Chapter 10: আফ্রিকা মহাদেশ (Africa Continent)

আফ্রিকার ভৌগোলিক পরিচয়, সাহারা মরুভূমি, নীলনদ অববাহিকা, সাভানা তৃণভূমি, কিলিমাঞ্জারো, আসোয়ান বাঁধ, মরুদ্যান, যাযাবর | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 7 Geography Chapter 10 আফ্রিকা মহাদেশ

Chapter 10: আফ্রিকা মহাদেশ

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 27 MCQ | 16 SAQ | 5 Broad Questions

সাহারা নীলনদ সাভানা কিলিমাঞ্জারো মরুদ্যান ভিক্টোরিয়া যাযাবর
🏜️

সাহারা

পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি | ৯২ লক্ষ বর্গকিমি

🌊

নীলনদ

পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী | ৬,৬৫০ কিমি

🦁

সাভানা

তৃণভূমি | বাওবাব, সিংহ, জিরাফ

⛰️

কিলিমাঞ্জারো

৫,৮৯৫ মি | নিরক্ষীয় বরফ

আফ্রিকার প্রধান নদী - একনজরে

নদীর নামদৈর্ঘ্য (কিমি)উৎসমোহনা
নীল৬,৬৫০ভিক্টোরিয়া হ্রদভূমধ্যসাগর
কঙ্গো৪,৭০০তাম্বা হ্রদআটলান্টিক মহাসাগর
নাইজার৪,১৮০গিনি উচ্চভূমিআটলান্টিক মহাসাগর
জাম্বেসি২,৫৭৪অ্যাঙ্গোলা সীমান্তভারত মহাসাগর

