অধ্যায় ১.২: আলো (Light)
অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ
এই অধ্যায়ে আমরা আলোর বিভিন্ন ধর্ম ও ঘটনা সম্পর্কে জানব। আলো সরলরেখায় চলে, এই ধর্মের জন্যই ছায়া, প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়া গঠিত হয় এবং সূচিছিদ্র ক্যামেরা কাজ করে। যখন আলো কোনো তলে বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তাকে প্রতিফলন বলে। সমতল দর্পণে নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে এবং প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। আবার, আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় বেঁকে যায়, একে প্রতিসরণ বলে। জলের মধ্যে লাঠিকে বাঁকা দেখা বা বালতির গভীরতা কম মনে হওয়া প্রতিসরণেরই ফল। সূর্যের সাদা আলো আসলে সাতটি রঙের আলোর মিশ্রণ। প্রিজমের মধ্যে দিয়ে গেলে এই আলো বিশ্লিষ্ট হয়ে বর্ণালি তৈরি করে, যাকে বিচ্ছুরণ বলা হয়। আকাশে রামধনু এই বিচ্ছুরণের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ।
গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)
আলো সবসময় চলে—
উত্তর: (খ) সরলরেখায়
নিচের কোনটি স্বপ্রভ বস্তু?
উত্তর: (ঘ) সূর্য
নিচের কোনটি অপ্রভ বস্তু?
উত্তর: (ঘ) বই
বিন্দু আলোক উৎসের ক্ষেত্রে গঠিত হয়—
উত্তর: (ক) শুধু প্রচ্ছায়া
সূচিছিদ্র ক্যামেরায় যে প্রতিকৃতি গঠিত হয়, তা—
উত্তর: (গ) অবশীর্ষ
সমতল দর্পণে আলোর কোন ঘটনাটি ঘটে?
উত্তর: (গ) নিয়মিত প্রতিফলন
প্রতিফলনের ক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মধ্যে সম্পর্কটি হল—
উত্তর: (গ) আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ
আলোর বিচ্ছুরণের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ হল—
উত্তর: (খ) রামধনু
সাদা আলো প্রিজমের মধ্যে দিয়ে গেলে কয়টি রঙে ভেঙে যায়?
উত্তর: (গ) ৭টি
বর্ণালির কোন রঙের আলোর চ্যুতি সবচেয়ে বেশি হয়?
উত্তর: (ঘ) বেগুনি
বর্ণালির কোন রঙের আলোর চ্যুতি সবচেয়ে কম হয়?
উত্তর: (ক) লাল
জলে ডোবানো কোনো সোজা দণ্ডকে বাঁকা দেখায় আলোর কোন ধর্মের জন্য?
উত্তর: (খ) প্রতিসরণ
বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে—
উত্তর: (গ) অমসৃণ তলে
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব হয়—
উত্তর: (খ) অসদ ও সমশীর্ষ
অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতে ‘AMBULANCE’ লেখাটি উল্টো করে লেখা থাকে কারণ—
উত্তর: (খ) পার্শ্বীয় পরিবর্তন
কোন মাধ্যমে আলোর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: (ঘ) শূন্য মাধ্যম
চাঁদ হল একটি—
উত্তর: (খ) অপ্রভ বস্তু
সিনেমার পর্দায় আলোর কোন ধরনের প্রতিফলন হয়?
উত্তর: (খ) বিক্ষিপ্ত
আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে—
উত্তর: (খ) অভিলম্বের দিকে সরে আসে
আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে প্রবেশ করলে—
উত্তর: (গ) অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়
সূর্যগ্রহণের সময় গঠিত হয়—
উত্তর: (খ) চাঁদের ছায়া
কোন বর্ণের আলোর বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: (গ) নীল
বিপদ সংকেত হিসেবে লাল আলো ব্যবহার করা হয় কারণ—
উত্তর: (ক) লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি, বিক্ষেপণ কম
বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশের রং কী হত?
উত্তর: (গ) কালো
সমতল দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব 10 সেমি হলে, প্রতিবিম্বের দূরত্ব কত হবে?
উত্তর: (খ) 10 সেমি
চোখের পক্ষে ক্ষতিকারক রশ্মিটি হল—
উত্তর: (গ) অতিবেগুনি রশ্মি
সূচিছিদ্র ক্যামেরার ছিদ্রটি বড়ো হলে প্রতিকৃতি কেমন হবে?
