Chapter 6: শিলা ও মাটি (Rocks and Soil)

আগ্নেয় শিলা, পাললিক শিলা, রূপান্তরিত শিলা, খনিজ পদার্থ, মাটি সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক, শিলা চক্র, মৃত্তিকা গঠন | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর

Sabina Yeasmin
Sabina Yeasmin
Uploaded: 27 April 2026 Last Update: 31 May 2026
Class 7 Geography Chapter 6 শিলা ও মাটি

Chapter 6: শিলা ও মাটি (Rocks and Soil)

সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও ব্যাখ্যা | 28 MCQ | 20 SAQ | 6 Broad Questions

আগ্নেয় শিলা পাললিক শিলা রূপান্তরিত শিলা খনিজ মাটি শিলা চক্র গ্রানাইট মার্বেল
🔥

আগ্নেয় শিলা

লাভা/ম্যাগমা থেকে | গ্রানাইট, ব্যাসল্ট

🪨

পাললিক শিলা

পলি স্তরে জমে | বেলেপাথর, চুনাপাথর

💎

রূপান্তরিত শিলা

তাপ ও চাপে | মার্বেল, স্লেট

🌱

মৃত্তিকা

শিলা ক্ষয় + জৈব পদার্থ | কৃষির ভিত্তি

তিন ধরনের শিলা - তুলনামূলক সারণি

শিলার প্রকারউৎপত্তিকঠিনতাস্তরউদাহরণ
আগ্নেয়ম্যাগমা/লাভা ঠান্ডা হয়েখুব কঠিনস্তর নেইগ্রানাইট, ব্যাসল্ট
পাললিকপলি-বালি স্তরে জমেনরমস্তরযুক্তবেলেপাথর, চুনাপাথর
রূপান্তরিততাপ ও চাপে পরিবর্তিতকঠিনসাধারণত নেইমার্বেল, স্লেট

MCQ - বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যাসহ)

