আলো (অধ্যায় ৫ : Light) — সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও অনুশীলনী সমাধান

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায় 'আলো' (Light - সর্বোচ্চ ১২ নম্বর)-এর অনুশীলনীর সম্পূর্ণ সমাধান, ৬০টি MCQ, ৪৫টি এক কথায় উত্তর (VSAQ), ২৫টি ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ১৬টি ৩ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও গাণিতিক সমাধান।

Sk Rejoyanul Kerim
Sk Rejoyanul Kerim
Uploaded: 18 October 2026 Last Update: 18 October 2026

এক নজরে ‘আলো’ (Light) — সমস্ত সূত্র, প্রতিবিম্বের ছক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য সারণি

12 Marks Master Notes

১. আলোর সমস্ত গাণিতিক সূত্রাবলি:

  • গোলীয় দর্পণ: r = 2f বা f = r / 2
  • স্নেলের সূত্র ও প্রতিসরাঙ্ক: μ = sin i / sin r = c / v
  • কৌণিক চ্যুতি: লঘু → ঘন: δ = i - r | ঘন → লঘু: δ = r - i
  • প্রিজমের চ্যুতিকোণ: δ = i₁ + i₂ - A (যেখানে A = r₁ + r₂)
  • রৈখিক বিবর্ধন (m): m = প্রতিবিম্বের উচ্চতা (I_h) / বস্তুর উচ্চতা (O_h) = v / u
  • তরঙ্গ ও বিক্ষেপণ: c = nλ | কচির সূত্র: μ = A + B/λ² | র‍্যালের সূত্র: I ∝ 1/λ⁴

২. পাঠ্যবইয়ের স্তম্ভ মেলানো সমাধান [অনুশীলনী B.II]:

বামস্তম্ভডানস্তম্ভ (সঠিক উত্তর)
(i) উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব(e) অসদ, সমশীর্ষ (ও ছোটো)
(ii) দন্ত চিকিৎসকের দর্পণের প্রকৃতি(d) অবতল দর্পণ
(iii) পাতলা প্রিজমের প্রতিসারক কোণের মান(a) সাধারণত 10°-এর কম
(iv) মানুষের চোখে প্রতিবিম্ব উৎপন্ন হয়(b) চোখের রেটিনায়
(v) বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি (আকাশের বর্ণে)(c) নীল আলো (বা বেগুনি)

৩. উত্তল লেন্সে বিভিন্ন অবস্থানে প্রতিবিম্বের প্রকৃতি ও ব্যবহার:

বস্তুর অবস্থানপ্রতিবিম্বের অবস্থান ও প্রকৃতিব্যবহার
১. অসীম দূরত্বেফোকাসে (F₂); সদ, অবশীর্ষ ও বিন্দু আকারসৌরচুল্লি / আতশ কাচ
২. 2f-এর বেশি দূরেF₂ ও 2F₂-এর মাঝে; সদ, অবশীর্ষ ও ছোটোক্যামেরা ও মানুষের চোখ
৩. 2f দূরত্বে (2F₁-এ)2F₂-তে; সদ, অবশীর্ষ ও বস্তুর সমানটেরেস্ট্রিয়াল দূরবীক্ষণ
৪. f ও 2f-এর মাঝে2F₂-এর বাইরে; সদ, অবশীর্ষ ও বিবর্ধিতসিনেমার প্রজেক্টর
৫. ফোকাসে (F₁-এ)অসীমে; সদ, অবশীর্ষ ও অত্যন্ত বিবর্ধিতসার্চলাইট
৬. F₁ ও O-এর মাঝে (< f)বস্তুর পেছনে; অসদ, সমশীর্ষ ও বিবর্ধিতবিবর্ধক কাচ (Magnifier)

৪. দৃশ্যমান আলোর ৭টি বর্ণের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য সারণি:

বর্ণ (VIBGYOR)কম্পাঙ্ক (10¹⁴ Hz)তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Å এককে, 1Å = 10⁻¹⁰ m)
১. বেগুনি (Violet)6.73 – 7.6 (সর্বোচ্চ)3800 – 4460 Å (সর্বনিম্ন)
২. নীল (Indigo)6.47 – 6.734460 – 4640 Å
৩. আকাশি (Blue)6.01 – 6.474640 – 5000 Å
৪. সবুজ (Green)5.19 – 6.015000 – 5780 Å
৫. হলুদ (Yellow)5.07 – 5.195780 – 5920 Å
৬. কমলা (Orange)4.84 – 5.075920 – 6200 Å
৭. লাল (Red)3.75 – 4.84 (সর্বনিম্ন)6200 – 7800 Å (সর্বোচ্চ)

বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (60+ MCQs with Answers)

প্রতিটি প্রশ্নের মান ১

1. চকচকে স্টিলের বাটির ভিতরের পৃষ্ঠ আচরণ করে—

অনুশীলনী A.1
(a) অবতল দর্পণের মতো
(b) উত্তল দর্পণের মতো
(c) সমতল দর্পণের মতো
(d) উত্তল লেন্সের মতো
✓ উত্তর: (a) অবতল দর্পণের মতো

2. আলোকের প্রতিফলনে আপতন কোণ 'i' ও প্রতিফলন কোণ 'r'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল—

অনুশীলনী A.2
(a) i < r
(b) r < i
(c) i = r
(d) i + r = 90°
✓ উত্তর: (c) i = r

3. গোলীয় দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ 'r' এবং ফোকাস দৈর্ঘ্য 'f'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল—

অনুশীলনী A.3 • মাধ্যমিক
(a) f = 2r
(b) r = 2f
(c) r = f
(d) r = 3f
✓ উত্তর: (b) r = 2f (বা f = r/2)

4. গাড়িতে ব্যবহৃত রিয়ার ভিউ মিররটি (Rear View Mirror) হল একটি—

অনুশীলনী A.4 • মাধ্যমিক
(a) সমতল দর্পণ
(b) অবতল দর্পণ
(c) অবতল লেন্স
(d) উত্তল দর্পণ
✓ উত্তর: (d) উত্তল দর্পণ

5. আলোকের প্রতিসরণে আপতন কোণ 'i' এবং প্রতিসরণ কোণ 'r'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল (স্নেলের সূত্র)—

অনুশীলনী A.5 • মাধ্যমিক
(a) sin i / sin r = ধ্রুবক
(b) sin i × sin r = ধ্রুবক
(c) i / r = ধ্রুবক
(d) sin i = ধ্রুবক
✓ উত্তর: (a) sin i / sin r = ধ্রুবক (μ)

6. আলোকের প্রতিসরণে যে বর্ণের চ্যুতি সবচেয়ে বেশি হয়, সেটি হল—

অনুশীলনী A.6 • মাধ্যমিক
(a) হলুদ
(b) সবুজ
(c) লাল
(d) বেগুনি
✓ উত্তর: (d) বেগুনি (এবং লাল বর্ণের চ্যুতি সবচেয়ে কম)

7. পাতলা লেন্সের আলোককেন্দ্রের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি গেলে—

অনুশীলনী A.7
(a) আলোকরশ্মির পার্শ্বসরণ হয়
(b) আলোকরশ্মির চ্যুতি হয়
(c) আলোকরশ্মি সোজা পথে যায়
(d) আলোকরশ্মি লেন্স থেকে নির্গত হয় না
✓ উত্তর: (c) আলোকরশ্মি সোজা পথে যায় (কোনো চ্যুতি বা সরণ হয় না)

8. সাধারণত উত্তল লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের পরে সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ—

অনুশীলনী A.8
(a) অপসারী হয়
(b) অভিসারী হয়
(c) সমান্তরাল হয়
(d) সোজা পথে যায়
✓ উত্তর: (b) অভিসারী হয়

9. ক্যামেরায় প্রতিবিম্ব গঠন করতে উত্তল লেন্সের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান হবে—

অনুশীলনী A.9
(a) 2f-এর চেয়ে দূরে
(b) F-এ
(c) f এবং 2f-এর মধ্যে
(d) F এবং O-এর মধ্যে
✓ উত্তর: (a) 2f-এর চেয়ে দূরে

10. সিনেমার পর্দায় উৎপন্ন প্রতিবিম্বটি হল—

অনুশীলনী A.10
(a) অসদবিম্ব ও অবশীর্ষ
(b) অসদবিম্ব ও সমশীর্ষ
(c) সদবিম্ব ও অবশীর্ষ
(d) সদবিম্ব ও সমশীর্ষ
✓ উত্তর: (c) সদবিম্ব ও অবশীর্ষ (এবং বিবর্ধিত)

11. একটি উত্তল লেন্স বিবর্ধক কাচরূপে (Magnifying Glass) আচরণ করে যখন বস্তুটিকে রাখা হয় লেন্সের সাপেক্ষে—

অনুশীলনী A.11 • মাধ্যমিক
(a) F-এ
(b) 2f-এ
(c) f এবং 2f-এর মাঝে
(d) F এবং O-এর মাঝে (ফোকাস দূরত্বের মধ্যে)
✓ উত্তর: (d) F এবং O-এর মাঝে (ফোকাস দূরত্বের মধ্যে)

12. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) ত্রুটি দূর করতে চশমায় ব্যবহার করা হয়—

অনুশীলনী A.12 • মাধ্যমিক
(a) উত্তল লেন্স
(b) অবতল লেন্স
(c) সমতল দর্পণ
(d) অবতল দর্পণ
✓ উত্তর: (b) অবতল লেন্স

13. মানুষের চোখের যে অংশে প্রতিবিম্ব উৎপন্ন হয়, সেটি হল—

অনুশীলনী A.13 • মাধ্যমিক
(a) অক্ষিগোলক
(b) অক্ষিলেন্স
(c) অন্ধবিন্দু
(d) রেটিনা
✓ উত্তর: (d) রেটিনা (অক্ষিপট)

14. যে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি (এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম), সেটি হল—

অনুশীলনী A.14 • মাধ্যমিক
(a) X-রশ্মি
(b) অতিবেগুনি রশ্মি
(c) γ-রশ্মি (গামা রশ্মি)
(d) বেতার তরঙ্গ
✓ উত্তর: (c) γ-রশ্মি (গামা রশ্মি)

15. দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ (r) এবং ফোকাস দৈর্ঘ্যের (f) মধ্যে সম্পর্কটি কী?

