এক নজরে ‘আলো’ (Light) — সমস্ত সূত্র, প্রতিবিম্বের ছক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য সারণি
12 Marks Master Notes১. আলোর সমস্ত গাণিতিক সূত্রাবলি:
- গোলীয় দর্পণ: r = 2f বা f = r / 2
- স্নেলের সূত্র ও প্রতিসরাঙ্ক: μ = sin i / sin r = c / v
- কৌণিক চ্যুতি: লঘু → ঘন: δ = i - r | ঘন → লঘু: δ = r - i
- প্রিজমের চ্যুতিকোণ: δ = i₁ + i₂ - A (যেখানে A = r₁ + r₂)
- রৈখিক বিবর্ধন (m): m = প্রতিবিম্বের উচ্চতা (I_h) / বস্তুর উচ্চতা (O_h) = v / u
- তরঙ্গ ও বিক্ষেপণ: c = nλ | কচির সূত্র: μ = A + B/λ² | র্যালের সূত্র: I ∝ 1/λ⁴
২. পাঠ্যবইয়ের স্তম্ভ মেলানো সমাধান [অনুশীলনী B.II]:
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ (সঠিক উত্তর) |
|---|---|
| (i) উত্তল দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব | (e) অসদ, সমশীর্ষ (ও ছোটো) |
| (ii) দন্ত চিকিৎসকের দর্পণের প্রকৃতি | (d) অবতল দর্পণ |
| (iii) পাতলা প্রিজমের প্রতিসারক কোণের মান | (a) সাধারণত 10°-এর কম |
| (iv) মানুষের চোখে প্রতিবিম্ব উৎপন্ন হয় | (b) চোখের রেটিনায় |
| (v) বিক্ষেপণ সবচেয়ে বেশি (আকাশের বর্ণে) | (c) নীল আলো (বা বেগুনি) |
৩. উত্তল লেন্সে বিভিন্ন অবস্থানে প্রতিবিম্বের প্রকৃতি ও ব্যবহার:
| বস্তুর অবস্থান | প্রতিবিম্বের অবস্থান ও প্রকৃতি | ব্যবহার |
|---|---|---|
| ১. অসীম দূরত্বে | ফোকাসে (F₂); সদ, অবশীর্ষ ও বিন্দু আকার | সৌরচুল্লি / আতশ কাচ |
| ২. 2f-এর বেশি দূরে | F₂ ও 2F₂-এর মাঝে; সদ, অবশীর্ষ ও ছোটো | ক্যামেরা ও মানুষের চোখ |
| ৩. 2f দূরত্বে (2F₁-এ) | 2F₂-তে; সদ, অবশীর্ষ ও বস্তুর সমান | টেরেস্ট্রিয়াল দূরবীক্ষণ |
| ৪. f ও 2f-এর মাঝে | 2F₂-এর বাইরে; সদ, অবশীর্ষ ও বিবর্ধিত | সিনেমার প্রজেক্টর |
| ৫. ফোকাসে (F₁-এ) | অসীমে; সদ, অবশীর্ষ ও অত্যন্ত বিবর্ধিত | সার্চলাইট |
| ৬. F₁ ও O-এর মাঝে (< f) | বস্তুর পেছনে; অসদ, সমশীর্ষ ও বিবর্ধিত | বিবর্ধক কাচ (Magnifier) |
৪. দৃশ্যমান আলোর ৭টি বর্ণের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য সারণি:
| বর্ণ (VIBGYOR) | কম্পাঙ্ক (10¹⁴ Hz) | তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Å এককে, 1Å = 10⁻¹⁰ m) |
|---|---|---|
| ১. বেগুনি (Violet) | 6.73 – 7.6 (সর্বোচ্চ) | 3800 – 4460 Å (সর্বনিম্ন) |
| ২. নীল (Indigo) | 6.47 – 6.73 | 4460 – 4640 Å |
| ৩. আকাশি (Blue) | 6.01 – 6.47 | 4640 – 5000 Å |
| ৪. সবুজ (Green) | 5.19 – 6.01 | 5000 – 5780 Å |
| ৫. হলুদ (Yellow) | 5.07 – 5.19 | 5780 – 5920 Å |
| ৬. কমলা (Orange) | 4.84 – 5.07 | 5920 – 6200 Å |
| ৭. লাল (Red) | 3.75 – 4.84 (সর্বনিম্ন) | 6200 – 7800 Å (সর্বোচ্চ) |
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (60+ MCQs with Answers)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ১1. চকচকে স্টিলের বাটির ভিতরের পৃষ্ঠ আচরণ করে—
অনুশীলনী A.12. আলোকের প্রতিফলনে আপতন কোণ 'i' ও প্রতিফলন কোণ 'r'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল—
অনুশীলনী A.23. গোলীয় দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ 'r' এবং ফোকাস দৈর্ঘ্য 'f'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল—
অনুশীলনী A.3 • মাধ্যমিক4. গাড়িতে ব্যবহৃত রিয়ার ভিউ মিররটি (Rear View Mirror) হল একটি—
অনুশীলনী A.4 • মাধ্যমিক5. আলোকের প্রতিসরণে আপতন কোণ 'i' এবং প্রতিসরণ কোণ 'r'-এর মধ্যে সম্পর্কটি হল (স্নেলের সূত্র)—
অনুশীলনী A.5 • মাধ্যমিক6. আলোকের প্রতিসরণে যে বর্ণের চ্যুতি সবচেয়ে বেশি হয়, সেটি হল—
অনুশীলনী A.6 • মাধ্যমিক7. পাতলা লেন্সের আলোককেন্দ্রের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি গেলে—
অনুশীলনী A.78. সাধারণত উত্তল লেন্সের মধ্য দিয়ে প্রতিসরণের পরে সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ—