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

27 টি
1. আয়তনে ও জনসংখ্যায় আফ্রিকা পৃথিবীর কততম মহাদেশ?
ক) ক) প্রথম
খ) খ) দ্বিতীয়
গ) গ) তৃতীয়
ঘ) ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা: আয়তনে ও জনসংখ্যায় আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ (এশিয়ার পরে)। আয়তন ৩,০২,২১,৫৩২ বর্গকিমি। দেশের সংখ্যা ৫৬টি। নিরক্ষরেখা ও কর্কটক্রান্তি-মকরক্রান্তি রেখা — চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা আফ্রিকার উপর দিয়ে বিস্তৃত।
2. আফ্রিকাকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হতো কেন?
ক) ক) রাতে অন্ধকার থাকে বলে
খ) খ) প্রাকৃতিক দুর্গমতা ও গভীর জঙ্গলের জন্য বহুদিন আধুনিক সভ্যতা পৌঁছায়নি
গ) গ) মানুষের রং কালো বলে
ঘ) ঘ) কোনো আলো নেই বলে
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক দুর্গমতা, অসহ্যকর উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, গভীর জঙ্গল ও বিভিন্ন রোগের ভয় ইত্যাদি কারণে বহুদিন পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশে আধুনিক সভ্যতার আলো এসে পৌঁছাতে পারেনি। এইজন্য উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আফ্রিকাকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' (Dark Continent) বলা হতো।
3. আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে কোন প্রণালী অবস্থিত?
ক) ক) সুয়েজ খাল
খ) খ) জিব্রাল্টার প্রণালী
গ) গ) পক প্রণালী
ঘ) ঘ) বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা: ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে জিব্রাল্টার প্রণালী (Strait of Gibraltar) অবস্থিত — যা ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। অন্যদিকে এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে আছে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল।
4. আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
ক) ক) মাউন্ট কেনিয়া
খ) খ) মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো
গ) গ) মাউন্ট টোবকাল
ঘ) ঘ) রুয়েনজরি
ব্যাখ্যা: মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (Mount Kilimanjaro — ৫,৮৯৫ মিটার) আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি তানজানিয়ায় নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত হলেও উচ্চতা অনেক বেশি হওয়ায় এর চূড়ায় সারাবছর বরফ জমে থাকে। এটি একটি আগ্নেয় পর্বত।
5. পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোনটি?
ক) ক) গোবি
খ) খ) কালাহারি
গ) গ) সাহারা
ঘ) ঘ) থর
ব্যাখ্যা: উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি (Sahara Desert) পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি — আয়তন প্রায় ৯২ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। অত্যন্ত শুষ্ক ও বন্ধুর হওয়ায় এখানে জনবসতি প্রায় দেখা যায় না। মরুভূমির মধ্যভাগে আহাগার ও টিবেস্টি মালভূমি দেখা যায়।
6. 'মিশর নীলনদের দান' — উক্তিটি কার?
ক) ক) অ্যারিস্টটল
খ) খ) হেরোডোটাস
গ) গ) প্লেটো
ঘ) ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা: প্রাচীন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস (Herodotus) বলেছিলেন — 'মিশর নীলনদের দান' (Egypt is the gift of the Nile)। নীলনদ না থাকলে মিশর সাহারা মরুভূমির অংশ হতো। নীলনদের পলিমাটি ও জলেই মিশরীয় সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল।
7. নীলনদের উপর নির্মিত বিখ্যাত বাঁধ কোনটি?
ক) ক) হুভার বাঁধ
খ) খ) আসোয়ান বাঁধ
গ) গ) তিন গিরিখাত বাঁধ
ঘ) ঘ) ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ
ব্যাখ্যা: মিশরের নীলনদের উপর নির্মিত আসোয়ান বাঁধ (Aswan Dam) পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ বাঁধ। উচ্চ আসোয়ান বাঁধ (High Aswan Dam) ১৯৭০ সালে সম্পূর্ণ হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য: বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষিজমিতে জলসেচ এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন।
8. সাহারা মরুভূমির মরুদ্যানের উদাহরণ কোনটি?
ক) ক) কায়রো
খ) খ) সিওয়া
গ) গ) আলেকজান্দ্রিয়া
ঘ) ঘ) খার্তুম
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমির বিখ্যাত মরুদ্যান (Oasis): সিওয়া (মিশর), কুফরা (লিবিয়া), সিউয়া, তিমিন, ঘারজাইয়া, বাহারিয়া। মরুদ্যান হল মরুভূমির মধ্যে জলযুক্ত সবুজ দ্বীপ যেখানে খেজুর, তাল গাছ জন্মায়, কৃষি হয় ও জনবসতি থাকে।
9. সাভানা তৃণভূমি কী?
ক) ক) ঘন বনভূমি
খ) খ) বিস্তীর্ণ লম্বা ঘাসের প্রান্তর — বিক্ষিপ্তভাবে বাওবাব ও অ্যাকাসিয়া গাছ
গ) গ) মরুভূমি
ঘ) ঘ) পাহাড়ি অঞ্চল
ব্যাখ্যা: সাভানা (Savanna) হল আফ্রিকার নিরক্ষীয় বনাঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি অঞ্চল — যেখানে লম্বা ঘাসের সাথে বিক্ষিপ্তভাবে অ্যাকাসিয়া ও বাওবাব জাতীয় গাছ দেখা যায়। বৃষ্টিপাত ২৫-১৫০ সেমি, গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হয়। আফ্রিকার সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হাতি সাভানায় বাস করে।
