অধ্যায় ৪: পরিবেশ গঠনে পদার্থের ভূমিকা (Role of Matter in Environment Building)

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

এই অধ্যায়ে জীবদেহ ও পরিবেশ গঠনে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। জীবদেহ গঠনে জল, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড এবং বিভিন্ন খনিজ মৌল যেমন ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অ্যাসিড, ক্ষারক ও লবণ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। অ্যাসিডের টক স্বাদ, ক্ষারকের কষা স্বাদ এবং নির্দেশকের সাহায্যে এদের শনাক্ত করার পদ্ধতি আলোচিত হয়েছে। pH স্কেলের মাধ্যমে কোনো দ্রবণের আম্লিকতা বা ক্ষারীয়তা পরিমাপের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, আমাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সংশ্লেষিত যৌগ যেমন প্লাস্টিক, ডিটারজেন্ট, সার, কীটনাশক, রং ইত্যাদি এবং পরিবেশে তাদের প্রভাব, বিশেষ করে জৈব অভঙ্গুর (non-biodegradable) পদার্থের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

  1. মানবদেহে কোন মৌলটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?

    • (ক) কার্বন
    • (খ) হাইড্রোজেন
    • (গ) অক্সিজেন
    • (ঘ) নাইট্রোজেন

    উত্তর: (গ) অক্সিজেন

  2. শামুক ও ঝিনুকের খোলস কী দিয়ে তৈরি?

    • (ক) ক্যালসিয়াম সালফেট
    • (খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    • (গ) ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড
    • (ঘ) ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট

    উত্তর: (খ) ক্যালসিয়াম কার্বনেট

  3. রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে কোন ধাতব আয়ন অপরিহার্য?

    • (ক) ক্যালসিয়াম
    • (খ) সোডিয়াম
    • (গ) আয়রন
    • (ঘ) পটাশিয়াম

    উত্তর: (গ) আয়রন

  4. হাড় ও দাঁত গঠনে কোন মৌলটি প্রয়োজন?

    • (ক) আয়রন
    • (খ) ক্যালসিয়াম
    • (গ) সোডিয়াম
    • (ঘ) জিঙ্ক

    উত্তর: (খ) ক্যালসিয়াম

  5. পাতিলেবুতে কোন অ্যাসিড থাকে?

    • (ক) ম্যালিক অ্যাসিড
    • (খ) টারটারিক অ্যাসিড
    • (গ) সাইট্রিক অ্যাসিড
    • (ঘ) ল্যাকটিক অ্যাসিড

    উত্তর: (গ) সাইট্রিক অ্যাসিড

  6. দইতে কোন অ্যাসিড পাওয়া যায়?

    • (ক) অ্যাসিটিক অ্যাসিড
    • (খ) ল্যাকটিক অ্যাসিড
    • (গ) অক্সালিক অ্যাসিড
    • (ঘ) ফর্মিক অ্যাসিড

    উত্তর: (খ) ল্যাকটিক অ্যাসিড

  7. অ্যাসিড নীল লিটমাসকে কী রঙে পরিণত করে?

    • (ক) লাল
    • (খ) নীল
    • (গ) সবুজ
    • (ঘ) হলুদ

    উত্তর: (ক) লাল

  8. ক্ষারক লাল লিটমাসকে কী রঙে পরিণত করে?

    • (ক) লাল
    • (খ) নীল
    • (গ) বেগুনি
    • (ঘ) কমলা

    উত্তর: (খ) নীল

  9. প্রশম দ্রবণের pH মান কত?

    • (ক) 7-এর কম
    • (খ) 7-এর বেশি
    • (গ) 7
    • (ঘ) 0

    উত্তর: (গ) 7

  10. আমাদের পাকস্থলীর রসে কোন অ্যাসিড থাকে?

    • (ক) সালফিউরিক অ্যাসিড
    • (খ) নাইট্রিক অ্যাসিড
    • (গ) হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
    • (ঘ) অ্যাসিটিক অ্যাসিড

    উত্তর: (গ) হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড

  11. খাবার নুনের রাসায়নিক নাম কী?