অনুশীলনী A.15
(a) f = 2r
(b) f = r / 2
(c) f = r / 3
(d) f = 3r / 2
✓ উত্তর: (b) f = r / 2

16. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর প্রতিসরণের ক্ষেত্রে যে বর্ণের বিচ্যুতি সর্বাধিক সেটি কোনটি?

অনুশীলনী A.16
(a) লাল
(b) হলুদ
(c) বেগুনি
(d) সবুজ
✓ উত্তর: (c) বেগুনি

17. চকচকে স্টিলের চামচের বাইরের উত্তল পৃষ্ঠটি কীরূপ দর্পণের মতো আচরণ করে?

পাঠ্যপুস্তক
(a) অবতল দর্পণ
(b) উত্তল দর্পণ
(c) সমতল দর্পণ
(d) অধিবৃত্তাকার দর্পণ
✓ উত্তর: (b) উত্তল দর্পণ

18. কোনো গোলীয় দর্পণের প্রতিফলক তলের মধ্যবিন্দুকে কী বলা হয়?

পাঠ্যপুস্তক
(a) বক্রতা কেন্দ্র
(b) মেরু (Pole)
(c) ফোকাস
(d) আলোককেন্দ্র
✓ উত্তর: (b) মেরু (Pole)

19. অবতল দর্পণের বক্রতা কেন্দ্র (C) দিয়ে গমনকারী আলোকরশ্মি দর্পণে আপতিত হলে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান কত হয়?

মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ
(a) 90°
(b) 45°
(c) 0°
(d) 180°
✓ উত্তর: (c) 0° (লম্ব আপতন হওয়ায় রশ্মিটি একই পথে ফিরে যায়)

20. একটি গোলীয় দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ 30 cm হলে তার ফোকাস দূরত্ব কত হবে?

মাধ্যমিক গাণিতিক
(a) 60 cm
(b) 15 cm
(c) 30 cm
(d) 10 cm
✓ উত্তর: (b) 15 cm [যেহেতু f = r/2 = 30/2 = 15 cm]

21. কোন দর্পণ সর্বদা যে-কোনো অবস্থানে থাকা বস্তুর অসদ, সমশীর্ষ ও আকারে ছোটো (খর্বাকার) প্রতিবিম্ব গঠন করে?

মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ
(a) সমতল দর্পণ
(b) অবতল দর্পণ
(c) উত্তল দর্পণ
(d) অধিবৃত্তীয় দর্পণ
✓ উত্তর: (c) উত্তল দর্পণ

22. দাঁতের চিকিৎসায় (Dentist's Mirror) এবং দাড়ি কামানোর দর্পণ (Shaving Mirror) হিসেবে কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) উত্তল দর্পণ
(b) অবতল দর্পণ
(c) সমতল দর্পণ
(d) উত্তল লেন্স
✓ উত্তর: (b) অবতল দর্পণ

23. মোটরগাড়ির হেডলাইটে ও টর্চলাইটে প্রতিফলক হিসেবে কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) সমতল দর্পণ
(b) উত্তল দর্পণ
(c) অবতল দর্পণ (বা অধিবৃত্তাকার অবতল দর্পণ)
(d) অবতল লেন্স
✓ উত্তর: (c) অবতল দর্পণ (বা অধিবৃত্তাকার অবতল দর্পণ)

24. আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করলে চ্যুতিকোণ (δ)-এর মান কত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) δ = i + r
(b) δ = i - r
(c) δ = r - i
(d) δ = 0°
✓ উত্তর: (b) δ = i - r (যেহেতু প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে, তাই i > r)

25. আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রতিসৃত হলে চ্যুতিকোণ (δ)-এর মান কত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) δ = i - r
(b) δ = r - i
(c) δ = i + r
(d) δ = 90°
✓ উত্তর: (b) δ = r - i (যেহেতু প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়, তাই r > i)

26. দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আলোকরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে (i = 0°) চ্যুতিকোণের মান কত হয়?

মাধ্যমিক
(a) 90°
(b) 45°
(c) 0° (শূন্য)
(d) 180°
✓ উত্তর: (c) 0° (শূন্য — রশ্মির কোনো দিক পরিবর্তন হয় না)

27. কোন ক্ষেত্রে আলোর প্রতিসরণে স্নেলের সূত্র (sin i / sin r = μ) প্রযোজ্য হয় না?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) লম্ব আপতনের ক্ষেত্রে (যখন i = 0°, r = 0°)
(b) 45° কোণে আপতনের ক্ষেত্রে
(c) ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণে
(d) কাচ মাধ্যমে প্রতিসরণে
✓ উত্তর: (a) লম্ব আপতনের ক্ষেত্রে (যখন i = 0°, r = 0°)

28. একটি সাধারণ ত্রিভুজাকৃতি প্রিজমের কয়টি তল থাকে? (আয়তাকার ও ত্রিভুজাকার তল মিলিয়ে)

পাঠ্যপুস্তক
(a) 3টি
(b) 4টি
(c) 5টি (3টি আয়তাকার ও 2টি ত্রিভুজাকার)
(d) 6টি
✓ উত্তর: (c) 5টি (3টি আয়তাকার ও 2টি ত্রিভুজাকার)

29. সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবের (আয়তাকার কাচফলক) মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণে মোট চ্যুতিকোণ কত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) 0° (আপতিত ও নির্গত রশ্মি সমান্তরাল হওয়ায় কেবল পার্শ্বসরণ ঘটে)
(b) 90°
(c) 45°
(d) 180°
✓ উত্তর: (a) 0° (আপতিত ও নির্গত রশ্মি সমান্তরাল হওয়ায় কেবল পার্শ্বসরণ ঘটে)

30. প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণে চ্যুতিকোণের (δ) রাশিমালা কোনটি?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) δ = i₁ + i₂ + A
(b) δ = i₁ + i₂ - A
(c) δ = i₁ - i₂ + A
(d) δ = A - (i₁ + i₂)
✓ উত্তর: (b) δ = i₁ + i₂ - A (যেখানে A =r₁ + r₂ হল প্রিজমের প্রতিসারক কোণ)

31. প্রিজমে ন্যূনতম চ্যুতির (Minimum Deviation) শর্ত কোনটি?

মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ
(a) i₁ = i₂ (এবং r₁ = r₂)
(b) i₁ > i₂
(c) i₁ < i₂
(d) i₁ = 90°
✓ উত্তর: (a) i₁ = i₂ (আপতন কোণ = নির্গমন কোণ)

32. একটি সমবাহু প্রিজমের প্রতিসারক কোণ (A)-এর মান কত?

মাধ্যমিক গাণিতিক
(a) 45°
(b) 60°
(c) 90°
(d) 30°
✓ উত্তর: (b) 60°

33. একটি প্রিজমের প্রতিসারক কোণ 60°। কোনো রশ্মি এক তলে 45° কোণে আপতিত হয়ে অপর তল দিয়ে 50° কোণে নির্গত হলে চ্যুতিকোণ কত?

মাধ্যমিক গাণিতিক
(a) 35°
(b) 45°
(c) 95°
(d) 155°
✓ উত্তর: (a) 35° [δ = i₁ + i₂ - A = 45° + 50° - 60° = 35°]

34. কোন লেন্সের মাঝের অংশটি মোটা ও প্রান্তের দিকগুলি সরু এবং একে অভিসারী লেন্স বলা হয়?

পাঠ্যপুস্তক
(a) অবতল লেন্স
(b) উত্তল লেন্স (Convex Lens)
(c) সমতলাবতল লেন্স
(d) কাচফলক
✓ উত্তর: (b) উত্তল লেন্স (Convex Lens)

35. কোন লেন্সের মাঝের অংশটি সরু ও প্রান্তের দিকগুলি মোটা এবং একে অপসারী লেন্স বলা হয়?

পাঠ্যপুস্তক
(a) উত্তল লেন্স
(b) অবতল লেন্স (Concave Lens)
(c) সমতলোত্তল লেন্স
(d) প্রিজম
✓ উত্তর: (b) অবতল লেন্স (Concave Lens)

36. যদি কোনো লেন্সের উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক পারিপার্শ্বিক মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্কের চেয়ে কম হয়, তবে উত্তল লেন্স কীরূপ আচরণ করবে?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) অভিসারী লেন্সের মতো
(b) অপসারী লেন্সের মতো (অবতল লেন্সের ন্যায়)
(c) সমান্তরাল কাচফলকের মতো
(d) দর্পণের মতো
✓ উত্তর: (b) অপসারী লেন্সের মতো (অবতল লেন্সের ন্যায়)

37. উত্তল লেন্সের সামনে বস্তুকে ফোকাস দূরত্বের দ্বিগুণ দূরত্বে (2f দূরত্বে) রাখলে প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হয় এবং তার আকার কী হয়?

মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ
(a) F₂-তে, অত্যন্ত ছোটো
(b) 2f দূরত্বে (2F₂-তে), বস্তুর সমান আকারের সদ ও অবশীর্ষ
(c) অসীমে, বিবর্ধিত
(d) ফোকাসের মধ্যে, অসদ
✓ উত্তর: (b) 2f দূরত্বে (2F₂-তে), বস্তুর সমান আকারের সদ ও অবশীর্ষ

38. একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব 15 cm। লেন্স থেকে কত দূরে বস্তু রাখলে বস্তুর সমান আকারের সদ প্রতিবিম্ব গঠিত হবে?

মাধ্যমিক গাণিতিক
(a) 15 cm
(b) 30 cm (অর্থাৎ 2f দূরত্বে)
(c) 45 cm
(d) 7.5 cm
✓ উত্তর: (b) 30 cm (অর্থাৎ 2f দূরত্বে)

39. অবতল লেন্সের সামনে যে-কোনো দূরত্বে বস্তু রাখলে গঠিত প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কীরূপ হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) সদ, অবশীর্ষ ও বিবর্ধিত
(b) অসদ, সমশীর্ষ ও বস্তুর চেয়ে ছোটো (খর্বাকার)
(c) সদ ও ছোটো
(d) অসদ ও বিবর্ধিত
✓ উত্তর: (b) অসদ, সমশীর্ষ ও বস্তুর চেয়ে ছোটো (খর্বাকার)

40. লেন্সের রৈখিক বিবর্ধন (Linear Magnification, m)-এর সূত্র কোনটি?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) m = প্রতিবিম্ব দূরত্ব (v) / বস্তু দূরত্ব (u)
(b) m = u / v
(c) m = u × v
(d) m = u + v
✓ উত্তর: (a) m = প্রতিবিম্বের উচ্চতা / বস্তুর উচ্চতা = প্রতিবিম্ব দূরত্ব (v) / বস্তু দূরত্ব (u)

41. কোনো লেন্স দ্বারা গঠিত প্রতিবিম্বের রৈখিক বিবর্ধন m = 1 হলে প্রতিবিম্ব ও বস্তুর আকারের সম্পর্ক কী?

মাধ্যমিক
(a) প্রতিবিম্ব বস্তুর চেয়ে বড়ো
(b) প্রতিবিম্ব ও বস্তুর আকার সমান
(c) প্রতিবিম্ব বস্তুর চেয়ে ছোটো
(d) প্রতিবিম্ব বিন্দু আকারের
✓ উত্তর: (b) প্রতিবিম্ব ও বস্তুর আকার সমান

42. সরল ক্যামেরায় অভিলক্ষ্য হিসেবে কোন লেন্স থাকে এবং ফিল্মে কীরূপ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?

পাঠ্যপুস্তক
(a) উত্তল লেন্স; সদ, অবশীর্ষ ও বস্তুর চেয়ে ছোটো
(b) অবতল লেন্স; অসদ ও সোজা
(c) উত্তল দর্পণ
(d) সমতল দর্পণ
✓ উত্তর: (a) উত্তল লেন্স; সদ, অবশীর্ষ ও বস্তুর চেয়ে ছোটো

43. মানুষের চোখের অক্ষিলেন্সটি কী প্রকৃতির লেন্স?

পাঠ্যপুস্তক
(a) দ্বি-অবতল লেন্স
(b) নমনীয় দ্বি-উত্তল লেন্স (অভিসারী)
(c) কাচের লেন্স
(d) সমতল দর্পণ
✓ উত্তর: (b) নমনীয় দ্বি-উত্তল লেন্স (অভিসারী)

44. মানুষের চোখের অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমারের প্রতিসরাঙ্ক কত?

পাঠ্যপুস্তক
(a) 1.5
(b) 1.336
(c) 2.42
(d) 1.0
✓ উত্তর: (b) 1.336

45. মানুষের চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করতে (উপযোজনে) সাহায্য করে কোন পেশি?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) আইরিশ
(b) সিলিয়ারি পেশি (Ciliary Muscles) ও সাসপেনসরি লিগামেন্ট
(c) রেটিনা
(d) কর্নিয়া
✓ উত্তর: (b) সিলিয়ারি পেশি (Ciliary Muscles) ও সাসপেনসরি লিগামেন্ট

46. সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্ব (নিকট বিন্দু) এবং দূরবিন্দু যথাক্রমে কত?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) 25 cm এবং অসীম (Infinity)
(b) 50 cm এবং 100 m
(c) 10 cm এবং 25 cm
(d) অসীম এবং 25 cm
✓ উত্তর: (a) 25 cm এবং অসীম (Infinity)

47. দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) ত্রুটিতে প্রতিবিম্ব রেটিনার কোথায় গঠিত হয় এবং এর প্রতিকার কী?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) রেটিনার সামনে; অবতল লেন্স
(b) রেটিনার পিছনে; উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্স
(c) রেটিনার ওপর; দর্পণ
(d) অন্ধবিন্দুতে
✓ উত্তর: (b) রেটিনার পিছনে; উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্স

48. হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়া (Myopia) ত্রুটিতে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার কোথায় গঠিত হয়?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) রেটিনার সামনে
(b) রেটিনার পিছনে
(c) রেটিনার ওপর
(d) কর্নিয়ায়
✓ উত্তর: (a) রেটিনার সামনে (প্রতিকার: অবতল লেন্সযুক্ত চশমা)

49. সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে ৭টি রঙে বিশ্লিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কী বলে এবং এটি কে প্রথম আবিষ্কার করেন?

পাঠ্যপুস্তক
(a) আলোর প্রতিফলন; গ্যালিলিও
(b) আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion); বিজ্ঞানী নিউটন
(c) আলোর বিক্ষেপণ; র‍্যালে
(d) সমবর্তন
✓ উত্তর: (b) আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion); বিজ্ঞানী নিউটন

50. কাচ বা যে-কোনো ঘন মাধ্যমে কোন বর্ণের আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি এবং কোন বর্ণের আলোর বেগ সবচেয়ে কম?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) লাল বর্ণের বেগ সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি বর্ণের বেগ সবচেয়ে কম
(b) বেগুনি বর্ণের সবচেয়ে বেশি ও লালের সবচেয়ে কম
(c) সবুজের সবচেয়ে বেশি
(d) সব বর্ণের সমান
✓ উত্তর: (a) লাল বর্ণের বেগ সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি বর্ণের বেগ সবচেয়ে কম

51. সূর্যের আলোয় একটি লাল গোলাপ ফুলকে সবুজ আলোয় বা নীল আলোয় দেখলে ফুলটিকে কী রঙের দেখাবে?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) লাল
(b) সবুজ
(c) কালো (Black)
(d) সাদা
✓ উত্তর: (c) কালো (কারণ লাল গোলাপ সবুজ বা নীল আলো শোষণ করে নেয়, কোনো আলো প্রতিফলিত করে না)

52. আলোক তরঙ্গের বেগ (c), কম্পাঙ্ক (n বা ν) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ)-এর মধ্যে সম্পর্কটি কী?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) c = n / λ
(b) c = nλ
(c) n = cλ
(d) λ = cn
✓ উত্তর: (b) c = nλ

53. দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং কোন বর্ণের সবচেয়ে কম?

পাঠ্যপুস্তক সারণি • মাধ্যমিক
(a) লাল বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি (6200–7800 Å) ও বেগুনির সবচেয়ে কম (3800–4460 Å)
(b) বেগুনির সবচেয়ে বেশি ও লালের সবচেয়ে কম
(c) হলুদের সবচেয়ে বেশি
(d) সবুজের সবচেয়ে কম
✓ উত্তর: (a) লাল বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি (6200–7800 Å) ও বেগুনির সবচেয়ে কম (3800–4460 Å)

54. আলোকরশ্মি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে আলোর কোন ধর্মটি অপরিবর্তিত থাকে?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) গতিবেগ
(b) তরঙ্গদৈর্ঘ্য
(c) কম্পাঙ্ক (Frequency)
(d) বিস্তার
✓ উত্তর: (c) কম্পাঙ্ক (Frequency)

55. মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (μ) ও আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) মধ্যে বিজ্ঞানী কচি (Cauchy)-এর সম্পর্কটি কোনটি?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) μ = A + Bλ²
(b) μ = A + (B / λ²)
(c) μ = A - Bλ
(d) μ = A / λ
✓ উত্তর: (b) μ = A + (B / λ²)

56. কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক (μ)-এর সংজ্ঞা কী?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) μ = শূন্যস্থানে আলোর বেগ (c) / ওই মাধ্যমে আলোর বেগ (v)
(b) μ = v / c
(c) μ = c × v
(d) μ = c + v
✓ উত্তর: (a) μ = শূন্যস্থানে আলোর বেগ (c) / ওই মাধ্যমে আলোর বেগ (v)

57. শূন্যস্থানে আলোর বেগ 3 × 10⁸ m/s এবং কাচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 হলে কাচ মাধ্যমে আলোর বেগ কত হবে?

মাধ্যমিক গাণিতিক
(a) 3 × 10⁸ m/s
(b) 2 × 10⁸ m/s
(c) 1.5 × 10⁸ m/s
(d) 4.5 × 10⁸ m/s
✓ উত্তর: (b) 2 × 10⁸ m/s [v = c/μ = (3 × 10⁸)/1.5 = 2 × 10⁸ m/s]

58. বিজ্ঞানী র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্র অনুযায়ী বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা (I) আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) সাথে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত?

পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক
(a) I ∝ 1/λ²
(b) I ∝ 1/λ⁴ (চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক)
(c) I ∝ λ⁴
(d) I ∝ 1/λ
✓ উত্তর: (b) I ∝ 1/λ⁴ (চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক)

59. বিপদ সংকেত (Danger Signal) হিসেবে লাল বর্ণের আলো ব্যবহার করা হয় কেন?

মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ
(a) লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম
(b) লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয় এবং বহুদূর থেকে স্পষ্ট দেখা যায়
(c) লাল আলোর কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি
(d) লাল আলো দেখতে সুন্দর
✓ উত্তর: (b) লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয় এবং বহুদূর থেকে স্পষ্ট দেখা যায়

60. 1 অ্যাংস্ট্রম (1 Å) সমান কত মিটার?

পাঠ্যপুস্তক সারণি
(a) 10⁻⁸ m
(b) 10⁻¹⁰ m
(c) 10⁻⁹ m
(d) 10⁻¹² m
✓ উত্তর: (b) 10⁻¹⁰ m (বা 10⁻⁸ cm)

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (45+ VSAQ / এক কথায় উত্তর)

প্রতিটি প্রশ্নের মান ১

1. অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস-এর সংজ্ঞা দাও। [অনুশীলনী B.1]

উত্তর: একগুচ্ছ সমান্তরাল আলোকরশ্মি অবতল দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে দর্পণে আপতিত হলে প্রতিফলনের পর রশ্মিগুলি প্রধান অক্ষের ওপর যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়, তাকে অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস (Principal Focus) বলে।

2. কোন ধরনের দর্পণ শেভিং মিরর (দাড়ি কামানোর দর্পণ) রূপে ব্যবহৃত হয়? [অনুশীলনী B.2]

উত্তর: অবতল দর্পণ (Concave Mirror)।

3. কোন দর্পণের দৃষ্টিক্ষেত্র (Field of View) বড়ো হয়? [অনুশীলনী B.3]

উত্তর: উত্তল দর্পণের (Convex Mirror) দৃষ্টিক্ষেত্র অনেক বড়ো হয় (তাই এটি গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।

4. লেন্সের আলোককেন্দ্রের (Optical Centre) সংজ্ঞা লেখো। [অনুশীলনী B.4]

উত্তর: কোনো আলোকরশ্মি লেন্সের এক পৃষ্ঠে আপতিত হয়ে প্রতিসরণের পর অপর পৃষ্ঠ দিয়ে আপতিত রশ্মির সমান্তরালভাবে নির্গত হলে, লেন্সের ভেতর রশ্মিটির গতিপথ প্রধান অক্ষকে যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে ছেদ করে, তাকে লেন্সটির আলোককেন্দ্র বলে।

5. উত্তল লেন্সের দ্বিতীয় মুখ্য ফোকাস কাকে বলে? [অনুশীলনী B.5]

উত্তর: সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ উত্তল লেন্সের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে লেন্সে প্রতিসরণের পর প্রধান অক্ষের ওপর যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়, তাকে উত্তল লেন্সের দ্বিতীয় মুখ্য ফোকাস বলে।

6. কখন একটি উত্তল লেন্সে অসদ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়? [অনুশীলনী B.6]

উত্তর: যখন বস্তুকে উত্তল লেন্সের আলোককেন্দ্র (O) এবং ফোকাসের (F) মাঝখানে (অর্থাৎ ফোকাস দূরত্ব f-এর কম দূরত্বে) রাখা হয়, তখন অসদ, সমশীর্ষ ও বিবর্ধিত প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

7. হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘদৃষ্টি) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.7]

উত্তর: চোখের যে ত্রুটিতে মানুষ দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু কাছের বস্তু (25 cm দূরত্বের) স্পষ্ট দেখতে পায় না, তাকে দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া বলে।

8. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.8]

উত্তর: চোখের যে ত্রুটিতে মানুষ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না, তাকে হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়া বলে।

9. সাদা আলোকের বর্ণালিতে উপস্থিত আলোর বর্ণগুলি ক্রমানুসারে উল্লেখ করো। [অনুশীলনী B.9]

উত্তর: নিচ থেকে ওপরে ক্রমানুসারে সাতটি বর্ণ হলো: বেগুনি (Violet), নীল (Indigo), আকাশি (Blue), সবুজ (Green), হলুদ (Yellow), কমলা (Orange) এবং লাল (Red) — সংক্ষেপে ‘বেনীআসহকলা’ বা ‘VIBGYOR’।

10. একবর্ণী আলোকরশ্মি (Monochromatic Light) কী? [অনুশীলনী B.10]

উত্তর: যে আলোকরশ্মি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট বর্ণ (বা একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য) দ্বারা গঠিত এবং প্রিজমে প্রতিসৃত হলে আর বিশ্লিষ্ট হয় না, তাকে একবর্ণী আলোকরশ্মি বলে (যেমন সোডিয়াম বাষ্প বাতির হলুদ আলো)।

11. একটি সাদা ফুলকে সবুজ আলোয় কেমন দেখাবে? [অনুশীলনী B.11]

উত্তর: সবুজ দেখাবে (কারণ সাদা বস্তু তার ওপর আপতিত সবুজ আলোকেই প্রতিফলিত করবে)।

12. একটি উত্তল লেন্সের ফোকাসে (F-এ) একটি বস্তুকে রাখা হলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হবে? [অনুশীলনী B.12]

উত্তর: প্রতিবিম্ব অসীম দূরত্বে (At Infinity) গঠিত হবে (সদ, অবশীর্ষ ও অত্যন্ত বিবর্ধিত)।

13. আধুনিক ক্যামেরার শাটারে নিয়ন্ত্রিত সময় (Exposure Time) কত? [অনুশীলনী B.13]

উত্তর: 1/10 সেকেন্ড থেকে 1/1000 সেকেন্ড পর্যন্ত।

14. রৈখিক বিবর্ধন (Linear Magnification) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.14]

উত্তর: লেন্স বা দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্বের উচ্চতা (বা দৈর্ঘ্য) এবং বস্তুর উচ্চতার (বা দৈর্ঘ্যের) অনুপাতকে রৈখিক বিবর্ধন (m = I_h / O_h = v / u) বলে।

15. স্নেলের সূত্রের সমীকরণটি লেখো। [অনুশীলনী B.15]

উত্তর: sin i / sin r = μ (ধ্রুবক), যেখানে i = আপতন কোণ, r = প্রতিসরণ কোণ এবং μ = প্রথম মাধ্যমের সাপেক্ষে দ্বিতীয় মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক।

16. আলোকের বিচ্ছুরণের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ দাও। [অনুশীলনী B.16]

উত্তর: বৃষ্টির পর আকাশে সূর্যের বিপরীত দিকে সৃষ্ট রামধনু (Rainbow)।

17. কোন ধরনের লেন্সের দ্বারা হ্রস্বদৃষ্টির (মায়োপিয়া) প্রতিকার করা যায়? [অনুশীলনী B.17]

উত্তর: উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের অবতল লেন্স (Concave Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহার করে।

18. [শূন্যস্থান পূরণ] চামচের উত্তল পৃষ্ঠ ________ দর্পণের ন্যায় আচরণ করে। [অনুশীলনী B.III.1]

উত্তর: উত্তল (Convex)।

19. [শূন্যস্থান পূরণ] ফোকাস দূরত্ব = ½ × ________। [অনুশীলনী B.III.2]

উত্তর: বক্রতা ব্যাসার্ধ (r)।

20. [শূন্যস্থান পূরণ] আলোককেন্দ্র লেন্সের ________-এর ওপর অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট বিন্দু। [অনুশীলনী B.III.3]

উত্তর: প্রধান অক্ষ (Principal Axis)।

21. [শূন্যস্থান পূরণ] প্রিজম বর্ণ সৃষ্টি করতে পারে না। [অনুশীলনী B.III.4]

উত্তর: বর্ণ (Colour)।

22. [শূন্যস্থান পূরণ] আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে, বিক্ষেপণ ________ হবে। [অনুশীলনী B.III.5]

উত্তর: বেশি (যেহেতু I ∝ 1/λ⁴)।

23. [সত্য/মিথ্যা] গাড়ির ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয় উত্তল দর্পণ। [অনুশীলনী B.IV.1]

উত্তর: সত্য (True)।

24. [সত্য/মিথ্যা] উত্তল লেন্স অভিসারী। [অনুশীলনী B.IV.2]

উত্তর: সত্য (True)।

25. [সত্য/মিথ্যা] আলোর প্রতিসরণের জন্য দায়ী আলোকরশ্মির বর্ণ। [অনুশীলনী B.IV.3]

উত্তর: মিথ্যা (বিভিন্ন মাধ্যমে আলোর গতিবেগের পার্থক্যই প্রতিসরণের মূল কারণ)।

26. [সত্য/মিথ্যা] দূরবীক্ষণে অবতল দর্পণকে প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। [অনুশীলনী B.IV.4]

উত্তর: সত্য (True - প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্রে)।

27. [সত্য/মিথ্যা] বিপদ সংকেতে হলুদ আলো ব্যবহৃত হয়। [অনুশীলনী B.IV.5]

উত্তর: মিথ্যা (বিপদ সংকেতে লাল আলো ব্যবহৃত হয়)।

28. উপাক্ষীয় রশ্মি (Paraxial Rays) কাদের বলে?

