খ) বানডাকা
গ) সিজিগি
ঘ) মরা কোটাল
41. বানডাকা প্রধানত কোন্ নদীতে দেখা যায়?
ক) গঙ্গা (হুগলি)
খ) আমাজন
গ) রূপনারায়ণ
ঘ) সবকটি
42. 'সারা বান' বা 'Pororoca' কোন্ নদীতে দেখা যায়?
ক) টেমস
খ) আমাজন
গ) হুগলি
ঘ) মিসিসিপি
43. জোয়ার-ভাটার একটি প্রধান সুফল কী?
ক) নদীগর্ভে পলি সঞ্চয়
খ) নদীর জল লবণাক্ত হওয়া
গ) জোয়ারের জলে বড়ো জাহাজ মোহানায় প্রবেশ করা
ঘ) নদীর পাড় ভাঙা
44. জোয়ার-ভাটার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ভারতে কোথায় জোয়ার-ভাটা শক্তির কেন্দ্র আছে?
ক) হুগলি নদীতে
খ) কচ্ছ উপসাগরে
গ) চিলকা হ্রদে
ঘ) গোদাবরীতে
45. শৈবাল সাগর কোন্ মহাসাগরে দেখা যায়?
ক) প্রশান্ত
খ) উত্তর আটলান্টিক
গ) ভারত
ঘ) কুমেরু
46. বেঙ্গুয়েলা স্রোত (Benguela Current) কোন্ মহাসাগরে দেখা যায়?
ক) দক্ষিণ আটলান্টিক
খ) উত্তর আটলান্টিক
গ) দক্ষিণ প্রশান্ত
ঘ) ভারত
47. ফকল্যান্ড স্রোত (Falkland current) কী প্রকৃতির স্রোত?
ক) উষ্ণ
খ) শীতল
গ) অন্তঃস্রোত
ঘ) মিশ্র
48. সমুদ্রজলের ঘনত্ব কিসের ওপর নির্ভর করে?
ক) উষ্ণতা ও লবণতা
খ) শুধুমাত্র উষ্ণতা
গ) বায়ুপ্রবাহ
ঘ) চন্দ্রের আকর্ষণ
49. মরা কোটালের সময় চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর অবস্থান কত ডিগ্রি কোণে থাকে?
ক) ০°
খ) ১৮০°
গ) ৯০°
ঘ) ৪৫°
50. জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নদীতীরবর্তী অঞ্চলে কী ধরনের উদ্ভিদ জন্মায়?
ক) সরলবর্গীয় উদ্ভিদ
খ) ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ
গ) ক্যাকটাস
ঘ) পর্ণমোচী উদ্ভিদ

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (১ ও ২ নম্বর)