    • (ক) সোডিয়াম কার্বনেট
    • (খ) সোডিয়াম বাইকার্বনেট
    • (গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড
    • (ঘ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড

    উত্তর: (গ) সোডিয়াম ক্লোরাইড

  12. নিচের কোনটি পলিমার?

    • (ক) জল
    • (খ) নুন
    • (গ) পলিথিন
    • (ঘ) চিনি

    উত্তর: (গ) পলিথিন

  13. ডি.ডি.টি (DDT) হল এক প্রকার—

    • (ক) সার
    • (খ) কীটনাশক
    • (গ) ডিটারজেন্ট
    • (ঘ) ওষুধ

    উত্তর: (খ) কীটনাশক

  14. জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) পদার্থ কোনটি?

    • (ক) আনাজের খোসা
    • (খ) কাগজ
    • (গ) প্লাস্টিক
    • (ঘ) চটের ব্যাগ

    উত্তর: (গ) প্লাস্টিক

  15. অ্যাসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় কী উৎপন্ন হয়?

    • (ক) লবণ ও হাইড্রোজেন
    • (খ) লবণ ও অক্সিজেন
    • (গ) লবণ ও জল
    • (ঘ) শুধু লবণ

    উত্তর: (গ) লবণ ও জল

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. জীবদেহ গঠনে অপরিহার্য চারটি প্রধান মৌলের নাম লেখো।

    উত্তর: জীবদেহ গঠনে অপরিহার্য চারটি প্রধান মৌল হলো কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং নাইট্রোজেন (N)।

  2. মানবদেহে জলের দুটি কাজ লেখো।

    উত্তর: দুটি কাজ হলো: (১) এটি দ্রাবক হিসেবে কাজ করে এবং পুষ্টি উপাদান সারা দেহে পরিবহন করে। (২) এটি দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  3. হিমোগ্লোবিনের কাজ কী?

    উত্তর: হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা একটি প্রোটিন যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে দেহের সমস্ত কোষে পৌঁছে দেয়।

  4. অ্যাসিড কাকে বলে?

    উত্তর: যে সমস্ত যৌগ জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (\(H^+\)) উৎপন্ন করে এবং স্বাদে টক ও নীল লিটমাসকে লাল করে, তাদের অ্যাসিড বলে।

  5. ক্ষারক ও ক্ষারের মধ্যে পার্থক্য কী?

    উত্তর: ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড জাতীয় পদার্থ যারা অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে, তাদের ক্ষারক বলে। যে সমস্ত ক্ষারক জলে দ্রবীভূত হয়, তাদের ক্ষার বলে। তাই, সব ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সব ক্ষারক ক্ষার নয়।

  6. নির্দেশক বা Indicator কাকে বলে? একটি প্রাকৃতিক নির্দেশকের উদাহরণ দাও।

    উত্তর: যে পদার্থ নিজের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো দ্রবণ আম্লিক, ক্ষারীয় না প্রশম তা নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক বলে। একটি প্রাকৃতিক নির্দেশক হলো জবা ফুলের রস।

  7. প্রশমন বিক্রিয়া কাকে বলে?

    উত্তর: যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি অ্যাসিড ও একটি ক্ষারক পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে একে অপরের ধর্মকে প্রশমিত করে লবণ ও জল উৎপন্ন করে, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।

  8. * pH কী? পানীয় জলের pH কত হওয়া উচিত?

    উত্তর: pH হলো একটি স্কেল যা দিয়ে কোনো দ্রবণের আম্লিকতা বা ক্ষারীয়তা পরিমাপ করা হয়। বিশুদ্ধ জল বা প্রশম দ্রবণের pH মান 7। পানীয় জলের pH মান 6.5 থেকে 8.5 এর মধ্যে থাকা উচিত।

  9. অ্যাসিড বৃষ্টি কী?

    উত্তর: বায়ুমণ্ডলে ভাসমান সালফার ডাইঅক্সাইড (\(SO_2\)), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (\(NO_2\)) ইত্যাদি গ্যাস বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে অ্যাসিড তৈরি করে এবং বৃষ্টির সঙ্গে পৃথিবীতে নেমে আসে। এই ঘটনাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

  10. খাবার নুনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ লেখো।

    উত্তর: দুটি কাজ হলো: (১) এটি দেহের মধ্যে জলীয় অংশের ভারসাম্য রক্ষা করে। (২) স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সংবেদন পরিবহনে সাহায্য করে।

  11. পলিমার কাকে বলে?