28 টি
1. শিলা কী দ্বারা গঠিত?
ক) ক) শুধু মাটি
খ) খ) বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সমন্বয়ে
গ) গ) শুধু বালি
ঘ) ঘ) শুধু পানি
ব্যাখ্যা: শিলা (Rock) আসলে বিভিন্ন খনিজ পদার্থের (Minerals) সমন্বয়ে গঠিত একটি মৌলিক পদার্থ। খনিজ যেমন — কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার, মাইকা, ক্যালসাইট ইত্যাদি। পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ শিলা দ্বারা গঠিত। খাবার নুন, পেনসিলের সিস (গ্রাফাইট), ফিটকির — এগুলো বিভিন্ন খনিজ।
2. উৎপত্তি অনুসারে শিলা কত প্রকার?
ক) ক) দুই প্রকার
খ) খ) তিন প্রকার
গ) গ) চার প্রকার
ঘ) ঘ) পাঁচ প্রকার
ব্যাখ্যা: উৎপত্তি অনুসারে শিলা প্রধানত তিন প্রকার: (১) আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) — লাভা বা ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে সৃষ্টি, যেমন গ্রানাইট, ব্যাসল্ট। (২) পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) — স্তরে স্তরে জমা হয়ে, যেমন বেলেপাথর, চুনাপাথর। (৩) রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) — তাপ ও চাপে পরিবর্তিত, যেমন মার্বেল।
3. পৃথিবী যখন জ্বলন্ত আগুনের গোলা ছিল, তখন ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে যে শিলা তৈরি হয় তার নাম কী?
ক) ক) পাললিক শিলা
খ) খ) আগ্নেয় শিলা
গ) গ) রূপান্তরিত শিলা
ঘ) ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা: জন্মের সময় পৃথিবী ছিল একটি জ্বলন্ত আগুনের গোলা। পরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে যে শিলা তৈরি হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) বলে। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং কঠিনতম শিলা — সহজে ভাঙে না। যেমন — গ্রানাইট, ব্যাসল্ট।
4. গ্রানাইট কোন ধরনের শিলা?
ক) ক) পাললিক
খ) খ) আগ্নেয়
গ) গ) রূপান্তরিত
ঘ) ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা: গ্রানাইট (Granite) একটি আগ্নেয় শিলা। এটি অত্যন্ত কঠিন, সহজে ভাঙে না এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে। বাড়িঘর, রাস্তা, স্মৃতিসৌধ নির্মাণে গ্রানাইট ব্যবহৃত হয়। তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, রাজস্থানে গ্রানাইটের বড় খনি আছে।
5. পাললিক শিলা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে
খ) খ) তাপ ও চাপে
গ) গ) পলি, বালি, কাঁকর স্তরে জমে
ঘ) ঘ) ভূমিকম্পে
ব্যাখ্যা: আগ্নেয় শিলা বহু বছর ধরে নদী, বায়ু, বৃষ্টি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট নুড়ি, কাঁকর, বালিতে পরিণত হয়। এগুলো নদী বা বায়ু দ্বারা বাহিত হয়ে সমুদ্রের নীচে স্তরে স্তরে জমা হয়। বহু বছর পর সেই স্তর শক্ত হয়ে পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) তৈরি করে। যেমন — বেলেপাথর, চুনাপাথর।
6. বেলেপাথর ও চুনাপাথর কোন ধরনের শিলা?
ক) ক) আগ্নেয়
খ) খ) পাললিক
গ) গ) রূপান্তরিত
ঘ) ঘ) গ্রানাইট
ব্যাখ্যা: বেলেপাথর (Sandstone) ও চুনাপাথর (Limestone) উভয়ই পাললিক শিলা। পাললিক শিলা নরম, সহজে ভেঙে যায়। বেলেপাথর দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি হয়। চুনাপাথর সিমেন্ট ও ইস্পাত কারখানায় ব্যবহৃত হয়। কাদাপাথরও পাললিক শিলা।
7. রূপান্তরিত শিলা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
ক) ক) লাভা জমে
খ) খ) পলি জমে
গ) গ) আগ্নেয় ও পাললিক শিলা তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে
ঘ) ঘ) বাতাসে উড়ে
ব্যাখ্যা: আগ্নেয় ও পাললিক শিলা ভূ-গর্ভের তাপে ও ভূ-পৃষ্ঠের চাপে অনেক সময় বদলে গিয়ে রূপান্তরিত শিলায় (Metamorphic Rock) পরিণত হয়। এটি সহজে ভাঙে না এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে। বিখ্যাত তাজমহল রূপান্তরিত শিলা মার্বেল (Marble) দিয়ে তৈরি।
8. মার্বেল কী ধরনের শিলা?
ক) ক) আগ্নেয়
খ) খ) পাললিক
গ) গ) রূপান্তরিত
ঘ) ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা: মার্বেল (Marble) একটি রূপান্তরিত শিলা। চুনাপাথর (পাললিক শিলা) ভূগর্ভের তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেলে পরিণত হয়। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও মসৃণ — তাজমহল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মার্বেল দিয়ে তৈরি। এর খনি রাজস্থানের মাকরানায়।
9. সবচেয়ে কঠিন ও সহজে না ভাঙা শিলা কোনটি?
ক) ক) বেলেপাথর
খ) খ) চুনাপাথর
গ) গ) গ্রানাইট (আগ্নেয় শিলা)
ঘ) ঘ) কাদাপাথর
ব্যাখ্যা: আগ্নেয় শিলা (যেমন গ্রানাইট, ব্যাসল্ট) সবচেয়ে কঠিন এবং সহজে ভাঙে না। এই শিলা ক্ষয় প্রতিরোধ করে। অন্যদিকে পাললিক শিলা (বেলেপাথর, চুনাপাথর) নরম ও সহজে ভাঙে। রূপান্তরিত শিলাও (মার্বেল) কঠিন ও ক্ষয় প্রতিরোধী।
10. পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) খুব কঠিন ও সহজে ভাঙে না
খ) খ) নরম ও সহজে ভেঙে যায়
গ) গ) তাপে গলে যায়