40 টি
1. বারিমণ্ডল (Hydrosphere) কাকে বলে?
পৃথিবীর পৃষ্ঠে অবস্থিত সমস্ত জলরাশি অর্থাৎ মহাসাগর, সাগর, হ্রদ, নদী, এবং ভূগর্ভস্থ জল ও বরফস্তরকে একত্রে বারিমণ্ডল বা Hydrosphere বলে।
2. সমুদ্রস্রোত (Ocean Current) কী?
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, পৃথিবীর আবর্তন প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের এক বিশাল জলরাশির একটি নির্দিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।
3. সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave) কাকে বলে?
বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণে সমুদ্রের জলরাশি একই স্থানে অবস্থান করে নির্দিষ্ট ছন্দ ও গতিতে ছন্দোবদ্ধভাবে উল্লম্বভাবে (উপর-নীচে) ওঠানামা করাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
4. বহিঃস্রোত (Surface Current) কী?
নিরক্ষীয় অঞ্চলে তীব্র সূর্যতাপে সমুদ্রের জল উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে সমুদ্রের উপরিভাগ বা পৃষ্ঠদেশ দিয়ে মেরু অঞ্চলের দিকে যে স্রোত রূপে প্রবাহিত হয়, তাকে বহিঃস্রোত বলে।
5. অন্তঃস্রোত (Under Current) কাকে বলে?
মেরু অঞ্চলের অতি শীতল, ভারী এবং বেশি লবণাক্ত জল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যে স্রোত রূপে প্রবাহিত হয়, তাকে অন্তঃস্রোত বলে।
6. কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোতের দিকবিক্ষেপ কীভাবে ঘটে?
পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে (ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী) সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
7. Gyre বা কুণ্ডলী কী?
মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ও পৃথিবীর আবর্তনের প্রভাবে কয়েকটি সমুদ্রস্রোত চক্রাকারে বা বৃত্তাকারে আবর্তিত হলে তাকে গায়র বা কুণ্ডলী বলে।
8. শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কাকে বলে?
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে স্রোতের কুণ্ডলীর মাঝখানে একটি স্রোতহীন, শান্ত অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে যেখানে প্রচুর আগাছা ও শৈবাল জন্মায়। একে শৈবাল সাগর বলে।
9. হিমশৈল (Iceberg) কী?
উচ্চ অক্ষাংশে মহাদেশীয় হিমবাহ বা বরফের স্তূপ সমুদ্রের উপকূলে এসে ভেঙে গিয়ে বিশাল বরফের খণ্ডরূপে জলে ভাসতে থাকলে তাকে হিমশৈল বলে। এর ১/৯ অংশ জলের উপরে থাকে।
10. মগ্নচড়া (Banks) কাকে বলে?
শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে তার মধ্যস্থিত নুড়ি, পাথর, কাদা মহিসোপানে সঞ্চিত হয়ে যে অগভীর চড়া সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে (যেমন: গ্র্যান্ড ব্যাংক)।
11. মগ্নচড়াগুলি মৎস্য আহরণের জন্য বিখ্যাত কেন?
মগ্নচড়ার অগভীর জলে সূর্যের আলো পৌঁছানোয় এবং উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনে সেখানে মাছের প্রধান খাদ্য 'প্ল্যাঙ্কটন' (Plankton) প্রচুর জন্মায়, তাই প্রচুর মাছের সমাবেশ ঘটে।
12. উপসাগরীয় স্রোত (Gulf Stream) কী?
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মেক্সিকো উপসাগর থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর উষ্ণ স্রোতটি হল উপসাগরীয় স্রোত।
13. ল্যাব্রাডর স্রোত কী?
উত্তর মহাসাগর থেকে আগত এবং বাফিন উপসাগর ও ল্যাব্রাডর উপকূল দিয়ে প্রবাহিত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি শীতল স্রোত হল ল্যাব্রাডর স্রোত।
14. মৌসুমি স্রোত কোথায় দেখা যায়?
ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি স্রোত এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি স্রোত প্রবাহিত হয়।
15. উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্জা সৃষ্টি হয় কেন?
উষ্ণ স্রোতের ওপরের উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু শীতল স্রোতের সংস্পর্শে এলে দ্রুত ঘনীভূত হয়ে প্রবল কুয়াশা সৃষ্টি করে। এছাড়া, দুই স্রোতের উষ্ণতা ও ঘনত্বের পার্থক্যে সাইক্লোন বা ঝড়ঝঞ্জা হয়।
16. জোয়ার-ভাটা (Tides) কাকে বলে?
চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্রের জল নিয়মিতভাবে দিনে দু-বার ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং দু-বার নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
17. মুখ্য জোয়ার (Primary Tide) কী?
পৃথিবীর আবর্তনের সময় যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেখানে চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে মুখ্য বা প্রত্যক্ষ বা চান্দ্র জোয়ার বলে।
18. গৌণ জোয়ার (Secondary Tide) কীভাবে সৃষ্টি হয়?
চাঁদের আকর্ষণে যে স্থানে মুখ্য জোয়ার হয়, পৃথিবীর ঠিক তার বিপরীত (প্রতিপাদ) স্থানে আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে যে অপেক্ষাকৃত কম প্রাবল্যের জোয়ার হয়, তাকে গৌণ জোয়ার বলে।
19. কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force) কী?
পৃথিবীর আবর্তনের ফলে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো বস্তুর ছিটকে বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে কেন্দ্রাতিগ বল বা বিকর্ষণ বল বলে। এটি গৌণ জোয়ার সৃষ্টি করে।
20. প্রতিদিন জোয়ারের সময় ৫২ মিনিট পিছিয়ে যায় কেন?
পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ২৪ ঘণ্টায় একপাক ঘোরে, কিন্তু চাঁদও তার কক্ষপথে এগিয়ে যায়। পৃথিবীর কোনো স্থানকে চাঁদের একই অবস্থানে আবার ফিরে আসতে অতিরিক্ত ৫২ মিনিট সময় লাগে। তাই জোয়ার ৫২ মিনিট পিছিয়ে যায়।
21. ভরা কোটাল বা তেজকোটাল (Spring Tide) কী?
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে, চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে সমুদ্রে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে ভরা কোটাল বলে।
22. মরা কোটাল (Neap Tide) কাকে বলে?
শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে সমকোণে (৯০°) অবস্থান করে। ফলে উভয়ের আকর্ষণ বল পরস্পরকে প্রশমিত করায় যে দুর্বল জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে মরা কোটাল বলে।
23. সিজিগি (Syzygy) বলতে কী বোঝো?
অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় অবস্থান করে, জ্যোতির্বিজ্ঞানে সেই বিশেষ অবস্থানকে সিজিগি বলে।
24. সংযোগ (Conjunction) অবস্থান কী?
অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, অর্থাৎ পৃথিবীর একদিকে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকে, তাকে সংযোগ অবস্থান বলে।
25. প্রতীয়োগ (Opposition) অবস্থান কী?
পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, অর্থাৎ পৃথিবীর একপাশে চাঁদ ও অন্যপাশে সূর্য থাকে, সেই অবস্থানকে প্রতীয়োগ বলে।
26. অ্যাপোজি (Apogee) কী?
উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবী পরিক্রমণ করার সময় যখন চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব সর্বাধিক (প্রায় ৪,০৭,০০০ কিমি) হয়, চাঁদের সেই অবস্থানকে অ্যাপোজি বলে।
27. পেরিজি (Perigee) কী?
কক্ষপথে আবর্তনের সময় চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব যখন সর্বনিম্ন (প্রায় ৩,৫৬,০০০ কিমি) হয়, চাঁদের সেই নিকটতম অবস্থানকে পেরিজি বলে।
28. পেরিজি জোয়ার (Perigean Tide) কাকে বলে?
পেরিজি অবস্থানে পৃথিবীর খুব কাছে থাকায় চাঁদের আকর্ষণ বল ২০% বৃদ্ধি পায়। ফলে পৃথিবীতে স্বাভাবিকের চেয়ে যে প্রবল জোয়ার হয় তাকে পেরিজি জোয়ার বলে।
29. অ্যাপোজি জোয়ার (Apogean Tide) কী?
অ্যাপোজি অবস্থানে চাঁদ পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থাকায় চাঁদের আকর্ষণ বল স্বাভাবিকের চেয়ে ২০% কমে যায়। এর ফলে যে দুর্বল জোয়ার হয় তাকে অ্যাপোজি জোয়ার বলে।
30. বানডাকা বা বান (Tidal Bore) কাকে বলে?
বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল স্ফীত হয়ে নদীর মোহানা দিয়ে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঘটিয়ে ভয়ংকর শব্দে নদীর উজানের দিকে প্রবেশ করলে, তাকে বানডাকা বলে।
31. বান ডাকার অনুকূল পরিবেশ কী?
বান ডাকার জন্য মোহানা ফানেল আকৃতির হওয়া, নদীতে জলের পরিমাণ বেশি থাকা (বর্ষাকাল) এবং সমুদ্রের স্রোত নদীর অভিমুখে হওয়া প্রয়োজন।
32. সাঁড়াষাঁড়ির বান কাকে বলে?
বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় হুগলি নদীতে সমুদ্রের দিক থেকে আসা প্রবল বান এবং পিছন থেকে আসা নদীর বর্ষার জলের প্রবল সংঘর্ষে যে প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাস হয়, তাকে সাঁড়াষাঁড়ির বান বলে।
33. জোয়ার-ভাটা কীভাবে নদীর নাব্যতা রক্ষা করে?
ভাটার টানে নদীর তলদেশে সঞ্চিত পলি ও আবর্জনা ধুয়ে সমুদ্রে গিয়ে পড়ে, ফলে নদীর গভীরতা বা নাব্যতা বজায় থাকে।
34. জোয়ার-ভাটার একটি ক্ষতিকর প্রভাব লেখো।
জোয়ারের ফলে সমুদ্রের নোনা জল নদীতে প্রবেশ করে নদীর মিষ্টি জলকে লবণাক্ত করে দেয়, যা কৃষিকাজ ও পানের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রবল বানে নৌকাডুবি ও নদীর পাড় ভাঙে।
35. জাপানের উপকূল কেন সারাবছর উষ্ণ থাকে?
উষ্ণ কুরোশিও বা জাপান স্রোত প্রশান্ত মহাসাগর দিয়ে জাপানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এর প্রভাবে জাপানের পূর্ব উপকূল শীতকালেও উষ্ণ থাকে।
36. এল নিনো (El Nino) কী?
প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে (পেরু ও ইকুয়েডর) ২-৭ বছর অন্তর যে অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হয় তাকে এল নিনো বলে। এর প্রভাবে ভারতে খরা দেখা দেয়।
37. প্ল্যাঙ্কটন (Plankton) কী?
সমুদ্রের জলে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক উদ্ভিদ (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) এবং প্রাণীদের (জুপ্ল্যাঙ্কটন) একত্রে প্ল্যাঙ্কটন বলে। এটি মাছের প্রধান খাদ্য।
38. বিকল্প শক্তি হিসেবে জোয়ার-ভাটার গুরুত্ব কী?
উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার প্রবল জলস্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং দূষণমুক্ত জলবিদ্যুৎ বা জোয়ার-ভাটা শক্তি (Tidal Energy) উৎপাদন করা সম্ভব।
39. পশ্চিম ইউরোপের বন্দরগুলি শীতকালেও বরফমুক্ত থাকে কেন?
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের বন্দরগুলি (যেমন লন্ডনের টেমস বন্দর) শীতকালেও বরফমুক্ত থাকে এবং নৌচলাচল করতে পারে।
40. পৃথিবীতে মোট কত পরিমাণ জল আছে?
পৃথিবীর সমগ্র বারিভাগের আয়তন প্রায় ৩৫.৪ কোটি বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ৯৭% জল সমুদ্র ও মহাসাগরে লবণাক্ত জল হিসেবে অবস্থান করছে।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (৩ ও ৫ নম্বর)