অনুশীলনী A.89. ক্যামেরায় প্রতিবিম্ব গঠন করতে উত্তল লেন্সের সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান হবে—
অনুশীলনী A.910. সিনেমার পর্দায় উৎপন্ন প্রতিবিম্বটি হল—
অনুশীলনী A.1011. একটি উত্তল লেন্স বিবর্ধক কাচরূপে (Magnifying Glass) আচরণ করে যখন বস্তুটিকে রাখা হয় লেন্সের সাপেক্ষে—
অনুশীলনী A.11 • মাধ্যমিক12. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) ত্রুটি দূর করতে চশমায় ব্যবহার করা হয়—
অনুশীলনী A.12 • মাধ্যমিক13. মানুষের চোখের যে অংশে প্রতিবিম্ব উৎপন্ন হয়, সেটি হল—
অনুশীলনী A.13 • মাধ্যমিক14. যে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সবচেয়ে বেশি (এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম), সেটি হল—
অনুশীলনী A.14 • মাধ্যমিক15. দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ (r) এবং ফোকাস দৈর্ঘ্যের (f) মধ্যে সম্পর্কটি কী?
অনুশীলনী A.1516. প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলোর প্রতিসরণের ক্ষেত্রে যে বর্ণের বিচ্যুতি সর্বাধিক সেটি কোনটি?
অনুশীলনী A.1617. চকচকে স্টিলের চামচের বাইরের উত্তল পৃষ্ঠটি কীরূপ দর্পণের মতো আচরণ করে?
পাঠ্যপুস্তক18. কোনো গোলীয় দর্পণের প্রতিফলক তলের মধ্যবিন্দুকে কী বলা হয়?
পাঠ্যপুস্তক19. অবতল দর্পণের বক্রতা কেন্দ্র (C) দিয়ে গমনকারী আলোকরশ্মি দর্পণে আপতিত হলে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণের মান কত হয়?
মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ20. একটি গোলীয় দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ 30 cm হলে তার ফোকাস দূরত্ব কত হবে?
মাধ্যমিক গাণিতিক21. কোন দর্পণ সর্বদা যে-কোনো অবস্থানে থাকা বস্তুর অসদ, সমশীর্ষ ও আকারে ছোটো (খর্বাকার) প্রতিবিম্ব গঠন করে?
মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ22. দাঁতের চিকিৎসায় (Dentist's Mirror) এবং দাড়ি কামানোর দর্পণ (Shaving Mirror) হিসেবে কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক23. মোটরগাড়ির হেডলাইটে ও টর্চলাইটে প্রতিফলক হিসেবে কোন দর্পণ ব্যবহৃত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক24. আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রবেশ করলে চ্যুতিকোণ (δ)-এর মান কত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক25. আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে তির্যকভাবে প্রতিসৃত হলে চ্যুতিকোণ (δ)-এর মান কত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক26. দুই মাধ্যমের বিভেদতলে আলোকরশ্মি লম্বভাবে আপতিত হলে (i = 0°) চ্যুতিকোণের মান কত হয়?
মাধ্যমিক27. কোন ক্ষেত্রে আলোর প্রতিসরণে স্নেলের সূত্র (sin i / sin r = μ) প্রযোজ্য হয় না?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক28. একটি সাধারণ ত্রিভুজাকৃতি প্রিজমের কয়টি তল থাকে? (আয়তাকার ও ত্রিভুজাকার তল মিলিয়ে)
পাঠ্যপুস্তক29. সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবের (আয়তাকার কাচফলক) মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণে মোট চ্যুতিকোণ কত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক30. প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মির প্রতিসরণে চ্যুতিকোণের (δ) রাশিমালা কোনটি?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক31. প্রিজমে ন্যূনতম চ্যুতির (Minimum Deviation) শর্ত কোনটি?
মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ32. একটি সমবাহু প্রিজমের প্রতিসারক কোণ (A)-এর মান কত?
মাধ্যমিক গাণিতিক33. একটি প্রিজমের প্রতিসারক কোণ 60°। কোনো রশ্মি এক তলে 45° কোণে আপতিত হয়ে অপর তল দিয়ে 50° কোণে নির্গত হলে চ্যুতিকোণ কত?
মাধ্যমিক গাণিতিক34. কোন লেন্সের মাঝের অংশটি মোটা ও প্রান্তের দিকগুলি সরু এবং একে অভিসারী লেন্স বলা হয়?
পাঠ্যপুস্তক35. কোন লেন্সের মাঝের অংশটি সরু ও প্রান্তের দিকগুলি মোটা এবং একে অপসারী লেন্স বলা হয়?