ঘ) ঘ) পানিতে দ্রবীভূত হয়
ব্যাখ্যা: পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) নরম প্রকৃতির এবং সহজে ভেঙে যায়। যেমন — বেলেপাথর, কাদাপাথর, চুনাপাথর। এগুলো স্তরে স্তরে জমে তৈরি হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। বেলেপাথর দিয়ে ঘরবাড়ি, চুনাপাথর দিয়ে সিমেন্ট তৈরি হয়।
11. ব্যাসল্ট কোন ধরনের শিলা?
ক) ক) পাললিক
খ) খ) আগ্নেয়
গ) গ) রূপান্তরিত
ঘ) ঘ) চুনাপাথর
ব্যাখ্যা: ব্যাসল্ট (Basalt) একটি আগ্নেয় শিলা। অগ্ন্যুৎপাতের সময় গরম লাভা ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এসে ঠান্ডা হয়ে ব্যাসল্ট শিলা তৈরি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি ব্যাসল্ট শিলায় গঠিত — একে 'Deccan Traps' বলে। এটি গাঢ় রঙের, ভারী ও কঠিন শিলা।
12. চুনাপাথরের ব্যবহার কী?
ক) ক) অলংকার তৈরিতে
খ) খ) সিমেন্ট ও ইস্পাত কারখানায়
গ) গ) কাঁচ তৈরিতে
ঘ) ঘ) প্লাস্টিক তৈরিতে
ব্যাখ্যা: চুনাপাথর (Limestone) একটি গুরুত্বপূর্ণ পাললিক শিলা যা সিমেন্ট ও ইস্পাত কারখানায় প্রচুর ব্যবহৃত হয়। চুনাপাথর পুড়িয়ে চুন তৈরি হয় — যা নির্মাণকাজে লাগে। ব্লাস্ট ফার্নেসে লোহা গলাতে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশে এর খনি আছে।
13. খনিজ (Mineral) কাকে বলে?
ক) ক) শুধু পাথর
খ) খ) নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনের প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থ
গ) গ) গাছপালা
ঘ) ঘ) মাটি
ব্যাখ্যা: খনিজ (Mineral) হল নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনের প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থ। যেমন — খাবার নুন (হ্যালাইট), পেনসিলের সিস (গ্রাফাইট), ফিটকির, খাবার সোডা। বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সমন্বয়ে শিলা গঠিত। পৃথিবীতে প্রায় ৪০০০-এর বেশি খনিজ আবিষ্কৃত হয়েছে।
14. মাটি সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রকগুলো কী কী?
ক) ক) শুধু বৃষ্টি
খ) খ) শিলা, জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, জীবজগৎ
গ) গ) শুধু নদী
ঘ) ঘ) শুধু মানুষ
ব্যাখ্যা: মাটি সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রক: (১) শিলা — ভবিষ্যতের মাটির প্রকৃতি শিলার উপর নির্ভর করে, (২) জলবায়ু — উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে তাড়াতাড়ি মাটি তৈরি হয়, (৩) ভূপ্রকৃতি — ভূমির ঢাল কম হলে মাটি পুরু হয়, (৪) জীবজগৎ — পিঁপড়ে, কেঁচো মাটি আলগা করে, মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী পচে জৈব সার যোগায়।
15. কোন জলবায়ুতে তাড়াতাড়ি মাটি তৈরি হয়?
ক) ক) শীতল ও শুষ্ক
খ) খ) উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল
গ) গ) মেরু অঞ্চল
ঘ) ঘ) মরুভূমি
ব্যাখ্যা: উষ্ণ ও বৃষ্টিবহুল (আর্দ্র) জলবায়ুতে মাটি তৈরির প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়া ও জীবাণুর ক্রিয়া বেশি হয় → শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আবার শীতল ও শুষ্ক অঞ্চলে (মেরু, মরুভূমি) মাটি তৈরি হতে অনেক সময় লাগে এবং মাটির গভীরতা কম হয়।
16. ভূমির ঢাল মাটি তৈরিকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
ক) ক) ঢাল বেশি হলে মাটি পুরু হয়
খ) খ) ঢাল কম হলে ধীরে ধীরে মাটির স্তর তৈরি হয়
গ) গ) কোনো প্রভাব নেই
ঘ) ঘ) ঢাল বাড়লে মাটি উর্বর হয়
ব্যাখ্যা: ভূমির খাড়া ঢালে বৃষ্টির জলে মাটি ধুয়ে যায় — মাটি তৈরি ও জমার সুযোগ কম। আবার ভূমির ঢাল যেখানে কম (সমতল), সেখানে পলি ধীরে ধীরে জমা হয়ে মাটির পুরু স্তর তৈরি হতে পারে। তাই সমভূমি অঞ্চলে মাটি গভীর হয়।
17. মাটি তৈরিতে জীবজগতের ভূমিকা কী?
ক) ক) কোনো ভূমিকা নেই
খ) খ) পিঁপড়ে-কেঁচো মাটি আলগা করে, মৃত জীব পচে জৈব সার যোগায়
গ) গ) শুধু পাথর ভাঙে
ঘ) ঘ) শুধু বৃষ্টি ডেকে আনে
ব্যাখ্যা: জীবজগৎ মাটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়: (১) পিঁপড়ে, কেঁচো, ছুঁচো, সাপ — মাটিতে গর্ত করে আলগা করে, ফলে জল-বাতাস মাটিতে প্রবেশ করে, (২) মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী পচে জৈব পদার্থ (হিউমাস) যোগায় যা মাটিকে উর্বর করে, (৩) উদ্ভিদের শিকড় পাথর ফাটিয়ে মাটি তৈরি করে।
18. বেলেপাথর কী ধরনের শিলা ও এর ব্যবহার কী?
ক) ক) আগ্নেয় — মূর্তি তৈরিতে
খ) খ) পাললিক — ঘরবাড়ি তৈরিতে
গ) গ) রূপান্তরিত — অলংকারে
ঘ) ঘ) পাললিক — সিমেন্টে
ব্যাখ্যা: বেলেপাথর (Sandstone) একটি পাললিক শিলা। এটি নরম ও সহজে কাটা যায় বলে ঘরবাড়ি, প্রাসাদ, মন্দির নির্মাণে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লাল বেলেপাথর দিয়ে আগ্রা ফোর্ট, ফতেপুর সিক্রি তৈরি। রাজস্থানের যোধপুরে বেলেপাথরের বড় খনি আছে।
19. শিলা চক্র (Rock Cycle) কী?
ক) ক) শিলা বিক্রি
খ) খ) তিন ধরনের শিলা পরস্পর রূপান্তরিত হওয়ার চক্রাকার প্রক্রিয়া
গ) গ) পাথর তোলার চক্র
ঘ) ঘ) নদী চক্র