10 টি
1. সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো।

সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণ:

সমুদ্রের জলরাশির একমুখী নিয়মিত প্রবাহ বা সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি হল:

  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (Planetary Winds): সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির সর্বপ্রধান কারণ হল নিয়ত বায়ুপ্রবাহ। পৃথিবীর আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় সমুদ্রের জলরাশিকে ঘর্ষণের মাধ্যমে নিজেদের প্রবাহের দিকে টেনে নিয়ে যায়। যেমন—আয়ন বায়ুর প্রভাবে নিরক্ষীয় স্রোত পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়।
  2. পৃথিবীর আবর্তন গতি ও কোরিওলিস বল: পৃথিবীর আবর্তনের কারণে সৃষ্ট কোরিওলিস বলের প্রভাবে সমুদ্রস্রোত সোজা পথে না গিয়ে ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
  3. উষ্ণতার তারতম্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ায় জল উত্তপ্ত, প্রসারিত ও হালকা হয়ে বহিঃস্রোত রূপে মেরুর দিকে বয়। আবার মেরু অঞ্চলের অতি শীতল ও ভারী জল তলদেশ দিয়ে অন্তঃস্রোত রূপে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে।
  4. লবণতা ও ঘনত্বের তারতম্য: সমুদ্রজলের লবণতা বেশি হলে তার ঘনত্ব ও ওজন বৃদ্ধি পায়। ভারী জল তখন অন্তঃস্রোত রূপে কম লবণাক্ত অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
  5. স্থলভাগের অবস্থান: প্রবাহিত সমুদ্রস্রোতের গতিপথে মহাদেশ বা কোনো দ্বীপ অবস্থান করলে স্রোত তাতে বাধা পেয়ে একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়। (যেমন: দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত ব্রাজিলের সেন্ট রোক অন্তরীপে বাধা পেয়ে দুটি শাখায় ভাগ হয়)।
  6. বরফের গলন: মেরু অঞ্চলে প্রচুর বরফ গলে গেলে সমুদ্রজলের পরিমাণ ও উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেখান থেকে নিম্ন অক্ষাংশের দিকে স্রোত সৃষ্টি হয়।
2. পৃথিবীর ওপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব বা ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

সমুদ্রস্রোতের প্রভাব (Effects of Ocean Currents):

উপকূলীয় জলবায়ু এবং মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের ওপর সমুদ্রস্রোতের গভীর প্রভাব রয়েছে:

  1. উষ্ণতার পরিবর্তন: উষ্ণ স্রোত যে উপকূলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেখানকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে (যেমন উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে পশ্চিম ইউরোপ উষ্ণ থাকে)। শীতল স্রোত তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় (ল্যাব্রাডর স্রোতে কানাডার পূর্ব উপকূল বরফাবৃত থাকে)।
  2. বৃষ্টিপাত ও মরুভূমি সৃষ্টি: উষ্ণ স্রোতের ওপর দিয়ে আসা বায়ু প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে উপকূলীয় অঞ্চলে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে শীতল স্রোতের ওপরের বায়ু শুষ্ক হওয়ায় বৃষ্টিপাত হয় না, যার ফলে মহাদেশের পশ্চিমভাগে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে (যেমন কালাহারি, আটাকামা মরুভূমি)।
  3. মগ্নচড়া ও মৎস্যক্ষেত্র সৃষ্টি: শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে তার মধ্যস্থিত আবর্জনা মহিসোপানে জমে মগ্নচড়া (Banks) সৃষ্টি করে। এখানে প্রচুর প্ল্যাঙ্কটন জন্মায় বলে গ্র্যান্ড ব্যাংক, ডগার্স ব্যাংকের মতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মৎস্যক্ষেত্রগুলি গড়ে উঠেছে।
  4. কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্জা: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে উষ্ণতা ও ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে প্রবল কুয়াশা এবং ভয়ংকর ঘূর্ণবাত বা ঝড়ঝঞ্জার সৃষ্টি হয়। এতে জাহাজ ও বিমান চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হয়।
  5. বরফমুক্ত বন্দর: উচ্চ অক্ষাংশের অনেক বন্দর শীতকালে বরফে জমে গেলেও উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে সেগুলি বরফমুক্ত থাকে (যেমন লন্ডনের বন্দর)।
3. সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্রতরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।

সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যসমুদ্রস্রোত (Ocean Current)সমুদ্রতরঙ্গ (Sea Wave)
সংজ্ঞাসমুদ্রের এক বিশাল জলরাশির নির্দিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে অনুভূমিক প্রবাহকে সমুদ্রস্রোত বলে।বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণে সমুদ্রের জলরাশি একই স্থানে থেকে ছন্দোবদ্ধভাবে উল্লম্বভাবে ওঠানামা করাকে সমুদ্রতরঙ্গ বলে।
জলের স্থানান্তরসমুদ্রস্রোতে সমুদ্রের জলরাশি একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রবাহিত বা স্থানান্তরিত হয়।সমুদ্রতরঙ্গে জলরাশি একস্থান থেকে অন্যস্থানে যায় না, কেবল উপর-নীচে ওঠানামা করে।
সৃষ্টির কারণএটি প্রধানত নিয়ত বায়ুপ্রবাহ, আবর্তন গতি, উষ্ণতা ও লবণতার পার্থক্যের জন্য সৃষ্টি হয়।এটি প্রধানত সাময়িক বায়ুপ্রবাহের ঘর্ষণ এবং ভূমিকম্প (সুনামি) ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতি ও বিস্তৃতিএটি স্রোত নদীর মতো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। এর বিস্তৃতি অনেক বেশি।এটি উন্মুক্ত সমুদ্রে সৃষ্টি হয়ে উপকূলে আছড়ে পড়ে ভেঙে যায়। এর বিস্তৃতি স্থানীয়।
ফলাফল বা প্রভাবএটি উপকূলের জলবায়ু, বৃষ্টিপাত ও মৎস্যক্ষেত্র সৃষ্টিতে গভীর প্রভাব ফেলে।এটি উপকূলের ক্ষয়কার্য, বালিয়াড়ি গঠন এবং ধ্বংসলীলা (সুনামি) ঘটাতে প্রভাব ফেলে।
4. জোয়ার-ভাটা (Tides) সৃষ্টির প্রধান কারণগুলি সচিত্র আলোচনা করো।

জোয়ার-ভাটা সৃষ্টির কারণ:

সমুদ্রের জলরাশির নিয়মিত ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। এটি সৃষ্টির প্রধান দুটি কারণ হল:

  1. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বল:
    নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। পৃথিবীর ওপর চাঁদ এবং সূর্য উভয়েরই আকর্ষণ রয়েছে। সূর্য চাঁদের তুলনায় ২.৬ কোটি গুণ ভারী হলেও, চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে (৩.৮৪ লক্ষ কিমি) অবস্থিত। তাই পৃথিবীর ওপর সূর্যের তুলনায় চাঁদের আকর্ষণ বল প্রায় ২.২ গুণ বেশি। পৃথিবীর আবর্তনের সময় যে অংশ চাঁদের ঠিক সামনে আসে, সেখানে চাঁদের প্রবল আকর্ষণে সমুদ্রের জলরাশি ফুলে ওঠে এবং মুখ্য বা চান্দ্র জোয়ার (Primary Tide) সৃষ্টি করে।
  2. পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বল (Centrifugal Force):
    পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর দ্রুতবেগে ঘুরছে (আবর্তন করছে)। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের জলরাশি বাইরের দিকে ছিটকে বেরিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়, একে কেন্দ্রাতিগ বা বিকর্ষণ বল বলে। পৃথিবীর যে অংশে চাঁদের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার হয়, ঠিক তার বিপরীত (প্রতিপাদ) স্থানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে কম থাকে। কিন্তু সেখানে কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সেখানকার জলরাশি বাইরের দিকে স্ফীত হয়ে ওঠে। এর ফলে সেখানে যে জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে গৌণ বা পরোক্ষ জোয়ার (Secondary Tide) বলে।

(পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় পৃথিবী, চাঁদ এবং জোয়ারের স্ফীতির একটি পরিষ্কার রেখাচিত্র আঁকা আবশ্যক।)

5. ভরা কোটাল (Spring Tide) ও মরা কোটালের (Neap Tide) মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করো।