উত্তর: যেসব আলোকরশ্মি গোলীয় দর্পণের প্রধান অক্ষের সাথে খুব ক্ষুদ্র কোণ করে দর্পণের মেরুর খুব কাছে আপতিত হয়, তাদের উপাক্ষীয় রশ্মি বলে।

29. সমতল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ ও ফোকাস দূরত্ব কত?

উত্তর: অসীম (Infinity)।

30. প্রিজমের প্রধান ছেদ ও প্রতিসারক কোণ কাকে বলে?

উত্তর: প্রিজমের দুটি প্রতিসারক তল যে কোণে মিলিত হয় তাকে প্রতিসারক কোণ (A) বলে এবং প্রতিসারক তলকে লম্বভাবে ছেদকারী তলকে প্রধান ছেদ বলে।

31. ফাঁপা প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো গেলে কি বর্ণালি সৃষ্টি হয়?

উত্তর: না, কারণ ফাঁপা প্রিজমের কাচের দেওয়াল দুটি সমান্তরাল কাচফলকের মতো আচরণ করে, তাই বিচ্ছুরণ বা বর্ণালি সৃষ্টি হয় না।

32. চক্ষুর উপযোজন (Accommodation of Eye) কাকে বলে?

উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে সিলিয়ারি পেশির সংকোচন ও প্রসারণের সাহায্যে চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করে যে-কোনো দূরত্বের বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় গঠন করার ক্ষমতাকে চক্ষুর উপযোজন বলে।

33. মানুষের চোখের অন্ধবিন্দু (Blind Spot) কী?

উত্তর: রেটিনার যে বিন্দু দিয়ে অপটিক স্নায়ু বা চক্ষু নার্ভ মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে, সেখানে কোনো আলোকসুবেদী রড বা কোন কোশ না থাকায় আলো পড়লে দর্শনের অনুভূতি জাগে না—একে অন্ধবিন্দু বলে।

34. ক্যামেরার ডায়াফ্রাম (রন্ধ্র)-এর কাজ মানুষের চোখের কোন অংশটি করে?

উত্তর: আইরিশ বা কনীনিকা (এবং তার মাঝের ছিদ্র বা চোখের মণি)।

35. রামধনু সৃষ্টির সময় বৃষ্টির জলের ফোঁটায় আলোর কোন কোন ঘটনা ঘটে?

উত্তর: আলোর প্রতিসরণ, বিচ্ছুরণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ঘটে।

36. মানবদেহে ভিটামিন D সংশ্লেষে এবং জল জীবাণুমুক্ত করতে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Ray - UV)।

37. ক্যানসার কোশ ধ্বংস করতে (রেডিওথেরাপিতে) কোন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?

উত্তর: গামা রশ্মি (γ-ray) এবং X-রশ্মি।

38. মহাকাশচারীরা বা চাঁদে থাকা কোনো ব্যক্তি আকাশকে কী রঙের দেখেন এবং কেন?

উত্তর: কালো দেখেন; কারণ মহাশূন্যে বা চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকায় সূর্যের আলোর বিক্ষেপণ ঘটে না।

সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (Two Marks Questions)

প্রতিটি প্রশ্নের মান ২

১. অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্বের মধ্যে (মেরু P ও ফোকাস F-এর মাঝে) একটি বস্তুকে রাখলে কী ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হবে? [অনুশীলনী C.1]

অবতল দর্পণের মেরু (P) এবং মুখ্য ফোকাস (F)-এর মাঝখানে কোনো বস্তু রাখলে দর্পণের পিছনে বস্তুটির একটি অসদ (Virtual), সমশীর্ষ (সোজা) এবং বস্তুর চেয়ে আকারে বড়ো (বিবর্ধিত) প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এই ধর্মকে কাজে লাগিয়েই অবতল দর্পণকে দাড়ি কামানোর দর্পণ (Shaving Mirror) ও দন্তচিকিৎসকের দর্পণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

২. গাড়ির হেডলাইটে কী ধরনের দর্পণ ব্যবহার করা হয় ও কেন? হেডলাইট থেকে আলো কীভাবে অনেক দূর পর্যন্ত যায়? [অনুশীলনী C.2 ও C.10]

মোটরগাড়ির হেডলাইটে অবতল দর্পণ (বা অধিবৃত্তাকার অবতল প্রতিফলক) ব্যবহার করা হয়।
• হেডলাইটের অবতল প্রতিফলকের ঠিক মুখ্য ফোকাসে (F) বৈদ্যুতিক বাল্বটি বসানো থাকে। ফোকাস বিন্দুতে থাকা বাল্বটি জ্বললে তা থেকে নির্গত অপসারী আলোকরশ্মিগুচ্ছ অবতল দর্পণে প্রতিফলিত হওয়ার পর পরস্পর সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছে পরিণত হয় এবং তীব্রভাবে সামনের রাস্তায় বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

৩. একটি সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণে কীভাবে পার্শ্বসরণ ঘটে তা ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী C.3]

সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবে আলোকরশ্মি বায়ু (লঘু) থেকে কাচে (ঘন) প্রবেশের সময় অভিলম্বের দিকে যতটা বেঁকে যায় (i₁ > r₁), বিপরীত সমান্তরাল তল দিয়ে কাচ থেকে পুনরায় বায়ুতে নির্গমনের সময় অভিলম্ব থেকে ঠিক ততটাই দূরে সরে যায় (i₁ = i₂)। ফলে আপতিত রশ্মি এবং নির্গত রশ্মি পরস্পর সমান্তরাল হয় (চ্যুতিকোণ δ = 0°), কিন্তু রশ্মিটি তার প্রাথমিক গতিপথ থেকে সমান্তরালভাবে কিছুটা পাশে সরে যায়—যাকে পার্শ্বীয় সরণ (Lateral Displacement) বলে।

৪. সূর্যের আলোয় লাল এবং নীল কাচের প্লেটকে একসঙ্গে রাখলে কেমন দেখাবে—ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী C.4]

সূর্যের সাদা আলো প্রথমে লাল কাচের প্লেটের ওপর পড়লে লাল কাচটি কেবল লাল বর্ণের আলোকে নিজের মধ্য দিয়ে যেতে দেয় এবং বাকি ৬টি বর্ণের আলোকে শোষণ করে নেয়। এরপর ওই নির্গত লাল আলো যখন সংলগ্ন নীল কাচের প্লেটের ওপর পড়ে, তখন নীল কাচটি ওই লাল আলোকেও সম্পূর্ণ শোষণ করে নেয়। ফলে নীল কাচ ভেদ করে কোনো আলোই দর্শকের চোখে পৌঁছায় না এবং প্লেট দুটিকে একসঙ্গে কালো (অন্ধকার) দেখায়।

৫. একটি মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর কীভাবে নির্ভর করে? [অনুশীলনী C.5]

বিজ্ঞানী কচি (Cauchy)-এর সূত্র μ = A + (B / λ²) (যেখানে A ও B মাধ্যমের ধ্রুবক) অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (μ) আপতিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। যেমন দৃশ্যমান আলোর মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় লাল আলোর সাপেক্ষে মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে কম এবং বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম হওয়ায় প্রতিসরাঙ্ক সবচেয়ে বেশি (μ_V > μ_R)।

৬. দ্বিপ্রহরে বা দিনের বেলায় আকাশের রং নীল দেখায় কেন? [অনুশীলনী C.6]

দিনের বেলায় সূর্যের সাদা আলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসে, তখন বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও গ্যাসীয় অণু দ্বারা আলোর বিক্ষেপণ ঘটে। র‍্যালের বিক্ষেপণ সূত্র (I ∝ 1/λ⁴) অনুসারে, লাল আলোর তুলনায় নীল ও বেগুনি আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এগুলি অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের চোখ বেগুনি অপেক্ষা নীল বর্ণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় বিক্ষিপ্ত নীল আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় এবং আকাশকে নীল দেখায়।

৭. ‘ক্রাউন গ্লাসের (বা কাচের) প্রতিসরাঙ্ক 1.52’—বলতে কী বোঝায়? [অনুশীলনী C.7]

‘ক্রাউন গ্লাসের পরম প্রতিসরাঙ্ক 1.52’ বলতে বোঝায় শূন্যস্থানে (বা বায়ুতে) আলোর গতিবেগ এবং ক্রাউন গ্লাসের মধ্যে আলোর গতিবেগের অনুপাত হলো 1.52। অর্থাৎ শূন্যস্থানে আলোর বেগ ক্রাউন গ্লাসে আলোর বেগের তুলনায় 1.52 গুণ বেশি।

৮. আলোকের বিক্ষেপণ (Scattering of Light) কাকে বলে? র‍্যালের সূত্রটি লেখো। [অনুশীলনী C.8]

বিক্ষেপণ: সূর্যরশ্মি বা আলোকরশ্মি বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও গ্যাসীয় অণুর ওপর আপতিত হয়ে কণাগুলি দ্বারা শোষিত হওয়ার পর পুনরায় সম্ভাব্য সকল দিকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে আলোকের বিক্ষেপণ বলে।
• র‍্যালের সূত্র: আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অপেক্ষা ক্ষুদ্র আকারের কণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা (I) আপতিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক, অর্থাৎ I ∝ 1 / λ⁴।

৯. কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর বেগের ওপর কীভাবে নির্ভর করে? [অনুশীলনী C.9]

কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক (μ) ওই মাধ্যমে আলোর গতিবেগের (v) সঙ্গে ব্যস্তানুপাতিক। শূন্যস্থানে আলোর বেগ c (ধ্রুবক) হলে, μ = c / v বা μ ∝ 1 / v। অর্থাৎ যে মাধ্যমে আলোর গতিবেগ যত কম হয়, সেই মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক তত বেশি হয়।

১০. গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর (Rear View Mirror) হিসেবে সমতল দর্পণের পরিবর্তে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন?

