অধ্যায় ১.৫: পরিবেশবান্ধব শক্তি (Eco-Friendly Energy)

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim

অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ

আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা মূলত প্রচলিত শক্তি, যেমন—কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই শক্তির ভাণ্ডার সীমিত এবং এর ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ ঘটে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এই অধ্যায়ে পরিবেশবান্ধব বা অপ্রচলিত শক্তির উৎস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈবশক্তি ইত্যাদি হলো এমন কিছু শক্তির উৎস যা অফুরন্ত এবং পরিবেশের তেমন ক্ষতি করে না। সৌরকোষ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বায়ুকলের সাহায্যে বায়ুপ্রবাহকে কাজে লাগানো এবং জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করার মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিগুলি আমাদের শক্তির চাহিদা মেটাতে পারে এবং একই সাথে পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। শক্তির অপচয় কমানো এবং এই নতুন ধরনের শক্তির ব্যবহার বাড়ানোই হল সুস্থ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।

গুরুত্বপূর্ণ বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন (MCQ)

  1. নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি?

    • (ক) সৌরশক্তি
    • (খ) বায়ুশক্তি
    • (গ) কয়লা
    • (ঘ) জৈব গ্যাস

    উত্তর: (গ) কয়লা

  2. কোনটি পরিবেশবান্ধব শক্তি নয়?

    • (ক) সৌরশক্তি
    • (খ) পেট্রোলিয়াম
    • (গ) বায়ুশক্তি
    • (ঘ) জোয়ারভাটার শক্তি

    উত্তর: (খ) পেট্রোলিয়াম

  3. সৌরকোশে কোন শক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?

    • (ক) তাপশক্তি
    • (খ) আলোক শক্তি
    • (গ) বায়ুশক্তি
    • (ঘ) রাসায়নিক শক্তি

    উত্তর: (খ) আলোক শক্তি

  4. বায়ুকলের সাহায্যে কোন শক্তিকে কাজে লাগানো হয়?

    • (ক) সৌরশক্তি
    • (খ) বায়ুপ্রবাহের শক্তি
    • (গ) জলের শক্তি
    • (ঘ) পারমাণবিক শক্তি

    উত্তর: (খ) বায়ুপ্রবাহের শক্তি

  5. বায়োগ্যাসের প্রধান উপাদান কী?

    • (ক) অক্সিজেন
    • (খ) নাইট্রোজেন
    • (গ) মিথেন
    • (ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড

    উত্তর: (গ) মিথেন

  6. নিচের কোনটি অপ্রচলিত শক্তির উৎস?

    • (ক) ডিজেল
    • (খ) কেরোসিন
    • (গ) জোয়ারভাটার শক্তি
    • (ঘ) কয়লা

    উত্তর: (গ) জোয়ারভাটার শক্তি

  7. জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে পরিবেশে কোন গ্যাসের পরিমাণ বাড়ে?

    • (ক) অক্সিজেন
    • (খ) নাইট্রোজেন
    • (গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড
    • (ঘ) হাইড্রোজেন

    উত্তর: (গ) কার্বন ডাইঅক্সাইড

  8. সোলার কুকারে কোন শক্তি ব্যবহার করে রান্না করা হয়?

    • (ক) বিদ্যুৎ শক্তি
    • (খ) বায়ুশক্তি
    • (গ) রাসায়নিক শক্তি
    • (ঘ) সৌরশক্তি

    উত্তর: (ঘ) সৌরশক্তি

  9. কোন শক্তির উৎসটি শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে?

    • (ক) সৌরশক্তি
    • (খ) বায়ুশক্তি
    • (গ) খনিজ তেল
    • (ঘ) জৈবশক্তি

    উত্তর: (গ) খনিজ তেল

  10. পশ্চিমবঙ্গের বকখালিতে কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে?

    • (ক) তাপবিদ্যুৎ
    • (খ) জলবিদ্যুৎ
    • (গ) বায়ুবিদ্যুৎ
    • (ঘ) পারমাণবিক বিদ্যুৎ

    উত্তর: (গ) বায়ুবিদ্যুৎ

  11. কোনটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি?

    • (ক) কয়লা
    • (খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
    • (গ) বায়ুশক্তি
    • (ঘ) পেট্রোল

    উত্তর: (গ) বায়ুশক্তি

  12. কোনটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নয়?

    • (ক) সৌরশক্তি
    • (খ) জৈবশক্তি
    • (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
    • (ঘ) বায়ুশক্তি

    উত্তর: (গ) প্রাকৃতিক গ্যাস

  13. সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির সময় কোন শক্তি ব্যবহার করে?