উত্তর: (খ) অস্পষ্ট
প্রতিফলক তলের উপর লম্বভাবে আপতিত রশ্মির প্রতিফলন কোণের মান কত?
উত্তর: (ঘ) 0°
কোন বস্তুর মধ্যে দিয়ে আলো ভালোভাবে চলাচল করতে পারে না?
উত্তর: (গ) অস্বচ্ছ বস্তু
আকাশকে নীল দেখায় আলোর কোন ধর্মের জন্য?
উত্তর: (গ) বিক্ষেপণ
মরীচিকা সৃষ্টি হয় আলোর কোন ধর্মের জন্য?
উত্তর: (খ) অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন
কাচ হল একটি—
উত্তর: (ক) স্বচ্ছ মাধ্যম
আপতন কোণের মান 30° হলে প্রতিফলন কোণের মান কত?
উত্তর: (খ) 30°
সূর্যরশ্মির কোন উপাদান ওজোন স্তর শোষণ করে নেয়?
উত্তর: (ঘ) অতিবেগুনি রশ্মি
প্রিজমের কয়টি তল থাকে?
উত্তর: (গ) ৫টি
দর্পণের পিছনে কিসের প্রলেপ দেওয়া থাকে?
উত্তর: (খ) রুপোর
চোখের রেটিনায় বস্তুর কী ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
উত্তর: (গ) সদ ও অবশীর্ষ
আলো এক প্রকার—
উত্তর: (গ) তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ
একটি অপসারী রশ্মিগুচ্ছের উদাহরণ হল—
উত্তর: (ক) টর্চের আলো
ডাক্তাররা নাক-কান-গলা পরীক্ষার জন্য কোন দর্পণ ব্যবহার করেন?
উত্তর: (গ) অবতল
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)
আলো কী?
উত্তর: আলো হলো এক প্রকার শক্তি বা তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ যা আমাদের চোখে দর্শনের অনুভূতি জাগায়।
স্বপ্রভ ও অপ্রভ বস্তু কাকে বলে?
উত্তর: যেসব বস্তুর নিজস্ব আলো আছে, তাদের স্বপ্রভ বস্তু (যেমন: সূর্য, তারা) বলে। আর যাদের নিজস্ব আলো নেই, তাদের অপ্রভ বস্তু (যেমন: বই, টেবিল) বলে।
আলোর সরলরৈখিক গতি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কোনো সমসত্ত্ব স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আলো সরলরেখায় চলাচল করে। একেই আলোর সরলরৈখিক গতি বলে।
ছায়া কাকে বলে?
উত্তর: আলোর গতিপথে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে বস্তুটি আলোকে বাধা দেয়, ফলে বস্তুর পিছনে পর্দায় যে অন্ধকার অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে ছায়া বা প্রচ্ছায়া বলে।
উপচ্ছায়া কাকে বলে?
উত্তর: বিস্তৃত আলোক উৎসের সামনে কোনো অস্বচ্ছ বস্তু রাখলে পর্দার উপর প্রচ্ছায়ার চারপাশে যে আবছা বা হালকা অন্ধকার অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, তাকে উপচ্ছায়া বলে।
সূচিছিদ্র ক্যামেরার কার্যনীতি কী?
উত্তর: সূচিছিদ্র ক্যামেরা আলোর সরলরৈখিক গতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। বস্তুর বিভিন্ন বিন্দু থেকে আসা আলোকরশ্মি ক্যামেরার ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে পর্দায় একটি অবশীর্ষ (উল্টো) প্রতিকৃতি গঠন করে।
* আলোর প্রতিফলন কাকে বলে?
উত্তর: আলোকরশ্মি কোনো মাধ্যমে যেতে যেতে অন্য কোনো মাধ্যমের বিভেদতলে আপতিত হয়ে যদি আবার প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে, তবে সেই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
প্রতিফলনের সূত্র দুটি লেখো।
উত্তর: প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে। দ্বিতীয় সূত্র: আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান সর্বদা সমান হয়।
নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: নিয়মিত প্রতিফলন মসৃণ তলে ঘটে এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলি একটি নির্দিষ্ট দিকে যায়। অন্যদিকে, বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন অমসৃণ তলে ঘটে এবং প্রতিফলিত রশ্মিগুলি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: (১) প্রতিবিম্বটি অসদ, সমশীর্ষ এবং বস্তুর আকারের সমান হয়। (২) দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান হয়।
পার্শ্বীয় পরিবর্তন কাকে বলে?