উত্তল দর্পণ যে-কোনো দূরত্বে থাকা বস্তুর সর্বদা সমশীর্ষ (সোজা) এবং আকারে ছোটো প্রতিবিম্ব গঠন করে। প্রতিবিম্ব ছোটো হওয়ায় এবং দর্পণটি বাইরের দিকে বাঁকানো থাকায় সমতল দর্পণের তুলনায় উত্তল দর্পণের দৃষ্টিক্ষেত্র (Field of View) অনেক বেশি বিস্তীর্ণ হয়। ফলে চালক পেছনের রাস্তার অনেকখানি জায়গার যানবাহন সহজেই এক নজরে দেখতে পান।

১১. না স্পর্শ করে একটি সমতল দর্পণ, একটি অবতল দর্পণ ও একটি উত্তল দর্পণকে কীভাবে শনাক্ত করবে?

একটি পেন্সিল বা নিজের মুখ দর্পণ তিনটির খুব কাছে (ফোকাস দূরত্বের মধ্যে) ধরলে:
(i) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা ও বস্তুর সমান আকারের দেখাবে, সেটি সমতল দর্পণ।
(ii) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা কিন্তু বস্তুর চেয়ে বড়ো (বিবর্ধিত) দেখাবে, সেটি অবতল দর্পণ।
(iii) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা কিন্তু বস্তুর চেয়ে ছোটো (খর্বাকার) দেখাবে, সেটি উত্তল দর্পণ।

১২. সদবিম্ব (Real Image) ও অসদবিম্ব (Virtual Image)-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

(i) রশ্মির মিলন: প্রতিফলন বা প্রতিসরণের পর আলোকরশ্মিগুচ্ছ প্রকৃতপক্ষে কোনো বিন্দুতে মিলিত হলে সদবিম্ব গঠিত হয়; আর কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হলে অসদবিম্ব গঠিত হয়।
(ii) পর্দায় গ্রহণ ও প্রকৃতি: সদবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায় এবং এটি বস্তুর সাপেক্ষে অবশীর্ষ (উলটো) হয়; কিন্তু অসদবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায় না এবং এটি সমশীর্ষ (সোজা) হয়।

১৩. সূর্যের আলোয় সবুজ পাতাকে সবুজ দেখায়, কিন্তু লাল আলোয় দেখলে কালো দেখায় কেন?

সূর্যের সাদা আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি। সবুজ পাতার ওপর সাদা আলো পড়লে পাতাটি সবুজ বর্ণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের আলো শোষণ করে নেয় এবং কেবল সবুজ আলো আমাদের চোখে প্রতিফলিত করে, তাই পাতাটিকে সবুজ দেখায়। কিন্তু সবুজ পাতার ওপর লাল আলো ফেললে পাতাটি ওই লাল আলোকেও শোষণ করে নেয়, কোনো আলো প্রতিফলিত হয় না বলে পাতাটিকে কালো দেখায়।

১৪. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্য দিগন্তরেখার কাছে থাকে, ফলে সূর্যরশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের অনেক বেশি পথ অতিক্রম করে আমাদের চোখে আসতে হয়। এই দীর্ঘ পথে কম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল, বেগুনি প্রভৃতি আলো ধূলিকণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়ে চারপাশে হারিয়ে যায়; কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এর বিক্ষেপণ সবচেয়ে কম হয় এবং তা সরাসরি আমাদের চোখে পৌঁছায়। তাই সূর্যকে লাল দেখায়।

১৫. মানুষের চোখ ও ফোটোগ্রাফিক ক্যামেরার মধ্যে দুটি সাদৃশ্য ও দুটি বৈসাদৃশ্য লেখো।

সাদৃশ্য: (i) উভয় ক্ষেত্রেই উত্তল লেন্সের সাহায্যে সদ, অবশীর্ষ ও ছোটো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। (ii) ক্যামেরার আলোকসুবেদী ফিল্মের মতোই চোখের রেটিনা পর্দার কাজ করে।
বৈসাদৃশ্য: (i) ক্যামেরার লেন্সের ফোকাস দূরত্ব নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে পরিবর্তন করা যায়। (ii) ক্যামেরায় লেন্স ও ফিল্মের দূরত্ব কমানো-বাড়ানো যায়, কিন্তু চোখে লেন্স ও রেটিনার দূরত্ব সর্বদা স্থির থাকে।

দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও গাণিতিক সমাধান (3 Marks Broad Questions)

প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩ (বা ২+১)

১. অবতল দর্পণের (বা উত্তল দর্পণের) ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব (f) ও বক্রতা ব্যাসার্ধের (r) মধ্যে r = 2f সম্পর্কটি জ্যামিতিক চিত্রের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করো। [অনুশীলনী D.1]

ধরা যাক, M₁PM₂ একটি ক্ষুদ্র উন্মেষযুক্ত অবতল দর্পণের প্রধান ছেদ, যার মেরু P, মুখ্য ফোকাস F এবং বক্রতা কেন্দ্র C।
প্রধান অক্ষ CP-এর সমান্তরালে একটি উপাক্ষীয় আলোকরশ্মি RS দর্পণের S বিন্দুতে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর ফোকাস F-এর মধ্য দিয়ে ST পথে গেল। C ও S যোগ করা হলো; CS হলো S বিন্দুতে দর্পণের অভিলম্ব।
• প্রতিফলনের সূত্রানুসারে: আপতন কোণ ∠RSC = প্রতিফলন কোণ ∠CSF = θ (ধরি)।
• আবার RS || CP এবং CS ছেদক হওয়ায়: ∠RSC = একান্তর কোণ ∠SCF = θ।
• সুতরাং △CSF-এর মধ্যে ∠CSF = ∠SCF = θ। ত্রিভুজের দুটি কোণ সমান হওয়ায় তাদের বিপরীত বাহু দুটিও সমান হবে, অর্থাৎ CF = FS।
• যেহেতু দর্পণটির উন্মেষ খুব ক্ষুদ্র এবং RS উপাক্ষীয় রশ্মি, তাই S বিন্দুটি মেরু P বিন্দুর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। সুতরাং FS ≈ FP ধরা যায়।
• অতএব, CF = FP। এখন বক্রতা ব্যাসার্ধ r = CP = CF + FP = FP + FP = 2FP = 2f (যেহেতু ফোকাস দূরত্ব FP = f)।
∴ r = 2f   বা,   f = r / 2 (প্রমাণিত)

২. প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকের প্রতিসরণে দেখাও যে চ্যুতিকোণ δ = i₁ + i₂ - A হয় (যেখানে চিহ্নগুলি প্রচলিত অর্থবহ)। [অনুশীলনী D.2]

ধরা যাক, ABC একটি প্রিজমের প্রধান ছেদ, যার প্রতিসারক কোণ ∠BAC = A। একটি আলোকরশ্মি PQ প্রিজমের AB প্রতিসারক তলে Q বিন্দুতে i₁ কোণে আপতিত হয়ে প্রিজমের ভেতর QS পথে r₁ প্রতিসরণ কোণে গেল এবং অপর প্রতিসারক তল AC-এর S বিন্দুতে r₂ কোণে আপতিত হয়ে বায়ুতে ST পথে i₂ নির্গমন কোণে নির্গত হলো।
• প্রথম পৃষ্ঠে Q বিন্দুতে রশ্মিটির কৌণিক চ্যুতি δ₁ = (i₁ - r₁) এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠে S বিন্দুতে কৌণিক চ্যুতি δ₂ = (i₂ - r₂)।
• সুতরাং মোট চ্যুতিকোণ δ = δ₁ + δ₂ = (i₁ - r₁) + (i₂ - r₂) = (i₁ + i₂) - (r₁ + r₂) ...... (i)
• Q ও S বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব দুটি পরস্পরকে O বিন্দুতে ছেদ করলে AQOS চতুর্ভুজে ∠AQO = ∠ASO = 90°। তাই বিপরীত কোণ দুটির সমষ্টি ∠A + ∠QOS = 180° ...... (ii)
• আবার △QOS ত্রিভুজে তিন কোণের সমষ্টি r₁ + r₂ + ∠QOS = 180° ...... (iii)
• (ii) ও (iii) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই: A = r₁ + r₂।
• এই মান (i) নং সমীকরণে বসিয়ে পাই:
δ = i₁ + i₂ - A (প্রমাণিত)

৩. বিবর্ধক কাচ (Magnifying Glass) বা সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র হিসেবে উত্তল লেন্সের ক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.3]