    • (ক) বায়ুশক্তি
    • (খ) জলশক্তি
    • (গ) মৃত্তিকা শক্তি
    • (ঘ) সৌরশক্তি

    উত্তর: (ঘ) সৌরশক্তি

  14. জৈব গ্যাস তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়—

    • (ক) প্লাস্টিক বর্জ্য
    • (খ) পচনশীল জৈব বর্জ্য
    • (গ) কাচের টুকরো
    • (ঘ) ধাতব পদার্থ

    উত্তর: (খ) পচনশীল জৈব বর্জ্য

  15. সৌর প্যানেলে থাকে অসংখ্য—

    • (ক) নির্জল কোষ
    • (খ) সৌরকোষ
    • (গ) তড়িৎ কোষ
    • (ঘ) ডায়নামো

    উত্তর: (খ) সৌরকোষ

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (SAQ)

  1. প্রচলিত শক্তি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।

    উত্তর: যেসব শক্তির উৎস মানুষ বহুকাল ধরে ব্যবহার করে আসছে এবং যাদের ভাণ্ডার সীমিত, তাদের প্রচলিত শক্তি বলে। উদাহরণ: কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

  2. * অপ্রচলিত বা পরিবেশবান্ধব শক্তি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।

    উত্তর: যেসব শক্তির উৎস পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না, जिनका ভাণ্ডার প্রায় অফুরন্ত এবং যেগুলি সম্প্রতি ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে, তাদের অপ্রচলিত বা পরিবেশবান্ধব শক্তি বলে। উদাহরণ: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি।

  3. জীবাশ্ম জ্বালানি কাকে বলে?

    উত্তর: লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ মাটির নিচে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে যে জ্বালানি তৈরি হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম।

  4. জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দুটি অসুবিধা লেখো।

    উত্তর: দুটি অসুবিধা হলো: (১) এর ভাণ্ডার সীমিত এবং একদিন শেষ হয়ে যাবে। (২) এর দহনের ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়ে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।

  5. সৌরশক্তি কী?

    উত্তর: সূর্য থেকে প্রাপ্ত আলো ও তাপ শক্তিকে সৌরশক্তি বলা হয়। এটি একটি অফুরন্ত এবং দূষণহীন শক্তির উৎস।

  6. সৌরকোষ বা সোলার সেলের কাজ কী?

    উত্তর: সৌরকোষ বা সোলার সেলের কাজ হলো সৌরশক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা।

  7. সৌরশক্তি ব্যবহারের দুটি সুবিধা লেখো।

    উত্তর: দুটি সুবিধা হলো: (১) এটি পরিবেশ দূষণ ঘটায় না। (২) এটি একটি অফুরন্ত শক্তির উৎস, যা कभी শেষ হবে না।

  8. বায়ুশক্তি কী?

    উত্তর: বায়ুপ্রবাহের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে বায়ুশক্তি বলে।

  9. বায়ুকল বা উইন্ডমিলের কাজ কী?

    উত্তর: বায়ুকল বা উইন্ডমিল বায়ুপ্রবাহের গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘোরায় এবং জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

  10. জৈবশক্তি বা বায়োমাস এনার্জি কী?

    উত্তর: উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ, যেমন—গোবর, কৃষিজ বর্জ্য, কচুরিপানা ইত্যাদি পচিয়ে যে শক্তি উৎপাদন করা হয়, তাকে জৈবশক্তি বলে।

  11. বায়োগ্যাস কী?

    উত্তর: জৈব বর্জ্য পদার্থকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পচিয়ে যে গ্যাসীয় জ্বালানি পাওয়া যায়, তাকে বায়োগ্যাস বলে। এর প্রধান উপাদান হলো মিথেন।

  12. জোয়ারভাটার শক্তি কী?

    উত্তর: সমুদ্রের জোয়ার ও ভাটার সময় জলের স্রোতকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, তাকে জোয়ারভাটার শক্তি বলে।

  13. পুনর্নবীকরণযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য শক্তির পার্থক্য কী?

    উত্তর: যে শক্তির উৎসগুলি ব্যবহারের পরেও ফুরিয়ে যায় না বা পুনরায় তৈরি করা যায় (যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি), তাদের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি বলে। আর যে শক্তির ভাণ্ডার সীমিত এবং ব্যবহারের ফলে শেষ হয়ে যায় (যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম), তাদের অনবায়নযোগ্য শক্তি বলে।

  14. দুটি অপ্রচলিত শক্তির উৎসের নাম লেখো।

    উত্তর: দুটি অপ্রচলিত শক্তির উৎস হলো ভূতাপীয় শক্তি এবং সমুদ্র-তরঙ্গ শক্তি।

  15. শক্তির অপচয় কমানো প্রয়োজন কেন?