    উত্তর: অনেকগুলো ছোট ছোট অণু (মনোমার) পরস্পর রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যে দীর্ঘ শৃঙ্খলযুক্ত বৃহৎ অণু গঠন করে, তাকে পলিমার বলে।

  12. থার্মোপ্লাস্টিক ও থার্মোসেটিং প্লাস্টিকের মধ্যে পার্থক্য কী?

    উত্তর: যে প্লাস্টিককে তাপ দিলে নরম হয় এবং ঠান্ডা করলে শক্ত হয়, তাকে বারবার তাপ দিয়ে গলানো ও নতুন আকার দেওয়া যায়, তাকে থার্মোপ্লাস্টিক বলে (যেমন: পলিথিন)। আর যে প্লাস্টিককে একবার তাপ দিয়ে নির্দিষ্ট আকার দেওয়ার পর তা স্থায়ীভাবে শক্ত হয়ে যায় এবং পুনরায় তাপ দিয়ে নরম করা যায় না, তাকে থার্মোসেটিং প্লাস্টিক বলে (যেমন: ব্যাকেলাইট)।

  13. সাবান ও ডিটারজেন্টের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

    উত্তর: সাবান খর জলে (যে জলে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম লবণ বেশি থাকে) ভালোভাবে ফেনা উৎপন্ন করতে পারে না, কিন্তু ডিটারজেন্ট খর ও মৃদু উভয় জলেই সমানভাবে কার্যকর।

  14. জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর পদার্থ কাকে বলে?

    উত্তর: যে সকল পদার্থ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় (যেমন: জীবাণু দ্বারা) বিশ্লিষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়, তাদের জৈব ভঙ্গুর (Biodegradable) পদার্থ বলে (যেমন: আনাজের খোসা)। আর যে সকল পদার্থ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট হয় না এবং পরিবেশে দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে দূষণ ঘটায়, তাদের জৈব অভঙ্গুর (Non-biodegradable) পদার্থ বলে (যেমন: প্লাস্টিক)।

  15. গলগণ্ড বা গয়টার রোগ কেন হয়?

    উত্তর: খাদ্যে আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং গ্রন্থিটি ফুলে ওঠে, যার ফলে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

  1. * মানবদেহে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং সোডিয়ামের ভূমিকা আলোচনা করো। এদের অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে?

    উত্তর:
    আয়রনের ভূমিকা: আয়রন রক্তের লোহিত কণিকায় হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য অপরিহার্য। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন সারা দেহে পরিবহন করে।
    অভাবজনিত সমস্যা: আয়রনের অভাবে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয়। এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

    ক্যালসিয়ামের ভূমিকা: ক্যালসিয়াম প্রধানত হাড় ও দাঁত গঠন ও তাদের মজবুত রাখার জন্য প্রয়োজন। এছাড়া, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ত তঞ্চনেও এর ভূমিকা রয়েছে।
    অভাবজনিত সমস্যা: ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের রিকেট এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া বা অস্টিওপোরোসিস রোগ হয়, যাতে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।

    সোডিয়ামের ভূমিকা: সোডিয়াম দেহের জলীয় অংশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সংবেদন আদান-প্রদানেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
    অভাবজনিত সমস্যা: সোডিয়ামের অভাবে দেহের জলীয় ভারসাম্য নষ্ট হয়, রক্তচাপ কমে যায় এবং পেশিতে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।

  2. অ্যাসিড ও ক্ষারকের মধ্যে পার্থক্য লেখো। জবা ফুলের রসের সাহায্যে কীভাবে একটি অ্যাসিড ও একটি ক্ষারককে শনাক্ত করবে তা বর্ণনা করো।

    উত্তর:
    অ্যাসিড ও ক্ষারকের পার্থক্য:

    বিষয় অ্যাসিড ক্ষারক
    স্বাদ টক স্বাদযুক্ত। কষা স্বাদযুক্ত।
    লিটমাসের উপর ক্রিয়া নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে।
    জলীয় দ্রবণে আয়ন জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (\(H^+\)) দেয়। জলীয় দ্রবণে হাইড্রক্সাইড আয়ন (\(OH^-\)) দেয় (ক্ষারকের ক্ষেত্রে)।
    স্পর্শ সাধারণত কোনো বিশেষ অনুভূতি নেই (ত্বকের জন্য ক্ষতিকর)। পিচ্ছিল অনুভূতিযুক্ত।

    শনাক্তকরণ পরীক্ষা:
    প্রথমে কয়েকটি লাল জবা ফুলের পাপড়ি পিষে নিয়ে অল্প গরম জলে মিশিয়ে একটি হালকা বেগুনি রঙের দ্রবণ তৈরি করা হলো, যা নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
    এবার দুটি আলাদা টেস্টটিউবে একটিতে অ্যাসিড (যেমন: লেবুর রস) এবং অন্যটিতে ক্ষারক (যেমন: চুনজল) নেওয়া হলো।
    ১. অ্যাসিডযুক্ত টেস্টটিউবে কয়েক ফোঁটা জবা ফুলের রস যোগ করলে দেখা যাবে দ্রবণের রঙ পরিবর্তিত হয়ে গাঢ় গোলাপি বা লাল হয়ে গেছে।
    ২. ক্ষারকযুক্ত টেস্টটিউবে কয়েক ফোঁটা জবা ফুলের রস যোগ করলে দেখা যাবে দ্রবণের রঙ পরিবর্তিত হয়ে সবুজ বা নীল হয়ে গেছে।
    এইভাবে রঙের পরিবর্তন লক্ষ্য করে অ্যাসিড ও ক্ষারককে শনাক্ত করা যাবে।

  3. * সংশ্লেষিত পলিমার (যেমন প্লাস্টিক) ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখো। পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব কমানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

    উত্তর:
    সংশ্লেষিত পলিমার (প্লাস্টিক) ব্যবহারের সুবিধা:
    ১. স্থায়িত্ব: প্লাস্টিক দীর্ঘস্থায়ী, সহজে ভাঙে না এবং জল বা রাসায়নিকের প্রভাবে নষ্ট হয় না।
    ২. হালকা ও মজবুত: এটি ওজনে হালকা অথচ বেশ মজবুত, তাই বহন করা সহজ।
    ৩. সহজলভ্য ও সস্তা: প্লাস্টিক উৎপাদন করা সহজ এবং অন্যান্য পদার্থের তুলনায় এর দাম কম।
    ৪. বৈদ্যুতিক অন্তরক: প্লাস্টিক বিদ্যুতের কুপরিবাহী হওয়ায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির আবরণে এটি নিরাপদ।

    অসুবিধা:
    ১. জৈব অভঙ্গুর: প্লাস্টিক প্রাকৃতিক উপায়ে বিশ্লিষ্ট হয় না, তাই পরিবেশে বছরের পর বছর ধরে জমা হয়ে মারাত্মক দূষণ ঘটায়।
    ২. দূষণ: প্লাস্টিক বর্জ্য নর্দমা, নদী-নালা আটকে দিয়ে জল জমার কারণ হয় এবং জল ও মাটিকে দূষিত করে। সামুদ্রিক প্রাণীরা প্লাস্টিক খেয়ে মারা যায়।
    ৩. স্বাস্থ্য ঝুঁকি: কিছু প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেললে বা গরম খাবারের সংস্পর্শে এলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক নির্গত হয় যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

    প্লাস্টিক দূষণ কমানোর পদক্ষেপ (3R নীতি):
    ১. Reduce (ব্যবহার কমানো): প্লাস্টিকের ব্যাগ, একবার ব্যবহারযোগ্য বোতল, কাপ ইত্যাদির ব্যবহার কমাতে হবে। এর পরিবর্তে চট, কাপড় বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত।
    ২. Reuse (পুনরায় ব্যবহার): প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ফেলে না দিয়ে সেগুলিকে পরিষ্কার করে বারবার ব্যবহার করতে হবে।
    ৩. Recycle (পুনর্নবীকরণ): ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলিকে কারখানায় পাঠিয়ে গলিয়ে নতুন প্লাস্টিকের জিনিস তৈরি করতে হবে।