একটি কম ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্সকে বিবর্ধক কাচ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যখন কোনো ক্ষুদ্র বস্তু PQ-কে উত্তল লেন্সের আলোককেন্দ্র (O) এবং মুখ্য ফোকাস (F₁)-এর মাঝখানে (অর্থাৎ ফোকাস দূরত্ব f-এর কম দূরত্বে) রাখা হয়:
(i) বস্তুর শীর্ষবিন্দু P থেকে প্রধান অক্ষের সমান্তরালে আগত রশ্মি লেন্সে প্রতিসরণের পর দ্বিতীয় ফোকাস F₂ দিয়ে যায়।
(ii) P থেকে অপর একটি রশ্মি আলোককেন্দ্র O দিয়ে সোজা বেরিয়ে যায়।
এই প্রতিসৃত রশ্মি দুটি পরস্পর অপসারী হওয়ায় বাস্তবে মিলিত হয় না। কিন্তু লেন্সের অপর পাশ থেকে চোখ রাখলে রশ্মি দুটিকে পেছনের দিকে বর্ধিত করলে বস্তুর পেছনে একই পাশে মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয় এবং বস্তুটির একটি অসদ, সমশীর্ষ (সোজা) এবং আকারে বড়ো (বিবর্ধিত) প্রতিবিম্ব P₁Q₁ স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্বে (25 cm) দেখা যায়। এভাবে ছোটো লেখা বা ঘড়ির সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ বড়ো করে দেখা হয়।

৪. মানুষের চোখের প্রধান অংশগুলির গঠন ও কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। [অনুশীলনী D.4]

মানুষের চোখের প্রধান অংশ ও কাজ:
• কর্নিয়া (Cornea): অক্ষিগোলকের সামনের স্ফীত ও স্বচ্ছ আবরণ যা চোখে আলো প্রবেশ করতে দেয় এবং প্রতিসরণ ঘটায়।
• আইরিশ (Iris) ও চোখের মণি (Pupil): কর্নিয়ার পেছনের রঙিন পর্দা হলো আইরিশ এবং তার মাঝের ছিদ্রটি হলো মণি, যা আলো কম-বেশি হলে ছোটো-বড়ো হয়ে চোখে প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
• অক্ষিলেন্স (Eye Lens): মণির পেছনে থাকা নমনীয় দ্বি-উত্তল লেন্স যা সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠন করে।
• রেটিনা (Retina): অক্ষিগোলকের সবচেয়ে ভেতরের আলোকসুবেদী স্তর (রড ও কোন কোশযুক্ত) যেখানে বস্তুর সদ ও অবশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
• অ্যাকুয়াস ও ভিট্রিয়াস হিউমার: লেন্সের সামনে ও পেছনে থাকা স্বচ্ছ তরল (প্রতিসরাঙ্ক 1.336) যা অক্ষিগোলকের আকার বজায় রাখে ও প্রতিসরণে সাহায্য করে।

৫. হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘদৃষ্টি) ত্রুটির কারণ এবং তার প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.5]

হাইপারমেট্রোপিয়া বা দীর্ঘদৃষ্টি: যে দৃষ্টিত্রুটিতে চোখ দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু কাছের বস্তু (25 cm দূরত্বের) স্পষ্ট দেখতে পায় না (নিকট বিন্দু 25 cm অপেক্ষা দূরে সরে যায়)।
ত্রুটির কারণ: (i) অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে ছোটো হয়ে যাওয়া অথবা (ii) সম্পূর্ণ শিথিল অবস্থায় চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া। এর ফলে কাছের বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনায় মিলিত না হয়ে রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
প্রতিকারের উপায়: উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্স (Convex Lens / অভিসারী লেন্স) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে কাছের বস্তু (N) থেকে আসা অপসারী রশ্মিগুচ্ছ উত্তল লেন্সে প্রতিসৃত হয়ে কিছুটা অভিসারী হয় এবং ত্রুটিযুক্ত চোখের নিকট বিন্দু (N') থেকে আসছে বলে মনে হয়, ফলে প্রতিবিম্ব ঠিক রেটিনার ওপর গঠিত হয়।

৬. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) ত্রুটির কারণ এবং তার প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.6]

মায়োপিয়া বা হ্রস্বদৃষ্টি: যে দৃষ্টিত্রুটিতে চোখ কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় কিন্তু দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখতে পায় না (দূরবিন্দু অসীম থেকে চোখের দিকে সরে আসে)।
ত্রুটির কারণ: (i) অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়ো (লম্বা) হয়ে যাওয়া অথবা (ii) চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া (অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া)। এর ফলে দূরের বস্তু থেকে আগত সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ রেটিনায় পৌঁছানোর আগেই রেটিনার সামনে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
প্রতিকারের উপায়: উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের অবতল লেন্স (Concave Lens / অপসারী লেন্স) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে অসীম থেকে আগত সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ অবতল লেন্সে প্রতিসরণের পর অপসারী হয়ে ত্রুটিযুক্ত চোখের দূরবিন্দু (F) থেকে আসছে বলে মনে হয় এবং চক্ষুলেন্স সেটিকে ঠিক রেটিনায় ফোকাস করে।

৭. আলোকের বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light) কাকে বলে? বিচ্ছুরণের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.7]

আলোর বিচ্ছুরণ: সূর্যের সাদা আলো বা অন্য কোনো যৌগিক (বহুবর্ণী) আলো প্রিজমের মতো কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের ফলে বিশ্লিষ্ট হয়ে তার উপাদান সাতটি বর্ণে (বেনীআসহকলা / VIBGYOR) বিভক্ত হওয়ার ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।

বিচ্ছুরণের কারণ: শূন্যস্থানে বা বায়ুতে সব বর্ণের আলোর বেগ সমান হলেও কাচের মতো ঘন মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ বিভিন্ন হয় (লাল আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি আলোর বেগ সবচেয়ে কম)। যেহেতু মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক μ = c/v (কচির সূত্র μ = A + B/λ²), তাই কাচ মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক বিভিন্ন বর্ণের আলোর জন্য বিভিন্ন হয় (বেগুনি বর্ণের জন্য সর্বোচ্চ এবং লাল বর্ণের জন্য সর্বনিম্ন: μ_V > μ_R)। ফলে প্রিজমের প্রথম তলে একই আপতন কোণে (i) সাদা আলো আপতিত হলেও স্নেলের সূত্রানুসারে বিভিন্ন বর্ণের প্রতিসরণ কোণ (r) এবং চ্যুতিকোণ (δ) আলাদা হয়। বেগুনি আলোর চ্যুতি সবচেয়ে বেশি এবং লাল আলোর চ্যুতি সবচেয়ে কম হওয়ায় বর্ণগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে পর্দায় বর্ণালি গঠন করে।

৮. একটি সমান্তরাল কাচের স্ল্যাব (আয়তাকার কাচফলক) বর্ণালি সৃষ্টি করে না কেন? [অনুশীলনী D.8]

সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবকে দুটি অভিন্ন ত্রিভুজাকৃতি প্রিজমের সমষ্টি হিসেবে ভাবা যায় যাদের একটির সাপেক্ষে অপরটি উলটোভাবে (ভূমি বিপরীত দিকে রেখে) বসানো আছে। সাদা আলোকরশ্মি কাচের স্ল্যাবের প্রথম তলে তির্যকভাবে আপতিত হলে প্রতিসরণের ফলে সাতটি বর্ণের রশ্মিতে সামান্য বিশ্লিষ্ট হয়। কিন্তু ওই রশ্মিগুলি যখন বিপরীত সমান্তরাল তল দিয়ে পুনরায় বায়ুতে নির্গত হয়, তখন তাদের সমান ও বিপরীতমুখী কৌণিক চ্যুতি ঘটে। এর ফলে নির্গত হওয়ার সময় বিভিন্ন বর্ণের রশ্মিগুলি পরস্পরের সমান্তরাল হয়ে পুনরায় একত্রে মিশে সাদা আলো গঠন করে। তাই কাচের স্ল্যাবে কোনো বর্ণালি সৃষ্টি হয় না।

৯. প্রিজম নিজে কোনো বর্ণ সৃষ্টি করে না; যৌগিক আলোর বিভিন্ন বর্ণকে পৃথক করে মাত্র—ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.15]

সাদা আলো হলো সাতটি ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একবর্ণী আলোর মিশ্রণ। সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে বিভিন্ন বর্ণের আলোর প্রতিসরাঙ্ক ও চ্যুতি বিভিন্ন হওয়ায় প্রিজম কেবল ওই সাতটি উপাদান বর্ণকে আলাদা পথে বাঁকিয়ে পৃথক করে দেয়। যদি প্রিজমের ওপর একটি একবর্ণী আলোকরশ্মি (যেমন কেবল সবুজ বা লাল আলো) ফেলা হয়, তবে প্রিজম থেকে প্রতিসরণের পর কেবল ওই সবুজ বা লাল রশ্মিই নির্গত হয়—নতুন কোনো বর্ণ বা বর্ণালি উৎপন্ন হয় না। আবার দুটি অভিন্ন প্রিজমকে পাশাপাশি উলটো করে রাখলে (পুনর্যোজক প্রিজম) প্রথম প্রিজমে বিশ্লিষ্ট সাতটি বর্ণ দ্বিতীয় প্রিজমে পুনরায় মিলিত হয়ে সাদা আলো তৈরি করে। এটিই প্রমাণ করে প্রিজম নিজে বর্ণ সৃষ্টি করে না।

১০. উত্তল লেন্সকে ‘অভিসারী লেন্স’ এবং অবতল লেন্সকে ‘অপসারী লেন্স’ বলা হয় কেন? প্রিজমের ধারণার সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.13]