ভরা কোটাল ও মরা কোটালের পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যভরা কোটাল বা তেজকোটালমরা কোটাল
তিথিএটি অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়।এটি শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে সংঘটিত হয়।
অবস্থান (সিজিগি/স্কোয়ার)এই সময় চাঁদ, সূর্য এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় (সিজিগি বা ১৮০° কোণে) অবস্থান করে।এই সময় চাঁদ এবং সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে সমকোণে (৯০° কোণে) অবস্থান করে।
আকর্ষণের ধরনচাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল একই দিকে (অমাবস্যায়) বা পরস্পরের অনুকূলে কাজ করায় আকর্ষণ সর্বাধিক হয়।চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ বল পরস্পরের সমকোণে (বিপরীতমুখী) কাজ করায় আকর্ষণ প্রশমিত হয়ে যায়।
জোয়ারের প্রাবল্যজলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের প্রাবল্য অত্যন্ত বেশি বা ভয়ংকর হয় (জলের উচ্চতা ২০% বেশি হয়)।জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের প্রাবল্য খুবই কম বা দুর্বল হয় (জলের উচ্চতা ২০% কম হয়)।
বানডাকার সম্ভাবনাভরা কোটালে মোহানা অঞ্চলে প্রবল বান ডাকার (Tidal bore) সম্ভাবনা থাকে।মরা কোটালে জোয়ার দুর্বল হওয়ায় বান ডাকার সম্ভাবনা থাকে না।
6. প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা সংঘটনের সময়ের ব্যবধান বা জোয়ারের সময় প্রতিদিন ৫২ মিনিট পিছিয়ে যায় কেন?

জোয়ারের সময় পিছিয়ে যাওয়ার কারণ:

পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন একই সময়ে জোয়ার হয় না, বরং আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫২ মিনিট দেরিতে জোয়ার আসে। এর কারণগুলি নিম্নরূপ:

  1. পৃথিবী ও চাঁদের গতি: পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ওপর পশ্চিম থেকে পূর্বে ২৪ ঘণ্টায় একপাক ঘোরে। অন্যদিকে চাঁদও পৃথিবীকে কেন্দ্র করে পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রায় ২৭.৩ দিনে একবার পরিক্রমণ করে।
  2. চাঁদের এগিয়ে যাওয়া: পৃথিবীর কোনো একটি স্থান (ধরি 'ক') আজ যে সময়ে চাঁদের ঠিক সামনে এসে মুখ্য জোয়ার ঘটিয়েছিল, ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর পৃথিবী ঘুরে আবার সেই 'ক' স্থানে এলে সেখানে চাঁদকে দেখতে পাবে না। কারণ, ওই ২৪ ঘণ্টায় চাঁদ তার নিজ কক্ষপথে কিছুটা (প্রায় ১৩°) এগিয়ে গেছে।
  3. অতিরিক্ত সময়: চাঁদকে পুনরায় ওই 'ক' স্থানের ঠিক সামনে আসতে হলে পৃথিবীকে আরও ১৩° পথ অতিক্রম করতে হবে। পৃথিবীর ১° পথ ঘুরতে ৪ মিনিট সময় লাগে। তাই ১৩° পথ ঘুরতে সময় লাগবে ১৩ × ৪ = ৫২ মিনিট।

উপসংহার: এই কারণে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পরপর দুটি মুখ্য জোয়ারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হয় ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট। তাই মুখ্য জোয়ারের সময় প্রতিদিন প্রায় ৫২ মিনিট পিছিয়ে যায়।

7. মানুষের অর্থনৈতিক জীবনে জোয়ার-ভাটার সুফল ও কুফলগুলি আলোচনা করো।

জোয়ার-ভাটার সুফল (Advantages):

  1. নাব্যতা বৃদ্ধি ও বন্দর সচল রাখা: জোয়ারের সময় নদীর মোহানায় জলের উচ্চতা অনেক বেড়ে যায়। ফলে সমুদ্রগামী বড়ো ও ভারী জাহাজগুলি অনায়াসে নদীর ভেতরের বন্দরগুলিতে (যেমন কলকাতা বা হলদিয়া বন্দর) প্রবেশ করতে পারে। ভাটার টানে নদীর আবর্জনা ও পলি সমুদ্রে চলে যাওয়ায় নদীর গভীরতা বজায় থাকে।
  2. বিদ্যুৎ উৎপাদন: উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ার-ভাটার প্রবল জলস্রোতকে টারবাইনের সাহায্যে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব জোয়ার-ভাটা শক্তি (Tidal Energy) বা জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় (যেমন ফ্রান্সের লারেন্স, ভারতের গুজরাটের কচ্ছ)।
  3. মৎস্য শিকার: জোয়ারের জলের সাথে প্রচুর সামুদ্রিক মাছ (যেমন ইলিশ) নদীতে প্রবেশ করে, যা জেলেদের মাছ ধরতে সাহায্য করে।
  4. শীতলীকরণ ও বরফমুক্ত রাখা: উচ্চ অক্ষাংশে জোয়ারের জল নদীর জলকে জমে বরফ হতে দেয় না।