10. বাওবাব গাছ কোথায় দেখা যায়?
ক) ক) তৈগা বনে
খ) খ) সাভানা তৃণভূমিতে
গ) গ) তুন্দ্রায়
ঘ) ঘ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা: বাওবাব (Baobab) গাছ আফ্রিকার সাভানা তৃণভূমির অন্যতম প্রতীক। এর কাণ্ড অত্যন্ত পুরু — জল সঞ্চয় করে রাখে। শুষ্ক মৌসুমে বাওবাব গাছের কাণ্ড থেকে জল সংগ্রহ করা যায়। একে 'জীবনের গাছ' (Tree of Life) বলা হয়। এর ফল বানরের রুটি নামে পরিচিত।
11. ওয়াদি (Wadi) কী?
ক) ক) পাহাড়
খ) খ) মরুভূমির শুকনো নদীখাত
গ) গ) হ্রদ
ঘ) ঘ) সমভূমি
ব্যাখ্যা: ওয়াদি (Wadi): সাহারা মরুভূমির অধিকাংশ নদী শুকনো — শুধু বৃষ্টির সময় অল্প সময়ের জন্য জলে ভরে। এই শুকনো নদীখাতগুলোকে আরবি ভাষায় 'ওয়াদি' বলা হয়। সাধারণত আটলাস পর্বত ও মধ্যভাগের উচ্চভূমি থেকে সৃষ্টি। ওয়াদি নীল নদের মতো চিরপ্রবাহী নয়।
12. আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
ক) ক) কঙ্গো
খ) খ) নাইজার
গ) গ) নীল
ঘ) ঘ) জাম্বেসি
ব্যাখ্যা: নীল নদ (Nile River — ৬,৬৫০ কিমি) আফ্রিকা তথা পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী। এটি পূর্ব আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়েছে। মিশর ও সুদানের প্রাণ এই নীলনদ — এর জলে ও পলিতে কৃষি, সভ্যতা গড়ে উঠেছে।
13. গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি (Great Rift Valley) কী?
ক) ক) একটি পর্বত
খ) খ) ভূ-আলোড়নে সৃষ্ট বিশাল ফাটল বা গ্রস্ত উপত্যকা
গ) গ) একটি নদী
ঘ) ঘ) একটি মরুভূমি
ব্যাখ্যা: পূর্ব আফ্রিকায় ভূ-আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে বিশাল ফাটল বা গ্রস্ত উপত্যকা সৃষ্টি হয়েছে — একে গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি (Great Rift Valley) বলে। দুটি ফাটলের মাঝের অংশ নিচে বসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। এই উপত্যকায় টাঙ্গানিকা, মালাউই, ভিক্টোরিয়া প্রভৃতি বড় হ্রদ দেখা যায়।
14. সাহারা মরুভূমির দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কেমন?
ক) ক) সমান থাকে
খ) খ) অত্যন্ত বেশি — দিনে ৫৮°C, রাতে ৪°C পর্যন্ত নামে
গ) গ) সামান্য পার্থক্য
ঘ) ঘ) রাতে বেশি গরম
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমিতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত বেশি। দিনের বেলা তীব্র গরম — তাপমাত্রা ৫৮°C পর্যন্ত পৌঁছায়, বাতাসে জলীয়বাষ্প থাকে না। রাতের বেলা ৪°C পর্যন্ত নেমে যায় — বেশ ঠান্ডা হয়ে পড়ে। এই চরম তাপমাত্রার বৈচিত্র্যের সাথে মানিয়ে নিয়েই মানুষ ও প্রাণী বেঁচে থাকে।
15. খামসিন (Khamsin) কী?
ক) ক) একটি খাবার
খ) খ) সাহারা থেকে বয়ে আসা গরম ও শুকনো বাতাস
গ) গ) একটি নদী
ঘ) ঘ) একটি শহর
ব্যাখ্যা: খামসিন (Khamsin): গ্রীষ্মকালে সাহারা মরুভূমি থেকে এক প্রকার গরম ও শুকনো বাতাস বয়ে যায় — স্থানীয় ভাষায় একে খামসিন বলা হয়। গিনি উপকূল অঞ্চলে এই বাতাসকে 'হারমাটান' (Harmattan) বলে। এই গরম বাতাসে তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় ও ধুলোঝড় সৃষ্টি হয়।
16. সিমুম (Simoom) কী?
ক) ক) একটি প্রাণী
খ) খ) সাহারায় প্রবল বালির ঝড়
গ) গ) একটি হ্রদ
ঘ) ঘ) একটি উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা: সিমুম (Simoom): গ্রীষ্মকালে সাহারা মরুভূমিতে প্রবল বেগে বালির ঝড় ওঠে — স্থানীয় ভাষায় একে সিমুম বলে। এই সময় বাতাসে প্রচুর বালিকণা ভেসে থাকে এবং দৃষ্টি শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী হতে পারে।
17. ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত কোন নদীতে অবস্থিত?
ক) ক) নীল
খ) খ) জাম্বেসি
গ) গ) নাইজার
ঘ) ঘ) কঙ্গো
ব্যাখ্যা: ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত (Victoria Falls) আফ্রিকার জাম্বেসি নদীতে অবস্থিত — জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তে। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাতগুলোর অন্যতম — প্রস্থ প্রায় ১,৭০৮ মিটার এবং উচ্চতা ১০৮ মিটার। স্থানীয় নাম 'মোসি-ওয়া-তুনিয়া' (Mosi-oa-Tunya — 'ধোঁয়া যা গর্জন করে')। ডেভিড লিভিংস্টোন এটি আবিষ্কার করেন।
18. আফ্রিকার কোন অঞ্চলে জলপাই, ওক, কর্ক গাছ জন্মায়?
ক) ক) নিরক্ষীয় অঞ্চল
খ) খ) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল
গ) গ) সাভানা
ঘ) ঘ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা: আফ্রিকার একেবারে উত্তর-পশ্চিম (মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া) ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। এখানে শীতকালে বৃষ্টি হয়, গ্রীষ্ম শুষ্ক। স্বাভাবিক উদ্ভিদ: জলপাই, ওক, আখরোট, ডুমুর, কর্ক, কমলালেবু, আঙুর। পাতা মোমের আস্তরণযুক্ত — জল কম নির্গত হয়।
19. যাযাবর (Nomads) কারা?