    উত্তর: প্রচলিত শক্তির ভাণ্ডার সীমিত এবং এর ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে শক্তির অপচয় কমানো অত্যন্ত প্রয়োজন।

রচনাধর্মী প্রশ্ন (Broad Questions)

  1. * জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবেশে কী কী ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে? এই সমস্যার সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

    উত্তর:
    জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকারক প্রভাব:
    ১. বায়ু দূষণ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম) পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয়, যা বায়ু দূষণ ঘটায় এবং অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ হয়।
    ২. বিশ্ব উষ্ণায়ন: কার্বন ডাইঅক্সাইড একটি প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস। এর পরিমাণ পরিবেশে বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্ব উষ্ণায়ন নামে পরিচিত। এর ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া এবং সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির মতো ঘটনা ঘটছে।
    ৩. সম্পদের অবক্ষয়: জীবাশ্ম জ্বালানির ভাণ্ডার সীমিত। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্তির সংকট তৈরি করবে।

    সমাধানের পদক্ষেপ:
    ১. শক্তির অপচয় রোধ: অপ্রয়োজনে আলো, পাখা বন্ধ রাখা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী যন্ত্রপাতি (যেমন LED বালব) ব্যবহার করে শক্তির অপচয় কমাতে হবে।
    ২. পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি: প্রচলিত শক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈবশক্তির মতো অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
    ৩. গণপরিবহনের ব্যবহার: ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করলে জ্বালানির খরচ এবং দূষণ উভয়ই কমবে।
    ৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: শক্তির সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

  2. সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জৈবশক্তিকে পরিবেশবান্ধব শক্তি বলা হয় কেন? প্রত্যেকটির একটি করে ব্যবহারিক প্রয়োগ উল্লেখ করো।

    উত্তর:
    সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং জৈবশক্তিকে পরিবেশবান্ধব শক্তি বলার কারণগুলি হলো:
    ১. অফুরন্ত উৎস: এই শক্তিগুলির উৎস (সূর্য, বায়ু, জৈব বর্জ্য) প্রকৃতিতে অফুরন্ত, যা জীবাশ্ম জ্বালানির মতো শেষ হয়ে যায় না।
    ২. দূষণমুক্ত: এই শক্তিগুলি ব্যবহারের সময় কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস বা বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় না, ফলে পরিবেশ দূষিত হয় না এবং বিশ্ব উষ্ণায়নে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
    ৩. পুনর্নবীকরণযোগ্য: এই শক্তিগুলি বারবার ব্যবহার করা যায়।

    ব্যবহারিক প্রয়োগ:
    ১. সৌরশক্তি: সোলার প্যানেল ব্যবহার করে সৌরশক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা বাড়ির আলো, পাখা চালাতে বা রাস্তার আলো জ্বালাতে ব্যবহৃত হয়।
    ২. বায়ুশক্তি: বায়ুকল বা উইন্ডমিল স্থাপন করে বায়ুপ্রবাহের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা গ্রিডে সরবরাহ করা হয় বা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়।
    ৩. জৈবশক্তি: গোবর, কৃষিজ বর্জ্য ইত্যাদি ব্যবহার করে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে মিথেন গ্যাস তৈরি করা হয়, যা রান্নার জ্বালানি হিসেবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

  3. প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির মধ্যে পার্থক্য লেখো। ভবিষ্যতের শক্তির সংকট মোকাবিলায় অপ্রচলিত শক্তির ভূমিকা কী?

    উত্তর:
    প্রচলিত ও অপ্রচলিত শক্তির পার্থক্য:

    বিষয় প্রচলিত শক্তি অপ্রচলিত শক্তি
    ভাণ্ডার এর ভাণ্ডার সীমিত এবং অনবায়নযোগ্য। এর উৎস অফুরন্ত এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য।
    পরিবেশগত প্রভাব এর ব্যবহারে পরিবেশ দূষিত হয়। এটি পরিবেশবান্ধব, দূষণ ঘটায় না।
    উৎপাদন খরচ প্রাথমিক উৎপাদন খরচ কম হলেও জ্বালানির দাম ক্রমবর্ধমান। প্রাথমিক স্থাপন খরচ বেশি, কিন্তু পরবর্তীকালে উৎপাদন খরচ খুব কম।
    উদাহরণ কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জৈবশক্তি।

    ভবিষ্যতের শক্তি সংকট মোকাবিলায় অপ্রচলিত শক্তির ভূমিকা:
    বর্তমানে আমরা শক্তির জন্য মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, যার ভাণ্ডার দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের ভয়াবহ শক্তি সংকট মোকাবিলায় অপ্রচলিত শক্তির ভূমিকা অপরিসীম।
    প্রথমত, সৌরশক্তি, বায়ুশক্তির মতো উৎসগুলি অফুরন্ত হওয়ায় এগুলি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থিতিশীল শক্তির জোগান দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, এগুলি পরিবেশ দূষণ করে না, তাই জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো সমস্যার মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, অপ্রচলিত শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীভূত করা সম্ভব, যার ফলে প্রত্যন্ত ও दुर्गम অঞ্চলেও সহজে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া যায়। তাই, প্রচলিত শক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে অপ্রচলিত শক্তির ব্যাপক ব্যবহারই হল শক্তি সংকট মোকাবিলার একমাত্র পথ।