জোয়ার-ভাটার কুফল (Disadvantages):

  1. লবণাক্ততা বৃদ্ধি: জোয়ারের সময় সমুদ্রের নোনা জল নদীতে প্রবেশ করে নদীর মিষ্টি জলকে লবণাক্ত করে দেয়, যা পানীয় ও সেচের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
  2. বন্যা ও বানডাকা: বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় প্রবল বান (Tidal Bore) ডাকলে নদীর দু-কূল উপচে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি হয় এবং নৌকাডুবির ফলে জীবনহানি ঘটে।
  3. পলি সঞ্চয়: অনেক সময় জোয়ারের জল সমুদ্র থেকে প্রচুর পলি বয়ে এনে নদীগর্ভে সঞ্চয় করে, ফলে নদীর নাব্যতা দ্রুত হ্রাস পায়।
8. বানডাকা বা বান (Tidal Bore) কী? বান ডাকার অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ বা শর্তগুলি লেখো।

বানডাকা (Tidal Bore):

বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় (অমাবস্যা ও পূর্ণিমায়) জোয়ারের জল বিশাল জলোচ্ছ্বাসের আকার ধারণ করে সমুদ্র থেকে নদীর মোহানা দিয়ে ভয়ংকর গর্জনে নদীর উজানের দিকে প্রবল বেগে প্রবেশ করে। জলোচ্ছ্বাসের এই প্রাচীরকে বানডাকা বা বান বলে। (হুগলি, আমাজন নদীতে এটি প্রবল আকার নেয়)।

বান ডাকার অনুকূল শর্ত বা পরিবেশ:

সব নদীতে বান ডাকে না। বান ডাকার জন্য নদীর মোহানায় নিম্নলিখিত পরিবেশ থাকা প্রয়োজন:

  1. ফানেল আকৃতির মোহানা: নদীর মোহানাটি সমুদ্রের দিকে ক্রমশ চওড়া অর্থাৎ ফানেলের মতো (Funnel-shaped) হতে হবে। চওড়া মোহানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ জল প্রবেশ করে সংকীর্ণ নদীখাতে এসে উঁচু জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
  2. জলের প্রাচুর্য বা বর্ষাকাল: নদীতে প্রচুর পরিমাণ জল থাকতে হবে। বর্ষাকালে নদীতে বৃষ্টির জলের প্রবল নিম্নমুখী স্রোত থাকে। এই স্রোত এবং সমুদ্রের জোয়ারের ঊর্ধ্বমুখী স্রোতের সংঘর্ষে প্রবল বান সৃষ্টি হয় (যেমন সাঁড়াষাঁড়ির বান)।
  3. অগভীর নদীখাত ও পলি: নদীর মোহানা অংশ অগভীর হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া মোহানার কাছে চড়া বা বালুচর থাকলে তাতে বাধা পেয়ে জোয়ারের জল প্রবল বেগে ফুলে ওঠে।
  4. সমুদ্রস্রোতের অভিমুখ: সমুদ্রের জোয়ারের স্রোত নদীর মোহানার সোজাসুজি বা অনুকূলে থাকা প্রয়োজন।
9. সিজিগি (Syzygy), অ্যাপোজি (Apogee) এবং পেরিজি (Perigee) অবস্থান বলতে কী বোঝো?

১. সিজিগি (Syzygy):

জ্যোতির্বিজ্ঞানে যখন সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে, তখন সেই বিশেষ অবস্থানকে সিজিগি বলে। এটি দুটি তিথিতে ঘটে:
- সংযোগ (Conjunction): অমাবস্যা তিথিতে চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে থাকে।
- প্রতীয়োগ (Opposition): পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী যখন চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে থাকে। সিজিগি অবস্থানে চাঁদ ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণে ভরা কোটাল হয়।

২. অ্যাপোজি (Apogee):

চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে। পরিক্রমণের সময় চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব যখন সর্বাধিক হয় (প্রায় ৪,০৭,০০০ কিমি), চাঁদের সেই দূরতম অবস্থানকে অ্যাপোজি বলে। এই সময় চাঁদের আকর্ষণ বল ২০% কমে যাওয়ায় 'অ্যাপোজি জোয়ার' বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল জোয়ার হয়।

৩. পেরিজি (Perigee):

উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তনের সময় চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব যখন সর্বনিম্ন হয় (প্রায় ৩,৫৬,০০০ কিমি), চাঁদের সেই নিকটতম অবস্থানকে পেরিজি বলে। পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব কম থাকায় এই সময় চাঁদের আকর্ষণ বল স্বাভাবিকের চেয়ে ২০% বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে 'পেরিজি জোয়ার' বলে।

10. মগ্নচড়া (Banks) কীভাবে সৃষ্টি হয়? পৃথিবীর কয়েকটি বিখ্যাত মগ্নচড়ার নাম লেখো।

মগ্নচড়া সৃষ্টির প্রক্রিয়া:

সমুদ্রের অগভীর বিস্তীর্ণ চর বা চড়াকে মগ্নচড়া (Banks) বলে। এদের সৃষ্টি প্রধানত শীতল স্রোত এবং হিমশৈলের সাথে যুক্ত।
উচ্চ অক্ষাংশের মেরু অঞ্চল থেকে মহাদেশীয় হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ভেঙে সমুদ্রে পড়ে হিমশৈল (Iceberg) রূপে শীতল স্রোতের সাথে ভাসতে ভাসতে নিম্ন অক্ষাংশের দিকে বা উষ্ণ স্রোতের দিকে এগিয়ে আসে। হিমশৈলের মধ্যে আটকে থাকে প্রচুর পরিমাণে নুড়ি, পাথর, বালি, কাঁকর এবং কাদা।
এই হিমশৈলগুলি যখন উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে আসে বা উষ্ণমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তা দ্রুত গলতে শুরু করে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে তার মধ্যে আটকে থাকা সমস্ত নুড়ি, পাথর, কাদা প্রভৃতি সমুদ্রের অগভীর মহিসোপান অঞ্চলে সঞ্চিত হতে থাকে। বছরের পর বছর ধরে এইভাবে অবক্ষেপণ বা সঞ্চয় হতে হতে সমুদ্রগর্ভ অগভীর হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উঠে আসে এবং বিশাল চড়া বা মগ্নচড়া গঠন করে।

বিখ্যাত মগ্নচড়ার উদাহরণ:

  • উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উষ্ণ উপসাগরীয় ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনে নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম মগ্নচড়া গ্র্যান্ড ব্যাংক (Grand Bank)।
  • উত্তর সাগরে (North Sea) সৃষ্টি হয়েছে বিখ্যাত ডগার্স ব্যাংক (Dogger's Bank)।
  • এছাড়া রকফল ব্যাংক, জর্জস ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। এই মগ্নচড়াগুলি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।

মনে রেখো!

সমুদ্রস্রোত: উষ্ণ স্রোত পৃষ্ঠদেশ দিয়ে এবং শীতল স্রোত তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ এর প্রধান কারণ।
মগ্নচড়া: শীতল স্রোতে ভেসে আসা হিমশৈল গলে মগ্নচড়া তৈরি হয় (যেমন গ্র্যান্ড ব্যাংক), যা মৎস্যক্ষেত্র হিসেবে বিখ্যাত।
জোয়ার-ভাটা: চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণে মুখ্য জোয়ার এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়।
বানডাকা: বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় ফানেল আকৃতির মোহানা দিয়ে প্রবল বেগে জলোচ্ছ্বাস প্রবেশ করাকে বানডাকা বলে (হুগলি নদী)।

Sponsored Links

Frequently Asked Questions

সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির সর্বপ্রধান কারণ হল নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (যেমন আয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু)। এছাড়া পৃথিবীর আবর্তন গতি এবং সমুদ্রজলের উষ্ণতা ও লবণতার পার্থক্যও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি করে।

শীতল স্রোতের সাথে ভেসে আসা হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে, তার মধ্যে আটকে থাকা পাথর ও আবর্জনা মহিসোপানে সঞ্চিত হয়ে অগভীর চড়া বা মগ্নচড়া তৈরি করে (যেমন গ্র্যান্ড ব্যাংক)।

পৃথিবীর ওপর চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ বলের কারণে এবং পৃথিবীর আবর্তনজনিত কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে সমুদ্রের জল নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠে (জোয়ার) এবং নেমে যায় (ভাটা)।

অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় (সিজিগি) থাকলে প্রবল জোয়ার বা ভরা কোটাল হয়। আর অষ্টমী তিথিতে চাঁদ ও সূর্য সমকোণে থাকলে দুর্বল জোয়ার বা মরা কোটাল হয়।

বর্ষাকালে ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের স্ফীত জল ফানেল আকৃতির নদীর মোহানা দিয়ে ভয়ংকর শব্দে ও প্রবল জলোচ্ছ্বাস ঘটিয়ে নদীর উজানে প্রবেশ করলে তাকে বানডাকা বলে (যেমন হুগলি নদীতে)।