ক) ক) শহরে বসবাসকারী
খ) খ) মরুভূমিতে পশুর দল নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ানো মানুষ
গ) গ) কৃষক
ঘ) ঘ) জেলে
ব্যাখ্যা: যাযাবর (Nomads): সাহারা মরুভূমিতে যারা পশুর দল (বিশেষত উট, ঘোড়া, ছাগল) নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় জল ও খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়, তাদের যাযাবর বলে। উটের দুধ ও মাংস এদের প্রধান খাদ্য। উট দল বেঁধে চললে তাকে 'ক্যারাভান' (Caravan) বলা হয়।
20. মিশরের কত শতাংশ মানুষ নীলনদের অববাহিকায় বাস করে?
ক) ক) ৫০%
খ) খ) ৬০%
গ) গ) ৮০%
ঘ) ঘ) ৯০%
ব্যাখ্যা: মিশরের প্রায় ৮০% মানুষ নীলনদের অববাহিকায় বসবাস করে। নীলনদের ধারে কৃষি, শিল্প, যাতায়াত ব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে বাকি প্রায় পুরোটাই মরুভূমি (সাহারা) — জনবসতি অত্যন্ত কম। কায়রো (রাজধানী) ও আলেকজান্দ্রিয়া নীলনদের অববাহিকার প্রধান শহর।
21. আহাগার ও টিবেস্টি কী?
ক) ক) নদী
খ) খ) সাহারা মরুভূমির মধ্যভাগের প্রাচীন মালভূমি
গ) গ) শহর
ঘ) ঘ) হ্রদ
ব্যাখ্যা: আহাগার (Ahaggar) ও টিবেস্টি (Tibesti) সাহারা মরুভূমির মধ্যভাগে অবস্থিত প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত উচ্চ মালভূমি অঞ্চল। এগুলো দীর্ঘদিনের ক্ষয়প্রাপ্ত — অপেক্ষাকৃত উঁচু। সাহারার বাতাস পাথরের গায়ে ধাক্কা খেয়ে নানা নকশা তৈরি করে।
22. কঙ্গো নদীর অববাহিকায় কী ধরনের উদ্ভিদ দেখা যায়?
ক) ক) ক্যাকটাস
খ) খ) ঘন চিরসবুজ জঙ্গল (Equatorial Rainforest)
গ) গ) সাভানা ঘাস
ঘ) ঘ) পাইন গাছ
ব্যাখ্যা: কঙ্গো নদী অববাহিকা নিরক্ষরেখার কাছে অবস্থিত — এখানে সারাবছর বৃষ্টিপাত বেশি (২০০-২৫০ সেমি) ও উষ্ণ (২৭°C)। তাই এখানে ঘন চিরসবুজ অরণ্য (Equatorial Rainforest) দেখা যায় — মেহগনি, রোজউড, এবনি, রবার গাছ। কঙ্গো বন আমাজনের পর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট।
23. মরুভূমির বালির স্তূপ জমে ছোট পাহাড়ের মতো যে ভূমিরূপ তৈরি হয় তাকে কী বলে?
ক) ক) ওয়াদি
খ) খ) রেগ
গ) গ) আগ (Erg বা Sand Dune)
ঘ) ঘ) হামাদা
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমিতে যেসব অঞ্চলে বাতাসে উড়ে আসা বালির স্তূপ জমে ছোট পাহাড়ের মতো ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে আরবিতে 'আগ' (Erg) বা বালিয়াড়ি (Sand Dune) বলে। অন্যদিকে পাথুরে মরুভূমি 'হামাদা' এবং বালি-পাথর মিশ্রিত অঞ্চল 'রেগ' (Reg) নামে পরিচিত।
24. সাহারায় কোন কোন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়?
ক) ক) শুধু সোনা
খ) খ) খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, লবণ, আকরিক লোহা
গ) গ) শুধু হীরে
ঘ) ঘ) কোনো খনিজ নেই
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ: লিবিয়া ও আলজেরিয়ায় প্রচুর খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এছাড়া লবণ, কয়লা, আকরিক লোহা, ফসফেটস পাওয়া যায়। কিন্তু অত্যধিক গরম ও দুর্গমতার কারণে খনিজ আহরণ কষ্টসাধ্য। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিমানবন্দর নির্মাণে খনি শিল্প উন্নত হচ্ছে।
25. নিরক্ষীয় অঞ্চলে কিলিমাঞ্জারোর চূড়ায় বরফ জমে থাকার কারণ কী?
ক) ক) সূর্যের আলো কম পড়ে
খ) খ) উচ্চতা অনেক বেশি (৫,৮৯৫ মি) — প্রতি ১০০০ মিটারে ৬.৫°C তাপমাত্রা কমে
গ) গ) শুধু বৃষ্টি হয়
ঘ) ঘ) কাছাকাছি সমুদ্র আছে
ব্যাখ্যা: কিলিমাঞ্জারো নিরক্ষরেখার কাছাকাছি (৩° দক্ষিণ) অবস্থিত হলেও এর উচ্চতা ৫,৮৯৫ মিটার। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায় (প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় ৬.৫°C কমে)। শীর্ষদেশের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে — তাই সারাবছর বরফ জমে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কিলিমাঞ্জারোর বরফ ক্রমশ কমছে।
26. ক্যারাভান (Caravan) কী?
ক) ক) এক ধরনের খাবার
খ) খ) মরুভূমিতে উটের দল বেঁধে চলা বাণিজ্যিক যাত্রা
গ) গ) একটি শহর
ঘ) ঘ) একটি নদী
ব্যাখ্যা: ক্যারাভান (Caravan): সাহারা মরুভূমিতে উটের পিঠে পণ্য বোঝাই করে দল বেঁধে যে বাণিজ্যিক যাত্রা করা হয়, তাকে ক্যারাভান বলে। উট সাহারার প্রধান পরিবহন মাধ্যম। প্রাচীনকালে সাহারা পাড়ি দিয়ে সোনা, লবণ, হাতির দাঁত, ক্রীতদাস বাণিজ্য হতো। এখন পাকা রাস্তা ও ট্রাকে বাণিজ্য হয়।
27. সাহারা অতীতে কেমন ছিল?
ক) ক) সবসময় মরুভূমি ছিল
খ) খ) একসময় বৃষ্টিবহুল, সবুজ অরণ্যে ঢাকা ছিল
গ) গ) সাগর ছিল
ঘ) ঘ) বরফে ঢাকা ছিল
ব্যাখ্যা: সাহারা মরুভূমিতে পাথরের ওপর প্রাচীন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ছাপ (জীবাশ্ম) পাওয়া গেছে — যা থেকে বোঝা যায় সাহারা একসময় বৃষ্টিবহুল, গাছপালায় পরিপূর্ণ ঘন সবুজের জঙ্গল ছিল। জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলেই ধীরে ধীরে তা শুষ্ক, বৃষ্টিহীন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবার এখন বৃষ্টি ও সবুজ বাড়ছে।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