ব্যাখ্যা: শিলা চক্র (Rock Cycle): তিন ধরনের শিলা (আগ্নেয়, পাললিক, রূপান্তরিত) পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত এবং ক্রমাগত রূপান্তরিত হয়। আগ্নেয় শিলা → ক্ষয় → পাললিক শিলা → তাপ-চাপ → রূপান্তরিত → গলে → আবার আগ্নেয়। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া।
20. তাজমহল কোন শিলা দিয়ে তৈরি?
ক) ক) গ্রানাইট
খ) খ) বেলেপাথর
গ) গ) মার্বেল (রূপান্তরিত শিলা)
ঘ) ঘ) ব্যাসল্ট
ব্যাখ্যা: আগ্রার তাজমহল সম্পূর্ণভাবে সাদা মার্বেল (Marble) পাথর দিয়ে তৈরি। মার্বেল একটি রূপান্তরিত শিলা — চুনাপাথর তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেলে পরিণত হয়। রাজস্থানের মাকরানা থেকে এই মার্বেল আনা হয়েছিল।
21. কোন শিলা সবচেয়ে পুরনো?
ক) ক) পাললিক
খ) খ) রূপান্তরিত
গ) গ) আগ্নেয়
ঘ) ঘ) পলিমাটি
ব্যাখ্যা: আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা। জন্মের সময় পৃথিবী ছিল আগুনের গোলা — ঠান্ডা হয়ে প্রথম যে কঠিন ভূত্বক তৈরি হয় তা আগ্নেয় শিলা। পরবর্তীতে এর থেকেই ক্ষয় ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা সৃষ্টি হয়েছে।
22. সিমেন্ট কারখানায় কোন শিলা ব্যবহৃত হয়?
ক) ক) গ্রানাইট
খ) খ) চুনাপাথর
গ) গ) মার্বেল
ঘ) ঘ) বেলেপাথর
ব্যাখ্যা: চুনাপাথর (Limestone) সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল। চুনাপাথর পুড়িয়ে ও জিপসাম মিশিয়ে সিমেন্ট তৈরি হয়। ইস্পাত কারখানাতেও (ব্লাস্ট ফার্নেসে) লোহা নিষ্কাশনে চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে চুনাপাথরের বড় খনি আছে।
23. কোন অঞ্চলে মাটির গভীরতা বেশি হয়?
ক) ক) মরুভূমিতে
খ) খ) উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে
গ) গ) মেরু অঞ্চলে
ঘ) ঘ) পাহাড়ের চূড়ায়
ব্যাখ্যা: উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে (যেমন — ক্রান্তীয় অঞ্চল) রাসায়নিক ও জৈবিক ক্রিয়ার প্রাবল্যে শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং মাটি তৈরির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয় — ফলে মাটির গভীরতা বেশি হয়। অন্যদিকে শীতল মেরু ও শুষ্ক মরুভূমিতে মাটি তৈরির গতি ধীর — মাটি পাতলা ও অগভীর।
24. রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্য কী?
ক) ক) নরম ও সহজে ভাঙে
খ) খ) সহজে ভাঙে না ও ক্ষয় প্রতিরোধ করে
গ) গ) জলে গলে যায়
ঘ) ঘ) বাতাসে উড়ে যায়
ব্যাখ্যা: রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) সহজে ভাঙে না এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে। আগ্নেয় বা পাললিক শিলা ভূ-গর্ভের তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে আরও কঠিন ও টেকসই হয়। যেমন — মার্বেল (চুনাপাথর থেকে), স্লেট (কাদাপাথর থেকে)। এগুলো স্মৃতিসৌধ ও ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত হয়।
25. আগ্নেয় শিলার আরেক নাম কী?
ক) ক) স্তরিত শিলা
খ) খ) রূপান্তরিত শিলা
গ) গ) প্রাথমিক শিলা (Primary Rock)
ঘ) ঘ) পলল শিলা
ব্যাখ্যা: আগ্নেয় শিলাকে প্রাথমিক শিলা (Primary Rock) বলা হয় কারণ এটি পৃথিবীর প্রথম ও প্রাচীনতম শিলা। অন্যান্য সমস্ত শিলা (পাললিক, রূপান্তরিত) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আগ্নেয় শিলা থেকেই সৃষ্টি। একে 'আগ্নেয়' (Igneous) বলার কারণ — ল্যাটিন 'Ignis' = আগুন।
26. মৃত্তিকা বা মাটি (Soil) কীভাবে গঠিত হয়?
ক) ক) শুধু আগ্নেয়গিরি থেকে
খ) খ) শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ও জৈব পদার্থ মিশে
গ) গ) শুধু নদীর পানি থেকে
ঘ) ঘ) বাতাস জমে
ব্যাখ্যা: মৃত্তিকা বা মাটি (Soil) হল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে প্রাপ্ত খনিজ কণা এবং পচা জৈব পদার্থের (হিউমাস) মিশ্রণ। সূর্যের তাপ, বৃষ্টির আঘাত, বাতাসের ধাক্কা, নদীর স্রোতের দ্বারা শিলা ভেঙে ছোট কণায় পরিণত হয় এবং পরে জৈব পদার্থ মিশে মাটি তৈরি হয়। এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
27. পেনসিলের সিস কোন খনিজ থেকে তৈরি?
ক) ক) হ্যালাইট
খ) খ) গ্রাফাইট
গ) গ) ক্যালসাইট
ঘ) ঘ) কোয়ার্টজ
ব্যাখ্যা: পেনসিলের সিস আসলে গ্রাফাইট (Graphite) নামক খনিজ থেকে তৈরি হয় — এটি কার্বনের একটি রূপ। গ্রাফাইট নরম, কালো ও চকচকে খনিজ। খাবার নুন (হ্যালাইট — NaCl), ফিটকির, খাবার সোডা — এগুলোও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ।
28. পাললিক শিলার অপর নাম কী?
ক) ক) আগ্নেয় শিলা
খ) খ) স্তরীভূত শিলা (Stratified Rock)
গ) গ) রূপান্তরিত শিলা
ঘ) ঘ) প্রাথমিক শিলা
ব্যাখ্যা: পাললিক শিলা স্তরে স্তরে (স্তরীভূত হয়ে) জমে সৃষ্টি হয় বলে একে স্তরীভূত শিলা (Stratified Rock) বলা হয়। প্রতিটি স্তর একটি নির্দিষ্ট সময়ে জমা হয়েছিল। বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাদাপাথর — সবই স্তরীভূত। এই স্তরগুলোতে প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) পাওয়া যায়।