উত্তর: সমতল দর্পণের সামনে দাঁড়ালে প্রতিবিম্বের ডান দিক ও বাঁ দিক উল্টে যায়, অর্থাৎ বস্তুর ডান হাতকে প্রতিবিম্বের বাঁ হাত বলে মনে হয়। এই ঘটনাকে পার্শ্বীয় পরিবর্তন বলে।
* আলোর প্রতিসরণ কাকে বলে?
উত্তর: আলোকরশ্মি একটি স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করার সময় মাধ্যম দুটির বিভেদতল থেকে তার গতিপথের পরিবর্তন ঘটায়। এই ঘটনাকে আলোর প্রতিসরণ বলে।
লঘু ও ঘন মাধ্যম বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দুটি নির্দিষ্ট মাধ্যমের মধ্যে যে মাধ্যমে আলোর গতিবেগ বেশি, তাকে লঘু মাধ্যম এবং যে মাধ্যমে আলোর গতিবেগ কম, তাকে ঘন মাধ্যম বলে।
আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে?
উত্তর: সাদা আলো বা অন্য কোনো যৌগিক আলো প্রিজমের মতো কোনো প্রতিসারক মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্লিষ্ট হয়ে একাধিক মূল বর্ণে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
বর্ণালি কী?
উত্তর: আলোর বিচ্ছুরণের ফলে উৎপন্ন বিভিন্ন বর্ণের আলোর পটিকে বর্ণালি বলে। সূর্যের আলোর বর্ণালিতে সাতটি রং থাকে।
'বেনীআসহকলা' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: এটি সূর্যের সাদা আলোর বর্ণালির সাতটি রংকে পর্যায়ক্রমে মনে রাখার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। রংগুলি হলো: বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আসমানি (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) ও লাল (Red)।
অতিবেগুনি রশ্মির একটি ক্ষতিকারক প্রভাব লেখো।
উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মি চামড়ায় পড়লে চামড়ার ক্যানসার হতে পারে এবং এটি চোখেরও ক্ষতি করে।
এক্স-রশ্মির একটি ব্যবহার লেখো।
উত্তর: এক্স-রশ্মি আমাদের শরীরের নরম মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় ভেদ করতে পারে না, তাই ভাঙা হাড়ের ছবি তুলতে এটি ব্যবহৃত হয়।
উদ্ভিদের জীবনে আলোর একটি ভূমিকা লেখো।
উত্তর: আলো ছাড়া উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
দুটি স্বচ্ছ ও দুটি অস্বচ্ছ বস্তুর উদাহরণ দাও।
উত্তর: দুটি স্বচ্ছ বস্তু হল পরিষ্কার কাচ ও জল। দুটি অস্বচ্ছ বস্তু হল কাঠ ও লোহা।
প্রতিসৃত রশ্মি কাকে বলে?
উত্তর: আলোকরশ্মি প্রতিসরণের পর দ্বিতীয় মাধ্যমে যে পথে যায়, তাকে প্রতিসৃত রশ্মি বলে।
সদ ও অসদ প্রতিবিম্বের একটি পার্থক্য লেখো।
উত্তর: সদ প্রতিবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায়, কিন্তু অসদ প্রতিবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায় না।
রামধনু সৃষ্টির কারণ কী?
উত্তর: বৃষ্টির পর বাতাসে ভাসমান জলকণাগুলি প্রিজমের মতো কাজ করে এবং সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটায়, যার ফলে আকাশে রামধনু সৃষ্টি হয়।
অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন কী?