16 টি
1. আফ্রিকা মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।
আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ (আয়তন: ৩,০২,২১,৫৩২ বর্গকিমি, দেশ: ৫৬টি)। অবস্থান: ৫১°২৪' পূর্ব থেকে ১৭°৩৫' পশ্চিম দ্রাঘিমা এবং ৩৭°২৩' উত্তর থেকে ৩৪°৫২' দক্ষিণ অক্ষাংশ। সীমা: পূর্বে লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, উত্তরে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর। নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি ও মূলমধ্যরেখা — চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা আফ্রিকার উপর দিয়ে বিস্তৃত। ইউরোপ থেকে জিব্রাল্টার প্রণালী, এশিয়া থেকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল একে আলাদা করেছে।
2. আফ্রিকাকে কেন 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' বলা হতো?
ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত আফ্রিকাকে 'অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ' (Dark Continent) বলা হতো কারণ: (১) প্রাকৃতিক দুর্গমতা — ঘন জঙ্গল, মরুভূমি, উঁচু পর্বত, (২) অসহ্যকর উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু, (৩) গভীর জঙ্গলে ম্যালেরিয়া, স্লিপিং সিকনেস (ঘুমের রোগ) ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব, (৪) সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। এসব কারণে বহুদিন পর্যন্ত আধুনিক সভ্যতার আলো এসে পৌঁছাতে পারেনি। পরে অভিযাত্রী (লিভিংস্টোন, স্ট্যানলি) ও ঔপনিবেশিক শক্তির আগমনে আফ্রিকা বিশ্বের মানচিত্রে আসে।
3. সাহারা মরুভূমির ভূমিরূপ, জলবায়ু ও জীবনের বর্ণনা দাও।
সাহারা পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি (প্রায় ৯২ লক্ষ বর্গকিমি): ভূমিরূপ: এটি একটি প্রাচীন মালভূমি অঞ্চল। মধ্যভাগে আহাগার ও টিবেস্টি মালভূমি। বালির স্তূপ জমে 'আগ' (বালিয়াড়ি), পাথুরে অংশ 'হামাদা', মিশ্র 'রেগ', শুকনো নদীখাত 'ওয়াদি'। মরুদ্যান: সিওয়া, কুফরা। জলবায়ু: দিনে ৫৮°C, রাতে ৪°C পর্যন্ত নামে। অতি শুষ্ক — বৃষ্টি প্রায় নেই। গরম বাতাস 'খামসিন', বালিঝড় 'সিমুম'। জীবন: ক্যাকটাস, খেজুর, যাযাবর (উট পালন), বর্তমানে তেলক্ষেত্রে শ্রমিক কাজ করে। যাতায়াত: উট (ক্যারাভান), এখন মোটরগাড়ি।
4. নীলনদ অববাহিকা সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো। মিশরের জন্য নীলনদের গুরুত্ব কী?
নীলনদ (৬,৬৫০ কিমি) পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী। আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলের হ্রদ অঞ্চল (ভিক্টোরিয়া হ্রদ) থেকে উৎপন্ন হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে পতিত। অববাহিকা তিন ভাগে বিভক্ত: উচ্চ অববাহিকা — কলা, তামাক চাষ; মধ্য অববাহিকা — গম, খেজুর, জোয়ার চাষ; নিম্ন অববাহিকা (ব-দ্বীপ অঞ্চল) — ধান, গম, তুলা (মিশরীয় তুলা বিশ্ববিখ্যাত)। মিশরের জন্য গুরুত্ব: 'মিশর নীলনদের দান' (হেরোডোটাস) — নীলনদ না থাকলে মিশর সাহারা মরুভূমির অংশ হতো। কৃষি, পশুপালন, জলসেচ, জলবিদ্যুৎ, পরিবহন — সবই নীলনদ কেন্দ্রিক। ৮০% মানুষ নীলনদের তীরে বাস করে। আসোয়ান বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
5. আফ্রিকার প্রধান নদীগুলির নাম, উৎস, মোহনা ও বৈশিষ্ট্য লেখো।
আফ্রিকার প্রধান নদী: (১) নীল নদ — পৃথিবীর দীর্ঘতম (৬,৬৫০ কিমি), ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে ভূমধ্যসাগরে, কৃষি ও সভ্যতার প্রাণ। (২) কঙ্গো নদী — দ্বিতীয় বৃহত্তম জলপ্রবাহে, মধ্য আফ্রিকার তাম্বা হ্রদ থেকে আটলান্টিকে, ঘন নিরক্ষীয় বন, অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ ও জলপ্রপাত। (৩) নাইজার নদী — গিনি উচ্চভূমি থেকে আটলান্টিকে (৪,১৮০ কিমি), সাহারার দিকে অগ্রসর হয়ে বাঁক নিয়ে দক্ষিণে; মোহনায় ব-দ্বীপ (তৈলক্ষেত্র সমৃদ্ধ)। (৪) জাম্বেসি নদী — জাম্বিয়া-অ্যাঙ্গোলা সীমান্ত থেকে ভারত মহাসাগরে, ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, কারিবা বাঁধ, জলবিদ্যুৎ। (৫) অরেঞ্জ নদী — ড্রাকেন্সবার্গ পর্বত থেকে আটলান্টিকে, পশ্চিমে প্রবাহিত, একাধিক বাঁধ ও জলাধার।
6. গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি কী? এর বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব কী?
গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি (Great Rift Valley): পূর্ব আফ্রিকায় ভূ-আলোড়নের ফলে সৃষ্ট এক বিশাল ফাটল বা গ্রস্ত উপত্যকা। দুটি সমান্তরাল ফাটলের মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে। বৈশিষ্ট্য: (১) দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিমি — জর্ডান থেকে মোজাম্বিক পর্যন্ত, (২) ফাটলের মধ্যে অনেক বড় হ্রদ — টাঙ্গানিকা (গভীরতম), মালাউই, ভিক্টোরিয়া, রুডলফ, (৩) আগ্নেয়গিরি ও উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়। গুরুত্ব: (১) প্রচুর খনিজ সম্পদ, (২) হ্রদগুলিতে মৎস্যশিকার, (৩) পর্যটন (সাফারি), (৪) মানব বিবর্তনের প্রাচীনতম জীবাশ্ম এখানেই পাওয়া গেছে — আফ্রিকাকে 'মানুষের জন্মস্থল' বলা হয়।
7. আফ্রিকার সাভানা তৃণভূমির বৈশিষ্ট্য কী?
সাভানা (Savanna): নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্যের উত্তর ও দক্ষিণে বিস্তৃত তৃণভূমি অঞ্চল। বৈশিষ্ট্য: (১) বৃষ্টিপাত ২৫-১৫০ সেমি — গ্রীষ্মকালে বৃষ্টি হয়, শীত শুষ্ক, (২) বিস্তীর্ণ লম্বা ঘাসের প্রান্তর — দিগন্ত বিস্তৃত (যেমন সেরেঙ্গেটি, মাসাই মারা), (৩) বিক্ষিপ্তভাবে অ্যাকাসিয়া, বাওবাব, উটকাঁটা গাছ দেখা যায়, (৪) আফ্রিকার বিখ্যাত বন্যপ্রাণী — সিংহ, চিতা, জিরাফ, জেব্রা, হাতি, বুনো মহিষ, গণ্ডার, ওয়াইল্ডবিস্ট, (৫) পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — 'বিগ ফাইভ' সাফারি। এখানকার মানুষ মূলত পশুপালন ও কিছু চাষাবাদ করে।
8. মরুভূমির মরুদ্যান (Oasis) কী? সাহারার কয়েকটি মরুদ্যানের নাম লেখো।
মরুদ্যান (Oasis): মরুভূমির মধ্যে এমন একটি স্থান যেখানে ভূগর্ভস্থ জল প্রাকৃতিকভাবে উপরে উঠে আসে বা কূপ খনন করে জল পাওয়া যায় — সেই জলকে কেন্দ্র করে চারপাশে গাছপালা জন্মায় ও জনবসতি গড়ে ওঠে। এ যেন মরুভূমির মধ্যে এক সবুজ দ্বীপ। মরুদ্যানের চারপাশে সাধারণত খেজুর, তাল গাছের সারি দেখা যায়। ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা চাষ হয়। সাহারার বিখ্যাত মরুদ্যান: (১) সিওয়া (মিশর) — আলেকজান্ডার এখানে এসেছিলেন, (২) কুফরা (লিবিয়া), (৩) তিমিন, (৪) ঘারজাইয়া, (৫) বাহারিয়া। মরুদ্যানে স্থায়ী বসতি ও কৃষি হয় এবং এগুলো মরুভূমির পরিবহন পথে গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল।
9. নীলনদের উপর নির্মিত আসোয়ান বাঁধ সম্পর্কে কী জানো?