পাঠ্যপুস্তক36. যদি কোনো লেন্সের উপাদানের প্রতিসরাঙ্ক পারিপার্শ্বিক মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্কের চেয়ে কম হয়, তবে উত্তল লেন্স কীরূপ আচরণ করবে?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক37. উত্তল লেন্সের সামনে বস্তুকে ফোকাস দূরত্বের দ্বিগুণ দূরত্বে (2f দূরত্বে) রাখলে প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হয় এবং তার আকার কী হয়?
মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ38. একটি উত্তল লেন্সের ফোকাস দূরত্ব 15 cm। লেন্স থেকে কত দূরে বস্তু রাখলে বস্তুর সমান আকারের সদ প্রতিবিম্ব গঠিত হবে?
মাধ্যমিক গাণিতিক39. অবতল লেন্সের সামনে যে-কোনো দূরত্বে বস্তু রাখলে গঠিত প্রতিবিম্বের প্রকৃতি কীরূপ হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক40. লেন্সের রৈখিক বিবর্ধন (Linear Magnification, m)-এর সূত্র কোনটি?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক41. কোনো লেন্স দ্বারা গঠিত প্রতিবিম্বের রৈখিক বিবর্ধন m = 1 হলে প্রতিবিম্ব ও বস্তুর আকারের সম্পর্ক কী?
মাধ্যমিক42. সরল ক্যামেরায় অভিলক্ষ্য হিসেবে কোন লেন্স থাকে এবং ফিল্মে কীরূপ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?
পাঠ্যপুস্তক43. মানুষের চোখের অক্ষিলেন্সটি কী প্রকৃতির লেন্স?
পাঠ্যপুস্তক44. মানুষের চোখের অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমারের প্রতিসরাঙ্ক কত?
পাঠ্যপুস্তক45. মানুষের চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করতে (উপযোজনে) সাহায্য করে কোন পেশি?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক46. সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের চোখের স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্ব (নিকট বিন্দু) এবং দূরবিন্দু যথাক্রমে কত?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক47. দীর্ঘদৃষ্টি বা হাইপারমেট্রোপিয়া (Hypermetropia) ত্রুটিতে প্রতিবিম্ব রেটিনার কোথায় গঠিত হয় এবং এর প্রতিকার কী?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক48. হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়া (Myopia) ত্রুটিতে দূরের বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনার কোথায় গঠিত হয়?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক49. সাদা আলো প্রিজমের মধ্য দিয়ে গেলে ৭টি রঙে বিশ্লিষ্ট হওয়ার ঘটনাকে কী বলে এবং এটি কে প্রথম আবিষ্কার করেন?
পাঠ্যপুস্তক50. কাচ বা যে-কোনো ঘন মাধ্যমে কোন বর্ণের আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি এবং কোন বর্ণের আলোর বেগ সবচেয়ে কম?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক51. সূর্যের আলোয় একটি লাল গোলাপ ফুলকে সবুজ আলোয় বা নীল আলোয় দেখলে ফুলটিকে কী রঙের দেখাবে?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক52. আলোক তরঙ্গের বেগ (c), কম্পাঙ্ক (n বা ν) এবং তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ)-এর মধ্যে সম্পর্কটি কী?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক53. দৃশ্যমান আলোর মধ্যে কোন বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি এবং কোন বর্ণের সবচেয়ে কম?
পাঠ্যপুস্তক সারণি • মাধ্যমিক54. আলোকরশ্মি এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে আলোর কোন ধর্মটি অপরিবর্তিত থাকে?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক55. মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক (μ) ও আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) মধ্যে বিজ্ঞানী কচি (Cauchy)-এর সম্পর্কটি কোনটি?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক56. কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক (μ)-এর সংজ্ঞা কী?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক57. শূন্যস্থানে আলোর বেগ 3 × 10⁸ m/s এবং কাচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 হলে কাচ মাধ্যমে আলোর বেগ কত হবে?
মাধ্যমিক গাণিতিক58. বিজ্ঞানী র্যালের বিক্ষেপণ সূত্র অনুযায়ী বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা (I) আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) সাথে কীভাবে সম্পর্কযুক্ত?
পাঠ্যপুস্তক • মাধ্যমিক59. বিপদ সংকেত (Danger Signal) হিসেবে লাল বর্ণের আলো ব্যবহার করা হয় কেন?
মাধ্যমিক গুরুত্বপূর্ণ60. 1 অ্যাংস্ট্রম (1 Å) সমান কত মিটার?