একটি লেন্সকে অনেকগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খণ্ডিত প্রিজমের সমষ্টি হিসেবে কল্পনা করা যায় এবং প্রিজমে প্রতিসৃত রশ্মি সর্বদা প্রিজমের ভূমির দিকে বেঁকে যায়।
• উত্তল লেন্সের অভিসারী ক্রিয়া: উত্তল লেন্সের মাঝখানটা মোটা হওয়ায় এর ওপরের অর্ধাংশের প্রিজমগুলির ভূমি নিচের দিকে (প্রধান অক্ষের দিকে) এবং নিচের অর্ধাংশের প্রিজমগুলির ভূমি ওপরের দিকে (প্রধান অক্ষের দিকে) থাকে। ফলে প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ উত্তল লেন্সে প্রতিসৃত হয়ে প্রধান অক্ষের দিকে বেঁকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাসে) মিলিত হয় বা অভিসারী হয়। তাই উত্তল লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলে।
• অবতল লেন্সের অপসারী ক্রিয়া: অবতল লেন্সের মাঝখানটা সরু ও প্রান্তের দিক মোটা হওয়ায় প্রিজমগুলির ভূমি প্রধান অক্ষের বিপরীতে প্রান্তের দিকে থাকে। ফলে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ প্রতিসরণের পর প্রধান অক্ষ থেকে দূরে বেঁকে পরস্পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে বা অপসারী হয়। তাই অবতল লেন্সকে অপসারী লেন্স বলে।

১১. অতিবেগুনি রশ্মি (UV), X-রশ্মি এবং গামা রশ্মির (γ-ray) একটি করে ব্যবহার এবং একটি করে ক্ষতিকারক প্রভাব উল্লেখ করো। [অনুশীলনী D.11]

(i) অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray):
• ব্যবহার: পানীয় জল ও অপারেশন থিয়েটার জীবাণুমুক্ত করতে, রত্ন-ডিম-ঘি-এর বিশুদ্ধতা পরীক্ষায় এবং দেহে ভিটামিন D তৈরিতে।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: অতিরিক্ত মাত্রায় পড়লে ত্বকের ক্যানসার ও চোখে ছানি পড়ে।

(ii) X-রশ্মি (X-Ray):
• ব্যবহার: চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভাঙা হাড় বা দেহের ভেতরের রোগ নির্ণয়ে (রেডিওগ্রাফি) এবং কাস্টমস ও গোয়েন্দা বিভাগে।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: জীবন্ত দেহকোশ ও রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।

(iii) গামা রশ্মি (γ-Ray):
• ব্যবহার: ক্যানসার ও টিউমার কোশ ধ্বংস করতে (রেডিওথেরাপিতে) এবং পারমাণবিক গবেষণায়।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: এর ভেদন ক্ষমতা সর্বাধিক হওয়ায় এটি জীবন্ত কোশের ও জিনগত উপাদানের (DNA) মারাত্মক ক্ষতি করে।

১২. প্রিজমের ন্যূনতম চ্যুতির শর্ত কী? ওই অবস্থায় প্রিজমের প্রতিসারক কোণ A এবং ন্যূনতম চ্যুতিকোণ δ_m হলে আপতন কোণ (i₁) ও প্রতিসরণ কোণ (r₁)-এর মান কত হবে? [অনুশীলনী D.12]

ন্যূনতম চ্যুতির শর্ত: প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণের সময় যখন আপতন কোণ (i₁) এবং নির্গমন কোণ (i₂) পরস্পর সমান হয় (অর্থাৎ i₁ = i₂), তখন প্রিজমের ভেতর প্রতিসৃত রশ্মিটি ভূমির সমান্তরাল হয় (এবং r₁ = r₂ হয়)। এই অবস্থায় আলোকরশ্মির চ্যুতিকোণের মান সর্বনিম্ন হয় (δ = δ_m)।
• যেহেতু A = r₁ + r₂ এবং r₁ = r₂ = r (ধরি), তাই r = A / 2।
• আবার δ_m = i₁ + i₂ - A এবং i₁ = i₂ = i (ধরি), তাই δ_m = 2i - A বা i = (A + δ_m) / 2।

১৩. [গাণিতিক সমস্যা] একটি সমবাহু প্রিজমের (A = 60°) একটি প্রতিসারক তলে আলোকরশ্মি 45° কোণে আপতিত হলে রশ্মিটির ন্যূনতম চ্যুতি ঘটে। (i) নির্গমন কোণ এবং (ii) ন্যূনতম চ্যুতিকোণের মান নির্ণয় করো।

সমাধান:
দেওয়া আছে, সমবাহু প্রিজমের প্রতিসারক কোণ (A) = 60° এবং আপতন কোণ (i₁) = 45°।
(i) যেহেতু রশ্মিটির ন্যূনতম চ্যুতি ঘটেছে, তাই শর্তানুসারে নির্গমন কোণ (i₂) = আপতন কোণ (i₁) = 45°।
(ii) ন্যূনতম চ্যুতিকোণ (δ_m) = i₁ + i₂ - A = 45° + 45° - 60° = 90° - 60° = 30°।

১৪. [গাণিতিক সমস্যা] একটি উত্তল লেন্স থেকে 20 cm দূরে একটি 5 cm দীর্ঘ বস্তু রাখা হলে লেন্সের অপর পাশে 40 cm দূরে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। রৈখিক বিবর্ধন এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করো।

সমাধান:
এখানে বস্তু দূরত্ব (u) = 20 cm, প্রতিবিম্ব দূরত্ব (v) = 40 cm এবং বস্তুর দৈর্ঘ্য (O_h) = 5 cm।
• রৈখিক বিবর্ধন (m) = v / u = 40 / 20 = 2।
• আবার m = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য (I_h) / বস্তুর দৈর্ঘ্য (O_h)
∴ প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য (I_h) = m × O_h = 2 × 5 cm = 10 cm।

১৫. [গাণিতিক সমস্যা] বায়ু সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 এবং বায়ু সাপেক্ষে জলের প্রতিসরাঙ্ক 4/3 (বা 1.33) হলে জল সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক কত? কাচে ও জলে আলোর বেগের অনুপাত কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে, বায়ু সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক (ₐμ_g) = 1.5 = 3/2 এবং বায়ু সাপেক্ষে জলের প্রতিসরাঙ্ক (ₐμ_w) = 4/3।
• জল সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক (wμ_g) = ₐμ_g / ₐμ_w = (3/2) / (4/3) = 9 / 8 = 1.125।
• আবার আমরা জানি, মাধ্যমে আলোর বেগ প্রতিসরাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক।
∴ (কাচে আলোর বেগ v_g) / (জলে আলোর বেগ v_w) = ₐμ_w / ₐμ_g = (4/3) / (3/2) = 8 / 9।
• অর্থাৎ কাচে ও জলে আলোর বেগের অনুপাত = 8 : 9।

১৬. আলোর প্রতিসরণ সংক্রান্ত সূত্র দুটি বিবৃত করো। লঘু থেকে ঘন এবং ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণে চ্যুতিকোণের মান কত হয়? [অনুশীলনী D.14 ও D.16]

প্রতিসরণের প্রথম সূত্র: আপতিত রশ্মি, প্রতিসৃত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে দুই মাধ্যমের বিভেদতলের ওপর অঙ্কিত অভিলম্ব সর্বদা একই সমতলে থাকে।
প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র (স্নেলের সূত্র): নির্দিষ্ট দুটি মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন (sin i) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (sin r) অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয় (অর্থাৎ sin i / sin r = μ)।
• (i) আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে অভিলম্বের দিকে বেঁকে যায় (i > r), তাই চ্যুতিকোণ δ = i - r।
• (ii) আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে গেলে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায় (r > i), তাই চ্যুতিকোণ δ = r - i।
Sponsored Links

দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞান পঞ্চম অধ্যায়: আলো (Light — 12 Marks Complete Guide)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) মাধ্যমিক ভৌত বিজ্ঞান সিলেবাসের পঞ্চম অধ্যায় আলো (Light) হলো সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকা অধ্যায়গুলোর একটি। এখান থেকে মোট ১২ নম্বরের প্রশ্ন (২টি MCQ = ২ নম্বর, ২টি VSAQ = ২ নম্বর, ১টি ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন = ২ নম্বর এবং ২টি ৩ নম্বরের বড় প্রশ্ন = ৬ নম্বর) পরীক্ষায় আসে। এই পেজে গোলীয় দর্পণ (r = 2f), স্নেলের সূত্র, প্রিজমের চ্যুতিকোণ (δ = i₁ + i₂ - A), উত্তল ও অবতল লেন্স, মানুষের চোখের দৃষ্টিত্রুটি (মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়া), বিচ্ছুরণ এবং বিক্ষেপণের সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে।

Frequently Asked Questions (আলো — দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান)

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) নম্বর বিভাজন অনুযায়ী ‘আলো’ (অধ্যায় ৫) থেকে সর্বমোট ১২ নম্বরের প্রশ্ন আসে: ১ নম্বরের ২টি MCQ, ১ নম্বরের ২টি অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (VSAQ), ২ নম্বরের ১টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন এবং ৩ নম্বরের ২টি রচনাধর্মী বা গাণিতিক প্রশ্ন (3 × 2 = 6)।

মায়োপিয়া বা হ্রস্বদৃষ্টি (দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হওয়া) দূর করতে উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের অবতল লেন্স (Concave Lens) এবং হাইপারমেট্রোপিয়া বা দীর্ঘদৃষ্টি (কাছের দৃষ্টি ব্যাহত হওয়া) দূর করতে উত্তল লেন্স (Convex Lens) যুক্ত চশমা ব্যবহৃত হয়।

প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণে চ্যুতিকোণ δ = i₁ + i₂ - A, যেখানে i₁ হলো আপতন কোণ, i₂ হলো নির্গমন কোণ এবং A (যেখানে A = r₁ + r₂) হলো প্রিজমের প্রতিসারক কোণ।