আসোয়ান বাঁধ (Aswan Dam) মিশরের নীলনদের উপর নির্মিত একটি বিশাল বাঁধ — এটি 'বহুমুখী নদী পরিকল্পনা'র অংশ। উচ্চ আসোয়ান বাঁধ (High Aswan Dam) ১৯৭০ সালে সম্পূর্ণ হয় — উচ্চতা ১১১ মিটার, দৈর্ঘ্য ৩,৮৩০ মিটার, জলাধার 'লেক নাসের' (৫৫০ কিমি দীর্ঘ)। উদ্দেশ্য: (১) নীলনদের বার্ষিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, (২) সারা বছর কৃষিজমিতে জলসেচের ব্যবস্থা, (৩) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন (২,১০০ মেগাওয়াট), (৪) মাছ চাষ। নেতিবাচক প্রভাব: ব-দ্বীপে পলি পৌঁছায় না — জমির উর্বরতা কমেছে, মাটির লবণাক্ততা বেড়েছে। নীলনদের অপর বাঁধ: জেবেল-আউলিয়া (সুদান), সেনার, আতবারা।
10. আফ্রিকার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের সম্পর্ক আলোচনা করো।
আফ্রিকার জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ গভীরভাবে সম্পর্কিত: (১) নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্য: নিরক্ষরেখার কাছে — সারাবছর গরম (২৭°C) ও বৃষ্টিপাত ২০০-২৫০ সেমি → ঘন চিরহরিৎ বন (মেহগনি, রোজউড, এবনি)। (২) সাভানা তৃণভূমি: নিরক্ষীয় বনের উত্তর-দক্ষিণে — বৃষ্টি ২৫-১৫০ সেমি, গ্রীষ্মে বৃষ্টি → লম্বা ঘাস, বিক্ষিপ্ত অ্যাকাসিয়া, বাওবাব। (৩) মরুভূমি: সাহারা, কালাহারিতে বৃষ্টি প্রায় নেই → ক্যাকটাস, কাঁটাগাছ, মরুদ্যানে খেজুর। (৪) ভূমধ্যসাগরীয়: উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে — শীতের বৃষ্টি ৫০-১০০ সেমি → জলপাই, ওক, কর্ক, সাইট্রাস ফল। (৫) নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি (ভেল্ড): দক্ষিণে — একটু বেশি বৃষ্টি → ছোট সবুজ ঘাস।
11. সাহারা মরুভূমির মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে?
সাহারা মরুভূমির জীবন অত্যন্ত কঠিন — তবু মানুষ খাপ খাইয়ে বেঁচে আছে: (১) যাযাবর (Nomads): উট, ঘোড়া, ছাগল নিয়ে জল ও খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। উটই প্রধান পরিবহন (ক্যারাভান)। দুধ ও মাংস প্রধান খাদ্য। পশুর চামড়া ও লোমের তাঁবুতে বাস। (২) মরুদ্যানবাসী: মরুদ্যানের ধারে স্থায়ী বসতি — ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, খেজুর চাষ। (৩) আধুনিক পরিবর্তন: এখন তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের কেন্দ্রে স্থায়ী শহর গড়ে উঠেছে। যাযাবরেরা স্থায়ী বসতি গড়ছে। পাকা রাস্তা, বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে। খনিজ তেল রপ্তানি করে লিবিয়া ও আলজেরিয়া আধুনিক নগরায়ণ করছে।
12. সাহারা অতীতে কেমন ছিল ও ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
অতীত: সাহারা মরুভূমিতে পাথরের ওপর প্রাচীন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ছাপ (জীবাশ্ম) পাওয়া গেছে — যা থেকে বোঝা যায় সাহারা একসময় বৃষ্টিবহুল ও গাছপালায় পরিপূর্ণ সবুজ অরণ্য ছিল। জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলেই ধীরে ধীরে তা শুষ্ক, বৃষ্টিহীন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান: এখন সাহারায় বৃষ্টি ফের বাড়ছে — সবুজ বাড়ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমি দেখা যাচ্ছে, পশুপালন হচ্ছে। ভবিষ্যৎ: বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে সাহারায় আরও গরম বাড়বে — তবে বৃষ্টিও বাড়তে পারে। বিশেজ্ঞরা মনে করছেন — সাহারা হয়তো ভবিষ্যতে আবার শস্য-শ্যামল অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এটি প্রমাণ করে — পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনশীল।
13. কিলিমাঞ্জারো পর্বতের চূড়ায় বরফ জমে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো।
মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (৫,৮৯৫ মি) তানজানিয়ায় নিরক্ষরেখার কাছাকাছি (৩° দক্ষিণ) অবস্থিত। সাধারণত নিরক্ষীয় অঞ্চল উষ্ণ — কিন্তু উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পায় (প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় ৬.৫°C কমে)। কিলিমাঞ্জারোর পাদদেশে তাপমাত্রা ২৫°-৩০°C থাকলেও ৫,০০০ মিটারের উপরে তা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় → বৃষ্টি/কুয়াশা বরফে পরিণত হয়ে জমা হয়। ফলে শীর্ষদেশে সারাবছর বরফ জমে থাকে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত ১০০ বছরে কিলিমাঞ্জারোর প্রায় ৮০% বরফ গলে গেছে — ২০৩০ সালের মধ্যে তা সম্পূর্ণ গলে যেতে পারে।
14. মিশরের জন্য নীলনদের গুরুত্ব বুঝিয়ে দাও। 'মিশর নীলনদের দান' — কেন?
মিশর মূলত একটি মরুভূমি দেশ — দেশের ৯৫% এলাকা সাহারা মরুভূমির অংশ। নীলনদ না থাকলে সম্পূর্ণ মিশর মরুভূমি হতো। নীলনদের গুরুত্ব: (১) কৃষি: নীলনদের বার্ষিক বন্যা পলিমাটি নিয়ে আসে — উর্বর কৃষিজমি সৃষ্টি করে। ধান, গম, তুলা (মিশরীয় দীর্ঘ তন্তু তুলা বিশ্ববিখ্যাত), আখ চাষ হয়। (২) পানীয় জল: নীলনদই মিশরের প্রধান মিঠা জলের উৎস। (৩) শিল্প: আসোয়ান বাঁধ থেকে জলবিদ্যুৎ। (৪) পরিবহন ও পর্যটন: নীলনদপথে নৌ পরিবহন ও নীল ভ্রমণ পর্যটন। (৫) জনবসতি: ৮০% মানুষ নীলনদের উপত্যকায় বাস করে। তাই গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছিলেন — 'মিশর নীলনদের দান'।
15. আটলাস পর্বতমালার পরিচয় দাও।
আটলাস পর্বতমালা (Atlas Mountains) আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমে মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া জুড়ে বিস্তৃত। এটি একটি ভঙ্গিল পর্বত যা হিমালয়, আল্পস-এর তুলনায় কম উচ্চ — সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট টোবকাল (৪,১৬৫ মিটার, মরক্কোতে)। বৈশিষ্ট্য: (১) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু — শীতকালে চূড়ায় বরফ জমে, (২) আটলাস পর্বত সাহারা মরুভূমিকে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে, (৩) আটলাস পর্বত থেকে উৎপন্ন নদীগুলো সাহারায় গিয়ে শুকিয়ে যায় — ওয়াদি সৃষ্টি, (৪) বার্বার জাতির মানুষ এখানে বসবাস করে — পর্যটন, ফল ও জলপাই চাষ।
16. জাম্বেসি নদী ও ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের বিবরণ দাও।
জাম্বেসি নদী (Zambezi River) আফ্রিকার চতুর্থ দীর্ঘতম নদী (২,৫৭৪ কিমি)। জাম্বিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও কঙ্গো সীমান্ত এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত। ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জাম্বেসি নদীর উপর অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ও সুন্দরতম জলপ্রপাত — জাম্বিয়া-জিম্বাবুয়ে সীমান্তে। প্রস্থ ১,৭০৮ মিটার, উচ্চতা ১০৮ মিটার। স্থানীয় নাম 'মোসি-ওয়া-তুনিয়া' (ধোঁয়া যা গর্জন করে)। স্কটিশ অভিযাত্রী ডেভিড লিভিংস্টোন ১৮৫৫ সালে এটি আবিষ্কার করেন ও রানি ভিক্টোরিয়ার নামে নামকরণ করেন। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান। নদীর উপর কারিবা বাঁধ (Kariba Dam) — পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার সৃষ্টি করেছে।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