SAQ - সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পূর্ণ উত্তর)

20 টি
1. শিলা কাকে বলে? শিলা কী দ্বারা গঠিত?
শিলা (Rock): পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ শিলা দ্বারা গঠিত। বিভিন্ন খনিজ পদার্থের (Minerals) সমন্বয়ে গঠিত একটি মৌলিক পদার্থ হল শিলা। খনিজ যেমন — কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার, মাইকা, ক্যালসাইট, গ্রাফাইট, হ্যালাইট ইত্যাদি। নানা খনিজের নির্দিষ্ট অনুপাতের মিশ্রণেই শিলা গঠিত। পাথর, নুড়ি, কাঁকর — এর সবই শিলার বিভিন্ন রূপ।
2. খনিজ (Mineral) কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
খনিজ (Mineral): নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনের প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থকে খনিজ বলে। পৃথিবীতে ৪০০০-এর বেশি খনিজ আবিষ্কৃত হয়েছে। উদাহরণ: খাবার নুন (হ্যালাইট — NaCl), পেনসিলের সিস (গ্রাফাইট — কার্বন), ফিটকির (পটাশিয়াম অ্যালাম), খাবার সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বনেট), কোয়ার্টজ (সিলিকন ডাইঅক্সাইড), ক্যালসাইট (ক্যালসিয়াম কার্বনেট)। বিভিন্ন খনিজের সমন্বয়েই শিলা গঠিত।
3. আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য ও উদাহরণ দাও।
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock): পৃথিবীর জন্মের সময় এটি ছিল জ্বলন্ত আগুনের গোলা। পরে ধীরে ধীরে ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে যে শিলা তৈরি হয়, তাকে আগ্নেয় শিলা বলে। অগ্ন্যুৎপাতের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা লাভাও ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলা সৃষ্টি করে। বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত কঠিন, সহজে ভাঙে না, ক্ষয় প্রতিরোধী, প্রাচীনতম শিলা (Primary Rock)। উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট (Basalt), গ্যাব্রো, অবসিডিয়ান।
4. পাললিক শিলা (Sedimentary Rock) কীভাবে সৃষ্টি হয়? উদাহরণ দাও।
পাললিক শিলা সৃষ্টির প্রক্রিয়া: (১) আগ্নেয় ও অন্যান্য শিলা বহু বছর ধরে নদী, বায়ু, বৃষ্টি, হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছোট নুড়ি, কাঁকর, বালিতে পরিণত হয়। (২) এগুলো নদী বা বায়ু দ্বারা বাহিত হয়ে সমুদ্র বা হ্রদের নীচে স্তরে স্তরে জমা হয় (স্তরীভবন)। (৩) বহু বছর ধরে স্তরের উপর স্তর জমে প্রবল চাপে নীচের স্তরগুলো জমাট বেঁধে ও শক্ত হয়ে পাললিক শিলা সৃষ্টি করে। উদাহরণ: বেলেপাথর (Sandstone), চুনাপাথর (Limestone), কাদাপাথর (Shale), কংগ্লোমারেট।
5. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock) কী? উদাহরণ দাও।
রূপান্তরিত শিলা: আগ্নেয় ও পাললিক শিলা ভূ-গর্ভের তাপে ও ভূ-পৃষ্ঠের প্রবল চাপে অনেক সময় বদলে গিয়ে (রূপান্তরিত হয়ে) সম্পূর্ণ নতুন ধর্মের শিলায় পরিণত হয়। এই শিলা সহজে ভাঙে না এবং ক্ষয় প্রতিরোধ করে। উদাহরণ: চুনাপাথর (পাললিক) → মার্বেল (রূপান্তরিত) — তাজমহল তৈরি হয়েছে মার্বেল দিয়ে। কাদাপাথর → স্লেট, বেলেপাথর → কোয়ার্টজাইট, গ্রানাইট → নিস (Gneiss)।
6. শিলা চক্র (Rock Cycle) বলতে কী বোঝো?
শিলা চক্র (Rock Cycle): তিন ধরনের শিলা — আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত — পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত এবং চক্রাকার প্রক্রিয়ায় এক শিলা থেকে অন্য শিলায় রূপান্তরিত হয়। প্রক্রিয়া: আগ্নেয় শিলা → ক্ষয় ও সঞ্চয় → পাললিক শিলা → তাপ ও চাপ → রূপান্তরিত শিলা → অতি তাপে গলন → ম্যাগমা → ঠান্ডা হয়ে আবার আগ্নেয় শিলা। এই আবর্তন চলতেই থাকে। এটি বুঝতে সাহায্য করে শিলা কীভাবে সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।
7. মৃত্তিকা বা মাটি (Soil) কী? কীভাবে সৃষ্টি হয়?
মৃত্তিকা বা মাটি (Soil): শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে প্রাপ্ত খনিজ কণা এবং পচা জৈব পদার্থের (হিউমাস) মিশ্রণকে মাটি বলে। সৃষ্টি প্রক্রিয়া: (১) সূর্যের তাপ, বৃষ্টির আঘাত, বাতাসের ধাক্কা, নদীর স্রোত দ্বারা শিলা ভাঙতে থাকে → ছোট কণা (স্তরবিন্যাস/রেগোলিথ), (২) এই ক্ষয়িত কণার সাথে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা জৈব পদার্থ (হিউমাস) মিশে মাটি তৈরি হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ধীর — হাজার হাজার বছর লাগে।
8. মাটি সৃষ্টির প্রধান নিয়ন্ত্রকসমূহ কী কী?
মাটি সৃষ্টির চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রক: (১) শিলা (Parent Material): মূল শিলার প্রকৃতি ভবিষ্যতের মাটির বৈশিষ্ট্য (রঙ, খনিজ গঠন) নির্ধারণ করে। (২) জলবায়ু (Climate): উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে দ্রুত মাটি তৈরি, শীতল-শুষ্কে ধীর। (৩) ভূপ্রকৃতি (Topography): ঢাল কম হলে মাটি পুরু, খাড়া ঢালে মাটি ধুয়ে যায় — পাতলা। (৪) জীবজগৎ (Biosphere): পিঁপড়ে-কেঁচো মাটি আলগা করে, মৃত উদ্ভিদ-প্রাণী পচে হিউমাস (জৈব সার) যোগায়।
9. মাটি গঠনে জীবজগতের ভূমিকা কী?
মাটি গঠনে জীবজগতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: (১) পিঁপড়ে, কেঁচো, ছুঁচো, সাপ ইত্যাদি মাটিতে গর্ত করে — মাটি আলগা হয় ও ছিদ্রযুক্ত হয় → জল ও বাতাস মাটিতে সহজে প্রবেশ করে। (২) মৃত উদ্ভিদ (পাতা, ডাল, শিকড়) ও মৃত প্রাণী পচে জৈব পদার্থ (হিউমাস) তৈরি করে যা মাটিতে মেশে এবং উর্বরতা বাড়ায়। (৩) গাছের শিকড় পাথরের ফাটলে ঢুকে পাথর ভাঙতে সাহায্য করে (জৈব রাসায়নিক ক্ষয়)।
10. গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট শিলার ব্যবহার কী?
গ্রানাইট: অত্যন্ত কঠিন, টেকসই স্মৃতিসৌধ, মন্দির, বাড়ির মেঝে, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ, রাস্তার পাথর (কার্বস্টোন) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতের তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, রাজস্থানে গ্রানাইট খনি। ব্যাসল্ট: রাস্তা তৈরির গোড়ার স্তরে (ম্যাকাডাম), বাঁধ ও দেওয়াল নির্মাণে, পাথরের উল (Rock Wool) তৈরিতে (তাপ নিরোধক) ব্যবহৃত হয়। দাক্ষিণাত্যে ব্যাসল্টের বড় স্তর (Deccan Traps) আছে।
11. বেলেপাথর ও চুনাপাথরের ব্যবহার লেখো।