পাঠ্যপুস্তক সারণিঅতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (45+ VSAQ / এক কথায় উত্তর)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ১1. অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস-এর সংজ্ঞা দাও। [অনুশীলনী B.1]
2. কোন ধরনের দর্পণ শেভিং মিরর (দাড়ি কামানোর দর্পণ) রূপে ব্যবহৃত হয়? [অনুশীলনী B.2]
3. কোন দর্পণের দৃষ্টিক্ষেত্র (Field of View) বড়ো হয়? [অনুশীলনী B.3]
4. লেন্সের আলোককেন্দ্রের (Optical Centre) সংজ্ঞা লেখো। [অনুশীলনী B.4]
5. উত্তল লেন্সের দ্বিতীয় মুখ্য ফোকাস কাকে বলে? [অনুশীলনী B.5]
6. কখন একটি উত্তল লেন্সে অসদ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়? [অনুশীলনী B.6]
7. হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘদৃষ্টি) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.7]
8. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.8]
9. সাদা আলোকের বর্ণালিতে উপস্থিত আলোর বর্ণগুলি ক্রমানুসারে উল্লেখ করো। [অনুশীলনী B.9]
10. একবর্ণী আলোকরশ্মি (Monochromatic Light) কী? [অনুশীলনী B.10]
11. একটি সাদা ফুলকে সবুজ আলোয় কেমন দেখাবে? [অনুশীলনী B.11]
12. একটি উত্তল লেন্সের ফোকাসে (F-এ) একটি বস্তুকে রাখা হলে বস্তুটির প্রতিবিম্ব কোথায় গঠিত হবে? [অনুশীলনী B.12]
13. আধুনিক ক্যামেরার শাটারে নিয়ন্ত্রিত সময় (Exposure Time) কত? [অনুশীলনী B.13]
14. রৈখিক বিবর্ধন (Linear Magnification) কাকে বলে? [অনুশীলনী B.14]
15. স্নেলের সূত্রের সমীকরণটি লেখো। [অনুশীলনী B.15]
16. আলোকের বিচ্ছুরণের একটি প্রাকৃতিক উদাহরণ দাও। [অনুশীলনী B.16]
17. কোন ধরনের লেন্সের দ্বারা হ্রস্বদৃষ্টির (মায়োপিয়া) প্রতিকার করা যায়? [অনুশীলনী B.17]
18. [শূন্যস্থান পূরণ] চামচের উত্তল পৃষ্ঠ ________ দর্পণের ন্যায় আচরণ করে। [অনুশীলনী B.III.1]
19. [শূন্যস্থান পূরণ] ফোকাস দূরত্ব = ½ × ________। [অনুশীলনী B.III.2]
20. [শূন্যস্থান পূরণ] আলোককেন্দ্র লেন্সের ________-এর ওপর অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট বিন্দু। [অনুশীলনী B.III.3]
21. [শূন্যস্থান পূরণ] প্রিজম বর্ণ সৃষ্টি করতে পারে না। [অনুশীলনী B.III.4]
22. [শূন্যস্থান পূরণ] আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে, বিক্ষেপণ ________ হবে। [অনুশীলনী B.III.5]
23. [সত্য/মিথ্যা] গাড়ির ভিউফাইন্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয় উত্তল দর্পণ। [অনুশীলনী B.IV.1]
24. [সত্য/মিথ্যা] উত্তল লেন্স অভিসারী। [অনুশীলনী B.IV.2]
25. [সত্য/মিথ্যা] আলোর প্রতিসরণের জন্য দায়ী আলোকরশ্মির বর্ণ। [অনুশীলনী B.IV.3]
26. [সত্য/মিথ্যা] দূরবীক্ষণে অবতল দর্পণকে প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। [অনুশীলনী B.IV.4]
27. [সত্য/মিথ্যা] বিপদ সংকেতে হলুদ আলো ব্যবহৃত হয়। [অনুশীলনী B.IV.5]
28. উপাক্ষীয় রশ্মি (Paraxial Rays) কাদের বলে?
29. সমতল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ ও ফোকাস দূরত্ব কত?
30. প্রিজমের প্রধান ছেদ ও প্রতিসারক কোণ কাকে বলে?
31. ফাঁপা প্রিজমের মধ্য দিয়ে সাদা আলো গেলে কি বর্ণালি সৃষ্টি হয়?
32. চক্ষুর উপযোজন (Accommodation of Eye) কাকে বলে?
33. মানুষের চোখের অন্ধবিন্দু (Blind Spot) কী?
34. ক্যামেরার ডায়াফ্রাম (রন্ধ্র)-এর কাজ মানুষের চোখের কোন অংশটি করে?
35. রামধনু সৃষ্টির সময় বৃষ্টির জলের ফোঁটায় আলোর কোন কোন ঘটনা ঘটে?
36. মানবদেহে ভিটামিন D সংশ্লেষে এবং জল জীবাণুমুক্ত করতে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
37. ক্যানসার কোশ ধ্বংস করতে (রেডিওথেরাপিতে) কোন তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়?
38. মহাকাশচারীরা বা চাঁদে থাকা কোনো ব্যক্তি আকাশকে কী রঙের দেখেন এবং কেন?