5 টি
1. আফ্রিকা মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয় বিস্তারিত বর্ণনা করো। এর অবস্থান, সীমা, প্রধান ভূমিরূপ, নদী ও জলবায়ু অঞ্চল সম্পর্কে আলোচনা করো।

আফ্রিকা মহাদেশের ভৌগোলিক পরিচয়

আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দ্বিতীয় জনবহুল মহাদেশ। আয়তন: ৩,০২,২১,৫৩২ বর্গকিমি | দেশ: ৫৬টি।

অবস্থান ও সীমা:
  • পূর্বে: লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর
  • পশ্চিমে: আটলান্টিক মহাসাগর
  • উত্তরে: ভূমধ্যসাগর
  • দক্ষিণে: ভারত মহাসাগর
  • ইউরোপ থেকে: জিব্রাল্টার প্রণালী
  • এশিয়া থেকে: লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল
প্রধান ভূমিরূপ:
  • পর্বত: আটলাস (উত্তর-পশ্চিম), কিলিমাঞ্জারো (৫,৮৯৫ মি — সর্বোচ্চ), ড্রাকেন্সবার্গ (দক্ষিণ)
  • মরুভূমি: সাহারা (পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি), কালাহারি, নামিব
  • গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি: পূর্ব আফ্রিকায় বিশাল গ্রস্ত উপত্যকা, বড় বড় হ্রদ
  • মালভূমি: আহাগার, টিবেস্টি (সাহারায়), ইথিওপিয়া উচ্চভূমি
প্রধান নদী:

নীল (৬,৬৫০ কিমি — দীর্ঘতম), কঙ্গো (জলপ্রবাহে দ্বিতীয়), নাইজার, জাম্বেসি (ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত), অরেঞ্জ।

জলবায়ু ও উদ্ভিদ:

নিরক্ষীয় চিরসবুজ বন → সাভানা তৃণভূমি → মরুভূমি → ভূমধ্যসাগরীয় → নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি (ভেল্ড)।

2. সাহারা মরুভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো — এর অবস্থান, ভূমিরূপ, জলবায়ু, প্রাণী, উদ্ভিদ, মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব।

সাহারা মরুভূমি (Sahara Desert)

পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি — আয়তন প্রায় ৯২ লক্ষ বর্গকিমি (প্রায় ভারতের ৩ গুণ)। উত্তর আফ্রিকায় আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভূমিরূপ:
  • মালভূমি: আহাগার ও টিবেস্টি (মধ্যভাগে প্রাচীন শিলায় গঠিত)
  • আগ (Erg): বালির স্তূপ জমে ছোট পাহাড় (বালিয়াড়ি)
  • হামাদা: পাথুরে মরুভূমি
  • রেগ: বালি ও পাথর মিশ্রিত
  • ওয়াদি: শুকনো নদীখাত (বৃষ্টির সময় অল্পক্ষণ জলে ভরে)
  • মরুদ্যান: সিওয়া, কুফরা, তিমিন — ভূগর্ভস্থ জলের উৎস
জলবায়ু:

দিনের তাপমাত্রা ৫৮°C, রাতে ৪°C পর্যন্ত নামে। অতি শুষ্ক — বৃষ্টি প্রায় নেই। গরম বাতাস 'খামসিন', বালিঝড় 'সিমুম'।

জীবন ও অর্থনীতি:
  • উদ্ভিদ: ক্যাকটাস, খেজুর, কাঁটাগাছ
  • প্রাণী: উট (মরু জাহাজ), ফেনেক শিয়াল, বিছে, সাপ
  • মানুষ: যাযাবর — উট নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, ক্যারাভান বাণিজ্য
  • খনিজ: লিবিয়া ও আলজেরিয়ায় খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস
  • আধুনিকতা: পাকা রাস্তা, বিমানবন্দর, তেল শিল্পকেন্দ্রে স্থায়ী শহর
3. নীলনদ অববাহিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো। নীলনদের গতিপথ, বন্যা, আসোয়ান বাঁধ, কৃষি ও জনজীবনে এর প্রভাব কতটা?

নীলনদ অববাহিকা (Nile River Basin)

নীলনদ পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী (৬,৬৫০ কিমি)। উৎস: ভিক্টোরিয়া হ্রদ (পূর্ব আফ্রিকা) → সুদান ও মিশরের মধ্য দিয়ে → মোহনা: ভূমধ্যসাগর। শ্বেত নীল ও নীল নীল মিলিত হয়ে মূল নীলনদ সৃষ্টি করেছে।

নীলনদের গতিপথ ও বন্যা:

নিরক্ষীয় অঞ্চলের ভারী বৃষ্টি ও ইথিওপিয়া মালভূমির বৃষ্টির জলে নীলনদ বার্ষিক বন্যায় পলিমাটি নিয়ে আসে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলসেচের জন্য নির্মিত হয়েছে আসোয়ান বাঁধ (High Aswan Dam, ১৯৭০) — জলাধার 'লেক নাসের'।

অববাহিকায় কৃষি:

অঞ্চলপ্রধান ফসল
উচ্চ অববাহিকাকফি, কলা, তামাক
মধ্য অববাহিকাগম, খেজুর, জোয়ার, চিনাবাদাম
নিম্ন অববাহিকাজলপাই, শণ, ভুট্টা
ব-দ্বীপ অঞ্চলধান, গম, তুলা (মিশরীয় দীর্ঘ তন্তু তুলা)

জনজীবনে প্রভাব:

  • মিশরের ৮০% মানুষ নীলনদের তীরে বাস করে
  • কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, পোর্ট সৈয়দ — প্রধান শহর
  • কৃষি, শিল্প (বস্ত্র, পশম, সিমেন্ট), নৌ পরিবহন, পর্যটন
  • 'মিশর নীলনদের দান' — হেরোডোটাস
4. আফ্রিকার বিভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলের বর্ণনা দাও। জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যে সম্পর্ক উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

আফ্রিকার জলবায়ু অঞ্চল ও স্বাভাবিক উদ্ভিদ:

১. নিরক্ষীয় জলবায়ু (Equatorial Climate):

অবস্থান: কঙ্গো অববাহিকা, গিনি উপকূল | বৈশিষ্ট্য: সারাবছর উষ্ণ (২৭°C) ও বৃষ্টি (২০০-২৫০ সেমি) | উদ্ভিদ: চিরহরিৎ ঘন অরণ্য — মেহগনি, রোজউড, এবনি, রবার, অর্কিড।

২. সাভানা জলবায়ু (Savanna Climate):

অবস্থান: নিরক্ষীয় বনের উত্তর ও দক্ষিণ | বৈশিষ্ট্য: গ্রীষ্মে বৃষ্টি (২৫-১৫০ সেমি), শীত শুষ্ক | উদ্ভিদ: লম্বা ঘাসের প্রান্তর, বিক্ষিপ্ত অ্যাকাসিয়া ও বাওবাব গাছ।

৩. মরু জলবায়ু (Desert Climate):