বেলেপাথর: নরম ও সহজে কাটা যায় বলে প্রাসাদ, মন্দির, পুরনো বাড়ি, সেতুর স্থাপত্যে বহুল ব্যবহৃত। লাল বেলেপাথর — আগ্রা ফোর্ট, ফতেপুর সিক্রি, দিল্লির লালকেল্লা। রাজস্থানের যোধপুরে বেলেপাথরের বড় খনি। চুনাপাথর: (১) সিমেন্ট শিল্পের প্রধান কাঁচামাল (পুড়িয়ে চুন + জিপসাম = সিমেন্ট), (২) ইস্পাত কারখানায় (ব্লাস্ট ফার্নেসে) লোহার আকরিক গলাতে, (৩) রাসায়নিক শিল্পে, (৪) বাড়ির রং/চুনকামে। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটকে বড় খনি।
12. মার্বেল শিলার বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার কী?
মার্বেল (Marble) একটি রূপান্তরিত শিলা — চুনাপাথর তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি। বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত মসৃণ, চকচকে, সহজে পালিশ করা যায়, বিভিন্ন রঙের (সাদা, গোলাপি, সবুজ) হয়ে থাকে। ব্যবহার: তাজমহল (আগ্রা), ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (কলকাতা), মন্দির-মসজিদ, ভাস্কর্য ও মূর্তি, বাড়ির মেঝে ও দেওয়ালের টাইলস। রাজস্থানের মাকরানা সেরা সাদা মার্বেলের জন্য বিখ্যাত।
13. উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে মাটির গভীরতা বেশি হয় কেন?
উষ্ণ ও আর্দ্র (বৃষ্টিবহুল) জলবায়ুতে মাটির গভীরতা বেশি হওয়ার কারণ: (১) উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিক বিক্রিয়া বেশি হয় → শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত, (২) প্রচুর বৃষ্টিপাত শিলাকে ভাঙতে ও ধুয়ে চলতে সাহায্য করে, (৩) জীবাণু ও অণুজীবের কার্যকারিতা বেশি — জৈব পদার্থ দ্রুত পচে, (৪) গাছপালা বেশি জন্মায় → মৃত উদ্ভিদ অংশ প্রচুর হিউমাস যোগায়। তাই ক্রান্তীয় বর্ষণ অরণ্যে মাটি অনেক গভীর (কখনো ২০-৩০ মিটার)।
14. আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
পার্থক্য: (১) উৎপত্তি: আগ্নেয় — লাভা/ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে; পাললিক — পলি, বালি স্তরে জমে; রূপান্তরিত — তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে। (২) কঠিনতা: আগ্নেয় ও রূপান্তরিত — কঠিন, সহজে ভাঙে না; পাললিক — নরম, সহজে ভাঙে। (৩) স্তর: পাললিক শিলায় স্তর (স্তরীভবন) দেখা যায় — আগ্নেয় ও রূপান্তরিতে সাধারণত নেই। (৪) উদাহরণ: আগ্নেয় — গ্রানাইট; পাললিক — বেলেপাথর; রূপান্তরিত — মার্বেল।
15. শিলা ও খনিজের মধ্যে সম্পর্ক কী?
খনিজ (Mineral) ও শিলা (Rock)-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: খনিজ হল নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠনের বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থ — যেমন কোয়ার্টজ, ফেল্ডস্পার। আর শিলা হল বিভিন্ন খনিজের মিশ্রণ (Aggregate)। যেমন গ্রানাইট শিলা কোয়ার্টজ + ফেল্ডস্পার + মাইকা খনিজের সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং: একাধিক খনিজ মিলে শিলা গঠিত হয়। পেনসিলের সিস আসলে গ্রাফাইট খনিজ — একটিমাত্র খনিজ। অন্যদিকে রেল লাইনের পাথর (ব্যাসল্ট) একটি শিলা — একাধিক খনিজের সমষ্টি।
16. শিলা ও মাটির মধ্যে সম্পর্ক কী?
শিলা ও মাটি (Soil) পরস্পরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত: মাটির সৃষ্টি হয় শিলা থেকেই। প্রক্রিয়া: (১) শিলা সূর্যের তাপ, বৃষ্টি, বাতাস, নদী, হিমবাহ দ্বারা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় → ছোট খনিজ কণা (রেগোলিথ), (২) এই কণার সাথে পচা উদ্ভিদ-প্রাণীর জৈব পদার্থ (হিউমাস) মিশে মাটি তৈরি হয়। অর্থাৎ শিলা হল মাটির 'মাতৃপদার্থ' (Parent Material)। যে ধরনের শিলা থেকে মাটি সৃষ্টি, মাটির রং ও খনিজ গুণাগুণ অনেকটা সেই শিলার উপর নির্ভর করে।
17. প্রাচীনতম শিলা কোনটি ও কেন?
আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock) পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলা। কারণ: পৃথিবীর জন্মের সময় এটি ছিল জ্বলন্ত গলিত আগুনের গোলা। ধীরে ধীরে উপরিভাগ শীতল ও শক্ত হয়ে প্রথম যে ভূত্বক তৈরি হয় তা-ই আগ্নেয় শিলা। পরবর্তীতে এই আগ্নেয় শিলা থেকেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পাললিক শিলা এবং তাপ-চাপে রূপান্তরিত শিলা সৃষ্টি হয়েছে। তাই আগ্নেয় শিলাকে 'প্রাথমিক শিলা' (Primary Rock) বলা হয়। পৃথিবীর প্রাচীনতম শিলার বয়স প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর।
18. ভারতের কোন অঞ্চলে কী কী শিলা পাওয়া যায়?
ভারত বিভিন্ন শিলায় সমৃদ্ধ: (১) গ্রানাইট (আগ্নেয়) — তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ। (২) ব্যাসল্ট (আগ্নেয়) — দাক্ষিণাত্য মালভূমি (মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট) — Deccan Traps। (৩) বেলেপাথর (পাললিক) — রাজস্থান (যোধপুর), মধ্যপ্রদেশ। (৪) চুনাপাথর (পাললিক) — মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু। (৫) মার্বেল (রূপান্তরিত) — রাজস্থানের মাকরানা, কিষণগড়। (৬) স্লেট (রূপান্তরিত) — রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ।
19. মাটি সংরক্ষণ কেন জরুরি?
মাটি সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি কারণ: (১) মাটি একটি অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ — ১ সেমি মাটি তৈরি হতে প্রায় ১০০-৪০০ বছর লাগে, (২) কৃষি উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি — মাটি ছাড়া খাদ্য উৎপাদন অসম্ভব, (৩) বনভূমি ও জীববৈচিত্র্যের ধারক, (৪) পানি পরিশোধন ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর রক্ষা করে। মাটির ক্ষয় (Soil Erosion) হলে খাদ্য সংকট, মরুকরণ, বন্যা ও পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
20. জলবায়ু কীভাবে মাটির গঠনকে প্রভাবিত করে?
জলবায়ু মাটি গঠনের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক: (১) উষ্ণতা: বেশি তাপমাত্রা → রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত → শিলা বেশি ক্ষয় → মাটি তাড়াতাড়ি তৈরি। (২) বৃষ্টিপাত: বেশি বৃষ্টি → শিলা ভাঙে ও খনিজ দ্রবীভূত হয়ে মাটিতে মেশে। (৩) শুষ্ক জলবায়ু: বৃষ্টি কম → রাসায়নিক ক্ষয় কম, শুধু ভৌত ক্ষয় → বালুকাময় মাটি, পাতলা। (৪) শীতল জলবায়ু: হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা → বরফ জমে পাথর ফাটে (Frost Action) → ধীরে মাটি সৃষ্টি।