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (Two Marks Questions)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ২১. অবতল দর্পণের ফোকাস দূরত্বের মধ্যে (মেরু P ও ফোকাস F-এর মাঝে) একটি বস্তুকে রাখলে কী ধরনের প্রতিবিম্ব গঠিত হবে? [অনুশীলনী C.1]
২. গাড়ির হেডলাইটে কী ধরনের দর্পণ ব্যবহার করা হয় ও কেন? হেডলাইট থেকে আলো কীভাবে অনেক দূর পর্যন্ত যায়? [অনুশীলনী C.2 ও C.10]
• হেডলাইটের অবতল প্রতিফলকের ঠিক মুখ্য ফোকাসে (F) বৈদ্যুতিক বাল্বটি বসানো থাকে। ফোকাস বিন্দুতে থাকা বাল্বটি জ্বললে তা থেকে নির্গত অপসারী আলোকরশ্মিগুচ্ছ অবতল দর্পণে প্রতিফলিত হওয়ার পর পরস্পর সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছে পরিণত হয় এবং তীব্রভাবে সামনের রাস্তায় বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
৩. একটি সমান্তরাল কাচের স্ল্যাবের মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণে কীভাবে পার্শ্বসরণ ঘটে তা ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী C.3]
৪. সূর্যের আলোয় লাল এবং নীল কাচের প্লেটকে একসঙ্গে রাখলে কেমন দেখাবে—ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী C.4]
৫. একটি মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোকের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ওপর কীভাবে নির্ভর করে? [অনুশীলনী C.5]
৬. দ্বিপ্রহরে বা দিনের বেলায় আকাশের রং নীল দেখায় কেন? [অনুশীলনী C.6]
৭. ‘ক্রাউন গ্লাসের (বা কাচের) প্রতিসরাঙ্ক 1.52’—বলতে কী বোঝায়? [অনুশীলনী C.7]
৮. আলোকের বিক্ষেপণ (Scattering of Light) কাকে বলে? র্যালের সূত্রটি লেখো। [অনুশীলনী C.8]
• র্যালের সূত্র: আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য অপেক্ষা ক্ষুদ্র আকারের কণা দ্বারা বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা (I) আপতিত আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের (λ) চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক, অর্থাৎ I ∝ 1 / λ⁴।
৯. কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক আলোর বেগের ওপর কীভাবে নির্ভর করে? [অনুশীলনী C.9]
১০. গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর (Rear View Mirror) হিসেবে সমতল দর্পণের পরিবর্তে উত্তল দর্পণ ব্যবহার করা হয় কেন?
১১. না স্পর্শ করে একটি সমতল দর্পণ, একটি অবতল দর্পণ ও একটি উত্তল দর্পণকে কীভাবে শনাক্ত করবে?
(i) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা ও বস্তুর সমান আকারের দেখাবে, সেটি সমতল দর্পণ।
(ii) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা কিন্তু বস্তুর চেয়ে বড়ো (বিবর্ধিত) দেখাবে, সেটি অবতল দর্পণ।
(iii) যে দর্পণে প্রতিবিম্বটি সোজা কিন্তু বস্তুর চেয়ে ছোটো (খর্বাকার) দেখাবে, সেটি উত্তল দর্পণ।
১২. সদবিম্ব (Real Image) ও অসদবিম্ব (Virtual Image)-এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
(ii) পর্দায় গ্রহণ ও প্রকৃতি: সদবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায় এবং এটি বস্তুর সাপেক্ষে অবশীর্ষ (উলটো) হয়; কিন্তু অসদবিম্বকে পর্দায় ফেলা যায় না এবং এটি সমশীর্ষ (সোজা) হয়।
১৩. সূর্যের আলোয় সবুজ পাতাকে সবুজ দেখায়, কিন্তু লাল আলোয় দেখলে কালো দেখায় কেন?
১৪. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্যকে লাল দেখায় কেন?
১৫. মানুষের চোখ ও ফোটোগ্রাফিক ক্যামেরার মধ্যে দুটি সাদৃশ্য ও দুটি বৈসাদৃশ্য লেখো।
বৈসাদৃশ্য: (i) ক্যামেরার লেন্সের ফোকাস দূরত্ব নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব সিলিয়ারি পেশির সাহায্যে পরিবর্তন করা যায়। (ii) ক্যামেরায় লেন্স ও ফিল্মের দূরত্ব কমানো-বাড়ানো যায়, কিন্তু চোখে লেন্স ও রেটিনার দূরত্ব সর্বদা স্থির থাকে।
দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন ও গাণিতিক সমাধান (3 Marks Broad Questions)
প্রতিটি প্রশ্নের মান ৩ (বা ২+১)১. অবতল দর্পণের (বা উত্তল দর্পণের) ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব (f) ও বক্রতা ব্যাসার্ধের (r) মধ্যে r = 2f সম্পর্কটি জ্যামিতিক চিত্রের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা করো। [অনুশীলনী D.1]