অবস্থান: সাহারা (উত্তর), কালাহারি ও নামিব (দক্ষিণ) | বৈশিষ্ট্য: প্রায় বৃষ্টিহীন, দিনে প্রচণ্ড গরম | উদ্ভিদ: ক্যাকটাস, কাঁটাগাছ, মরুদ্যানে খেজুর।

৪. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু (Mediterranean Climate):

অবস্থান: উত্তর-পশ্চিম (মরক্কো, আলজেরিয়া) ও দক্ষিণ-পশ্চিম (কেপটাউন) | বৈশিষ্ট্য: শীতকালে বৃষ্টি (৫০-১০০ সেমি), গ্রীষ্ম শুষ্ক | উদ্ভিদ: জলপাই, ওক, কর্ক, ডুমুর, কমলালেবু, আঙুর — পাতা মোমযুক্ত।

৫. নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি বা ভেল্ড (Veld):

অবস্থান: দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চভূমি | বৈশিষ্ট্য: শীতকাল বেশ ঠান্ডা, গ্রীষ্ম গরম — সামান্য বৃষ্টি | উদ্ভিদ: ছোট খসখসে সবুজ ঘাস — ভেড়া ও গবাদি পশু চারণভূমি।

সম্পর্ক: যেখানকার জলবায়ু যেরকম — তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপর ভিত্তি করেই সেখানকার স্বাভাবিক উদ্ভিদ নির্ধারিত হয়। বৃষ্টি বেশি ও উষ্ণ → ঘন বন; বৃষ্টি কম → ঘাস; বৃষ্টিহীন → মরুভূমি।

5. সাহারা মরুভূমির মানুষ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তনশীল চিত্র বর্ণনা করো। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে সাহারার চেহারা কেমন হতে পারে?

সাহারা: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

অতীতের সাহারা:

পাথরের ওপর প্রাচীন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবাশ্ম থেকে প্রমাণিত — সাহারা একসময় বৃষ্টিবহুল, গাছপালায় পরিপূর্ণ সবুজ অরণ্য ছিল। নদী ও হ্রদ ছিল। জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে ধীরে ধীরে তা শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন অঞ্চলে পরিণত হয়ে বর্তমান মরুভূমি সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানের সাহারা:

অতি শুষ্ক ও উষ্ণ — দিনে ৫৮°C, রাতে ৪°C। যাযাবর উট নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু আধুনিকতা ঢুকছে:

  • খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্প (লিবিয়া, আলজেরিয়া) → স্থায়ী শহর
  • পাকা রাস্তা, মোটরগাড়ি, বিমানবন্দর
  • ট্রাকে করে বাণিজ্য — ক্যারাভানের পরিবর্তন
  • মরুদ্যানের ধারে আধুনিক কৃষি
  • পর্যটন শিল্পের বিকাশ — সাফারি, মরুভূমি ভ্রমণ
ভবিষ্যতের সাহারা:

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দুটি সম্ভাবনা:

  1. মরুভূমির বিস্তার: আরও গরম → সাহারা আরও বিস্তৃত হতে পারে → আশপাশের বৃষ্টিবহুল অঞ্চল গ্রাস করতে পারে
  2. সবুজায়ন: উষ্ণতা বাড়লে বাষ্পীভবন বাড়ে → বৃষ্টিও বাড়তে পারে → এখনই সাহারায় বৃষ্টি ও সবুজ বাড়ছে

গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা: পৃথিবীর জলবায়ু সর্বদা পরিবর্তনশীল — সাহারা আবারও শস্য-শ্যামল অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

মনে রেখো!

আফ্রিকা: দ্বিতীয় বৃহত্তম | ৫৬ দেশ | সর্বোচ্চ: কিলিমাঞ্জারো ৫,৮৯৫ মি | সাহারা: বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি | আগ, হামাদা, ওয়াদি, মরুদ্যান | নীলনদ: ৬,৬৫০ কিমি | আসোয়ান বাঁধ | মিশর নীলনদের দান | গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি: পূর্ব আফ্রিকার গ্রস্ত উপত্যকা | সাভানা: তৃণভূমি — বাওবাব, অ্যাকাসিয়া | ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জাম্বেসি নদী

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - আফ্রিকা মহাদেশ

আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ (৫৬ দেশ, আয়তন ৩ কোটি বর্গকিমি+)। নিরক্ষরেখা, কর্কটক্রান্তি, মকরক্রান্তি ও মূলমধ্যরেখা — চারটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা আফ্রিকার উপর দিয়ে বিস্তৃত। সাহারা (পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্ণ মরুভূমি), নীলনদ (দীর্ঘতম নদী — ৬,৬৫০ কিমি), কঙ্গো বন (দ্বিতীয় বৃহত্তম রেইনফরেস্ট), গ্রেট রিফ্ট ভ্যালি (পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রস্ত উপত্যকা), কিলিমাঞ্জারো (৫,৮৯৫ মি — নিরক্ষরেখার কাছে বরফাবৃত) — আফ্রিকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অসাধারণ।

সাহারা অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক — দিনের তাপমাত্রা ৫৮°C, রাতে ৪°C। যাযাবররা (Nomads) উট, ঘোড়া, ছাগল নিয়ে জল ও খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। উটের দুধ ও মাংস প্রধান খাদ্য। দল বেঁধে বাণিজ্যকে 'ক্যারাভান' বলে। মরুদ্যানে (সিওয়া, কুফরা) খেজুর, ভুট্টা, জোয়ার চাষ হয়। বর্তমানে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পে যুক্ত হয়ে স্থায়ী শহরে বসবাস বাড়ছে। পাকা রাস্তা, ট্রাক, বিমানবন্দর আধুনিকতার ছোঁয়া দিচ্ছে।

গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস বলেছিলেন — 'মিশর নীলনদের দান'। মিশরের ৯৫% এলাকা সাহারা মরুভূমির অংশ। নীলনদ না থাকলে মিশর সম্পূর্ণ মরুভূমি হতো। নীলনদের কারণে: (১) বার্ষিক বন্যা পলিমাটি নিয়ে আসে → উর্বর কৃষিজমি, (২) আসোয়ান বাঁধ সেচ ও জলবিদ্যুৎ দেয়, (৩) নদীপথে পরিবহন, (৪) মিশরের ৮০% মানুষ নীলনদের তীরেই বাস করে। তুলা (বিশ্ববিখ্যাত মিশরীয় দীর্ঘ তন্তু), ধান, গম, আখ — সবই নীলনদের জল ও পলির ফসল।