উত্তর: আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আপতন কোণের মান সংকট কোণের চেয়ে বেশি হলে রশ্মিটি প্রতিসৃত না হয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে। এই ঘটনাকে অভ্যন্তরীণ পূর্ণ প্রতিফলন বলে।
একটি বিস্তৃত আলোক উৎসের উদাহরণ দাও।
উত্তর: একটি বিস্তৃত আলোক উৎস হলো জ্বলন্ত টিউবলাইট বা সূর্য।
রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)
* আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের মধ্যে পার্থক্য লেখো। একটি উদাহরণের সাহায্যে প্রতিসরণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের পার্থক্য:
বিষয় প্রতিফলন (Reflection) প্রতিসরণ (Refraction) সংজ্ঞা আলোকরশ্মি বিভেদতলে বাধা পেয়ে প্রথম মাধ্যমেই ফিরে আসে। আলোকরশ্মি বিভেদতল ভেদ করে দ্বিতীয় মাধ্যমে প্রবেশ করে। মাধ্যমের ভূমিকা একটি মাত্র মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। দুটি ভিন্ন ঘনত্বের স্বচ্ছ মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। রশ্মির গতিপথ আলোর গতিপথের অভিমুখ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু বেগ একই থাকে। আলোর গতিপথের অভিমুখ ও বেগ উভয়ই পরিবর্তিত হয়। সূত্র প্রতিফলনের দুটি সূত্র মেনে চলে (যেমন: আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ)। প্রতিসরণের দুটি সূত্র মেনে চলে (যেমন: স্নেলের সূত্র)।
প্রতিসরণের উদাহরণ:
একটি কাচের গ্লাসে জল নিয়ে তার মধ্যে একটি পেন্সিল ডোবালে বাইরের থেকে দেখলে পেন্সিলটিকে জল ও বায়ুর সংযোগস্থল থেকে বাঁকা বলে মনে হয়। এর কারণ হলো আলোর প্রতিসরণ। পেন্সিলের ডোবানো অংশ থেকে আলোকরশ্মি জল (ঘন মাধ্যম) থেকে বায়ুতে (লঘু মাধ্যম) আসার সময় বিভেদতল থেকে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। আমাদের চোখ এই বেঁকে যাওয়া রশ্মিগুলিকে অনুসরণ করে পেন্সিলের একটি অসদ প্রতিবিম্ব দেখে, যা পেন্সিলের প্রকৃত অবস্থানের চেয়ে কিছুটা উপরে থাকে। তাই পেন্সিলটিকে বাঁকা দেখায়।সূচিছিদ্র ক্যামেরার একটি পরিষ্কার চিত্র অঙ্কন করে এর গঠন ও কার্যনীতি ব্যাখ্যা করো। এই ক্যামেরা থেকে আমরা আলোর কোন ধর্ম সম্বন্ধে জানতে পারি?
উত্তর:
গঠন: সূচিছিদ্র ক্যামেরা হলো একটি আলোকনিরুদ্ধ বাক্স, যার একটি দিকে খুব সরু একটি ছিদ্র (সূচিছিদ্র) থাকে এবং তার ঠিক বিপরীত দিকের দেয়ালটি পর্দা হিসেবে কাজ করে (সাধারণত ঘষা কাচ বা ট্রেসিং পেপার দিয়ে তৈরি)।
কার্যনীতি: ক্যামেরার সামনে একটি আলোকিত বস্তু রাখলে, বস্তুর প্রতিটি বিন্দু থেকে আলোকরশ্মি সরলরেখায় এসে সূচিছিদ্রের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে এবং বিপরীত দিকের পর্দায় গিয়ে পড়ে। যেমন, বস্তুর উপরের বিন্দু থেকে আসা আলোকরশ্মি পর্দায় নীচের দিকে একটি বিন্দু তৈরি করে এবং বস্তুর নীচের বিন্দু থেকে আসা আলোকরশ্মি পর্দায় উপরের দিকে একটি বিন্দু তৈরি করে। এইভাবে বস্তুর সমস্ত বিন্দুর জন্য পর্দায় বিন্দু গঠিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ অবশীর্ষ বা উল্টো প্রতিকৃতি তৈরি হয়।
আলোর ধর্ম: এই পরীক্ষা থেকে প্রমাণিত হয় যে আলো সরলরেখায় চলে। যদি আলো সরলরেখায় না চলত, তবে পর্দায় বস্তুর কোনো প্রতিকৃতি গঠিত হত না।* আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে? প্রিজমের সাহায্যে কীভাবে সূর্যের সাদা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটানো যায়, তা একটি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
আলোর বিচ্ছুরণ: সাদা আলো বা অন্য কোনো যৌগিক আলো কোনো প্রতিসারক মাধ্যমের (যেমন প্রিজম) মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় তার উপাদান বর্ণগুলিতে বিশ্লিষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
প্রিজমের সাহায্যে বিচ্ছুরণের ব্যাখ্যা:
একটি অন্ধকার ঘরে, একটি সরু ছিদ্র দিয়ে আসা সূর্যের সাদা আলোর পথে একটি প্রিজম রাখলে, আলোকরশ্মি প্রিজমের প্রথম তলে প্রতিসৃত হয়। সাদা আলো সাতটি ভিন্ন বর্ণের আলোর সমষ্টি হওয়ায়, প্রতিটি বর্ণের আলোর জন্য কাচের প্রতিসরাঙ্ক ভিন্ন ভিন্ন হয়। বেগুনি বর্ণের আলোর জন্য প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি এবং লাল বর্ণের আলোর জন্য সবচেয়ে কম। তাই প্রিজমের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় বেগুনি বর্ণের আলোর চ্যুতি সবচেয়ে বেশি এবং লাল বর্ণের আলোর চ্যুতি সবচেয়ে কম হয়। ফলে প্রিজমের দ্বিতীয় তল থেকে নির্গত হওয়ার সময় আলোকরশ্মিগুলি আলাদা হয়ে যায় এবং প্রিজমের পিছনে রাখা পর্দায় বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল—এই সাতটি বর্ণের একটি আলোর পটি বা বর্ণালি গঠন করে।সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতে ‘AMBULANCE’ কথাটি উল্টো করে লেখা থাকে কেন?