প্রধান অক্ষ CP-এর সমান্তরালে একটি উপাক্ষীয় আলোকরশ্মি RS দর্পণের S বিন্দুতে আপতিত হয়ে প্রতিফলনের পর ফোকাস F-এর মধ্য দিয়ে ST পথে গেল। C ও S যোগ করা হলো; CS হলো S বিন্দুতে দর্পণের অভিলম্ব।
• প্রতিফলনের সূত্রানুসারে: আপতন কোণ ∠RSC = প্রতিফলন কোণ ∠CSF = θ (ধরি)।
• আবার RS || CP এবং CS ছেদক হওয়ায়: ∠RSC = একান্তর কোণ ∠SCF = θ।
• সুতরাং △CSF-এর মধ্যে ∠CSF = ∠SCF = θ। ত্রিভুজের দুটি কোণ সমান হওয়ায় তাদের বিপরীত বাহু দুটিও সমান হবে, অর্থাৎ CF = FS।
• যেহেতু দর্পণটির উন্মেষ খুব ক্ষুদ্র এবং RS উপাক্ষীয় রশ্মি, তাই S বিন্দুটি মেরু P বিন্দুর খুব কাছাকাছি অবস্থিত। সুতরাং FS ≈ FP ধরা যায়।
• অতএব, CF = FP। এখন বক্রতা ব্যাসার্ধ r = CP = CF + FP = FP + FP = 2FP = 2f (যেহেতু ফোকাস দূরত্ব FP = f)।
২. প্রিজমের মধ্য দিয়ে আলোকের প্রতিসরণে দেখাও যে চ্যুতিকোণ δ = i₁ + i₂ - A হয় (যেখানে চিহ্নগুলি প্রচলিত অর্থবহ)। [অনুশীলনী D.2]
• প্রথম পৃষ্ঠে Q বিন্দুতে রশ্মিটির কৌণিক চ্যুতি δ₁ = (i₁ - r₁) এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠে S বিন্দুতে কৌণিক চ্যুতি δ₂ = (i₂ - r₂)।
• সুতরাং মোট চ্যুতিকোণ δ = δ₁ + δ₂ = (i₁ - r₁) + (i₂ - r₂) = (i₁ + i₂) - (r₁ + r₂) ...... (i)
• Q ও S বিন্দুতে অঙ্কিত অভিলম্ব দুটি পরস্পরকে O বিন্দুতে ছেদ করলে AQOS চতুর্ভুজে ∠AQO = ∠ASO = 90°। তাই বিপরীত কোণ দুটির সমষ্টি ∠A + ∠QOS = 180° ...... (ii)
• আবার △QOS ত্রিভুজে তিন কোণের সমষ্টি r₁ + r₂ + ∠QOS = 180° ...... (iii)
• (ii) ও (iii) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই: A = r₁ + r₂।
• এই মান (i) নং সমীকরণে বসিয়ে পাই:
৩. বিবর্ধক কাচ (Magnifying Glass) বা সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র হিসেবে উত্তল লেন্সের ক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.3]
(i) বস্তুর শীর্ষবিন্দু P থেকে প্রধান অক্ষের সমান্তরালে আগত রশ্মি লেন্সে প্রতিসরণের পর দ্বিতীয় ফোকাস F₂ দিয়ে যায়।
(ii) P থেকে অপর একটি রশ্মি আলোককেন্দ্র O দিয়ে সোজা বেরিয়ে যায়।
এই প্রতিসৃত রশ্মি দুটি পরস্পর অপসারী হওয়ায় বাস্তবে মিলিত হয় না। কিন্তু লেন্সের অপর পাশ থেকে চোখ রাখলে রশ্মি দুটিকে পেছনের দিকে বর্ধিত করলে বস্তুর পেছনে একই পাশে মিলিত হচ্ছে বলে মনে হয় এবং বস্তুটির একটি অসদ, সমশীর্ষ (সোজা) এবং আকারে বড়ো (বিবর্ধিত) প্রতিবিম্ব P₁Q₁ স্পষ্ট দর্শনের ন্যূনতম দূরত্বে (25 cm) দেখা যায়। এভাবে ছোটো লেখা বা ঘড়ির সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ বড়ো করে দেখা হয়।
৪. মানুষের চোখের প্রধান অংশগুলির গঠন ও কাজ সংক্ষেপে বর্ণনা করো। [অনুশীলনী D.4]
• কর্নিয়া (Cornea): অক্ষিগোলকের সামনের স্ফীত ও স্বচ্ছ আবরণ যা চোখে আলো প্রবেশ করতে দেয় এবং প্রতিসরণ ঘটায়।
• আইরিশ (Iris) ও চোখের মণি (Pupil): কর্নিয়ার পেছনের রঙিন পর্দা হলো আইরিশ এবং তার মাঝের ছিদ্রটি হলো মণি, যা আলো কম-বেশি হলে ছোটো-বড়ো হয়ে চোখে প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
• অক্ষিলেন্স (Eye Lens): মণির পেছনে থাকা নমনীয় দ্বি-উত্তল লেন্স যা সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে ফোকাস দূরত্ব পরিবর্তন করে রেটিনায় প্রতিবিম্ব গঠন করে।
• রেটিনা (Retina): অক্ষিগোলকের সবচেয়ে ভেতরের আলোকসুবেদী স্তর (রড ও কোন কোশযুক্ত) যেখানে বস্তুর সদ ও অবশীর্ষ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।
• অ্যাকুয়াস ও ভিট্রিয়াস হিউমার: লেন্সের সামনে ও পেছনে থাকা স্বচ্ছ তরল (প্রতিসরাঙ্ক 1.336) যা অক্ষিগোলকের আকার বজায় রাখে ও প্রতিসরণে সাহায্য করে।
৫. হাইপারমেট্রোপিয়া (দীর্ঘদৃষ্টি) ত্রুটির কারণ এবং তার প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.5]
ত্রুটির কারণ: (i) অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে ছোটো হয়ে যাওয়া অথবা (ii) সম্পূর্ণ শিথিল অবস্থায় চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়া। এর ফলে কাছের বস্তু থেকে আগত আলোকরশ্মি রেটিনায় মিলিত না হয়ে রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