Broad Questions - বড়ো প্রশ্নোত্তর (বিস্তারিত আলোচনা)

6 টি
1. উৎপত্তি অনুসারে শিলা কত প্রকার ও কী কী? প্রতিটি প্রকারের বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ ও ব্যবহার বিস্তারিত আলোচনা করো।

শিলার প্রকারভেদ (উৎপত্তি অনুসারে):

উৎপত্তি অনুসারে শিলা তিন প্রকার: আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত।

১. আগ্নেয় শিলা (Igneous Rock):
  • উৎপত্তি: ভূগর্ভের ম্যাগমা বা লাভা ঠান্ডা ও শক্ত হয়ে সৃষ্টি।
  • বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত কঠিন, সহজে ভাঙে না, প্রাচীনতম (প্রাথমিক শিলা), কোনো স্তর নেই।
  • উদাহরণ: গ্রানাইট, ব্যাসল্ট, গ্যাব্রো, অবসিডিয়ান।
  • ব্যবহার: গ্রানাইট — স্মৃতিসৌধ, মন্দির, মেঝে। ব্যাসল্ট — রাস্তা নির্মাণ।
২. পাললিক শিলা (Sedimentary Rock):
  • উৎপত্তি: পলি, বালি, কাঁকর স্তরে স্তরে জমা হয়ে শক্ত হয়ে।
  • বৈশিষ্ট্য: নরম, সহজে ভাঙে, স্তরযুক্ত (স্তরীভূত), এতে জীবাশ্ম পাওয়া যায়।
  • উদাহরণ: বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাদাপাথর।
  • ব্যবহার: বেলেপাথর — বাড়িঘর, প্রাসাদ। চুনাপাথর — সিমেন্ট, ইস্পাত।
৩. রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rock):
  • উৎপত্তি: আগ্নেয়/পাললিক শিলা তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে।
  • বৈশিষ্ট্য: কঠিন, সহজে ভাঙে না, ক্ষয় প্রতিরোধী, চকচকে।
  • উদাহরণ: মার্বেল (চুনাপাথর থেকে), স্লেট (কাদাপাথর থেকে), কোয়ার্টজাইট।
  • ব্যবহার: মার্বেল — তাজমহল। স্লেট — ছাদের টালি।
2. শিলা চক্র (Rock Cycle) কী? এটি কীভাবে কাজ করে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা কীভাবে পরস্পর সম্পর্কিত?

শিলা চক্র (Rock Cycle)

শিলা চক্র হল সেই চক্রাকার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক প্রকার শিলা থেকে অন্য প্রকার শিলায় রূপান্তর ঘটে। তিন ধরনের শিলা — আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত — পরস্পর সম্পর্কিত এবং ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়।

শিলা চক্রের ধাপসমূহ:

  1. আগ্নেয় শিলা → পাললিক শিলা: আগ্নেয় শিলা সূর্যের তাপ, বৃষ্টি, বাতাস, নদী দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত → পলি/বালি স্তরে জমে → পাললিক শিলা।
  2. পাললিক শিলা → রূপান্তরিত শিলা: পাললিক শিলা ভূগর্ভের তাপ ও প্রচণ্ড চাপে রূপান্তরিত → রূপান্তরিত শিলা। যেমন — চুনাপাথর → মার্বেল।
  3. রূপান্তরিত শিলা → আবার আগ্নেয়: রূপান্তরিত শিলা অতি তাপে গলে → ম্যাগমা → ঠান্ডা হয়ে আবার আগ্নেয় শিলা।
  4. সরাসরি: আগ্নেয় → তাপ-চাপ → রূপান্তরিত। রূপান্তরিত → ক্ষয় → পাললিক।

এইভাবে চক্রটি অবিরাম চলতে থাকে — কোনো শিলাই স্থায়ী নয়, সময়ের সাথে সাথে সব শিলাই পরিবর্তিত হয়।

3. মাটি কীভাবে সৃষ্টি হয়? মাটি গঠনের নিয়ন্ত্রকসমূহ (শিলা, জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, জীবজগৎ) কীভাবে কাজ করে তা বিস্তারিত আলোচনা করো।

মাটি সৃষ্টির প্রক্রিয়া (Soil Formation/Paedogenesis)

মাটি সৃষ্টি একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া — ১ সেমি মাটি তৈরি হতে ১০০-৪০০ বছর লাগে।

  1. সূর্যের তাপ, বৃষ্টির আঘাত, বাতাসের ধাক্কা, নদীর স্রোত দ্বারা শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
  2. চূর্ণিত শিলাকণা (রেগোলিথ) এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরে গিয়ে স্তরীভূত হয়।
  3. এর সাথে মৃত উদ্ভিদ-প্রাণীর পচা জৈব পদার্থ (হিউমাস) মেশে → মাটি তৈরি।

মাটি গঠনের চারটি নিয়ন্ত্রক:

নিয়ন্ত্রকভূমিকা
শিলামাটির মাতৃপদার্থ — মাটির রঙ, খনিজ গঠন নির্ধারণ করে। গ্রানাইট থেকে বেলে-দোঁয়াশ, ব্যাসল্ট থেকে কালো মাটি।
জলবায়ুউষ্ণ-আর্দ্র → দ্রুত মাটি সৃষ্টি; শুষ্ক-শীতল → ধীর। বৃষ্টিপাত ও তাপ রাসায়নিক/ভৌত ক্ষয় ঘটায়।
ভূপ্রকৃতিঢাল কম → পুরু মাটি; খাড়া ঢাল → মাটি ধুয়ে যায়, পাতলা। সমভূমিতে গভীর মাটি।
জীবজগৎকেঁচো-পিঁপড়ে মাটি আলগা করে; মৃত জীব পচে হিউমাস যোগায়; শিকড় পাথর ভাঙে।
4. পাললিক শিলা কীভাবে সৃষ্টি হয়? এর বৈশিষ্ট্য, উদাহরণ ও ব্যবহার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করো। কেন পাললিক শিলাতে জীবাশ্ম পাওয়া যায়?

পাললিক শিলা সৃষ্টির প্রক্রিয়া:

  1. ক্ষয় (Erosion): আগ্নেয় ও অন্যান্য শিলা নদী, বায়ু, বৃষ্টি, হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত → নুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি কণা।
  2. বহন (Transportation): নদী ও বায়ুপ্রবাহ এই কণাগুলোকে বয়ে নিয়ে যায় — সাধারণত সমুদ্র বা হ্রদের দিকে।
  3. সঞ্চয় (Deposition): সমুদ্র বা হ্রদের তলায় স্তরে স্তরে জমা হয় (স্তরীভবন — Stratification)।
  4. কঠিনীভবন (Lithification): বছরের পর বছর উপরের স্তরের চাপে নীচের স্তর জমাট বেঁধে শক্ত হয় → পাললিক শিলা।
কেন পাললিক শিলায় জীবাশ্ম পাওয়া যায়?

পাললিক শিলা স্তরে স্তরে জমার সময় সমুদ্র বা হ্রদে মৃত প্রাণী বা উদ্ভিদ পলির মধ্যে চাপা পড়ে যায়। তাপ ও চাপে পলি যখন শিলায় পরিণত হয়, তখন সেই চাপা পড়া জীবদেহ পাথরের মধ্যে ছাপ ফেলে বা রাসায়নিকভাবে সংরক্ষিত হয় — একেই জীবাশ্ম (Fossil) বলে। আগ্নেয় শিলা আগুনের তাপে গঠিত হয় বলে তাতে জীবাশ্ম পাওয়া যায় না।

5. আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলার মধ্যে পার্থক্য টেবিল আকারে লেখো। প্রত্যেকের ভারতীয় উদাহরণ দাও। ভারতের কোন অঞ্চলে কোন শিলা পাওয়া যায়?

আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পার্থক্য:

বিষয়আগ্নেয় শিলাপাললিক শিলা
উৎপত্তিম্যাগমা/লাভা ঠান্ডা হয়েপলি, বালি স্তরে জমে
কঠিনতাঅত্যন্ত কঠিননরম, সহজে ভাঙে
স্তরস্তর নেইস্তরযুক্ত (স্তরীভূত)
জীবাশ্মপাওয়া যায় নাপাওয়া যায়
বয়সপ্রাচীনতম (প্রাথমিক)তুলনামূলক নবীন
ভারতীয় উদাহরণগ্রানাইট (তামিলনাড়ু), ব্যাসল্ট (দাক্ষিণাত্য)বেলেপাথর (রাজস্থান), চুনাপাথর (মধ্যপ্রদেশ)

ভারতে শিলার বণ্টন:

  • গ্রানাইট: কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান
  • ব্যাসল্ট (Deccan Traps): মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ
  • বেলেপাথর: রাজস্থান (যোধপুর), মধ্যপ্রদেশ
  • চুনাপাথর: মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ
  • মার্বেল: রাজস্থান (মাকরানা, কিষণগড়)
6. মাটি সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো? মাটি ক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করো। 'মাটি একটি অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ' — ব্যাখ্যা করো।

মাটি সংরক্ষণ (Soil Conservation)

মাটিকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে তার উর্বরতা ও গুণগত মান বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে মাটি সংরক্ষণ বলে।

মাটি ক্ষয়ের কারণ:

  1. জলক্ষয়: প্রবল বৃষ্টিতে মাটির উপরিভাগ ধুয়ে যায়।
  2. বায়ুক্ষয়: শুষ্ক অঞ্চলে বাতাসে মাটির কণা উড়ে যায়।
  3. বনভূমি ধ্বংস: গাছ কাটায় শিকড়ের বাঁধন নেই → মাটি ক্ষয়।
  4. অতিরিক্ত পশুচারণ: ঘাস খেয়ে মাটি খালি → ক্ষয়।
  5. অনুন্নত কৃষি পদ্ধতি: ঢালু জমিতে চাষ, অতিরিক্ত সার।

প্রতিকার:

  • বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজন
  • ধাপ চাষ (Terrace Farming) — ঢালু জমিতে
  • সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Ploughing)
  • বাঁধ নির্মাণ ও খাল খনন
  • সীমিত পশুচারণ

কেন অ-নবীকরণযোগ্য?

মাটি সৃষ্টি একটি অত্যন্ত ধীর প্রক্রিয়া — মাত্র ১ সেমি মাটি তৈরি হতে ১০০-৪০০ বছর লাগে। কিন্তু মানুষের কার্যকলাপে প্রতি বছর হাজার হাজার টন মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। যে হারে মাটি তৈরি হচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। তাই বাস্তবিক অর্থে মানুষের জীবনকালের পরিপ্রেক্ষিতে মাটি অ-নবীকরণযোগ্য সম্পদ (Non-renewable Resource)।

মনে রেখো!

শিলা ৩ প্রকার: আগ্নেয় (গ্রানাইট), পাললিক (চুনাপাথর), রূপান্তরিত (মার্বেল) | খনিজ: প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থ (গ্রাফাইট, হ্যালাইট) | শিলা চক্র: আগ্নেয় → ক্ষয় → পাললিক → তাপ-চাপ → রূপান্তরিত → গলন → আবার আগ্নেয় | মাটি সৃষ্টির ৪টি নিয়ন্ত্রক: শিলা, জলবায়ু, ভূপ্রকৃতি, জীবজগৎ | তাজমহল: মার্বেল (রূপান্তরিত) | ১ সেমি মাটি: ১০০-৪০০ বছর

PDF ডাউনলোড

সম্পূর্ণ অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর PDF আকারে ডাউনলোড করো।

PDF ডাউনলোড (শীঘ্রই)
Sponsored Links

Frequently Asked Questions - শিলা ও মাটি

শিলা (Rock) হল বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত একটি মৌলিক পদার্থ যা পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণ গঠন করে। উৎপত্তি অনুসারে শিলা তিন প্রকার: (১) আগ্নেয় শিলা — ম্যাগমা/লাভা ঠান্ডা হয়ে (গ্রানাইট, ব্যাসল্ট), (২) পাললিক শিলা — পলি-বালি স্তরে জমে (বেলেপাথর, চুনাপাথর), (৩) রূপান্তরিত শিলা — তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে (মার্বেল, স্লেট)।

শিলা চক্র হল এক প্রকার শিলা থেকে অন্য প্রকার শিলায় রূপান্তরের চক্রাকার প্রক্রিয়া। আগ্নেয় শিলা → ক্ষয় ও সঞ্চয় → পাললিক শিলা → তাপ ও চাপ → রূপান্তরিত শিলা → প্রচণ্ড তাপে গলন → ম্যাগমা → ঠান্ডা হয়ে আবার আগ্নেয় শিলা। এভাবে শিলার প্রকারভেদ ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে — কোনো শিলাই স্থায়ী নয়।

মাটি সৃষ্টি হয় শিলা থেকে: সূর্যের তাপ, বৃষ্টি, বাতাস, নদী দ্বারা শিলা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় → ক্ষুদ্র খনিজ কণা + পচা উদ্ভিদ-প্রাণীর জৈব পদার্থ (হিউমাস) মিশে মাটি তৈরি। চারটি প্রধান নিয়ন্ত্রক: (১) শিলা (মাতৃপদার্থ), (২) জলবায়ু (উষ্ণ-আর্দ্রে দ্রুত), (৩) ভূপ্রকৃতি (ঢাল কম হলে পুরু মাটি), (৪) জীবজগৎ (কেঁচো-পিঁপড়ে মাটি আলগা করে, মৃত জীব হিউমাস যোগায়)।

তাজমহল সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল (Marble) পাথর দিয়ে তৈরি। মার্বেল একটি রূপান্তরিত শিলা — চুনাপাথর (পাললিক শিলা) ভূগর্ভের তাপ ও চাপে রূপান্তরিত হয়ে মার্বেলে পরিণত হয়। তাজমহলের মার্বেল আনা হয়েছিল রাজস্থানের মাকরানা থেকে। এছাড়া ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (কলকাতা) ও অনেক মন্দির-মসজিদ মার্বেল দিয়ে তৈরি।