উত্তর:
সমতল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের বৈশিষ্ট্য:
১. অসদ প্রতিবিম্ব: প্রতিবিম্বটিকে পর্দায় ফেলা যায় না, দর্পণের পিছনে গঠিত হচ্ছে বলে মনে হয়।
২. সমশীর্ষ: বস্তুর মাথা যেদিকে থাকে, প্রতিবিম্বের মাথাও সেদিকেই থাকে।
৩. সমান আকার: বস্তুর আকার ও প্রতিবিম্বের আকার সমান হয়।
৪. সমান দূরত্ব: দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব এবং দর্পণ থেকে প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান হয়।
৫. পার্শ্বীয় পরিবর্তন: প্রতিবিম্বের পার্শ্বীয় পরিবর্তন ঘটে, অর্থাৎ বস্তুর ডান দিক প্রতিবিম্বের বাঁ দিক এবং বস্তুর বাঁ দিক প্রতিবিম্বের ডান দিক বলে মনে হয়।
অ্যাম্বুলেন্সে উল্টো লেখার কারণ:
অ্যাম্বুলেন্স একটি জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী গাড়ি। রাস্তায় অন্যান্য গাড়ির চালকেরা যাতে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সকে পথ ছেড়ে দেন, তার জন্য এটি করা হয়। সামনের গাড়ির চালক যখন তার রিয়ার-ভিউ মিরর বা আয়নায় পিছনের অ্যাম্বুলেন্সটিকে দেখেন, তখন সমতল দর্পণে পার্শ্বীয় পরিবর্তনের ফলে উল্টো করে লেখা ‘AMBULANCE’ শব্দটি সোজা দেখায়। ফলে তিনি সহজেই লেখাটি পড়ে অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত পথ ছেড়ে দিতে পারেন।প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার মধ্যে পার্থক্য কী? সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কীভাবে ছায়া গঠনের মাধ্যমে হয়, তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার পার্থক্য:
বিষয় প্রচ্ছায়া (Umbra) উপচ্ছায়া (Penumbra) সংজ্ঞা ছায়ার কেন্দ্রীয় গাঢ় অন্ধকার অংশ, যেখানে আলোক উৎস থেকে কোনো আলোই পৌঁছাতে পারে না। প্রচ্ছায়ার চারপাশে থাকা আবছা বা হালকা অন্ধকার অংশ, যেখানে আলোক উৎসের কিছু অংশ থেকে আলো পৌঁছায়। উৎসের প্রকৃতি বিন্দু উৎস ও বিস্তৃত উৎস উভয়ের ক্ষেত্রেই গঠিত হয়। শুধুমাত্র বিস্তৃত আলোক উৎসের ক্ষেত্রেই গঠিত হয়। অন্ধকারের মাত্রা সম্পূর্ণ অন্ধকার থাকে। আংশিক বা আবছা অন্ধকার থাকে।
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ:
সূর্যগ্রহণ: পরিক্রমণ করতে করতে যখন চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর উপর পড়ে। পৃথিবীর যে অংশে চাঁদের প্রচ্ছায়া পড়ে, সেখান থেকে সূর্যকে একেবারেই দেখা যায় না (পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ)। আর যে অংশে উপচ্ছায়া পড়ে, সেখান থেকে সূর্যের আংশিক দেখা যায় (খণ্ডগ্রাস সূর্যগ্রহণ)।
চন্দ্রগ্রহণ: পরিক্রমণ করতে করতে যখন পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে একই সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। এর ফলে চাঁদকে পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। একে চন্দ্রগ্রহণ বলে।