প্রতিকারের উপায়: উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের উত্তল লেন্স (Convex Lens / অভিসারী লেন্স) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে কাছের বস্তু (N) থেকে আসা অপসারী রশ্মিগুচ্ছ উত্তল লেন্সে প্রতিসৃত হয়ে কিছুটা অভিসারী হয় এবং ত্রুটিযুক্ত চোখের নিকট বিন্দু (N') থেকে আসছে বলে মনে হয়, ফলে প্রতিবিম্ব ঠিক রেটিনার ওপর গঠিত হয়।
৬. মায়োপিয়া (হ্রস্বদৃষ্টি) ত্রুটির কারণ এবং তার প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.6]
ত্রুটির কারণ: (i) অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের চেয়ে বড়ো (লম্বা) হয়ে যাওয়া অথবা (ii) চক্ষুলেন্সের ফোকাস দূরত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়া (অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে যাওয়া)। এর ফলে দূরের বস্তু থেকে আগত সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ রেটিনায় পৌঁছানোর আগেই রেটিনার সামনে মিলিত হয়ে প্রতিবিম্ব গঠন করে।
প্রতিকারের উপায়: উপযুক্ত ফোকাস দূরত্বের অবতল লেন্স (Concave Lens / অপসারী লেন্স) যুক্ত চশমা ব্যবহার করলে অসীম থেকে আগত সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ অবতল লেন্সে প্রতিসরণের পর অপসারী হয়ে ত্রুটিযুক্ত চোখের দূরবিন্দু (F) থেকে আসছে বলে মনে হয় এবং চক্ষুলেন্স সেটিকে ঠিক রেটিনায় ফোকাস করে।
৭. আলোকের বিচ্ছুরণ (Dispersion of Light) কাকে বলে? বিচ্ছুরণের কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.7]
বিচ্ছুরণের কারণ: শূন্যস্থানে বা বায়ুতে সব বর্ণের আলোর বেগ সমান হলেও কাচের মতো ঘন মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ বিভিন্ন হয় (লাল আলোর বেগ সবচেয়ে বেশি এবং বেগুনি আলোর বেগ সবচেয়ে কম)। যেহেতু মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক μ = c/v (কচির সূত্র μ = A + B/λ²), তাই কাচ মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক বিভিন্ন বর্ণের আলোর জন্য বিভিন্ন হয় (বেগুনি বর্ণের জন্য সর্বোচ্চ এবং লাল বর্ণের জন্য সর্বনিম্ন: μ_V > μ_R)। ফলে প্রিজমের প্রথম তলে একই আপতন কোণে (i) সাদা আলো আপতিত হলেও স্নেলের সূত্রানুসারে বিভিন্ন বর্ণের প্রতিসরণ কোণ (r) এবং চ্যুতিকোণ (δ) আলাদা হয়। বেগুনি আলোর চ্যুতি সবচেয়ে বেশি এবং লাল আলোর চ্যুতি সবচেয়ে কম হওয়ায় বর্ণগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে পর্দায় বর্ণালি গঠন করে।
৮. একটি সমান্তরাল কাচের স্ল্যাব (আয়তাকার কাচফলক) বর্ণালি সৃষ্টি করে না কেন? [অনুশীলনী D.8]
৯. প্রিজম নিজে কোনো বর্ণ সৃষ্টি করে না; যৌগিক আলোর বিভিন্ন বর্ণকে পৃথক করে মাত্র—ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.15]
১০. উত্তল লেন্সকে ‘অভিসারী লেন্স’ এবং অবতল লেন্সকে ‘অপসারী লেন্স’ বলা হয় কেন? প্রিজমের ধারণার সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। [অনুশীলনী D.13]
• উত্তল লেন্সের অভিসারী ক্রিয়া: উত্তল লেন্সের মাঝখানটা মোটা হওয়ায় এর ওপরের অর্ধাংশের প্রিজমগুলির ভূমি নিচের দিকে (প্রধান অক্ষের দিকে) এবং নিচের অর্ধাংশের প্রিজমগুলির ভূমি ওপরের দিকে (প্রধান অক্ষের দিকে) থাকে। ফলে প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ উত্তল লেন্সে প্রতিসৃত হয়ে প্রধান অক্ষের দিকে বেঁকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাসে) মিলিত হয় বা অভিসারী হয়। তাই উত্তল লেন্সকে অভিসারী লেন্স বলে।
• অবতল লেন্সের অপসারী ক্রিয়া: অবতল লেন্সের মাঝখানটা সরু ও প্রান্তের দিক মোটা হওয়ায় প্রিজমগুলির ভূমি প্রধান অক্ষের বিপরীতে প্রান্তের দিকে থাকে। ফলে সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ প্রতিসরণের পর প্রধান অক্ষ থেকে দূরে বেঁকে পরস্পর থেকে ছড়িয়ে পড়ে বা অপসারী হয়। তাই অবতল লেন্সকে অপসারী লেন্স বলে।
১১. অতিবেগুনি রশ্মি (UV), X-রশ্মি এবং গামা রশ্মির (γ-ray) একটি করে ব্যবহার এবং একটি করে ক্ষতিকারক প্রভাব উল্লেখ করো। [অনুশীলনী D.11]
• ব্যবহার: পানীয় জল ও অপারেশন থিয়েটার জীবাণুমুক্ত করতে, রত্ন-ডিম-ঘি-এর বিশুদ্ধতা পরীক্ষায় এবং দেহে ভিটামিন D তৈরিতে।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: অতিরিক্ত মাত্রায় পড়লে ত্বকের ক্যানসার ও চোখে ছানি পড়ে।
(ii) X-রশ্মি (X-Ray):
• ব্যবহার: চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভাঙা হাড় বা দেহের ভেতরের রোগ নির্ণয়ে (রেডিওগ্রাফি) এবং কাস্টমস ও গোয়েন্দা বিভাগে।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: জীবন্ত দেহকোশ ও রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে।
(iii) গামা রশ্মি (γ-Ray):
• ব্যবহার: ক্যানসার ও টিউমার কোশ ধ্বংস করতে (রেডিওথেরাপিতে) এবং পারমাণবিক গবেষণায়।
• ক্ষতিকারক প্রভাব: এর ভেদন ক্ষমতা সর্বাধিক হওয়ায় এটি জীবন্ত কোশের ও জিনগত উপাদানের (DNA) মারাত্মক ক্ষতি করে।
১২. প্রিজমের ন্যূনতম চ্যুতির শর্ত কী? ওই অবস্থায় প্রিজমের প্রতিসারক কোণ A এবং ন্যূনতম চ্যুতিকোণ δ_m হলে আপতন কোণ (i₁) ও প্রতিসরণ কোণ (r₁)-এর মান কত হবে? [অনুশীলনী D.12]
• যেহেতু A = r₁ + r₂ এবং r₁ = r₂ = r (ধরি), তাই r = A / 2।
• আবার δ_m = i₁ + i₂ - A এবং i₁ = i₂ = i (ধরি), তাই δ_m = 2i - A বা i = (A + δ_m) / 2।
১৩. [গাণিতিক সমস্যা] একটি সমবাহু প্রিজমের (A = 60°) একটি প্রতিসারক তলে আলোকরশ্মি 45° কোণে আপতিত হলে রশ্মিটির ন্যূনতম চ্যুতি ঘটে। (i) নির্গমন কোণ এবং (ii) ন্যূনতম চ্যুতিকোণের মান নির্ণয় করো।
দেওয়া আছে, সমবাহু প্রিজমের প্রতিসারক কোণ (A) = 60° এবং আপতন কোণ (i₁) = 45°।
(i) যেহেতু রশ্মিটির ন্যূনতম চ্যুতি ঘটেছে, তাই শর্তানুসারে নির্গমন কোণ (i₂) = আপতন কোণ (i₁) = 45°।
(ii) ন্যূনতম চ্যুতিকোণ (δ_m) = i₁ + i₂ - A = 45° + 45° - 60° = 90° - 60° = 30°।
১৪. [গাণিতিক সমস্যা] একটি উত্তল লেন্স থেকে 20 cm দূরে একটি 5 cm দীর্ঘ বস্তু রাখা হলে লেন্সের অপর পাশে 40 cm দূরে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। রৈখিক বিবর্ধন এবং প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য নির্ণয় করো।
এখানে বস্তু দূরত্ব (u) = 20 cm, প্রতিবিম্ব দূরত্ব (v) = 40 cm এবং বস্তুর দৈর্ঘ্য (O_h) = 5 cm।
• রৈখিক বিবর্ধন (m) = v / u = 40 / 20 = 2।
• আবার m = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য (I_h) / বস্তুর দৈর্ঘ্য (O_h)
∴ প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য (I_h) = m × O_h = 2 × 5 cm = 10 cm।
১৫. [গাণিতিক সমস্যা] বায়ু সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক 1.5 এবং বায়ু সাপেক্ষে জলের প্রতিসরাঙ্ক 4/3 (বা 1.33) হলে জল সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক কত? কাচে ও জলে আলোর বেগের অনুপাত কত?
দেওয়া আছে, বায়ু সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক (ₐμ_g) = 1.5 = 3/2 এবং বায়ু সাপেক্ষে জলের প্রতিসরাঙ্ক (ₐμ_w) = 4/3।
• জল সাপেক্ষে কাচের প্রতিসরাঙ্ক (wμ_g) = ₐμ_g / ₐμ_w = (3/2) / (4/3) = 9 / 8 = 1.125।
• আবার আমরা জানি, মাধ্যমে আলোর বেগ প্রতিসরাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক।
∴ (কাচে আলোর বেগ v_g) / (জলে আলোর বেগ v_w) = ₐμ_w / ₐμ_g = (4/3) / (3/2) = 8 / 9।
• অর্থাৎ কাচে ও জলে আলোর বেগের অনুপাত = 8 : 9।
১৬. আলোর প্রতিসরণ সংক্রান্ত সূত্র দুটি বিবৃত করো। লঘু থেকে ঘন এবং ঘন থেকে লঘু মাধ্যমে প্রতিসরণে চ্যুতিকোণের মান কত হয়? [অনুশীলনী D.14 ও D.16]
প্রতিসরণের দ্বিতীয় সূত্র (স্নেলের সূত্র): নির্দিষ্ট দুটি মাধ্যম এবং নির্দিষ্ট বর্ণের আলোর ক্ষেত্রে আপতন কোণের সাইন (sin i) এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের (sin r) অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক হয় (অর্থাৎ sin i / sin r = μ)।
• (i) আলোকরশ্মি লঘু মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে গেলে অভিলম্বের দিকে বেঁকে যায় (i > r), তাই চ্যুতিকোণ δ = i - r।
• (ii) আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে গেলে অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায় (r > i), তাই চ্যুতিকোণ δ = r - i।